📄 প্রকৃত আনন্দ কীভাবে অর্জিত হবে
আমরা আমাদের রুকু পূর্ণ করে দাঁড়িয়েছি। এখন আমরা নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুকন আদায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ রুকন আমাদের নামাজের আকর্ষণীয় সমাপ্তি। পূর্বের সব রুকন এ রুকন পর্যন্ত পৌঁছার মাধ্যম ছিল। সমাপ্তির মূল লক্ষ্য সেজদা। সেজদার কী অর্থ? আমাদের অধিকাংশই বছরের পর বছর ধরে মেশিনের ন্যায় দ্রুত সেজদা আদায় করি। তাই তার প্রকৃত ফলাফল হতে অজ্ঞ রয়ে গেছি। নামাজের কোনো রুকন আদায়ে আমরা ততক্ষণ পর্যন্ত মজা পাবো না, যতক্ষণ না ইখলাসের সাথে আদায় করব। সেজদা আপন খালেকের দরবারে দাসত্বের বড় প্রমাণ। যা পূর্বে আলোচনা হয়েছে। এটা এরূপ যে, আমরা আপন রবকে জিজ্ঞাসা করছি, হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমার কাছে কী চান? আমরা আমাদের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু আপনাকে দিচ্ছি, আমি নিজের সবচেয়ে দামি ও সম্মানী বস্তু আপন চেহারাকে সবচেয়ে নিচু স্থানে রেখে দিয়েছি। হে প্রতিপালক! শুধু আপনার জন্য আমার সবকিছু বিসর্জন দিচ্ছি।
সেজদা, প্রকৃত আনন্দ ও প্রশান্তি লাভের এক সূক্ষ্ম ভেদ। তা কীভাবে? একটু ভাবুন, সীমাহীন আনন্দের স্থান হলো জান্নাত, তা কোথায়? সাত আকাশের উপর, আল্লাহ পাকের নিকট। জাহান্নাম যেটা অনেক মসিবতের স্থান, তা কোথায়? সম্পূর্ণ নিচে আল্লাহ তাআলা হতে অনেক দূরে। জান্নাতের দরজা বদকারের জন্য কখনো খোলা হবে না। সবচেয়ে উচ্চ মর্যাদার জান্নাত কোনটি? যা সর্বোচ্চ শান্তির স্থান। উক্ত স্থানকে الفردوس الأعلى বলা হয়। যা আম্বিয়ায়ে কেরামের স্থান। যার ছাদ আল্লাহ পাকের আরশ। এটা জান্নাতের সবচেয়ে উঁচু স্থান, আল্লাহ পাকের খুব কাছেও। সহজ কথা হলো ওখানে অবস্থানকারীরা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার পড়শী।
এখন একটু চিন্তা করুন, নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় সবচেয়ে বেশি কঠিন সময় অতিক্রম করেন, যেখানে সীমাহীন চিন্তা ও অক্ষমতা অনুভব করছিলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাঁকে কীভাবে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন এবং তাঁর উৎসাহ বৃদ্ধি করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁকে নিজের কাছে ডাকলেন এবং উক্ত মুহূর্তগুলো সর্বদার জন্য নির্দিষ্ট করে দিলেন। মেরাজের রাত্রিতে তিনি তাঁর রবের এত নিকট পৌঁছলেন, যা কোনো মানুষের জন্য সম্ভব নয়। আজও যখন কোনো বস্তু, কোনো শব্দ বা কোনো আমল খুশির কারণ হয়, তবে এ দুআ শেখানো হয়, সকল ভালো শব্দ ও ভালো আমল তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করে তিনিই সর্বোচ্চ।
সুতরাং প্রকৃত শান্তি কোথায়? তা উপরে আল্লাহ তাআলার কাছে। তার নিয়ম এরূপ যে, যত বেশি আল্লাহ তাআলার নৈকট্যশীল হবে তার আধ্যাত্মিক শক্তিও ওইরূপ বৃদ্ধি পাবে। শান্তিও বৃদ্ধি পেতে থাকবে। আমরা এ শান্তির উচ্চ মর্যাদা কীভাবে লাভ করব? আমাদেরকে উপরওয়ালার নিকটবর্তী হতে হবে। আমরা এটা কীভাবে করতে পারব? নিজেকে তাঁর সামনে ছোট করে। এ হাদিস একটু স্মরণ করুন- যে আল্লাহর সামনে নিজেকে ছোট করবে আল্লাহ তাকে উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। তার আনন্দ বৃদ্ধি করবেন। এ হাদিসটিও একটু চিন্তা করুন- বান্দা আপন রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী হন সেজদার অবস্থায়। আল্লাহ তাআলা সুরাতুল আলাকের শেষে বলেন, সেজদা করো, আল্লাহর নিকটবর্তী হও।
আপনার কি বুঝে এসেছে যে, আপনি সারাজীবন কী করেছেন? আপনার প্রতিটি সেজদায় আপনার রবের নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করুন। আপনার দেহ তো জমিনে পড়ে থাকে, কিন্তু রূহ রবের কাছে উপরে উঠছে। যেন রবের নিকটবর্তী হওয়া যায়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, বেশি বেশি সেজদা করো, কেননা কোনো মুসলমান যখনই সেজদা করে, আল্লাহ তার মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং তার একটি গুনাহ মাফ করেন। এমনকি সে উচ্চ মর্যাদা লাভ করে ফেলে। অর্থাৎ জান্নাতুল ফেরদাউস লাভ করে। যাকে আল্লাহর আরশ বেষ্টন করে আছে। যা আমাদের প্রিয় নবি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্থান।
একটি প্রমাণ দেখুন। একদা রবি বিন কাআব রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজুর পানি আনলেন। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, কিছু চাও, উত্তরে রবি রাযি. বললেন, আমি জান্নাতে আপনার সাথী হতে চাই। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, অন্য কিছু চাও। রবি রাযি. বললেন, আমি শুধু এটাই চাই। তখন হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বেশি বেশি সেজদা করে আমাকে সাহায্য করো। এখন বুঝুন যে, আপনি আপনার ইমানি মর্যাদা উঁচু হতে উচ্চতর করার জন্য আপন সত্তাকে সর্বনিম্নে আনা আবশ্যক। আর আপনার দেহ যখন সেজদা করে, তখন এ বিষয়ের কল্পনা করবেন যে, আমার মনও তার সাথে জড়িয়ে আছে। এই সেজদা ওই সত্তার দরবারে করা হচ্ছে, যিনি আরশে সমাসীন আছেন। দৈনিক দুনিয়ায় সকল কার্যাদি আঞ্জাম দেন, যার সামনে আমাদের ভালো মন্দ সকল কর্ম পেশ হয়। তাঁর কাছে প্রত্যেকেরই প্রয়োজন আছে, কিন্তু তাঁর কারও নিকট কোনো প্রয়োজন নেই। যিনি সর্বদা কাউকে সাহায্য করেন, কারও ভগ্ন হৃদয়ে জোড়া লাগান, কোনো দুর্বলকে শক্তিশালী করেন, কারও গুনাহ মাফ করেন। যিনি জীবন দান করেন, মৃত্যুও দান করেন, যাকে চান হেদায়াত দেন, যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন। কারও প্রতি দয়ার বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আবার কাউকে পূর্ণ বঞ্চিতও করেন। কাউকে সম্মান দান করেন, কাউকে লাঞ্ছিত করেন। কারও জন্য শান্তি ও নিরাপত্তার সামান তৈরি করেন, আবার কারও থেকে তা ছিনিয়ে নিয়ে যান। আপনি যখন সেজদা করেন, তখন এ বিষয়গুলো মনে রাখা আবশ্যকীয়, তাহলে অন্তর আলোকিত হবে।
sِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ.
(অধিক) সেজদার কারণে তাদের কপালে চিহ্ন পড়ে যায়।
এটা আল্লাহ পাকের দয়া ও নুরের চিহ্ন। যার মধ্যে বিনয়, নম্রতা, আরাম, শান্তির প্রতিচ্ছবি বিদ্যমান রয়েছে। যা আর অন্য কোনোভাবে হাসেল করা যায় না। সেজদা নামাজের বিশেষ একটি রোকন, সেজদা অত্যন্ত দামি বস্তু।
■ জানা নাই যে তা কত পেরেশানি ও বিপদাপদ দূর করে। কতই না জটিল ও কঠিন বিপদাপদ তার দ্বারা সমাধান হয়েছে। কত হাজার প্রয়োজন সেজদার দ্বারা পূরণ করেছে। কত অশ্রুসিক্ত দুআ সেজদার মাধ্যমে কবুল করেছেন।
নিজের সত্তাকে ফরশ (বিছানা) এর নিকটবর্তী করো, তাহলে আরশওয়ালার নিকটবর্তী হয়ে যাবে। আপন দেহ, অন্তর এবং আত্মার সাথে সেজদা করো, তাহলে দুনিয়ার সবচেয়ে বড় নেয়ামত উপলব্ধি হবে, এ দুনিয়ার প্রকৃত শান্তি হাসেল হবে।
টিকাঃ
২৬. সুরা ফাতাহ: ২৯।
📄 একটি পূর্ণাঙ্গ সেজদা
আমরা নামাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোকন সেজদা আদায় করছি। আপনার কি এমন আকাঙ্ক্ষা হয় না যে, আহ আমি যদি স্বয়ং নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজ চোখে দেখতাম যে, তিনি কীভাবে সেজদা করেন? এ অংশের আসল উদ্দেশ্য এটাই যে আপনাকে সেজদার সহিহ ব্যাখ্যা বলা হবে যেভাবে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আদায় করেছেন। এ আশায় যে আমরাও তা সঠিকভাবে আদায় করতে পারি।
আপনি যখন সেজদা করার ইচ্ছা করেন, তো নিচের দিকে ঝুঁকে আল্লাহু আকবার বলেন। একটু আগেও না পরেও না; বরং ঝোঁকার সময় বলবেন। সঠিক অভিমত এটিই যে, হাতের তালু হাঁটুর পূর্বে জমিন স্পর্শ করবে যেন উটের সাদৃশ্য না হয়। কপাল, নাক জমিনে স্পর্শ করার পূর্বে দৃষ্টি জমিনে পড়বে। এটা লক্ষ রাখবে যে, কপাল ও জমিনের মাঝে (কাপড় ইত্যাদি দ্বারা) যেন কোনো অন্তরায় না হয়, যার কারণে কপাল জমিনে না লাগে। হাতের তালু শক্তভাবে জমিনে লেগে থাকবে। আঙুলগুলো মিলিয়ে রাখবে। আঙুলসমূহ, হাঁটু বৃদ্ধাঙ্গুলী কেবলামুখী থাকবে, হাতের তালু মাথার বা কাঁধের বরাবর থাকবে। কনুই জমিন থেকে উঠিয়ে রাখবে। (পুরুষ) তার কনুই উভয় পার্শ্বের দেহ থেকে অধিক সরিয়ে রাখবে। শরীরের সাত হাড্ডির উপর সেজদা করবে। কপাল নাকসহ, উভয় হাতের তালু, উভয় হাঁটু, উভয় পা আঙুলের উপর ভর করে পূর্ণ অংশ জমিনের উপর অত্যন্ত শক্তির সাথে রাখবে যতক্ষণ পর্যন্ত শরীরের সকল জোড়া আরামের সাথে আপন জায়গায় না আসে।
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত অবস্থায় কখনো কুরআন শরিফ তেলাওয়াত করতেন না; বরং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন দুআ পড়েছেন। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, বান্দা তার রবের সবচেয়ে নিকটবর্তী সেজদার অবস্থায় হয়। তাই তোমরা সিজদা অবস্থায় খুব বেশি দুআ করো। আমরা যখন সেজদায় থাকি তখন এ তাসবিহ পড়ব-
সুবহানা রাব্বিয়াল আলা (سُبْحَانَ رَبِّيَ الْأَعْلَى.) পবিত্র আমার প্রভু যিনি সর্ব শ্রেষ্ঠ। (তিন বার বা তার চেয়ে বেশি)।
এই দুআও পড়া যায়- সুবহানাকা আল্লাহুম্মা, রাব্বানা ওয়া বিহামদিকা, আল্লাহুম্মাগ ফিরলী (سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ، رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ، اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي.) হে আল্লাহ, তুমি পবিত্র। হে আমাদের রব, তোমার প্রশংসা করছি। আমাকে ক্ষমা করে দাও।
অথবা এ দুআ পড়বে— সুব্বুহুন কুদ্দুসুন রাব্বুল মালাইকাতি ওয়ার রুহ (سُبُّوحٌ قُدُّوسُ رَبُّ الْمَلَائِكَةِ وَالرُّوحِ.) ফেরেশতা ও রূহের প্রতিপালক অত্যন্ত পাক, অত্যন্ত পূতপবিত্র।
নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে বিভিন্ন দুআ শিক্ষা দিয়েছেন। যার প্রত্যেকটিতে রয়েছে অর্থ ও মর্মের বিশাল ভাণ্ডার এবং প্রশান্তির অনেক উপকরণ। দুআ করা মানে নিজে নিজে আল্লাহ পাকের সাথে কথা বলার সমান। আপনি যদি কাউকে মহব্বত করেন, তবে তার সাথে বেশি বেশি কথা বলার চেষ্টা করেন। অধিক সময় পর্যন্ত তার সাথি হিসেবে থাকতে চান। আপনার কি স্মরণ আছে আল্লাহ তাআলা যখন ওয়াদিয়ে তুয়ায় মুসা আলাইহিস সালাম-এর সাথে কথা বলেছিলেন? আল্লাহ যখন কথা বলছিলেন তখন মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুনে যাচ্ছিলেন। আর আল্লাহ যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,
وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَى.
হে মুসা, তোমার ডান হাতে কি?
তখন আনন্দের উম্মাদনায় তিনি কথা বলে যাচ্ছিলেন, هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُ بِهَا عَلَى غَنَمِي.
এটা আমার লাঠি, আমি এতে টেক লাগাই, এর দ্বারা ভেড়ার জন্য পাতা ঝেড়ে দিই।
তিনি উক্ত বিশেষ সাক্ষাতে সম্পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণহীনতার জগতে পৌঁছে গেছেন। যখন তাঁর এ অনুভূতি হয়েছে যে, আমি কোন সত্তার সামনে দাঁড়িয়েছি, তখন নিজের আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বলেন 'আর এর দ্বারা আমার আরও অনেক কাজ আছে।
ভবিষ্যতে যখন আপনি রবের এতটা কাছাকাছি হবেন, অর্থাৎ সেজদা করবেন, তখন ওই আরাম ও শান্তি অনুভব করার চেষ্টা করবেন, যেমন মুসা আলাইহিস সালাম করেছিলেন। এর জন্য নিজের মহব্বতকে স্মরণ করতে হবে। তাঁর সঙ্গে কথা বলুন, তাঁর 'হামদ' (সংসা) করুন। তাঁর কাছে আবেদন করুন যে, তিনি যেন আপন দয়ায় ক্ষমা করে দেন। আর ওই প্রশান্তি হাসেল করুন যা শুধু তাঁর দরবারেই মিলে।
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَأَعُوذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ، وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لَا أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ.
হে আল্লাহ! তোমার গোস্বা হতে তোমার সন্তুষ্টির আশ্রয় কামনা করছি। তোমার সাজা হতে তোমার ক্ষমার আশ্রয় চাচ্ছি। তোমার কাছে তোমারই আশ্রয় চাই, আমি পরিপূর্ণভাবে তোমার প্রশংসা করতে পারি না, তুমি ওই রূপ যেরূপ প্রশংসা তুমি তোমার করেছ।
নামাজের প্রতি রাকাতে রুকু ১টি, কিন্তু সেজদা ২টি, কেন? কারণ সেজদা নামাজের গুরুত্বপূর্ণ রোকন, তা দুইবার আদায় করতে হয়, একবার যথেষ্ট নয়। নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা দীর্ঘ করতেন যেন এ গুরুত্বপূর্ণ রোকন আদায় এর মাধ্যমে রবের সাথে অধিক সময় ব্যয় করা যায়। (অনেক সময় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপন নাতিদের জন্য উপুড় হয়ে যেতেন ওই পর্যন্ত মাথা উঠাতেন না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা পিঠে উঠার কাজ শেষ না করতেন।)
টিকাঃ
২৭. মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক: ২/১৫৫।
২৮. মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বা ১/২২৫।
২৯. সুরা ত্বহা: ৪৭।
৩০. মুসান্নাফে ইবনু আবি শায়বা: ২/৯৯, হাদিস নং ৬৯৪৩।
📄 একটি বিনীত নিবেদন
এ পর্যন্ত আমরা যেরূপ দেখলাম নামাজের প্রত্যেক অবস্থা একটি ভিন্ন অর্থ ও গুরুত্ব রাখে, তাই আমাদের প্রতিটি নড়াচড়ার একটা বাস্তবরূপ প্রতিফলিত হয়। আমাদের প্রতিটি নড়াচড়া আমাদেরকে মনোযোগী করে রাখে। আমাদের আদায়কৃত প্রত্যেক শব্দে আমাদেরকে চিন্তা-ফিকির করার সুযোগ করে দেয়। এ নড়াচড়াগুলো আমাদের অন্তরকে নামাজে লাগিয়ে রাখে, আল্লাহ পাকের সাথে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক এবং অনুভূতি জাগিয়ে রাখে। যাতে মহব্বত, ভয়, আশা এবং বিনয় অন্তর্ভুক্ত।
আমরা এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তাতে আমাদের মধ্যে উচ্চস্তরের বিনয় এবং খোদাভীতি সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক। এটা ওই অবস্থা, যা আমাদের সামনে আসা বিচার দিনের অবস্থার সদৃশ।
وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ.
আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায় প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।
আমাদের এ দুনিয়ার হিসেবে এটা ওই অবস্থার মতো, যখন কেউ মৃত্যুদণ্ডের সংবাদ পায়, তখন তার যে অবস্থা হয়। সে অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন দুই সেজদার মাঝে হাঁটু গেড়ে বসা হয় তখন নিজেকে ওই অবস্থানেই মনে করতে হবে। এখন উক্ত অবস্থায় আমাদের কী বলা উচিত? এরচেয়ে উপযোগী শব্দ কি আমরা বলতে পারবো যে,
রব্বিগ ফিরলী, রব্বিগ ফিরলী (رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي.) হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন, হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন।
দুইবার, চারবার অথবা তার চেয়ে বেশি। কতবার আমরা আল্লাহ পাকের হুকুম অমান্য করেছি এবং সীমালঙ্ঘন করেছি। এ সময় অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় বসতেন, যত দীর্ঘ সময় সেজদা করতেন এবং মাওলা পাকের কাছে দুআ করতেন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِي.
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, দয়া করো, আমাকে হেদায়েত দান করো, আমার ত্রুটিকে পূরণ করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান করো এবং আমাকে রিজিক ও উচ্চ মর্যাদা দান করো।
আমরা আল্লাহর কাছে যা কিছু চাই তা এ দুনিয়ার জন্য চাই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরকালের জীবন। কেয়ামতের দিন যখন সকল মানুষ হিসাব-কিতাবের অপেক্ষায় থাকবে, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়ে থাকবেন, কেঁদে কেঁদে কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করতে থাকবেন। তিনি উম্মতের জন্য ওই পর্যন্ত কাঁদতে থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ জবাব না দিবেন যে, আপনি মাথা উঠান, হে মুহাম্মদ! আপনি চান দান করা হবে, সুপারিশ করুন গ্রহণ করা হবে। ওই সময় নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা হতে উঠে বসবেন এবং আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। এ দ্বারা বোঝা যায়, আমাদের দুআ দু'ভাবে শোনা হবে। সেজদাতে এবং তারপরও। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই তখন দ্বিতীয়বার সেজদায় লুটে পড়ি যেন তাঁর খুব কাছাকাছি হতে পারি। এবং এক সেজদা যথেষ্ট নয়। যেমনিভাবে কুরআন শরিফের প্রথম সুরা 'আলাক' শুরু হয়েছে ইকরা 'পড়' দ্বারা, শেষ হয়েছে وَاسْجُدْ (সেজদা করো) দ্বারা, এমনিভাবে আমাদের নামাজের প্রত্যেক রাকাত শুরু হয় কেরাত দ্বারা এবং শেষ হয় সেজদা দ্বারা। ইবাদতের প্রত্যেক তরিকায় এক ভিন্ন সৌন্দর্য ও ভিন্ন মজা। আমরা যত বেশি জানবো তত বেশি তার সৌন্দর্য ও মজা অনুভব করবো। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ. বলুন যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি এ সমান হতে পারে?
টিকাঃ
৩১. সুরা জাসিয়াহ: ২৮।
৩২. সুরা যুমার: ৯।
এ পর্যন্ত আমরা যেরূপ দেখলাম নামাজের প্রত্যেক অবস্থা একটি ভিন্ন অর্থ ও গুরুত্ব রাখে, তাই আমাদের প্রতিটি নড়াচড়ার একটা বাস্তবরূপ প্রতিফলিত হয়। আমাদের প্রতিটি নড়াচড়া আমাদেরকে মনোযোগী করে রাখে। আমাদের আদায়কৃত প্রত্যেক শব্দে আমাদেরকে চিন্তা-ফিকির করার সুযোগ করে দেয়। এ নড়াচড়াগুলো আমাদের অন্তরকে নামাজে লাগিয়ে রাখে, আল্লাহ পাকের সাথে আমাদের ভিন্ন ভিন্ন সম্পর্ক এবং অনুভূতি জাগিয়ে রাখে। যাতে মহব্বত, ভয়, আশা এবং বিনয় অন্তর্ভুক্ত।
আমরা এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তাতে আমাদের মধ্যে উচ্চস্তরের বিনয় এবং খোদাভীতি সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক। এটা ওই অবস্থা, যা আমাদের সামনে আসা বিচার দিনের অবস্থার সদৃশ।
وَتَرَى كُلَّ أُمَّةٍ جَاثِيَةٌ كُلُّ أُمَّةٍ تُدْعَى إِلَى كِتَابِهَا الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ مَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ.
আপনি প্রত্যেক উম্মতকে দেখবেন নতজানু অবস্থায় প্রত্যেক উম্মতকে তাদের আমলনামা দেখতে বলা হবে। তোমরা যা করতে, অদ্য তোমাদেরকে তার প্রতিফল দেয়া হবে।
আমাদের এ দুনিয়ার হিসেবে এটা ওই অবস্থার মতো, যখন কেউ মৃত্যুদণ্ডের সংবাদ পায়, তখন তার যে অবস্থা হয়। সে অত্যন্ত কাকুতি-মিনতি করে ক্ষমা প্রার্থনা করে। যখন দুই সেজদার মাঝে হাঁটু গেড়ে বসা হয় তখন নিজেকে ওই অবস্থানেই মনে করতে হবে। এখন উক্ত অবস্থায় আমাদের কী বলা উচিত? এরচেয়ে উপযোগী শব্দ কি আমরা বলতে পারবো যে,
রব্বিগ ফিরলী, রব্বিগ ফিরলী (رَبِّ اغْفِرْ لِي، رَبِّ اغْفِرْ لِي.) হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন, হে প্রভু, আমাকে ক্ষমা করুন।
দুইবার, চারবার অথবা তার চেয়ে বেশি। কতবার আমরা আল্লাহ পাকের হুকুম অমান্য করেছি এবং সীমালঙ্ঘন করেছি। এ সময় অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থায় এত দীর্ঘ সময় বসতেন, যত দীর্ঘ সময় সেজদা করতেন এবং মাওলা পাকের কাছে দুআ করতেন।
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِي.
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, দয়া করো, আমাকে হেদায়েত দান করো, আমার ত্রুটিকে পূরণ করে দাও, আমাকে সুস্থতা দান করো এবং আমাকে রিজিক ও উচ্চ মর্যাদা দান করো।
আমরা আল্লাহর কাছে যা কিছু চাই তা এ দুনিয়ার জন্য চাই। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরকালের জীবন। কেয়ামতের দিন যখন সকল মানুষ হিসাব-কিতাবের অপেক্ষায় থাকবে, রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর দরবারে সেজদায় পড়ে থাকবেন, কেঁদে কেঁদে কাকুতি-মিনতি করে আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করতে থাকবেন। তিনি উম্মতের জন্য ওই পর্যন্ত কাঁদতে থাকবেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ জবাব না দিবেন যে, আপনি মাথা উঠান, হে মুহাম্মদ! আপনি চান দান করা হবে, সুপারিশ করুন গ্রহণ করা হবে। ওই সময় নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেজদা হতে উঠে বসবেন এবং আমাদের জন্য সুপারিশ করবেন। এ দ্বারা বোঝা যায়, আমাদের দুআ দু'ভাবে শোনা হবে। সেজদাতে এবং তারপরও। অতঃপর যখন আমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই তখন দ্বিতীয়বার সেজদায় লুটে পড়ি যেন তাঁর খুব কাছাকাছি হতে পারি। এবং এক সেজদা যথেষ্ট নয়। যেমনিভাবে কুরআন শরিফের প্রথম সুরা 'আলাক' শুরু হয়েছে ইকরা 'পড়' দ্বারা, শেষ হয়েছে وَاسْجُدْ (সেজদা করো) দ্বারা, এমনিভাবে আমাদের নামাজের প্রত্যেক রাকাত শুরু হয় কেরাত দ্বারা এবং শেষ হয় সেজদা দ্বারা। ইবাদতের প্রত্যেক তরিকায় এক ভিন্ন সৌন্দর্য ও ভিন্ন মজা। আমরা যত বেশি জানবো তত বেশি তার সৌন্দর্য ও মজা অনুভব করবো। যেমন আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ. বলুন যারা জানে আর যারা জানে না উভয়ে কি এ সমান হতে পারে?
টিকাঃ
৩১. সুরা জাসিয়াহ: ২৮।
৩২. সুরা যুমার: ৯।
📄 বিদায়ী দৃশ্য
التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْহَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
সকল জবানি, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবি! আপনার ওপর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
আপনি যখন প্রথম রাকাত পূর্ণ করেন, তখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান। যেন পুনরায় মনোযোগ দিতে পারেন এবং আপনার অন্তরকে বিনয় ও দাসত্বের জযবা দ্বারা পূর্ণ করতে পারেন। এটা যদি আপনার শেষ রাকাত হয় তবে আমরা বিদায়ের ক্ষণে পৌঁছে গেছি। 'তাশাহহুদ' হলো বান্দা এবং গাফুরুর রাহিম মালিকের সাক্ষাতের মাধ্যমে পরম সুন্দর সমাপ্তি। আমাদের হাত হাঁটু বা তার কিছু উপরিভাগে থাকা চাই, আমরা যে সকল আদবের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর সাথে কথা বলি ওই পদ্ধতিতেই বিদায়ী অবস্থানের শুরু আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্বের মাধ্যমে হয়। তাঁর চিরঞ্জীব সত্তা, তাঁর রাজত্ব এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করার জন্য সরাসরি তাঁকে সম্বোধন করে বলুন, وَالصَّلَوَاتُ সকল প্রশংসা ও বড়ত্ব এক আল্লাহর জন্য, সকল দুআ ও ইবাদত আল্লাহর জন্য, وَالطَّيِّبَاتُ আমাদের সকল উত্তম কাজ শব্দ ও আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য, কেননা আল্লাহ শুধু ভালো, ইখলাস ও নেক নিয়তের আমলই কবুল করেন।
সম্মুখের শব্দাবলী যা আপনারা উচ্চারণ করে থাকেন তা এমন শব্দাবলী, যা এক সুদীর্ঘ সফরে হাজারো মাইল অতিক্রম করে এক পবিত্র স্থানে পৌঁছে বলা হয়ে থাকে। যে স্থানকে 'মদিনা মুনাওয়ারা' বলা হয়। সেখানে এ জগতের সবচেয়ে বরকতপূর্ণ সত্তা আরাম করছেন অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
হে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার প্রতি আল্লাহ তাআলার শান্তি রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক, প্রতিদিন আপনি এ প্রিয় সত্তাকে সালাম করছেন এবং তিনি জবাবও দিচ্ছেন। একটু এ হাদিসটি শুনুন। তোমাদের যে কেউ যখনই দুরূদ পাঠায়, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন যেন তার জবাব দিতে পারি।
নিজের কাছের দরজার প্রতি একটু লক্ষ করুন এবং কল্পনা করুন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দরজা দিয়ে মাত্র ভেতরে প্রবেশ করেছেন, তাঁর উজ্জ্বল গোলাপের ন্যায় পূর্ণ লাল চেহারা নিয়ে। অতি সুন্দরভাবে পাগড়ি বেঁধে, ধবধবে সাদা সুগন্ধযুক্ত পোশাক পরিধান করে। মনোমুগ্ধকর হাস্যোজ্জ্বল মুখে যা দেখে আপনি খুবই আনন্দিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কোনো এক ব্যক্তিকেই সালাম দেয়ার ইচ্ছা করেছেন। আর সে লোকটি আপনি নিজেই, তখন আপনার কেমন লাগবে? যখন আপনি উক্ত শব্দগুলোর মাধ্যমে সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথোপকথন করছেন, একটু ভাবুন!
আপনার কাছে এ সুবর্ণ সুযোগ দৈনিক পাঁচবার আসে। আমরা কত লোক এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, আহা! আমরা যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে থাকতাম এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পারতাম? অথচ, উপরোক্ত শব্দাবলী আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং এটা কি আমাদের জন্য আবশ্যকীয় নয় যে, অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক মহব্বতের সাথে তার প্রতি দুরূদ পাঠ করি? যেহেতু তিনি অসহনীয় কষ্ট ও মসিবত সহ্য করে আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইসলামের এক বরকতময় আদর্শ পেশ করেছেন। যখন আপনি নিরক্ষর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি স্বীয় মহব্বত ও সম্মান উৎসর্গ করছেন, তাহলে একটু এ কথাও ভাবুন যে, আপনি কার সামনে বসা আছেন। ওই সত্তার সামনে যিনি আপনাকে এবং আপনার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি এত দয়ালু ও দাতা যে, তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যে একবার দুরূদ পাঠ করে, তার প্রতি তিনি দশবার রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করে আপনি আপনার প্রতি ও আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাদের প্রতি সালাম প্রেরণ করছেন। السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ প্রত্যেক নেক বান্দাদের প্রতি চাই তারা এ দুনিয়াতে থাকুক বা আসমানে থাকুক, মানুষ হোক বা ফেরেশতা হোক। অতঃপর উক্ত সম্মানিত শব্দসমূহ পুনরায় উচ্চারণ করছি যা তাওহিদ-এর উৎস, যদ্বারা আপনার মাঝে ইমানের নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا الله وَأَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসুল।
যখনই মৃত্যু আসে তো মানুষ দুই নামাজের মাঝেই মৃত্যুবরণ করে, ফজর ও জোহরের মাঝে বা আসরের মাঝে বা আসর ও মাগরিবের মাঝে বা মাগরিব ও ইশার নামাজের মাঝে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার শেষ কালিমা لا إِلَهَ إِلا الله হবে সে জান্নাতে যাবে। এটা কোনো চমকপ্রদ কথা নয়; বরং এ কালেমা জান্নাতের চাবি। পরিশেষে এখন যখন এ বরকতময় সাক্ষাত নিজের সমাপ্তিকালে হচ্ছে, তো আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এর ওয়াদা রয়েছে যে, উক্ত মুহূর্তে দুআ কবুল করবেন। সবার আগে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করো, তারপর নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আহলের প্রতি দুরূদ পাঠ করো নিজের জন্য ও মাতা- পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর উক্ত রাহমান ও রাহিম-এর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করো।
ওই দুআসমূহ শিখার চেষ্টা করো, যেগুলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন এবং যেগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সকল প্রয়োজনকে শামিল করে।
اللَّهُمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّদٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّদٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত (রহমত) প্রেরণ করুন যেমনিভাবে আপনি ইবরাহিম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত প্রেরণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী। হে আল্লাহ! বরকত নাজিল করুন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি যেমনিভাবে আপনি বরকত নাজিল করেছিলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী।
এ শেষ মঞ্জিলের পর যখন আপনি বাকি মুক্তাদির সাথে ডান দিকে সালাম ফেরাবেন, তো আপনার অন্তরে আরাম ও প্রশান্তির এক ঢেউ খেলতে থাকবে। যদি এরূপ নাও হয়, তবে তা আপনার কর্মফল যা আপনার অন্তরকে কঠিন বানিয়ে দিয়েছে এবং আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে রেখেছে। উক্ত ত্রুটির জন্য কমপক্ষে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সুন্নাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান যাতে কিছু হলেও ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়। উক্ত আরাম ও প্রশান্তি তার রূহের সাথে হাসিল করা যায়, যা শুধু আল্লাহর নিকটই আছে। স্মরণ রাখবেন, আপনার মধ্যে যে পরিমাণ আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পাবে সে পরিমাণ আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে। আপনার অন্তর বিনয় ও নম্রতায় ভরে যাবে। আপনার মন স্থির হয়ে যাবে। পরিশেষে নামাজে আপনার কাঙ্ক্ষিত মজা এসে যাবে।
টিকাঃ
৩৩. মুআত্তা মালেক: ১৪৮।
৩৪. আবু দাউদ তায়ালিসি: ২/৩৮৭, হাদিস: ১১৫৭।
التَّحِيَّاتُ لِله وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ، السَّلامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللهِ الصَّالِحِينَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا الله وَأَشْহَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ.
সকল জবানি, শারীরিক ও আর্থিক ইবাদত আল্লাহর জন্য। হে নবি! আপনার ওপর সালাম, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কেউ ইবাদতের উপযুক্ত নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বান্দা ও রাসুল।
আপনি যখন প্রথম রাকাত পূর্ণ করেন, তখন দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়ান। যেন পুনরায় মনোযোগ দিতে পারেন এবং আপনার অন্তরকে বিনয় ও দাসত্বের জযবা দ্বারা পূর্ণ করতে পারেন। এটা যদি আপনার শেষ রাকাত হয় তবে আমরা বিদায়ের ক্ষণে পৌঁছে গেছি। 'তাশাহহুদ' হলো বান্দা এবং গাফুরুর রাহিম মালিকের সাক্ষাতের মাধ্যমে পরম সুন্দর সমাপ্তি। আমাদের হাত হাঁটু বা তার কিছু উপরিভাগে থাকা চাই, আমরা যে সকল আদবের প্রতি লক্ষ রেখে তাঁর সাথে কথা বলি ওই পদ্ধতিতেই বিদায়ী অবস্থানের শুরু আল্লাহ পাকের বড়ত্ব ও মহত্বের মাধ্যমে হয়। তাঁর চিরঞ্জীব সত্তা, তাঁর রাজত্ব এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করার জন্য সরাসরি তাঁকে সম্বোধন করে বলুন, وَالصَّلَوَاتُ সকল প্রশংসা ও বড়ত্ব এক আল্লাহর জন্য, সকল দুআ ও ইবাদত আল্লাহর জন্য, وَالطَّيِّبَاتُ আমাদের সকল উত্তম কাজ শব্দ ও আমল একমাত্র আল্লাহর জন্য, কেননা আল্লাহ শুধু ভালো, ইখলাস ও নেক নিয়তের আমলই কবুল করেন।
সম্মুখের শব্দাবলী যা আপনারা উচ্চারণ করে থাকেন তা এমন শব্দাবলী, যা এক সুদীর্ঘ সফরে হাজারো মাইল অতিক্রম করে এক পবিত্র স্থানে পৌঁছে বলা হয়ে থাকে। যে স্থানকে 'মদিনা মুনাওয়ারা' বলা হয়। সেখানে এ জগতের সবচেয়ে বরকতপূর্ণ সত্তা আরাম করছেন অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
السَّلَامُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللهِ وَبَرَكَاتُهُ
হে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনার প্রতি আল্লাহ তাআলার শান্তি রহমত ও বরকত অবতীর্ণ হোক, প্রতিদিন আপনি এ প্রিয় সত্তাকে সালাম করছেন এবং তিনি জবাবও দিচ্ছেন। একটু এ হাদিসটি শুনুন। তোমাদের যে কেউ যখনই দুরূদ পাঠায়, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন যেন তার জবাব দিতে পারি।
নিজের কাছের দরজার প্রতি একটু লক্ষ করুন এবং কল্পনা করুন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উক্ত দরজা দিয়ে মাত্র ভেতরে প্রবেশ করেছেন, তাঁর উজ্জ্বল গোলাপের ন্যায় পূর্ণ লাল চেহারা নিয়ে। অতি সুন্দরভাবে পাগড়ি বেঁধে, ধবধবে সাদা সুগন্ধযুক্ত পোশাক পরিধান করে। মনোমুগ্ধকর হাস্যোজ্জ্বল মুখে যা দেখে আপনি খুবই আনন্দিত। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আজ কোনো এক ব্যক্তিকেই সালাম দেয়ার ইচ্ছা করেছেন। আর সে লোকটি আপনি নিজেই, তখন আপনার কেমন লাগবে? যখন আপনি উক্ত শব্দগুলোর মাধ্যমে সরাসরি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কথোপকথন করছেন, একটু ভাবুন!
আপনার কাছে এ সুবর্ণ সুযোগ দৈনিক পাঁচবার আসে। আমরা কত লোক এ আকাঙ্ক্ষা পোষণ করি, আহা! আমরা যদি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে থাকতাম এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখতে পারতাম? অথচ, উপরোক্ত শব্দাবলী আমাদেরকে তাঁর নিকটবর্তী করে দেয়। সুতরাং এটা কি আমাদের জন্য আবশ্যকীয় নয় যে, অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক মহব্বতের সাথে তার প্রতি দুরূদ পাঠ করি? যেহেতু তিনি অসহনীয় কষ্ট ও মসিবত সহ্য করে আমাদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইসলামের এক বরকতময় আদর্শ পেশ করেছেন। যখন আপনি নিরক্ষর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি স্বীয় মহব্বত ও সম্মান উৎসর্গ করছেন, তাহলে একটু এ কথাও ভাবুন যে, আপনি কার সামনে বসা আছেন। ওই সত্তার সামনে যিনি আপনাকে এবং আপনার নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সৃষ্টি করেছেন। যিনি এত দয়ালু ও দাতা যে, তাঁর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি যে একবার দুরূদ পাঠ করে, তার প্রতি তিনি দশবার রহমত ও বরকত নাজিল করেন।
আল্লাহ তাআলার বড়ত্ব ও মহত্ব বর্ণনা করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরূদ পাঠ করে আপনি আপনার প্রতি ও আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাদের প্রতি সালাম প্রেরণ করছেন। السَّلَامُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ প্রত্যেক নেক বান্দাদের প্রতি চাই তারা এ দুনিয়াতে থাকুক বা আসমানে থাকুক, মানুষ হোক বা ফেরেশতা হোক। অতঃপর উক্ত সম্মানিত শব্দসমূহ পুনরায় উচ্চারণ করছি যা তাওহিদ-এর উৎস, যদ্বারা আপনার মাঝে ইমানের নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি হয়।
أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا الله وَأَشْهَدُ أَنْ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ছাড়া কোনো মাবুদ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার বান্দা ও রাসুল।
যখনই মৃত্যু আসে তো মানুষ দুই নামাজের মাঝেই মৃত্যুবরণ করে, ফজর ও জোহরের মাঝে বা আসরের মাঝে বা আসর ও মাগরিবের মাঝে বা মাগরিব ও ইশার নামাজের মাঝে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যার শেষ কালিমা لا إِلَهَ إِلا الله হবে সে জান্নাতে যাবে। এটা কোনো চমকপ্রদ কথা নয়; বরং এ কালেমা জান্নাতের চাবি। পরিশেষে এখন যখন এ বরকতময় সাক্ষাত নিজের সমাপ্তিকালে হচ্ছে, তো আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত এর ওয়াদা রয়েছে যে, উক্ত মুহূর্তে দুআ কবুল করবেন। সবার আগে আল্লাহর বড়ত্ব বর্ণনা করো, তারপর নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর আহলের প্রতি দুরূদ পাঠ করো নিজের জন্য ও মাতা- পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো, অতঃপর উক্ত রাহমান ও রাহিম-এর কাছে দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ কামনা করো।
ওই দুআসমূহ শিখার চেষ্টা করো, যেগুলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পড়তেন এবং যেগুলো আমাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সকল প্রয়োজনকে শামিল করে।
اللَّهُمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ، اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّদٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّদٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ.
হে আল্লাহ! মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত (রহমত) প্রেরণ করুন যেমনিভাবে আপনি ইবরাহিম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি সালাত প্রেরণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী। হে আল্লাহ! বরকত নাজিল করুন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি যেমনিভাবে আপনি বরকত নাজিল করেছিলেন ইবরাহিম আলাইহিস সালাম ও তাঁর পরিবারবর্গের প্রতি। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসা ও বড়ত্বের অধিকারী।
এ শেষ মঞ্জিলের পর যখন আপনি বাকি মুক্তাদির সাথে ডান দিকে সালাম ফেরাবেন, তো আপনার অন্তরে আরাম ও প্রশান্তির এক ঢেউ খেলতে থাকবে। যদি এরূপ নাও হয়, তবে তা আপনার কর্মফল যা আপনার অন্তরকে কঠিন বানিয়ে দিয়েছে এবং আপনাকে আল্লাহ থেকে দূরে রেখেছে। উক্ত ত্রুটির জন্য কমপক্ষে তিনবার ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং সুন্নাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান যাতে কিছু হলেও ক্ষতি পূরণ হয়ে যায়। উক্ত আরাম ও প্রশান্তি তার রূহের সাথে হাসিল করা যায়, যা শুধু আল্লাহর নিকটই আছে। স্মরণ রাখবেন, আপনার মধ্যে যে পরিমাণ আল্লাহর মহব্বত বৃদ্ধি পাবে সে পরিমাণ আল্লাহর নৈকট্য লাভ হবে। আপনার অন্তর বিনয় ও নম্রতায় ভরে যাবে। আপনার মন স্থির হয়ে যাবে। পরিশেষে নামাজে আপনার কাঙ্ক্ষিত মজা এসে যাবে।
টিকাঃ
৩৩. মুআত্তা মালেক: ১৪৮।
৩৪. আবু দাউদ তায়ালিসি: ২/৩৮৭, হাদিস: ১১৫৭।