📄 লিভ টুগেদার
অন্যায়ের দাবানলে পুড়ছে চারদিক। এ আগ্নেয়গিরির লাভা নীতিনৈতিকতা জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করে দিচ্ছে। এর স্বীকার হচ্ছে গোটা দেশ ও জাতি। পাশাপাশি এর হাত ধরে ভাঙন ধরছে পরিবারে। ছড়িয়ে পড়ছে গৃহবিবাদ।
ইদানীং লিভ টুগেদারের প্রবণতা আমাদের সমাজে প্রকট আকার ধারণ করছে। বিবাহের পূর্বেই প্রস্তাবিত বর-কনের যৌন চাহিদা পূরণকে এককথায় লিভ টুগেদার বলা হয়ে থাকে। মূলত এসবই আমাদের সমাজের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা বয়ে বেড়াচ্ছে। পর্দাহীনতার ক্রমান্বয়ে এ অপরিণামদর্শিতা আমাদের আধুনিক মহলে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে। লিভ টুগেদার ধর্ষণের প্রকোপ মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি ঘটায়। ধর্ষণের প্রকৃত সংখ্যা জানা সহজ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগী এ বিষয়ে রিপোর্ট করে না। ফলে যে সংখ্যা পাওয়া যায়, বাস্তবে তা অনেক বেশি ঘটে। এ পর্যায়ে লিভ টুগেদারের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরছি।
ব্রিটিশ পুলিশের মতে, ১৯৮৪ সালে এক বছরে ব্রিটেনে ২০ হাজারের অধিক নিগ্রহ এবং দেড় হাজার লিভ টুগেদার ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। The London Rape Crisis Center-এর মতে, ব্রিটেনে প্রতিবছর অন্তত পাঁচ থেকে ছয় হাজার ধর্ষণের ঘটনা রেকর্ড হয়ে থাকে। আর প্রকৃত সংখ্যা তার চাইতেও বেশি। উক্ত সংস্থার মতে, "If we accept the
highest figures, we may say that, on average, one rape occurs every hour in England." মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিস্থিতি সবচাইতে ভয়াবহ। এখানে বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক ধর্ষণের ঘটনা ঘটে থাকে। সে সংখ্যা জার্মানির সংখ্যার চাইতে চারগুণ, ব্রিটেনের চাইতে ১৮ গুণ আর জাপানের চাইতে প্রায় বিশগুণ বেশি।
সবচাইতে উদ্বেগজনক এবং বাস্তবতা এই যে, ৭৫% ভাগ ধর্ষণের ঘটনাই ঘটে থাকে পূর্ব-পরিচিতের দ্বারা। আর ১৬% নিকট-আত্মীয় বা বন্ধুর দ্বারা। যাকে লিভ টুগেদারের সংজ্ঞায় ফেলে থাকেন বিভিন্ন সমাজবিজ্ঞানী।
National Council for Civil Liberties নামক সংস্থার মতে, ৩৮% ক্ষেত্রে পুরুষ তার অফিসিয়াল ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব প্রয়োগ করে নারীকে ধর্ষণ করে থাকে। আর ৮৮% মহিলা কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। এই হলো তথাকথিত উন্নত ও নারী-স্বাধীনতার দাবিদার দেশগুলোর অবস্থা।
বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বিবাহপূর্ব সহবাস এবং 'Live Together' -এর প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৬০ সালে জন্মগ্রহণকারী ব্রিটেনের নারীদের প্রায় অর্ধেক প্রাক-বিবাহ সহবাসের অভিজ্ঞতা অর্জন করে। এর পক্ষে তাদের যুক্তি ছিল যে, এর ফলে নর-নারী একে অপরকে ভালোভাবে জানতে পারে এবং এর পর বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে তা স্থায়িত্ব লাভ করে থাকে। কিন্তু বাস্তবতা তার সম্পূর্ণ বিপরীত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইংল্যাণ্ডেই সর্বাধিক বিবাহ-বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে থাকে। ১৯৮৩ সালে যুক্তরাজ্যে যেখানে এক লক্ষ সাতচল্লিশ হাজার বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা ঘটে। ১৯৯৪ সালে তার সংখ্যা দাঁড়ায় এক লক্ষ پঁয়ষট্টি হাজারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭০ সালে বিবাহ-বিচ্ছেদের সংখ্যা ছিল ৭ লক্ষ ৮ হাজার, আর ১৯৯০ সালে তা দাঁড়ায় ১১ লক্ষ ৭৫ হাজারে। পক্ষান্তরে বিবাহের হারে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিবর্তন হয়নি।
আজকের বিশ্বের কুমারী মাতৃত্বের অন্যতম কারণ হলো পর্দাহীনতা। পশ্চিমা-বিশ্বের তথাকথিত 'নারী স্বাধীনতা'র আরেক অভিশাপ হলো কুমারী মাতৃত্ব।
ব্রিটেনে এক জরিপে দেখা যায় যে, ১৯৮২ সালে যেখানে কুমারী-মাতার সংখ্যা ছিল ৯০ হাজার, ১৯৯২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ১৫ হাজারে।
১৯৯২ সালে জন্ম নেয়া শিশুদের ৩১% ছিল অবিবাহিতা মাতার সন্তান। এই অবিবাহিতা বা কুমারী-মাতাদের মধ্যে আড়াই হাজারের বয়স ১৫ বছরের নিচে। বৈধ বিবাহের মাধ্যমে জন্ম নেয়া শিশুর তুলনায় অবৈধ শিশুর জন্মের হারও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অপরদিকে অবৈধভাবে জন্ম নেয়া শিশুর দায়ভার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বর্তাচ্ছে কুমারী-মাতা বা একক-মাতৃত্বের (single mother) ওপর। নারীর ওপর কুমারী-মাতৃত্বের এই দায়ভার পশ্চিমা-বিশ্বে নারী-নিপীড়নের এক নিষ্ঠুর উদাহরণ।
এতক্ষণ পর্যন্ত তথাকথিত নারী স্বাধীনতার নামে প্রচলিত লিভ টুগেদারের পশ্চিমা জগতের ঘুণেধরা সমাজের একটি ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরা হলো। বাস্তবচিত্র তার চাইতেও আরো অনেক বেশি ভয়াবহ। অর্থনৈতিক চাকচিক্য আর প্রযুক্তিগত উন্নতির আড়ালে তথাকথিত 'আধুনিক' বিশ্বের সমাজ ও পারিবারিক ব্যবস্থায় আজ ধস নেমেছে। নারী-স্বাধীনতা ও ব্যক্তি-স্বাধীনতার নামে নারী আজ পদে পদে লাঞ্ছিত ও নিগৃহীত হচ্ছে, ব্যবহৃত হচ্ছে ভোগের সামগ্রী হিসেবে। এ থেকে মুক্তির একমাত্র উপায় ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও জীবন নির্ধারণের সঠিক ও পূর্ণ অনুসরণ এবং পর্দা বিধানকে গ্রহণ করা।
উল্লিখিত সবগুলো পরিণামই ইহলৌকিক পরিণাম। জরিপগুলোকে সুস্থ বিবেক ও মানসিকতা নিয়ে বিবেচনা করলে একটিমাত্র কারণই খুঁজে পাওয়া যায়। আর সেটি হলো, পর্দাহীনতার বিস্তৃতি। যদি আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে তাদের সম্ভ্রম হেফাজতের শিক্ষা দিতাম কিংবা তা রক্ষার ব্যবস্থা করতাম তাহলে আমাদের দেশকে ক্রমেই নরকের কাছে পৌছার চিত্র দেখতে হতো না। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে-
قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَرِ هِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ হে নবী! আপনি মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে। [সূরা নূর: ৩১]
পরীক্ষামূলকভাবে এবং নিজস্বভাবে সেসব এলাকা বা ব্যক্তিত্ব ইসলামের আলোয় আলোকিত হয়ে পর্দার বিধানকে গ্রহণ করেছেন, তারাই রক্ষা পেয়েছেন এই ভয়াবহতা থেকে।
এছাড়াও পর্দার বিধান লঙ্ঘন করার কারণে রয়েছে পারলৌকিক পরিণাম। আর এই ইহলৌকিক পরিণামের একটি শেষ বা সীমান্ত রয়েছে। কিন্তু পারলৌকিক পরিণাম বা শাস্তির কোনো শেষ বা সীমান্ত নেই। সুতরাং একটি সুস্থ বিবেক এবং একটি সুস্থ কিয়াস বা চিন্তাশক্তির বিবেচনায় পর্দা অপরিহার্য একটি বিধান প্রমাণিত।
📄 যৌনরোগের ঔষধ কী
যৌন রোগের ভয়াবহতার কথা বহুবার বলেছি। এর থেকে বেঁচে থাকার জন্য বহু টিপসও বলেছি। কিন্তু সত্যিকারার্থে যৌন রোগের ঔষধ কী? হ্যাঁ সেটিই বলছি। ঔষধ হচ্ছে আল্লাহর বিধান ও প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে ফিরে আসা। আল্লাহ কোনো কিছু হারাম করলে এর স্থলে অন্য একটা কিছু হালাল করে দেন। যেমন- আল্লাহ সুদ হারাম করেছেন; এর স্থলে ব্যবসায়ে কে করেছেন হালাল। যেনা হারাম করেছেন; বিপরীতে বিবাহকে করেছেন হালাল। সুতরাং এ রোগের প্রকৃত ঔষধ হলো বিয়ে করা।
বিয়েই একমাত্র সংশোধনের পথ। আমি ইসলামি সংস্থাগুলোর কাছে সুপারিশ করছি, তারা যেন এমন একটি আলাদা বিভাগ চালু করে যেখান থেকে যুবকদের বিবাহের প্রতি উৎসাহিত করা হবে। যেখান থেকে বিয়ে তাদের জন্য সহজ করে দেয়া হবে। উপযুক্ত পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিবে। গরিব হলে ঋণ দিবে। এ প্রস্তাবনা অনেক বিস্তারিত। কেউ এটি বাস্তবায়ন করতে চাইলে আমি আরও ব্যাখ্যা করে দিব।
যৌনতার বিবরণ বাস্তবতার চেয়ে বেশি মনে প্রভাব ফেলে। যদি গান, গল্প, চিত্রশিল্প না থাকত, না থাকত নারীদের রমণীয় করে উপস্থাপন ও ভালোবাসার রঙ-বেরঙের বর্ণনা! তাহলে যারা যুবক আছে তারা শারীরিক সম্পর্কের তীব্রতা এখন যা অনুভব করছ এর দশ ভাগের এক ভাগও অনুভব করতে না। শারীরিক সম্পর্কটা আসলে চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ের মতোই। কিন্তু কাজটা অনেকটা নোংরা ধরনের। এজন্যই আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কের মধ্যে নেশা সৃষ্টি করে দিয়েছেন; যা মানুষকে অস্থির, অন্ধ ও বধির করে তোলে। ফলে মানুষ এতে নোংরা কিছু খুঁজে পায় না। এ নেশাটাই হলো কামনা, প্রবৃত্তি ও যৌন চাহিদা।
কেউ যদি মাথার ঘিলু খাটিয়ে ভাবে কিন্তু হাড়ের ঘিলু দিয়ে না ভাবে, তাহলে বিষয়টি তার কাছে আমি যা বলেছি তা-ই মনে হবে। এই সুড়সুড়ি প্রদায়ক বস্তুগুলো তখনই কাজ করে এবং তিক্ত ফল দেয় যখন খারাপ সঙ্গী মিলে। যে অশ্লীল পথ দেখায়। পৌঁছে দেয় অশ্লীলতার দুয়ারে। অশ্লীলতা
যেন পূর্ণ প্রস্তুত একটি গাড়ি। এক্ষেত্রে বন্ধুবান্ধবরা স্টার্টের কাজ করে। গাড়ি যত শক্তিশালী আর প্রস্তুত হোক না কেন স্টার্ট ছাড়া কোনো কাজ করে না।
যদি বিয়ে করা সম্ভব না হয়, যদি অশ্লীলতা অপছন্দ হয় তাহলে আত্মউন্নয়ন ছাড়া উপায় নেই। আমি এ বিষয়টি মনোবিজ্ঞানের পরিভাষা দিয়ে বোঝাতে চাচ্ছি না। এজন্য একটি উদাহরণ দিই-
আগুনে উথলানো কেটলি অনেকেই দেখে থাকবে। যদি এর মুখ মজবুত করে বন্ধ করে দেয়া হয় আর নিচে জ্বাল দেয়া হয়, তাহলে এতে বিস্ফোরণ ঘটবে। আর যদি নিচে ছিদ্র করে দেয়া হয় তাহলে পানি পড়ে যাবে। কেটলি পুড়ে যাবে। পক্ষান্তরে একটু গভীরভাবে তাকালে দেখা যাবে যে, এই বাষ্পেরই সঠিক ব্যবহার করে করে কল-কারখানা চলে, ট্রেন চলে, আরও অনেক বিস্ময়কর কাজ হয়।
প্রথম প্রকারের উপমা হলো, যে কামনাকে জোরপূর্বক দমিয়ে রাখে আবার কামনা নিয়ে ভাবনায় বিভোর থাকে। আর দ্বিতীয় প্রকারের উপমা হলো, যে কামনা পূরণে ভ্রান্ত পথ অবলম্বন করে চাহিদা পূরণের জন্য নিষিদ্ধ জায়গায় গমন করে। তৃতীয় প্রকারের উপমা হলো, আত্মউন্নয়নকারী।
আত্মউন্নয়ন হলো নিজেকে আত্মিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও দৈহিক পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রফুল্ল রাখা। যার মাধ্যমে পুঞ্জীভূত এ শক্তি নিঃশেষ হবে। খোদামুখিতা, ইবাদত-বন্দেগী ও কর্মব্যস্ততা এ আবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগাবে। মনে যা কল্পনা আসে তা গজল, গল্প ও কবিতায় তুলে ধরলে অবস্থার অনেকটাই উন্নতি হবে। দৈহিক পরিশ্রম খেলাধুলাও এক্ষেত্রে অনেক কার্যকর।
মানুষ নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে। নিজের ওপর কাউকে বেশি প্রাধান্য দেয় না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রশস্ত কাঁধ, সুদৃঢ় বুক আর পেশীবহুল হাত দেখলে যে কোনো নারীদেহের চোখে তা ভালো লাগবে। এর জন্য এত সুন্দর দেহ, পেশী ও শক্তি বলি দেবে না। কালো কিংবা নীল চোখের জন্য হাড্ডিসার কঙ্কালে পরিণত হতে চাইবে না। তাই বিবাহই এ রোগের একমাত্র ওষুধ। এটাই পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা। বিয়ে সম্ভব না হলে আত্মউন্নয়ন। এটা সাময়িক সমাধান। কিন্তু বেশ শক্তিশালী ও উপকারী। এতে ক্ষতির লেשমাত্রও নেই। নেই কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
📄 রাজকন্যা হলো চোরের বউ
হাকিমুল উম্মত আল্লামা আশরাফ আলী থানবী রহ. লিখেছেন- এক খোদাভক্ত বাদশাহ ছিলেন। তার ছিল এক পরমা সুন্দরী কন্যা। কন্যার বয়স হয়েছে। বিয়ে দেবেন। কিন্তু একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান পাত্র খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
এক রাতে বাদশাহ ও তার স্ত্রী মেয়ের বিয়ে সম্পর্কে আলাপ করছিলেন যে, যদি কোনো অবিবাহিত যুবক একাধারে চল্লিশ শুক্রবার জুমার নামাজে মসজিদের প্রথম সারিতে একেবারে ডানের কোণে সকলের আগে নামাজ পড়ার জন্য যায় এবং যদি তাকে সহীহ-শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করতে দেখা যায়, তাহলে তার কাছেই মেয়েকে বিয়ে দিবেন।
ঘটনারক্রমে ঐ রাতে এক যুবক চোর বাদশাহর ঘরে সিঁদ কাটার জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। সে বাদশাহ ও তার স্ত্রীর কথাগুলো শুনতে পায়। কথাগুলো শুনতেই তার চোখের তারাগুলো আনন্দে নাচতে থাকে। তখনই তার মাথায় বুদ্ধি আসে যে, চুরি করে আর কতটুকু লাভবান হওয়া যাবে; তার চেয়ে প্রথম সারিতে সর্বডানে চল্লিশ জুমার নামাজ আদায় করে বাদশাহর মেয়েকে বিয়ে করতে পারলেই সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ ও অনাবিল আনন্দের মধ্যে জীবন অতিবাহিত করা যাবে। অতঃপর স্থির সিদ্ধান্ত নিয়ে যুবক চল্লিশ জুমা অনুরূপভাবে নামাজ আদায় করতে থাকে।
দিন যত গড়াতে থাকে যুবকের মনেও আল্লাহ তায়ালার মহব্বত তত প্রগাঢ় হতে থাকে। সে ইবাদতের এতই মজা পেয়ে যায় যে, এখন আর তার মাথায় রাজার মেয়ে বিয়ে করার বিষয় মোটেই উঁকি দেয় না। এভাবেই চলতে থাকে তার চল্লিশ জুমার নামাজ।
ব্যাপারটি বাদশাহর নজরে আসে।
এক পর্যায়ে বাদশাহ মুসল্লি যুবককে ডেকে পাঠান। যথারীতি ছেলেটি বাদশাহর দরবারে আগমন করে।
এবার বাদশাহ বলেন, বাবা! আমার একটি মেয়ে সাবালিকা হয়েছে। তার বিয়ের জন্য আমরা তোমাকে পাত্র হিসেবে পছন্দ করেছি। এখন তোমার মতামত বল।
জবাবে ছেলেটি বলে, বাদশাহ নামদার! আমি এ কয়দিনে যার ইবাদত করেছি, তা বাদশাহর মেয়েকে বিয়ে করার চেয়ে অনেক বড় রকমের
পাওয়া। আমি আপনার মেয়েকে বিয়ে করে, এ নেয়ামতের অবমাননা করতে রাজি নই। আমাকে মাফ করবেন।
যুবকের এই আল্লাহপ্রেম দেখে তো রাজার চোখ আরো ছানাবড়া। যে করেই হোক মেয়েকে যে এই পাত্রের কাছে বিয়ে দিতেই হবে! কিন্তু শত চেষ্টা করেও যুবককে যে এ বিয়েতে রাজি করানো যাচ্ছে না। ফলে বাদশাহ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করলেন। তিনি সেই যুগের শ্রেষ্ঠ আলেমকে খোঁজ দিলেন। তিনি এলে তাকে দিয়ে যুবকের কানে বিয়ের শরয়ি ফজিলতের কথা শোনাতে থাকেন। এমনকি বিয়ে যে নবীজীর সুন্নাত এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত- এ বিষয়টি তার মাথায় পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকেন। তিনি কুরআন মাজিদের এই ঘোষণা ব্যাখ্যা করে শোনাতে থাকেন যে-
وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। [সূরা নূর: ৩২]
অবশেষে ইবাদতের অংশ মনে করে ঐ যুবক বাদশাহর মেয়েকে বিয়ে করতে রাজি হয়।
📄 পরকীয়া নরকীয়া
এক ভদ্র বিবাহিত যুবক ঘটনাক্রমে এক সুন্দরী যুবতির প্রেমের ফাঁদে পড়ে। বেচারির স্বামী প্রবাসী। একমাত্র সন্তানের বয়স চার বছর। টগবগে যৌবন তার উছল উছল করে। কিন্তু স্বামীবিহীন কামনার ঢেউ তীরে আছড়ে পড়ে বালির সাথে মিলিয়ে যায়। স্কুলের শিক্ষক যুবকের দেহ জুড়ে তারুণ্য ঠিক পড়ছে। সে বিবাহ করেছে বছর দুয়েক আগে। এই বিবাহিত যুবক-যুবতির মাঝে গড়ে ওঠে মন দেয়া-নেয়া। তাদের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে গড়ায় যে, একে অন্যকে ছাড়া চলে না। মেয়েটি বিবাহিত যুবকটিকে বলে, আচ্ছা! এভাবে লুকোচুরি করে আর কতদিন চলবে? আমি যে তোমাকে ছাড়া একদণ্ড থাকতে পারি না। আমি তোমার সাথে সুখের ঘর বাঁধতে চাই।
জবাবে যুবক বলল, তাহলে দিন-তারিখ ঠিক করে বিয়ে সম্পন্ন করে ফেললেই তো হয়।
যুবকের আগ্রহ দেখে যুবতি তার পূর্বেকার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার প্রস্তাব দেয়।
যুবকও তার কথায় সায় দেয়। কিন্তু সে পড়ে এক অন্যরকম বিপাকে। কারণ স্ত্রীকে তো আর এমনিতেই তালাক দেয়া যায় না। তার কোনো না কোনো দোষের অজুহাতেই তো তাকে তালাক দিতে হবে। কিন্তু সে স্বীয় স্ত্রীকে তালাক দেয়ার মতো কোনো দোষ খুঁজে পায় না। একজন সচ্চরিত্রা স্ত্রীকে তালাক দিতে তার বিবেকে চরমভাবে বাঁধে।
এবার মহিলা বলে, যদি তুমি নিজে তালাক দিতে না চাও; তাহলে মেয়েটির প্রতি নানা ধরনের দোষ চাপাতে থাক। মেজাজ খারাপ করাসহ তাকে গালিগালাজ করতে থাক। তাহলে অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সে নিজে নিজেই চলে যাবে।
যুবতির এই ফন্দি যুবকের মনে ধরে। সে প্রেমিকার কথা আমলে নেয়। প্রতিদিনের মতো আজো বাড়ি এসে ভাত খেতে বসে। কিন্তু তার মাথায় যে শয়তানি ভর করেছে! তার কাঁধে যে সওয়ার হয়েছে পরকীয়ার ভূত! সে খেতে বসেই বলতে থাকে, কী রেঁধেছ? ভাত ফুটেনি। তরকারি সিদ্ধ হয়নি। লবণ বেশি হয়েছে। ঝাল হয়নি। তরকারির রং না হলে খাওয়া যায়? আজকের ভাতে পোড়া গন্ধ লাগছে। ডালটা টক কেন? ইত্যাদি ইত্যাদি। বাড়িতে এলে বিছানাপত্র অগোছালো দেখি কেন? আঙিনাটা পরিষ্কার দেখতে পাই না কেন। প্যান্ট কিভাবে পরিষ্কার করেছ? দাগটা ওঠেনি কেন? যুবক যত ত্রুটির কথাই বলে, স্ত্রী সমস্ত কথায় ডান কান দিয়ে শুনে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়।
একদিনের ঘটনা। যুবক বাহির থেকে এসে কোনো দোষই খুঁজে পাচ্ছে না। দেখে আঙিনায় একটা কুকুর শুয়ে আছে।
স্ত্রীকে বলে, তোমাকে নিয়ে সংসার করা বড়ই কঠিন হয়ে পড়েছে। কুকুরটা আঙিনায় শুয়ে আছে। তাকে একটা বালিশ পর্যন্ত দাওনি। আমার বাড়িতে কি বালিশের অভাব?
জবাবে আল্লাহভীরু স্ত্রী তার স্বামীকে বলে যে, হে আমার স্বামী। আপনার কী হয়েছে? আপনার মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন এলো কিভাবে? আপনি
আল্লাহকে ভয় করুন। কারণ আল্লাহকে ভয়কারীর সঙ্গে তিনি থাকেন। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ
হে মুমিনগণ! তোমরা যারা ঈমান এনেছ, তারা আল্লাহকে ভয় কর, ঠিক যতটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত ততটুকু। তাঁর কাছে আত্মসমর্পণকারী না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (আল ইমরান : ১০২]
কিন্তু চোর শোনে কি আর ধর্মের কথা? যুবকের মাথায় যে পরকীয়ার নরকীয়া পুরোদস্তুর আছর করে আছে। তাই এখন তার কাছে কোনো সত্যই সত্য মনে হয় না। অবশেষে সে ধর্মপ্রাণ মহিলাটিকে তালাক দিয়ে তাড়িয়ে দেয়।