📄 ১৯. সূরা মারইয়াম
১৯. সূরা মারইয়াম
মক্কী সূরা, রুকু ৬
রুকু-১
ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا : ইহা আপনার প্রতিপালকের সেই রহমতের বর্ণনা যাহা তিনি তাঁহার বান্দা জাকারিয়ার প্রতি করিয়াছিলেন।
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا : যখন সে তাঁহার প্রতিপালককে সংগোপনে ডাকিয়াছিল।
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي : সে বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার হাড়সমূহ দুর্বল হইয়া গিয়াছে।
واشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا : এবং আমার মস্তক বার্ধক্যের শুভ্রতায় উজ্জ্বল হইয়া গিয়াছে।
ولَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا : হে আমার প্রতিপালক! আপনাকে ডাকিয়া আমি কখনো বিফল বা হতভাগা হই নাই।
وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي : এবং আমি আমার পর আমার উত্তরাধিকারীদের (স্বজনদের) ভয় করি।
وكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا : এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা।
فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا : সুতরাং আপনি স্বীয় পক্ষ হইতে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন।
يَرِثُنِي ويَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ : যে আমার ও ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকারী হইবে।
واجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا : এবং হে আমার প্রতিপালক! তাহাকে আপনার পছন্দনীয় ও সন্তোষভাজন করুন।
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى : হে জাকারিয়া! আমি আপনাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি যাহার নাম হইবে ইয়াহইয়া।
لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا : ইতিপূর্বে আমি এই নামে আর কাহারও নামকরণ করি নাই।
قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ : সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র হইবে কি করিয়া?
وكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا : অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি নিজেও বার্ধক্যের চরম সীমায় পৌছিয়া গিয়াছি।
قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ : আল্লাহ বলিলেন, এইরূপই হইবে, আপনার প্রতিপালক বলিয়াছেন যে উহা আমার জন্য অতি সহজ।
وقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ ولَمْ تَكُ شَيْئًا : এবং ইতিপূর্বে আমি আপনাকেও সৃষ্টি করিয়াছি যখন আপনি কিছুই ছিলেন না।
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِي آيَةً : সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দিন।
قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا : আল্লাহ বলিলেন, আপনার নিদর্শন হইল এই যে আপনি একাদিক্রমে তিন দিন মানুষের সহিত কথা বলিতে পারিবেন না।
فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ : অতঃপর সে ইবাদতখানা হইতে বাহির হইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আসিল।
فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا : এবং ইশারায় তাহাদিগকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করিতে বলিল।
يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ : হে ইয়াহইয়া! কিতাবকে (তাওরাতকে) দৃঢ়ভাবে ধারণ কর।
وآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا : এবং আমি তাহাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি দান করিয়াছিলাম।
وحَنَانًا مِنْ لَدُنَّا وَزَكَاةً : এবং স্বীয় পক্ষ হইতে কোমলতা ও পবিত্রতা দান করিয়াছিলাম।
وكَانَ تَقِيًّا وبرًّا بِوَالِدَيْهِ : এবং সে ছিল মুত্তাকী বা পরহেজগার এবং পিতামাতার সহিত সদ্ব্যবহারকারী।
ولَمْ يَكُنْ جَبَّارًا عَصِيًّا : এবং সে উদ্ধত বা অবাধ্য ছিল না।
وسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ ويَوْمَ يَمُوتُ ويَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا : এবং তাহার প্রতি শান্তি যেদিন সে জন্ম গ্রহণ করিয়াছে, যেদিন তাহার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন সে জীবিত হইয়া পুনরুত্থিত হইবে।
রুকু-২
واذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ : এবং আপনি কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন।
إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا : যখন সে তাহার পরিবারবর্গ হইতে পৃথক হইয়া পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।
فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَابًا : অতঃপর সে তাহাদের নিকট হইতে আড়াল হইবার জন্য পর্দা গ্রহণ করিল।
فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا : অতঃপর আমি তাহার নিকট আমার রূহকে (জিবরাঈলকে) পাঠাইলাম এবং সে তাহার নিকট পূর্ণ মানবের আকৃতি ধারণ করিল।
قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا : সে বলিল, আমি তোমার হইতে দয়াময় আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাহিতেছি যদি তুমি আল্লাহকে ভয় কর।
قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ : সে বলিল, আমি তো কেবল তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত দূত।
لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا : যাহাতে আমি তোমাকে এক পবিত্র পুত্র সন্তান দান করিতে পারি।
قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ ولَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ : সে বলিল, আমার পুত্র হইবে কি করিয়া অথচ কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করে নাই?
ولَمْ أَكُ بَغِيًّا : এবং আমি ব্যভিচারিণীও নহি।
قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ : সে বলিল, এইরূপই হইবে, তোমার প্রতিপালক বলিয়াছেন যে উহা আমার জন্য অতি সহজ।
ولِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا : এবং যাহাতে আমি তাহাকে মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমার পক্ষ হইতে রহমত স্বরূপ করি।
وكَانَ أَمْرًا مَقْضِيًّا : এবং ইহা এক অবধারিত বিষয়।
فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ به مَكَانًا قَصِيًّا : অতঃপর সে গর্ভ ধারণ করিল এবং তাহা লইয়া এক দূরবর্তী স্থানে চলিয়া গেল।
فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ : অতঃপর প্রসব-বেদনা তাহাকে এক খেজুর গাছের গুড়ির নিকট লইয়া আসিল।
قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وكُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا : সে বলিল, হায়! যদি আমি ইহার পূর্বেই মরিয়া যাইতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত ও নাম-নিশানাহীন হইয়া যাইতাম!
فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي : অতঃপর নিচ হইতে (জিবরাঈল) তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন, আপনি দুঃখিত হইবেন না।
قد جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا : আপনার প্রতিপালক আপনার নিচে একটি পানির ঝরণা বা নহর সৃষ্টি করিয়াছেন।
وهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا : এবং আপনি খেজুর গাছের গুড়িতে ধরিয়া নিজের দিকে নাড়া দিন, তবে আপনার নিকট সুপক্ক তাজা খেজুর ঝরিয়া পড়িবে।
فَكُلِي واشْرَبِي وقَرِّي عَيْنًا : সুতরাং আপনি আহার করুন, পান করুন এবং চক্ষু জুড়ান (পরিতৃপ্ত হউন)।
فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي : অতঃপর যদি আপনি কোন মানুষকে দেখেন তবে ইশারায় বলিবেন।
إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا : নিশ্চয় আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের (রোযার) মানত করিয়াছি।
فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا : সুতরাং আজ আমি কোন মানুষের সহিত কথা বলিব না।
فَأَتَتْ به قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ : অতঃপর সে তাহাকে (শিশুকে) কোলে লইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আসিল।
قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا : তাহারা বলিল, হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত বা জঘন্য কাজ করিয়া বসিয়াছ!
يا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ : হে হারুনের বোন! তোমার পিতা তো কোন মন্দ লোক ছিলেন না।
وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا : এবং তোমার মাতাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ : অতঃপর মারইয়াম শিশুর দিকে ইশারা করিল।
قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا : তাহারা বলিল, যে শিশু দোলনায় রহিয়াছে তাহার সহিত আমরা কথা বলিব কি করিয়া?
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا : শিশু (ঈসা) বলিয়া উঠিল, নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দান করিয়াছেন এবং আমাকে নবী বানাইয়াছেন।
وجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ : এবং আমি যেখানেই থাকি তিনি আমাকে বরকতময় করিয়াছেন।
وأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا : এবং তিনি আমাকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিয়াছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি।
وبرًّا بِوَالِدَتِي ولَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا : এবং আমাকে আমার মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত বা হতভাগা করেন নাই।
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ ويَوْمَ أَمُوتُ ويَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا : এবং আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্ম গ্রহণ করিয়াছি, যেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন আমি জীবিত হইয়া পুনরুত্থিত হইব।
ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ : তিনিই মারইয়াম তনয় ঈসা; ইহা সত্য কথা যাহার বিষয়ে তাহারা সন্দেহ করে।
(রুকু ৩ হইতে রুকু ৬ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)
রুকু-৬
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ به الْمُتَّقِينَ : আমি তো আপনার ভাষায় (আরবীতে) কুরআনকে সহজ করিয়া দিয়াছি যাহাতে আপনি উহার দ্বারা মুত্তাকীদের সুসংবাদ দিতে পারেন।
وتُنْذِرَ به قَوْمًا لُدًّا : এবং উহার দ্বারা ঝগড়াটে ও হঠকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পারেন।
وكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ : এবং তাহাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়াছি।
هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا : আপনি কি তাহাদের কাহারও অস্তিত্ব অনুভব করেন অথবা তাহাদের ক্ষীণতম আওয়াজও শুনিতে পান?
📄 ২০. সূরা ত্ব-হা
তশ্কী : তুমি কষ্ট পাও
আলা : সমুচ্চ, উচু
শরা : সিক্ত মৃত্তিকা, নিচু জমিন
আমকুছু : তোমরা অবস্থান কর
আনাসতু : আমি অবলোকন করিয়াছি, আমি দেখিয়াছি
ক্বাবাস : আঙ্গার, অগ্নি শিখা
ইখলা’ না’লাই : উন্মোচন কর, খুলিয়া ফেল (মূলে ছিল না’লাইন, সম্বন্ধ পদের কারণে নূন বিলুপ্ত হইয়া না’লাই হইয়াছে, অর্থ পাদুকাদ্বয়)
তুয়া : একটি মুকাদ্দাস উপত্যকার নাম, যেখানে হযরত মূসা (আঃ) এর প্রতি ওহী নাযিল হয়
ইখতারতু : আমি মনোনীত করিয়াছি
আক্বাদু : আমি নিকটবর্তী
উখফী : আমি গোপন রাখিব
অশদুদ : মজবুত কর, শক্তিশালী কর
আযরী : আমার কোমর, পিঠ, শক্তি (আযরী+ই)
আতওয়াক্কাও : আমি ভর দেই
আহাশশু : গাছের পাতা ঝাড়ি
আশরীক : শরীক কর, অংশীদার কর
াগনামী : আমার ছাগপাল (গানামী=গানামী)
কাই : যেন
ইক্বযিফী : নিক্ষেপ কর, ভাসাইয়া দাও
হাইয়্যাতু : সাপ
তাসনাউ : তুমি প্রতিপালিত হও, পরিবর্ধিত হও
আইনী : আমার দৃষ্টি, আমার চক্ষু
আইদালকা : বলিয়া দিব
তাক্বরু : শীতল হয়
ফুতুনা : পরীক্ষা, আযমাইশ
ইশরাহ : প্রশস্ত কর
ইহ্লুল : খুলিয়া দাও, উন্মোচন কর
উক্বদাতুন : জড়তা, গ্রন্থি, গিরা
ইউসাহহিত : ধ্বংস করিয়া দিবে, বিধ্বস্ত করিবে
লা তানিয়া : তোমরা দুইজনে অলস্য করিও না, শৈথিল্য করিও না
খাবা : ব্যর্থকাম হইয়াছে, বিফল মনোরথ হইয়াছে
ইয়াফরুতু : বাড়াবাড়ি করে, জুলুম করে
আ’তা : দান করিয়াছে, প্রদান করিয়াছে
মা বালু : কি অবস্থা?
শাত্তাউ : বিভিন্ন, নানাবিধ
হিবালুন : রশিসমূহ
উসি : লাঠিসমূহ
ইরআও : চারণ কর, চরাও
ইউখাইয়্যালু : অনুমিত হইল, মনে হইল
আওজাসা : ভীতি অনুভব করিল
তারাতান উখরা : পুনরায়, দ্বিতীয়বার
মাকানান সুয়া : প্রশস্ত স্থান, সমতল ভূমি, সুবিধাজনক
ইয়াওমুয যিনাহ : উৎসবের দিন
যুহা : পূর্বাহ্ন, দিনের প্রথম ভাগ
দারকুন : ধৃত হওয়া, ধরা পড়া
ক্বাবযাতান : মুষ্টি ভর্তি করিয়া লওয়া
লা মিসাস : স্পর্শ করিও না
যালতা : তুমি হইলে, হইয়া গেলে, সারা দিন কাটাইলে
আকিফান : উপবিষ্ট, অনুরুক্ত
নুহাররিক্বান্না : আমি জ্বালাইয়া দিব
নাসফান : উড়াইয়া দেওয়া
যুরক্বান : নীল-চক্ষু (যখন অত্যধিক ব্যথা বেদনার কারণে চোখের রং নীল বর্ণ ধারণ করে, তাহাকে আরবীতে বলা হয়)
ইয়াতাখাফাতুন : চুপে চুপে বলাবলি করিবে
আমছালু : উত্তম, উৎকৃষ্ট পন্থীগণ
ইয়াবনাউম্মা : হে আমার মায়ের ছেলে, অর্থাৎ হে আমার ভাই
লিহিওয়াতুন : শ্মশ্রু, দাড়ি
লাম তারক্বুব : তুমি অপেক্ষা কর নাই
ক্বাবাযতু : মুষ্টি ভরিয়া লইয়াছি, গ্রহণ করিয়াছি
লা তাজু : ক্ষুধার্ত হইবে না
লা তা’রা : বস্ত্রহীন হইবে না, অনাবৃত হইবে না
লা তাযমাউ : তৃষ্ণার্ত হইবে না
লা তাযহা : রৌদ্রতপ্ত হইবে না
যনকান : সংকীর্ণ, সঙ্কুচিত
ক্বা’আ : ময়দান
সাফসাফান : মসৃণ, পরিস্কার, পরিত্যক্ত
আমতান : উচু নিচু, টিলা
হামসান : মৃদু গুঞ্জন
লিমামুন : সাব্যস্ত হওয়া
আনাত : বিনত হইবে
হযমান : অবনমিত হইবে
ইউহদিছু : না ইনসাফী, জুলুম, অভাবগ্রস্ত হওয়া
আজমান : সঙ্কল্প, দৃঢ়তা
তাত্তাজাফা : পৃথক থাকে, আলাদা থাকে
আসবাগা : পূর্ণ করিয়াছে
টিকাঃ
সামেরী : মূসাঃ (আঃ) এর যুগের একটি লোকের নাম।
📄 ২১. সূরা আল আম্বিয়া
মক্বরুন : বন্ধ, সংবদ্ধ
ফাতাক্বনা : খুলিয়া দিয়াছি, প্রমুক্ত করিয়াছি
ফিজাজান : প্রশস্ত ছাদ
সাক্বফান : বিচরণ করে, পরিক্রমণ করে
ইয়াসবাহুন : চিরস্থায়ী, অনন্ত জীবন
খুলদুন : তুমি মৃত্যু প্রাপ্ত হও
মুত : প্রতিরোধ করিতে পারিবে না
লা ইয়াকুফফুন : হতবুদ্ধি করিয়া দিবে
তাবহাতু : ধ্বংস করিয়াছি
ক্বাশামনা : অনুভব করিল, টের পাইল
আহাসসু : পলায়ন করিয়াছিল
ইয়ারক্বুযুন : দ্রুতপদে পলায়ন করা, দিশাহারা হইয়া পলায়ন করা
মা যালাত : শেষ হয় নাই, সর্বদা ছিল
হাসিদান : সমূলে কর্তন করা
খামিদিন : নির্বাপিত (অগ্নি)
লা ইয়াসতাহসিরুন : পরিশ্রান্ত হয় না
লা ইয়াফতুরুন : ক্লান্ত হয় না
ফাসাদাতা : ধ্বংস হইয়া যাইত, উভয়ের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করিত
হাতু : আন, আনয়ন কর
রাতিন : নতুন
লাহিয়াতুন : অমনযোগী
মুহদিসুন : ফুৎকার
নাক্বহাতুন : ঝাপটা
কারবুন : মহা সংকট
খাদালান : সরিষা, রাই
যিয়াউন : আলো, রৌশনী
নাফাশাত : রাত্রিকালে ঢুকিয়া পড়িল, চারণ করিল
গানাম : বকরীর পাল
ফাহ্হামনা : আমি বুঝাইয়া দিয়াছিলাম
সানআতুন : শিল্প, কারিগরী
তুহসিনু : সংরক্ষণ করে
াসিফাতান : প্রবল, কঠিন
ইয়াগুসুনা : ডুবুরীর কাজ করিত, ডুব দিত
তামাছিল : প্রতিমূর্তি, প্রতিমা
জুযাযান : বিচূর্ণ, টুকরা টুকরা
ফাতান : যুবক
ইয়ান্তিকুন : কথা বলে
নুকিসু : অবনমিত হইল, অবনত করিল
হাররিকু : দগ্ধ কর, পুড়াইয়া দাও
কূনী বারদান : হও, হইয়া যাও শীতল, ঠান্ডা
মান ইয়াকলাউ : কে হেফাজত করিবে, রক্ষা করিবে
ইউসহাবুন : সাহায্যকারী পাইবে
টিকাঃ
মাছ ওয়ালা : হযরত ইউনুছ আঃ।
📄 ২২. সূরা আলহাজ্জ্ব
তাযহালু : বিস্মৃত হইবে, ভুলিয়া যাইবে
মুরযিআতুন : স্তন্যদায়িনী
তাযা’উ : গর্ভপাত করিবে
তাজহালু : মাতাল, প্রমত্ত
মারীদুন : অবাধ্য, নাফরমান
তাওয়াল্লা : বন্ধুত্ব করিল, অনুরুক্ত হইল
হারফুন : দ্বিধাদ্বন্দ্ব জড়িত, কিনারায়
আসাবাহু : আপতিত হইয়াছে
নুক্বসাহু : ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া
ফুনফাহান : বিদীর্ণ করা
ইতওয়া : চব্বিশ
খাসিমান : দুই ঝগড়াটে, ঝগড়াকারী
ইহতাসামু : বিতর্ক করে, ঝগড়া করে, তাহারা বিবাদ করিয়াছে
কুততিআত : কাটিয়া রাখিয়াছে, অর্থাৎ তৈয়ার করা হইয়াছে
থিয়াবুন : কাপড়
ইউসাব্বু : নিক্ষিপ্ত হইবে, ঢালিয়া দেওয়া হইবে
ইউসহারু : বিগলিত হইবে
মাক্বামী’উ : লৌহ দন্ড, হাতুড়ী
লু’লুআন : মুক্তা
হারীরুন : রেশম
আকুন : স্থানীয় অধিবাসী
বাদিন : বহিরাগত
ইলহাদুন : ধর্মদ্রোহিতা, শিরক
সাক্বিকুন : দূরবর্তী স্থান, বহু দূর
দ্বামিরিন : কৃশকায় উট, দুর্বল উট
ফিজিন আমীক্বিন : দূর-দূরান্ত পথ
মুখবিতিন : বিনয়ীগণ
বাদনা : উষ্ট্রপাল
সোয়াফফা : সারিবদ্ধভাবে
ওয়াজাবাত : ভূপাতিত হয়, পড়িয়া যায়
আল বা’য়িসা : ক্ষুধার্ত, ভূখা, দুঃস্থ
তাক্বাজু : পরিস্কার করে
তাকাছুন : ময়লা, অপরিচ্ছন্নতা
আল বাইতিল আতীক : প্রাচীনতম গৃহ, অর্থাৎ কাবা শরীফ
আমলাইতু : অবকাশ দিয়াছি
নাকীরুন : আযাব, শাস্তি
বি’রুন মুয়াত্তালাহ : কূপ পরিত্যক্ত, অকর্মণ্য, বেকার
ক্বাসরুন মাশীদ : মহল, প্রাসাদ উচ্চ, সজ্জিত, মজবুত
তা’মা : অন্ধ হইয়াছে
ক্বানিউন : পরিতুষ্ট (যাহারা হাত পাতে না)
মু’তার : সহিষ্ণু, প্রার্থনাকারী
لحوم : মাংস, গোসত
খাওয়ানিন : বিশ্বাসঘাতক, অবিশ্বাসীগণ
তামান্না : সে সংকল্প করিল, অভিলাশ করিল
আযিনা : অনুমতি প্রদান করা হইয়াছে
ইউক্বতালুন : নিহত হয়, যুদ্ধ করে
হুদ্দিমাত : বিধ্বৎসিত হইত, বিচুর্ণিত হইত
সাওয়ামিউ : মঠ, সাধনা গৃহ, খানেকাহ গৃহ
বিয়াউন : ইসরাঈলীদের গির্জা
সালাওয়াতুন : উপাসনালয়
ইউখবিতু : বিনত হয়
একীমুন : বন্ধা, বরকতহীন, ধ্বংসকারী
মুখযিররা : হরিৎবর্ণ, সবুজ, শ্যামল
আন তাক্বাআ : যেন নিপতিত হয়
ইয়াসতুন : আক্রমণ করিবে, হামলা করিবে
যুবাবান : মাছি
ইয়াসলুব : লইয়া যায়, ছিনাইয়া লওয়া
লা ইয়াসতানক্বিযু : ফিরাইয়া লইতে পারিবেনা
ইস্তানক্বায : উদ্ধার করা, মুক্ত করা