📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 অপরূপার দীঘল কেশ

📄 অপরূপার দীঘল কেশ


নারীর অন্যতম শোভা হলো কালো দীঘল কেশ। তাদের ঢেউ খেলানো চুল নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা অসংখ্য কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন। কিন্তু অপরূপা নারীর সেই দীঘল কেশ যেন আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আজ কথিত আধুনিকতার দাবিদাররা মেয়েদের চুলও পুরুষের মতো ছোট করে রাখতে প্ররোচিত করছে।
আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলের যত্ন নিতে বলেছেন। বর্ণিত আছে, একদা এক ব্যক্তি উসকো খুশকো চুল নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এলেন। তখন নবীজি তাকে বললেন, তোমার কি চিড়ুনি নেই? [সুনানু আবি দাউদ]
এ থেকে বোঝা যায়, ইসলাম চুল আঁচড়িয়ে পরিপাটি রাখাকে উৎসাহিত করেছে। খোদ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় তেল ব্যবহার করতেন এবং তা পরিপাটি করে রাখতেন। [শামায়েল]
ইসলাম নারীদের চুল লম্বা এবং পুরুষের চুল ছোট রাখতে উৎসাহিত করেছে। অথচ আজকের পরিবেশ তার বিপরীত। ইদানীং নারীরা চুল খাটো করে এবং ছেলেরা ফ্যাশনেবল লম্বা চুল রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে।
ইদানীং চুলের নানা ফ্যাশন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি এতে যে ইসলামি ভদ্রতার প্রতীক রয়েছে, তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। চুলের ফ্যাশন হাল আমলে আধুনিকতার দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, কিছু কিছু তরুণী আছে, যারা এমনভাবে চুলের ফ্যাশন করে, হঠাৎ দেখলে তাদেরকে ভিন্ন গ্রহের আজব কোনো প্রাণীর মতো মনে হয়।
চুলের এই ফ্যাশনে প্রতিদিনই নতুন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। মনে হয় চুলের রাজ্যে ফ্যাশনের তাড়া খেয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটছে ফ্যাশনেবল তরুণীর দল। তারা স্থির করে বলতে পারছে না
কেমন চুল, কেমন স্টাইল তাদের কাম্য কিংবা পছন্দ। তারা ভুলে গেছে, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। পাশ্চাত্যের ভাড়া করা কালচার লালনেই তারা তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলছে।
অভিশপ্ত ফ্যাশনের নির্মম শিকার এই সমাজে এখন নর-নারীর পার্থক্য পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। কে ছেলে আর কে মেয়ে নির্ণয় করা হয়ে পড়েছে ভীষণ মুশকিল।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের প্রতি এবং পুরুষদের বেশধারী নারীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। (অর্থাৎ যারা বেশ-ভূষায় একে অপরের রূপ ধারণ করে, তাদের প্রতি অভিশাপ করেছেন)। [বুখারি, মা'আরিফুল হাদিস : ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৯৪ পৃ.]
এ কথা অনস্বীকার্য যে, নারীর সৌন্দর্য চুলে। কিন্তু ইদানিং দেখা যায় নারীরা চুল কেটে এতো ছোট করে ফেলে যে, এটা দেখে বোঝা যায় না যে, সে ছেলে নাকি মেয়ে। অথচ নারীর লম্বা চুল তার জন্য কত উপকারী তা যদি সে জানত তবে কখনো চুল কেটে ছোট করত না।
কানাডার ফিজিওথেরাপিস্ট স্যার জেমস সাগাম এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, মেয়েদের দীঘল কেশ তার ত্বক, দেহ, মস্তিষ্ক, শিরা-উপশিরার খিঁচুনি, মাথা ব্যথা, হাড়ের রোগের ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি থেকে অনেকাংশে রক্ষা করে।
কোনো মেয়ে যদি সবসময় তার চুলগুলো কেটে কান বরাবর রাখে তবে তার উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলো হতে পারে। আর দীঘল তথা লম্বা চুল এগুলো থেকে বাঁচিয়ে রাখে। কারণ এর ফলে মাথা বার বার আঁচড়ানো হয়, বেণী কাটা হয়, ফিতা তোলা হয়, আর মাথা আঁচড়ানোর দ্বারা এক প্রকার উষ্ণতা এবং শরীরে এনার্জি সৃষ্টি হয়। যা পশম বা চুলের মাধ্যমে শরীরের শিরাতন্ত্রীকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে। এমন কি নিয়মিত চুল আঁচড়ালে চুল বৃদ্ধি পায় এবং ঘন হয়।
মাথার চুল আঁচড়ানোর আরেকটি হেকমত হলো, যদি চুল আঁচড়ানো না হয় তবে তাতে জীবাণু আটকে থাকে। যা চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এক সময় তা ভয়াবহ রূপ নেয়। চুল না আঁচড়ালে উকুন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুলের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা খুবই জরুরি। মাথার ত্বকের অপরিচ্ছন্নতা থেকে রোগব্যাধির জন্ম হতে পারে এবং অন্যত্রও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষত চুলের গোড়ায় যে খুশকি হয় তা চুল পড়ে যাওয়া এবং টাক পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাথার খুশকির কারণে আবার চোখেও রোগ হতে পারে। তাই মাথার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত।
নারীদের সৌন্দর্য লম্বা কেশের সাথে অধিক সম্পর্কিত। তাই ইসলামি জীবনব্যবস্থায় নারীদের চুল কমানো ও পশম কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের গবেষণায় জানা যায় যে, যখন নারীদের এ চুল কেটে বা ছেঁটে ফেলা হয় বা বিশেষ হেয়ার বিন্যাস করা হয়, তখন নারী দেহে নানা রূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারীদের চুল বৃদ্ধি তাদের সুস্থতা ও সবলতার জন্য অতীব জরুরি। কেননা তাদের চুল যত বৃদ্ধি পাবে, ততই তাদের ধৈর্য-সহনশীলতা, কমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে। আর অসংখ্য রোগ-ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে তারা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মহিলাদের জিন ও হরমোন আর পুরুষদের জিন ও হরমোনে আকাশ-জমিন পার্থক্য। এ কারণে পুরুষের চুল কাটা বা মুণ্ডানোর কাজ তাদের জন্য অনেক বেশি উপকারী। পক্ষান্তরে এর বিপরীতে ঐ নারী জাতি যাদের চুল কুদরতিভাবে লম্বা ও ঘন হয়, তারা যদি সে চুল কাটে, ছাঁটে বা মুণ্ডায়, তাহলে তাদের দেহে এমন ব্যাধি দেখা দেয়, যার বিবরণ ব্যাধির তালিকায় বিদ্যমান। এরূপ নারীরা দৈহিক রোগ-ব্যাধি যথা ডিপপ্রেসার, ফাস্টেশন, এনজাইটি ও আত্মহত্যার শিকার বেশি হয়।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 মেহেদিরাঙা হাত

📄 মেহেদিরাঙা হাত


কবি-সাহিত্যিকদের ছন্দের অন্যতম উপাদান নারী। নারীকে নিয়ে কল্পনা করেনি কিংবা নারীর প্রেমে পাগল হয়নি, এমন কবি, সাহিত্যিক কিংবা লেখক পাওয়া ভারী মুশকিল। তাদেরই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, নারীর দেহের যে কয়টি অঙ্গ পুরুষের চোখে আকর্ষণীয় তন্মধ্যে হাত অন্যতম। যুবতি কিংবা তরুণীর মেহেদিরাঙা হাতের দিকে নজর দেয়নি এমন যুবক কিংবা তরুণ খুব কমই পাওয়া যাবে। তাই নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হাতকে প্রদর্শন হতে হেফাজত করা তার নিজের জন্যই অপরিহার্য।
ইসলামি পর্দাবিধানের পরিপূর্ণতা ও তাকওয়া হিসেবে ইসলামি চিন্তাবিদগণ মেহেদিরাঙা কোমল হাতকে ঢেকে রাখাকে জরুরি মনে করেছেন। মূলত ইসলামি বিধানের প্রতিটি নিয়মের মাঝে যেমন পরকালীন মুক্তি রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইহকালীন কল্যাণও।
নারীর হাত ঢেকে রাখাকে ইসলামি শরিয়ত বাধ্যতামূলক না করলেও হাত মোজাকে ওলামা মাশায়েখগণ তাকওয়ার পোশাক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- 'নারীর সমগ্র দেহই সৌন্দর্য স্বরূপ।'
হাত নারীর অন্যতম সৌন্দর্য প্রকাশকারী অঙ্গ। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
অর্থাৎ, তারা যেন প্রকাশ না করে তাদের সৌন্দর্য শুধুমাত্র ততটুকু ব্যতীত যতটুকু স্বভাবতই প্রকাশ হয়ে পড়ে। (সূরা আন নূর: ৩১]
এ আয়াতের ব্যাখ্যা হলো, হাত যদিও স্বভাবগত দিক থেকে প্রকাশ হয়ে পড়ে না। তথাপি যেসব কারণে নারীর চেহারা ঢেকে রাখাকে ফোকাহায়ে কেরাম আবশ্যক মনে করেছেন, সেই একই কারণে হাত ঢেকে রাখাকেও আবশ্যক মনে করে থাকেন। আর এ কারণেই হাত মোজা পরার নিয়ম চালু হয়েছে।
এতক্ষণ হাত মোজা পরার শরয়ি যৌক্তিকতা পেশ করা হলো। এবার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এর উপকারিতা প্রদত্ত হলো।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, যেসব নারী তাদের হাতসহ শরীরের নানা অঙ্গ খোলা রাখে তারা ম্যালানোমা নামের এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিশ্বে প্রতি ৬২ মিনিটে একজন নারী মারা যায় ম্যালানোমা রোগে আক্রান্ত হয়ে। এতৎপ্রাসঙ্গিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ভাষ্য হলো- "About 65 percent of melanoma cases can be attributed to ultraviolet (UV) radiation from the sun."
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যালানোমা রোগের আশঙ্কা মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের ত্বক কোমল আর বেশি নার্ভ ফাইবার থাকার দরুন
তাদের ত্বকের প্রতি স্কয়ার সেন্টিমিটারে ৩৪ নার্ভ ফাইবারস আর পুরুষের মাত্র ১৭। আর এ কারণেই নারীর ত্বকের সুরক্ষার জন্য হাত মোজা পরাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ কল্যাণকর মনে করেছেন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, যাদের কোমল হাত মোজায় ঢেকে থাকে তাদের হাত নানা চর্মরোগ তথা খুজলি, চুলকানি, অ্যাকজিমা, দাদ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ মোজায় হাত ঢেকে থাকার কারণে তাদের হাত ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
আজকের আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণী তাদের হাতকে কোমল ও মসৃণ রাখতে হাত মোজা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এটি মূলত ইসলামি বিধানেরই সংস্করণ। দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামের হাত মোজা পরার নিয়মকে এক শ্রেণির কথিত ফ্যাশনী নারী অবজ্ঞাচ্ছলে ভ্রু কুঁচকালেও বর্তমানে তারা এসবকে নিজেদের ত্বক সুরক্ষার উপায় বলে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 পায়ে তার নূপুরের ছন্দ

📄 পায়ে তার নূপুরের ছন্দ


নারীর আপাদমস্তকই মূল্যবান সম্পদ। তরুণীর পায়ের নূপুরের ছন্দ মন – কাড়েনি এমন যুবকের সংখ্যা কম নয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, নারীর সমগ্র দেহটিই সৌন্দর্যের সমাহার। যুক্তির কথা হলো, যে কোনো মূল্যবান জিনিস ঢেকে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বুদ্ধিদীপ্ততার পরিচয় হলো, দামি জিনিসকে একেবারে খোলামেলা না রাখা।
আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর পায়ের তালু পর্যন্ত পুরো শরীরটাকেই পর্দাভুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, তা ঢেকে রাখার উপকারিতা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু কথিত আধুনিকতার দাবিদাররা এতদিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে 'মান্ধাতার আমলের' বলে মুখ ভেংচি কাটতো। কিন্তু দেড় হাজার বছর পর এসে আজ বিজ্ঞানীরা এর সত্যতা প্রমাণ পেয়েছে!
কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [সূরা নূর: ৩১]
এই আয়াতাংশে নারীকে সজোরে পদচারণা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে তাদের পায়ের অলংকার, বেড়ি, ঝুমুর, নূপুর ইত্যদি সম্বন্ধে বেগানা পুরুষ অবহিত হতে না পারে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পরতে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে। পক্ষান্তরে মেয়েরা তাদের কাপড় বা পায়জামা টাখনুর নিচে পরবে এবং পরিপূর্ণ পর্দা করে চলবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি: ৫৩৭১/
চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ বলেছেন যে, পুরুষের পায়ের পাতার অংশে প্রচুর পরিমাণে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
তদ্রুপ মেয়েলোকের হরমোন কম থাকে এবং তা ঢেকে রাখার প্রয়োজন হয়। যদি কোনো নারী তা ঢেকে না রাখে এবং খোলা রাখে তবে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং যৌনবাহিত ও নারীবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, যেসব নারী পা খুলে খোলামেলা চলাফেরা করে, তাদের সিফিলিস, গনোরিয়া, বহুমূত্র এবং কৃমির রোগ দেখা দেয়। তাদের চুলপড়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, যেসব নারী তাদের পাসহ শরীরের নানা অঙ্গ খোলা রাখে তারা ম্যালানোমা নামের এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যালানোমা রোগের আশঙ্কা মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের ত্বক কোমল আর বেশি নার্ভ ফাইবার থাকার দরুন তাদের ত্বকের প্রতি স্কয়ার সেন্টিমিটারে ৩৪ নার্ভ ফাইবারস আর পুরুষের মাত্র ১৭। আর এ কারণেই নারীর ত্বকের সুরক্ষার জন্য হাত মোজা ও পা মোজা পরাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ কল্যাণকর মনে করেছেন।
যাদের পা মোজায় ঢেকে থাকে তাদের পা নানা চর্মরোগ তথা খুজলি, চুলকানি, অ্যাকজিমা, দাদ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ মোজায় পা ঢেকে থাকার কারণে তাদের হাত ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী পায়ের টাখনুর নিচের অংশ খোলা রেখে চলে, তাদের পায়ের নখের নানা রোগ দেখা দেয়। নখ হালকা হয়ে যাওয়া, নখ ভেঙে যাওয়া, কালচে হওয়া, নখচিপা রোগ, নখের ভেতরে পুঁজ জমা, নখের ব্যথা করাসহ নানা রোগ তাদেরই বেশি হয় যারা পা খোলা রেখে চলে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এক সময় মানুষ ক্রমেই ইসলামি অনুশাসনকে নিজেদের কল্যাণ মনে করতে থাকবে।
সত্যিই আজ নিজের অজান্তেই অনেকে ইসলামি বিধানকেই সর্বাধুনিক এবং ফ্যাশন বলে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।
এক সময় দাড়ি রাখাকে কথিত সভ্যতা ও আধুনিকতার পরিপন্থী বলে মনে করা হতো। আজ অনেকেই দাড়ি রাখাকে স্টাইল হিসেবে নিয়ে থাকেন। বিখ্যাত ফুটবলার, ক্রিকেটার, কুস্তিবিদ ও নায়কের সাম্প্রতিককালের রাখা দাড়ির স্টাইল ভক্তবৃন্দের মাঝে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। আধুনিক দাবিদার যুবকরা নিজেদেরকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের এক মাধ্যম মনে করেন দাড়িকে।
আবার এক সময় পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরাটা তথাকথিত ফ্যাশন বলে মনে করা হতো। কে কতো লম্বা ও পায়ের পাতা মুড়িয়ে এমনকি পায়ের পাতা পর্যন্ত প্যান্ট জুতার ভেতরে ঢুকিয়ে পরাকে আধুনিকতা মনে করা হতো। কিন্তু আজকের আধুনিকতার দাবি হলো খাটো প্যান্ট পরা। তাইতো হাফ কোয়ার্টার তথা টাখনুর উপর হাঁটুর নিচ পর্যন্ত প্যান্ট পরাটাকে এখন আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। দেখুন আজ হতে দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, পুরুষের টাখনুর যে অংশ অহংকারবশত কাপড়ে ঢেকে থাকে, তা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি ও মুসলিম]
সুদীর্ঘকাল এ সত্যতা অনেকের বুঝে না আসলেও এখন সেই বিধানকেই কল্যাণকর মনে করা হয়ে থাকে। তাইতো এ কথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন পায়ের পাতা ঢেকে রাখাটাকেই মেয়েরা প্রকৃত আধুনিকতা মনে করতে বাধ্য হবে।
ইদানীংকালে আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণী তাদের নূপুরপরা পা-কে কোমল ও মসৃণ রাখতে পা মোজা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। কলেজ ভার্সিটিতে মেয়েরা পা মোজা পরাটাকে অন্যতম ফ্যাশন মনে করতে শুরু করেছে। কারণ পা মোজায় ঢেকে থাকার কারণে একদিকে যেমন তাদের ত্বক সুরক্ষা হয়, তেমনি পায়ের দোষগুলো অন্যের সামনে ফুটে ওঠে না। এটি মূলত ইসলামি বিধানেরই সংস্করণ।
দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামের পা মোজা পরার নিয়মকে এক শ্রেণির কথিত ফ্যাশনি নারী অবজ্ঞাচ্ছলে ভ্রু কুঁচকাত। তারা মনে করত যে, পা মোজা পরা তো মোল্লাদের পরিবারের মেয়েদের কাজ। তবে আশার কথা হলো, আজকের আধুনিক নারীরা তাদের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেই পা মোজা ব্যবহার করা শুরু করেছে।
তাই চিরন্তন ফ্যাশনের ধর্ম ইসলাম যুবতি, তরুণী নির্বিশেষে সব নারীকে আহ্বান জানাচ্ছে তাদের কোমল পা-কে মোজায় ঢেকে রাখতে।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 কোন কাননের ফুল গো তুমি

📄 কোন কাননের ফুল গো তুমি


ফুলকে ভালোবাসে না এমন মানুষ পাওয়া যাবে না। নারী ফুলতুল্য। ফুলকে যেমন সবাই ভালোবাসে, নারীকে কেউ ভালো না বেসে পারে না। নারী হলো মন বাগিচার ফুল। তার সৌরভ ও সুগন্ধিতে পুরুষ হয় মাতোয়ারা।
নারী মানবসভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু ও মূলস্তম্ভ। তারা মানব বাগিচার শোভা। তাই ইসলাম অত্যন্ত সম্মানজনকভাবে নারীর প্রাপ্য যাবতীয় অধিকার প্রদান করেছে। নারীকে ইসলাম গৃহকর্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। অন্যান্য সম্প্রদায় ও মতবাদের সম্পূর্ণ বিপরীতে ইসলাম নারীর ব্যক্তিগত মালিকানা অনুমোদন করেছে। স্বামীর সাথে বনিবনা না হলে স্বামীর সম্মতিতে বিবাহ বিচ্ছেদ করে দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার বৈধতা ইসলাম শুধু স্বীকার করেনি; বরং উৎসাহিতও করেছে।
মন বাগিচার ফুল খ্যাত নারীকে ধন-সম্পদের উত্তরাধিকারী বানিয়েছে ইসলাম। আর সেই সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের সব রকম ব্যবহারের অধিকার দিয়েছে। তাকে সম্মানের আসনে সমাসীন করেছে। ইসলাম নারীর সামাজিক ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করেছে।
হযরত ওমর ফারুক রা. বলেন, ধর্মহীন অজ্ঞানতার যুগে নারীকে 'বিবেচনা করার উপযুক্ত' এমন কিছু মনে করতাম না। (অর্থাৎ সমাজজীবনে
তাদেরকে বিশেষত্ব অথবা গুরুত্ব দিতাম না) কিন্তু ইসলামের সাথে আমাদের পরিচিতির পর আল্লাহ তায়ালা নারীদের বিশেষত্ব ও গুরুত্ব তুলে ধরতে স্বতন্ত্র আয়াত অবতীর্ণ করলে তাদের দায়িত্বে আমাদের প্রাপ্য থাকার ন্যায় আমাদের দায়িত্বেও তাদের প্রাপ্য থাকাকে আমরা উপলব্ধি করলাম। [বুখারি শরীফ]
গবেষণায় দেখা গেছে যে, কুরআন বর্ণিত উত্তরাধিকারী আইন ও নারীর অধিকারসমূহ ইউরোপীয় উত্তরাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর এবং তার ব্যাপ্তিও বেশি। নারীর প্রতিকৃতির সাথে এ আইনগুলোও সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নারীর অধিকার বিষয়ে কুরআন এবং হাদিস অত্যন্ত গুরুত্ব তুলে ধরেছে। ইসলামই যে নারীকে অন্য সকল ধর্মের তুলনায় বেশি মর্যাদা ও সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে, তা অমুসলিমরাও স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। কতিপয় অমুসলিম ঐতিহাসিক ও প্রাজ্ঞ মনীষীর অভিমতই বলে দিবে যে, ইসলামই মূলত নারীর অধিকারের প্রতিষ্ঠাতা, জিম্মাদার ও নারী স্বাধীনতার রক্ষক।
নারী স্বাধীনতা ও নারী অধিকার আন্দোলনের তথাকথিত ধ্বজাধারী গোষ্ঠী এবং ইসলামি শিক্ষার অনুসন্ধিৎসু ব্যক্তিবর্গের আত্মজাগরণ হওয়া দরকার। কেননা অসংখ্য অমুসলিম দার্শনিক, ঐতিহাসিক, চিন্তাবিদ, সাহিত্যিক এমনকি গির্জার পাদ্রী পর্যন্ত ইসলামকে 'নারী স্বাধীনতা ও নারীমুক্তি'র বার্তা বলে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে।
ইসলাম নারীদের কৃষ্টির ওপর অত্যন্ত সার্থক ও সুগভীর প্রভাব ফেলেছে। ইসলাম লাঞ্ছনা-বঞ্চনা থেকে নারীকে মুক্তি দিয়ে তার মাথায় সম্মানের মুকুট পরিয়েছে। কম-বেশি সর্বক্ষেত্রে তাদের অবস্থাকে উন্নততর করেছে।
কুরআন বর্ণিত 'উত্তরাধিকার আইন ও নারীর অধিকারসমূহ' ইউরোপীয় উত্তরাধিকার ও নারী অধিকার সংক্রান্ত আইনের তুলনায় অনেক বেশি কল্যাণকর। জীবনের একেকটি ক্ষেত্রকে আইনের সীমায় আনয়নের দিকে থেকে এর ব্যাপকতা বেশি এবং নারীর প্রকৃতির সাথে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ফ্রান্সের প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ ড. মজিদ লিখেছেন- নারীর অবস্থা ও অবস্থানের ওপর ইসলামের অবদান কী তা আলোচনা করার উত্তম পদ্ধতি হলো ইসলামি দর্শন ও নারী সংক্রান্ত আইন কানুনের প্রভাবে পরিবর্তিত হওয়ার পূর্বে নারীরা কী অবস্থায় ছিল, তা অবহিত হওয়া।
কুরআনুল কারীমের কতক বিধিনিষেধ থেকে ইসলামের পূর্বে নারীদের সাথে কৃত আচরণ অনুধাবন করা যায়। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, "বিবাহ কর না ঐ মেয়েদেরকে যাদেরকে ইতিপূর্বে তোমাদের পিতা-পিতামহ বিবাহ করেছেন। এটি অশ্লীল ও সর্বনাশা কাজ ও নিকৃষ্ট প্রথা। তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে তোমাদের মাতা, কন্যা, বোন, ফুফু, খালা, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিনী কন্যা, তোমাদের সে মাতা যারা তোমাদেরকে দুধ পান করিয়েছে, দুধ বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মাতা, তোমরা যাদের সাথে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা- যারা তোমাদের লালনপালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তাহলে এ বিবাহে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই। তোমাদের ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী এবং দু'বোনকে একত্রিত করা, তবে যা অতীত হয়ে গিয়েছে, নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল দয়ালু।" [সূরা নিসা ২২-২৩]
এ আয়াতের বিধি-বিধান থেকেই বোঝা যায়, যারা এ সমস্ত বিধিনিষেধ মেনে চলে তাদের কর্মপন্থা কতইনা মহৎ, কতইনা পবিত্র।
বিশেষজ্ঞ ড. মজিদ আরো লিখেন- ইসলাম নারী সম্পর্কিত যে বিধান প্রস্তাব করেছে, তা' নারীদেরকে কতটুকু প্রভাবিত করেছে এবং সে প্রভাব কতটুকু ইতিবাচক বা নেতিবাচক তা অনুধাবন করতে হলে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত আছে- এমন সমাজে, এমন যুগে নারীদের অবস্থা পর্যালোচনা করতে হবে।
ঐতিহাসিকভাবে ইসলামি সংস্কৃতিতে নারীকে দেড় হাজার বছর আগেই সেই মর্যাদা দেয়া হয়েছে, যে মর্যাদা পাওয়ার জন্য ইউরোপের নারীরা আজ আন্দোলন করতে বাধ্য হচ্ছে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00