📄 দু’ প্রমিলার করুণ গল্প
আজ প্রেম খেলায় মত্ত দু'প্রমিলার করুণ গল্প শোনাব। প্রথম গল্পটি এমন-
ভার্সিটিতে পড়ুয়া এক ছাত্র ও ছাত্রীর মাঝে পড়াশোনার ফাঁকে পরিচয় ঘটে। নানা কথাবার্তা ও খবরাখবর আদান প্রদানের মাধ্যমে একে অপরকে ভালো লাগতে শুরু হয়। তারপর মন নেয়া-দেয়াসহ দৈহিক সম্পর্ক ঘটে। শুরু হয় একে অন্যের বাসায় অবাধে যাতায়াত। এভাবে চূড়ান্ত ভালোবাসার পর্যায়ে পড়ে। একে অপরের প্রতি গড়ে তোলে অগাধ আস্থার প্রাচীর। তারা মনে মনে ভাবতে থাকে যে, তারা ঘর বাঁধবে, সংসার করবে।
ঠিক এই সময়। ঐ ছাত্রীটির রূপের আগুনে পুড়তে শুরু করে এক প্রভাষক। শুরু হয় ছাত্রী-শিক্ষকের সম্পর্ক। পরে সখা-সখী। তারপর বিয়ের তারিখ পর্যন্ত ঠিক হয়। কিন্তু আগের প্রেমিক ছাত্র! তাকে তো কিছু বলা দরকার। এই ভেবে ছাত্রীটি প্রেমিক ছাত্রকে 'মানবিক কারণেই প্রভাষকের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে' জানাতে তার রুমে যায়।
বেশ কয়েকদিন পর প্রেমিক-প্রেমিকার দেখা! তাই শুরু হয় این সেই আলাপ। এক ফাঁকে ছাত্রীটি বলে ফেলে যে, আমি খুবই দুঃখিত যে, অমুক স্যারের সাথে আমার বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। বিষয়টি তোমাকে জানার জন্য না এসে পারলাম না। সেই বিয়েতে তোমার উপস্থিতি কামনা করছি।
ছেলেটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। তার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। ছেলেটি কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। সে তাকে জানায় যে, আরে! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ নাকি! তুমি আমাকে বিয়ের দাওয়াত দিতে এসেছ! অথচ এদিকে আমি তোমাকে বিয়ের জন্য প্রায় সব ঠিকঠাক করে ফেলেছি।
জবাবে ছাত্রীটি বলে, দেখ! তুমি আমার ক্লাস ফ্রেন্ড। আর উনি হলেন সরকারি কলেজের প্রভাষক। এটি আমার জন্য একটা বড় পাওয়া।
ছাত্রটি বলে, তাহলে কি আমাদের এতদিনের প্রেম-ভালেবাসার কোনোই মূল্য নেই?
প্রত্যুত্তরে ছাত্রীটি বলে, এরকম প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা ছেলে মেয়েদের মধ্যে হয়েই থাকে।
ছাত্রটির মাথায় রক্ত ওঠে যায়। সে বলে, তাই বলে কি আমার সুখের ঘর তছনছ করে তুই অন্যের ঘর বাঁধতে বাধতে চাস? এই বলেই সে তার উপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে।
পরক্ষণেই খুনের দায়ে ভীত হয়ে পড়ে ছেলেটি। সে কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। অবশেষে মেঝের প্লাস্টার তুলে গর্ত খনন করে গর্তে ছাত্রীটির লাশ রেখে দেয়। ব্যাপারটি একদম গোপন হয়ে যায়।
এদিকে মেয়েটির খোঁজ না পেয়ে তার অভিভাবকরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
এদিকে ছেলেটির হাতে একটা ঘা হয়। চিকিৎসার জন্য সে একজন খ্যাতিমান মহিলা ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, আঘাতটি কোনো মহিলার দাঁতের কামড়। ডাক্তার ছিলেন ঐ ছাত্রীরই বোন। তিনি তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে জেরা শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ছাত্রটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয় প্রমিলার গল্পটি শুনুন এবার-
এক প্রগতিশীল যুবতি বেশ কয়েকজন যুবকের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সাথে চলে তার দৈহিক সম্পর্ক। যুবতি যুবকদের বলে যে, এভাবে মধুর ভালেবাসা করে আর কতদিন চালানো যাবে? তার পরিবর্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেই ভালো হয় না?
যুবতির এই প্রস্তাবে কেউই রাজি হলো না। পরিশেষে যুবতি এক যুবককে বিয়ের জন্য টার্গেট করে। কিন্তু সেও তাকে বিয়ে করতে অনীহা প্রকাশ করে। অগত্যা যুবতি কোর্টের আশ্রয় নেয়। গভর্নমেন্ট উকিল যথারীতি জেরার মাধ্যমে যুবককে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন।
এ সময় যুবতিটি বলে, মহামান্য আদালত! একজন নারীর মান-সম্মান আছে। অহেতুক একজন ছেলের সাথে নিজ দৈহিক সম্পর্কের কথা কোনোক্রমেই বলতে পারে না। নিজেকে কলঙ্কিত করতে পারে না। এদিক থেকে বিবেচনা করে যুবককে দোষী সাব্যস্ত পূর্বক রায় প্রদানের জন্য বিজ্ঞ বিচারকের শুভ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এবার যুবক মাননীয় বিচারকের কাছে কিছু বলার আবেদন করায় বিচারক তাকে বলার অনুমতি দান করেন।
যুবকটি বলে, স্যার! ঐ মেয়েটি বেশ কয়েকজন ছেলের সাথে প্রেমে জড়িত। তাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি নয়। সে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের মামলা দিয়ে আমার সঙ্গে বিয়ে বসার চক্রান্ত করেছে। আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন কেউ এ বিয়েতে রাজি নয়। আমি কিভাবে এ বিয়ে করতে পারি?
এবারে ছেলের পক্ষের উকিল বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক বলেন যে, মাননীয় বিজ্ঞ বিচারক! আমি যুবতিটিকে দু'-একটি প্রশ্ন করার জন্য আপনার সদয় অনুমতি প্রার্থনা করছি।
জবাবে আদালত উকিলকে যুবতিটিকে জেরা করার অনুমতি প্রদান করেন।
যুবকের উকিল বিচারকের অনুমতি পেয়ে যুবতিকে বলেন-
: আচ্ছা মা, লেখাপড়ার ফাঁকে অবসর সময়ে কিছু কর?
: হ্যাঁ করি।
: কী কর?
: সেলাইয়ের কাজ করি।
: তাহলে আমার কাছে একটু আস তো।
যুবতি এগিয়ে এলে উকিল সাহেব তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, দেখ, এই আমার হাতে সুচটা আছে। এই সুতোটি সুচের মধ্যে একটু ঢুকিয়ে দাও তো দেখি।
যুবতি সুঁইয়ের ছিদ্রে সুতো দিবে- এমন সময়ে উকিল সামান্য একটু সুচটি নড়ান। এ রকম কয়েকবার করার পর যুবতি সুতোটিকে মুখের লালা নিয়ে একটু পাকিয়ে সুচটিতে ঢুকানোর চেষ্টা করল। যেই মাত্র সুতার মাথাটি সুঁইয়ের ছিদ্রের কাছে আনল অমনি উকিল সাহেব সুচটি সামান্য একটু নড়ান শুরু করেন। এভাবে যুবতি কয়েকবার এ রকম করার পরও ব্যর্থ হয়ে উকিল সাহেবকে বলে ওঠে, 'আপনি এটি নাড়ালে কি সুচটা দেয়া সম্ভব!' তৎক্ষণাৎ উকিল সাহেব গলা ঝেড়ে বলে ওঠেন, মহামান্য আদালত! সামান্য নাড়ানাড়ির কারণে যদি সুচটিতে সুতো দেয়া না যায়, তাহলে যুবতি যদি নড়াচড়া বা চিৎকার করত তাহলে কি এ যুবক তাকে ধর্ষণ করেত পারত?
📄 যৌনচুল্লি আর বিদ্যুৎ
যৌন বিজ্ঞানীগণের চিন্তাধারার মাধ্যমে ব্যভিচারের ক্ষেত্রে নারীর ভূমিকা অগ্রগণ্য। চুম্বকের আকর্ষণে বিদ্যুতের সংযোগ সাধন হয়। এ বিদ্যুতের তারে মানুষ সংস্পর্ষিক হয়ে যেন মৃত্যুবরণ না করে এজন্য তারগুলোকে বিদ্যুৎ অপরিবাহী রাবার দ্বারা ঢেকে দেয়া হয়। তাছাড়া তারগুলোকে নাগালের বাইরে রাখা হয়। বিদ্যুতের তার স্পর্শ করা ছাড়া কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীকে আকর্ষিত হতে দেখা যায় না। অথচ নারী-পুরুষের আকর্ষণ দূর থেকে হতে দেখা যায়।
পবিত্র কুরআনে যেনা ব্যভিচারের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় নারীকে বেশি উৎসাহী বলা হয়েছে। অর্থাৎ, নারীরা যদি যেনায় আগ্রহী না হয়, তাহলে পুরুষের পক্ষে তাকে ভোগ করাটা সহজসাধ্য হয় না। কুরআন মাজিদে এ কারণে যেনার শাস্তি আলোচনা করতে গিয়ে পুরুষের তুলনায় নারীর কথা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِئَةَ جَلْدَةٍ .
ব্যভিচারী নারী ও পুরুষ উভয়কে একশত বেত্রাঘাতে দণ্ডিত কর।
এ কারণেই যেনা ব্যভিচার হতে বেঁচে থাকতে কুরআন মাজিদে বারবার তাগিদ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে-
لا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, নিঃসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। [বনি ইসরাইল: ৩২]
যৌন বিজ্ঞানীগণ নারীর সমস্ত অঙ্গকেই যৌন চুল্লি হিসেবে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন যে, নারী হলো চুম্বকধর্মী আর পুরুষ হলো বিদ্যুৎধর্মী। এদিক থেকে চুম্বকধর্মী নারী কর্তৃক পুরুষ হয় দারুণ আকর্ষিত। এ আকর্ষণজনিত কারণেই ইভটিজিং, অবাধ যৌন মিলন ও ধর্ষণ নামক অপরাধটি অহরহ ঘটছে।
যৌন আকর্ষণের জেনারেটর হলো চোখ। এজন্য মহান আল্লাহ চোখকে সংরক্ষণের জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন। বাস্তবতার আলোকে সর্বজন স্বীকৃত যে, অন্ধ পুরুষ অথবা মহিলা ব্যভিচার নামক অপরাধটির ধারে কাছেও যেতে পারে না। এমনকি ইভটিজিং সম্বন্ধেও ওদের কোনো ধারণা নেই।
📄 তোমায় খুঁজছে রাজপথ
হে যুবক! জেগে ওঠ! আর ঘুমিয়ে থেক না। তুমি চোখ মেলে কি কিছু দেখছ না? আজ পৃথিবীর প্রতিটি দেশে প্রতিনিয়ত আগুন জ্বলছে।
হে যুবক! সময় এসেছে তোমার জেগে ওঠার।
তুমি সময় নষ্ট কর না। দিন শেষ অপেক্ষার।
তুমি জেগে ওঠবে এটাই আজ মুসলমানের কামনা।
তুমি আজ না জাগলে মুসলমান দিবে তোমায় ভর্ৎসনা।
হে যুবক! তাকিয়ে দেখ দুনিয়ার দিকে। চেয়ে দেখ মুসলমান আজ ধুকে বুকে কেঁদে মরছে। এর একটাই কারণ। তাহলো, মুসলমানের ঐক্য গেছে ভেঙ্গে।
তুমি ওঠ! ইসলামের ঐক্য আবার গড়ে দাও।
হে যুবক! তুমি এসো। তোমায় খুঁজছে রাজপথ।
তুমি ভুলে যাও ইসলাম ছাড়া ভিন্ন মত।
তুমি ওমরের মতো সাহসী কণ্ঠে আওয়াজ তোল।
বীর খালিদের মতো এগিয়ে যাও দীপ্ত পদক্ষেপে।
হে যুবক! তারুণ্যের উদ্যম শক্তি তোমার বাহুতে। দুরন্ত সাহসিকতায় আত্মবিশ্বাসী তুমি। তবুও তোমায় বলছি-
দুনিয়ার চাকচিক্য তোমাকে মোহগ্রস্থ করে তুলেছে! ক্ষণিকের আলোকচ্ছটা তোমার দৃষ্টিকে আচ্ছাদিত করে ফেলেছে! ক্ষণস্থায়ী ভোগবিলাস তোমার মস্তিষ্ককে বক্র করে দিয়েছে! সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য করে তোমার সামনে প্রতিনিয়ত উপস্থাপন করা হচ্ছে!
কিন্তু তুমি কি ভুলে গেছ- ভুলে গেছ কি মৃত্যু নামের এক অদৃশ্য বস্তু তোমাকে সর্বদা তাড়া করে ফিরছে!
যার ধরাছোঁয়া থেকে তোমার পূর্বপুরুষদের কেউ পালাতে সক্ষম হয়নি। তুমিও পালাতে পারবে না। তাইতো বলছি, এখনো সময় আছে। “ভয় কর তাকে। যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন সুন্দরতম গঠনে।” (সূরা আততীন : ৪] জীবনটা অতি সামান্য। এই পার্থিব সুখের পেছনে তুমি যতই দৌড়াবে ততই তোমাকে হতাশাগ্রস্থ করে তুলবে। তার চেয়ে ফিরে এসো। হাতে তুলে নাও তোমার রবের দেয়া জীবনবিধান। আল কুরআন ও রাসূলের আদর্শে গড়ে তোল জীবনটাকে।
তুমি কি ভুলে গেছ জাহান্নামের আগুনকে? যেখানে তুমি নিক্ষিপ্ত হবে! কৃষ্ণবর্ণের অগ্নিকুণ্ড তোমার চামড়াকে দগ্ধ করে দেবে! মৃত্যুকে তুমি হাজার বার ডাকবে তবুও মৃত্যু হবে না! আবার বেঁচেও থাকবে না! খেতে দেয়া হবে পুঁজ এবং কাঁটাযুক্ত খাদ্য! যা তুমি গিলতেও পারবে না আবার ফেলতেও পারবে না।
তবুও কি তোমার হুঁশ ফিরবে না? তোমার ভাবনার তরি কি তীরে ভিড়বে না? তুমি বিদ্যা অর্জন কর সমস্যা নেই। তুমি সমাজ উন্নয়নে কাজ কর, সমস্যা নেই। কিন্তু এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা তোমায় আপন সৃষ্টিকর্তাকে ভুলিয়ে দেয়!
হে বন্ধু! তোমার রব তোমাকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। তাইতো তুমি তোমার পালনকর্তার অভিমুখী হও এবং তার আজ্ঞাবহ হও। তোমার জন্য রয়েছে জান্নাত। যার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয় ঝর্ণাধারা। এসো নবীন! এসো হে মুসলিম যুবক! এসো নওজোয়ান! দীনের পথে মোদের সাথে। বন্ধু! হও আগোয়ান।
হে যুবক! তুমি সাবধান হও!! কারণ মৃত্যুর পরই আসবে এক কঠিন সত্য। তাহলো, হাশর। সেখানে যার আমলনামা বাম হাতে দেয়া হবে সে বলবে, হায়! আমার আমলনামা যদি আমাকে আদৌ দেয়াই না হতো এবং আমার হিসেব যদি আমি আদৌ না জানতাম! তাহলে কতই না ভালো হতো! হায়! আমার মৃত্যুই যদি আমার শেষ হতো। আজ আমার অর্থ-সম্পদও কোনো কাজেই আসল না। আমার সকল ক্ষমতা ও প্রতিপত্তি বরবাদ হয়ে গেল। [সূরা আল হাক্কাহ: ২৫-২৯)
এবার ঠাণ্ডা মাথায় ভেবে দেখ, কী হওয়া উচিত তোমার জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য! আরো ভাবো যে, তোমার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন নাজাতের লক্ষ্যে কী প্রয়োজন- এই দুনিয়ার প্রতিপত্তি, নাকি আখেরাতের মুক্তি?
📄 গুডবাই তারুণ্য! গুডবাই যৌবন!!
বয়সের ভারে আমি আজ ন্যুজ। আমার আগেও অনেকে এ ধাপ পেরিয়ে এসেছে। আর বয়সের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া সবাইকেই একদিন এ ধাপটি অতিক্রম করতে হবে। আমি আজ চল্লিশের কোটা পার হয়ে পঞ্চাশের পথে পা রেখেছি। যৌবনকে গুডবাই জানাতে যাচ্ছি, সে-ও আমাকে গুডবাই জানিয়ে বিদায় নিতে চায়। নতুন কোনো স্বপ্ন এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা আর নেই।
আমি অনেক দেশ ও শহর ভ্রমণ করেছি, বহু জাতির সাহচর্য লাভ করেছি এবং জীবন ও জগৎ সম্পর্কে অনেক ধারণা অর্জন করেছি। তাই আমার অভিজ্ঞতার ঝুড়ি একেবারে টইটম্বুর না হলেও একেবারে তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। তাই আজ জীবনের গোধূলি লগনে যুবতি, তরুণী, ষোড়শী কিংবা অষ্টাদশীদের কিছু বলতে ইচ্ছে করছে। আমার এ কথাগুলো সঠিক ও সুস্পষ্ট। এগুলো আমার বয়স ও অভিজ্ঞতার আলোকেই বলছি। হয়তো অন্য কেউ এভাবে কথাগুলো বলবে না।
আমি অনেক লিখেছি, মিম্বারে, সভা-সমাবেশে ও প্রশিক্ষণ কর্মশালায় দাঁড়িয়ে অনেক ভাষণ দিয়েছি, অনেক নসিহত পেশ করেছি। উত্তম চরিত্র অর্জনের আহ্বান জানিয়েছি, অশ্লীলতা বর্জন ও সকল প্রকার অন্যায় কাজ বর্জনের ডাক দিয়েছি। নারীদের ঘরে ফিরতে ও কুরআনের সুপ্রসিদ্ধ বিধান পর্দার আবরণে আবৃত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছি, তাদের সৌন্দর্যের স্থানগুলো ঢেকে রাখতে বলেছি। এসব লিখতে লিখতে কলম এখন দুর্বল হতে চলেছে, কথা বলার সময় এখন মুখে তা আটকে যাচ্ছে। জীবন আমাকে গুডবাই জানাচ্ছে।
এতো কিছু করার পরও আমি মনে করি না যে, আমরা কোনো অশ্লীল কাজ সমাজ থেকে দূর করতে পেরেছি; বরং বেলেল্লাপনার লোমশ ছোবলে যেন আমরা খেই হারিয়ে ফেলেছি। বেহায়াপনা দিন দিন বেড়েই চলছে, পাপাচারিতা দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে এবং অশ্লীলতা দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। আমার মনে হয় কোনো ইসলামি দেশই এর আক্রমণ থেকে মুক্ত নয়। মিসর, সিরিয়া, আরব তথা সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের সীমা পার হয়ে পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশসহ সমগ্র এশিয়ায় এর আক্রমণ বেড়েই চলেছে। মহিলারা বের হচ্ছে পর্দাহীন হয়ে, সৌন্দর্যের স্থানগুলো প্রকাশ করে, মুখমণ্ডল, বক্ষদেশ এবং কেশ উন্মুক্ত করে। তাই কেন যেন আমার মনের গহীনে এই ধারণা জন্মেছে যে, নসিহত করে আমরা সফল হতে পারিনি।
কেন আমরা সফল হইনি? হ্যাঁ, আমি এ বিষয়টি নিয়ে ভেবেছি। একাগ্রচিত্তে ভাবনার ভেলায় চড়ে আমি উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছি যে, সম্ভবত আমরা এখনও গ্রহণযোগ্য পন্থায় নসিহত করতে পারিনি এবং সংশোধনের দরজায় করাঘাত করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমরা আল্লাহ, নবী, জান্নাত, জাহান্নামের কথা বলে বোনদেরকে আল্লাহর ভয় দেখিয়েছি; কিন্তু কাজ হয়নি। এমনকি অবৈধ সম্পর্ক ও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার কারণে ভয়াবহ রোগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছি। কিন্তু কাজের কাজ কি কিছু হলো? হয়নি।
এ বিষয়ে অনেক বই লেখা হয়েছে, বহু বক্তৃতা দেয়া হয়েছে, তা-ও ব্যর্থ হয়েছে। এখন আমি ক্লান্ত শরীরে পরাজিত সৈনিকের মতো ময়দান ছেড়ে বিদায় নিতে চাচ্ছি। গুডবাই জানাচ্ছি সুন্দর বসুন্ধরাকে।
তবে হ্যাঁ, অন্তিম বাক্য হিসেবেই কিছু কথা বলতে চাই। তাহলো, আমি বিদায় নিয়ে দীনি বোনদের ইজ্জত-সম্ভ্রম ও সতীত্ব রক্ষার দায়িত্ব সকল মুসলিম নারীর হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি। আজ হতে আমার রেখে যাওয়ার মিশনের হাল শক্ত হাতে ধরার দায়িত্ব তাদের হাতে অর্পণ করছি। বিপথগামী বোনদেরকে উদ্ধার ও সংশোধনের বিষয়টি তাদের ওপরই রেখে দিয়ে আমি তোমাদের গুডবাই জানাচ্ছি। আমি সফলতার রঙিন পতাকা পত পত করে উড়ার প্রতীক্ষায় চেয়ে রইলাম।
গবেষকগণ বলেছেন- পুরুষ যখন কোনো যুবতির দিকে দৃষ্টি দেয় তখন সে তাকে বস্ত্রহীন অবস্থায় কল্পনা করে। আল্লাহর শপথ! এছাড়া সে অন্য কিছু চিন্তা করে না। তোমাকে যদি কেউ বলে, সে তোমার উত্তম চরিত্রে মুগ্ধ, তোমার আচার-ব্যবহারে আকৃষ্ট এবং সে কেবল তোমার সঙ্গে সাধারণ একজন বন্ধুর মতোই আচরণ করে এবং সে হিসেবেই তোমার সঙ্গে কথা বলতে চায়; তাহলে তুমি তা বিশ্বাস করো না। তার মনভুলানো কথায় পটে যেও না।
যুবকেরা যুবতিদের আড়ালে যেসব কথা বলে তা যদি শোনা হতো তাহলে এক ভীষণ ভীতিকর বিষয় জানা যেত। কোনো যুবক যুবতিদের সঙ্গে যে কথাই বলুক, যতই হাসুক, যত নরম কণ্ঠেই কথা বলুক ও যত কোমল শব্দই ব্যবহার করুক, সেটি তার আসল চেহারা নয়; বরং সেটি তার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের ভূমিকা ও ফাঁদ ছাড়া অন্য কিছু নয়। সুকৌশলে সে যুবতিদের সামনে তা গোপন রাখার অভিনয় করে মাত্র।
কোনো যুবক যদি যুবতিকে তার ষড়যন্ত্রের জালে আটকাতে পারে তাহলে কী হবে? কী হবে তার অবস্থা? কোনো নারী যদি এমন কোনো দুষ্ট পুরুষের কবলে পড়ে যায়, তখন সে হয়তো সেই পুরুষের সঙ্গে মিলে কয়েক মিনিট কল্পিত স্বাদ উপভোগ করবে। তারপর কী হবে? পরক্ষণেই সে তাকে ভুলে যাবে। সে তাকে দ্বিতীয়বার পাওয়ার আশা পোষণ করবে। হয়তো কয়েকবারের জন্য তাকে পেলে পেতেও পারে; তবে স্বামী হিসেবে তার সঙ্গে চিরদিন বসবাস করার জন্য এবং স্বীয় যৌবন পার করার জন্য নয়। সেই যুবক অচিরেই তাকে ভুলে যাবে। এটিই সত্য। কিন্তু সেই মেয়েটি চিরদিন সেই স্বল্প সময় উপভোগের জ্বালা ভোগ করতে থাকবে, যা কখনো শেষ হবে না।
এবার এ কথার সাথেই আরেকটি ভয়ানক কথা পৌঁছে দিতে চাই। তাহলো, এ-ও হতে পারে, সেই যুবক আহ্লাদি মেয়েটির গর্ভে এমন কলঙ্ক রেখে যাবে, যা থেকে কখনই সে পরিত্রাণ পাবে না। চিরদিন তার কপালে হতাশার ছাপ থাকবে, চেহারায় পড়বে দুশ্চিন্তার ছাপ। আর সেই যুবক! সে তাকে ছেড়ে দিয়ে আরেকটি শিকার খুঁজতে থাকবে এবং নতুন নতুন প্রেমিকার সতীত্ব ও সম্ভ্রম হরণের মিশনে নামবে।
একটি যুবক এভাবে অগণিত নারীকে নষ্ট করলেও আমাদের জালেম সমাজ তাকে একদিন ক্ষমা করে দিবে। সমাজ বলবে- একটি যুবক পথহারা ছিল, সে সুপথে ফিরে এসেছে। এই অজুহাতে সে হয়তো সমাজের কাছে গৃহীত হবে এবং সকলেই তাকে গ্রহণ করে নেবে। আর সেই যুবতি! সে অপমানিত, লাঞ্ছিত হয়ে চিরদিন পড়ে থাকবে। জালেম সমাজ কখনোই তাকে ক্ষমা করবে না। গুডবাই তারুণ্য! গুডবাই যৌবন!!
সমাপ্ত