📄 বাদশার অভ্যর্থনা এবং ঝামেলাকারীকে বের করে দেয়া
'আল্লাহু আকবার' বলে আপনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে নামাজে প্রবেশ করেছেন। আপনি আপনার দৃষ্টি সেজদার স্থানে নিবদ্ধ করছেন এবং নিজের হস্তদ্বয় অন্তরের কাছাকাছি বাঁধছেন এটা কেন? ভাবুন যে, আপনি শাহী মহলে চলছেন এবং আপনি এমন লোকদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করছেন, যারা আপনার থেকে কিছু দূরে দাঁড়ানো। তাদের কিছু লোকের দৃষ্টি আপনার প্রতি স্থির করে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন, আর কিছু লোক দৃষ্টি অবনত করে হাত বেঁধে দাঁড়িয়ে আছেন।
উক্ত অবস্থা দ্বারাই বোঝা যায় কে বাদশা এবং কে নওকর। বিষয়টি এমন নয় কি? সুতরাং আমাদের জন্য এটা উচিত নয় কি যে, আমরা যখন প্রকৃত মালিকের সামনে দাঁড়াই, তখন অত্যন্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে দাঁড়াই। আমরা যখন জানতে পারবো আমরা কার সামনে দাঁড়াচ্ছি, তখন বিনয় এমনিতেই সৃষ্টি হবে। তবে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহ তাআলার সম্মুখে আমাদের বিনয় মূলত আমাদের ইজ্জত। যেহেতু আমাদের এ অক্ষমতা অন্য লোকের সামনে অক্ষম হওয়া থেকে মুক্তি দেয়। যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে আল্লাহর সামনে বিনয় প্রকাশ করে আল্লাহ তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।
সে এক সেজদা যা তুমি মনে করো ভারি- হাজার সেজদা থেকে তোমাকে দেবে মুক্তি।
এখন নিয়মানুসারে আপন বাদশাকে সালাম পেশ করবে।
সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ওয়া বিহামদিকা, ওয়া তাবারাকাসমুকা, ওয়া তাআলা জাদ্দুকা, ওয়া লা ইলাহা গাইরুকা। (سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، وَتَبَارَكَ اسْمُكَ، وَتَعَالَى جَدُّكَ، وَلَا إِلَهَ غَيْرُكَ.)
হে আল্লাহ! তোমার সত্তা পবিত্র এবং সকল প্রশংসা তোমারই জন্য, তোমার নাম বরকতপূর্ণ, তোমার মর্যাদা সর্বোচ্চ, তুমি ছাড়া ইবাদতের উপযুক্ত আর কেউ নেই।
রাসুলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিখানো কতেক 'হামদ' হতে যেকোনো 'হামদ' দ্বারা সালাম পেশ করা যায়। বর্ণিত প্রতিটি 'হামদ' আমাদের মধ্যে নতুন চেতনা জাগ্রত করে। আমাদের প্রত্যেক নামাজে বিভিন্ন হামদ উক্ত বরকতপূর্ণ মুহূর্তে মনোযোগ স্থায়ী করার সহযোগী হয়।
📄 কু-মন্ত্রনাদানকারী (শয়তান)-কে দূরে ভাগানো
আপনি যখন রাব্বুল ইজ্জতের দরবারে দাঁড়ান, তখন এ বরকতপূর্ণ মুহূর্তে এবং এ বরকতপূর্ণ আমলে সবচেয়ে বড় শত্রু হলো শয়তান। সুতরাং সে যথাসাধ্য চেষ্টায় লেগে যায়, যেন আপনার সর্বাধিক প্রিয় মাহবুবের সাক্ষাতের মুহূর্তে আপনার বিনিময় এবং সওয়াব ছিনিয়ে নিতে পারে। ফলে আপনার পূর্ণ নামাজের ১/৩ বা ১/৪ বা ১/১০ অংশই গ্রহণযোগ্য হয়। কেননা এটা একটা কঠিন বাস্তবতা যে, আপনার নামাজের ওই পরিমাণই গ্রহণযোগ্য হয়, যা পূর্ণ মনোযোগ ও ইখলাসের সাথে আদায় করা হয়। (কিয়ামতের দিন এক ব্যক্তি নিজের সাথে ৯০ বছরের নামাজ নিয়ে আসবে; কিন্তু সে এতে বিস্মিত হবে যে, তার আমল নামায় ৪, ৫ বা ৬ বছরের নামাজ লেখা হবে।)
এরূপ এজন্য হবে যে, শয়তান আমাদেরকে ধোঁকা দিয়েছে। আপনি কি চিন্তা করেননি, কত ধরনের নিত্যনতুন কল্পনা, অনুভূতি কীভাবে নামাজের মাঝে এসে পড়ে? যে বস্তু আপনি দীর্ঘকাল ধরে ভুলে গেছেন, হঠাৎ আপনার সামনে এসে উপস্থিত। এমনকি জায়নামাজের মনোরম দৃশ্য আপনার সামনে এক নতুন ঘটনার অবতারণা করে। আপনি কী করেন? তাকে মন থেকে তাড়িয়ে পুনরায় মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু তা পুনরায় ফিরে আসে। আপনি পুনরায় চেষ্টা করেন, কিন্তু পুনরায় উক্ত কল্পনা মাছির ন্যায় ফিরে আসে। যা আপনাকে ছাড়তে চায় না।
এর সমাধান কী? আমরা তো খুবই দুর্বল। আমরা আপন মাহবুবের আশ্রয় কামনা করি বিতাড়িত শয়তান থেকে, যে আল্লাহ পাকেরই সৃষ্টি। তাঁর বরকতময় নাম নিয়ে, যে নামে সকল পেরেশানি থেকে মুক্তি মিলে। তাই আমরা নামাজের শুরুতেই অত্যন্ত বিশ্বাসের সাথে বলি- আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম (أعُوْذُ بِاللَّهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّحِيمِ.)
আমি আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় কামনা করছি। এটা বলার সাথে নিজের মধ্যে তার শক্তিও উপলব্ধি করি।
📄 নামাজের হাকিকত বা রূহ
রাসুলে কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ অভ্যাস ছিল, যখন নামাজের সময় হতো তখন বলতেন, হে বেলাল! আমাকে শান্তি দাও। অন্য শব্দে (এভাবেও বলতেন) বেলাল! তুমি আজান দাও, তাহলে আমার বোঝা হালকা হবে এবং আমি শান্তি পাবো। কেননা যখনই বিপদ-আপদ আসতো তখনই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। আর আল্লাহ তাআলাও বলেছেন, 'আর বিপদাপদে সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। আর তা অত্যন্ত কঠিন তবে যারা নম্রতা ও বিনয় অবলম্বন করে (তাদের জন্য নয়)।'
প্রত্যেক লোকের আরাম ও প্রশান্তি লাভের একটা মাধ্যম থাকে। কিছু লোক সংগীতের মাধ্যমে, কিছু লোক ইয়োগার মাধ্যমে, আবার কিছু লোক দুর্ভাগ্যবশত নেশার মাধ্যমে শান্তি লাভ করতে চায়। আর মুমিনের অন্তর নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করে। আমরা সবধরনের প্রশান্তি লাভ করবো আপন মাহবুব রাব্বুল আলামিন থেকে।
এখন আমরা নিজেকে শয়তান থেকে মুক্ত করে নামাজে দাঁড়াব, যা সকল প্রশান্তির উৎস। সুরাতুল ফাতিহা' পবিত্র কুরআনের অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি সুরা, যা ছাড়া নামাজ পরিপূর্ণ হয় না। এটা নামাজের এমন একটা অংশ, যার প্রত্যেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা জবাব দেন। তাহলে আমরা কীভাবে নামাজের এ অংশ উদাসীনতার সাথে আদায় করবো?
নামাজ শুরু করার পূর্বেই এ বিষয় অন্তরে বদ্ধমূল করে নেবো যে, কোন জিনিস আমাকে এখানে দাঁড় করিয়েছে? আর তা হলো, একমাত্র আল্লাহ তাআলার মহব্বত ও সাক্ষাতের আশা। আর যে ব্যক্তি আসল মাহবুবের সাথে সাক্ষাত করে, সর্বপ্রথম তার মুখ থেকে যে শব্দ উচ্চারিত হয়, তা হলো তার মাহবুবের সুমিষ্ট নাম। তবে এটাতো সাধারণ নাম নয়। এটা এমন একটি বরকতপূর্ণ নাম, যা তার চারপাশের সবকিছুকে বরকতময় করে দেয়। এই নাম যার উপরই পড়া হয়, তা হতে সবধরনের অনিষ্টতা, দুঃখ কষ্ট দূর করে দেয়। এ নামেই আমাদের শুরু এবং এ নামেই আমাদের সমাপ্তি। এ নাম দ্বারা আমরা ইহকাল ও পরকালের সুখ-শান্তি লাভ করি।
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম (بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ.)
পরম করুণাময় ও সীমাহীন দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
যখনই আপনার জবানে উক্ত শব্দগুলো উচ্চারিত হয় অন্তরে আনন্দের ঢেউ খেলতে থাকে।
হুওয়াল্লাহুল খালিকুল বারীউল মুসাওয়িরু লাহুল আসমাউল হুসনা ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিসসামাওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া হুওয়াল আজিজুল হাকিম। (هُوَ الله الخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ.)
সকল মাখলুকের তিনিই সৃষ্টিকর্তা, উদ্ভাবক, রূপদাতা, উত্তম নামসমূহ তাঁরই। নভোমণ্ডলে ও ভূ-মণ্ডলে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
আপনি যখন কাউকে মহব্বত করেন তাতে কত মজা পান? অথচ আল্লাহ ছাড়া এর উপযুক্ত কেউ নন। আল্লাহ তাআলার সত্তা সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্র।
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন (الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ.)
সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য যিনি উভয় জাহানের রব।
উক্ত হামদ বর্ণনা করে আমরা তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বী পরিপূর্ণ সত্তার স্বীকৃতি দেই। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন যে, আলহামদু লিল্লাহ ওজনের পাল্লাকে ভরে দেয়। তাই উক্ত কালিমা বলার সাথে সাথে আমাদের অন্তর কৃতজ্ঞতা দ্বারা ভরে যাওয়া উচিত। তিনি আমাদেরকে কত ধরনের নেয়ামত দান করেছেন। সর্বদা এ বিষয় মনে রাখবে, আমরা দুনিয়াতে যখনই কোনো কৃতজ্ঞতা আদায় করি, প্রকৃতপক্ষে সেটা মহান আল্লাহ তাআলারই কৃতজ্ঞতা হয়। তিনিই তো সকল কল্যাণের উৎস। আসুন বিষয়টি আরও গভীরভাবে দেখি যে, আমরা যখন বলি আলহামদু লিল্লাহ, তখন এ বিষয়ের উপরও কৃতজ্ঞতা আদায় করি যে, তিনি আমাদেরকে কৃতজ্ঞতা আদায়ের যোগ্যতা দান করেছেন। এ যোগ্যতাও তাঁর দান। মূলত আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত আমাদের মাধ্যমে আপন বড়ত্ব ও মহত্ব প্রতিষ্ঠা করছেন। আমার রব কতই না মর্যাদাবান। নিজের সীমাবদ্ধতা এবং তাঁর প্রয়োজনীয়তা একটু উপলব্ধি করুন, তাহলে এমনিতেই তাঁর স্মরণ ও বড়ত্ব বর্ণনা করার মাঝে সীমাহীন প্রশান্তি লাভ হবে।
টিকাঃ
২. সুরা বাকারা: ৪৫।
৩. সুরাতুল হাশর: ২৪।
📄 আমাদের সামর্থের উর্ধ্বের এক সফর
আলহামদু লিল্লাহি রাব্বিল আলামিন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি উভয় জাহানের প্রতিপালক।
সুতরাং আলহামদু লিল্লাহ এর মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তাআলার পরিপূর্ণ সত্তার স্বীকৃতি দিয়েছি এবং তিনি যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, সবকিছুর উপরই কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। আমরা অনেকেই ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়ার পয়েন্ট এর স্লাইড অবশ্যই পেয়েছি, যাতে ছোট পাতার কোষকে ১০ গুণ বড় করে দেখানো হয়। এমনিতেই তো এ জগতে আমাদের এ ভূ-মণ্ডল ছাড়াও লক্ষ কোটি গ্রহ-নক্ষত্র এবং ছায়াপথ আপন স্রষ্টার মহত্বর মহত্ব প্রকাশ করে চলছে। চলুন এ ছোট পাতার বিষয় বাদ দিয়ে আপনি যখন আপন প্রভুর সম্মুখে দাঁড়ান, তখন আপন দেহের ভেতরে একটু চলে যান এবং অভ্যন্তরীণ সৃষ্টির প্রতি লক্ষ করুন; কী অপূর্ব নিপুণ সিস্টেম; যা উক্ত মূল্যবান বস্তুকে চালনা করে। (রক্ত পরিচালনা, প্রতিরোধ ক্ষমতা, রগ-রেশা, হরমোন, হৃদয়ের স্পন্দন, ফায়ারিং নিউরান, চামড়া, কলিজা, তিলি, গুরদা ইত্যাদি।)
আপনি একটু আপনার চারপাশে লক্ষ করুন, আমাদের এ প্রাণী ও উদ্ভিদ জগতের বিস্ময়কর বস্তুসমূহ, এ সাত সমুদ্র, পোকামাকড়ের জগত, এ অনুবীক্ষণ উপাদান ইত্যাদি। একটু আগে বেড়ে যে বস্তু আমাদেরকে ঘেরাও করে আছে এ সকল গ্রহ, আমাদের সূর্য, চাঁদ এবং ছায়াপথ। আরও অগ্রসর হয়ে অগণিত তারকারাজি, ছায়াপথসমূহ এবং ওই জগত, যা আজ পর্যন্ত কোনো চক্ষুই দেখতে পায় না? ফেরেশতা, জিন এবং ওই জগত, যেখানে আমরা পৌঁছতে পারি নাই।
মূলত এটাই শেষ নয় বরং আমাদের সীমিত জ্ঞান মাত্র। এখন এই অনুভূতি নিয়ে একটু পেছনে চলুন। ওখানে আসুন, যেখানে আপনি দাঁড়িয়ে ছিলেন। আপনি কি এ জগতের তারকাসমূহ, গ্রহসমূহ এবং ছায়াপথের তুলনায় এক বিন্দু সমান হবেন? এ জগতের তুলনায় আপনার অস্তিত্ব উল্লেখযোগ্যই নয়। এগুলো তো আমাদের এ জগতের আলোচনা, কুরআন শরিফে এরূপ আরও ছয় জমিন ও আসমান এর বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহর সত্তা এ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান ও রক্ষণাবেক্ষনকারী। তিনি একক, অদ্বিতীয় এ সবকিছুর পরিচালক।
আপনি যখন তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হয়ে তাঁর সাথে কথা বলছেন, তাঁর প্রশংসা করছেন, এখন আপনার অনুভূতিটা কেমন? আপনার কেমন লাগছে, যখন তিনি আপনার প্রত্যেক আয়াতের জবাব দিচ্ছেন? এখনো কি আপনার এতটা দুঃসাহস হয় যে তাঁর আদেশ অমান্য করবেন? এ মহান সত্তার বিরুদ্ধাচরণ করে কোনো পাপ করার সাহস হয়? তাহলে তার এই সীমাহীন ভালোবাসার কী হবে? তিনি আমাদের কতটা মহব্বত করেন যে, তিনি আমাদেরকে দুনিয়ার কাগজে এক উল্লেখযোগ্য মর্যাদা দান করেছেন, আর তাও শুধু নামাজে খুশু-খুজুর শর্তে।
পরিশেষে তাঁরই তাওফিকে তাঁর আহ্বানে লাব্বাইক বলে নিজেকে তাঁর সামনে দাঁড় করিয়েছি। এটা আমাদের জন্য এমন এক সম্মান, যা কখনো ভোলা যায় না। তাহলে কেন তাঁর জন্য নিজের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যয় করবো না। আমরা কি এত বড় মর্যাদা হতে মুখ ফিরিয়ে তা হতে বঞ্চিত হতে পারি?
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মনিবের সম্মান বোঝানোর জন্য এক সুন্দর উদাহরণ বর্ণনা করেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ পাকের কুরসি আসমান ও জমিনকে পরিবেষ্টন করে আছেন। আর তাঁর কুরসির বিপরীতে সপ্ত আকাশ এরূপ, যেমন বড় এক ময়দানে ছোট একটি আংটি। আর কুরসিটিও আরশের বিপরীতে এরূপই।
পরবর্তী সময় যখন নামাজে দাঁড়াবেন, তখন নিজেকে উপরোক্ত অবস্থানে রেখে দেখুন যে, রাব্বিল আলামিন এর প্রকৃত অর্থ তোমাদের বুঝে এসে যাবে।