📄 একটি বিনীত নিবেদন
এ পর্যন্ত আমরা যেরূপ দেখলাম নামাজের প্রত্যেক অবস্থা একটি ভিন্ন অর্থ ও গুরুত্ব রাখে, তাই আমাদের প্রতিটি নড়াচড়ার একটা বাস্তবরূপ প্রতিফলিত হয়। আমাদের প্রতিটি নড়াচড়া আমাদেরকে মনোযোগী করে রাখে। আমাদের আদায়কৃত প্রত্যেক শব্দে আমাদেরকে চিন্তা-ফিকির করার সুযোগ করে দেয়। এ নড়াচড়াগুলো আমাদের অন্তরকে নামাজে লাগিয়ে রাখে, আল্লাহ পাকের সাথে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক এবং অনুভূতি জাগিয়ে রাখে। যাতে মহব্বত, ভয়, আশা এবং বিনয় অন্তর্ভুক্ত।
আমরা এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তাতে আমাদের মধ্যে উচ্চস্তরের বিনয় এবং খোদাভীতি সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক। এটা ওই অবস্থা, যা আমাদের সামনে আসা বিচার দিনের অবস্থার সদৃশ।
وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ.
আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায় প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।
আমাদের এ দুনিয়ার হিসেবে এটা ওই অবস্থার মতো, যখন কেউ মৃত্যুদণ্ডের সংবাদ পায়, তখন তার যে অবস্থা হয়। সে অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন দুই সেজদার মাঝে হাঁটু গেড়ে বসা হয় তখন নিজেকে ওই অবস্থানেই মনে করতে হবে। এখন উক্ত অবস্থায় আমাদের কী বলা উচিত? এরচেয়ে উপযোগী শব্দ কি আমরা বলতে পারবো যে,
রব্বিগ ফিরলী, রব্বিগ ফিরলী (رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي.) হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন, হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন।
দুইবার, চারবার অথবা তার চেয়ে বেশি। কতবার আমরা আল্লাহ পাকের হুকুম অমান্য করেছি এবং সীমালঙ্ঘন করেছি। এ সময় অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় বসতেন, যত দীর্ঘ সময় সেজদা করতেন এবং মাওলা পাকের কাছে দুআ করতেন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِي.
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, দয়া করো, আমাকে হেদায়েত দান করো, আমার ত্রুটিকে পূরণ করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান করো এবং আমাকে রিজিক ও উচ্চ মর্যাদা দান করো।
আমরা আল্লাহর কাছে যা কিছু চাই তা এ দুনিয়ার জন্য চাই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরকালের জীবন। কেয়ামতের দিন যখন সকল মানুষ হিসাব-কিতাবের অপেক্ষায় থাকবে, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়ে থাকবেন, কেঁদে কেঁদে কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করতে থাকবেন। তিনি উম্মতের জন্য ওই পর্যন্ত কাঁদতে থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ জবাব না দিবেন যে, আপনি মাথা উঠান, হে মুহাম্মদ! আপনি চান দান করা হবে, সুপারিশ করুন গ্রহণ করা হবে। ওই সময় নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা হতে উঠে বসবেন এবং আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। এ দ্বারা বোঝা যায়, আমাদের দুআ দু'ভাবে শোনা হবে। সেজদাতে এবং তারপরও। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই তখন দ্বিতীয়বার সেজদায় লুটে পড়ি যেন তাঁর খুব কাছাকাছি হতে পারি। এবং এক সেজদা যথেষ্ট নয়। যেমনিভাবে কুরআন শরিফের প্রথম সুরা 'আলাক' শুরু হয়েছে ইকরা 'পড়' দ্বারা, শেষ হয়েছে وَاسْجُدْ (সেজদা করো) দ্বারা, এমনিভাবে আমাদের নামাজের প্রত্যেক রাকাত শুরু হয় কেরাত দ্বারা এবং শেষ হয় সেজদা দ্বারা। ইবাদতের প্রত্যেক তরিকায় এক ভিন্ন সৌন্দর্য ও ভিন্ন মজা। আমরা যত বেশি জানবো তত বেশি তার সৌন্দর্য ও মজা অনুভব করবো। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ. বলুন যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি এ সমান হতে পারে?
টিকাঃ
৩১. সুরা জাসিয়াহ: ২৮।
৩২. সুরা যুমার: ৯।
এ পর্যন্ত আমরা যেরূপ দেখলাম নামাজের প্রত্যেক অবস্থা একটি ভিন্ন অর্থ ও গুরুত্ব রাখে, তাই আমাদের প্রতিটি নড়াচড়ার একটা বাস্তবরূপ প্রতিফলিত হয়। আমাদের প্রতিটি নড়াচড়া আমাদেরকে মনোযোগী করে রাখে। আমাদের আদায়কৃত প্রত্যেক শব্দে আমাদেরকে চিন্তা-ফিকির করার সুযোগ করে দেয়। এ নড়াচড়াগুলো আমাদের অন্তরকে নামাজে লাগিয়ে রাখে, আল্লাহ পাকের সাথে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক এবং অনুভূতি জাগিয়ে রাখে। যাতে মহব্বত, ভয়, আশা এবং বিনয় অন্তর্ভুক্ত।
আমরা এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তাতে আমাদের মধ্যে উচ্চস্তরের বিনয় এবং খোদাভীতি সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক। এটা ওই অবস্থা, যা আমাদের সামনে আসা বিচার দিনের অবস্থার সদৃশ।
وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ.
আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায় প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।
আমাদের এ দুনিয়ার হিসেবে এটা ওই অবস্থার মতো, যখন কেউ মৃত্যুদণ্ডের সংবাদ পায়, তখন তার যে অবস্থা হয়। সে অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন দুই সেজদার মাঝে হাঁটু গেড়ে বসা হয় তখন নিজেকে ওই অবস্থানেই মনে করতে হবে। এখন উক্ত অবস্থায় আমাদের কী বলা উচিত? এরচেয়ে উপযোগী শব্দ কি আমরা বলতে পারবো যে,
রব্বিগ ফিরলী, রব্বিগ ফিরলী (رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي.) হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন, হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন।
দুইবার, চারবার অথবা তার চেয়ে বেশি। কতবার আমরা আল্লাহ পাকের হুকুম অমান্য করেছি এবং সীমালঙ্ঘন করেছি। এ সময় অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় বসতেন, যত দীর্ঘ সময় সেজদা করতেন এবং মাওলা পাকের কাছে দুআ করতেন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِي.
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, দয়া করো, আমাকে হেদায়েত দান করো, আমার ত্রুটিকে পূরণ করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান করো এবং আমাকে রিজিক ও উচ্চ মর্যাদা দান করো।
আমরা আল্লাহর কাছে যা কিছু চাই তা এ দুনিয়ার জন্য চাই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরকালের জীবন। কেয়ামতের দিন যখন সকল মানুষ হিসাব-কিতাবের অপেক্ষায় থাকবে, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়ে থাকবেন, কেঁদে কেঁদে কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করতে থাকবেন। তিনি উম্মতের জন্য ওই পর্যন্ত কাঁদতে থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ জবাব না দিবেন যে, আপনি মাথা উঠান, হে মুহাম্মদ! আপনি চান দান করা হবে, সুপারিশ করুন গ্রহণ করা হবে। ওই সময় নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা হতে উঠে বসবেন এবং আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। এ দ্বারা বোঝা যায়, আমাদের দুআ দু'ভাবে শোনা হবে। সেজদাতে এবং তারপরও। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই তখন দ্বিতীয়বার সেজদায় লুটে পড়ি যেন তাঁর খুব কাছাকাছি হতে পারি। এবং এক সেজদা যথেষ্ট নয়। যেমনিভাবে কুরআন শরিফের প্রথম সুরা 'আলাক' শুরু হয়েছে ইকরা 'পড়' দ্বারা, শেষ হয়েছে وَاسْجُدْ (সেজদা করো) দ্বারা, এমনিভাবে আমাদের নামাজের প্রত্যেক রাকাত শুরু হয় কেরাত দ্বারা এবং শেষ হয় সেজদা দ্বারা। ইবাদতের প্রত্যেক তরিকায় এক ভিন্ন সৌন্দর্য ও ভিন্ন মজা। আমরা যত বেশি জানবো তত বেশি তার সৌন্দর্য ও মজা অনুভব করবো। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ. বলুন যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি এ সমান হতে পারে?
টিকাঃ
৩১. সুরা জাসিয়াহ: ২৮।
৩২. সুরা যুমার: ৯।
📄 বিদায়ী দৃশ্য
التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْহَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
সকল জবানি, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবি! আপনার ওপর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
আপনি যখন প্রথম রাকাত পূর্ণ করেন, তখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান। যেন পুনরায় মনোযোগ দিতে পারেন এবং আপনার অন্তরকে বিনয় ও দাসত্বের জযবা দ্বারা পূর্ণ করতে পারেন। এটা যদি আপনার শেষ রাকাত হয় তবে আমরা বিদায়ের ক্ষণে পৌঁছে গেছি। 'তাশাহহুদ' হলো বান্দা এবং গাফুরুর রাহিম মালিকের সাক্ষাতের মাধ্যমে পরম সুন্দর সমাপ্তি। আমাদের হাত হাঁটু বা তার কিছু উপরিভাগে থাকা চাই, আমরা যে সকল আদবের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর সাথে কথা বলি ওই পদ্ধতিতেই বিদায়ী অবস্থানের শুরু আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্বের মাধ্যমে হয়। তাঁর চিরঞ্জীব সত্তা, তাঁর রাজত্ব এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করার জন্য সরাসরি তাঁকে সম্বোধন করে বলুন, وَالصَّلَوَاتُ সকল প্রশংসা ও বড়ত্ব এক আল্লাহর জন্য, সকল দুআ ও ইবাদত আল্লাহর জন্য, وَالطَّيِّبَاتُ আমাদের সকল উত্তম কাজ শব্দ ও আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য, কেননা আল্লাহ শুধু ভালো, ইখলাস ও নেক নিয়তের আমলই কবুল করেন।
সম্মুখের শব্দাবলী যা আপনারা উচ্চারণ করে থাকেন তা এমন শব্দাবলী, যা এক সুদীর্ঘ সফরে হাজারো মাইল অতিক্রম করে এক পবিত্র স্থানে পৌঁছে বলা হয়ে থাকে। যে স্থানকে 'মদিনা মুনাওয়ারা' বলা হয়। সেখানে এ জগতের সবচেয়ে বরকতপূর্ণ সত্তা আরাম করছেন অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
হে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার প্রতি আল্লাহ তাআলার শান্তি রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক, প্রতিদিন আপনি এ প্রিয় সত্তাকে সালাম করছেন এবং তিনি জবাবও দিচ্ছেন। একটু এ হাদিসটি শুনুন। তোমাদের যে কেউ যখনই দুরূদ পাঠায়, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন যেন তার জবাব দিতে পারি।
নিজের কাছের দরজার প্রতি একটু লক্ষ করুন এবং কল্পনা করুন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দরজা দিয়ে মাত্র ভেতরে প্রবেশ করেছেন, তাঁর উজ্জ্বল গোলাপের ন্যায় পূর্ণ লাল চেহারা নিয়ে। অতি সুন্দরভাবে পাগড়ি বেঁধে, ধবধবে সাদা সুগন্ধযুক্ত পোশাক পরিধান করে। মনোমুগ্ধকর হাস্যোজ্জ্বল মুখে যা দেখে আপনি খুবই আনন্দিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কোনো এক ব্যক্তিকেই সালাম দেয়ার ইচ্ছা করেছেন। আর সে লোকটি আপনি নিজেই, তখন আপনার কেমন লাগবে? যখন আপনি উক্ত শব্দগুলোর মাধ্যমে সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথোপকথন করছেন, একটু ভাবুন!
আপনার কাছে এ সুবর্ণ সুযোগ দৈনিক পাঁচবার আসে। আমরা কত লোক এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, আহা! আমরা যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে থাকতাম এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পারতাম? অথচ, উপরোক্ত শব্দাবলী আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং এটা কি আমাদের জন্য আবশ্যকীয় নয় যে, অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক মহব্বতের সাথে তার প্রতি দুরূদ পাঠ করি? যেহেতু তিনি অসহনীয় কষ্ট ও মসিবত সহ্য করে আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইসলামের এক বরকতময় আদর্শ পেশ করেছেন। যখন আপনি নিরক্ষর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি স্বীয় মহব্বত ও সম্মান উৎসর্গ করছেন, তাহলে একটু এ কথাও ভাবুন যে, আপনি কার সামনে বসা আছেন। ওই সত্তার সামনে যিনি আপনাকে এবং আপনার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি এত দয়ালু ও দাতা যে, তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যে একবার দুরূদ পাঠ করে, তার প্রতি তিনি দশবার রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করে আপনি আপনার প্রতি ও আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাদের প্রতি সালাম প্রেরণ করছেন। السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ প্রত্যেক নেক বান্দাদের প্রতি চাই তারা এ দুনিয়াতে থাকুক বা আসমানে থাকুক, মানুষ হোক বা ফেরেশতা হোক। অতঃপর উক্ত সম্মানিত শব্দসমূহ পুনরায় উচ্চারণ করছি যা তাওহিদ-এর উৎস, যদ্বারা আপনার মাঝে ইমানের নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا الله وَأَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসুল।
যখনই মৃত্যু আসে তো মানুষ দুই নামাজের মাঝেই মৃত্যুবরণ করে, ফজর ও জোহরের মাঝে বা আসরের মাঝে বা আসর ও মাগরিবের মাঝে বা মাগরিব ও ইশার নামাজের মাঝে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার শেষ কালিমা لا إِلَهَ إِلا الله হবে সে জান্নাতে যাবে। এটা কোনো চমকপ্রদ কথা নয়; বরং এ কালেমা জান্নাতের চাবি। পরিশেষে এখন যখন এ বরকতময় সাক্ষাত নিজের সমাপ্তিকালে হচ্ছে, তো আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এর ওয়াদা রয়েছে যে, উক্ত মুহূর্তে দুআ কবুল করবেন। সবার আগে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করো, তারপর নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আহলের প্রতি দুরূদ পাঠ করো নিজের জন্য ও মাতা- পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর উক্ত রাহমান ও রাহিম-এর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করো।
ওই দুআসমূহ শিখার চেষ্টা করো, যেগুলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন এবং যেগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সকল প্রয়োজনকে শামিল করে।
اللَّهُمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّদٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّদٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত (রহমত) প্রেরণ করুন যেমনিভাবে আপনি ইবরাহিম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত প্রেরণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী। হে আল্লাহ! বরকত নাজিল করুন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি যেমনিভাবে আপনি বরকত নাজিল করেছিলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী।
এ শেষ মঞ্জিলের পর যখন আপনি বাকি মুক্তাদির সাথে ডান দিকে সালাম ফেরাবেন, তো আপনার অন্তরে আরাম ও প্রশান্তির এক ঢেউ খেলতে থাকবে। যদি এরূপ নাও হয়, তবে তা আপনার কর্মফল যা আপনার অন্তরকে কঠিন বানিয়ে দিয়েছে এবং আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে রেখেছে। উক্ত ত্রুটির জন্য কমপক্ষে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সুন্নাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান যাতে কিছু হলেও ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়। উক্ত আরাম ও প্রশান্তি তার রূহের সাথে হাসিল করা যায়, যা শুধু আল্লাহর নিকটই আছে। স্মরণ রাখবেন, আপনার মধ্যে যে পরিমাণ আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পাবে সে পরিমাণ আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে। আপনার অন্তর বিনয় ও নম্রতায় ভরে যাবে। আপনার মন স্থির হয়ে যাবে। পরিশেষে নামাজে আপনার কাঙ্ক্ষিত মজা এসে যাবে।
টিকাঃ
৩৩. মুআত্তা মালেক: ১৪৮।
৩৪. আবু দাউদ তায়ালিসি: ২/৩৮৭, হাদিস: ১১৫৭।
التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْহَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
সকল জবানি, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবি! আপনার ওপর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
আপনি যখন প্রথম রাকাত পূর্ণ করেন, তখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান। যেন পুনরায় মনোযোগ দিতে পারেন এবং আপনার অন্তরকে বিনয় ও দাসত্বের জযবা দ্বারা পূর্ণ করতে পারেন। এটা যদি আপনার শেষ রাকাত হয় তবে আমরা বিদায়ের ক্ষণে পৌঁছে গেছি। 'তাশাহহুদ' হলো বান্দা এবং গাফুরুর রাহিম মালিকের সাক্ষাতের মাধ্যমে পরম সুন্দর সমাপ্তি। আমাদের হাত হাঁটু বা তার কিছু উপরিভাগে থাকা চাই, আমরা যে সকল আদবের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর সাথে কথা বলি ওই পদ্ধতিতেই বিদায়ী অবস্থানের শুরু আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্বের মাধ্যমে হয়। তাঁর চিরঞ্জীব সত্তা, তাঁর রাজত্ব এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করার জন্য সরাসরি তাঁকে সম্বোধন করে বলুন, وَالصَّلَوَاتُ সকল প্রশংসা ও বড়ত্ব এক আল্লাহর জন্য, সকল দুআ ও ইবাদত আল্লাহর জন্য, وَالطَّيِّبَاتُ আমাদের সকল উত্তম কাজ শব্দ ও আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য, কেননা আল্লাহ শুধু ভালো, ইখলাস ও নেক নিয়তের আমলই কবুল করেন।
সম্মুখের শব্দাবলী যা আপনারা উচ্চারণ করে থাকেন তা এমন শব্দাবলী, যা এক সুদীর্ঘ সফরে হাজারো মাইল অতিক্রম করে এক পবিত্র স্থানে পৌঁছে বলা হয়ে থাকে। যে স্থানকে 'মদিনা মুনাওয়ারা' বলা হয়। সেখানে এ জগতের সবচেয়ে বরকতপূর্ণ সত্তা আরাম করছেন অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
হে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার প্রতি আল্লাহ তাআলার শান্তি রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক, প্রতিদিন আপনি এ প্রিয় সত্তাকে সালাম করছেন এবং তিনি জবাবও দিচ্ছেন। একটু এ হাদিসটি শুনুন। তোমাদের যে কেউ যখনই দুরূদ পাঠায়, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন যেন তার জবাব দিতে পারি।
নিজের কাছের দরজার প্রতি একটু লক্ষ করুন এবং কল্পনা করুন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দরজা দিয়ে মাত্র ভেতরে প্রবেশ করেছেন, তাঁর উজ্জ্বল গোলাপের ন্যায় পূর্ণ লাল চেহারা নিয়ে। অতি সুন্দরভাবে পাগড়ি বেঁধে, ধবধবে সাদা সুগন্ধযুক্ত পোশাক পরিধান করে। মনোমুগ্ধকর হাস্যোজ্জ্বল মুখে যা দেখে আপনি খুবই আনন্দিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কোনো এক ব্যক্তিকেই সালাম দেয়ার ইচ্ছা করেছেন। আর সে লোকটি আপনি নিজেই, তখন আপনার কেমন লাগবে? যখন আপনি উক্ত শব্দগুলোর মাধ্যমে সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথোপকথন করছেন, একটু ভাবুন!
আপনার কাছে এ সুবর্ণ সুযোগ দৈনিক পাঁচবার আসে। আমরা কত লোক এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, আহা! আমরা যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে থাকতাম এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পারতাম? অথচ, উপরোক্ত শব্দাবলী আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং এটা কি আমাদের জন্য আবশ্যকীয় নয় যে, অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক মহব্বতের সাথে তার প্রতি দুরূদ পাঠ করি? যেহেতু তিনি অসহনীয় কষ্ট ও মসিবত সহ্য করে আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইসলামের এক বরকতময় আদর্শ পেশ করেছেন। যখন আপনি নিরক্ষর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি স্বীয় মহব্বত ও সম্মান উৎসর্গ করছেন, তাহলে একটু এ কথাও ভাবুন যে, আপনি কার সামনে বসা আছেন। ওই সত্তার সামনে যিনি আপনাকে এবং আপনার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি এত দয়ালু ও দাতা যে, তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যে একবার দুরূদ পাঠ করে, তার প্রতি তিনি দশবার রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করে আপনি আপনার প্রতি ও আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাদের প্রতি সালাম প্রেরণ করছেন। السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ প্রত্যেক নেক বান্দাদের প্রতি চাই তারা এ দুনিয়াতে থাকুক বা আসমানে থাকুক, মানুষ হোক বা ফেরেশতা হোক। অতঃপর উক্ত সম্মানিত শব্দসমূহ পুনরায় উচ্চারণ করছি যা তাওহিদ-এর উৎস, যদ্বারা আপনার মাঝে ইমানের নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا الله وَأَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসুল।
যখনই মৃত্যু আসে তো মানুষ দুই নামাজের মাঝেই মৃত্যুবরণ করে, ফজর ও জোহরের মাঝে বা আসরের মাঝে বা আসর ও মাগরিবের মাঝে বা মাগরিব ও ইশার নামাজের মাঝে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার শেষ কালিমা لا إِلَهَ إِلا الله হবে সে জান্নাতে যাবে। এটা কোনো চমকপ্রদ কথা নয়; বরং এ কালেমা জান্নাতের চাবি। পরিশেষে এখন যখন এ বরকতময় সাক্ষাত নিজের সমাপ্তিকালে হচ্ছে, তো আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এর ওয়াদা রয়েছে যে, উক্ত মুহূর্তে দুআ কবুল করবেন। সবার আগে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করো, তারপর নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আহলের প্রতি দুরূদ পাঠ করো নিজের জন্য ও মাতা- পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর উক্ত রাহমান ও রাহিম-এর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করো।
ওই দুআসমূহ শিখার চেষ্টা করো, যেগুলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন এবং যেগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সকল প্রয়োজনকে শামিল করে।
اللَّهُمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّদٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّদٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত (রহমত) প্রেরণ করুন যেমনিভাবে আপনি ইবরাহিম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত প্রেরণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী। হে আল্লাহ! বরকত নাজিল করুন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি যেমনিভাবে আপনি বরকত নাজিল করেছিলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী।
এ শেষ মঞ্জিলের পর যখন আপনি বাকি মুক্তাদির সাথে ডান দিকে সালাম ফেরাবেন, তো আপনার অন্তরে আরাম ও প্রশান্তির এক ঢেউ খেলতে থাকবে। যদি এরূপ নাও হয়, তবে তা আপনার কর্মফল যা আপনার অন্তরকে কঠিন বানিয়ে দিয়েছে এবং আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে রেখেছে। উক্ত ত্রুটির জন্য কমপক্ষে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সুন্নাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান যাতে কিছু হলেও ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়। উক্ত আরাম ও প্রশান্তি তার রূহের সাথে হাসিল করা যায়, যা শুধু আল্লাহর নিকটই আছে। স্মরণ রাখবেন, আপনার মধ্যে যে পরিমাণ আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পাবে সে পরিমাণ আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে। আপনার অন্তর বিনয় ও নম্রতায় ভরে যাবে। আপনার মন স্থির হয়ে যাবে। পরিশেষে নামাজে আপনার কাঙ্ক্ষিত মজা এসে যাবে।
টিকাঃ
৩৩. মুআত্তা মালেক: ১৪৮।
৩৪. আবু দাউদ তায়ালিসি: ২/৩৮৭, হাদিস: ১১৫৭।
📄 সাক্ষাতের অবগতি, নামাজের দিকে ডাকো
আলোচনা এখনো পূর্ণ হয়নি, আসুন আজান সম্পর্কে কিছু জেনে নিই। আপনার কি জানা আছে নামাজের শুরু কখন থেকে হয়? আপনি বলবেন, আল্লাহু আকবার থেকে? বরং তা তো আরও অনেক পূর্ব থেকে শুরু হয়ে যায়। নামাজের শুরু তো আজান থেকে হয়ে যায়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ওই সময় নামাজেই আছ যখন থেকে নামাজের অপেক্ষায় রয়েছ। আজান আপনাকে আপনার রবের সাথে মোলাকাতের প্রস্তুতির সংবাদ দেয়। সুতরাং ওই সময় থেকে আপনার মাঝে আনন্দ সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক যে, আমি আপন প্রভুর সাক্ষাতে যাচ্ছি। তাই যেন আপনি নামাজের অবস্থায়ই হয়ে যাচ্ছেন, কেননা আপনার মন নামাজেই লেগে আছে। আজান শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়, কারণ যখনই সে আজান শুনে রাগ ও আক্ষেপে দূরে ভাগতে থাকে। এ কথা জানার পর ধোঁকা দেয়ার জন্য এখন শয়তান নেই তাই আপনার মধ্যে এ পরিমাণ বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি হওয়া চাই যা নামাজের জন্য আবশ্যকীয়। আজান আপনার নামাজের সওয়াব বৃদ্ধির কারণ। কেননা, যেসব কুমন্ত্রণা হতে আপনি নামাজেও বেঁচে থাকতে পারেন না, আজান আপনার মস্তিষ্ককে সেসব থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে।
আমরা আমাদের সওয়াব কীভাবে বাড়াব? নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যারা নামাজ আদায় করে, মুয়াজ্জিন তাদের সমপরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হন। উদাহরণস্বরূপ, মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যদি ১০০ লোক নামাজ পড়ে, তাহলে তাঁর ১০০ লোকের নামাজের সওয়াব অর্জন হবে। আমরাও যদি মুয়াজ্জিনের উক্ত সওয়াবে শরিক হতে চাই, তবে আমাদের শুধু এতটুকু করতে হবে যে, আজানের জবাব দিতে হবে। অর্থাৎ ঠিক সেভাবেই বলতে হবে যেমন মুয়াজ্জিন বলে থাকেন। এটা আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি। একটু ভাবুন! যেন আপনি মক্কা শরিফে আজানের জবাব দিচ্ছেন, যেখানে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নামাজ আদায় করছেন এবং যেখানে এক রাকাত নামাজ ১০,০০০ দশ হাজার রাকাত নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব।
উক্ত বিষয়ে আল্লাহ তাআলার দয়া ও মহানুভবতার প্রতি চিন্তা করুন যে, একটি সহজ ও সাধারণ আমল কত বড় প্রতিদানের কারণ হচ্ছে। কোন শব্দে আজান শুরু হয়? الله اكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ পাকের জাতের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আপনার জীবনে আর কিছু নেই। আপনার কাজকর্ম, চাকরি, বিবি-বাচ্চা, নিদ্রা এসবের চেয়ে আল্লাহ বড়। এটা তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার সময়। তাই মুয়াজ্জিন উক্ত শব্দগুলো বার বার বলেন, আমরা সবকিছু ছেড়ে কেন দাঁড়াচ্ছি? জবাব সামনে রয়েছে। لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই। হে আল্লাহ! কেবল আপনার জন্যই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। তার বিপরীত আজানের প্রতি লক্ষ না করে এ চিন্তা করা যে, এখন আমার সামনে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তাআলার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এগুলো উক্ত সত্তার চেয়েও অধিক পূজনীয়। لَا إِلَٰهَ إلا الله এরপরে আর কী আছে? আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই তখন কার তরিকা অনুসরণ করি? এটা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা। এভাবে নামাজ পড় যেভাবে আমাকে পড়তে দেখো। তাই মুয়াজ্জিন ডাকেন, أَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدَ رَّسُوْلُ اللَّهِ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল।
সুতরাং এটা প্রমাণিত হয়ে যায় যে, কোনো আমল কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে (১) ইখলাস যা لا إله إلا الله এর দাবি (২) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা أَنْ مُحَمَّদَ رَّسُوْلُ اللَّهِ এ দাবি। উক্ত বুনিয়াদি বিষয় সুরা কাহফের শেষ আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে-
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ মিথলুকুম ইয়ূহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন ফামান কানা ইয়ারজু লিকায়া রব্বিহি ফাল ইয়ামাল আমালান সালিহান ওয়ালা ইউশরিক বি ইবাদাতি রব্বিহি আহাদা (قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا.)
আপনি বলে দিন যে, আমি তোমাদের মতো একজন মানুষ (তবে) আমার নিকট ওহি আসে যে, তোমাদের মাবুদ তিনি একজনই, সুতরাং যে আপন পরওয়ারদিগার-এর সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে সে যেন নেক আমল করে এবং আপন রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।
দেখুন! আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাকাম কত উঁচু। কারও নাম এত উচ্চতা লাভ করেনি যা তাঁর নাম লাভ করেছে। দুনিয়ার যে কোণেই মুসলমান বসবাস করুক না কেন প্রভাতের প্রথম আলো প্রস্ফুটিত হওয়ার পূর্বে সে আজান দেয়া হয়। তাই আসুন এ যাবৎকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহে অংশগ্রহণ করি মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দিই। যখন আমরা আবদিয়াত ও অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছি, তখন আমাদের কী করণীয়? حَيَّ عَلَى الصَّلَاةَ চলো নামাজের প্রতি। তবে এখানের উক্ত শব্দগুলো পুনরায় বলার স্থলে আমাদের কী বলা উচিত? আমাদের বলা উচিত لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ কেবল আল্লাহ তাআলাই আমাকে ইবাদতের জন্য উঠাতে পারেন এবং তিনিই তাওফিক দিতে পারেন। আমি তাঁর সাহায্য ছাড়া তা পূরণ করতে পারবো না। তো আজান তার অর্থ ও মর্মের দিক থেকে ফাতিহার ন্যায়, যেখানে আমরা সর্বাগ্রেই এ ঘোষণা দিয়ে থাকি যে, ইবাদত একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য, إِيَّاكَ نَعْبُدُ অতঃপর সে জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করি। وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ; আর আমরা কেবল আপনার নিকটই সাহায্য কামনা করি।
আগত শব্দ আমাদের জন্য আরও বেশি প্রশান্তিমূলক। আগত শব্দসমূহে আমাদের জন্য সর্বপ্রকার সফলতার প্রতিশ্রুতি বহন করে حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ সফলতার প্রতি অগ্রসর হও। এ নামাজ যদি আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সব ধরনের জিম্মাদার হয় তবে কেন আমরা তার জন্য উঠব না? সে জন্যও আমাদের আসার শক্তি আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতেই হয়ে থাকে। তাই উক্ত শব্দগুলো আবারও বলব لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ পরিশেষে যে শব্দাবলির মাধ্যমে আজান খতম হয় তা ওই শব্দাবলিই, যার শেষের শুরু হয়েছে لا إله إلا الله
আজান الله اكبر দ্বারা শুরু হয়ে আপনাকে দুনিয়া ছাড়ার হুকুম দিচ্ছে, কেননা, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। لا إله إلا الله একটি ডাক, একটি আহ্বান, যে আখেরাতের প্রতি মনোনিবেশ করো। কেননা, এটা এমন এক জীবন, যার জন্য চেষ্টা-সাধনা করতে হয়। ভবিষ্যতে যখন আজান শুনবেন তো এভাবে শুনবেন যে, এটা আপনার ও আপনার মাহবুবের সাক্ষাতের ডাক। এভাবে ভাবুন যে, এক সন্তান তার মায়ের সাক্ষাতের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে এবং সে এ ঘোষণা শুনছে যে, তার ফ্লাইট এসে গেছে। আজানেরও একটা বিশেষ মজা রয়েছে। যে কেউ আপন রবের সাক্ষাতে আগ্রহী হয় আল্লাহও তার সাক্ষাতের আগ্রহী হয়। আপন রবের সাক্ষাতের এ আগ্রহ আপনাকে কালক্ষেপণ ছাড়াই বের হতে বাধ্য করে। একেবারে এভাবে যেভাবে মুসা আলাইহিস সালাম দৌড়ে ছিল তাঁর রবের সাক্ষাতের জন্য। وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى.
হে প্রতিপালক! আমি তাড়াতাড়ি তোমার দিকে আসলাম, যেন আপনি সন্তুষ্ট হন।
এটা একটা বাস্তব লজ্জার বিষয় যে, কিছু মানুষের জন্য আজান কেবল সুরের আওয়াজ হয়ে গেছে। ব্যস্ততার সময় যা ঠিকমতো শোনাও হয় না। তবে আমরা যখন জানতে পারলাম যে, আজানের উক্ত বিশেষ শব্দাবলিতে কী পরিমাণ শক্তি রয়েছে, তখন আমাদের সচেতনতা ফিরে আসলো। তাই আজান যেন আমাদের পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট হয়।
টিকাঃ
৩৫. সুরা কাহাফ: ১১০।
৩৬. সুরা ত্বহা: ৮৪।
আলোচনা এখনো পূর্ণ হয়নি, আসুন আজান সম্পর্কে কিছু জেনে নিই। আপনার কি জানা আছে নামাজের শুরু কখন থেকে হয়? আপনি বলবেন, আল্লাহু আকবার থেকে? বরং তা তো আরও অনেক পূর্ব থেকে শুরু হয়ে যায়। নামাজের শুরু তো আজান থেকে হয়ে যায়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা ওই সময় নামাজেই আছ যখন থেকে নামাজের অপেক্ষায় রয়েছ। আজান আপনাকে আপনার রবের সাথে মোলাকাতের প্রস্তুতির সংবাদ দেয়। সুতরাং ওই সময় থেকে আপনার মাঝে আনন্দ সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক যে, আমি আপন প্রভুর সাক্ষাতে যাচ্ছি। তাই যেন আপনি নামাজের অবস্থায়ই হয়ে যাচ্ছেন, কেননা আপনার মন নামাজেই লেগে আছে। আজান শয়তানকে তাড়িয়ে দেয়, কারণ যখনই সে আজান শুনে রাগ ও আক্ষেপে দূরে ভাগতে থাকে। এ কথা জানার পর ধোঁকা দেয়ার জন্য এখন শয়তান নেই তাই আপনার মধ্যে এ পরিমাণ বিনয় ও নম্রতা সৃষ্টি হওয়া চাই যা নামাজের জন্য আবশ্যকীয়। আজান আপনার নামাজের সওয়াব বৃদ্ধির কারণ। কেননা, যেসব কুমন্ত্রণা হতে আপনি নামাজেও বেঁচে থাকতে পারেন না, আজান আপনার মস্তিষ্ককে সেসব থেকে মুক্ত করতে সাহায্য করে।
আমরা আমাদের সওয়াব কীভাবে বাড়াব? নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যারা নামাজ আদায় করে, মুয়াজ্জিন তাদের সমপরিমাণ সওয়াবের অধিকারী হন। উদাহরণস্বরূপ, মুয়াজ্জিনের আজান শুনে যদি ১০০ লোক নামাজ পড়ে, তাহলে তাঁর ১০০ লোকের নামাজের সওয়াব অর্জন হবে। আমরাও যদি মুয়াজ্জিনের উক্ত সওয়াবে শরিক হতে চাই, তবে আমাদের শুধু এতটুকু করতে হবে যে, আজানের জবাব দিতে হবে। অর্থাৎ ঠিক সেভাবেই বলতে হবে যেমন মুয়াজ্জিন বলে থাকেন। এটা আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদ্ধতি। একটু ভাবুন! যেন আপনি মক্কা শরিফে আজানের জবাব দিচ্ছেন, যেখানে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নামাজ আদায় করছেন এবং যেখানে এক রাকাত নামাজ ১০,০০০ দশ হাজার রাকাত নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব।
উক্ত বিষয়ে আল্লাহ তাআলার দয়া ও মহানুভবতার প্রতি চিন্তা করুন যে, একটি সহজ ও সাধারণ আমল কত বড় প্রতিদানের কারণ হচ্ছে। কোন শব্দে আজান শুরু হয়? الله اكبر আল্লাহ সবচেয়ে বড়, আল্লাহ পাকের জাতের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ আপনার জীবনে আর কিছু নেই। আপনার কাজকর্ম, চাকরি, বিবি-বাচ্চা, নিদ্রা এসবের চেয়ে আল্লাহ বড়। এটা তাঁর দরবারে উপস্থিত হওয়ার সময়। তাই মুয়াজ্জিন উক্ত শব্দগুলো বার বার বলেন, আমরা সবকিছু ছেড়ে কেন দাঁড়াচ্ছি? জবাব সামনে রয়েছে। لَا إِلَٰهَ إِلَّا ٱللَّٰهُ আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই। হে আল্লাহ! কেবল আপনার জন্যই সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি। তার বিপরীত আজানের প্রতি লক্ষ না করে এ চিন্তা করা যে, এখন আমার সামনে যা কিছু রয়েছে, আল্লাহ তাআলার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ এগুলো উক্ত সত্তার চেয়েও অধিক পূজনীয়। لَا إِلَٰهَ إلا الله এরপরে আর কী আছে? আমরা যখন নামাজে দাঁড়াই তখন কার তরিকা অনুসরণ করি? এটা নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা। এভাবে নামাজ পড় যেভাবে আমাকে পড়তে দেখো। তাই মুয়াজ্জিন ডাকেন, أَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدَ رَّسُوْلُ اللَّهِ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসুল।
সুতরাং এটা প্রমাণিত হয়ে যায় যে, কোনো আমল কবুল হওয়ার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে (১) ইখলাস যা لا إله إلا الله এর দাবি (২) নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা أَنْ مُحَمَّদَ رَّسُوْلُ اللَّهِ এ দাবি। উক্ত বুনিয়াদি বিষয় সুরা কাহফের শেষ আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে-
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ মিথলুকুম ইয়ূহা ইলাইয়্যা আন্নামা ইলাহুকুম ইলাহু ওয়াহিদুন ফামান কানা ইয়ারজু লিকায়া রব্বিহি ফাল ইয়ামাল আমালান সালিহান ওয়ালা ইউশরিক বি ইবাদাতি রব্বিহি আহাদা (قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا إِلَهُكُمْ إِلَهُ وَاحِدٌ فَمَنْ كَانَ يَرْجُو لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلًا صَالِحًا وَلَا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا.)
আপনি বলে দিন যে, আমি তোমাদের মতো একজন মানুষ (তবে) আমার নিকট ওহি আসে যে, তোমাদের মাবুদ তিনি একজনই, সুতরাং যে আপন পরওয়ারদিগার-এর সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে সে যেন নেক আমল করে এবং আপন রবের ইবাদতে কাউকে শরিক না করে।
দেখুন! আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাকাম কত উঁচু। কারও নাম এত উচ্চতা লাভ করেনি যা তাঁর নাম লাভ করেছে। দুনিয়ার যে কোণেই মুসলমান বসবাস করুক না কেন প্রভাতের প্রথম আলো প্রস্ফুটিত হওয়ার পূর্বে সে আজান দেয়া হয়। তাই আসুন এ যাবৎকালের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাসবিহে অংশগ্রহণ করি মুয়াজ্জিনের আজানের জবাব দিই। যখন আমরা আবদিয়াত ও অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছি, তখন আমাদের কী করণীয়? حَيَّ عَلَى الصَّلَاةَ চলো নামাজের প্রতি। তবে এখানের উক্ত শব্দগুলো পুনরায় বলার স্থলে আমাদের কী বলা উচিত? আমাদের বলা উচিত لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ কেবল আল্লাহ তাআলাই আমাকে ইবাদতের জন্য উঠাতে পারেন এবং তিনিই তাওফিক দিতে পারেন। আমি তাঁর সাহায্য ছাড়া তা পূরণ করতে পারবো না। তো আজান তার অর্থ ও মর্মের দিক থেকে ফাতিহার ন্যায়, যেখানে আমরা সর্বাগ্রেই এ ঘোষণা দিয়ে থাকি যে, ইবাদত একমাত্র আল্লাহ পাকের জন্য, إِيَّاكَ نَعْبُدُ অতঃপর সে জন্য তাঁর সাহায্য কামনা করি। وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ; আর আমরা কেবল আপনার নিকটই সাহায্য কামনা করি।
আগত শব্দ আমাদের জন্য আরও বেশি প্রশান্তিমূলক। আগত শব্দসমূহে আমাদের জন্য সর্বপ্রকার সফলতার প্রতিশ্রুতি বহন করে حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ সফলতার প্রতি অগ্রসর হও। এ নামাজ যদি আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সব ধরনের জিম্মাদার হয় তবে কেন আমরা তার জন্য উঠব না? সে জন্যও আমাদের আসার শক্তি আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতেই হয়ে থাকে। তাই উক্ত শব্দগুলো আবারও বলব لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللهِ পরিশেষে যে শব্দাবলির মাধ্যমে আজান খতম হয় তা ওই শব্দাবলিই, যার শেষের শুরু হয়েছে لا إله إلا الله
আজান الله اكبر দ্বারা শুরু হয়ে আপনাকে দুনিয়া ছাড়ার হুকুম দিচ্ছে, কেননা, আল্লাহ সবচেয়ে বড়। لا إله إلا الله একটি ডাক, একটি আহ্বান, যে আখেরাতের প্রতি মনোনিবেশ করো। কেননা, এটা এমন এক জীবন, যার জন্য চেষ্টা-সাধনা করতে হয়। ভবিষ্যতে যখন আজান শুনবেন তো এভাবে শুনবেন যে, এটা আপনার ও আপনার মাহবুবের সাক্ষাতের ডাক। এভাবে ভাবুন যে, এক সন্তান তার মায়ের সাক্ষাতের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে এবং সে এ ঘোষণা শুনছে যে, তার ফ্লাইট এসে গেছে। আজানেরও একটা বিশেষ মজা রয়েছে। যে কেউ আপন রবের সাক্ষাতে আগ্রহী হয় আল্লাহও তার সাক্ষাতের আগ্রহী হয়। আপন রবের সাক্ষাতের এ আগ্রহ আপনাকে কালক্ষেপণ ছাড়াই বের হতে বাধ্য করে। একেবারে এভাবে যেভাবে মুসা আলাইহিস সালাম দৌড়ে ছিল তাঁর রবের সাক্ষাতের জন্য। وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ رَبِّ لِتَرْضَى.
হে প্রতিপালক! আমি তাড়াতাড়ি তোমার দিকে আসলাম, যেন আপনি সন্তুষ্ট হন।
এটা একটা বাস্তব লজ্জার বিষয় যে, কিছু মানুষের জন্য আজান কেবল সুরের আওয়াজ হয়ে গেছে। ব্যস্ততার সময় যা ঠিকমতো শোনাও হয় না। তবে আমরা যখন জানতে পারলাম যে, আজানের উক্ত বিশেষ শব্দাবলিতে কী পরিমাণ শক্তি রয়েছে, তখন আমাদের সচেতনতা ফিরে আসলো। তাই আজান যেন আমাদের পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট হয়।
টিকাঃ
৩৫. সুরা কাহাফ: ১১০।
৩৬. সুরা ত্বহা: ৮৪।
📄 লক্ষণীয় বিষয়
ওজু সম্পর্কেও কিছু জেনে নিই। আমাদের অনেকের ওজু একটি অভ্যাসগত বিষয় হয়ে গেছে। মনে করা হয় যে, এটা এমন একটা আমল, যা নামাজ আদায়ের জন্য করতে হয়। অথচ ওজু একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি জানেন কি ওজু কত বড় আমল। তা করার সময় আপনি কী বলেন? নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কীভাবে করেছেন। আরও একটি বিষয় যে, পানি অপব্যয় না করা ইত্যাদি। তা ছাড়া এর আরও কত কিছু জানার আছে। আচ্ছা একটু ভাবুন! এর প্রত্যেকটি আমল আপনার দেহের অঙ্গের সাথে সম্পর্কিত যেমন চেহারা, হাত, মাথা, এবং পা ইত্যাদি। কিন্তু... অন্তর কোথায়? অন্তর ওই স্থান, যাতে নিয়ত হয়। কত সাধারণ আমল মিজানে ভারি হয় নিয়তের কারণে, আবার কত বড় আমল এ নিয়তের কারণেই নষ্ট হয়ে যায়। যখন কোনো আমলের সাথে নিয়তের (এখলাস) জড়িত হয়ে যায়, তখন তা এমনিতেই অনেক বড় হয়ে যায়। শুধু অঙ্গের দ্বারা সম্পাদিত আমলের চেয়ে তার সওয়াব অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং ভবিষ্যতে যখন নামাজের জন্য ওজু করবে, তো মেশিনের মতো তাড়াহুড়া করবে না, বরং ধীরস্থিরতা ও ইখলাসের নিয়তে করবে। তাহলে বাস্তবিক পক্ষে ওজুর মাধ্যমে অনেক কিছু অর্জন হবে। ওজুর জন্য দাসত্বের অনুভূতি নিয়ে উঠবে এবং আল্লাহ পাকের আদেশ পালনের নিমিত্তে ওজু করবে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ.
হে ইমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজ পড়ার ইচ্ছা করবে তখন তোমরা স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং মাথা মাসেহ করো এবং টাখনুসহ পা ধৌত করো।
প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিপূর্ণ আনুগত্যের সাথে এবং এ নিয়তে ওজু করবে যে, আমি আমার বদ আমলসমূহ ধৌত করছি। যেহেতু আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের (নামাজের) জন্য শর্ত তাই পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর সাথে মোলাকাতের অনুমতি কারও নেই। তাই ওজু আপনাকে বাহ্যিকভাবে পবিত্র করে, যেন তার দ্বারা আপনার মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ আন্তরিক পবিত্রতা অর্জন হয়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন কোনো ব্যক্তি পূর্ণ শর্ত আদায়ের সাথে ওজু করে তো পানির সর্বশেষ ফোঁটা ঝরার সাথে তার গুনাহসমূহও ঝরে যায়। এমনকি নখ থেকে গুনাহ ঝরে যায়। শরীরের সকল অংশ থেকেই গুনাহ ঝরে যায় যে গুনাহ হাত, পা মুখমণ্ডল (চোখ, কান, জিহ্বা) দ্বারা সংগঠিত হয়, গুনাহ ধুয়ে যাওয়া একটু নিজ (কল্পনার) চোখ দ্বারা দেখার চেষ্টা করবে। অন্তরে আল্লাহ পাকের রহমতের আশাবাদী হয়ে দেখার চেষ্টা করবে। ওজুর পর কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে। তারপর এ দুআ পড়বে,
অাশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া অাশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু। আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত তাওয়াবিনা ওয়াজ আলনি মিনাল মুতাতহহিরিন (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ | اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.)
হে আল্লাহ! আমাকে ওই লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সর্বদা আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং আমাকে পবিত্রদের মাঝে শামিল করুন।
ওজু করার পর আপনি উভয় জগতের বাদশার সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছেন। সর্বদা এ ধরনের সাক্ষাতের পূর্বে সকলের জন্য নিজেকে বাদশার প্রভাব প্রতিপত্তি অনুযায়ী সুসজ্জিত করে এ ধরনের মজলিসে উপস্থিত করা চাই। ওজু আপনাকে এ ধরনের সাক্ষাতের উপযোগী বানিয়ে দেয়। এখন আপনি রবের দরবারে দাঁড়াতে পারবেন। ওজুর মাধ্যমে প্রাপ্ত এ সৌন্দর্য আমার সাথে কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আহ আমি যদি আমার আগত ভাইদের চিনতে পারতাম অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত যারা পরে আসবে। অর্থাৎ ওই দিন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ওজুর অঙ্গসমূহের উজ্জ্বলতার মাধ্যমে চিনবেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজুর অঙ্গসমূহ নির্দিষ্ট সীমা থেকে একটু আগে বেড়ে ধোয়া পছন্দ করেছেন যেমন কনুই এবং টাখনু, যেন ওই দিন এ অংশগুলো অধিক আলো ও সম্মানের কারণ হয়। আমাদের এ অতিরিক্ত চেষ্টা শুধু আমাদের গুনাহকে মুছে ফেলে না; বরং তা আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধিরও কারণ হয়। ওজু আমাদের মর্যাদা এতো বৃদ্ধি করে যা আমাদের কল্পনাও হয় না। কীভাবে? একদিন সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত বেলাল রাযি.-কে লক্ষ করে বললেন, তুমি জান্নাতে আমার আগে কীভাবে গেলে? (অর্থাৎ গোলাম হওয়া সত্ত্বেও আমলের দিক দিয়ে স্বীয় মালিক থেকে আগে বেড়ে যাওয়া)। আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি আর আমার আগে আগে তোমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। উত্তরে বেলাল রাযি. বললেন, এরূপ বিশেষ আমল তো করি না, তবে প্রত্যেক আজানের (ওজুর) পর দুই রাকাত নামাজ পড়ি, আর যখন ওজু চলে যায় পুনরায় ওজু করে নিই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'এটাই কারণ'।
আমরা যখন ওজু হতে ফারেগ হই তো তাতে শাহাদাতের সীলমোহর লাগে। أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ জান্নাতের ৮টি গেইট খুলে যায় এবং যে গেইট দিয়ে চাই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।
টিকাঃ
৩৭. সুরা মায়েদা: ৬।
ওজু সম্পর্কেও কিছু জেনে নিই। আমাদের অনেকের ওজু একটি অভ্যাসগত বিষয় হয়ে গেছে। মনে করা হয় যে, এটা এমন একটা আমল, যা নামাজ আদায়ের জন্য করতে হয়। অথচ ওজু একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি জানেন কি ওজু কত বড় আমল। তা করার সময় আপনি কী বলেন? নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা কীভাবে করেছেন। আরও একটি বিষয় যে, পানি অপব্যয় না করা ইত্যাদি। তা ছাড়া এর আরও কত কিছু জানার আছে। আচ্ছা একটু ভাবুন! এর প্রত্যেকটি আমল আপনার দেহের অঙ্গের সাথে সম্পর্কিত যেমন চেহারা, হাত, মাথা, এবং পা ইত্যাদি। কিন্তু... অন্তর কোথায়? অন্তর ওই স্থান, যাতে নিয়ত হয়। কত সাধারণ আমল মিজানে ভারি হয় নিয়তের কারণে, আবার কত বড় আমল এ নিয়তের কারণেই নষ্ট হয়ে যায়। যখন কোনো আমলের সাথে নিয়তের (এখলাস) জড়িত হয়ে যায়, তখন তা এমনিতেই অনেক বড় হয়ে যায়। শুধু অঙ্গের দ্বারা সম্পাদিত আমলের চেয়ে তার সওয়াব অনেকগুণ বৃদ্ধি পায়।
সুতরাং ভবিষ্যতে যখন নামাজের জন্য ওজু করবে, তো মেশিনের মতো তাড়াহুড়া করবে না, বরং ধীরস্থিরতা ও ইখলাসের নিয়তে করবে। তাহলে বাস্তবিক পক্ষে ওজুর মাধ্যমে অনেক কিছু অর্জন হবে। ওজুর জন্য দাসত্বের অনুভূতি নিয়ে উঠবে এবং আল্লাহ পাকের আদেশ পালনের নিমিত্তে ওজু করবে।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ.
হে ইমানদারগণ! যখন তোমরা নামাজ পড়ার ইচ্ছা করবে তখন তোমরা স্বীয় মুখমণ্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত করো এবং মাথা মাসেহ করো এবং টাখনুসহ পা ধৌত করো।
প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিপূর্ণ আনুগত্যের সাথে এবং এ নিয়তে ওজু করবে যে, আমি আমার বদ আমলসমূহ ধৌত করছি। যেহেতু আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের (নামাজের) জন্য শর্ত তাই পবিত্রতা ছাড়া আল্লাহর সাথে মোলাকাতের অনুমতি কারও নেই। তাই ওজু আপনাকে বাহ্যিকভাবে পবিত্র করে, যেন তার দ্বারা আপনার মূল উদ্দেশ্য অর্থাৎ আন্তরিক পবিত্রতা অর্জন হয়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন কোনো ব্যক্তি পূর্ণ শর্ত আদায়ের সাথে ওজু করে তো পানির সর্বশেষ ফোঁটা ঝরার সাথে তার গুনাহসমূহও ঝরে যায়। এমনকি নখ থেকে গুনাহ ঝরে যায়। শরীরের সকল অংশ থেকেই গুনাহ ঝরে যায় যে গুনাহ হাত, পা মুখমণ্ডল (চোখ, কান, জিহ্বা) দ্বারা সংগঠিত হয়, গুনাহ ধুয়ে যাওয়া একটু নিজ (কল্পনার) চোখ দ্বারা দেখার চেষ্টা করবে। অন্তরে আল্লাহ পাকের রহমতের আশাবাদী হয়ে দেখার চেষ্টা করবে। ওজুর পর কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করবে। তারপর এ দুআ পড়বে,
অাশহাদু আল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া অাশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রসূলুহু। আল্লাহুম্মাজ আলনি মিনাত তাওয়াবিনা ওয়াজ আলনি মিনাল মুতাতহহিরিন (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ | اللَّهُمَّ اجْعَلْنِي مِنَ التَّوَّابِينَ وَاجْعَلْنِي مِنَ الْمُتَطَهِّرِينَ.)
হে আল্লাহ! আমাকে ওই লোকদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা সর্বদা আপনার দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং আমাকে পবিত্রদের মাঝে শামিল করুন।
ওজু করার পর আপনি উভয় জগতের বাদশার সাথে সাক্ষাতের জন্য প্রস্তুত হয়ে গেছেন। সর্বদা এ ধরনের সাক্ষাতের পূর্বে সকলের জন্য নিজেকে বাদশার প্রভাব প্রতিপত্তি অনুযায়ী সুসজ্জিত করে এ ধরনের মজলিসে উপস্থিত করা চাই। ওজু আপনাকে এ ধরনের সাক্ষাতের উপযোগী বানিয়ে দেয়। এখন আপনি রবের দরবারে দাঁড়াতে পারবেন। ওজুর মাধ্যমে প্রাপ্ত এ সৌন্দর্য আমার সাথে কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- আহ আমি যদি আমার আগত ভাইদের চিনতে পারতাম অর্থাৎ হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উম্মত যারা পরে আসবে। অর্থাৎ ওই দিন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ওজুর অঙ্গসমূহের উজ্জ্বলতার মাধ্যমে চিনবেন।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওজুর অঙ্গসমূহ নির্দিষ্ট সীমা থেকে একটু আগে বেড়ে ধোয়া পছন্দ করেছেন যেমন কনুই এবং টাখনু, যেন ওই দিন এ অংশগুলো অধিক আলো ও সম্মানের কারণ হয়। আমাদের এ অতিরিক্ত চেষ্টা শুধু আমাদের গুনাহকে মুছে ফেলে না; বরং তা আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধিরও কারণ হয়। ওজু আমাদের মর্যাদা এতো বৃদ্ধি করে যা আমাদের কল্পনাও হয় না। কীভাবে? একদিন সকালে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত বেলাল রাযি.-কে লক্ষ করে বললেন, তুমি জান্নাতে আমার আগে কীভাবে গেলে? (অর্থাৎ গোলাম হওয়া সত্ত্বেও আমলের দিক দিয়ে স্বীয় মালিক থেকে আগে বেড়ে যাওয়া)। আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি আর আমার আগে আগে তোমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। উত্তরে বেলাল রাযি. বললেন, এরূপ বিশেষ আমল তো করি না, তবে প্রত্যেক আজানের (ওজুর) পর দুই রাকাত নামাজ পড়ি, আর যখন ওজু চলে যায় পুনরায় ওজু করে নিই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'এটাই কারণ'।
আমরা যখন ওজু হতে ফারেগ হই তো তাতে শাহাদাতের সীলমোহর লাগে। أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ জান্নাতের ৮টি গেইট খুলে যায় এবং যে গেইট দিয়ে চাই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।
টিকাঃ
৩৭. সুরা মায়েদা: ৬।