📄 গুডবাই তারুণ্য! গুডবাই যৌবন!!
বয়সের ভারে আমি আজ ন্যুজ। আমার আগেও অনেকে এ ধাপ পেরিয়ে এসেছে। আর বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবাইকেই একদিন এ ধাপটি অতিক্রম করতে হবে। আমি আজ চল্লিশের কোটা পার হয়ে পঞ্চাশের পথে পা রেখেছি। যৌবনকে গুডবাই জানাতে যাচ্ছি, সে-ও আমাকে গুডবাই জানিয়ে বিদায় নিতে চায়। নতুন কোনো স্বপ্ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর নেই।
আমি অনেক দেশ ও শহর ভ্রমণ করেছি, বহু জাতির সাহচর্য লাভ করেছি এবং জীবন ও জগৎ সম্পর্কে অনেক ধারণা অর্জন করেছি। তাই আমার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি একেবারে টইটম্বুর না হলেও একেবারে তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। তাই আজ জীবনের গোধূলি লগনে যুবতি, তরুণী, ষোড়শী কিংবা অষ্টাদশীদের কিছু বলতে ইচ্ছে করছে। আমার এ কথাগুলো সঠিক ও সুস্পষ্ট। এগুলো আমার বয়স ও অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি। হয়তো অন্য কেউ এভাবে কথাগুলো বলবে না।
আমি অনেক লিখেছি, মিম্বারে, সভা-সমাবেশে ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দাঁড়িয়ে অনেক ভাষণ দিয়েছি, অনেক নসিহত পেশ করেছি। উত্তম চরিত্র অর্জনের আহ্বান জানিয়েছি, অশ্লীলতা বর্জন ও সকল প্রকার অন্যায় কাজ বর্জনের ডাক দিয়েছি। নারীদের ঘরে ফিরতে ও কুরআনের সুপ্রসিদ্ধ বিধান পর্দার আবরণে আবৃত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি, তাদের সৌন্দর্যের স্থানগুলো ঢেকে রাখতে বলেছি। এসব লিখতে লিখতে কলম এখন দুর্বল হতে চলেছে, কথা বলার সময় এখন মুখে তা আটকে যাচ্ছে। জীবন আমাকে গুডবাই জানাচ্ছে।
এতো কিছু করার পরও আমি মনে করি না যে, আমরা কোনো অশ্লীল কাজ সমাজ থেকে দূর করতে পেরেছি; বরং বেলেল্লাপনার লোমশ ছোবলে যেন আমরা খেই হারিয়ে ফেলেছি। বেহায়াপনা দিন দিন বেড়েই চলছে, পাপাচারিতা দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং অশ্লীলতা দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় কোনো ইসলামি দেশই এর আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। মিসর, সিরিয়া, আরব তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সীমা পার হয়ে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ সমগ্র এশিয়ায় এর আক্রমণ বেড়েই চলেছে। মহিলারা বের হচ্ছে পর্দাহীন হয়ে, সৌন্দর্যের স্থানগুলো প্রকাশ করে, মুখমণ্ডল, বক্ষদেশ এবং কেশ উন্মুক্ত করে। তাই কেন যেন আমার মনের গহীনে এই ধারণা জন্মেছে যে, নসিহত করে আমরা সফল হতে পারিনি।
কেন আমরা সফল হইনি? হ্যাঁ, আমি এ বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। একাগ্রচিত্তে ভাবনার ভেলায় চড়ে আমি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছি যে, সম্ভবত আমরা এখনও গ্রহণযোগ্য পন্থায় নসিহত করতে পারিনি এবং সংশোধনের দরজায় করাঘাত করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আল্লাহ, নবী, জান্নাত, জাহান্নামের কথা বলে বোনদেরকে আল্লাহর ভয় দেখিয়েছি; কিন্তু কাজ হয়নি। এমনকি অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কি কিছু হলো? হয়নি।
এ বিষয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে, বহু বক্তৃতা দেয়া হয়েছে, তা-ও ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমি ক্লান্ত শরীরে পরাজিত সৈনিকের মতো ময়দান ছেড়ে বিদায় নিতে চাচ্ছি। গুডবাই জানাচ্ছি সুন্দর বসুন্ধরাকে।
তবে হ্যাঁ, অন্তিম বাক্য হিসেবেই কিছু কথা বলতে চাই। তাহলো, আমি বিদায় নিয়ে দীনি বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ও সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব সকল মুসলিম নারীর হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি। আজ হতে আমার রেখে যাওয়ার মিশনের হাল শক্ত হাতে ধরার দায়িত্ব তাদের হাতে অর্পণ করছি। বিপথগামী বোনদেরকে উদ্ধার ও সংশোধনের বিষয়টি তাদের ওপরই রেখে দিয়ে আমি তোমাদের গুডবাই জানাচ্ছি। আমি সফলতার রঙিন পতাকা পত পত করে উড়ার প্রতীক্ষায় চেয়ে রইলাম।
গবেষকগণ বলেছেন- পুরুষ যখন কোনো যুবতির দিকে দৃষ্টি দেয় তখন সে তাকে বস্ত্রহীন অবস্থায় কল্পনা করে। আল্লাহর শপথ! এছাড়া সে অন্য কিছু চিন্তা করে না। তোমাকে যদি কেউ বলে, সে তোমার উত্তম চরিত্রে মুগ্ধ, তোমার আচার-ব্যবহারে আকৃষ্ট এবং সে কেবল তোমার সঙ্গে সাধারণ একজন বন্ধুর মতোই আচরণ করে এবং সে হিসেবেই তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়; তাহলে তুমি তা বিশ্বাস করো না। তার মনভুলানো কথায় পটে যেও না।
যুবকেরা যুবতিদের আড়ালে যেসব কথা বলে তা যদি শোনা হতো তাহলে এক ভীষণ ভীতিকর বিষয় জানা যেত। কোনো যুবক যুবতিদের সঙ্গে যে কথাই বলুক, যতই হাসুক, যত নরম কণ্ঠেই কথা বলুক ও যত কোমল শব্দই ব্যবহার করুক, সেটি তার আসল চেহারা নয়; বরং সেটি তার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ভূমিকা ও ফাঁদ ছাড়া অন্য কিছু নয়। সুকৌশলে সে যুবতিদের সামনে তা গোপন রাখার অভিনয় করে মাত্র।
কোনো যুবক যদি যুবতিকে তার ষড়যন্ত্রের জালে আটকাতে পারে তাহলে কী হবে? কী হবে তার অবস্থা? কোনো নারী যদি এমন কোনো দুষ্ট পুরুষের কবলে পড়ে যায়, তখন সে হয়তো সেই পুরুষের সঙ্গে মিলে কয়েক মিনিট কল্পিত স্বাদ উপভোগ করবে। তারপর কী হবে? পরক্ষণেই সে তাকে ভুলে যাবে। সে তাকে দ্বিতীয়বার পাওয়ার আশা পোষণ করবে। হয়তো কয়েকবারের জন্য তাকে পেলে পেতেও পারে; তবে স্বামী হিসেবে তার সঙ্গে চিরদিন বসবাস করার জন্য এবং স্বীয় যৌবন পার করার জন্য নয়। সেই যুবক অচিরেই তাকে ভুলে যাবে। এটিই সত্য। কিন্তু সেই মেয়েটি চিরদিন সেই স্বল্প সময় উপভোগের জ্বালা ভোগ করতে থাকবে, যা কখনো শেষ হবে না।
এবার এ কথার সাথেই আরেকটি ভয়ানক কথা পৌঁছে দিতে চাই। তাহলো, এ-ও হতে পারে, সেই যুবক আহ্লাদি মেয়েটির গর্ভে এমন কলঙ্ক রেখে যাবে, যা থেকে কখনই সে পরিত্রাণ পাবে না। চিরদিন তার কপালে হতাশার ছাপ থাকবে, চেহারায় পড়বে দুশ্চিন্তার ছাপ। আর সেই যুবক! সে তাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটি শিকার খুঁজতে থাকবে এবং নতুন নতুন প্রেমিকার সতীত্ব ও সম্ভ্রম হরণের মিশনে নামবে।
একটি যুবক এভাবে অগণিত নারীকে নষ্ট করলেও আমাদের জালেম সমাজ তাকে একদিন ক্ষমা করে দিবে। সমাজ বলবে- একটি যুবক পথহারা ছিল, সে সুপথে ফিরে এসেছে। এই অজুহাতে সে হয়তো সমাজের কাছে গৃহীত হবে এবং সকলেই তাকে গ্রহণ করে নেবে। আর সেই যুবতি! সে অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়ে চিরদিন পড়ে থাকবে। জালেম সমাজ কখনোই তাকে ক্ষমা করবে না। গুডবাই তারুণ্য! গুডবাই যৌবন!!
সমাপ্ত