📘 লুগাতুল কোরআন 📄 ১৮. সূরা আল কাহাফ

📄 ১৮. সূরা আল কাহাফ


১৮. সূরা আল কাহাফ
মক্কী সূরা, রুকু ১২

রুকু-১
الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَى عَبْدِهِ الْكِتَابَ : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁহার বান্দার প্রতি কিতাব নাযিল করিয়াছেন।
ولَمْ يَجْعَلْ لَهُ عِوَجًا : এবং উহাতে কোন বক্রতা রাখেন নাই।
قَيِّمًا لِيُنْذِرَ بَأْسًا شَدِيدًا مِنْ لَدُنْهُ : ইহাকে সুদৃঢ় ও সঠিক করিয়াছেন যাহাতে তিনি তাঁহার পক্ষ হইতে কঠিন আযাবের ভয় দেখাইতে পারেন।
ويُبَشِّرَ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ : এবং মুমিনদিগকে সুসংবাদ দিতে পারেন যাহারা নেক আমল করে।
أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا حَسَنًا : যে তাহাদের জন্য উত্তম পুরস্কার রহিয়াছে।
مَاكِثِينَ فِيهِ أَبَدًا : সেখানে তাহারা চিরকাল অবস্থান করিবে।
ويُنْذِرَ الَّذِينَ قَالُوا اتَّخَذَ اللهُ وَلَدًا : এবং তাহাদিগকে সতর্ক করিতে পারেন যাহারা বলে যে আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করিয়াছেন।
مَا لَهُمْ به مِنْ عِلْمٍ وَلَا لِآبَائِهِمْ : এ বিষয়ে তাহাদের বা তাহাদের পিতৃপুরুষদের কোন জ্ঞান নাই।
كَبُرَتْ كَلِمَةً تَخْرُجُ مِنْ أَفْوَاهِهِمْ : তাহাদের মুখ হইতে বাহির হওয়া এই কথাটি বড়ই জঘন্য।
إِنْ يَقُولُونَ إلا كَذِبًا : তাহারা কেবল মিথ্যাই বলে।
فَلَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَفْسَكَ عَلَى آثَارِهِمْ : হয়তো আপনি তাহাদের পিছনে নিজের জীবন শেষ করিয়া দিবেন (শোকে)।
إِنْ لَمْ يُؤْمِنُوا بِهَذَا الْحَدِيثِ أَسَفًا : যদি তাহারা এই কুরআনের প্রতি ঈমান না আনে।
إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الأَرْضِ زِينَةً لَهَا : নিশ্চয়ই যমীনের উপর যাহা কিছু আছে আমি উহাকে যমীনের শোভাবর্ধনের জন্য বানাইয়াছি।
لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا : যাহাতে আমি পরীক্ষা করিতে পারি যে তাহাদের মধ্যে আমলে কে উত্তম।
وَإِنَّا لَجَاعِلُونَ مَا عَلَيْهَا صَعِيدًا جُرُزًا : এবং যমীনের উপর যাহা আছে আমি অবশ্যই উহাকে উদ্ভিদশূন্য শুষ্ক ময়দানে পরিণত করিব।
أم حَسِبْتَ أَنَّ أَصْحَابَ الْكَهْفِ وَالرَّقِيمِ : আপনি কি ধারণা করিয়াছেন যে ‘আসহাবে কাহাফ’ (গুহাবাসী) ও ‘রাকিম’ (খোদিত ফলক)?
كَانُوا مِنْ آيَاتِنَا عَجَبًا : আমার নিদর্শনসমূহের মধ্যে অত্যন্ত বিস্ময়কর ছিল?
إِذْ أَوَى الْفِتْيَةُ إلَى الْكَهْفِ : যখন কতিপয় যুবক গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করিল।
فَقَالُوا رَبَّنَا آتِنَا مِنْ لَدُنْكَ رَحْمَةً : অতঃপর তাহারা বলিল, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি স্বীয় পক্ষ হইতে আমাদিগকে রহমত দান করুন।
وهَيِّئْ لَنَا مِنْ أَمْرِنَا رَشَدًا : এবং আমাদের কাজের জন্য সঠিক পথ সুগম করিয়া দিন।
فَضَرَبْنَا عَلَى آذَانِهِمْ فِي الْكَهْفِ سِنِينَ عَدَدًا : অতঃপর আমি গুহার মধ্যে বহু বছর পর্যন্ত তাহাদের কানের উপর পর্দা ফেলিয়া দিলাম (নিদ্রামগ্ন করিলাম)।

রুকু-২
ثم بَعَثْنَاهُمْ لِنَعْلَمَ أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصَى : অতঃপর আমি তাহাদিগকে জাগ্রত করিলাম ইহা দেখিবার জন্য যে দুই দলের মধ্যে কে অধিক নির্ভুল গণনা করে।
لِمَا لَبِثُوا أَمَدًا : তাহারা কতকাল অবস্থান করিয়াছে।
نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ نَبَأَهُمْ بِالْحَقِّ : আমি আপনার নিকট তাহাদের সংবাদ সঠিকভাবে বর্ণনা করিতেছি।
إِنَّهُمْ فِتْيَةٌ آمَنُوا بِرَبِّهِمْ : নিশ্চয়ই তাহারা ছিল কতিপয় যুবক যাহারা তাহাদের প্রতিপালকের উপর ঈমান আনিয়াছিল।
وزِدْنَاهُمْ هُدًى : এবং আমি তাহাদের হেদায়াত আরও বাড়াইয়া দিয়াছিলাম।
ورَبَطْنَا عَلَى قُلُوبِهِمْ : এবং আমি তাহাদের অন্তরকে দৃঢ় করিয়া দিয়াছিলাম।
إِذْ قَامُوا فَقَالُوا رَبُّنَا رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ : যখন তাহারা দাঁড়াইয়া ঘোষণা করিল যে, আমাদের প্রতিপালক আসমান ও যমীনের প্রতিপালক।
لن نَدْعُوَ مِنْ دُونِهِ إِلَهًا : আমরা তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্যকে ডাকিব না।
لقَدْ قُلْنَا إِذًا شَطَطًا : যদি ডাকি তবে তো আমরা গর্হিত ও অসঙ্গত কথা বলিব।
هؤلاء قَوْمُنَا اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً : আমাদের এই কওম বা সম্প্রদায় আল্লাহ ছাড়া অন্য উপাস্য গ্রহণ করিয়াছে।
لَوْلَا يَأْتُونَ عَلَيْهِمْ بِسُلْطَانٍ بَيِّنٍ : তাহারা কেন তাহাদের পক্ষে কোন স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থিত করে না?
فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَى عَلَى اللهِ كَذِبًا : সুতরাং তাহার অপেক্ষা বড় জালেম কে যে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে?
وَإِذِ اعْتَزَلْتُمُوهُمْ وَمَا يَعْبُدُونَ إلا اللهَ : এবং যখন তোমরা তাহাদের হইতে এবং তাহারা আল্লাহ ছাড়া যাহাদের ইবাদত করে তাহাদের হইতে পৃথক হইলে।
فَأْوُوا إلَى الْكَهْفِ : তখন তোমরা গুহায় আশ্রয় গ্রহণ কর।
يَنْشُرْ لَكُمْ رَبُّكُمْ مِنْ رَحْمَتِهِ : তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের জন্য তাঁহার রহমত সম্প্রসারিত করিবেন।
ويُهَيِّئْ لَكُمْ مِنْ أَمْرِكُمْ مِرْفَقًا : এবং তোমাদের কাজের মধ্যে তোমাদের জন্য আরাম বা স্বাচ্ছন্দ্য দান করিবেন।
وتَرَى الشَّمْسَ إِذَا طَلَعَتْ تَزَاوَرُ عَنْ كَهْفِهِمْ ذَاتَ الْيَمِينِ : এবং আপনি সূর্যকে দেখিবেন যে যখন উহা উদিত হয় তখন তাহাদের গুহা হইতে ডান দিকে পাশ কাটিয়া যায়।
وَإِذَا غَرَبَتْ تَقْرِضُهُمْ ذَاتَ الشِّمَالِ : এবং যখন উহা অস্ত যায় তখন বাম দিকে পাশ কাটিয়া যায়।
وَهُمْ فِي فَجْوَةٍ مِنْهُ : অথচ তাহারা গুহার এক প্রশস্ত স্থানে ছিল।
ذَلِكَ مِنْ آيَاتِ اللهِ : উহা আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত।
مَنْ يَهْدِ اللهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِ : আল্লাহ যাহাকে পথ দেখান সেই হেদায়াতপ্রাপ্ত।
وَمَنْ يُضْلِلْ فَلَنْ تَجِدَ لَهُ وَلِيًّا مُرْشِدًا : আর যাহাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন আপনি তাহার জন্য কোন অভিভাবক বা পথপ্রদর্শক পাইবেন না।

রুকু-৩
وتَحْسَبُهُمْ أَيْقَاظًا وَهُمْ رُقُودٌ : আপনি মনে করিতেন তাহারা জাগ্রত অথচ তাহারা ছিল নিদ্রিত।
ونُقَلِّبُهُمْ ذَاتَ الْيَمِينِ وَذَاتَ الشِّمَالِ : আমি তাহাদিগকে ডানে ও বামে পার্শ্ব পরিবর্তন করাইতাম।
وكَلْبُهُمْ بَاسِطٌ ذِرَاعَيْهِ بِالْوَصِيدِ : এবং তাহাদের কুকুরটি গুহার দ্বারে সামনের পা দুটি প্রসারিত করিয়া ছিল।
(টিকাঃ ‘যিরাআইহি’ শব্দে ‘হ’ সর্বনাম যোগ হওয়ার কারণে ‘ন’ বিলুপ্ত হইয়াছে, অর্থ-তাহার সামনের পা দুটি।)
لَوِ اطَّلَعْتَ عَلَيْهِمْ لَوَلَّيْتَ مِنْهُمْ فِرَارًا : আপনি যদি উঁকি দিয়া তাহাদিগকে দেখিতেন তবে আপনি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিয়া পলায়ন করিতেন।
ولَمُلِئْتَ مِنْهُمْ رُعْبًا : এবং আপনি তাহাদের দেখিয়া আতঙ্কে শিহরিয়া উঠিতেন।
وكَذَلِكَ بَعَثْنَاهُمْ لِيَتَسَاءَلُوا بَيْنَهُمْ : এভাবেই আমি তাহাদিগকে জাগ্রত করিলাম যাহাতে তাহারা একে অপরের নিকট জিজ্ঞাসা করিতে পারে।
قَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ كَمْ لَبِثْتُمْ : তাহাদের একজন বলিল, তোমরা কতকাল অবস্থান করিয়াছ?
قَالُوا لَبِثْنَا يَوْمًا أَوْ بَعْضَ يَوْمٍ : তাহারা বলিল, আমরা একদিন অথবা দিনের কিছু অংশ অবস্থান করিয়াছি।
قَالُوا رَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثْتُمْ : (অন্যরা) বলিল, তোমরা কতকাল অবস্থান করিয়াছ তাহা তোমাদের প্রতিপালকই ভালো জানেন।
فَابْعَثُوا أَحَدَكُمْ بِوَرِقِكُمْ هَذِهِ إلَى الْمَدِينَةِ : সুতরাং তোমাদের একজনকে এই রৌপ্য মুদ্রাসহ শহরে পাঠাও।
فَلْيَنْظُرْ أَيُّهَا أَزْكَى طَعَامًا : সে যেন দেখে কোন খাবার অধিক পবিত্র বা ভালো।
فَلْيَأْتِكُمْ بِرِزْقٍ مِنْهُ : এবং সে যেন সেখান হইতে তোমাদের জন্য কিছু খাবার লইয়া আসে।
ولْيَتَلَطَّفْ : এবং সে যেন সূক্ষ্ম তদবীর বা সতর্কতা অবলম্বন করে।
ولا يُشْعِرَنَّ بِكُمْ أَحَدًا : এবং সে যেন কাহাকেও তোমাদের সম্পর্কে জানিতে না দেয়।
إِنَّهُمْ إِنْ يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ يَرْجُمُوكُمْ : কারণ তাহারা যদি তোমাদের খবর পায় তবে তোমাদিগকে পাথর মারিয়া হত্যা করিবে।
أَوْ يُعِيدُوكُمْ فِي مِلَّتِهِمْ : অথবা তোমাদিগকে তাহাদের ধর্মে ফিরাইয়া লইবে।
ولن تُفْلِحُوا إِذًا أَبَدًا : তখন তোমরা কখনো সফলকাম হইতে পারিবে না।
وكَذَلِكَ أَعْثَرْنَا عَلَيْهِمْ : এভাবেই আমি তাহাদের খবর জানাইয়া দিলাম।
لِيَعْلَمُوا أَنَّ وَعْدَ اللهِ حَقٌّ : যাহাতে তাহারা জানিতে পারে যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
وأَنَّ السَّاعَةَ لَا رَيْبَ فِيهَا : এবং কিয়ামতের বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই।
إِذْ يَتَنَازَعُونَ بَيْنَهُمْ أَمْرَهُمْ : যখন তাহারা তাহাদের নিজেদের বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হইল।
فَقَالُوا ابْنُوا عَلَيْهِمْ بُنْيَانًا : তাহারা বলিল, তাহাদের স্মরণে একটি সৌধ বা ইমারত নির্মাণ কর।
رَبُّهُمْ أَعْلَمُ بهِمْ : তাহাদের প্রতিপালক তাহাদের সম্পর্কে ভালো জানেন।
قَالَ الَّذِينَ غَلَبُوا عَلَى أَمْرِهِمْ : যাহারা তাহাদের বিষয়ে প্রভাবশালী ছিল তাহারা বলিল।
لَنَتَّخِذَنَّ عَلَيْهِمْ مَسْجِدًا : আমরা অবশ্যই তাহাদের কবরের উপর একটি মসজিদ নির্মাণ করিব।
سَيَقُولُونَ ثَلَاثَةٌ رَابِعُهُمْ كَلْبُهُمْ : কেহ কেহ বলিবে তাহারা ছিল তিন জন আর চতুর্থটি তাহাদের কুকুর।
ويَقُولُونَ خَمْسَةٌ سَادِسُهُمْ كَلْبُهُمْ رَجْمًا بِالْغَيْبِ : এবং কেহ কেহ বলিবে তাহারা ছিল পাঁচ জন আর ষষ্ঠটি তাহাদের কুকুর, এগুলি কেবল আন্দাজে কথা বলা।
ويَقُولُونَ سَبْعَةٌ وثَامِنُهُمْ كَلْبُهُمْ : এবং কেহ কেহ বলিবে তাহারা ছিল সাত জন আর অষ্টমটি তাহাদের কুকুর।
قُلْ رَبِّي أَعْلَمُ بِعِدَّتِهِمْ مَا يَعْلَمُهُمْ إلا قَلِيلٌ : বলুন, আমার প্রতিপালকই তাহাদের সংখ্যা সম্পর্কে ভালো জানেন, খুব অল্প সংখ্যক লোকই তাহা জানে।
فَلَا تُمَارِ فِيهِمْ إلا مِرَاءً ظَاهِرًا : সুতরাং আপনি এই বিষয়ে অগভীর আলোচনা ছাড়া বিতর্কে লিপ্ত হইবেন না।
ولا تَسْتَفْتِ فِيهِمْ مِنْهُمْ أَحَدًا : এবং তাহাদের সম্পর্কে ইহাদের কাহারও নিকট কোন কিছু জিজ্ঞাসা করিবেন না।

রুকু-৪
ولا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَلِكَ غَدًا : এবং আপনি কোন বিষয়ে কখনো বলিবেন না যে আমি ইহা আগামীকাল করিব।
إلا أَنْ يَشَاءَ اللهُ : ‘ইনশাআল্লাহ’ (যদি আল্লাহ চাহেন) বলা ছাড়া।
واذْكُرْ رَبَّكَ إِذَا نَسِيتَ : এবং যখন আপনি ভুলিয়া যান তখন আপনার প্রতিপালককে স্মরণ করুন।
وقُلْ عَسَى أَنْ يَهْدِيَنِ رَبِّي لِأَقْرَبَ مِنْ هَذَا رَشَدًا : এবং বলুন, হয়তো আমার প্রতিপালক আমাকে সঠিক পথের অধিক নিকটবর্তী হওয়ার তৌফিক দিবেন।
ولَبِثُوا فِي كَهْفِهِمْ ثَلَاثَ مِائَةٍ سِنِينَ وَازْدَادُوا تِسْعًا : এবং তাহারা তাহাদের গুহায় তিনশত বছর ছিল এবং আরও নয় বছর অতিবাহিত হইয়াছিল।
قُلِ اللهُ أَعْلَمُ بِمَا لَبِثُوا : বলুন, তাহারা কতকাল ছিল আল্লাহই তাহা ভালো জানেন।
لَهُ غَيْبُ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ : আসমান ও যমীনের অদৃশ্যের খবর তাঁহারই নিকট।
أَبْصِرْ به وأَسْمِعْ : তিনি কত চমৎকার দেখেন ও শোনেন!
مَا لَهُمْ مِنْ دُونِهِ مِنْ وَلِيٍّ : তিনি ছাড়া তাহাদের কোন অভিভাবক নাই।
ولا يُشْرِكُ فِي حُكْمِهِ أَحَدًا : এবং তিনি তাঁহার কর্তৃত্বে কাহাকেও শরীক করেন না।
واتْلُ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِنْ كِتَابِ رَبِّكَ : আপনার প্রতিপালকের কিতাব হইতে আপনার প্রতি যাহা ওহী আসিয়াছে তাহা পাঠ করুন।
لَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ : তাঁহার বাণীর কোন পরিবর্তনকারী নাই।
ولن تَجِدَ مِنْ دُونِهِ مُلْتَحَدًا : এবং আপনি তিনি ছাড়া অন্য কোন আশ্রয়স্থল পাইবেন না।
واصْبِرْ نَفْسَكَ مَعَ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ : এবং আপনি নিজেকে ঐ সব লোকের সংশ্রবে রাখুন যাহারা সকাল-সন্ধ্যায় তাহাদের প্রতিপালককে ডাকে।
يُرِيدُونَ وَجْهَهُ : যাহারা কেবল তাঁহার সন্তুষ্টি কামনা করে।
ولا تَعْدُ عَيْنَاكَ عَنْهُمْ : এবং আপনার চক্ষু যেন তাহাদের হইতে সরিয়া না যায়।
تُرِيدُ زِينَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا : আপনি কি পার্থিব জীবনের চাকচিক্য কামনা করেন?
ولا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا : এবং আপনি ঐ ব্যক্তির অনুসরণ করিবেন না যাহার অন্তরকে আমি আমার স্মরণ হইতে গাফেল করিয়া দিয়াছি।
واتَّبَعَ هَوَاهُ وكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا : যে তাহার খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে এবং যাহার কাজ সীমা অতিক্রম করিয়া গিয়াছে।
وقُلِ الْحَقُّ مِنْ رَبِّكُمْ : এবং বলুন, সত্য তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে।
فَمَنْ شَاءَ فَلْيُؤْمِنْ وَمَنْ شَاءَ فَلْيَكْفُرْ : অতঃপর যাহার ইচ্ছা সে ঈমান আনুক এবং যাহার ইচ্ছা সে অস্বীকার করুক।
إِنَّا أَعْتَدْنَا لِلظَّالِمِينَ نَارًا أَحَاطَ بهِمْ سُرَادِقُهَا : নিশ্চয়ই আমি জালেমদের জন্য আগুন প্রস্তুত রাখিয়াছি যাহার শিখা বা বেষ্টনী তাহাদিগকে ঘিরিয়া রহিয়াছে।
وَإِنْ يَسْتَغِيثُوا يُغَاثُوا بِمَاءٍ كَالْمُهْلِ : এবং তাহারা যদি পানীয় প্রার্থনা করে তবে তাহাদিগকে গলিত তামার ন্যায় পানি দেওয়া হইবে।
يَشْوِي الْوُجُوهَ : যাহা তাহাদের মুখমন্ডল ঝলসাইয়া দিবে।
بِئْسَ الشَّرَابُ وسَاءَتْ مُرْتَفَقًا : কতই না মন্দ সেই পানীয় এবং কতই না নিকৃষ্ট সেই বিশ্রামস্থল।
إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ : নিশ্চয় যাহারা ঈমান আনিয়াছে ও নেক আমল করিয়াছে।
إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا : আমি অবশ্যই তাহাদের পুরস্কার নষ্ট করি না যাহারা উত্তম আমল করে।
أُولئِكَ لَهُمْ جَنَّاتُ عَدْنٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهِمُ الأَنْهَارُ : তাহাদের জন্য রহিয়াছে চিরস্থায়ী জান্নাত যাহার তলদেশ দিয়া ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হয়।
يُحَلَّوْنَ فِيهَا مِنْ أَسَاوِرَ مِنْ ذَهَبٍ : সেখানে তাহাদিগকে স্বর্ণের কাঁকন বা চুড়ি দ্বারা অলংকৃত করা হইবে।
ويَلْبَسُونَ ثِيَابًا خُضْرًا مِنْ سُنْدُسٍ وَإِسْتَبْرَقٍ : এবং তাহারা মিহি ও পুরু রেশমের সবুজ পোশাক পরিধান করিবে।
مُتَّكِئِينَ فِيهَا عَلَى الأَرَائِكِ : সেখানে তাহারা সুসজ্জিত সিংহাসনে হেলান দিয়া বসিবে।
نِعْمَ الثَّوَابُ وحَسُنَتْ مُرْتَفَقًا : কতই না চমৎকার সেই পুরস্কার এবং কতই না উত্তম সেই আশ্রয়স্থল।

(রুকু ৫ হইতে রুকু ১২ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)

রুকু-১২
قُلْ لَوْ كَانَ الْبَحْرُ مِدَادًا لِكَلِمَاتِ رَبِّي : বলুন, যদি আমার প্রতিপালকের বাণী লিখিবার জন্য সমুদ্র কালি হইত।
لَنَفِدَ الْبَحْرُ قَبْلَ أَنْ تَنْفَدَ كَلِمَاتُ رَبِّي : তবে আমার প্রতিপালকের বাণী শেষ হইবার পূর্বেই সমুদ্র শেষ হইয়া যাইত।
ولَوْ جِئْنَا بِمِثْلِهِ مَدَدًا : যদিও আমি উহার সাহায্যের জন্য অনুরূপ আরও একটি সমুদ্র লইয়া আসিতাম।
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ : বলুন, আমি তো তোমাদেরই মত একজন মানুষ, আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়।
أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ : যে তোমাদের উপাস্য একমাত্র অদ্বিতীয় উপাস্য।
فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ : অতঃপর যে ব্যক্তি তাহার প্রতিপালকের সহিত সাক্ষাতের আশা রাখে।
فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا : সে যেন নেক আমল করে।
ولا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا : এবং তাহার প্রতিপালকের ইবাদতে কাহাকেও শরীক না করে।

📘 লুগাতুল কোরআন 📄 ১৯. সূরা মারইয়াম

📄 ১৯. সূরা মারইয়াম


১৯. সূরা মারইয়াম
মক্কী সূরা, রুকু ৬

রুকু-১
ذِكْرُ رَحْمَةِ رَبِّكَ عَبْدَهُ زَكَرِيَّا : ইহা আপনার প্রতিপালকের সেই রহমতের বর্ণনা যাহা তিনি তাঁহার বান্দা জাকারিয়ার প্রতি করিয়াছিলেন।
إِذْ نَادَى رَبَّهُ نِدَاءً خَفِيًّا : যখন সে তাঁহার প্রতিপালককে সংগোপনে ডাকিয়াছিল।
قَالَ رَبِّ إِنِّي وَهَنَ الْعَظْمُ مِنِّي : সে বলিয়াছিল, হে আমার প্রতিপালক! নিশ্চয়ই আমার হাড়সমূহ দুর্বল হইয়া গিয়াছে।
واشْتَعَلَ الرَّأْسُ شَيْبًا : এবং আমার মস্তক বার্ধক্যের শুভ্রতায় উজ্জ্বল হইয়া গিয়াছে।
ولَمْ أَكُنْ بِدُعَائِكَ رَبِّ شَقِيًّا : হে আমার প্রতিপালক! আপনাকে ডাকিয়া আমি কখনো বিফল বা হতভাগা হই নাই।
وَإِنِّي خِفْتُ الْمَوَالِيَ مِنْ وَرَائِي : এবং আমি আমার পর আমার উত্তরাধিকারীদের (স্বজনদের) ভয় করি।
وكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا : এবং আমার স্ত্রী বন্ধ্যা।
فَهَبْ لِي مِنْ لَدُنْكَ وَلِيًّا : সুতরাং আপনি স্বীয় পক্ষ হইতে আমাকে একজন উত্তরাধিকারী দান করুন।
يَرِثُنِي ويَرِثُ مِنْ آلِ يَعْقُوبَ : যে আমার ও ইয়াকুবের বংশের উত্তরাধিকারী হইবে।
واجْعَلْهُ رَبِّ رَضِيًّا : এবং হে আমার প্রতিপালক! তাহাকে আপনার পছন্দনীয় ও সন্তোষভাজন করুন।
يَا زَكَرِيَّا إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ اسْمُهُ يَحْيَى : হে জাকারিয়া! আমি আপনাকে এক পুত্রের সুসংবাদ দিতেছি যাহার নাম হইবে ইয়াহইয়া।
لَمْ نَجْعَلْ لَهُ مِنْ قَبْلُ سَمِيًّا : ইতিপূর্বে আমি এই নামে আর কাহারও নামকরণ করি নাই।
قَالَ رَبِّ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ : সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার পুত্র হইবে কি করিয়া?
وكَانَتِ امْرَأَتِي عَاقِرًا وقَدْ بَلَغْتُ مِنَ الْكِبَرِ عِتِيًّا : অথচ আমার স্ত্রী বন্ধ্যা এবং আমি নিজেও বার্ধক্যের চরম সীমায় পৌছিয়া গিয়াছি।
قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكَ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ : আল্লাহ বলিলেন, এইরূপই হইবে, আপনার প্রতিপালক বলিয়াছেন যে উহা আমার জন্য অতি সহজ।
وقَدْ خَلَقْتُكَ مِنْ قَبْلُ ولَمْ تَكُ شَيْئًا : এবং ইতিপূর্বে আমি আপনাকেও সৃষ্টি করিয়াছি যখন আপনি কিছুই ছিলেন না।
قَالَ رَبِّ اجْعَلْ لِي آيَةً : সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে একটি নিদর্শন দিন।
قَالَ آيَتُكَ أَلَّا تُكَلِّمَ النَّاسَ ثَلَاثَ لَيَالٍ سَوِيًّا : আল্লাহ বলিলেন, আপনার নিদর্শন হইল এই যে আপনি একাদিক্রমে তিন দিন মানুষের সহিত কথা বলিতে পারিবেন না।
فَخَرَجَ عَلَى قَوْمِهِ مِنَ الْمِحْرَابِ : অতঃপর সে ইবাদতখানা হইতে বাহির হইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আসিল।
فَأَوْحَى إِلَيْهِمْ أَنْ سَبِّحُوا بُكْرَةً وَعَشِيًّا : এবং ইশারায় তাহাদিগকে সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করিতে বলিল।
يَا يَحْيَى خُذِ الْكِتَابَ بِقُوَّةٍ : হে ইয়াহইয়া! কিতাবকে (তাওরাতকে) দৃঢ়ভাবে ধারণ কর।
وآتَيْنَاهُ الْحُكْمَ صَبِيًّا : এবং আমি তাহাকে শৈশবেই প্রজ্ঞা ও বিচারবুদ্ধি দান করিয়াছিলাম।
وحَنَانًا مِنْ لَدُنَّا وَزَكَاةً : এবং স্বীয় পক্ষ হইতে কোমলতা ও পবিত্রতা দান করিয়াছিলাম।
وكَانَ تَقِيًّا وبرًّا بِوَالِدَيْهِ : এবং সে ছিল মুত্তাকী বা পরহেজগার এবং পিতামাতার সহিত সদ্ব্যবহারকারী।
ولَمْ يَكُنْ جَبَّارًا عَصِيًّا : এবং সে উদ্ধত বা অবাধ্য ছিল না।
وسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ ويَوْمَ يَمُوتُ ويَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا : এবং তাহার প্রতি শান্তি যেদিন সে জন্ম গ্রহণ করিয়াছে, যেদিন তাহার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন সে জীবিত হইয়া পুনরুত্থিত হইবে।

রুকু-২
واذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مَرْيَمَ : এবং আপনি কিতাবে মারইয়ামের কথা বর্ণনা করুন।
إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا : যখন সে তাহার পরিবারবর্গ হইতে পৃথক হইয়া পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিল।
فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَابًا : অতঃপর সে তাহাদের নিকট হইতে আড়াল হইবার জন্য পর্দা গ্রহণ করিল।
فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا : অতঃপর আমি তাহার নিকট আমার রূহকে (জিবরাঈলকে) পাঠাইলাম এবং সে তাহার নিকট পূর্ণ মানবের আকৃতি ধারণ করিল।
قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا : সে বলিল, আমি তোমার হইতে দয়াময় আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাহিতেছি যদি তুমি আল্লাহকে ভয় কর।
قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكِ : সে বলিল, আমি তো কেবল তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত দূত।
لِأَهَبَ لَكِ غُلَامًا زَكِيًّا : যাহাতে আমি তোমাকে এক পবিত্র পুত্র সন্তান দান করিতে পারি।
قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلَامٌ ولَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ : সে বলিল, আমার পুত্র হইবে কি করিয়া অথচ কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ করে নাই?
ولَمْ أَكُ بَغِيًّا : এবং আমি ব্যভিচারিণীও নহি।
قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَيَّ هَيِّنٌ : সে বলিল, এইরূপই হইবে, তোমার প্রতিপালক বলিয়াছেন যে উহা আমার জন্য অতি সহজ।
ولِنَجْعَلَهُ آيَةً لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا : এবং যাহাতে আমি তাহাকে মানুষের জন্য এক নিদর্শন ও আমার পক্ষ হইতে রহমত স্বরূপ করি।
وكَانَ أَمْرًا مَقْضِيًّا : এবং ইহা এক অবধারিত বিষয়।
فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ به مَكَانًا قَصِيًّا : অতঃপর সে গর্ভ ধারণ করিল এবং তাহা লইয়া এক দূরবর্তী স্থানে চলিয়া গেল।
فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ : অতঃপর প্রসব-বেদনা তাহাকে এক খেজুর গাছের গুড়ির নিকট লইয়া আসিল।
قَالَتْ يَا لَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا وكُنْتُ نَسْيًا مَنْسِيًّا : সে বলিল, হায়! যদি আমি ইহার পূর্বেই মরিয়া যাইতাম এবং সম্পূর্ণ বিস্মৃত ও নাম-নিশানাহীন হইয়া যাইতাম!
فَنَادَاهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي : অতঃপর নিচ হইতে (জিবরাঈল) তাহাকে ডাকিয়া বলিলেন, আপনি দুঃখিত হইবেন না।
قد جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا : আপনার প্রতিপালক আপনার নিচে একটি পানির ঝরণা বা নহর সৃষ্টি করিয়াছেন।
وهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسَاقِطْ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا : এবং আপনি খেজুর গাছের গুড়িতে ধরিয়া নিজের দিকে নাড়া দিন, তবে আপনার নিকট সুপক্ক তাজা খেজুর ঝরিয়া পড়িবে।
فَكُلِي واشْرَبِي وقَرِّي عَيْنًا : সুতরাং আপনি আহার করুন, পান করুন এবং চক্ষু জুড়ান (পরিতৃপ্ত হউন)।
فَإِمَّا تَرَيِنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي : অতঃপর যদি আপনি কোন মানুষকে দেখেন তবে ইশারায় বলিবেন।
إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا : নিশ্চয় আমি দয়াময় আল্লাহর উদ্দেশ্যে মৌনতা অবলম্বনের (রোযার) মানত করিয়াছি।
فَلَنْ أُكَلِّمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا : সুতরাং আজ আমি কোন মানুষের সহিত কথা বলিব না।
فَأَتَتْ به قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ : অতঃপর সে তাহাকে (শিশুকে) কোলে লইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট আসিল।
قَالُوا يَا مَرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِيًّا : তাহারা বলিল, হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত বা জঘন্য কাজ করিয়া বসিয়াছ!
يا أُخْتَ هَارُونَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ : হে হারুনের বোন! তোমার পিতা তো কোন মন্দ লোক ছিলেন না।
وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا : এবং তোমার মাতাও ব্যভিচারিণী ছিলেন না।
فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ : অতঃপর মারইয়াম শিশুর দিকে ইশারা করিল।
قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا : তাহারা বলিল, যে শিশু দোলনায় রহিয়াছে তাহার সহিত আমরা কথা বলিব কি করিয়া?
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا : শিশু (ঈসা) বলিয়া উঠিল, নিশ্চয় আমি আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দান করিয়াছেন এবং আমাকে নবী বানাইয়াছেন।
وجَعَلَنِي مُبَارَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ : এবং আমি যেখানেই থাকি তিনি আমাকে বরকতময় করিয়াছেন।
وأَوْصَانِي بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ مَا دُمْتُ حَيًّا : এবং তিনি আমাকে নামায ও যাকাতের নির্দেশ দিয়াছেন যতদিন আমি জীবিত থাকি।
وبرًّا بِوَالِدَتِي ولَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا : এবং আমাকে আমার মাতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে উদ্ধত বা হতভাগা করেন নাই।
وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدْتُ ويَوْمَ أَمُوتُ ويَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا : এবং আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্ম গ্রহণ করিয়াছি, যেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন আমি জীবিত হইয়া পুনরুত্থিত হইব।
ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ : তিনিই মারইয়াম তনয় ঈসা; ইহা সত্য কথা যাহার বিষয়ে তাহারা সন্দেহ করে।

(রুকু ৩ হইতে রুকু ৬ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)

রুকু-৬
فَإِنَّمَا يَسَّرْنَاهُ بِلِسَانِكَ لِتُبَشِّرَ به الْمُتَّقِينَ : আমি তো আপনার ভাষায় (আরবীতে) কুরআনকে সহজ করিয়া দিয়াছি যাহাতে আপনি উহার দ্বারা মুত্তাকীদের সুসংবাদ দিতে পারেন।
وتُنْذِرَ به قَوْمًا لُدًّا : এবং উহার দ্বারা ঝগড়াটে ও হঠকারী সম্প্রদায়কে সতর্ক করিতে পারেন।
وكَمْ أَهْلَكْنَا قَبْلَهُمْ مِنْ قَرْنٍ : এবং তাহাদের পূর্বে আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়াছি।
هَلْ تُحِسُّ مِنْهُمْ مِنْ أَحَدٍ أَوْ تَسْمَعُ لَهُمْ رِكْزًا : আপনি কি তাহাদের কাহারও অস্তিত্ব অনুভব করেন অথবা তাহাদের ক্ষীণতম আওয়াজও শুনিতে পান?

📘 লুগাতুল কোরআন 📄 ২০. সূরা ত্ব-হা

📄 ২০. সূরা ত্ব-হা


তশ্‌কী : তুমি কষ্ট পাও
আলা : সমুচ্চ, উচু
শরা : সিক্ত মৃত্তিকা, নিচু জমিন
আমকুছু : তোমরা অবস্থান কর
আনাসতু : আমি অবলোকন করিয়াছি, আমি দেখিয়াছি
ক্বাবাস : আঙ্গার, অগ্নি শিখা
ইখলা’ না’লাই : উন্মোচন কর, খুলিয়া ফেল (মূলে ছিল না’লাইন, সম্বন্ধ পদের কারণে নূন বিলুপ্ত হইয়া না’লাই হইয়াছে, অর্থ পাদুকাদ্বয়)
তুয়া : একটি মুকাদ্দাস উপত্যকার নাম, যেখানে হযরত মূসা (আঃ) এর প্রতি ওহী নাযিল হয়
ইখতারতু : আমি মনোনীত করিয়াছি
আক্বাদু : আমি নিকটবর্তী
উখফী : আমি গোপন রাখিব

অশদুদ : মজবুত কর, শক্তিশালী কর
আযরী : আমার কোমর, পিঠ, শক্তি (আযরী+ই)
আতওয়াক্কাও : আমি ভর দেই
আহাশশু : গাছের পাতা ঝাড়ি
আশরীক : শরীক কর, অংশীদার কর
াগনামী : আমার ছাগপাল (গানামী=গানামী)
কাই : যেন
ইক্বযিফী : নিক্ষেপ কর, ভাসাইয়া দাও
হাইয়্যাতু : সাপ
তাসনাউ : তুমি প্রতিপালিত হও, পরিবর্ধিত হও
আইনী : আমার দৃষ্টি, আমার চক্ষু
আইদালকা : বলিয়া দিব
তাক্বরু : শীতল হয়

ফুতুনা : পরীক্ষা, আযমাইশ
ইশরাহ : প্রশস্ত কর
ইহ্‌লুল : খুলিয়া দাও, উন্মোচন কর
উক্বদাতুন : জড়তা, গ্রন্থি, গিরা
ইউসাহহিত : ধ্বংস করিয়া দিবে, বিধ্বস্ত করিবে
লা তানিয়া : তোমরা দুইজনে অলস্য করিও না, শৈথিল্য করিও না
খাবা : ব্যর্থকাম হইয়াছে, বিফল মনোরথ হইয়াছে
ইয়াফরুতু : বাড়াবাড়ি করে, জুলুম করে
আ’তা : দান করিয়াছে, প্রদান করিয়াছে
মা বালু : কি অবস্থা?
শাত্তাউ : বিভিন্ন, নানাবিধ
হিবালুন : রশিসমূহ
উসি : লাঠিসমূহ
ইরআও : চারণ কর, চরাও
ইউখাইয়্যালু : অনুমিত হইল, মনে হইল
আওজাসা : ভীতি অনুভব করিল
তারাতান উখরা : পুনরায়, দ্বিতীয়বার
মাকানান সুয়া : প্রশস্ত স্থান, সমতল ভূমি, সুবিধাজনক
ইয়াওমুয যিনাহ : উৎসবের দিন
যুহা : পূর্বাহ্ন, দিনের প্রথম ভাগ
দারকুন : ধৃত হওয়া, ধরা পড়া
ক্বাবযাতান : মুষ্টি ভর্তি করিয়া লওয়া
লা মিসাস : স্পর্শ করিও না
যালতা : তুমি হইলে, হইয়া গেলে, সারা দিন কাটাইলে
আকিফান : উপবিষ্ট, অনুরুক্ত
নুহাররিক্বান্না : আমি জ্বালাইয়া দিব
নাসফান : উড়াইয়া দেওয়া
যুরক্বান : নীল-চক্ষু (যখন অত্যধিক ব্যথা বেদনার কারণে চোখের রং নীল বর্ণ ধারণ করে, তাহাকে আরবীতে বলা হয়)
ইয়াতাখাফাতুন : চুপে চুপে বলাবলি করিবে
আমছালু : উত্তম, উৎকৃষ্ট পন্থীগণ
ইয়াবনাউম্মা : হে আমার মায়ের ছেলে, অর্থাৎ হে আমার ভাই
লিহিওয়াতুন : শ্মশ্রু, দাড়ি
লাম তারক্বুব : তুমি অপেক্ষা কর নাই
ক্বাবাযতু : মুষ্টি ভরিয়া লইয়াছি, গ্রহণ করিয়াছি

লা তাজু : ক্ষুধার্ত হইবে না
লা তা’রা : বস্ত্রহীন হইবে না, অনাবৃত হইবে না
লা তাযমাউ : তৃষ্ণার্ত হইবে না
লা তাযহা : রৌদ্রতপ্ত হইবে না
যনকান : সংকীর্ণ, সঙ্কুচিত
ক্বা’আ : ময়দান
সাফসাফান : মসৃণ, পরিস্কার, পরিত্যক্ত
আমতান : উচু নিচু, টিলা
হামসান : মৃদু গুঞ্জন
লিমামুন : সাব্যস্ত হওয়া
আনাত : বিনত হইবে
হযমান : অবনমিত হইবে
ইউহদিছু : না ইনসাফী, জুলুম, অভাবগ্রস্ত হওয়া
আজমান : সঙ্কল্প, দৃঢ়তা
তাত্তাজাফা : পৃথক থাকে, আলাদা থাকে
আসবাগা : পূর্ণ করিয়াছে

টিকাঃ
সামেরী : মূসাঃ (আঃ) এর যুগের একটি লোকের নাম।

📘 লুগাতুল কোরআন 📄 ২১. সূরা আল আম্বিয়া

📄 ২১. সূরা আল আম্বিয়া


মক্বরুন : বন্ধ, সংবদ্ধ
ফাতাক্বনা : খুলিয়া দিয়াছি, প্রমুক্ত করিয়াছি
ফিজাজান : প্রশস্ত ছাদ
সাক্বফান : বিচরণ করে, পরিক্রমণ করে
ইয়াসবাহুন : চিরস্থায়ী, অনন্ত জীবন
খুলদুন : তুমি মৃত্যু প্রাপ্ত হও
মুত : প্রতিরোধ করিতে পারিবে না
লা ইয়াকুফফুন : হতবুদ্ধি করিয়া দিবে
তাবহাতু : ধ্বংস করিয়াছি
ক্বাশামনা : অনুভব করিল, টের পাইল
আহাসসু : পলায়ন করিয়াছিল
ইয়ারক্বুযুন : দ্রুতপদে পলায়ন করা, দিশাহারা হইয়া পলায়ন করা
মা যালাত : শেষ হয় নাই, সর্বদা ছিল
হাসিদান : সমূলে কর্তন করা
খামিদিন : নির্বাপিত (অগ্নি)
লা ইয়াসতাহসিরুন : পরিশ্রান্ত হয় না
লা ইয়াফতুরুন : ক্লান্ত হয় না
ফাসাদাতা : ধ্বংস হইয়া যাইত, উভয়ের মধ্যে অশান্তি বিরাজ করিত
হাতু : আন, আনয়ন কর
রাতিন : নতুন
লাহিয়াতুন : অমনযোগী
মুহদিসুন : ফুৎকার
নাক্বহাতুন : ঝাপটা
কারবুন : মহা সংকট
খাদালান : সরিষা, রাই
যিয়াউন : আলো, রৌশনী
নাফাশাত : রাত্রিকালে ঢুকিয়া পড়িল, চারণ করিল
গানাম : বকরীর পাল
ফাহ্হামনা : আমি বুঝাইয়া দিয়াছিলাম
সানআতুন : শিল্প, কারিগরী
তুহসিনু : সংরক্ষণ করে
াসিফাতান : প্রবল, কঠিন
ইয়াগুসুনা : ডুবুরীর কাজ করিত, ডুব দিত
তামাছিল : প্রতিমূর্তি, প্রতিমা
জুযাযান : বিচূর্ণ, টুকরা টুকরা
ফাতান : যুবক
ইয়ান্তিকুন : কথা বলে
নুকিসু : অবনমিত হইল, অবনত করিল
হাররিকু : দগ্ধ কর, পুড়াইয়া দাও
কূনী বারদান : হও, হইয়া যাও শীতল, ঠান্ডা
মান ইয়াকলাউ : কে হেফাজত করিবে, রক্ষা করিবে
ইউসহাবুন : সাহায্যকারী পাইবে

টিকাঃ
মাছ ওয়ালা : হযরত ইউনুছ আঃ।

ফন্ট সাইজ
15px
17px