📄 পায়ে তার নূপুরের ছন্দ
নারীর আপাদমস্তকই মূল্যবান সম্পদ। তরুণীর পায়ের নূপুরের ছন্দ মন – কাড়েনি এমন যুবকের সংখ্যা কম নয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, নারীর সমগ্র দেহটিই সৌন্দর্যের সমাহার। যুক্তির কথা হলো, যে কোনো মূল্যবান জিনিস ঢেকে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বুদ্ধিদীপ্ততার পরিচয় হলো, দামি জিনিসকে একেবারে খোলামেলা না রাখা।
আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর পায়ের তালু পর্যন্ত পুরো শরীরটাকেই পর্দাভুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, তা ঢেকে রাখার উপকারিতা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু কথিত আধুনিকতার দাবিদাররা এতদিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে 'মান্ধাতার আমলের' বলে মুখ ভেংচি কাটতো। কিন্তু দেড় হাজার বছর পর এসে আজ বিজ্ঞানীরা এর সত্যতা প্রমাণ পেয়েছে!
কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [সূরা নূর: ৩১]
এই আয়াতাংশে নারীকে সজোরে পদচারণা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে তাদের পায়ের অলংকার, বেড়ি, ঝুমুর, নূপুর ইত্যদি সম্বন্ধে বেগানা পুরুষ অবহিত হতে না পারে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পরতে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে। পক্ষান্তরে মেয়েরা তাদের কাপড় বা পায়জামা টাখনুর নিচে পরবে এবং পরিপূর্ণ পর্দা করে চলবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি: ৫৩৭১/
চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ বলেছেন যে, পুরুষের পায়ের পাতার অংশে প্রচুর পরিমাণে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
তদ্রুপ মেয়েলোকের হরমোন কম থাকে এবং তা ঢেকে রাখার প্রয়োজন হয়। যদি কোনো নারী তা ঢেকে না রাখে এবং খোলা রাখে তবে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং যৌনবাহিত ও নারীবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, যেসব নারী পা খুলে খোলামেলা চলাফেরা করে, তাদের সিফিলিস, গনোরিয়া, বহুমূত্র এবং কৃমির রোগ দেখা দেয়। তাদের চুলপড়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, যেসব নারী তাদের পাসহ শরীরের নানা অঙ্গ খোলা রাখে তারা ম্যালানোমা নামের এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যালানোমা রোগের আশঙ্কা মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের ত্বক কোমল আর বেশি নার্ভ ফাইবার থাকার দরুন তাদের ত্বকের প্রতি স্কয়ার সেন্টিমিটারে ৩৪ নার্ভ ফাইবারস আর পুরুষের মাত্র ১৭। আর এ কারণেই নারীর ত্বকের সুরক্ষার জন্য হাত মোজা ও পা মোজা পরাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ কল্যাণকর মনে করেছেন।
যাদের পা মোজায় ঢেকে থাকে তাদের পা নানা চর্মরোগ তথা খুজলি, চুলকানি, অ্যাকজিমা, দাদ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ মোজায় পা ঢেকে থাকার কারণে তাদের হাত ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী পায়ের টাখনুর নিচের অংশ খোলা রেখে চলে, তাদের পায়ের নখের নানা রোগ দেখা দেয়। নখ হালকা হয়ে যাওয়া, নখ ভেঙে যাওয়া, কালচে হওয়া, নখচিপা রোগ, নখের ভেতরে পুঁজ জমা, নখের ব্যথা করাসহ নানা রোগ তাদেরই বেশি হয় যারা পা খোলা রেখে চলে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এক সময় মানুষ ক্রমেই ইসলামি অনুশাসনকে নিজেদের কল্যাণ মনে করতে থাকবে।
সত্যিই আজ নিজের অজান্তেই অনেকে ইসলামি বিধানকেই সর্বাধুনিক এবং ফ্যাশন বলে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।
এক সময় দাড়ি রাখাকে কথিত সভ্যতা ও আধুনিকতার পরিপন্থী বলে মনে করা হতো। আজ অনেকেই দাড়ি রাখাকে স্টাইল হিসেবে নিয়ে থাকেন। বিখ্যাত ফুটবলার, ক্রিকেটার, কুস্তিবিদ ও নায়কের সাম্প্রতিককালের রাখা দাড়ির স্টাইল ভক্তবৃন্দের মাঝে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। আধুনিক দাবিদার যুবকরা নিজেদেরকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের এক মাধ্যম মনে করেন দাড়িকে।
আবার এক সময় পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরাটা তথাকথিত ফ্যাশন বলে মনে করা হতো। কে কতো লম্বা ও পায়ের পাতা মুড়িয়ে এমনকি পায়ের পাতা পর্যন্ত প্যান্ট জুতার ভেতরে ঢুকিয়ে পরাকে আধুনিকতা মনে করা হতো। কিন্তু আজকের আধুনিকতার দাবি হলো খাটো প্যান্ট পরা। তাইতো হাফ কোয়ার্টার তথা টাখনুর উপর হাঁটুর নিচ পর্যন্ত প্যান্ট পরাটাকে এখন আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। দেখুন আজ হতে দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, পুরুষের টাখনুর যে অংশ অহংকারবশত কাপড়ে ঢেকে থাকে, তা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি ও মুসলিম]
সুদীর্ঘকাল এ সত্যতা অনেকের বুঝে না আসলেও এখন সেই বিধানকেই কল্যাণকর মনে করা হয়ে থাকে। তাইতো এ কথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন পায়ের পাতা ঢেকে রাখাটাকেই মেয়েরা প্রকৃত আধুনিকতা মনে করতে বাধ্য হবে।
ইদানীংকালে আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণী তাদের নূপুরপরা পা-কে কোমল ও মসৃণ রাখতে পা মোজা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। কলেজ ভার্সিটিতে মেয়েরা পা মোজা পরাটাকে অন্যতম ফ্যাশন মনে করতে শুরু করেছে। কারণ পা মোজায় ঢেকে থাকার কারণে একদিকে যেমন তাদের ত্বক সুরক্ষা হয়, তেমনি পায়ের দোষগুলো অন্যের সামনে ফুটে ওঠে না। এটি মূলত ইসলামি বিধানেরই সংস্করণ।
দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামের পা মোজা পরার নিয়মকে এক শ্রেণির কথিত ফ্যাশনি নারী অবজ্ঞাচ্ছলে ভ্রু কুঁচকাত। তারা মনে করত যে, পা মোজা পরা তো মোল্লাদের পরিবারের মেয়েদের কাজ। তবে আশার কথা হলো, আজকের আধুনিক নারীরা তাদের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেই পা মোজা ব্যবহার করা শুরু করেছে।
তাই চিরন্তন ফ্যাশনের ধর্ম ইসলাম যুবতি, তরুণী নির্বিশেষে সব নারীকে আহ্বান জানাচ্ছে তাদের কোমল পা-কে মোজায় ঢেকে রাখতে।
📄 কোন কাননের ফুল গো তুমি
ফুলকে ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। নারী ফুলতুল্য। ফুলকে যেমন সবাই ভালোবাসে, নারীকে কেউ ভালো না বেসে পারে না। নারী হলো মন বাগিচার ফুল। তার সৌরভ ও সুগন্ধিতে পুরুষ হয় মাতোয়ারা।
নারী মানবসভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ও মূলস্তম্ভ। তারা মানব বাগিচার শোভা। তাই ইসলাম অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নারীর প্রাপ্য যাবতীয় অধিকার প্রদান করেছে। নারীকে ইসলাম গৃহকর্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যান্য সম্প্রদায় ও মতবাদের সম্পূর্ণ বিপরীতে ইসলাম নারীর ব্যক্তিগত মালিকানা অনুমোদন করেছে। স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে স্বামীর সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বৈধতা ইসলাম শুধু স্বীকার করেনি; বরং উৎসাহিতও করেছে।
মন বাগিচার ফুল খ্যাত নারীকে ধন-সম্পদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছে ইসলাম। আর সেই সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের সব রকম ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে। তাকে সম্মানের আসনে সমাসীন করেছে। ইসলাম নারীর সামাজিক ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করেছে।
হযরত ওমর ফারুক রা. বলেন, ধর্মহীন অজ্ঞানতার যুগে নারীকে 'বিবেচনা করার উপযুক্ত' এমন কিছু মনে করতাম না। (অর্থাৎ সমাজজীবনে
তাদেরকে বিশেষত্ব অথবা গুরুত্ব দিতাম না) কিন্তু ইসলামের সাথে আমাদের পরিচিতির পর আল্লাহ তায়ালা নারীদের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব তুলে ধরতে স্বতন্ত্র আয়াত অবতীর্ণ করলে তাদের দায়িত্বে আমাদের প্রাপ্য থাকার ন্যায় আমাদের দায়িত্বেও তাদের প্রাপ্য থাকাকে আমরা উপলব্ধি করলাম। [বুখারি শরীফ]
গবেষণায় দেখা গেছে যে, কুরআন বর্ণিত উত্তরাধিকারী আইন ও নারীর অধিকারসমূহ ইউরোপীয় উত্তরাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর এবং তার ব্যাপ্তিও বেশি। নারীর প্রতিকৃতির সাথে এ আইনগুলোও সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নারীর অধিকার বিষয়ে কুরআন এবং হাদিস অত্যন্ত গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ইসলামই যে নারীকে অন্য সকল ধর্মের তুলনায় বেশি মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, তা অমুসলিমরাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। কতিপয় অমুসলিম ঐতিহাসিক ও প্রাজ্ঞ মনীষীর অভিমতই বলে দিবে যে, ইসলামই মূলত নারীর অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা, জিম্মাদার ও নারী স্বাধীনতার রক্ষক।
নারী স্বাধীনতা ও নারী অধিকার আন্দোলনের তথাকথিত ধ্বজাধারী গোষ্ঠী এবং ইসলামি শিক্ষার অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিবর্গের আত্মজাগরণ হওয়া দরকার। কেননা অসংখ্য অমুসলিম দার্শনিক, ঐতিহাসিক, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক এমনকি গির্জার পাদ্রী পর্যন্ত ইসলামকে 'নারী স্বাধীনতা ও নারীমুক্তি'র বার্তা বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
ইসলাম নারীদের কৃষ্টির ওপর অত্যন্ত সার্থক ও সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। ইসলাম লাঞ্ছনা-বঞ্চনা থেকে নারীকে মুক্তি দিয়ে তার মাথায় সম্মানের মুকুট পরিয়েছে। কম-বেশি সর্বক্ষেত্রে তাদের অবস্থাকে উন্নততর করেছে।
কুরআন বর্ণিত 'উত্তরাধিকার আইন ও নারীর অধিকারসমূহ' ইউরোপীয় উত্তরাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর। জীবনের একেকটি ক্ষেত্রকে আইনের সীমায় আনয়নের দিকে থেকে এর ব্যাপকতা বেশি এবং নারীর প্রকৃতির সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ড. মজিদ লিখেছেন- নারীর অবস্থা ও অবস্থানের ওপর ইসলামের অবদান কী তা আলোচনা করার উত্তম পদ্ধতি হলো ইসলামি দর্শন ও নারী সংক্রান্ত আইন কানুনের প্রভাবে পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে নারীরা কী অবস্থায় ছিল, তা অবহিত হওয়া।
কুরআনুল কারীমের কতক বিধিনিষেধ থেকে ইসলামের পূর্বে নারীদের সাথে কৃত আচরণ অনুধাবন করা যায়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বিবাহ কর না ঐ মেয়েদেরকে যাদেরকে ইতিপূর্বে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছেন। এটি অশ্লীল ও সর্বনাশা কাজ ও নিকৃষ্ট প্রথা। তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনী কন্যা, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে, দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা- যারা তোমাদের লালনপালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তাহলে এ বিবাহে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দু'বোনকে একত্রিত করা, তবে যা অতীত হয়ে গিয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।" [সূরা নিসা ২২-২৩]
এ আয়াতের বিধি-বিধান থেকেই বোঝা যায়, যারা এ সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলে তাদের কর্মপন্থা কতইনা মহৎ, কতইনা পবিত্র।
বিশেষজ্ঞ ড. মজিদ আরো লিখেন- ইসলাম নারী সম্পর্কিত যে বিধান প্রস্তাব করেছে, তা' নারীদেরকে কতটুকু প্রভাবিত করেছে এবং সে প্রভাব কতটুকু ইতিবাচক বা নেতিবাচক তা অনুধাবন করতে হলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আছে- এমন সমাজে, এমন যুগে নারীদের অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসলামি সংস্কৃতিতে নারীকে দেড় হাজার বছর আগেই সেই মর্যাদা দেয়া হয়েছে, যে মর্যাদা পাওয়ার জন্য ইউরোপের নারীরা আজ আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে।
📄 কার উসিলায় শিন্নি খাও
জীবন বাগানের শোভা নারী। তারা আমাদের পুষ্পকানন। নারীবিহীন জীবন খা খা মরূদ্যান। ইসলাম এ ফুলকে দিয়েছে অভূতপূর্ব মর্যাদা। ধর্মসমূহের মধ্যে ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা নারীদের অবস্থার উন্নতি সাধন করেছে। কারণ ইসলামপূর্ব যুগে আরবে অনেক ধর্ম প্রচলিত ছিল বটে; তখনকার সময়ে নারীদের অবস্থা খুব শোচনীয় ছিল। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, যে ইসলাম নারীকে এত মর্যাদায় সমাসীন করল, সেই ইসলামের বিরুদ্ধেই তথাকথিত নারীবাদীরা নাক ছিটকায়। যেই ইসলাম তাদেরকে বেঁচে থাকার অধিকার দিল, যে ইসলাম দিল তাদের সার্বিক নিরাপত্তা, সেই ইসলামের
কথায় তারা কপাল কুঁচকায়। তাই বলতে বাধ্য হই- 'কার উসিলায় শিন্নি খাও গো নারী!'
একমাত্র ইসলামই যে নারীকে প্রকৃত মর্যাদার আসন দিয়েছে তা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন বিশ্বের অনেক বিখ্যাত মনীষী। একই সাথে তারা এও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অন্য কোনো ধর্মই নারীকে মর্যাদা দেয়নি; উল্টো তাদের অধিকার খর্ব করেছে।
গ্রিসের বিখ্যাত চিকিৎসাবিজ্ঞানী ডাঃ গোসতাওলী চান। তিনি লিখেছেন, "গ্রিসে সাধারণত নারীদেরকে নিম্ন মর্যাদাসম্পন্ন সৃষ্টি মনে করা হতো। গার্হস্থ্য কাজকর্ম ও বংশ বৃদ্ধিই ছিল তার কাজ। কোনো নারীর গর্ভে অস্বাভাবিক সন্তান জন্ম নিলে ঐ নারীকে হত্যা করে ফেলা হতো।" তিনি আরো লিখেছেন যে, আগের যুগে নারীদের সাথে কী পরিমাণ কঠোরতা করা হতো, তা তাদের তৈরি আইনের ভাষায় পাঠ করুন- “তুফান, মৃত্যু, জাহান্নাম, বিষ ও বিষধর সাপ কোনো কিছুই এ পরিমাণ ক্ষতিকর নয়, যতটা ক্ষকিকর নারী। কিন্তু ইসলামই নারীকে প্রকৃত মর্যাদা দিয়েছে।"
বাইবেলেও ঠিক অনুরূপ লেখা আছে "নারী মৃত্যুর চেয়েও বেশি তিক্ত।"
বাইবেলের 'তৌরাতের নসীহতনামা' অধ্যায়ে লিখা আছে- খোদার প্রিয় ব্যক্তিরা নিজেকে নারী থেকে দূরে রাখবে। আমি হাজারো মানুষের মাঝে শুধু একজনকে (পুরুষ) প্রিয়তম পেয়েছি। কিন্তু জগতের সমগ্র নারীদের মধ্যে একজনকেও এমন পাইনি, যে খোদার প্রিয়। [তমদ্দুনে আরব: পৃ. ৩৭৬]
বিশিষ্ট ইউরোপিয়ান লেখক প্রফেসর ডিএস মারগুলিউল ইসলাম ও ইসলাম প্রবর্তক নবীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পোষণ, অপবাদ আরোপ, অভিযোগ উত্থাপন ও নিন্দাবাদের কোনো সুযোগকে কাজে লাগাতে ভুল করেননি। তিনি প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীগ্রন্থ 'লাইফ অব মুহাম্মদ' রচনা করেন।
এতে মনগড়া অভিযোগের প্রাচুর্যতা থাকা সত্ত্বেও এক জায়গায় লিখেন- "অজ্ঞানতার যুগে আরবগণ ছাড়াও ইহুদি, খ্রিস্টান কেউই কোনোদিন এটা কল্পনা করেনি যে, নারীরাও ইজ্জত, সম্মান ও ধন-সম্পদের অধিকারিণী হতে পারে।"
এই ধর্মগুলো নারীদেরকে তো অনুমতি দেয়নি যে, নারীরা কোনো জীবিকা অবলম্বন করে স্বাচ্ছন্দ্যে দিন কাটাবে। ঐ সমস্ত ধর্ম, কৃষ্টি ও সমাজে একেকজন নারী ছিল একেকজন ক্রীতদাসী। অবশেষে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে নারীকে স্বাধীনতা, স্বকীয়তা ও স্বনির্ভরতা দান করেছেন।
বিশিষ্ট বিদ্বান মানসিউরিফলের ভাষ্য হলো- "ইসলামের নবীর যুগের দিকে মনোনিবেশ করলে মনে হয়, তিনিই নারীর জন্য কল্যাণকর বিধি-বিধান প্রণয়ন করেন, অন্য কেউ করেননি। নারীর ওপর তাঁর অনুগ্রহ অনেক। কুরআনে নারীর অধিকার সম্পর্কিত অনেক উচ্চাঙ্গের আয়াত আছে।
নারীর অধিকারের আদর্শ মানদণ্ডের ধারক আইউর মান্যম 'দি লাইফ অব মুহাম্মদ' গ্রন্থে লিখেন- এ কথা কে অস্বীকার করতে পারে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা আরবদের জীবন এবং এর প্রথম বিষয় হলো- ইতোপূর্বে নারীদের যে সম্মান ছিল না, তা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষায় তারা পেয়েছে। দেহ ব্যবসা, সাময়িক বিবাহ, অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইতিপূর্বে বাঁদীরা মনিবের শুধু ভোগ্যপণ্য হিসেবে পরিগণিত হতো। ইসলাম তাদেরকে অধিকার প্রদান করেছে, মনিবকে তাদের প্রতি সদয় হতে বলেছে।
ডব্লিউ কিশ তার The expansion of Islam গ্রন্থে লিখেন- "ইসলামই সর্বপ্রথম নারী সমাজকে মানবাধিকার প্রদান করেছে এবং তাদেরকে তালাকের অধিকার দিয়েছে।"
ডব্লিউ লাইটার তার Mohammadanism is religious systems of The world গ্রন্থে লিখেন- "মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীকে যে সম্মানের আসনে আসীন করেছেন তা পাশ্চাত্য সমাজ ও অন্যান্য ধর্মে ছিল না।"
প্রফেসর রাম কৃষ্ণ রাও কয়েক বছর পূর্বে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনীর ওপর "ইসলামের পয়গম্বর মোহাম্মদ" নামে একটি বই রচনা করেন। এতে ইসলাম ও আধুনিক সভ্যতা পর্যালোচনা করার পর তিনি লিখেন, "ইসলাম নারীকে পুরুষের দাসত্ব করা থেকে মুক্তি দিয়েছে। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষ যেন পূর্বপুরুষের পাপ-পঙ্কিলতা থেকে মুক্ত থাকে। পুরুষ-নারী একই মৌল উপাদান থেকে সৃষ্ট। উভয়ের একই রকম আত্মা এবং মানসিক ও চারিত্রিক যোগ্যতা সমান হয়ে থাকে।"
তিনি আরো লিখেন, “আরবের এ শিকড় গাঁড়া রীতি ছিল যে, বর্শা ও তলোয়ার ব্যবহার করতে সক্ষমরা একমাত্র উত্তরাধিকারী হতে পারবে। কিন্তু ইসলাম দুর্বল-অসহায় লোকদের পক্ষাবলম্বন করেছে। নারীকে পিতা-মাতার
উত্তরাধিকারিণী সাব্যস্ত করেছে। কয়েক শত বছর পূর্বে ইসলাম নারীকে সম্পদের মালিকানার অধিকার দিয়েছে। তার ১৩ শত বছর অতীত হওয়ার পর ১৮৮১ ইংরেজিতে গণতন্ত্রের জনক ইংল্যান্ড ইসলামের সে নীতি আঁকড়ে ধরেছে এবং সে নীতিকে 'বিবাহিত নারীর আইন' নামকরণ করে নিজেদের আইনের অন্তর্ভুক্ত করেছে। পয়গাম্বরে ইসলাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনেক দিন পূর্বেই ঘোষণা করেছেন যে, "নারী পুরুষের অর্ধাংশ পাবে, নারীর অধিকার পবিত্র, তা থেকে নারী যেন বঞ্চিত না হয়', সে দিকে লক্ষ্য রাখবে।"
বিশিষ্ট খ্রিস্টান লেখিকা মিসেস এ্যানী বেসেন্ট তার রচিত The life and teaching of Mohammad গ্রন্থে 'ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার' সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে এক জায়গায় লিখেন, "স্মরণ রেখ, ইসলামি বিধান- যার কিয়দাংশ ইংল্যান্ডেও চালু হয়েছে। যা নিশ্চয় সম্পূর্ণ ন্যায়ানুগ ও যুক্তিযুক্ত। সম্পত্তি ও তালাক সম্পর্কিত ইসলামি বিধি পশ্চিমা থেকে অনেক অগ্রগণ্য। আমরা আজকে যেগুলোকে নারী অধিকারের নীতি মনে করি তার তুলনায় ইসলামি নীতি নারীদের অধিকার অনেক ব্যাপকতর করেছে।"
'দি রিলিজিয়ন হিস্ট্রি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড'-এর লেখক জেএম রবার্টস ইসলামে নারীর অধিকার সম্পর্কে লিখেছেন- "ইসলামের আগমন অনেক দিক বিবেচনায় বিপ্লবাত্মক। দৃষ্টান্ত স্বরূপ বলা যায়, ইসলাম মালিকানা অর্জনে আইনগতভাবে নারীর অধিকারের অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ এ অধিকার খ্রিস্টীয় উনিশ শতক পর্যন্ত ইউরোপীয়ান অধিকাংশ রাষ্ট্রে বিদ্যমান ছিল না। ইসলামে গোলামেরও অধিকার ছিল। ঈমানদার লোকদের মাঝে কোনো শ্রেণিভেদ ছিল না। আর না ছিল কোনো জন্মগত বিভেদ। এই বিপ্লবের মূলে ছিল এমন কিছু ধর্মীয় নীতিমালা, যার ভিতরে সবকিছুই নিহিত রয়েছে।'
মোটকথা, ইসলামই নারীকে বেঁচে থাকার প্রকৃত স্বাধীনতা দিয়েছে। ইসলাম পুরুষকে নারীর অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে জোর তাগিদ দিয়েছে। তারপরও আজকের কথিত নারীবাদীরা ইসলামের নাম শুনলে মুখ ভেংচি কাটে। তাই তাদের উদ্দেশ্যে বলতে বাধ্য হই হে নারী! কার উসিলায় শিন্নি খাও চিনলা না!
📄 অবক্ষয়ের টর্নেডো
সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ে চারপাশ বিষিয়ে ওঠছে। ক্রমেই এ অবক্ষয় মহামারি আকার ধারণ করছে। এ অবক্ষয়ের টর্নেডোতে সব লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ছে। তাই এ অবক্ষয়রোধে সকলের আন্তরিকতাপূর্ণ অংশগ্রহণ জরুরি। প্রথমে এই রোগ শনাক্ত করতে এমন চিকিৎসকের কাছে গমন করা প্রয়োজন যার এ বিষয়ে দক্ষতা, পারঙ্গমতা ও অভিজ্ঞতা। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রে রোগ শনাক্ত হলেও সত্যিকারের চিকিৎসক কিংবা প্রকৃত চিকিৎসা লাভ করা সম্ভব হয় না। ফলে আমাদেরকে রোগ নিয়েই চলাফেরা করতে হয়।
সত্যিকারের রোগ প্রতিরোধের জন্য সত্যিকারের দুনিয়াবিমুখ আলেমে দীনের কাছে গমন করা জরুরি। তাদের পরামর্শ শুনুন। আর সেই মতে চলুন। আচ্ছা! বলুন তো, এই যে গণহারে পরীক্ষাগুলো হয়, এতে দীনের লেশমাত্র আছে কি?
আমার যুক্তি হলো, যে প্রশিক্ষক মসজিদে থাকেন, মানুষের হৃদয় দখল করে আছেন এবং কথা ও কাজে তাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন, তাদের কাছে কোনো পরীক্ষা নির্দেশক নেই, সফলতা-ব্যর্থতা নেই। তারপরও তিনি এসব করতে পেরেছেন, অজেয়কে জয় করে নিয়েছেন।
আমার কথা থেকে একথা ভাবার মোটেই অবকাশ নেই যে, আমি দীনি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিরোধী। কখনও নয়; বরং আমি তার জোরালো পক্ষপাতী। উপরন্তু আমি এখানেই বেশি সময় ব্যয়ের কথা বলি। আমরা যদি অন্যায়-অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলি, বিয়ে প্রথার সহজায়ন করি; অথচ আত্মিক উন্নতি সাধন এবং দীনি দায়িত্ববোধ অর্জন করতে না পারি, তাহলে এসব আমাদের কোনো কাজে আসবে না।
তাই জীবনের সকল ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে, আল্লাহর ভয়ই হলো সর্বোচ্চ ও সর্বাধিক কার্যকর শক্তি। যদি এই শক্তি অর্জিত না হয়, তাহলে নীতি-নৈতিকতা, চারিত্রিক উৎকর্ষ এবং সাংবিধানিক আইন- কোনো কিছু দিয়েই এর ক্ষতি পূরণ করা যাবে না।
কারণ, নীতি অটুট থাকে পুলিশের উপস্থিতি পর্যন্ত। একই সাথে চরিত্র বহাল থাকে মানুষের দৃষ্টির সম্মুখ পর্যন্ত। এখন কেউ যদি মানুষ ও পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতে পারে, তাহলে সাথে সাথে নীতি ও চরিত্র দুটোই অবনতি।
ঘটবে অবশ্যম্ভাবীরূপে। এটিই বাস্তবতা। কিন্তু তার মধ্যে যদি আল্লাহ তায়ালার ভয় থাকে তাহলে তার দ্বারা গোচরে কিংবা অগোচরে কোনোভাবেই অপরাধ সংঘটিত হওয়া সম্ভব নয়। তাই জীবনপথের সবচেয়ে বড় মাধ্যম হলো আল্লাহর ভয়।
মানুষের সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য হলো, তারা লাভ সামনে রেখে কাজ করে। জগতে এমন কেউ আছে কি, যে প্রচণ্ড ক্ষুধা পেটে চেপে জীবনের একমাত্র সম্বল দুটি পয়সা মানুষের অগোচরে লুকিয়ে রাখবে এবং না খেয়ে সময় পার করতে থাকবে?
আপনারাই বলুন তো, কে এমন ব্যক্তি?
হ্যাঁ, তিনি হলেন মুমিন ব্যক্তি। তিনিই সত্যিকারের মুমিন ব্যক্তি। তিনিই এমন করতে পারেন; বরং এর চেয়ে বেশিও করতে পারেন।
কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে, পরকালে মহান আল্লাহ এক পয়সার বিনিময়ে বহুগুণ বাড়িয়ে দিবেন এবং জগতের সাধারণ ক্ষুধার তিক্ততাকে পরলোকের অসাধারণ মিষ্টতায় পরিণত করে দিবেন।
সত্যিকারের মুমিন ব্যক্তির মাঝে সবসময় আল্লাহ তায়ালার ভয় বিরাজমান থাকে। ফলে তার দ্বারা কোনো লজ্জাহীন কাজ করা সম্ভব হয় না। লজ্জাশীলতাকে মানুষের ধর্মগত নৈতিক স্বভাব ও আখলাক স্বীকৃতি দিয়ে এ মর্মে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা দিয়েছেন- إِنَّ لِكُلِّ دِيْنٍ خُلُقًا وَ خُلُقُ الْإِسْلَامِ الْحَيَاءُ.
প্রত্যেক দীনেরই একটি নৈতিক স্বভাব ও আখলাক রয়েছে। আর ইসলামের সেই আখলাক বা নৈতিক চরিত্রটি হচ্ছে লজ্জাশীলতা।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন- الْحَيَاءُ مِنَ الْإِيْمَانِ وَالْإِيْمَانُ فِي الْجَنَّةِ.
লজ্জাশীলতা হচ্ছে ঈমানের অঙ্গ আর ঈমানের ঠিকানা হচ্ছে জান্নাত।
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- الْحَيَاءُ وَالْإِيْمَانُ قَرْنَا جَمِيعًا .
লজ্জাবোধ ও ঈমান হচ্ছে এক সাথে মিলিত ভূস্বরূপ। একটির অবর্তমানে অপরটির বিয়োগ অনিবার্য।
তাই যে মুমিন একমাত্র আল্লাহকে ভয় করেন তিনি সবসময় অশ্লীলতাকে লজ্জা করে কল্যাণের কাজে নিয়োজিত এবং অকল্যাণ থেকে বিরত থাকেন। চাই একাধিক হোক বা মানুষের সাথে হোক। কারণ, তিনি বিশ্বাস রাখেন যে, আল্লাহ তার সাথে আছেন, তিনি সর্বদা তাকে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, ভালো-মন্দ যা কিছুই করা হোক না কেন, এগুলোর কোনোটিই বৃথা যাবে না; বরং আল্লাহর কাছে অচিরেই এসবের প্রতিদান মজুদ পাবেন। আর তার সব সাধনা যেই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে, তাহলো মাওলার দীদার। প্রেমিক যেমন তার প্রেয়সী কিংবা প্রেমাস্পদের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করেন, প্রকৃত আল্লাহপ্রেমিক আশিকও মাওলার সাক্ষাৎলাভের আশায় সব করে থাকেন।
তাই এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, সামাজিক অবক্ষয় কিংবা নৈতিক অবক্ষয়ের টর্নেডো রোধের একমাত্র মাধ্যম হলো আল্লাহভীতি।