📄 যৌনরোগের ঔষধ কী
যৌন রোগের ভয়াবহতার কথা বহুবার বলেছি। এর থেকে বেঁচে থাকার জন্য বহু টিপসও বলেছি। কিন্তু সত্যিকারার্থে যৌন রোগের ঔষধ কী? হ্যাঁ সেটিই বলছি। ঔষধ হচ্ছে আল্লাহর বিধান ও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসা। আল্লাহ কোনো কিছু হারাম করলে এর স্থলে অন্য একটা কিছু হালাল করে দেন। যেমন- আল্লাহ সুদ হারাম করেছেন; এর স্থলে ব্যবসায়ে কে করেছেন হালাল। যেনা হারাম করেছেন; বিপরীতে বিবাহকে করেছেন হালাল। সুতরাং এ রোগের প্রকৃত ঔষধ হলো বিয়ে করা।
বিয়েই একমাত্র সংশোধনের পথ। আমি ইসলামি সংস্থাগুলোর কাছে সুপারিশ করছি, তারা যেন এমন একটি আলাদা বিভাগ চালু করে যেখান থেকে যুবকদের বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করা হবে। যেখান থেকে বিয়ে তাদের জন্য সহজ করে দেয়া হবে। উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিবে। গরিব হলে ঋণ দিবে। এ প্রস্তাবনা অনেক বিস্তারিত। কেউ এটি বাস্তবায়ন করতে চাইলে আমি আরও ব্যাখ্যা করে দিব।
যৌনতার বিবরণ বাস্তবতার চেয়ে বেশি মনে প্রভাব ফেলে। যদি গান, গল্প, চিত্রশিল্প না থাকত, না থাকত নারীদের রমণীয় করে উপস্থাপন ও ভালোবাসার রঙ-বেরঙের বর্ণনা! তাহলে যারা যুবক আছে তারা শারীরিক সম্পর্কের তীব্রতা এখন যা অনুভব করছ এর দশ ভাগের এক ভাগও অনুভব করতে না। শারীরিক সম্পর্কটা আসলে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ের মতোই। কিন্তু কাজটা অনেকটা নোংরা ধরনের। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কের মধ্যে নেশা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; যা মানুষকে অস্থির, অন্ধ ও বধির করে তোলে। ফলে মানুষ এতে নোংরা কিছু খুঁজে পায় না। এ নেশাটাই হলো কামনা, প্রবৃত্তি ও যৌন চাহিদা।
কেউ যদি মাথার ঘিলু খাটিয়ে ভাবে কিন্তু হাড়ের ঘিলু দিয়ে না ভাবে, তাহলে বিষয়টি তার কাছে আমি যা বলেছি তা-ই মনে হবে। এই সুড়সুড়ি প্রদায়ক বস্তুগুলো তখনই কাজ করে এবং তিক্ত ফল দেয় যখন খারাপ সঙ্গী মিলে। যে অশ্লীল পথ দেখায়। পৌঁছে দেয় অশ্লীলতার দুয়ারে। অশ্লীলতা
যেন পূর্ণ প্রস্তুত একটি গাড়ি। এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধবরা স্টার্টের কাজ করে। গাড়ি যত শক্তিশালী আর প্রস্তুত হোক না কেন স্টার্ট ছাড়া কোনো কাজ করে না।
যদি বিয়ে করা সম্ভব না হয়, যদি অশ্লীলতা অপছন্দ হয় তাহলে আত্মউন্নয়ন ছাড়া উপায় নেই। আমি এ বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের পরিভাষা দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছি না। এজন্য একটি উদাহরণ দিই-
আগুনে উথলানো কেটলি অনেকেই দেখে থাকবে। যদি এর মুখ মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হয় আর নিচে জ্বাল দেয়া হয়, তাহলে এতে বিস্ফোরণ ঘটবে। আর যদি নিচে ছিদ্র করে দেয়া হয় তাহলে পানি পড়ে যাবে। কেটলি পুড়ে যাবে। পক্ষান্তরে একটু গভীরভাবে তাকালে দেখা যাবে যে, এই বাষ্পেরই সঠিক ব্যবহার করে করে কল-কারখানা চলে, ট্রেন চলে, আরও অনেক বিস্ময়কর কাজ হয়।
প্রথম প্রকারের উপমা হলো, যে কামনাকে জোরপূর্বক দমিয়ে রাখে আবার কামনা নিয়ে ভাবনায় বিভোর থাকে। আর দ্বিতীয় প্রকারের উপমা হলো, যে কামনা পূরণে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করে চাহিদা পূরণের জন্য নিষিদ্ধ জায়গায় গমন করে। তৃতীয় প্রকারের উপমা হলো, আত্মউন্নয়নকারী।
আত্মউন্নয়ন হলো নিজেকে আত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রফুল্ল রাখা। যার মাধ্যমে পুঞ্জীভূত এ শক্তি নিঃশেষ হবে। খোদামুখিতা, ইবাদত-বন্দেগী ও কর্মব্যস্ততা এ আবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগাবে। মনে যা কল্পনা আসে তা গজল, গল্প ও কবিতায় তুলে ধরলে অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হবে। দৈহিক পরিশ্রম খেলাধুলাও এক্ষেত্রে অনেক কার্যকর।
মানুষ নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। নিজের ওপর কাউকে বেশি প্রাধান্য দেয় না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশস্ত কাঁধ, সুদৃঢ় বুক আর পেশীবহুল হাত দেখলে যে কোনো নারীদেহের চোখে তা ভালো লাগবে। এর জন্য এত সুন্দর দেহ, পেশী ও শক্তি বলি দেবে না। কালো কিংবা নীল চোখের জন্য হাড্ডিসার কঙ্কালে পরিণত হতে চাইবে না। তাই বিবাহই এ রোগের একমাত্র ওষুধ। এটাই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা। বিয়ে সম্ভব না হলে আত্মউন্নয়ন। এটা সাময়িক সমাধান। কিন্তু বেশ শক্তিশালী ও উপকারী। এতে ক্ষতির লেשমাত্রও নেই। নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
📄 রাজকন্যা হলো চোরের বউ
হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানবী রহ. লিখেছেন- এক খোদাভক্ত বাদশাহ ছিলেন। তার ছিল এক পরমা সুন্দরী কন্যা। কন্যার বয়স হয়েছে। বিয়ে দেবেন। কিন্তু একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান পাত্র খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
এক রাতে বাদশাহ ও তার স্ত্রী মেয়ের বিয়ে সম্পর্কে আলাপ করছিলেন যে, যদি কোনো অবিবাহিত যুবক একাধারে চল্লিশ শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদের প্রথম সারিতে একেবারে ডানের কোণে সকলের আগে নামাজ পড়ার জন্য যায় এবং যদি তাকে সহীহ-শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়, তাহলে তার কাছেই মেয়েকে বিয়ে দিবেন।
ঘটনারক্রমে ঐ রাতে এক যুবক চোর বাদশাহর ঘরে সিঁদ কাটার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। সে বাদশাহ ও তার স্ত্রীর কথাগুলো শুনতে পায়। কথাগুলো শুনতেই তার চোখের তারাগুলো আনন্দে নাচতে থাকে। তখনই তার মাথায় বুদ্ধি আসে যে, চুরি করে আর কতটুকু লাভবান হওয়া যাবে; তার চেয়ে প্রথম সারিতে সর্বডানে চল্লিশ জুমার নামাজ আদায় করে বাদশাহর মেয়েকে বিয়ে করতে পারলেই সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ ও অনাবিল আনন্দের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করা যাবে। অতঃপর স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে যুবক চল্লিশ জুমা অনুরূপভাবে নামাজ আদায় করতে থাকে।
দিন যত গড়াতে থাকে যুবকের মনেও আল্লাহ তায়ালার মহব্বত তত প্রগাঢ় হতে থাকে। সে ইবাদতের এতই মজা পেয়ে যায় যে, এখন আর তার মাথায় রাজার মেয়ে বিয়ে করার বিষয় মোটেই উঁকি দেয় না। এভাবেই চলতে থাকে তার চল্লিশ জুমার নামাজ।
ব্যাপারটি বাদশাহর নজরে আসে।
এক পর্যায়ে বাদশাহ মুসল্লি যুবককে ডেকে পাঠান। যথারীতি ছেলেটি বাদশাহর দরবারে আগমন করে।
এবার বাদশাহ বলেন, বাবা! আমার একটি মেয়ে সাবালিকা হয়েছে। তার বিয়ের জন্য আমরা তোমাকে পাত্র হিসেবে পছন্দ করেছি। এখন তোমার মতামত বল।
জবাবে ছেলেটি বলে, বাদশাহ নামদার! আমি এ কয়দিনে যার ইবাদত করেছি, তা বাদশাহর মেয়েকে বিয়ে করার চেয়ে অনেক বড় রকমের
পাওয়া। আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করে, এ নেয়ামতের অবমাননা করতে রাজি নই। আমাকে মাফ করবেন।
যুবকের এই আল্লাহপ্রেম দেখে তো রাজার চোখ আরো ছানাবড়া। যে করেই হোক মেয়েকে যে এই পাত্রের কাছে বিয়ে দিতেই হবে! কিন্তু শত চেষ্টা করেও যুবককে যে এ বিয়েতে রাজি করানো যাচ্ছে না। ফলে বাদশাহ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি সেই যুগের শ্রেষ্ঠ আলেমকে খোঁজ দিলেন। তিনি এলে তাকে দিয়ে যুবকের কানে বিয়ের শরয়ি ফজিলতের কথা শোনাতে থাকেন। এমনকি বিয়ে যে নবীজীর সুন্নাত এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত- এ বিষয়টি তার মাথায় পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকেন। তিনি কুরআন মাজিদের এই ঘোষণা ব্যাখ্যা করে শোনাতে থাকেন যে-
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [সূরা নূর: ৩২]
অবশেষে ইবাদতের অংশ মনে করে ঐ যুবক বাদশাহর মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়।
📄 পরকীয়া নরকীয়া
এক ভদ্র বিবাহিত যুবক ঘটনাক্রমে এক সুন্দরী যুবতির প্রেমের ফাঁদে পড়ে। বেচারির স্বামী প্রবাসী। একমাত্র সন্তানের বয়স চার বছর। টগবগে যৌবন তার উছল উছল করে। কিন্তু স্বামীবিহীন কামনার ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ে বালির সাথে মিলিয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষক যুবকের দেহ জুড়ে তারুণ্য ঠিক পড়ছে। সে বিবাহ করেছে বছর দুয়েক আগে। এই বিবাহিত যুবক-যুবতির মাঝে গড়ে ওঠে মন দেয়া-নেয়া। তাদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে গড়ায় যে, একে অন্যকে ছাড়া চলে না। মেয়েটি বিবাহিত যুবকটিকে বলে, আচ্ছা! এভাবে লুকোচুরি করে আর কতদিন চলবে? আমি যে তোমাকে ছাড়া একদণ্ড থাকতে পারি না। আমি তোমার সাথে সুখের ঘর বাঁধতে চাই।
জবাবে যুবক বলল, তাহলে দিন-তারিখ ঠিক করে বিয়ে সম্পন্ন করে ফেললেই তো হয়।
যুবকের আগ্রহ দেখে যুবতি তার পূর্বেকার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার প্রস্তাব দেয়।
যুবকও তার কথায় সায় দেয়। কিন্তু সে পড়ে এক অন্যরকম বিপাকে। কারণ স্ত্রীকে তো আর এমনিতেই তালাক দেয়া যায় না। তার কোনো না কোনো দোষের অজুহাতেই তো তাকে তালাক দিতে হবে। কিন্তু সে স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার মতো কোনো দোষ খুঁজে পায় না। একজন সচ্চরিত্রা স্ত্রীকে তালাক দিতে তার বিবেকে চরমভাবে বাঁধে।
এবার মহিলা বলে, যদি তুমি নিজে তালাক দিতে না চাও; তাহলে মেয়েটির প্রতি নানা ধরনের দোষ চাপাতে থাক। মেজাজ খারাপ করাসহ তাকে গালিগালাজ করতে থাক। তাহলে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে নিজে নিজেই চলে যাবে।
যুবতির এই ফন্দি যুবকের মনে ধরে। সে প্রেমিকার কথা আমলে নেয়। প্রতিদিনের মতো আজো বাড়ি এসে ভাত খেতে বসে। কিন্তু তার মাথায় যে শয়তানি ভর করেছে! তার কাঁধে যে সওয়ার হয়েছে পরকীয়ার ভূত! সে খেতে বসেই বলতে থাকে, কী রেঁধেছ? ভাত ফুটেনি। তরকারি সিদ্ধ হয়নি। লবণ বেশি হয়েছে। ঝাল হয়নি। তরকারির রং না হলে খাওয়া যায়? আজকের ভাতে পোড়া গন্ধ লাগছে। ডালটা টক কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। বাড়িতে এলে বিছানাপত্র অগোছালো দেখি কেন? আঙিনাটা পরিষ্কার দেখতে পাই না কেন। প্যান্ট কিভাবে পরিষ্কার করেছ? দাগটা ওঠেনি কেন? যুবক যত ত্রুটির কথাই বলে, স্ত্রী সমস্ত কথায় ডান কান দিয়ে শুনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়।
একদিনের ঘটনা। যুবক বাহির থেকে এসে কোনো দোষই খুঁজে পাচ্ছে না। দেখে আঙিনায় একটা কুকুর শুয়ে আছে।
স্ত্রীকে বলে, তোমাকে নিয়ে সংসার করা বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে। কুকুরটা আঙিনায় শুয়ে আছে। তাকে একটা বালিশ পর্যন্ত দাওনি। আমার বাড়িতে কি বালিশের অভাব?
জবাবে আল্লাহভীরু স্ত্রী তার স্বামীকে বলে যে, হে আমার স্বামী। আপনার কী হয়েছে? আপনার মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন এলো কিভাবে? আপনি
আল্লাহকে ভয় করুন। কারণ আল্লাহকে ভয়কারীর সঙ্গে তিনি থাকেন। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা যারা ঈমান এনেছ, তারা আল্লাহকে ভয় কর, ঠিক যতটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত ততটুকু। তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (আল ইমরান : ১০২]
কিন্তু চোর শোনে কি আর ধর্মের কথা? যুবকের মাথায় যে পরকীয়ার নরকীয়া পুরোদস্তুর আছর করে আছে। তাই এখন তার কাছে কোনো সত্যই সত্য মনে হয় না। অবশেষে সে ধর্মপ্রাণ মহিলাটিকে তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।
📄 দু’ প্রমিলার করুণ গল্প
আজ প্রেম খেলায় মত্ত দু'প্রমিলার করুণ গল্প শোনাব। প্রথম গল্পটি এমন-
ভার্সিটিতে পড়ুয়া এক ছাত্র ও ছাত্রীর মাঝে পড়াশোনার ফাঁকে পরিচয় ঘটে। নানা কথাবার্তা ও খবরাখবর আদান প্রদানের মাধ্যমে একে অপরকে ভালো লাগতে শুরু হয়। তারপর মন নেয়া-দেয়াসহ দৈহিক সম্পর্ক ঘটে। শুরু হয় একে অন্যের বাসায় অবাধে যাতায়াত। এভাবে চূড়ান্ত ভালোবাসার পর্যায়ে পড়ে। একে অপরের প্রতি গড়ে তোলে অগাধ আস্থার প্রাচীর। তারা মনে মনে ভাবতে থাকে যে, তারা ঘর বাঁধবে, সংসার করবে।
ঠিক এই সময়। ঐ ছাত্রীটির রূপের আগুনে পুড়তে শুরু করে এক প্রভাষক। শুরু হয় ছাত্রী-শিক্ষকের সম্পর্ক। পরে সখা-সখী। তারপর বিয়ের তারিখ পর্যন্ত ঠিক হয়। কিন্তু আগের প্রেমিক ছাত্র! তাকে তো কিছু বলা দরকার। এই ভেবে ছাত্রীটি প্রেমিক ছাত্রকে 'মানবিক কারণেই প্রভাষকের সঙ্গে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে হচ্ছে' জানাতে তার রুমে যায়।
বেশ কয়েকদিন পর প্রেমিক-প্রেমিকার দেখা! তাই শুরু হয় این সেই আলাপ। এক ফাঁকে ছাত্রীটি বলে ফেলে যে, আমি খুবই দুঃখিত যে, অমুক স্যারের সাথে আমার বিয়ের তারিখ নির্ধারণ হয়েছে। বিষয়টি তোমাকে জানার জন্য না এসে পারলাম না। সেই বিয়েতে তোমার উপস্থিতি কামনা করছি।
ছেলেটির মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। তার মাথায় যেন বিনা মেঘে বজ্রাঘাত। ছেলেটি কী বলবে ভেবে পাচ্ছে না। সে তাকে জানায় যে, আরে! তুমি কি পাগল হয়ে গেছ নাকি! তুমি আমাকে বিয়ের দাওয়াত দিতে এসেছ! অথচ এদিকে আমি তোমাকে বিয়ের জন্য প্রায় সব ঠিকঠাক করে ফেলেছি।
জবাবে ছাত্রীটি বলে, দেখ! তুমি আমার ক্লাস ফ্রেন্ড। আর উনি হলেন সরকারি কলেজের প্রভাষক। এটি আমার জন্য একটা বড় পাওয়া।
ছাত্রটি বলে, তাহলে কি আমাদের এতদিনের প্রেম-ভালেবাসার কোনোই মূল্য নেই?
প্রত্যুত্তরে ছাত্রীটি বলে, এরকম প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা ছেলে মেয়েদের মধ্যে হয়েই থাকে।
ছাত্রটির মাথায় রক্ত ওঠে যায়। সে বলে, তাই বলে কি আমার সুখের ঘর তছনছ করে তুই অন্যের ঘর বাঁধতে বাধতে চাস? এই বলেই সে তার উপর চড়াও হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে।
পরক্ষণেই খুনের দায়ে ভীত হয়ে পড়ে ছেলেটি। সে কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। অবশেষে মেঝের প্লাস্টার তুলে গর্ত খনন করে গর্তে ছাত্রীটির লাশ রেখে দেয়। ব্যাপারটি একদম গোপন হয়ে যায়।
এদিকে মেয়েটির খোঁজ না পেয়ে তার অভিভাবকরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে পরিবারের লোকজন কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে।
এদিকে ছেলেটির হাতে একটা ঘা হয়। চিকিৎসার জন্য সে একজন খ্যাতিমান মহিলা ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়। পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে, আঘাতটি কোনো মহিলার দাঁতের কামড়। ডাক্তার ছিলেন ঐ ছাত্রীরই বোন। তিনি তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে জেরা শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ছাত্রটি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়।
দ্বিতীয় প্রমিলার গল্পটি শুনুন এবার-
এক প্রগতিশীল যুবতি বেশ কয়েকজন যুবকের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সাথে চলে তার দৈহিক সম্পর্ক। যুবতি যুবকদের বলে যে, এভাবে মধুর ভালেবাসা করে আর কতদিন চালানো যাবে? তার পরিবর্তে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেই ভালো হয় না?
যুবতির এই প্রস্তাবে কেউই রাজি হলো না। পরিশেষে যুবতি এক যুবককে বিয়ের জন্য টার্গেট করে। কিন্তু সেও তাকে বিয়ে করতে অনীহা প্রকাশ করে। অগত্যা যুবতি কোর্টের আশ্রয় নেয়। গভর্নমেন্ট উকিল যথারীতি জেরার মাধ্যমে যুবককে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেন।
এ সময় যুবতিটি বলে, মহামান্য আদালত! একজন নারীর মান-সম্মান আছে। অহেতুক একজন ছেলের সাথে নিজ দৈহিক সম্পর্কের কথা কোনোক্রমেই বলতে পারে না। নিজেকে কলঙ্কিত করতে পারে না। এদিক থেকে বিবেচনা করে যুবককে দোষী সাব্যস্ত পূর্বক রায় প্রদানের জন্য বিজ্ঞ বিচারকের শুভ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এবার যুবক মাননীয় বিচারকের কাছে কিছু বলার আবেদন করায় বিচারক তাকে বলার অনুমতি দান করেন।
যুবকটি বলে, স্যার! ঐ মেয়েটি বেশ কয়েকজন ছেলের সাথে প্রেমে জড়িত। তাকে কেউ বিয়ে করতে রাজি নয়। সে আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের মামলা দিয়ে আমার সঙ্গে বিয়ে বসার চক্রান্ত করেছে। আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজন কেউ এ বিয়েতে রাজি নয়। আমি কিভাবে এ বিয়ে করতে পারি?
এবারে ছেলের পক্ষের উকিল বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক বলেন যে, মাননীয় বিজ্ঞ বিচারক! আমি যুবতিটিকে দু'-একটি প্রশ্ন করার জন্য আপনার সদয় অনুমতি প্রার্থনা করছি।
জবাবে আদালত উকিলকে যুবতিটিকে জেরা করার অনুমতি প্রদান করেন।
যুবকের উকিল বিচারকের অনুমতি পেয়ে যুবতিকে বলেন-
: আচ্ছা মা, লেখাপড়ার ফাঁকে অবসর সময়ে কিছু কর?
: হ্যাঁ করি।
: কী কর?
: সেলাইয়ের কাজ করি।
: তাহলে আমার কাছে একটু আস তো।
যুবতি এগিয়ে এলে উকিল সাহেব তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বললেন, দেখ, এই আমার হাতে সুচটা আছে। এই সুতোটি সুচের মধ্যে একটু ঢুকিয়ে দাও তো দেখি।
যুবতি সুঁইয়ের ছিদ্রে সুতো দিবে- এমন সময়ে উকিল সামান্য একটু সুচটি নড়ান। এ রকম কয়েকবার করার পর যুবতি সুতোটিকে মুখের লালা নিয়ে একটু পাকিয়ে সুচটিতে ঢুকানোর চেষ্টা করল। যেই মাত্র সুতার মাথাটি সুঁইয়ের ছিদ্রের কাছে আনল অমনি উকিল সাহেব সুচটি সামান্য একটু নড়ান শুরু করেন। এভাবে যুবতি কয়েকবার এ রকম করার পরও ব্যর্থ হয়ে উকিল সাহেবকে বলে ওঠে, 'আপনি এটি নাড়ালে কি সুচটা দেয়া সম্ভব!' তৎক্ষণাৎ উকিল সাহেব গলা ঝেড়ে বলে ওঠেন, মহামান্য আদালত! সামান্য নাড়ানাড়ির কারণে যদি সুচটিতে সুতো দেয়া না যায়, তাহলে যুবতি যদি নড়াচড়া বা চিৎকার করত তাহলে কি এ যুবক তাকে ধর্ষণ করেত পারত?