📄 ছোট করবেন না
আপনার মা যদি জীবনের কোন বিষয়ে অনবগত থাকেন, তাহলে এ কারণে তাঁকে কখনো ছোট করবেন না কিংবা তাঁর মূল্যায়ন হ্রাস করবেন না। বরং সেই বিষয়ে এমনভাবে তাঁর জ্ঞান বৃদ্ধি করবেন, যেন আপনি নিজেই সে সম্পর্কে অজ্ঞ।
আল্লাহ বলেন, 'তুমি যা জানতে না, আল্লাহ তোমাকে তা শিক্ষা দিয়েছেন। আর তোমার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ চির মহান।' [সূরা নিসা : ১১৩]
📄 জোরে হাসবেন না
মায়ের সামনে উচ্চ আওয়াজে হাসাহাসি করা থেকে বিরত থাকবেন। উঁচু আওয়াজে কথা বলবেন না। যখন তাঁর সামনে থাকেন, তখন বিরক্তির দৃষ্টিতে তাকাবেন না। যখন তাঁর মজলিসে থাকেন, তখন ক্রোধের দৃষ্টি নিবদ্ধ করবেন না। তাঁর উপস্থিতিতে ভ্রূকুঞ্চিত করবেন না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে যে বস্তু বা বিষয় পছন্দ করেন, তাঁর সামনে সে বিষয়ের প্রতি আপনার অনিহা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করবেন না।
কেননা, এগুলি তাঁর উপরে প্রভাব ফেলে এবং তাঁর ব্যক্তিত্বে আঘাত হানে। তবে পরিমিত ও সংযত হাসি- দুশ্চিন্তা, পেরেশানী ও হতাশার ঔষধি। আত্মিক প্রশান্তি ও মানসিক উৎফুল্লতায় হাসির ক্রিয়া অত্যন্ত কার্যকরী। শুনে আশ্চর্য হবেন, হযরত আবু দারদা রাযিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমার আত্মার প্রশান্তির জন্য আমি হাসি।' নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও হাসতেন। কখনও তাঁর মাড়ির দাঁত দেখা যেত।
তবে এক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়। 'অতিরিক্ত হাসি দিলকে মেরে ফেলে।' মধ্যম পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
'সে তার কথা শুনে হেসে ফেলল।' [সূরা নাম্ল : ১৯]
তবে মনে রাখতে হবে, কাউকে অবজ্ঞা করা কিংবা হেয় করার জন্য হাসা যাবে না।
📄 তাঁকেই প্রথমে অবগত করুন
আপনার জীবনের আনন্দময় ও সৌভাগ্য অর্জনের সংবাদগুলো দুঃখিনী মাকেই প্রথমে অবগত করুন। আপনার (যথোপযোগী) একান্ত বিষয়গুলো তাঁকে অবগত করুন, তাঁর সাথে শেয়ার করুন। নিশ্চয়ই এতে তাঁর ভিতর আনন্দ সঞ্চার হবে এবং তিনি আপনাকে তাঁর মনের আরো নিকটবর্তী করে নিবেন। আর তিনি মনে করবেন, আপনি সব সময় তাঁর এমন পুত্র হিসেবে থাকবেন, যার প্রতি তাঁর মাতা বৃদ্ধাকালে মুখাপেক্ষী হন।
📄 সুস্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন
মায়ের সুস্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হোন। যখন তিনি বৃদ্ধা হয়ে যান, তাঁর (বৃদ্ধাকালীন) প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এনে দিবেন। যেমন ভর করে হাঁটার জন্য লাঠি, চোখের জন্য চশমা ও এ ধরনের আরো যত বস্তুসামগ্রী তাঁর প্রয়োজন হয়।