📄 ভূমিকা
এ পুস্তিকাখানি ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দ, রমজান মাসের ইমেইল স্টেট এর অংশ। যাতে মিশারি আল-খিরাজি এর প্রসিদ্ধ দরস 'সালাতের আসল স্বাদ কীভাবে অর্জন করবে' এর সার-সংক্ষেপ।
গ্রন্থকার আমাদেরকে সত্য রবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে এ রহস্যাবলী উপস্থাপন করেছেন যে, এ জীবনের মাধুর্যতা ও স্বাদ তাঁর স্মরণে রয়েছে এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনের মাধুর্যতা ও স্বাদ তাঁর দিদার বা দর্শনে রয়েছে। তাই সামনে যখন তুমি নামাজ পড়তে যাবে, তখন এ জন্য যাবে যে, তুমি তাঁকে (আল্লাহকে) মহব্বত করো। এ জন্য যাবে যে, তুমি তাঁকে স্মরণ করছো এবং তাঁর সাক্ষাত কামনা করছো। অন্তরে তার জন্য অস্থিরতা সৃষ্টি হওয়া চাই। তবেই তুমি নামাজের আবশ্যকীয় বস্তু ও অন্তরের প্রশান্তি লাভে সক্ষম হবে।
আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত যেন আমাদেরকে নামাজের সকল বরকত লাভ করার তাওফিক দান করেন এবং আমাদেরকে তাঁর অধিক প্রিয় বান্দাদের মধ্যে গণ্য করেন। হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনার মহব্বতের ধারক বানান। আমাদেরকে তাদের মহব্বত দান করুন যাদেরকে আপনি মহব্বত করেন এবং ওই আমলের মহব্বত যা আমাদেরকে আপনার মহব্বতের নিকটবর্তী করে দেয়। আমাদেরকে জাহান্নামের অগ্নি থেকে রক্ষা করুন। আমাদের পাপ মোচন করুন। আমাদেরকে এবং আমাদের সন্তান-সন্তুতিদেরকে জান্নাতে আপনার সর্বাধিক নিকটবর্তী করে দিন। আমিন!
📄 পূর্বসূরীদের ঘটনাবলীতে একটু চোখ ফেরান!
আপনি কি কখনো এ উপলব্ধি করেননি যে, নামাজের যে প্রতিক্রিয়া আপনার জীবনে হওয়া উচিত ছিল তা অর্জন করতে পারছেন না? আপনার বিবেকে কি এ কথা মেনে নিচ্ছে না যে, সম্ভবত এটা এজন্য হচ্ছে যে, নামাজের যে গুরুত্ব দেয়া উচিত ছিল তা আমি দিচ্ছি না? মনে হচ্ছে বিষয়টি আমাদের জানা নেই বা আমাদেরকে উক্ত বিষয় থেকে অজ্ঞ রাখা হয়েছে, যার দ্বারা আমরা নামাজের বরকতসমূহ লাভ করতে পারি।
১. একদা একজন মুসলমান রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নেতৃত্বে যুদ্ধ করার জন্য বের হলো। (উক্ত যুদ্ধ হতে ফেরার পথে রাত্রিবেলায় সৈন্যদল এক জায়গায় আরাম করবেন)। তাই পাহারাদারীর জন্য একজন আনসারি ও এক মুহাজির সাহাবিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিযুক্ত করলেন। উভয়ে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত করলেন, রাত্রির কিছু সময় একজন আরাম করবেন অপরজন পাহারাদারী করবেন। পরে দ্বিতীয়জন আরাম করবেন এবং অপরজন পাহারাদারী করবেন। তাই পরামর্শ মোতাবেক প্রথমে মুহাজির সাহাবি আরাম করার জন্য শুয়ে পড়লেন আর আনসারি সাহাবি যিনি পাহারা দিচ্ছেন, তিনি নামাজে দাঁড়িয়ে গেলেন। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে এক কাফের আনসারি সাহাবির সিনায় তীর নিক্ষেপ করল। তিনি তীর খুলে ফেলে দিলেন এবং নামাজ চালিয়ে গেলেন। কাফের দ্বিতীয়বার তীর ছুড়ল এবং এবারও তিনি তীর খুলে ফেললেন এবং নামাজ চালু রাখলেন। সেই কাফের তৃতীয়বারও তীর ছুড়ল, কিন্তু এবার তিনি তা সহ্য করতে পারলেন না। তাই তিনি রুকু-সেজদার মাঝেই জমিনে পড়ে গেলেন। তাঁর শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণ রক্ত ঝরছিল। যখন ওই মুহাজির তার সাহায্যের জন্য পৌঁছল, ততক্ষণে কাফির পালিয়ে গেল। মুহাজির সাহাবি বলল, সুবহানাল্লাহ! তুমি আমাকে প্রথমবার তীর লাগার সাথে সাথে কেন জাগালে না? আনসারি উত্তরে বললেন, আমি নামাজে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী সুরা তেলাওয়াত করছিলাম তাই তা মধ্যখানে ছাড়তে চাইনি।
২. একদা ইমাম বুখারিকে এক বিষাক্ত পোকায় নামাজে ১৭ বার দংশন করেছে (কিন্তু নামাজ ছাড়েননি)। যখন তিনি নামাজ থেকে ফারেগ হন, তখন ভীষণ কষ্ট অনুভব করেন। তাই তিনি জিজ্ঞাসা করেন তোমরা কেউ জানো কি, কিসে আমাকে কষ্ট দিল?
৩. কামান থেকে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রাযি.-এর উপর পাথর নিক্ষেপ করা হচ্ছিল এবং তাঁর খুব কাছেই নিক্ষিপ্ত হচ্ছিল, অথচ তখনও তিনি গভীর মনযোগের সাথে নামাজে মশগুল ছিলেন।
৪. বর্ণিত আছে হযরত আলি রাযি. যখন নামাজের জন্য ওজু করতেন, তখন আল্লাহর দরবারে উপস্থিত হতে হবে এ ভয়ে তাঁর শরীর নীলবর্ণের হয়ে যেত এবং তিনি কাঁপতে থাকতেন।
৫. এক সাহাবির অপারেশনের প্রয়োজন হলো, তখন তিনি অনুরোধ করেন এটা ওই সময় করবে, যখন আমি নামাজরত থাকি।
৬. একবার মসজিদের পূর্ণ দেয়াল ভেঙে গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে একজন সাহাবি নামাজ পড়ছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, উক্ত সাহাবি তা অনুভব করতে পারেননি। এমনকি তিনি নামাজ শেষ করলেন।
উল্লেখিত বুজুর্গগণ নামাজে কী পরিমাণ প্রশান্তি ও মজা লাভ করেছিলেন? এটা কি সম্ভব যে, আমরাও সে ধরনের মজা লাভ করতে পারবো? আমরা আপন নামাজে সেই ফল কীভাবে লাভ করবো? (বক্ষমাণ পুস্তিকায়) তাই শিখাতে চাচ্ছি।
📄 ইহতিসাব তথা হিসাব-নিকাশই চাবিকাঠি
নিজের মধ্যে কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়া আমাদের নামাজের হিসাব করা আবশ্যক। নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন যে আমরা ইবাদত কেন করছি? শুধু এ জন্য যে, আমাদের এরূপ করা উচিত? না এজন্য যে, এটা আমার দৈনন্দিন অভ্যাস? না এজন্য যে, অন্য লোকও এরূপ করে তাই আমিও করি।
পরিবর্তনের সময় এসেছে। খাঁটি মহব্বতের সাথে ইবাদত করতে হবে। এভাবে ইবাদত করুন যে, আপনি যাকে মহব্বত করেন, সেই মাহবুবের সান্নিধ্যে থাকার সুযোগ হচ্ছে। এমন প্রশান্তি ও আরাম লাভের নিমিত্তে ইবাদত করুন, যাতে আপনার ওই মুহূর্তটি হাসিল হয় যে, আপনি ওই সত্তার সান্নিধ্যে আছেন, যার প্রতি আপনার অগাধ ভালোবাসা রয়েছে। তাই আমাদেরকে পরিপূর্ণ ইখলাস, মহব্বত, মনোযোগ ও গুরুত্বের সাথে ইবাদত করতে হবে।
এমন ৩টি বিষয় রয়েছে, যার কারণে একে অপরকে মহব্বত করে।
১. এজন্য যে, সে সবচেয়ে বেশি সৌন্দর্যের অধিকারী।
২. অথবা এজন্য যে, সে তোমার সাথে সর্বদা স্নেহ ও দয়ার সম্পর্ক রাখে।
৩. অথবা এজন্য যে, কেউ তোমার প্রতি অনেক অনুগ্রহ করেছে।
এখন আল্লাহ পাকের ব্যাপারে চিন্তা করুন। তিনি সবকিছুর চেয়ে বড় ও শ্রেষ্ঠ কি-না? তিনি আমাদের সবচেয়ে বেশি মহব্বতের দাবিদার কি না? আল্লাহর ওপর সত্যিকার মহব্বতই আসল মহব্বত এবং এই মহব্বত দ্বারাই সত্যিকার ইমানের মজা লাভ হবে। নিজের চতুর্দিকে বিদ্যমান সৌন্দর্যমণ্ডিত সৃষ্টিকে দেখুন, চাই তা প্রকাশ্যে হোক বা অপ্রকাশ্যে হোক। এসব কিছুই আল্লাহ তাআলার সৌন্দর্যের এক ঝলক মাত্র। যদি প্রত্যেক মানুষকে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর মতো সুন্দর বানানো হতো এবং সৌন্দর্যকে দৃশ্যমান সকল সৌন্দর্যের সাথে মিলানো হতো যা আমাদের চতুর্দিকে বিদ্যমান, তবুও এসকল সৌন্দর্য আল্লাহ পাকের সৌন্দর্যের সামনে এমন মনে হতো, যেমন সূর্যের আলোর বিপরীতে মিটিমিটি করে প্রজ্জ্বলিত মোমবাতির আলো। আল্লাহ তাআলার সৌন্দর্যের কোনো তুলনা নেই, যা তাঁর মর্যাদাকে দ্বিগুণ করে দেয়। একটু ভাবুন! যখন তোমরা নামাজে তাঁর সামনে দণ্ডায়মান হও, তখন তিনি তাঁর সবচেয়ে সুন্দর মর্যাদাপূর্ণ (কুদরতি) চেহারা তোমাদের জন্য সামনে রাখেন।
আল্লাহ পাকের সৌন্দর্য আমরা এ ধ্বংসশীল চোখে দেখতে পারব না, যদি তিনি তাঁর সৌন্দর্য আমাদের ওপর প্রকাশ করেন, তবে যা কিছু বিদ্যমান আছে সব জ্বলে ছাই হয়ে যাবে। মুসা আলাইহিস সালাম এর ঘটনা নতুন করে স্মরণ করুন। যখন তিনি আল্লাহ তাআলাকে দেখার আবেদন করলেন। আল্লাহ তাআলা বললেন, 'তুমি আমাকে দেখতে পাবে না তবে এ পাহাড়ের দিকে দেখ যদি সেটা নিজের স্থানে স্থির থাকতে পারে তবে তুমি আমাকে দেখতে পাবে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা পাহাড়ের উপর আপন তাজাল্লি দান করলেন, যার ফলে পাহাড় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেল এবং মুসা আলাইহিস সালাম বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন।'
এটা তো মুসা আলাইহিস সালাম-এর অবস্থা, যা আল্লাহ পাকের তাজাল্লি প্রাপ্ত পাহাড় দেখে হয়েছিল। এখন চিন্তা করুন, যদি তিনি সরাসরি আল্লাহ তাআলাকে দেখতেন তবে তাঁর অবস্থা কী হতো! আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জতের দয়া ও করুণার বিষয় যতদূর রয়েছে আপনি আপন চক্ষুদ্বয় কিছুক্ষণ বন্ধ করে দেখুন যে, এটা আল্লাহ তাআলার কত বড় নেয়ামত। আমরা যদি তাঁর নেয়ামতসমূহ গণনা করতে শুরু করি তবে তা গণনা করে শেষ করতে পারব না। আমরা যখন কোনো নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়েছি, তখন কতটা অসন্তুষ্ট হয়েছি। আমরা ওই সময় স্বভাবজাত তাড়াহুড়াবশত এতে আল্লাহ পাকের গোপন রহস্য বুঝতে পারিনি যে, হতে পারে এতেই রয়েছে আমাদের জন্য কল্যাণ। পরে আমাদের বুঝে এসেছে যে, এতে কী পরিমাণ কল্যাণ নিহিত ছিল। যেহেতু আল্লাহ পাক হচ্ছেন পরিপূর্ণ কল্যাণময় ও দয়াশীল।
একটু চিন্তা করুন, যখন আমরা উক্ত মালিক এর বিরুদ্ধাচরণ করে পাপ করি, আমরা তাঁর দেয়া নেয়ামত ভোগ করে গুনাহের কাজ করি, তারপরও তিনি আমাদেরকে নেয়ামত দান করেন এবং হেফাজত করেন। বাস্তবিকপক্ষে আপনার জন্য তাঁর চেয়ে অধিক দয়ালু আর কেউ নেই। তাঁর চেয়ে অধিক দানশীল আপনার জন্য আর কেউ নেই। সুতরাং আপনার জন্য তাঁর চেয়ে অধিক মহব্বতের হকদার আর কেউ হতে পারে না। তাঁকে স্মরণ করুন, এ জীবনের স্বাদ তাঁকে স্মরণ করার মাঝেই রয়েছে। পরবর্তী জীবনের মজা তাঁর দিদারে রয়েছে। পরবর্তীতে যখন নামাজে যাবেন এজন্য যাবেন যে, আপনি তাঁকে মহব্বত করেন। এজন্য যাবেন যে, তাঁর স্মরণ আপনার হয়েছে এবং আপনি তাঁর সাথে সময় কাটাতে চাচ্ছেন। এসব ভেবে আপনার অন্তরে যখন আনন্দের ঢেউ খেলবে, তবেই আপনি নামাজের স্বাদ ও প্রশান্তি লাভ করবেন। যা নামাজের আসল উদ্দেশ্য।
টিকাঃ
১. সুরাতুল আরাফ-১৪৩।
📄 আল্লাহু আকবার বলার রহস্য
যখন আল্লাহু আকবার বলেন তখন কী হয়? তবে এটা জানার পূর্বে আমরা কি কখনো চিন্তা করেছি যে, নামাজের শুরু কেন আল্লাহু আকবার দ্বারা করা হয়? কেন সুবহানাল্লাহ বলি না?
'আল্লাহু আকবার' এমন একটি বাক্য, যা দ্বারা আমরা এ কথার স্বীকৃতি দিই যে, ওই সত্তা যাঁর সামনে আমরা দণ্ডায়মান আছি, তিনি আমার নিকট দুনিয়া এবং তন্মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর চেয়ে উচ্চতর ও শ্রেষ্ঠ। তিনি আমাদের চাকরি, কাজ-কারবার, আমাদের নিদ্রা, আমাদের সম্পদ, আমাদের বংশ, আমাদের সন্তান, আমাদের সকল সমস্যা ও সকল প্রয়োজনের চেয়ে বড়।
আমরা কেন হাত উত্তোলন করি? এজন্য যে, আমরা সবকিছু পেছনে ফেলেছি। আমরা এ জন্য আমাদের হাত উঠাই যে, আল্লাহ পাকের কাছে নিজেকে পরিপূর্ণ সোপর্দ করা প্রকাশ পায়।
বান্দা যখন নামাজে দাঁড়ায় তখন আল্লাহ তাআলা হুকুম দেন, আমার ও বান্দার মাঝে সকল পর্দা সরিয়ে দাও। তাই বান্দা যখন 'আল্লাহু আকবার' বলে তখন আল্লাহ তাআলা তাঁর বরকতপূর্ণ ও মহান দয়ার চেহারা তাঁর সম্মুখে করে দেন এবং তিনি আপনার থেকে ওই পর্যন্ত চেহারাকে ফিরান না, যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি নিজে না ফেরান। আর এ ফিরিয়ে নেয়া ওই সময় হয়, যখন আপনি আপনার দৃষ্টি এবং অন্তর দুনিয়াবি বিষয়াদির দিকে আকৃষ্ট করেন। আর আপনি যখন পাল্টে যান, তখন আপনাকে আওয়াজ দেয়া হয়, তুমি কেন পাল্টে গেছ, এমন কী আছে যা আমার চেয়েও শ্রেষ্ঠ? তখন হুকুম করেন যে, পুনরায় পর্দা ঢেলে দাও।
আপনি যখন 'আল্লাহু আকবার' এর ঘোষণা করেন, তখন এ কল্পনা করুন যে, আপনি ক্যামেরার সম্মুখে আছেন এবং 'On the air' এর লাল বুতাম টিপ দেয়া হয়েছে। আপনি এমন সত্তার সামনে দণ্ডায়মান আছেন, যিনি সকল সৃষ্টিকুলের ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। যিনি সবকিছুর উপর এখতিয়ার রাখেন, সবকিছু তাঁর ক্ষমতার অধীনে। এখন আপনার অবস্থা কেমন হবে? আপনার মনের অস্থিরতা একটু অনুভব করুন!
'আল্লাহু আকবার' বলে যখনই আমরা সামনে অগ্রসর হই, আমাদের অঙ্গসমূহের দ্বারা সংগঠিত পাপসমূহ উপরে উঠতে থাকে এমনকি তা আমাদের মাথা এবং কাঁধ বরাবর পৌঁছে যায়। অতঃপর প্রত্যেক রুকু ও সিজদাতে উক্ত পাপসমূহকে আমরা নিজেরাই দূরে নিক্ষেপ করতে থাকি। (রবের সামনে দীর্ঘ সময় অবস্থান করার বাহানা হিসেবে আমরা এ বিষয়গুলো নির্ধারণ করি।)
'আল্লাহু আকবার' বলার সাথে পূর্বের সামান্য জায়েজ বস্তুও এখন আমাদের জন্য নিষেধ হয়ে যায়। যেমন- খানা-পিনা, কথা-বার্তা বা অপ্রয়োজনীয় নড়াচড়া ইত্যাদি। এমন কী হয়ে গেল? পূর্বের অবস্থা আর এখনকার মধ্যে কী ভিন্নতা? এমনিতেই তো এ সকল কাজ এ ধরনের পবিত্র সাক্ষাতে উপযুক্ত না। আপনি আপনার মালিকের ডাকে সাড়া দিয়ে হাত বেঁধে দাঁড়িয়েছেন। এখন আপনি এক বিরাট মর্যাদায় উপবিষ্ট। একটু লক্ষ করুন, এখনো কি আপনি অমনোযোগী থাকবেন? এজন্যই আমরা 'আল্লাহু আকবার' এ মহান শব্দ বারবার বলি। প্রত্যেক উঠা বসাতে বলি। এটা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এটা মনোযোগ দেয়ার জায়গা।