📄 বয়সের প্রতি খেয়াল রেখে আচরণ করা চাই
'মা' কথাটি ছোট, কিন্তু এর পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। 'মা' ডাকের চেয়ে মধুর নাম পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। মহান আল্লাহ তায়ালা 'মা' সৃষ্টি করেছেন বিশেষ গুণ ও সর্বশ্রেষ্ঠ সম্মান দিয়ে। 'মা' হচ্ছেন একজন সন্তানের পৃথিবীতে আসার উৎস, অস্তিত্ব ও বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। 'মা' শব্দটির কোনো বিকল্প নেই একজন সন্তানের কাছে। সন্তান জন্ম নিয়েই সর্বপ্রথম পৃথিবীতে মাকে কাছে পায়। মায়ের মন তখন ভরে ওঠে অনাবিল আনন্দে ও শান্তিতে। 'মা' তাঁর আদর-স্নেহ, মায়া-মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে বুকে জড়িয়ে নেন। 'মা' হচ্ছেন তিনি যিনি অন্য সবার স্থান পূরণ করতে পারেন, কিন্তু মায়ের স্থান কেউ পূরণ করতে পারে না। এজন্য বলা হয় সৃষ্টির সেরা উপহার 'মা'।
সন্তানদের জন্য সমীচীন হচ্ছে মায়ের জীবনে বয়সের বিভিন্ন স্তর বুঝতে চেষ্টা করা। বয়সের যে স্তরে যে ধরনের আচার-ব্যবহার তাঁর জন্য প্রয়োজন সে ধরনের আচার-ব্যবহার করা। কোন অবস্থাতেও তাঁকে কষ্ট না দেওয়া। মা-বাবাকে কষ্ট দেওয়া মারাত্মক গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা মা-বাবার হকসমূহকে নিজের হকের অনুগামী করেছেন। তিনি বলেছেন, 'তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে তাঁকে ছাড়া অন্য কারো এবাদত করো না এবং মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার করো।' [সূরা ইসরা : ২৩] তিনি মা-বাবার শোকরকে নিজের শোকরের সাথে যুক্ত করেছেন। বলেছেন, 'আমার প্রতি ও তোমার মা-বাবার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে। [সূরা লুকমান : ১৪] মা-বাবার সাথে সদ্ব্যবহার উভয় জাহানের কামিয়াবীর রাস্তা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'রিযিক বৃদ্ধি পেলে এবং হায়াত বৃদ্ধি পেলে যে খুশি, সে যেন রক্তের সম্পর্ক (যথাযথভাবে) বজায় রাখে। [সহীহ বুখারী : ৫৯৮৫] রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাশরের ময়দানে অবাধ্য সন্তানের পরিণতির কথা বয়ান করেছেন। আল্লাহ তায়ালা তার দিকে তাকাবেন না।
📄 কথা নির্বাচনে আগ্রহী হোন
মায়ের সাথে কথা বলার পূর্বে কোন কোন শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করবেন বা কোন কথাটা বলবেন, তা নির্বাচন করে নেওয়ার প্রতি আগ্রহী হোন। যাতে করে আপনার মুখ থেকে এমন কোন বাক্য বা কথা বের হয়ে না যায়, যা শুনে আপনার মা কষ্ট পান। কারণ, কুরআনে কারীমে উহ শব্দটি পর্যন্ত বলতে নিষেধ করা হয়েছে। সুতরাং এর চেয়ে জটিল কিছু বলে কিভাবে মা জননীকে কষ্ট দিবেন, বলেন? আয়াতে তাঁদেরকে উহ-ও বলবে না। এখানে উহ শব্দটি বলে এমন শব্দ বোঝানো হয়েছে, যদ্বারা বিরক্তি প্রকাশ পায়। এমনকি, তাঁদের কথা শুনে বিরক্তিবোধক দীর্ঘশ্বাস ছাড়াও এর অন্তর্ভুক্ত।
হযরত আলী রাযি. বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, পীড়া দানের ক্ষেত্রে উহ বলার চাইতেও কম কোন স্তর থাকলে তাও অবশ্য উল্লেখ করা হত। (মোটকথা, যে কথায় মা সামান্য কষ্ট হয়, তাও নিষিদ্ধ।) বরং মার সাথে সম্প্রীতি ও ভালবাসার সাথে নম্র স্বরে কথা বলতে হবে। হযরত সাইদ ইবনে মুসাইয়্যিব বলেন, যেমন কোন গোলাম তার রূঢ় স্বভাবসম্পন্ন প্রভুর সাথে কথা বলে। তার সামনে নিজেকে অক্ষম ও হেয় করে পেশ করবে; যেমন গোলাম প্রভুর সামনে।
📄 যখন সফর করার সংকল্প করেন
যখন সফরে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প করেন, তখন এ বিষয়ে খুবই যত্নবান থাকবেন যে, যাদের কে আপনি বিদায় জানাবেন, তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি যেন হয় আপনার মমতাময়ী মা। বিদায়কালের সর্বশেষ দৃষ্টি যেন তাঁর প্রতিই থাকে। পুরোপুরি তাঁর মুখামুখী হয়ে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানান। বিদায়কালে যেন তিনি খুশী থাকেন। বিদায় নেওয়ার পূর্বে তাঁর কাছে একটু দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। সেই সাথে বাড়ী থেকে আপনার সর্বশেষ বের হওয়াটা যেন এই মায়ের কাছ থেকেই হয়, এ ব্যাপারে যত্নবান হোন। তাহলে মায়ের সেই দুআর বদৌলতে সৌভাগ্যবান হতে পারবেন, যে দুআ আল্লাহর অনুগ্রহে মাকবুল। আর যদি আপনি অন্য এলাকায় থাকেন তাহলে যোগাযোগ করাই হচ্ছে এসব কাজের বিকল্প।
📄 যখন সফর থেকে ফিরে আসেন
যখন সফর থেকে ফিরে আসেন তখন আপনার জন্য একান্ত আবশ্যক হচ্ছে সর্বপ্রথম মায়ের সাথে সাক্ষাত করা। মায়ের সামনে গিয়ে তাঁকে সালাম দিবেন। তাঁর পাশে গিয়ে বসবেন। কুশল বিনিময় করবেন। ভাল-মন্দ খোঁজ-খবর জিজ্ঞেস করবেন। সফর থেকে আপনার সহীহ-সালামতে ফিরে আসার ব্যাপারে তাঁকে প্রশান্ত করবেন। আপনার উপস্থিতির সময় সম্পর্কে তাঁকে পূর্বেই ভাল করে অবগত করবেন। যাতে করে তাঁর নিকট আপনার প্রবেশ যেন হঠাৎ করে না হয়। হতে পারে আপনার আনন্দদায় আচানক আগমন তার মধ্যে বিরূপ প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। ফলে এটা তাঁর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। মায়ের সাথে বিলম্বে দেখা করার ইচ্ছা করবেন না। কিংবা এটাও মনে করবেন না যে, এখন দেখা করার উপযোগী সময় নয়; পরে সময় বুঝে দেখা করবো। কারণ, কখন আসবে আপনার সেই সময়? এ দিকে তো আপনার মা স্থির থাকতে পারবেন না, তাঁর মন প্রশান্ত হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি নিজ চোখে তাঁর ছেলে দেখতে না পারবেন এবং যতক্ষণ পর্যন্ত ছেলের সাক্ষাৎ লাভের মাধ্যমে তাঁর চক্ষু শীতল না হবে।