📄 আমাদের সামর্থের উর্ধ্বের এক সফর
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি উভয় জাহানের প্রতিপালক।
সুতরাং আলহামদু লিল্লাহ এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ সত্তার স্বীকৃতি দিয়েছি এবং তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুর উপরই কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। আমরা অনেকেই ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়ার পয়েন্ট এর স্লাইড অবশ্যই পেয়েছি, যাতে ছোট পাতার কোষকে ১০ গুণ বড় করে দেখানো হয়। এমনিতেই তো এ জগতে আমাদের এ ভূ-মণ্ডল ছাড়াও লক্ষ কোটি গ্রহ-নক্ষত্র এবং ছায়াপথ আপন স্রষ্টার মহত্বর মহত্ব প্রকাশ করে চলছে। চলুন এ ছোট পাতার বিষয় বাদ দিয়ে আপনি যখন আপন প্রভুর সম্মুখে দাঁড়ান, তখন আপন দেহের ভেতরে একটু চলে যান এবং অভ্যন্তরীণ সৃষ্টির প্রতি লক্ষ করুন; কী অপূর্ব নিপুণ সিস্টেম; যা উক্ত মূল্যবান বস্তুকে চালনা করে। (রক্ত পরিচালনা, প্রতিরোধ ক্ষমতা, রগ-রেশা, হরমোন, হৃদয়ের স্পন্দন, ফায়ারিং নিউরান, চামড়া, কলিজা, তিলি, গুরদা ইত্যাদি।)
আপনি একটু আপনার চারপাশে লক্ষ করুন, আমাদের এ প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের বিস্ময়কর বস্তুসমূহ, এ সাত সমুদ্র, পোকামাকড়ের জগত, এ অনুবীক্ষণ উপাদান ইত্যাদি। একটু আগে বেড়ে যে বস্তু আমাদেরকে ঘেরাও করে আছে এ সকল গ্রহ, আমাদের সূর্য, চাঁদ এবং ছায়াপথ। আরও অগ্রসর হয়ে অগণিত তারকারাজি, ছায়াপথসমূহ এবং ওই জগত, যা আজ পর্যন্ত কোনো চক্ষুই দেখতে পায় না? ফেরেশতা, জিন এবং ওই জগত, যেখানে আমরা পৌঁছতে পারি নাই।
মূলত এটাই শেষ নয় বরং আমাদের সীমিত জ্ঞান মাত্র। এখন এই অনুভূতি নিয়ে একটু পেছনে চলুন। ওখানে আসুন, যেখানে আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। আপনি কি এ জগতের তারকাসমূহ, গ্রহসমূহ এবং ছায়াপথের তুলনায় এক বিন্দু সমান হবেন? এ জগতের তুলনায় আপনার অস্তিত্ব উল্লেখযোগ্যই নয়। এগুলো তো আমাদের এ জগতের আলোচনা, কুরআন শরিফে এরূপ আরও ছয় জমিন ও আসমান এর বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহর সত্তা এ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান ও রক্ষণাবেক্ষনকারী। তিনি একক, অদ্বিতীয় এ সবকিছুর পরিচালক।
আপনি যখন তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হয়ে তাঁর সাথে কথা বলছেন, তাঁর প্রশংসা করছেন, এখন আপনার অনুভূতিটা কেমন? আপনার কেমন লাগছে, যখন তিনি আপনার প্রত্যেক আয়াতের জবাব দিচ্ছেন? এখনো কি আপনার এতটা দুঃসাহস হয় যে তাঁর আদেশ অমান্য করবেন? এ মহান সত্তার বিরুদ্ধাচরণ করে কোনো পাপ করার সাহস হয়? তাহলে তার এই সীমাহীন ভালোবাসার কী হবে? তিনি আমাদের কতটা মহব্বত করেন যে, তিনি আমাদেরকে দুনিয়ার কাগজে এক উল্লেখযোগ্য মর্যাদা দান করেছেন, আর তাও শুধু নামাজে খুশু-খুজুর শর্তে।
পরিশেষে তাঁরই তাওফিকে তাঁর আহ্বানে লাব্বাইক বলে নিজেকে তাঁর সামনে দাঁড় করিয়েছি। এটা আমাদের জন্য এমন এক সম্মান, যা কখনো ভোলা যায় না। তাহলে কেন তাঁর জন্য নিজের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যয় করবো না। আমরা কি এত বড় মর্যাদা হতে মুখ ফিরিয়ে তা হতে বঞ্চিত হতে পারি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মনিবের সম্মান বোঝানোর জন্য এক সুন্দর উদাহরণ বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ পাকের কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর তাঁর কুরসির বিপরীতে সপ্ত আকাশ এরূপ, যেমন বড় এক ময়দানে ছোট একটি আংটি। আর কুরসিটিও আরশের বিপরীতে এরূপই।
পরবর্তী সময় যখন নামাজে দাঁড়াবেন, তখন নিজেকে উপরোক্ত অবস্থানে রেখে দেখুন যে, রাব্বিল আলামিন এর প্রকৃত অর্থ তোমাদের বুঝে এসে যাবে।
📄 সুরা ফাতিহার রহস্যাবলী নিয়ে একটু ভাবুন
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. পরম করুণাময়, সীমাহীন দয়ালু।
আপনি কি কখনো ভেবেছেন যে, উক্ত আয়াত مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (কেয়ামত দিবসের মালিক) এ আয়াতের পূর্বে কেন আসল? আসুন চিন্তা করি। আপনি যদি কোনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তার তদন্ত চলে, অথচ আপনি নিরপরাধ। জজ সাহেব আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। উক্ত জিজ্ঞাসা দুই ভাবে হতে পারে-
(১) সে আপনার প্রতি অনবরত প্রশ্নের বর্ষণ শুরু করে দেয়। (তুমি ঘটনাস্থলে কেন ছিলে? সেখানে কী করছিলে? সেখানে কখন গিয়েছিলে? তুমি কী দেখেছ? ইত্যাদি ইত্যাদি।) তো যখন এ কঠিন মুহূর্তে আপনি জ্ঞান হারাতে আরম্ভ করেছেন, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন বিচারক আপনাকে বলল, আমি তো জানি আপনি নিরপরাধ, কিন্তু অধিকতর জ্ঞান লাভ করতে চেয়েছি।
(২) অথবা বিচারক শুরুতেই বলে দিলো যে, আমি জানি আপনি নিরপরাধ তবে সব বিষয় আমাকে অবগত করলে অনেক ভালো হবে।
তারপর উক্ত প্রশ্নগুলো শুরু করে দিলো। এ দ্বিতীয় অবস্থায় আপনি বেশি শান্তি ও আরাম অনুভব করবেন। তাই মহান আল্লাহ তাআলা الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ আয়াতটি مَالِكِ يَوْমِ الدِّينِ-এর পূর্বে উল্লেখ করে আমাদেরকে এ বিষয় অবগত করছেন যে, উক্ত বিচারদিনে যে বিচারক বিচারকার্য পরিচালনা করবেন, তিনি الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু)। এই নাম দু'টি আমাদেরকে নামাজে ওই রকম শান্তি ও আরাম প্রদান করে, যেমনটা তখন অনুভব করি, যখন আমাদের বলা হয় এ ভয়াবহ দিনে আমাদেরকে যার সামনে দাঁড়াতে হবে, তিনি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু। আমাদের উচিত সর্বদা তাঁর দয়ার উপযুক্ত হয়ে থাকা।
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এর মাঝে এ কথার স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার সীমাহীন দয়া সবকিছুর উপর প্রবল। তাঁর দয়া তাঁর গোস্বার চেয়েও প্রবল। তাঁর রহমতের ছায়া প্রত্যেকের উপর সমান, মুমিন হোক বা কাফের, নেককার হোক বা বদকার। তিনি প্রত্যেককে খাওয়ান, পান করান, বস্ত্র পরিধান করান এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তিনি কাউকে দ্রুত পাকড়াও করেন না, বরং যথেষ্ট সুযোগ দেন যেন মানুষ জীবনের কোনো সময় ফিরে আসে।
সর্ব ক্ষেত্রেই আল্লাহ পাকের দয়া রয়েছে, চাই নেয়ামত দান করুক বা না করুক। তাদের থেকে যদি কোনো নেয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়, এটাও আল্লাহ পাকের দান। কেননা আমরা আমাদের সীমিত জ্ঞানে বুঝি না এতে কী হেকমত রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এতেও আল্লাহ পাকের রহমত লুকায়িত রয়েছে।
أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُৱَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ.
আচ্ছা! যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনি কি বে-খবর? তিনি তো গোপন বিষয়ও জানেন এবং সব বিষয়ে অবগত।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُৱَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُৱَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُৱَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ.
হে মুসলমান! আল্লাহ তোমাদের উপর লড়াই ফরজ করেছেন অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়ত কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয় অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর হয়ত বা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন যা তোমরা জান না।
যখন আমরা الرَّحْمٰنِ বলি তো এটা আল্লাহ পাকের সর্বোচ্চ দয়া যেমন আরবি ভাষায় ওজনের দিক থেকে غضبان غضب (রাগ) অথবা جوعان، جوع (ক্ষুধা) প্রথম ওজন দ্বিতীয়টির তুলনায় কঠিন রাগ বা কঠিন ক্ষুধা বুঝায়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর গুণাবলির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি দয়ালু। মূলত আল্লাহ তাআলার নামসমূহ হতে الرَّحْمَنِ নামটি সবচেয়ে অধিক ব্যাপক অর্থ বহনকারী। একটু চিন্তা করুন, তিনি কী নাম নিয়ে নিজকে আরশে সমাসীন বলেছেন, الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى. তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ব্যাপক নামকে নিজের সবচেয়ে বড় সৃষ্টি আরশের সাথে যুক্ত করেছেন।
আর এ নামটি শুধু তাঁরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা ছাড়া কারও নাম الرَّحْمَنُ হতে পারে না, الرَّحِيمِ নামটিও এরূপ। লোকেরা বরং আবদুর রহমান (রহমানের বান্দা) রাখতে পারে। উপরন্তু আপনারা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'আল্লাহ' নামটিও পাবেন না। এ উভয় নাম তাঁর জন্যই নির্ধারিত। এখন দেখুন الرَّحِيمِ এর কী অর্থ? তার অর্থ হলো যিনি আপন সৃষ্টির উপর দয়া করেন। আপনি আরও দেখবেন যে, আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে তাঁর এ গুণ ওই সময় ব্যবহার করেছেন যখন বিশেষ করে মুমিনদের প্রতি দয়া করার কথা বর্ণনা করেছেন। আর যখন আমাদের, আল্লাহ পাকের উদারতা এবং মানুষের চাহিদার সঠিক জ্ঞান লাভ হবে, তখন আমরা আল্লাহ তাআলাকে অন্য সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিতে সংকোচবোধ করবো না। আমাদের জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, আমাদের প্রতি আল্লাহ পাকের দয়া আমাদের মতো এর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি। الْحَمْدُ لله এখন আমাদের প্রতি তাঁর মর্যাদা, মহত্ব এবং বড়ত্ব পরিপূর্ণভাবে আকৃষ্ট হয়েছে। এখন আপনি নিজেই গভীর অন্তর থেকে الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এর স্বাদ অনুভব করুন।
টিকাঃ
৪. সুরাতুল মুলক: ১৪।
৫. বাকারা: ২১৬।
৬. সুরা ত্বহা: ০৫।
📄 একটু সামান্য আঘাত
مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ. কেয়ামত দিবসের মালিক।
আল্লাহ তাআলা مَالِكِ শব্দটিকে কেন নির্বাচন করলেন? কারণ কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ক্ষমতাবান সৃষ্টির সব ক্ষমতা খতম করে দিবেন আর পরিপূর্ণ ক্ষমতা শুধু তাঁরই হাতে হবে। এমনকি কাউকে তার জবান নড়াচড়া করার ক্ষমতাও দিবেন না। আল্লাহর অনুমতি ছাড়া কেউ কারও জন্য সুপারিশও করতে পারবে না। যেমন আয়াতুল কুরসিতে বর্ণিত হয়েছে। এ শব্দটি দুই কেরাতে পড়া হয়- (১) مَالِكِ (মালিকানা) (২) ملك (স্বয়ংসম্পূর্ণ বাদশা) এ উভয় অর্থ ওই দিনে আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের পরিপূর্ণ ক্ষমতার বিষয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
يَوْمَ تَرَوْنَهَا تَذْهَلُ كُلُّ مُرْضِعَةٍ عَمَّا أَرْضَعَتْ وَتَضَعُ كُلُّ ذَاتِ حَمْلٍ حَمْلَهَا وَتَرَى النَّاسَ سُكَارَى وَمَا هُمْ بِسُكَارَى وَلَكِنَّ عَذَابَ اللَّهِ شَدِيدٌ.
যেদিন তোমরা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন প্রত্যেক স্তন্যধায়ী তার দুধের শিশুকে ভুলে যাবে এবং প্রত্যেক গর্ভবতী গর্ভপাত করবে এবং মানুষকে তুমি দেখবে মাতাল; অথচ তারা মাতাল নয় বস্তুত, আল্লাহর আজাব বড় কঠিন।
يَوْمَ يَفِرُّ الْمَرْءُ مِنْ أَخِيهِ. وَأُمِّهِ وَأَبِيهِ. وَصَاحِبَتِهِ وَبَنِيهِ.
সেদিন মানুষ পলায়ন করবে তার ভাই, মাতা, পিতা, পত্নী ও সন্তানদের থেকে।
يَوْمَ نَطْوِي السَّمَاءَ كَطَيِّ السِّجِلِّ لِلْكُتُبِ.
সেদিন আমি আকাশকে গুটিয়ে নেব, যেমন গুটানো হয় লিখিত কাগজপত্র।
وَمَا قَدَرُوا اللهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتُ بِيَمِينِهِ.
তারা আল্লাহকে যথার্থরূপে বোঝেনি কেয়ামতের দিন গোটা পৃথিবী থাকবে তাঁর হাতের মুঠোতে এবং আসমানসমূহ ভাঁজ করা অবস্থায় থাকবে তাঁর ডান হাতে।
وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ.
আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, ফলে আসমান ও জমিনে যারা আছে সবাই বেহুঁশ হয়ে পড়ে যাবে। অতঃপর কে বাঁচবে? কেউ না। আমাদের রব বলবেন,
لِمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ. আজ কার রাজত্ব?
কোনো জবাব নেই। আজ রাজত্ব কার? সম্পূর্ণ নিশ্চুপ। তো আল্লাহ তাআলাই জবাব দিবেন এবং ঘোষণা করবেন,
لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ. এক আল্লাহর জন্য, যিনি মহা পরাক্রমশালী।
ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامُ يَنْظُرُونَ.
দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, অতঃপর সকলে দাঁড়িয়ে তাকাতে থাকবে।
وَجَاءَ رَبُّكَ وَالْمَلَكُ صَفًّا صَفًّا. আর আপনার পালনকর্তা ও সারি সারি ফেরেশতা উপস্থিত হবেন।
সূর্য মাথার নিকটে করা হবে, যখন একদিন হবে (৫০,০০০) পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান, তো আমরা ওই দিনের ভয়াবহতা থেকে কীভাবে মুক্তি পাবো? উত্তর সামনে আসছে।
টিকাঃ
৭. সুরা হজ: ১-২।
৮. সুরা আবাসা: ৩৪-৩৬।
৯. সুরা আম্বিয়া: ১০৪।
১০. সুরা যুমার: ৬৭।
১১. সুরা যুমার: ৬৮।
১২. সুরা গাফের: ১৬।
১৩. সুরা গাফের: ১৬।
১৪. সুরা যুমার: ৬৯।
১৫. সুরা ফাজর: ২২।
📄 মুক্তির চাবি কাঠি
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ. আমরা আপনারই ইবাদত করি, আপনার কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি।
যদি আমরা مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ এর মাঝে চিন্তা করতাম তো এক আয়াতই আমাদের অন্তরে কঠিন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতো! অনেক মানুষই নামাজ পড়ে, কিন্তু সে কী করছে সামান্যও চিন্তা করে না। উক্ত শব্দ তাদের অন্তরে পৌঁছে না। বরং এটাকে প্রথাগত কথার মতো সে মৌখিকভাবে শিখে নিয়েছে। أَفَلَا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ أَمْ عَلَى قُلُوبٍ أَقْفَالُهَا. তারা কি কুরআন সম্পর্কে গভীর চিন্তা করে না? না তাদের অন্তর তালাবদ্ধ?
বলা হয়েছে যারা গভীর চিন্তা করে এবং যার অন্তর নামাজে এমনভাবে বিনয়ের সাথে লেগে থাকে যেমন পানিতে মাছ, আর যাদের এরূপ হয় না তারা যেন পিঞ্জিরায় আবদ্ধ পাখি। অতএব নামাজ দ্বারা কীভাবে ওই দিনের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে পারবো? সামনের আয়াতেই এর জবাব রয়েছে, যা মূলত সুরা ফাতিহার সারমর্ম... কুরআনের এক মহান সুরা; সুরাতুল ফাতিহা-ই হচ্ছে পূর্ণ কুরআনের খোলাসা বা সারনির্যাস।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ প্রত্যেক নবি তাঁদের উম্মতকে মুক্তির একই চাবি দিয়েছেন,
أَنْ لَا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ.
যে আল্লাহ ছাড়া কারও ইবাদত করবে না, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ব্যাপারে কঠিন আজাবের আশঙ্কা করি।
এখন বলুন, এ দুনিয়াতে আমাদের মূল উদ্দেশ্য কী হওয়া উচিত? শুধু আল্লাহর ইবাদত ছাড়া আর কিছু না। এজন্যই আমাদের সৃষ্টি। উক্ত উদ্দেশ্য হাসিল করার উপায় কী? দিলের ইখলাস! আমরা যা কিছু করি বা করবো শুধু আল্লাহর জন্য করবো আর কারও জন্য নয়। সদা তাঁর সন্তুষ্টির কামনায় থাকবো। কেননা ইখলাসবিহীন আপনি ওই মুসাফিরের মতো, যে পথের সম্বল হিসেবে কিছু বালু বেঁধে নিয়ে চলছে, যা শুধু একটি বোঝা ছাড়া কিছু নয়। শুধু আল্লাহকে নিজের আশ্রয়ের স্থল বানাও অন্য কাউকে নয়। কেননা অন্যরা যা করে বা চিন্তা করে সব অনর্থক। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ না কোনো উপকার করতে পারে, না ক্ষতি।
আপনাকে যখনই জিজ্ঞাসা করা হবে এ আমল কেন করেছ? তখন উত্তর একটিই আসবে যে, আল্লাহর জন্য। আর যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, বাস্তবেই, নাকি অন্য কারও জন্য? তো কঠিনভাবে উত্তর আসবে অন্য কারও জন্য নয়।
قُلْ هَلْ نُنَبِّئُكُمْ بِالْأَخْسَرِينَ أَعْمَالًا . الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا.
বলুন আমি কি তোমাদেরকে সেসব লোকের সংবাদ দেবো, যারা কর্মের দিক দিয়ে খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তারাই সে লোক, যাদের প্রচেষ্টা পার্থিব জীবনে বিভ্রান্ত হয় অথচ তারা মনে করে যে তারা সৎ কর্ম করছে।
আল্লাহর জন্য ইখলাস আপনার জীবনকে পরিবর্তন করে দেবে। এখন সময় এসেছে আমাদের নিয়তকে খালেস করার। সময় এসেছে আমাদের সন্তানদের শিখাবার যে, তুমি যে কাজই করবে তা এ জন্য যে, আল্লাহ যেন তা পছন্দ করেন! এবং যে কাজ থেকে বিরত থাকবে, তা এজন্য যে, আল্লাহ এতে অসন্তুষ্ট। তারা যেন এটা শিখে নেয় যে, তাকে পুরস্কার দান করবেন একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া অন্য কেউ নয়। একথা সত্য যে, নিয়তের মাঝে পরিপূর্ণ ইখলাস সৃষ্টি করা সহজ নয়, কিন্তু অসম্ভবও নয়। কেননা আমাদের ওই জাদুময় কালেমা জানা আছে, যা ইখলাসের উৎস। অর্থাৎ, আমরা কেবলমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি।
যদি আল্লাহ পাকের মদদ থাকে তবে এমন কোনো কাজ নেই যা আঞ্জাম দেয়া যাবে না, সবকিছুই তাঁর হাতে। চেয়ে নাও, তিনি দেবেন। তিনি কি এ কথা বলেননি যে, তোমরা সকলে পথভ্রষ্ট; তবে আমি যাকে হেদায়েত দেই।
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ এটা ওই আয়াত, যার উপর আমাদের পূর্বসূরীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদতেন। একদা তাদের একজন মক্কা শরিফে নামাজ পড়াচ্ছিলেন, তার বন্ধু সম্মুখে অগ্রসর হয়ে তাওয়াফ করলেন, যখন তিনি ফিরে আসলেন তখন দেখলেন তিনি এ আয়াতই পড়তেছেন আর বার বার কাঁদছেন। এমনকি সূর্য উদয় হয়ে গেল, আমরা তোমারই ইবাদত করি, তোমারই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি। আসুন এতে আরও চিন্তা করি, তাহলে ওই নেফাক অন্তর থেকে চলে যাবে, যা অজ্ঞাতসারে আমাদের অন্তরে লেগে আছে। এটি এক বিরাট দুআ, যা আপনি কখনো করেছেন!
اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ. আমাদেরকে সরল সঠিক পথ দেখান।
এখন আমরা সবচেয়ে মহান হেকমতপূর্ণ এবং ব্যাপক দুআ পর্যন্ত পৌঁছেছি। যা আমরা হয়তবা কখনো চেয়েছিলাম। যদি আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সরল পথের হেদায়াত করে থাকেন তাহলে বুঝে নাও যে, তিনি আমাদেরকে যেভাবে তাঁর হক আদায় হয়, সেভাবে ইবাদত করারও তাওফিক দিয়েছেন। (একটু স্মরণ করুন, পূর্ববর্তী আয়াতে আপনি কী চেয়েছিলেন? অর্থাৎ, আমরা আপনারই ইবাদত করি। আপনার কাছেই সাহায্য চাই।)
একটু চিন্তা করলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়, যে সুরা ফাতিহা আমাদেরকে আল্লাহর দরবারে প্রয়োজনাদি চাওয়ার অতি উত্তম পদ্ধতি শিখিয়েছে। আমাদেরকে সহিহ তরিকায় দুআ করা শিখিয়েছে। যেন তিনি আমাদের কথা শোনেন ও আমাদেরকে দান করেন। আমরা তাঁর শান হিসেবে তাঁর আজমত ও বড়ত্ব বর্ণনা করি। তারপর আমাদের আবেদন পেশ করি। এখন আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যে পথের প্রয়োজন সেটা হলো সিরাতে মুস্তাকিম, ‘সরল সঠিক পথ’।
কিন্তু আল্লাহর সাহায্য ছাড়া এ পথে চলা খুবই মুশকিল। এ পথের কিছু বিশ্লেষণ আছে। যার কিছু আমরা জানি, আর কিছু জানি না (কোনটি হালাল, কোনটি হারাম, কোনটি সহিহ, কোনটি বাতিল?) আর যা আমরা জানি, না জানার তুলনায় অনেক কম। আমরা যা জানি তা হতে কিছু শরীর দ্বারা আদায় হয়, যেমন হজ, রোজা ইত্যাদি। আর কিছু শরীর দ্বারা আদায় হয় না। এগুলো থেকে কিছু আমরা আনন্দের সহিত আদায় করি, আর কিছু আদায় করতে নফসের খুব কষ্ট হয়, যেমন ফজর নামাজের জন্য জাগ্রত হওয়া ইত্যাদি।
সাথে সাথে উক্ত আমলগুলো আদায় করতে যে ইখলাসের প্রয়োজন, কখনো সে ইখলাস পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যায়, আবার কখনো মোটেও পাওয়া যায় না। কখনো সে আমল পুরোপুরি সুন্নত তরিকায় আদায় হয়, আবার কখনো এতে ত্রুটিও হয়। আমরা যদি পূর্ববর্তী প্রয়োজনীয় বিষয়াদি পরিপূর্ণ করি, অর্থাৎ ইলম, ইখলাস, সুন্নাতে নববির গুরুত্ব ইত্যাদি, তবুও একটি বিষয়ের কমই থেকে যাবে। আর তা হলো এস্তেকামাত বা দৃঢ়তা। যেন প্রত্যেকবার তা ওইভাবে আদায় করা যায়। এখন বুঝে আসছে কি? আমরা সরল পথে চলার জন্য আল্লাহর হেদায়াতের প্রতি কেন মুহতাজ?
আপনি দেখেছেন কি, আমরা আল্লাহর হেদায়েত ছাড়া তা করতে পারবো না? আপনি কি বুঝেছেন এ দুআ কত ব্যাপক? আপনি তো জানেন صِرَاطَ দুটি। একটি এ দুনিয়াতে যার আলোচনা মাত্র করা হয়েছে, দ্বিতীয়টি আখেরাতে যা তরবারির চেয়ে ধাঁরালো, যা জাহান্নামের আগুনের উপর স্থাপিত। প্রত্যেক জান্নাতিকে তার উপর দিয়েই যেতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِنْ مِنْكُمْ إِلَّا وَارِدُهَا كَانَ عَلَى رَبِّكَ حَتْمًا مَقْضِيًّا. ثُمَّ نُنَجِّي الَّذِينَ اتَّقَوْا وَنَذَرُ الظَّالِمِينَ فِيهَا جِثِيًّا.
তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তথায় পৌঁছবে না। এটা আপনার পালনকর্তার অনিবার্য ফায়সালা। অতঃপর আমি পরহেজগারদের উদ্ধার করবো আর জালেমদেরকে সেখানে নতজানু অবস্থায় ছেড়ে দেবো।
আমরা যদি এ দুনিয়ার 'সিরাতে' মজবুত ও দৃঢ়তার সাথে চলতে পারি, তবে আখেরাতের উক্ত সিরাত সহজভাবে অতিক্রম করতে পারব। অর্থাৎ দ্বিতীয় সিরাত সরাসরি সম্পৃক্ত এ দুনিয়ার ইমান, ইখলাস ও আমলের সাথে। আমাদের ইমান, আমাদের নেক আমল আখেরাতে ঘোর অন্ধকারে উক্ত পুলসিরাতে আমাদের জন্য আলোর কাজ দিবে।
يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُمْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ.
যেদিন আপনি দেখবেন ইমানদার পুরুষ ও ইমানদার নারীদেরকে, তাদের সম্মুখভাগে ও ডানপার্শ্বে তাদের জ্যোতি ছুটাছুটি করবে।
তাই তার ইমান ও আমল অনুপাতে কিছু বিদ্যুতের ন্যায় অতিক্রম করে যাবে, কিছু উজ্জ্বল তারকার মতো, কিছু বাতাসের মতো, কিছু দ্রুতগামী ঘোড়ার মতো এবং কিছু দৌড়ে অতিক্রম করবে, আর কিছু হাত-পা দিয়ে হেঁচড়ে যাবে। বাকি সব জাহান্নামের অগ্নিতে নিক্ষিপ্ত হবে। সেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ পাকের দরবারে আবেদন করবেন, হে আমার পালনকর্তা! তাদেরকে ক্ষমা করে দিন, হে আল্লাহ! তাদের ছেড়ে দিন। এ জীবনের 'সিরাত' আমাদেরকে আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছাবে, আর ওই জীবনের সিরাত আমাদেরকে জান্নাত পর্যন্ত পৌঁছাবে।
আপনি কি উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, এ দুআ কতই না গুরুত্বপূর্ণ। اهْدِنَا الصِّরَاطَ الْمُسْتَقِيمَ আমাদের পূর্ণ অস্তিত্ব এর উপর সীমাবদ্ধ। উল্লিখিত বিষয়গুলো জানার পর যখন আপনি আমিন বলবেন, তখন এ আওয়াজ অন্তর হতে বের হবে, কেন হবে না? প্রকৃত বিষয় তো এটাই যে, প্রত্যেক দুআ কবুলের এটিই হলো শর্ত। তা হলো একাগ্রতার সাথে অন্তর থেকে বের হওয়া। আগ্রহহীন অন্তরের দুআ আল্লাহ শোনেন না।
সুরা ফাতিহার সমাপ্তি: صِرَاطَ الَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّينَ.
ওই লোকদের পথ, যাদের প্রতি আপনি করুণা করেছেন, তাদের পথ নয় যাদের প্রতি তোমার গোস্বা হচ্ছে এবং যারা পথভ্রষ্ট।
সুরা ফাতিহার সমাপ্তিতে তার শেষ আয়াতের সমপনী ব্যখ্যা উপস্থাপন করছি। 'সিরাত'-এর ব্যাখ্যার পর আলোচনা হয়েছে, উভয় জাহানে সফলতা লাভ করতে কীভাবে তার উপর দৃঢ় থাকার জন্য আল্লাহ পাকের দয়া ও হেদায়েতের প্রয়োজন। যেহেতু নেক লোকদের সাহচর্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের আখলাক, স্বভাব এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ইমানের উপর বদ্ধমূল থাকতে পারি, তাই আল্লাহর কাছে দুআ করা হয়, তিনি যেন আমাদেরকে ওই পথ প্রদর্শন করেন, যাদের উপর তিনি করুণা ও দয়া করেছেন।
এই আয়াত আমাদের পূর্বে যারা চলে গেছেন সকল নেককার নারী-পুরুষদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন আম্বিয়া, সালেহিন, সাহাবা এবং সর্বশ্রেষ্ঠ নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও। উক্ত নেক লোকদের প্রচেষ্টা আমাদের জন্য সান্ত্বনার কারণ। এগুলো আমাদের বিপদাপদসমূহকে সহনশীল করে তোলে এবং এর দ্বারা এ ব্যাপারে আমাদের শক্তি ও সজীবতা লাভ হয় যে, ইনশাআল্লাহ আখেরাতে আমরা উক্ত নেক লোকদের সাথে থাকব।
غَيْرِ الْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ এরা এমন লোক, যারা ভালোভাবেই সত্য সম্পর্কে অবগত এবং কোনটা সঠিক কোনটা বাতিল তাও জানে। তারপরও গ্রহণ করা ও মেনে নেয়া থেকে দূরে থাকে। অর্থাৎ তারা জানে, কিন্তু অন্তরে গ্রহণ করে না। যেমন ওই সকল লোক, যারা জানে যে, নামাজ ফরজ, কিন্তু আদায় করে না। এরা ওই সমস্ত লোক, সত্য সম্পর্কে যাদের যদিও পুরোপুরি জ্ঞান নেই, কিন্তু তারা বুঝতেও চায় না। সুতরাং তারা ভুল পথেই চলতে থাকে। যেমন ওই সমস্ত লোক, যারা নামাজ পড়ে ঠিকই, কিন্তু অনাগ্রহের সাথে।
আপনি কি এবিষয়ে গভীর চিন্তা করেছেন যে, রহমত ও বরকত শব্দদ্বয় কেবল রাব্বুল ইজ্জতের সাথেই নির্দিষ্ট। أَنْعَمْتَ যাদের প্রতি তোমার অনুগ্রহ ও দয়া রয়েছে। তবে 'গজব' শব্দটি শুধু আল্লাহর সাথে সীমাবদ্ধ নয়। এরূপ এজন্য যে, যখন অনুগ্রহ ও দয়ার বিষয় আসে, তো তার দাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা, কিন্তু যখন গুনাহ প্রকাশ পায়, তখন শুধু আল্লাহ পাকের নয়, বরং অন্যান্য মাখলুকের গোস্বারও ভাগী হয়। যেমন- ফেরেশতা, আম্বিয়া এবং নেককার লোকদের।
পরিশেষে امিন এর অর্থ হে আল্লাহ! তুমি আমার দুআ কবুল করো। امিন এর মাধ্যমে আমরা যার হাতে আমাদের হেদায়েত ও পথ প্রদর্শন এবং মুক্তি নির্ভরশীল তাঁর দরবারে কাতর মিনতি করি। সুতরাং অন্তরের অন্তস্থল হতে আল্লাহর সামনে কাকুতি-মিনতি করো। ওই ব্যক্তির মতো, যাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে, আর সে নিহত ব্যক্তির পরিবারের কাছে অত্যন্ত কাতরভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে। আপনার আওয়াজে ওই পরিমাণ উন্মাদনা ও উদ্দীপনা থাকা চাই এবং অন্তর এমন হওয়া চাই যে, সে ক্ষমা ভিক্ষা চাচ্ছে। অন্তরের গভীর থেকে আমিন বলার আরেক মজবুত কারণ এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, তোমাদের 'আমিন' যদি ফেরেশতাদের আমিনের সাথে মিলে যায় তো আল্লাহ তাআলা তোমাদের পেছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন।
একটু শুনুন! আল্লাহ তাআলা বলেন আমি সালাত (সুরা ফাতিহা)-কে আমার ও বান্দার মাঝে ভাগ করে নিয়েছি। আর আমার বান্দা যা চায় তা পাবে। আগামীতে আপনি যখন নামাজের জন্য দাঁড়াবেন এবং সুরা ফাতিহা পড়বেন তো প্রত্যেক আয়াতে ওয়াকফ করবেন, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম করতেন। কারণ সে মহান সত্তা আপনার সামনে তাঁর বরকতময় চেহারা নিয়ে উপস্থিত এবং আপনার প্রত্যেক আয়াতে জবাব দিচ্ছেন। ব্যস এটা কল্পনা করুন। কতই না গর্বের বিষয় ওই মহান সত্তার ক্ষুদ্র গোলাম হওয়ার মধ্যে।
টিকাঃ
১৬. সুরা মুহাম্মাদ: ২৪।
১৭. সুরা হুদ: ২৬।
১৮. সুরা কাহফ: ১০৩-৪।
১৯. সুরা মারয়াম: ৭১-৭২।
২০. সুরা হাদিদ: ১২।