📄 ১৪. সূরা ইবরাহীম
১৪. সূরা ইবরাহীম
মক্কী সূরা, রুকু ৭
রুকু-১
الر كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ إِلَيْكَ : আলিফ-লাম-রা; ইহ এক কিতাব যাহা আমি আপনার প্রতি নাযিল করিয়াছি।
لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إلَى النُّورِ : যাহাতে আপনি মানুষকে অন্ধকার হইতে আলোর দিকে বাহির করিয়া আনেন।
بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إلَى صِرَاطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ : তাহাদের প্রতিপালকের নির্দেশে পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর পথে।
اللهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ : সেই আল্লাহ যাঁহারই আসমান ও যমীনের সব কিছু।
وَوَيْلٌ لِلْكَافِرِينَ مِنْ عَذَابٍ شَدِيدٍ : এবং কাফেরদের জন্য রহিয়াছে কঠোর শাস্তির দুর্ভোগ।
الَّذِينَ يَسْتَحِبُّونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الآخِرَةِ : যাহারা আখেরাতের পরিবর্তে পার্থিব জীবনকে অধিক ভালবাসে।
ويَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللهِ ويَبْغُونَهَا عِوَجًا : এবং আল্লাহর পথে বাধা দেয় ও উহাতে বক্রতা তালাশ করে।
أُولئِكَ فِي ضَلَالٍ بَعِيدٍ : উহারা সুদূর পথভ্রষ্টতার মধ্যে রহিয়াছে।
وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إلا بِلِسَانِ قَوْمِهِ : আমি যখনই কোন রাসূল পাঠাইয়াছি তাঁহারই সম্প্রদায়ের ভাষায়।
لِيُبَيِّنَ لَهُمْ : যাহাতে তিনি তাহাদের নিকট স্পষ্ট বর্ণনা করিতে পারেন।
فَيُضِلُّ اللهُ مَنْ يَشَاءُ ويَهْدِي مَنْ يَشَاءُ : অতঃপর আল্লাহ যাহাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাহাকে ইচ্ছা পথ দেখান।
وهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ : এবং তিনি পরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাময়।
ولقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَى بِآيَاتِنَا : অবশ্যই আমি মূসাকে আমার নিদর্শনসমূহ দিয়া পাঠাইয়াছিলাম।
أَنْ أَخْرِجْ قَوْمَكَ مِنَ الظُّلُمَاتِ إلَى النُّورِ : এই মর্মে যে আপনি আপনার সম্প্রদায়কে অন্ধকার হইতে আলোর দিকে বাহির করিয়া আনুন।
وذَكِّرْهُمْ بِأَيَّامِ اللهِ : এবং তাহাদিগকে আল্লাহর দিনসমূহ (আল্লাহর আচরণ ও ঘটনাবলী) স্মরণ করান।
ইন্না فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِكُلِّ صَبَّارٍ شَكُورٍ : নিশ্চয়ই ইহাতে প্রত্যেক ধৈর্যশীল ও কৃতজ্ঞ ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।
রুকু-২
وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللهِ عَلَيْكُمْ : যখন মূসা তাঁহার সম্প্রদায়কে বলিলেন, তোমরা তোমাদের উপর আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ কর।
إِذْ أَنْجَاكُمْ مِنْ آلِ فِرْعَوْنَ : যখন তিনি তোমাদিগকে ফেরাউনের বংশধর হইতে নাজাত দিয়াছেন।
يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ : তাহারা তোমাদিগকে অত্যন্ত কষ্টদায়ক শাস্তি দিত।
يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ ويَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ : তাহারা তোমাদের পুত্র সন্তানদের জবাই করিত এবং তোমাদের নারীদের জীবিত রাখিত।
وفي ذَلِكُمْ بَلَاءٌ مِنْ رَبِّكُمْ عظيم : এবং ইহাতে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে এক কঠিন পরীক্ষা ছিল।
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ : এবং যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করিলেন যে, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর তবে আমি অবশ্যই তোমাদিগকে আরও বেশি দিব।
ولَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ : আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও তবে নিশ্চয় আমার আযাব অত্যন্ত কঠিন।
وقَالَ مُوسَى إِنْ تَكْفُرُوا أَنْتُمْ ومَنْ فِي الأَرْضِ جَمِيعًا : মূসা বলিলেন, তোমরা ও যমীনের সবাই যদি অকৃতজ্ঞ হও।
فإِنَّ اللهَ لَغَنِيٌّ حَمِيدٌ : তবে নিশ্চয় আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত।
أَلَمْ يَأْتِكُمْ نَبَأُ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ : তোমাদের নিকট কি তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ পৌঁছে নাই?
قَوْمِ نُوحٍ وعَادٍ وثَمُودَ : নূহ, আদ ও সামুদ সম্প্রদায়ের।
والَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ لَا يَعْلَمُهُمْ إلا اللهُ : এবং তাহাদের পরবর্তীদের সংবাদও, যাহাদিগকে আল্লাহ ছাড়া আর কেহ জানে না।
جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ : তাহাদের নিকট তাহাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ লইয়া আসিয়াছিলেন।
فَرَدُّوا أَيْدِيَهُمْ فِي أَفْوَاهِهِمْ : কিন্তু তাহারা তাহাদের হাত মুখে দিল (বিস্ময় বা ক্রোধে)।
وقَالُوا إِنَّا كَفَرْنَا بِمَا أُرْسِلْتُمْ به : এবং তাহারা বলিল, তোমরা যাহা লইয়া আসিয়াছ আমরা তাহা অস্বীকার করি।
وَإِنَّا لَفِي شَكٍّ مِمَّا تَدْعُونَنَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ : এবং তোমরা আমাদিগকে যে বিষয়ের দিকে ডাকিতেছ সে সম্পর্কে আমরা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে রহিয়াছি।
قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِي اللهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ : তাহাদের রাসূলগণ বলিলেন, আল্লাহর বিষয়ে কি কোন সন্দেহ আছে যিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা?
يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُمْ مِنْ ذُنُوبِكُمْ : তিনি তোমাদিগকে ডাকিতেছেন যাহাতে তিনি তোমাদের গোনাহসমূহ ক্ষমা করেন।
ويُؤَخِّرَكُمْ إلَى أَجَلٍ مُسَمًّى : এবং তোমাদিগকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেন।
قَالُوا إِنْ أَنْتُمْ إلا بَشَرٌ مِثْلُنَا : তাহারা বলিল, তোমরা তো আমাদেরই মত মানুষ ছাড়া আর কিছুই নও।
تُرِيدُونَ أَنْ تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا : তোমরা আমাদিগকে সেই সব হইতে বাধা দিতে চাও আমাদের পিতৃপুরুষেরা যাহাদের ইবাদত করিত।
فَأْتُونَا بِسُلْطَانٍ مُبِينٍ : সুতরাং তোমরা আমাদের নিকট কোন স্পষ্ট প্রমাণ লইয়া আস।
قَالَتْ لَهُمْ رُسُلُهُمْ إِنْ نَحْنُ إلا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ : তাহাদের রাসূলগণ তাহাদিগকে বলিলেন, হ্যাঁ, আমরা তোমাদেরই মত মানুষ।
ولكِنَّ اللهَ يَمُنُّ عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ : কিন্তু আল্লাহ তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাঁহাকে ইচ্ছা অনুগ্রহ করেন।
وَمَا كَانَ لَنَا أَنْ نَأْتِيَكُمْ بِسُلْطَانٍ إلا بِإِذْنِ اللهِ : এবং আল্লাহর অনুমতি ছাড়া তোমাদের নিকট কোন প্রমাণ আনয়ন করা আমাদের কাজ নহে।
وعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ : এবং মুমিনদের উচিত কেবল আল্লাহর উপরই ভরসা করা।
وَمَا لَنَا أَلَّا نَتَوَكَّلَ عَلَى اللهِ وقَدْ هَدَانَا سُبُلَنَا : আমাদের কি হইয়াছে যে আমরা আল্লাহর উপর ভরসা করিব না অথচ তিনি আমাদিগকে আমাদের পথ দেখাইয়াছেন?
ولَنَصْبِرَنَّ عَلَى مَا آذَيْتُمُونَا : এবং তোমরা আমাদিগকে যে কষ্ট দিতেছ আমরা তাহাতে অবশ্যই ধৈর্য ধারণ করিব।
وعَلَى اللهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُتَوَكِّلُونَ : এবং আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত ভরসাকারীদের।
(রুকু ৩ হইতে রুকু ৭ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)
রুকু-৭
ألَمْ تَرَ أَنَّ اللهَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِالْحَقِّ : আপনি কি দেখেন নাই যে আল্লাহ আসমান ও যমীন সত্যসহ সৃষ্টি করিয়াছেন?
إِنْ يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ ويَأْتِ بِخَلْقٍ جَدِيدٍ : তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদিগকে সরাইয়া দিয়া নতুন এক সৃষ্টি লইয়া আসিতে পারেন।
وَمَا ذَلِكَ عَلَى اللهِ بِعَزِيزٍ : এবং ইহা আল্লাহর জন্য কঠিন নহে।
📄 ১৫. সূরা আল হাজর
১৫. সূরা আল হাজর
মক্কী সূরা, রুকু ৬
রুকু-১
الر تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وقُرْآنٍ مُبِينٍ : আলিফ-লাম-রা; এগুলি কিতাব ও সুস্পষ্ট কুরআনের আয়াত।
رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ : প্রায়ই কাফেররা আকাঙ্ক্ষা করিবে যে যদি তাহারা মুসলমান হইত।
ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا ويَتَمَتَّعُوا ويُلْهِهِمُ الأَمَلُ : আপনি তাহাদিগকে ছাড়িয়া দিন যাহাতে তাহারা আহার করে ও জীবন উপভোগ করে এবং আশা তাহাদিগকে গাফেল করিয়া রাখে।
فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ : অচিরেই তাহারা জানিতে পারিবে।
وَمَا أَهْلَكْنَا مِنْ قَرْيَةٍ إلا ولَهَا كِتَابٌ مَعْلُومٌ : আমি যখনই কোন জনপদ ধ্বংস করিয়াছি তাহার জন্য একটি লিখিত সময় নির্ধারিত ছিল।
مَا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ : কোন উম্মত তাহার নির্ধারিত সময়ের আগে যাইতে পারে না এবং দেরিও করিতে পারে না।
وقَالُوا يَا أيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ : এবং তাহারা বলে, হে ঐ ব্যক্তি যাহার প্রতি কুরআন নাযিল করা হইয়াছে!
إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ : নিশ্চয়ই আপনি এক পাগল।
لَوْ مَا تَأْتِينَا بِالْمَلَائِكَةِ إِنْ كُنْتَ مِنَ الصَّادِقِينَ : আপনি যদি সত্যবাদী হন তবে আমাদের নিকট ফেরেশতাগণকে আনয়ন করেন না কেন?
مَا نُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ إلا بِالْحَقِّ : আমি ফেরেশতাগণকে যথাযথ কারণ ছাড়া নাযিল করি না।
وَمَا كَانُوا إِذًا مُنْظَرِينَ : এবং তখন তাহাদিগকে আর অবকাশ দেওয়া হইত না।
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ : নিশ্চয়ই আমিই এই কুরআন নাযিল করিয়াছি এবং আমিই ইহার রক্ষক।
ولقَدْ أَرْسَلْنَا مِنْ قَبْلِكَ فِي شِيَعِ الأَوَّلِينَ : এবং আমি আপনার পূর্বে প্রাচীন জাতিসমূহের নিকট রাসূল পাঠাইয়াছি।
وَمَا يَأْتِيهِمْ مِنْ رَسُولٍ إلا كَانُوا به يَسْتَهْزِئُونَ : তাহাদের নিকট যখনই কোন রাসূল আসিয়াছেন তখনই তাহারা তাঁহার প্রতি ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিয়াছে।
كَذَلِكَ نَسْلُكُهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ : এভাবেই আমি অপরাধীদের অন্তরে ইহা (বিদ্রূপের মানসিকতা) সঞ্চারিত করি।
لا يُؤْمِنُونَ به وقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ الأَوَّلِينَ : তাহারা ইহার প্রতি ঈমান আনিবে না এবং পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রেও এইরূপ রীতি অতিক্রান্ত হইয়াছে।
ولَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَابًا مِنَ السَّمَاءِ : এবং আমি যদি তাহাদের জন্য আকাশের কোন দরজা খুলিয়া দিতাম।
فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ : অতঃপর তাহারা সারা দিন সেখানে আরোহণ করিত।
لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا : তবুও তাহারা অবশ্যই বলিত যে আমাদের দৃষ্টি বিভ্রাট ঘটানো হইয়াছে।
بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَسْحُورُونَ : বরং আমরা এক যাদুগ্রস্ত সম্প্রদায়।
রুকু-২
ولقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا : অবশ্যই আমি আকাশে রাশিচক্র সৃষ্টি করিয়াছি।
وزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ : এবং দর্শকদের জন্য উহাকে সুশোভিত করিয়াছি।
وحَفِظْنَاهَا مِنْ كُلِّ شَيْطَانٍ رَجِيمٍ : এবং প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান হইতে উহাকে সুরক্ষিত করিয়াছি।
إلا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ : কিন্তু যে চুপিচুপি শুনিতে চায়।
فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُبِينٌ : তখন এক সমুজ্জ্বল অগ্নিশিখা তাহার পশ্চাদ্ধাবন করে।
وَالأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ : এবং যমীনকে আমি বিস্তৃত করিয়াছি ও উহাতে পর্বতমালা স্থাপন করিয়াছি।
وأَنْبَتْنَا فِيهَا مِنْ كُلِّ شَيْءٍ مَوْزُونٍ : এবং উহাতে সব জিনিস সুপরিমিতভাবে উৎপন্ন করিয়াছি।
وجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ : এবং সেখানে তোমাদের জন্য জীবনোপকরণ রাখিয়াছি।
وَمَنْ لَسْتُمْ لَهُ بِرَازِقِينَ : এবং তাহাদের জন্যও যাহাদের রিযিকদাতা তোমরা নও।
وَإِنْ مِنْ شَيْءٍ إلا عِنْدَنَا خَزَائِنُهُ : এবং এমন কোন বস্তু নাই যাহার ভান্ডার আমার নিকট নাই।
وَمَا نُنَزِّلُهُ إلا بِقَدَرٍ مَعْلُومٍ : এবং আমি উহা কেবল নির্দিষ্ট পরিমাণে নাযিল করি।
وأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ : এবং আমি বৃষ্টি গর্ভ বায়ু প্রেরণ করি।
فَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَسْقَيْنَاكُمُوهُ : অতঃপর আমি আকাশ হইতে পানি নাযিল করি এবং তোমাদিগকে উহা পান করাই।
وَمَا أَنْتُمْ لَهُ بِخَازِنِينَ : এবং তোমরা উহার সংগ্রাহক নহ।
রুকু-৩
إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وعُيُونٍ : নিশ্চয় মুত্তাকীরা জান্নাত ও ঝর্ণাধারার মধ্যে থাকিবে।
ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ : (বলা হইবে) তোমরা সেখানে শান্তিতে ও নিরাপদে প্রবেশ কর।
ونَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِمْ مِنْ غِلٍّ : এবং আমি তাহাদের অন্তরে যে বিদ্বেষ ছিল তাহা দূর করিয়া দিব।
إخْوَانًا عَلَى سُرُرٍ مُتَقَابِلِينَ : তাহারা ভাই ভাই হইয়া সিংহাসন বা তখতে সামনাসামনি বসিবে।
لا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ : সেখানে তাহাদিগকে কোন ক্লান্তি বা শ্রান্তি স্পর্শ করিবে না।
وَمَا هُمْ مِنْهَا بِمُخْرَجِينَ : এবং তাহারা সেখান হইতে বহিষ্কৃত হইবে না।
نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ : আমার বান্দাদের জানাইয়া দিন যে নিশ্চয় আমিই পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।
وأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الأَلِيمُ : এবং নিশ্চয় আমার আযাবই যন্ত্রণাদায়ক আযাব।
রুকু-৪
ونَبِّئْهُمْ عَنْ ضَيْفِ إِبْرَاهِيمَ : এবং আপনি তাহাদিগকে ইবরাহীমের মেহমানদের সম্পর্কে খবর দিন।
إِذْ دَخَلُوا عَلَيْهِ فَقَالُوا سَلَامًا : যখন তাহারা তাঁহার নিকট প্রবেশ করিয়া বলিল, সালাম।
قَالَ إِنَّا مِنْكُمْ وَجِلُونَ : ইবরাহীম বলিলেন, নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের দেখিয়া ভীত হইয়া পড়িয়াছি।
قَالُوا لَا تَوْجَلْ إِنَّا نُبَشِّرُكَ بِغُلَامٍ عَلِيمٍ : তাহারা বলিল, আপনি ভয় পাইবেন না, আমরা আপনাকে এক জ্ঞানী পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিতেছি।
قَالَ أَبَشَّرْتُمُونِي عَلَى أَنْ مَسَّنِيَ الْكِبَرُ : তিনি বলিলেন, তোমরা কি আমাকে সুসংবাদ দিতেছ অথচ বার্ধক্য আমাকে স্পর্শ করিয়াছে?
فَبِمَ تُبَشِّرُونَ : তবে কিসের ভিত্তিতে তোমরা সুসংবাদ দিতেছ?
قَالُوا بَشَّرْنَاكَ بِالْحَقِّ فَلَا تَكُنْ مِنَ الْقَانِطِينَ : তাহারা বলিল, আমরা আপনাকে সত্য সুসংবাদ দিয়াছি, সুতরাং আপনি নিরাশদের অন্তর্ভুক্ত হইবেন না।
قَالَ وَمَنْ يَقْنَطُ مِنْ رَحْمَةِ رَبِّهِ إلا الضَّالُّونَ : তিনি বলিলেন, পথভ্রষ্টরা ছাড়া আর কে তাহার প্রতিপালকের রহমত হইতে নিরাশ হয়?
قَالَ فَمَا خَطْبُكُمْ أَيُّهَا الْمُرْسَلُونَ : তিনি বলিলেন, হে প্রেরিতরা! তোমাদের আসল উদ্দেশ্য কি?
قَالُوا إِنَّا أُرْسِلْنَا إلَى قَوْمٍ مُجْرِمِينَ : তাহারা বলিল, আমাদিগকে এক অপরাধী সম্প্রদায়ের (লুত জাতির) প্রতি পাঠানো হইয়াছে।
إلا آلَ لُوطٍ إِنَّا لَمُنَجُّوهُمْ أَجْمَعِينَ : তবে লুতের পরিবারবর্গ ছাড়া, নিশ্চয় আমি তাহাদের সকলকেই নাজাত দিব।
إلا امْرَأَتَهُ قَدَّرْنَا إِنَّهَا لَمِنَ الْغَابِرِينَ : কেবল তাঁহার স্ত্রী ছাড়া, আমি সিদ্ধান্ত নিয়াছি যে সে অবশ্যই পশ্চাদবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত হইবে (অর্থাৎ ধ্বংস হইবে)।
(রুকু ৫ হইতে রুকু ৬ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)
রুকু-৬
ولقَدْ آتَيْنَاكَ سَبْعًا مِنَ الْمَثَانِي وَالْقُرْآنَ الْعَظِيمَ : অবশ্যই আমি আপনাকে বার বার পঠিতব্য সাতটি আয়াত (সূরা ফাতিহা) এবং মহান কুরআন দান করিয়াছি।
لا تَمُدَّنَّ عَيْنَيْكَ إلَى مَا مَتَّعْنَا به أَزْوَاجًا مِنْهُمْ : আপনি আপনার চক্ষু প্রসারিত করিবেন না সেই সম্পদের দিকে যাহা আমি তাহাদের বিভিন্ন দলকে ভোগ করিবার জন্য দিয়াছি।
ولا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ : এবং আপনি তাহাদের জন্য দুঃখিত হইবেন না।
واخْفِضْ جَنَاحَكَ لِلْمُؤْمِنِينَ : এবং মুমিনদের প্রতি আপনার বাহু অবনমিত করুন (বিনম্র হউন)।
وقُلْ إِنِّي أَنَا النَّذِيرُ الْمُبِينُ : এবং বলুন, নিশ্চয় আমি এক সুস্পষ্ট সতর্ককারী।
📄 ১৬. সূরা আননহল
১৬. সূরা আননহল
মক্কী সূরা, রুকু ১৬
রুকু-১
أَتَى أَمْرُ اللهِ فَلَا تَسْتَعْجِلُوهُ : আল্লাহর নির্দেশ আসিয়া গিয়াছে, সুতরাং তোমরা উহা ত্বরান্বিত করিও না।
سُبْحَانَهُ وتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ : তিনি পরম পবিত্র এবং তাহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি অনেক উর্দ্ধে।
يُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ بِالرُّوحِ مِنْ أَمْرِهِ : তিনি তাঁহার ফেরেশতাগণকে তাঁহার নির্দেশে ওহীসহ নাযিল করেন।
عَلَى مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ : তাঁহার বান্দাদের মধ্যে যাঁহার প্রতি তিনি ইচ্ছা করেন।
أَنْ أَنْذِرُوا أَنَّهُ لَا إِلَهَ إلا أَنَا فَاتَّقُونِ : এই মর্মে যে আপনি সতর্ক করুন যে আমি ছাড়া আর কোন উপাস্য নাই, সুতরাং আমাকেই ভয় কর।
خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ بِالْحَقِّ : তিনি আসমান ও যমীন সত্যসহ সৃষ্টি করিয়াছেন।
تَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ : তাহারা যাহাকে শরীক করে তিনি তাহা হইতে অনেক উর্দ্ধে।
خَلَقَ الإِنْسَانَ مِنْ نُطْفَةٍ : তিনি মানুষকে এক শুক্র বিন্দু হইতে সৃষ্টি করিয়াছেন।
فَإِذَا هُوَ خَصِيمٌ مُبِينٌ : অতঃপর অমনি সে এক প্রকাশ্য ঝগড়াটে হইয়া গেল।
وَالأَنْعَامَ خَلَقَهَا لَكُمْ فِيهَا دِفْءٌ : এবং তিনি চতুষ্পদ জন্তু সৃষ্টি করিয়াছেন যাহাতে তোমাদের জন্য শীত বস্ত্রের উপকরণ রহিয়াছে।
ومَنَافِعُ ومِنْهَا تَأْكُلُونَ : এবং আরও অনেক উপকার রহিয়াছে এবং তাহা হইতে তোমরা ভক্ষণ কর।
ولَكُمْ فِيهَا جَمَالٌ حِينَ تُرِيحُونَ وحِينَ تَسْرَحُونَ : এবং তোমাদের জন্য উহাতে সৌন্দর্য রহিয়াছে যখন তোমরা সন্ধ্যাবেলা উহাদিগকে ঘরে ফিরাইয়া আন এবং যখন সকালে চারণ ভূমিতে চরাইতে লইয়া যাও।
(টিকাঃ ‘তুরইহুনা’ শব্দটি ‘ইরাহ’ হইতে উৎপত্তি, ইহার অর্থ মেষপালকে চরাইয়া চারণ ভূমি হইতে গৃহাভিমুখে ফিরাইয়া আনা।)
وتَحْمِلُ أَثْقَالَكُمْ إلَى بَلَدٍ : এবং উহারা তোমাদের ভারী বোঝা বহন করিয়া এমন শহর পর্যন্ত লইয়া যায়।
لَمْ تَكُونُوا بَالِغِيهِ إلا بِشِقِّ الأَنْفُسِ : যেখানে তোমরা জানের অত্যন্ত কষ্ট ছাড়া পৌঁছিতে পারিতে না।
إِنَّ رَبَّكُمْ لَرَءُوفٌ رَحِيمٌ : নিশ্চয় তোমাদের প্রতিপালক বড়ই মমতাময় ও অতি দয়ালু।
وَالْخَيْلَ وَالْبِغَالَ وَالْحَمِيرَ لِتَرْكَبُوهَا وَزِينَةً : এবং তিনি ঘোড়া, খচ্চর ও গাধা সৃষ্টি করিয়াছেন যাহাতে তোমরা উহাতে আরোহণ করিতে পার ও উহা তোমাদের সাজসজ্জা হয়।
ويَخْلُقُ مَا لَا تَعْلَمُونَ : এবং তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যাহা তোমরা জান না।
وعَلَى اللهِ قَصْدُ السَّبِيلِ ومِنْهَا جَائِرٌ : এবং সরল পথ দেখানো আল্লাহরই দায়িত্ব কিন্তু কতক পথ বক্র বা কুপথ।
ولَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ : এবং তিনি ইচ্ছা করিলে তোমাদিগকে সকলকেই সঠিক পথ দেখাইতেন।
রুকু-২
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لَكُمْ مِنْهُ شَرَابٌ : তিনিই সেই সত্তা যিনি আকাশ হইতে পানি নাযিল করিয়াছেন যাহাতে তোমাদের জন্য পানীয় রহিয়াছে।
ومِنْهُ شَجَرٌ فِيهِ تُسِيمُونَ : এবং উহা হইতে উদ্ভিদ জন্মায় যাহাতে তোমরা পশুচারণ কর।
يُنْبِتُ لَكُمْ به الزَّرْعَ وَالزَّيْتُونَ وَالنَّخِيلَ وَالأَعْنَابَ : উহার সাহায্যে তিনি তোমাদের জন্য শস্য, যয়তুন, খেজুর ও আঙ্গুর জন্মান।
ومِنْ كُلِّ الثَّمَرَاتِ : এবং সব রকমের ফলমূলও।
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ : নিশ্চয় ইহাতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে।
وسَخَّرَ لَكُمُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ : এবং তিনি তোমাদের জন্য রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্রকে নিয়মাধীন করিয়াছেন।
وَالنُّجُومُ مُسَخَّرَاتٌ بِأَمْرِهِ : এবং নক্ষত্ররাজি তাঁহারই নির্দেশে বাধ্যগত।
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ : নিশ্চয় সমঝদার সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে বহু নিদর্শন রহিয়াছে।
وَمَا ذَرَأَ لَكُمْ فِي الأَرْضِ مُخْتَلِفًا أَلْوَانُهُ : এবং যমীনে তিনি তোমাদের জন্য বিভিন্ন বর্ণের যাহা সৃষ্টি করিয়াছেন (তাহাতেও নিদর্শন আছে)।
إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ : নিশ্চয় উপদেশ গ্রহণকারী সম্প্রদায়ের জন্য ইহাতে নিদর্শন রহিয়াছে।
وهُوَ الَّذِي سَخَّرَ الْبَحْرَ لِتَأْكُلُوا مِنْهُ لَحْمًا طَرِيًّا : তিনিই সেই সত্তা যিনি সমুদ্রকে নিয়মাধীন করিয়াছেন যাহাতে তোমরা তাহা হইতে তাজা গোশত খাইতে পার।
وتَسْتَخْرِجُوا مِنْهُ حِلْيَةً تَلْبَسُونَهَا : এবং তাহা হইতে অলংকার বের করিতে পার যাহা তোমরা পরিধান কর।
وتَرَى الْفُلْكَ مَوَاخِرَ فِيهِ : এবং আপনি নৌকা বা জাহাজকে দেখিবেন যে উহা পানি বিদীর্ণ করিয়া চলিতেছে।
ولِتَبْتَغُوا مِنْ فَضْلِهِ ولَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ : যাহাতে তোমরা তাঁহার অনুগ্রহ তালাশ করিতে পার ও শোকর আদায় কর।
وأَلْقَى فِي الأَرْضِ رَوَاسِيَ أَنْ تَمِيدَ بِكُمْ : এবং তিনি যমীনে পর্বতমালা স্থাপন করিয়াছেন যাহাতে উহা তোমাদিগকে লইয়া হেলিয়া না পড়ে।
وأَنْهَارًا وسُبُلًا لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ : এবং নদীসমূহ ও পথসমূহ যাহাতে তোমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছিতে পার।
وعَلَامَاتٍ وبِالنَّجْمِ هُمْ يَهْتَدُونَ : এবং আরও অনেক চিহ্ন রাখিয়াছেন এবং নক্ষত্রের সাহায্যেও তাহারা পথ পায়।
أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لَا يَخْلُقُ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ : তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি তাঁহার মত যে সৃষ্টি করিতে পারে না? তোমরা কি চিন্তা করিবে না?
وَإِنْ تَعُدُّوا نِعْمَةَ اللهِ لَا تُحْصُوهَا : এবং তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামত গণনা কর তবে তাহা গুণিয়া শেষ করিতে পারিবে না।
إِنَّ اللهَ لَغَفُورٌ رَحِيمٌ : নিশ্চয় আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল ও অতি দয়ালু।
(রুকু ৩ হইতে রুকু ১৬ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)
রুকু-১৬
ادْعُ إلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ : আপনি আপনার প্রতিপালকের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম নসিহতের মাধ্যমে ডাকুন।
وجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هي أَحْسَنُ : এবং তাহাদের সহিত সদ্ভাবে বা উত্তম পন্থায় বিতর্ক করুন।
إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ : নিশ্চয় আপনার প্রতিপালক অধিক জানেন কে তাঁহার পথ হইতে বিচ্যুত হইয়াছে।
وهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ : এবং তিনি হেদায়াতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত।
وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُمْ به : এবং যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর তবে ততটুকুই কর যতটুকু তোমাদের কষ্ট দেওয়া হইয়াছে।
ولَئِنْ صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِلصَّابِرِينَ : আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যশীলদের জন্য উহাই উত্তম।
واصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إلا بِاللهِ : এবং আপনি ধৈর্য ধারণ করুন এবং আপনার ধৈর্য ধারণ তো কেবল আল্লাহরই সাহায্যে।
ولا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ ولا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِمَّا يَمْكُرُونَ : আপনি তাহাদের জন্য দুঃখিত হইবেন না এবং তাহাদের ষড়যন্ত্রের কারণে মন ছোট করিবেন না।
إِنَّ اللهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ : নিশ্চয় আল্লাহ তাহাদের সাথে আছেন যাহারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যাহারা সৎকর্মশীল।
📄 ১৭. সূরা বনী ইসরাঈল
১৭. সূরা বনী ইসরাঈল
মক্কী সূরা, রুকু ১২
রুকু-১
سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا : পরম পবিত্র সেই সত্তা যিনি তাঁহার বান্দাকে রাতে পরিভ্রমণ করাইয়াছেন।
مِنَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إلَى الْمَسْجِدِ الأَقْصَى : মসজিদে হারাম হইতে মসজিদে আকসা পর্যন্ত।
الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ : যাহার চারিপার্শ্বকে আমি বরকতময় করিয়াছি।
لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا : যাহাতে আমি তাঁহাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাইতে পারি।
إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ : নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।
آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وجَعَلْنَاهُ هُدًى لِبَنِي إِسْرَائِيلَ : আমি মূসাকে কিতাব দান করিয়াছিলাম এবং উহাকে বনী ইসরাঈলের জন্য হেদায়াত স্বরূপ করিয়াছিলাম।
أَلَّا تَتَّخِذُوا مِنْ دُونِي وَكِيلًا : এই মর্মে যে তোমরা আমাকে ছাড়া অন্য কাহাকেও কার্যনির্বাহক রূপে গ্রহণ করিও না।
ذُرِّيَّةَ مَنْ حَمَلْنَا مَعَ نُوحٍ : হে ঐ সব লোকের বংশধর যাহাদিগকে আমি নূহের সহিত নৌকায় আরোহণ করাইয়াছিলাম।
إِنَّهُ كَانَ عَبْدًا شَكُورًا : নিশ্চয় সে ছিল এক পরম কৃতজ্ঞ বান্দা।
وقَضَيْنَا إلَى بَنِي إِسْرَائِيلَ فِي الْكِتَابِ : এবং আমি কিতাবে বনী ইসরাঈলকে জানাইয়া দিয়াছিলাম।
لَتُفْسِدُنَّ فِي الأَرْضِ مَرَّتَيْنِ : যে তোমরা পৃথিবীতে অবশ্যই দুইবার বিপর্যয় সৃষ্টি করিবে।
ولَتَعْلُنَّ عُلُوًّا كَبِيرًا : এবং তোমরা অত্যন্ত অহংকারী ও উদ্ধত হইবে।
فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ أُولَاهُمَا : অতঃপর যখন তোমাদের প্রথম বিপর্যয়ের সময় আসিল।
بَعَثْنَا عَلَيْكُمْ عِبَادًا لَنَا أُولِي بَأْسٍ شَدِيدٍ : তখন আমি তোমাদের বিরুদ্ধে আমার এমন বান্দাদের পাঠাইলাম যাহারা ছিল অত্যন্ত দুধর্ষ যোদ্ধা।
فَجَاسُوا خِلَالَ الدِّيَارِ : অতঃপর তাহারা তোমাদের ঘরবাড়ির অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ করিল।
وكَانَ وَعْدًا مَفْعُولًا : এবং আল্লাহর এই ওয়াদা কার্যকর হইল।
ثم رَدَدْنَا لَكُمُ الْكَرَّةَ عَلَيْهِمْ : অতঃপর আমি পুনরায় তোমাদিগকে তাহাদের উপর বিজয়ী করিলাম।
وأَمْدَدْنَاكُمْ بِأَمْوَالٍ وبَنِينَ : এবং ধন-সম্পদ ও পুত্র সন্তান দিয়া তোমাদিগকে সাহায্য করিলাম।
وجَعَلْنَاكُمْ أَكْثَرَ نَفِيرًا : এবং জনশক্তিতে তোমাদিগকে এক বড় দলে পরিণত করিলাম।
إِنْ أَحْسَنْتُمْ أَحْسَنْتُمْ لِأَنْفُسِكُمْ : যদি তোমরা ভালো কাজ কর তবে তোমরা নিজেদের জন্যই ভালো করিবে।
وَإِنْ أَسَأْتُمْ فَلَهَا : আর যদি তোমরা মন্দ কাজ কর তবে তাহার ফল তোমরাই ভোগ করিবে।
فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ الآخِرَةِ : অতঃপর যখন দ্বিতীয় বিপর্যয়ের সময় আসিল।
لِيَسُوءُوا وُجُوهَكُمْ : যাহাতে শত্রুরা তোমাদের মুখমন্ডল বিকৃত করিয়া দেয় (অপমানিত করে)।
ولِيَدْخُلُوا الْمَسْجِدَ كَمَا دَخَلُوهُ أَوَّلَ مَرَّةٍ : এবং যাহাতে তাহারা মসজিদে (আকসায়) প্রবেশ করে যেভাবে প্রথমবার প্রবেশ করিয়াছিল।
ولِيُتَبِّرُوا مَا عَلَوْا تَتْبِيرًا : এবং যাহাতে তাহারা যাহা জয় করিয়াছিল তাহা সমূলে ধ্বংস করিয়া দেয়।
عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يَرْحَمَكُمْ : হয়তো তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের প্রতি দয়া করিবেন।
وَإِنْ عُدْتُمْ عُدْنَا : আর যদি তোমরা পুনরায় সেইরূপ কর তবে আমিও পুনরায় শাস্তি দিব।
وجَعَلْنَا جَهَنَّمَ لِلْكَافِرِينَ حَصِيرًا : এবং আমি জাহান্নামকে কাফেরদের জন্য কারাগার বানাইয়া রাখিয়াছি।
রুকু-২
إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ يَهْدِي لِلَّتِي هي أَقْوَمُ : নিশ্চয় এই কুরআন এমন পথের দিকে হেদায়াত দেয় যাহা অত্যন্ত সুদৃঢ় ও সঠিক।
ويُبَشِّرُ الْمُؤْمِنِينَ الَّذِينَ يَعْمَلُونَ الصَّالِحَاتِ : এবং ঐ সব মুমিনকে সুসংবাদ দেয় যাহারা নেক আমল করে।
أَنَّ لَهُمْ أَجْرًا كَبِيرًا : যে তাহাদের জন্য মহা পুরস্কার রহিয়াছে।
وأَنَّ الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِالآخِرَةِ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا : এবং যাহারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না আমি তাহাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত রাখিয়াছি।
ويَدْعُ الإِنْسَانُ بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ : মানুষ যেভাবে মঙ্গলের জন্য দোয়া করে সেভাবেই মন্দের জন্যও দোয়া করে।
وكَانَ الإِنْسَانُ عَجُولًا : এবং মানুষ অত্যন্ত তাড়াহুড়াপ্রবণ।
وجَعَلْنَا اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ آيَتَيْنِ : আমি রাত ও দিনকে দুইটি নিদর্শন বানাইয়াছি।
فَمَحَوْنَا آيَةَ اللَّيْلِ وجَعَلْنَا آيَةَ النَّهَارِ مُبْصِرَةً : অতঃপর আমি রাতের নিদর্শনকে অন্ধকারাচ্ছন্ন করিয়াছি এবং দিনের নিদর্শনকে আলোকিত করিয়াছি।
لِتَبْتَغُوا فَضْلًا مِنْ رَبِّكُمْ : যাহাতে তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহ তালাশ করিতে পার।
ولِتَعْلَمُوا عَدَدَ السِّنِينَ وَالْحِسَابَ : এবং যাহাতে তোমরা বছরের গণনা ও সময়ের হিসাব জানিতে পার।
وكُلَّ شَيْءٍ فَصَّلْنَاهُ تَفْصِيلًا : এবং আমি প্রত্যেক বিষয় বিশদভাবে বর্ণনা করিয়াছি।
وكُلَّ إِنْسَانٍ أَلْزَمْنَاهُ طَائِرَهُ فِي عُنُقِهِ : এবং আমি প্রত্যেক মানুষের কর্মফল তাহার গলায় ঝুলাইয়া দিয়াছি।
ونُخْرِجُ لَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ كِتَابًا يَلْقَاهُ مَنْشُورًا : এবং কিয়ামতের দিন আমি তাহার জন্য এক আমলনামা বাহির করিব যাহা সে উন্মুক্ত অবস্থায় পাইবে।
اقْرَأْ كِتَابَكَ كَفَى بِنَفْسِكَ الْيَوْمَ عَلَيْكَ حَسِيبًا : (বলা হইবে) তুমি তোমার আমলনামা পাঠ কর, আজ তোমার হিসাবের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট।
مَنِ اهْتَدَى فَإِنَّمَا يَهْتَدِي لِنَفْسِهِ : যে ব্যক্তি সঠিক পথ অবলম্বন করিবে সে নিজের মঙ্গলের জন্যই করিবে।
وَمَنْ ضَلَّ فَإِنَّمَا يَضِلُّ عَلَيْهَا : আর যে পথভ্রষ্ট হইবে তাহার পথভ্রষ্টতার দায় তাহার উপরই পড়িবে।
ولا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى : এবং কেহ কাহারও গোনাহের বোঝা বহন করিবে না।
وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولًا : এবং আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত শাস্তি দান করি না।
وَإِذَا أَرَدْنَا أَنْ نُهْلِكَ قَرْيَةً أَمَرْنَا مُتْرَفِيهَا : এবং যখন আমি কোন জনপদ ধ্বংস করিবার সিদ্ধান্ত লই তখন সেখানকার বিত্তশালীদের নির্দেশ দেই।
فَفَسَقُوا فِيهَا فَحَقَّ عَلَيْهَا الْقَوْلُ : অতঃপর তাহারা সেখানে পাপাচার করে, তখন সেখানে শাস্তির আদেশ অবধারিত হইয়া যায়।
فَدَمَّرْنَاهَا تَدْمِيرًا : অতঃপর আমি উহাকে সমূলে ধ্বংস করিয়া দেই।
وكَمْ أَهْلَكْنَا مِنَ الْقُرُونِ مِنْ بَعْدِ نُوحٍ : এবং নূহের পর আমি কত মানবগোষ্ঠীকে ধ্বংস করিয়াছি।
وكَفَى بِرَبِّكَ بِذُنُوبِ عِبَادِهِ خَبِيرًا بَصِيرًا : আপনার প্রতিপালক তাঁহার বান্দাদের গোনাহ সম্পর্কে খবর রাখিতে ও দেখিতে যথেষ্ট।
مَنْ كَانَ يُرِيدُ الْعَاجِلَةَ عَجَّلْنَا لَهُ فِيهَا مَا نَشَاءُ لِمَنْ نُرِيدُ : যে ব্যক্তি নগদ (দুনিয়া) চায় তাহাকে আমি এখানেই যাহা ইচ্ছা ও যাঁহাকে ইচ্ছা দিয়া দেই।
ثم جَعَلْنَا لَهُ جَهَنَّمَ يَصْلَاهَا مَذْمُومًا مَدْحُورًا : অতঃপর আমি তাহার জন্য জাহান্নাম নির্ধারণ করি যেখানে সে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় প্রবেশ করিবে।
وَمَنْ أَرَادَ الآخِرَةَ وسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ : এবং যে ব্যক্তি আখেরাত কামনা করে ও উহার জন্য যথাযথ চেষ্টা করে এবং সে মুমিন হয়।
فَأُولئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُورًا : তাহাদের চেষ্টা কবুল করা হইবে বা প্রশংসিত হইবে।
রুকু-৩
كُلًّا نُمِدُّ هؤلاء وهؤلاء مِنْ عَطَاءِ رَبِّكَ : আমি সকলকেই সাহায্য করি—ইহাদিগকেও এবং উহাদিগকেও আপনার প্রতিপালকের দান হইতে।
وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُورًا : এবং আপনার প্রতিপালকের দান অবরুদ্ধ নহে (সবার জন্যই উন্মুক্ত)।
انْظُرْ كَيْفَ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ : দেখুন, আমি তাহাদের একজনকে অন্যজনের উপর কিভাবে মর্যাদা দিয়াছি।
ولَلآخِرَةُ أَكْبَرُ دَرَجَاتٍ وَأَكْبَرُ تَفْضِيلاً : এবং আখেরাত তো মর্যাদায় শ্রেষ্ঠতর এবং মাহাত্ম্যেও অনেক বড়।
لا تَجْعَلْ مَعَ اللهِ إِلَهًا آخَرَ : আপনি আল্লাহর সহিত অন্য কোন ইলাহ বা উপাস্য সাব্যস্ত করিবেন না।
فَتَقْعُدَ مَذْمُومًا مَخْذُولًا : তবে আপনি লাঞ্ছিত ও অপদস্থ হইয়া পড়িবেন।
وقَضَى رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إلا إِيَّاهُ : আপনার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়াছেন যে তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কাহারও ইবাদত করিবে না।
وبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا : এবং পিতা-মাতার সহিত সদ্ব্যবহার করিবে।
إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِنْدَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا : যদি তাহাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে পৌছেন।
فَلَا تَقُلْ لَهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا : তবে তাহাদের প্রতি ‘উফ’ বলিও না এবং তাহাদিগকে ধমক দিও না।
وقُلْ لَهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا : এবং তাহাদের সহিত সম্মানসূচক নম্র কথা বল।
واخْفِضْ لَهُمَا جَنَاحَ الذُّلِّ مِنَ الرَّحْمَةِ : এবং মমতাবশে তাহাদের প্রতি বিনয়ের বাহু অবনমিত রাখ।
وقُلْ رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا : এবং বল, হে আমার প্রতিপালক! আপনি তাহাদের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাহারা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করিয়াছেন।
রَبُّكُمْ أَعْلَمُ بِمَا فِي نُفُوسِكُمْ : তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের অন্তরের কথা অধিক জানেন।
إِنْ تَكُونُوا صَالِحِينَ فَإِنَّهُ كَانَ لِلْأَوَّابِينَ غَفُورًا : যদি তোমরা নেককার হও তবে নিশ্চয় তিনি তওবাকারীদের জন্য ক্ষমাশীল।
وآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ : এবং আত্মীয়-স্বজনকে তাহার প্রাপ্য দিয়া দাও এবং মিসকীন ও মুসাফিরকেও।
ولا تُبَذِّرْ تَبْذِيرًا : এবং তোমরা কোন প্রকার অপব্যয় করিও না।
إِنَّ الْمُبَذِّرِينَ كَانُوا إِخْوَانَ الشَّيَاطِينِ : নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই।
وكَانَ الشَّيْطَانُ لِرَبِّهِ كَفُورًا : এবং শয়তান তাহার প্রতিপালকের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।
(রুকু ৪ হইতে রুকু ১২ পর্যন্ত অবশিষ্টাংশ কিতাবের মূল পাঠ অনুসরণ করিয়া শিখিয়া লওয়া বাঞ্ছনীয়।)
রুকু-১২
قُلِ ادْعُوا اللهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ : বলুন, তোমরা আল্লাহ বলিয়া ডাক অথবা রহমান বলিয়া ডাক।
أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى : তোমরা যে নামেই ডাক না কেন সমস্ত সুন্দর নাম তাঁহারই।
ولا تَجْهَرْ بِصَلَاتِكَ وَلَا تُخَافِتْ بهَا : এবং আপনি আপনার নামাযে স্বর অতি উচ্চ করিবেন না এবং অতি নিম্নও করিবেন না।
وابْتَغِ بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا : বরং এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পথ অবলম্বন করুন।
وقُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَمْ يَتَّخِذْ وَلَدًا : এবং বলুন, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি কোন সন্তান গ্রহণ করেন নাই।
ولَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ : এবং রাজত্বে তাঁহার কোন অংশীদার নাই।
ولَمْ يَكُنْ لَهُ وَلِيٌّ مِنَ الذُّلِّ : এবং জিল্লতি বা অবমাননা হইতে রক্ষার জন্য তাঁহার কোন সাহায্যকারীর প্রয়োজন নাই।
وكَبِّرْهُ تَكْبِيرًا : এবং আপনি তাঁহার মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন যথাযথভাবে।