📄 কু-মন্ত্রনাদানকারী (শয়তান)-কে দূরে ভাগানো
আপনি যখন রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে দাঁড়ান, তখন এ বরকতপূর্ণ মুহূর্তে এবং এ বরকতপূর্ণ আমলে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো শয়তান। সুতরাং সে যথাসাধ্য চেষ্টায় লেগে যায়, যেন আপনার সর্বাধিক প্রিয় মাহবুবের সাক্ষাতের মুহূর্তে আপনার বিনিময় এবং সওয়াব ছিনিয়ে নিতে পারে। ফলে আপনার পূর্ণ নামাজের ১/৩ বা ১/৪ বা ১/১০ অংশই গ্রহণযোগ্য হয়। কেননা এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, আপনার নামাজের ওই পরিমাণই গ্রহণযোগ্য হয়, যা পূর্ণ মনোযোগ ও ইখলাসের সাথে আদায় করা হয়। (কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তি নিজের সাথে ৯০ বছরের নামাজ নিয়ে আসবে; কিন্তু সে এতে বিস্মিত হবে যে, তার আমল নামায় ৪, ৫ বা ৬ বছরের নামাজ লেখা হবে।)
এরূপ এজন্য হবে যে, শয়তান আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। আপনি কি চিন্তা করেননি, কত ধরনের নিত্যনতুন কল্পনা, অনুভূতি কীভাবে নামাজের মাঝে এসে পড়ে? যে বস্তু আপনি দীর্ঘকাল ধরে ভুলে গেছেন, হঠাৎ আপনার সামনে এসে উপস্থিত। এমনকি জায়নামাজের মনোরম দৃশ্য আপনার সামনে এক নতুন ঘটনার অবতারণা করে। আপনি কী করেন? তাকে মন থেকে তাড়িয়ে পুনরায় মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তা পুনরায় ফিরে আসে। আপনি পুনরায় চেষ্টা করেন, কিন্তু পুনরায় উক্ত কল্পনা মাছির ন্যায় ফিরে আসে। যা আপনাকে ছাড়তে চায় না।
এর সমাধান কী? আমরা তো খুবই দুর্বল। আমরা আপন মাহবুবের আশ্রয় কামনা করি বিতাড়িত শয়তান থেকে, যে আল্লাহ পাকেরই সৃষ্টি। তাঁর বরকতময় নাম নিয়ে, যে নামে সকল পেরেশানি থেকে মুক্তি মিলে। তাই আমরা নামাজের শুরুতেই অত্যন্ত বিশ্বাসের সাথে বলি- আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (أعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ.)
আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করছি। এটা বলার সাথে নিজের মধ্যে তার শক্তিও উপলব্ধি করি।
📄 নামাজের হাকিকত বা রূহ
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ অভ্যাস ছিল, যখন নামাজের সময় হতো তখন বলতেন, হে বেলাল! আমাকে শান্তি দাও। অন্য শব্দে (এভাবেও বলতেন) বেলাল! তুমি আজান দাও, তাহলে আমার বোঝা হালকা হবে এবং আমি শান্তি পাবো। কেননা যখনই বিপদ-আপদ আসতো তখনই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আর আল্লাহ তাআলাও বলেছেন, 'আর বিপদাপদে সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর তা অত্যন্ত কঠিন তবে যারা নম্রতা ও বিনয় অবলম্বন করে (তাদের জন্য নয়)।'
প্রত্যেক লোকের আরাম ও প্রশান্তি লাভের একটা মাধ্যম থাকে। কিছু লোক সংগীতের মাধ্যমে, কিছু লোক ইয়োগার মাধ্যমে, আবার কিছু লোক দুর্ভাগ্যবশত নেশার মাধ্যমে শান্তি লাভ করতে চায়। আর মুমিনের অন্তর নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে। আমরা সবধরনের প্রশান্তি লাভ করবো আপন মাহবুব রাব্বুল আলামিন থেকে।
এখন আমরা নিজেকে শয়তান থেকে মুক্ত করে নামাজে দাঁড়াব, যা সকল প্রশান্তির উৎস। সুরাতুল ফাতিহা' পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সুরা, যা ছাড়া নামাজ পরিপূর্ণ হয় না। এটা নামাজের এমন একটা অংশ, যার প্রত্যেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা জবাব দেন। তাহলে আমরা কীভাবে নামাজের এ অংশ উদাসীনতার সাথে আদায় করবো?
নামাজ শুরু করার পূর্বেই এ বিষয় অন্তরে বদ্ধমূল করে নেবো যে, কোন জিনিস আমাকে এখানে দাঁড় করিয়েছে? আর তা হলো, একমাত্র আল্লাহ তাআলার মহব্বত ও সাক্ষাতের আশা। আর যে ব্যক্তি আসল মাহবুবের সাথে সাক্ষাত করে, সর্বপ্রথম তার মুখ থেকে যে শব্দ উচ্চারিত হয়, তা হলো তার মাহবুবের সুমিষ্ট নাম। তবে এটাতো সাধারণ নাম নয়। এটা এমন একটি বরকতপূর্ণ নাম, যা তার চারপাশের সবকিছুকে বরকতময় করে দেয়। এই নাম যার উপরই পড়া হয়, তা হতে সবধরনের অনিষ্টতা, দুঃখ কষ্ট দূর করে দেয়। এ নামেই আমাদের শুরু এবং এ নামেই আমাদের সমাপ্তি। এ নাম দ্বারা আমরা ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তি লাভ করি।
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম (بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.)
পরম করুণাময় ও সীমাহীন দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
যখনই আপনার জবানে উক্ত শব্দগুলো উচ্চারিত হয় অন্তরে আনন্দের ঢেউ খেলতে থাকে।
হুওয়াল্লাহুল খালিকুল বারীউল মুসাওয়িরু লাহুল আসমাউল হুসনা ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া হুওয়াল আজিজুল হাকিম। (هُوَ الله الخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.)
সকল মাখলুকের তিনিই সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নামসমূহ তাঁরই। নভোমণ্ডলে ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
আপনি যখন কাউকে মহব্বত করেন তাতে কত মজা পান? অথচ আল্লাহ ছাড়া এর উপযুক্ত কেউ নন। আল্লাহ তাআলার সত্তা সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র।
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.)
সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি উভয় জাহানের রব।
উক্ত হামদ বর্ণনা করে আমরা তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরিপূর্ণ সত্তার স্বীকৃতি দেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আলহামদু লিল্লাহ ওজনের পাল্লাকে ভরে দেয়। তাই উক্ত কালিমা বলার সাথে সাথে আমাদের অন্তর কৃতজ্ঞতা দ্বারা ভরে যাওয়া উচিত। তিনি আমাদেরকে কত ধরনের নেয়ামত দান করেছেন। সর্বদা এ বিষয় মনে রাখবে, আমরা দুনিয়াতে যখনই কোনো কৃতজ্ঞতা আদায় করি, প্রকৃতপক্ষে সেটা মহান আল্লাহ তাআলারই কৃতজ্ঞতা হয়। তিনিই তো সকল কল্যাণের উৎস। আসুন বিষয়টি আরও গভীরভাবে দেখি যে, আমরা যখন বলি আলহামদু লিল্লাহ, তখন এ বিষয়ের উপরও কৃতজ্ঞতা আদায় করি যে, তিনি আমাদেরকে কৃতজ্ঞতা আদায়ের যোগ্যতা দান করেছেন। এ যোগ্যতাও তাঁর দান। মূলত আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের মাধ্যমে আপন বড়ত্ব ও মহত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। আমার রব কতই না মর্যাদাবান। নিজের সীমাবদ্ধতা এবং তাঁর প্রয়োজনীয়তা একটু উপলব্ধি করুন, তাহলে এমনিতেই তাঁর স্মরণ ও বড়ত্ব বর্ণনা করার মাঝে সীমাহীন প্রশান্তি লাভ হবে।
টিকাঃ
২. সুরা বাকারা: ৪৫।
৩. সুরাতুল হাশর: ২৪।
📄 আমাদের সামর্থের উর্ধ্বের এক সফর
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি উভয় জাহানের প্রতিপালক।
সুতরাং আলহামদু লিল্লাহ এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ সত্তার স্বীকৃতি দিয়েছি এবং তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুর উপরই কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। আমরা অনেকেই ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়ার পয়েন্ট এর স্লাইড অবশ্যই পেয়েছি, যাতে ছোট পাতার কোষকে ১০ গুণ বড় করে দেখানো হয়। এমনিতেই তো এ জগতে আমাদের এ ভূ-মণ্ডল ছাড়াও লক্ষ কোটি গ্রহ-নক্ষত্র এবং ছায়াপথ আপন স্রষ্টার মহত্বর মহত্ব প্রকাশ করে চলছে। চলুন এ ছোট পাতার বিষয় বাদ দিয়ে আপনি যখন আপন প্রভুর সম্মুখে দাঁড়ান, তখন আপন দেহের ভেতরে একটু চলে যান এবং অভ্যন্তরীণ সৃষ্টির প্রতি লক্ষ করুন; কী অপূর্ব নিপুণ সিস্টেম; যা উক্ত মূল্যবান বস্তুকে চালনা করে। (রক্ত পরিচালনা, প্রতিরোধ ক্ষমতা, রগ-রেশা, হরমোন, হৃদয়ের স্পন্দন, ফায়ারিং নিউরান, চামড়া, কলিজা, তিলি, গুরদা ইত্যাদি।)
আপনি একটু আপনার চারপাশে লক্ষ করুন, আমাদের এ প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের বিস্ময়কর বস্তুসমূহ, এ সাত সমুদ্র, পোকামাকড়ের জগত, এ অনুবীক্ষণ উপাদান ইত্যাদি। একটু আগে বেড়ে যে বস্তু আমাদেরকে ঘেরাও করে আছে এ সকল গ্রহ, আমাদের সূর্য, চাঁদ এবং ছায়াপথ। আরও অগ্রসর হয়ে অগণিত তারকারাজি, ছায়াপথসমূহ এবং ওই জগত, যা আজ পর্যন্ত কোনো চক্ষুই দেখতে পায় না? ফেরেশতা, জিন এবং ওই জগত, যেখানে আমরা পৌঁছতে পারি নাই।
মূলত এটাই শেষ নয় বরং আমাদের সীমিত জ্ঞান মাত্র। এখন এই অনুভূতি নিয়ে একটু পেছনে চলুন। ওখানে আসুন, যেখানে আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। আপনি কি এ জগতের তারকাসমূহ, গ্রহসমূহ এবং ছায়াপথের তুলনায় এক বিন্দু সমান হবেন? এ জগতের তুলনায় আপনার অস্তিত্ব উল্লেখযোগ্যই নয়। এগুলো তো আমাদের এ জগতের আলোচনা, কুরআন শরিফে এরূপ আরও ছয় জমিন ও আসমান এর বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহর সত্তা এ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান ও রক্ষণাবেক্ষনকারী। তিনি একক, অদ্বিতীয় এ সবকিছুর পরিচালক।
আপনি যখন তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হয়ে তাঁর সাথে কথা বলছেন, তাঁর প্রশংসা করছেন, এখন আপনার অনুভূতিটা কেমন? আপনার কেমন লাগছে, যখন তিনি আপনার প্রত্যেক আয়াতের জবাব দিচ্ছেন? এখনো কি আপনার এতটা দুঃসাহস হয় যে তাঁর আদেশ অমান্য করবেন? এ মহান সত্তার বিরুদ্ধাচরণ করে কোনো পাপ করার সাহস হয়? তাহলে তার এই সীমাহীন ভালোবাসার কী হবে? তিনি আমাদের কতটা মহব্বত করেন যে, তিনি আমাদেরকে দুনিয়ার কাগজে এক উল্লেখযোগ্য মর্যাদা দান করেছেন, আর তাও শুধু নামাজে খুশু-খুজুর শর্তে।
পরিশেষে তাঁরই তাওফিকে তাঁর আহ্বানে লাব্বাইক বলে নিজেকে তাঁর সামনে দাঁড় করিয়েছি। এটা আমাদের জন্য এমন এক সম্মান, যা কখনো ভোলা যায় না। তাহলে কেন তাঁর জন্য নিজের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যয় করবো না। আমরা কি এত বড় মর্যাদা হতে মুখ ফিরিয়ে তা হতে বঞ্চিত হতে পারি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মনিবের সম্মান বোঝানোর জন্য এক সুন্দর উদাহরণ বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ পাকের কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর তাঁর কুরসির বিপরীতে সপ্ত আকাশ এরূপ, যেমন বড় এক ময়দানে ছোট একটি আংটি। আর কুরসিটিও আরশের বিপরীতে এরূপই।
পরবর্তী সময় যখন নামাজে দাঁড়াবেন, তখন নিজেকে উপরোক্ত অবস্থানে রেখে দেখুন যে, রাব্বিল আলামিন এর প্রকৃত অর্থ তোমাদের বুঝে এসে যাবে।
📄 সুরা ফাতিহার রহস্যাবলী নিয়ে একটু ভাবুন
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ. পরম করুণাময়, সীমাহীন দয়ালু।
আপনি কি কখনো ভেবেছেন যে, উক্ত আয়াত مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ (কেয়ামত দিবসের মালিক) এ আয়াতের পূর্বে কেন আসল? আসুন চিন্তা করি। আপনি যদি কোনো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং তার তদন্ত চলে, অথচ আপনি নিরপরাধ। জজ সাহেব আপনাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। উক্ত জিজ্ঞাসা দুই ভাবে হতে পারে-
(১) সে আপনার প্রতি অনবরত প্রশ্নের বর্ষণ শুরু করে দেয়। (তুমি ঘটনাস্থলে কেন ছিলে? সেখানে কী করছিলে? সেখানে কখন গিয়েছিলে? তুমি কী দেখেছ? ইত্যাদি ইত্যাদি।) তো যখন এ কঠিন মুহূর্তে আপনি জ্ঞান হারাতে আরম্ভ করেছেন, শ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন বিচারক আপনাকে বলল, আমি তো জানি আপনি নিরপরাধ, কিন্তু অধিকতর জ্ঞান লাভ করতে চেয়েছি।
(২) অথবা বিচারক শুরুতেই বলে দিলো যে, আমি জানি আপনি নিরপরাধ তবে সব বিষয় আমাকে অবগত করলে অনেক ভালো হবে।
তারপর উক্ত প্রশ্নগুলো শুরু করে দিলো। এ দ্বিতীয় অবস্থায় আপনি বেশি শান্তি ও আরাম অনুভব করবেন। তাই মহান আল্লাহ তাআলা الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ আয়াতটি مَالِكِ يَوْমِ الدِّينِ-এর পূর্বে উল্লেখ করে আমাদেরকে এ বিষয় অবগত করছেন যে, উক্ত বিচারদিনে যে বিচারক বিচারকার্য পরিচালনা করবেন, তিনি الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু)। এই নাম দু'টি আমাদেরকে নামাজে ওই রকম শান্তি ও আরাম প্রদান করে, যেমনটা তখন অনুভব করি, যখন আমাদের বলা হয় এ ভয়াবহ দিনে আমাদেরকে যার সামনে দাঁড়াতে হবে, তিনি পরম করুণাময় অসীম দয়ালু। আমাদের উচিত সর্বদা তাঁর দয়ার উপযুক্ত হয়ে থাকা।
الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এর মাঝে এ কথার স্পষ্ট ঘোষণা রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলার সীমাহীন দয়া সবকিছুর উপর প্রবল। তাঁর দয়া তাঁর গোস্বার চেয়েও প্রবল। তাঁর রহমতের ছায়া প্রত্যেকের উপর সমান, মুমিন হোক বা কাফের, নেককার হোক বা বদকার। তিনি প্রত্যেককে খাওয়ান, পান করান, বস্ত্র পরিধান করান এবং রক্ষণাবেক্ষণ করেন। তিনি কাউকে দ্রুত পাকড়াও করেন না, বরং যথেষ্ট সুযোগ দেন যেন মানুষ জীবনের কোনো সময় ফিরে আসে।
সর্ব ক্ষেত্রেই আল্লাহ পাকের দয়া রয়েছে, চাই নেয়ামত দান করুক বা না করুক। তাদের থেকে যদি কোনো নেয়ামত ছিনিয়ে নেয়া হয়, এটাও আল্লাহ পাকের দান। কেননা আমরা আমাদের সীমিত জ্ঞানে বুঝি না এতে কী হেকমত রয়েছে। প্রকৃত পক্ষে এতেও আল্লাহ পাকের রহমত লুকায়িত রয়েছে।
أَلَا يَعْلَمُ مَنْ خَلَقَ وَهُৱَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ.
আচ্ছা! যিনি আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন তিনি কি বে-খবর? তিনি তো গোপন বিষয়ও জানেন এবং সব বিষয়ে অবগত।
আল্লাহ তাআলা আরও বলেন,
كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُৱَ كُرْهٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تَكْرَهُوا شَيْئًا وَهُৱَ خَيْرٌ لَكُمْ وَعَسَى أَنْ تُحِبُّوا شَيْئًا وَهُৱَ شَرٌّ لَكُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ وَأَنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ.
হে মুসলমান! আল্লাহ তোমাদের উপর লড়াই ফরজ করেছেন অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়। পক্ষান্তরে তোমাদের কাছে হয়ত কোনো একটা বিষয় পছন্দসই নয় অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর, আর হয়ত বা কোনো একটি বিষয় তোমাদের কাছে পছন্দনীয় অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। বস্তুত আল্লাহই জানেন যা তোমরা জান না।
যখন আমরা الرَّحْمٰنِ বলি তো এটা আল্লাহ পাকের সর্বোচ্চ দয়া যেমন আরবি ভাষায় ওজনের দিক থেকে غضبان غضب (রাগ) অথবা جوعان، جوع (ক্ষুধা) প্রথম ওজন দ্বিতীয়টির তুলনায় কঠিন রাগ বা কঠিন ক্ষুধা বুঝায়। সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর গুণাবলির দিক থেকে সবচেয়ে বেশি দয়ালু। মূলত আল্লাহ তাআলার নামসমূহ হতে الرَّحْمَنِ নামটি সবচেয়ে অধিক ব্যাপক অর্থ বহনকারী। একটু চিন্তা করুন, তিনি কী নাম নিয়ে নিজকে আরশে সমাসীন বলেছেন, الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى. তিনি পরম দয়াময়, আরশে সমাসীন হয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ব্যাপক নামকে নিজের সবচেয়ে বড় সৃষ্টি আরশের সাথে যুক্ত করেছেন।
আর এ নামটি শুধু তাঁরই জন্য নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা ছাড়া কারও নাম الرَّحْمَنُ হতে পারে না, الرَّحِيمِ নামটিও এরূপ। লোকেরা বরং আবদুর রহমান (রহমানের বান্দা) রাখতে পারে। উপরন্তু আপনারা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে 'আল্লাহ' নামটিও পাবেন না। এ উভয় নাম তাঁর জন্যই নির্ধারিত। এখন দেখুন الرَّحِيمِ এর কী অর্থ? তার অর্থ হলো যিনি আপন সৃষ্টির উপর দয়া করেন। আপনি আরও দেখবেন যে, আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে তাঁর এ গুণ ওই সময় ব্যবহার করেছেন যখন বিশেষ করে মুমিনদের প্রতি দয়া করার কথা বর্ণনা করেছেন। আর যখন আমাদের, আল্লাহ পাকের উদারতা এবং মানুষের চাহিদার সঠিক জ্ঞান লাভ হবে, তখন আমরা আল্লাহ তাআলাকে অন্য সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিতে সংকোচবোধ করবো না। আমাদের জন্য এতটুকু জানাই যথেষ্ট যে, আমাদের প্রতি আল্লাহ পাকের দয়া আমাদের মতো এর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি। الْحَمْدُ لله এখন আমাদের প্রতি তাঁর মর্যাদা, মহত্ব এবং বড়ত্ব পরিপূর্ণভাবে আকৃষ্ট হয়েছে। এখন আপনি নিজেই গভীর অন্তর থেকে الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ এর স্বাদ অনুভব করুন।
টিকাঃ
৪. সুরাতুল মুলক: ১৪।
৫. বাকারা: ২১৬।
৬. সুরা ত্বহা: ০৫।