📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 সমান অধিকার

📄 সমান অধিকার


আল্লাহ তায়ালা নারী-পুরুষ সৃষ্টি করেছেন। প্রকৃতিগতভাবে প্রত্যেকের মধ্যেই এমন উপাদান যুক্ত করা হয়েছে। যার কারণে একজন অন্যজনের দিকে ঝুঁকে পড়ে, পরস্পরের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে। সুতরাং কেউই এমনকি পৃথিবীর সকল মানুষ মিলে চেষ্টা করলেও আল্লাহর সৃষ্টিতে কোনো পরিবর্তন আনয়ন করতে পারবে না। কখনোই নারী-পুরুষের ব্যবধান উঠিয়ে দিয়ে উভয়কে সমান করতে পারবে না এবং নারী-পুরুষের পরস্পরের দিকে আকর্ষণকে ঠেকাতে পারবে না।
যারা সভ্যতার নামে নারী-পুরুষের মধ্যকার ব্যবধান উঠিয়ে দিতে চায় এবং উভয় শ্রেণির জন্য সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে কর্মক্ষেত্রে মিশ্রিত হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানায় তারা মিথ্যুক। তাদের মতলব খারাপ। কারণ
এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মনের চাহিদা মেটাতে চায় এবং অন্যের স্ত্রী- কন্যাকে পাশে বসিয়ে নারীদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়। সেই সাথে আরো কিছু করার সুযোগ পেলে তাও করতে চায়। কিন্তু এ কথাটি এখনও তারা খোলাসা করে বলার সাহস পাচ্ছে না।
নারীদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠা, সভ্যতা ও উন্নয়নের যে সুর তুলছে তা নিছক সস্তা বুলি ছাড়া আর কিছু নয়। এ সমস্ত কথার পিছনে তাহজীব-তামাদ্দুন, সভ্যতা, উন্নতি অর্জন আদৌ তাদের উদ্দেশ্য নয়; বরং তা চরম ভাওতাবাজি।
সমঅধিকার দাবিদাররা যে মিথ্যুক তার আরেকটি কারণ হলো, যে ইউরোপ-আমেরিকাকে তারা নিজেদের আদর্শ মনে করে এবং যাদেরকে তারা সভ্যতা, সংস্কৃতি ও উন্নতির পথপ্রদর্শক মনে করে মূলত তারা প্রকৃত উপলব্ধি করতে পারেনি। তারা যেটিকে সভ্যতা ও সংস্কৃতি মনে করছে, তা মূলত সত্য ও সভ্যতা নয়; বরং সেটি হচ্ছে ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আমদানিকৃত অশ্লীল সভ্যতা। তাদের ধারণায় নাচ, গান, বেহায়াপনা, উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ হওয়া, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষায় অংশ নেয়া, নারীদের খেলার মাঠে নামা এবং সমুদ্র সৈকতে গিয়ে বস্ত্রহীন হয়ে গোসল করাই সভ্যতা ও সংস্কৃতির মানদণ্ড। আর প্রাচ্যের দেশ তথা মুসলিমদের মসজিদ-মাদরাসা, মদিনা, দামেশক এবং আল-আজহার বিদ্যালয়সহ সকল ইসলামি প্রতিষ্ঠানে যে উন্নত চরিত্র, সুশিক্ষা, নারী- পুরুষের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ পবিত্রতার প্রশিক্ষণ দেয়া হয় তাদের ধারণায় তা মুসলিমদের পশ্চাৎমুখী হওয়ার এবং সভ্যতাও সংস্কৃতির দিক থেকে পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ।
ইউরোপ-আমেরিকা থেকে ঘুরে আসা বা সেখানে বসবাসকারী অসংখ্য পরিবার নারী-পুরুষের খোলামেলা চলাফেরাতে সন্তুষ্ট নয় এবং এটি তাদেরকে শান্তি দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই আজ তারা বিকল্পের সন্ধানে ফিরছে।
সৃষ্টিগতভাবেই নারী ও পুরুষ এক নয়। তাদের প্রত্যেকের অবস্থান ও কর্মক্ষেত্র পৃথক। নারী ও পুরুষের কর্মক্ষেত্র প্রকৃতিগতভাবেই স্বতন্ত্র। তাই সকল ক্ষেত্রে তাদের সমান অধিকার নিয়ে চলা নিজেদের জন্যই কল্যাণকর নয়। প্রকৃতি মাতৃত্বের পবিত্র দায়িত্ব সম্পূর্ণ নারীর ওপর সোপর্দ করেছে। সেই সঙ্গে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত স্থান কোথায়, তাও বাতলে দিয়েছে।
পক্ষান্তরে পিতৃত্বের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে পুরুষের ওপর। সেই সঙ্গে মাতৃত্বের মতো গুরুদায়িত্বের বিনিময়ে তাকে আর যেসব কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, তাও প্রকৃতি সুস্পষ্টরূপে নির্ধারণ করে দিয়েছে। উপরন্তু এ উভয় প্রকার দায়িত্ব পালনের জন্য নারী ও পুরুষের দৈহিক গঠন, শক্তি সামর্থ্য ও ঝোঁক প্রবণতায়ও বিশেষ পার্থক্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
প্রকৃতি যাকে মাতৃত্বের জন্য সৃষ্টি করেছে, তাকে ধৈর্য, মায়া, মমতা, স্নেহ ভালোবাসা প্রভৃতি বিশেষ ধরনের গুণে গুণান্বিত করেছে। এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, নারীর ভেতরে এসব গুণের সমন্বয় না হলে তার পক্ষে মানবশিশুর লালন পালন করা সম্ভবপর হতো না। বস্তুত মাতৃত্বের মহান দায়িত্ব যার ওপর অর্পণ করা হয়েছে, তার পক্ষে এমন কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। যার জন্যে রুক্ষতা ও কঠোরতার প্রয়োজন। এ কাজ শুধু তার দ্বারাই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে, যাকে এর উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে। সেই সঙ্গে পিতৃত্বের মতো কঠোর দায়িত্ব থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
তথাকথিত নারী-স্বাধীনতার নামে নারীকে আজ যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বিজ্ঞাপন-সামগ্রী এবং পর্নোগ্রাফীতে। আর এটি উসকে দিচ্ছে পর্দাহীনতাকে। পণ্যের বিজ্ঞাপনে নারী যেন আজ একটি অপরিহার্য বিষয়। পরিতাপের বিষয় হলো, আমাদের মন যা চায় আমরা তাই করে বসি। এক্ষেত্রে ইসলাম, কুরআন সুন্নাহর কী নির্দেশনা রয়েছে তা ভুলক্রমেও খুঁজে দেখি না। আর এ কারণেই আমাদের অধঃপতন দিন দিন ত্বরান্বিত হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন-
لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبْعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ
তোমাদের মধ্যে কেউই ততক্ষণ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার মন আমার উপস্থাপিত আদর্শের বশ্যতা ও অধীনতা স্বীকার করে নেবে।
কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে-
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا
আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ে নির্দেশ দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর সে বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্তের অবকাশ থাকবে না। কেউ
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করলে সে স্পষ্টতই পথভ্রষ্ট হবে। [সূরা আহযাব : ৩৬/
যারা সমান অধিকারের নামে নারী ও পুরুষের এই প্রকৃতিগত পার্থক্যকে মিটিয়ে দিতে চায়, তাদের প্রতি বিশেষজ্ঞগণ অনুরোধ জানিয়েছেন যে, আপনারা এ পথে কোনো পদক্ষেপ নেয়ার আগে মনে করে নিন যে, এ যুগে পৃথিবীর আদতেই মাতৃত্বের কোনো প্রয়োজন নেই। একথা দৃঢ়তার সঙ্গেই বলা যায় যে, যদি কেউ এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, তাহলে আনবিক বোমার প্রয়োগ ছাড়া অল্প দিনের মধ্যেই মানবতার চূড়ান্ত সমাধি রচিত হবে।
পক্ষান্তরে যদি কেউ এরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে না পারেন এবং নারীকে তার মাতৃসুলভ দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের মতো রাজনীতি, ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্পকার্য, যুদ্ধ পরিচালনা ইত্যাদি ব্যাপারেও অংশগ্রহণ করতে বাধ্য করেন, তাহলে তার প্রতি নিঃসন্দেহে চরম অবিচার করা হবে।
নারীর ওপর প্রকৃতি যে দায়িত্ব ন্যস্ত করেছে, তা নিঃসন্দেহে মানবতার অর্ধেক সেবা। আর এই সেবাকার্য সে সাফল্যের সাথেই সাধন করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে পুরুষের নিকট থেকে সে বিন্দুমাত্রও সহযোগিতা পাচ্ছে না। অথচ অবশিষ্ট অর্ধেকের অর্ধেক দায়িত্বও আবার আপনারা নারীর ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। এর ফল এ দাঁড়াবে যে, নারীকে পালন করতে হবে মোট দায়িত্বের তিন চতুর্থাংশ এবং পুরুষের ওপর বর্তাবে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। এটি কি সত্যিকারেই কোনো নারীর প্রতি সুবিচার ও বিবেকপ্রসূত?
নারীরা যেন এসবের কাছে অসহায়! তারা এ জুলুম অবিচারকে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ জুলুমের বোঝাকে স্বেচ্ছায় কাঁধে তুলে নেয়ার জন্য লড়াই করছে। এর মূল কারণ হলো, তারা পুরুষদের কাছে যথার্থ সমাদর পাচ্ছে না। ঘর সংসার ও মাতৃত্বের মতো কঠিন দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা সত্ত্বেও আজ তারা সমাজে উপেক্ষিত, অপাংক্তেয়। সন্তানবতী ও গৃহিণী মেয়েদেরকে আজকের সমাজের কোথাও কোথাও ঘৃণা করা হয় এবং স্বামী ও সন্তান-সন্ততির এতো সেবাযত্ন করা সত্ত্বেও তাদের যথার্থ কদর করা হয় না। অথচ এসব কার্যে তাদের যে বিপুল ত্যাগ স্বীকার করতে হয় তা পুরুষদের সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও যুদ্ধবিগ্রহ সংক্রান্ত দায়িত্বের চাইতে কোনো অংশেই কম নয়।
মূলত নারী-পুরুষের সমান অধিকারের মধ্যে আর যাই হোক নারীর কল্যাণ নেই; বরং তাতে তার ঠকই বেশি। আজকের তথাকথিত প্রগতিবাদীরা বস্তুত নারীদের সমান অধিকারের স্লোগান দিয়ে তাদের প্রকৃত অধিকার খর্ব করতেই মরিয়া হয়ে ওঠেছে। তাই এ ব্যাপারে নারীদেরকে তাদের অধিকারের স্বার্থেই সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 অপরূপার দীঘল কেশ

📄 অপরূপার দীঘল কেশ


নারীর অন্যতম শোভা হলো কালো দীঘল কেশ। তাদের ঢেউ খেলানো চুল নিয়ে কবি-সাহিত্যিকরা অসংখ্য কবিতা, গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন। কিন্তু অপরূপা নারীর সেই দীঘল কেশ যেন আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। আজ কথিত আধুনিকতার দাবিদাররা মেয়েদের চুলও পুরুষের মতো ছোট করে রাখতে প্ররোচিত করছে।
আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুলের যত্ন নিতে বলেছেন। বর্ণিত আছে, একদা এক ব্যক্তি উসকো খুশকো চুল নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দরবারে এলেন। তখন নবীজি তাকে বললেন, তোমার কি চিড়ুনি নেই? [সুনানু আবি দাউদ]
এ থেকে বোঝা যায়, ইসলাম চুল আঁচড়িয়ে পরিপাটি রাখাকে উৎসাহিত করেছে। খোদ প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাথায় তেল ব্যবহার করতেন এবং তা পরিপাটি করে রাখতেন। [শামায়েল]
ইসলাম নারীদের চুল লম্বা এবং পুরুষের চুল ছোট রাখতে উৎসাহিত করেছে। অথচ আজকের পরিবেশ তার বিপরীত। ইদানীং নারীরা চুল খাটো করে এবং ছেলেরা ফ্যাশনেবল লম্বা চুল রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকে।
ইদানীং চুলের নানা ফ্যাশন লক্ষ্য করা যায়। এমনকি এতে যে ইসলামি ভদ্রতার প্রতীক রয়েছে, তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। চুলের ফ্যাশন হাল আমলে আধুনিকতার দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, কিছু কিছু তরুণী আছে, যারা এমনভাবে চুলের ফ্যাশন করে, হঠাৎ দেখলে তাদেরকে ভিন্ন গ্রহের আজব কোনো প্রাণীর মতো মনে হয়।
চুলের এই ফ্যাশনে প্রতিদিনই নতুন নতুন মাত্রা যোগ হচ্ছে। যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। মনে হয় চুলের রাজ্যে ফ্যাশনের তাড়া খেয়ে উদ্ভ্রান্তের মতো ছুটছে ফ্যাশনেবল তরুণীর দল। তারা স্থির করে বলতে পারছে না
কেমন চুল, কেমন স্টাইল তাদের কাম্য কিংবা পছন্দ। তারা ভুলে গেছে, তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। পাশ্চাত্যের ভাড়া করা কালচার লালনেই তারা তৃপ্তির ঢেঁকুর গিলছে।
অভিশপ্ত ফ্যাশনের নির্মম শিকার এই সমাজে এখন নর-নারীর পার্থক্য পর্যন্ত হারিয়ে যাচ্ছে। কে ছেলে আর কে মেয়ে নির্ণয় করা হয়ে পড়েছে ভীষণ মুশকিল।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদের প্রতি এবং পুরুষদের বেশধারী নারীদের প্রতি অভিসম্পাত করেছেন। (অর্থাৎ যারা বেশ-ভূষায় একে অপরের রূপ ধারণ করে, তাদের প্রতি অভিশাপ করেছেন)। [বুখারি, মা'আরিফুল হাদিস : ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৯৪ পৃ.]
এ কথা অনস্বীকার্য যে, নারীর সৌন্দর্য চুলে। কিন্তু ইদানিং দেখা যায় নারীরা চুল কেটে এতো ছোট করে ফেলে যে, এটা দেখে বোঝা যায় না যে, সে ছেলে নাকি মেয়ে। অথচ নারীর লম্বা চুল তার জন্য কত উপকারী তা যদি সে জানত তবে কখনো চুল কেটে ছোট করত না।
কানাডার ফিজিওথেরাপিস্ট স্যার জেমস সাগাম এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলেন, মেয়েদের দীঘল কেশ তার ত্বক, দেহ, মস্তিষ্ক, শিরা-উপশিরার খিঁচুনি, মাথা ব্যথা, হাড়ের রোগের ব্যথা, দৃষ্টিশক্তি, শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি থেকে অনেকাংশে রক্ষা করে।
কোনো মেয়ে যদি সবসময় তার চুলগুলো কেটে কান বরাবর রাখে তবে তার উল্লেখযোগ্য সমস্যাগুলো হতে পারে। আর দীঘল তথা লম্বা চুল এগুলো থেকে বাঁচিয়ে রাখে। কারণ এর ফলে মাথা বার বার আঁচড়ানো হয়, বেণী কাটা হয়, ফিতা তোলা হয়, আর মাথা আঁচড়ানোর দ্বারা এক প্রকার উষ্ণতা এবং শরীরে এনার্জি সৃষ্টি হয়। যা পশম বা চুলের মাধ্যমে শরীরের শিরাতন্ত্রীকে প্রাণবন্ত ও শক্তিশালী করে। এমন কি নিয়মিত চুল আঁচড়ালে চুল বৃদ্ধি পায় এবং ঘন হয়।
মাথার চুল আঁচড়ানোর আরেকটি হেকমত হলো, যদি চুল আঁচড়ানো না হয় তবে তাতে জীবাণু আটকে থাকে। যা চুলের বৃদ্ধি ব্যাহত করে। এক সময় তা ভয়াবহ রূপ নেয়। চুল না আঁচড়ালে উকুন বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা থাকে। চুলের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা খুবই জরুরি। মাথার ত্বকের অপরিচ্ছন্নতা থেকে রোগব্যাধির জন্ম হতে পারে এবং অন্যত্রও তা ছড়িয়ে যেতে পারে।
বিশেষত চুলের গোড়ায় যে খুশকি হয় তা চুল পড়ে যাওয়া এবং টাক পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মাথার খুশকির কারণে আবার চোখেও রোগ হতে পারে। তাই মাথার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে যত্নবান হওয়া উচিত।
নারীদের সৌন্দর্য লম্বা কেশের সাথে অধিক সম্পর্কিত। তাই ইসলামি জীবনব্যবস্থায় নারীদের চুল কমানো ও পশম কাটা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের গবেষণায় জানা যায় যে, যখন নারীদের এ চুল কেটে বা ছেঁটে ফেলা হয় বা বিশেষ হেয়ার বিন্যাস করা হয়, তখন নারী দেহে নানা রূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
আমেরিকার এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নারীদের চুল বৃদ্ধি তাদের সুস্থতা ও সবলতার জন্য অতীব জরুরি। কেননা তাদের চুল যত বৃদ্ধি পাবে, ততই তাদের ধৈর্য-সহনশীলতা, কমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে। আর অসংখ্য রোগ-ব্যাধি থেকে নিরাপদ থাকবে তারা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মহিলাদের জিন ও হরমোন আর পুরুষদের জিন ও হরমোনে আকাশ-জমিন পার্থক্য। এ কারণে পুরুষের চুল কাটা বা মুণ্ডানোর কাজ তাদের জন্য অনেক বেশি উপকারী। পক্ষান্তরে এর বিপরীতে ঐ নারী জাতি যাদের চুল কুদরতিভাবে লম্বা ও ঘন হয়, তারা যদি সে চুল কাটে, ছাঁটে বা মুণ্ডায়, তাহলে তাদের দেহে এমন ব্যাধি দেখা দেয়, যার বিবরণ ব্যাধির তালিকায় বিদ্যমান। এরূপ নারীরা দৈহিক রোগ-ব্যাধি যথা ডিপপ্রেসার, ফাস্টেশন, এনজাইটি ও আত্মহত্যার শিকার বেশি হয়।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 মেহেদিরাঙা হাত

📄 মেহেদিরাঙা হাত


কবি-সাহিত্যিকদের ছন্দের অন্যতম উপাদান নারী। নারীকে নিয়ে কল্পনা করেনি কিংবা নারীর প্রেমে পাগল হয়নি, এমন কবি, সাহিত্যিক কিংবা লেখক পাওয়া ভারী মুশকিল। তাদেরই গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে যে, নারীর দেহের যে কয়টি অঙ্গ পুরুষের চোখে আকর্ষণীয় তন্মধ্যে হাত অন্যতম। যুবতি কিংবা তরুণীর মেহেদিরাঙা হাতের দিকে নজর দেয়নি এমন যুবক কিংবা তরুণ খুব কমই পাওয়া যাবে। তাই নারীর সৌন্দর্যের অন্যতম প্রতীক হাতকে প্রদর্শন হতে হেফাজত করা তার নিজের জন্যই অপরিহার্য।
ইসলামি পর্দাবিধানের পরিপূর্ণতা ও তাকওয়া হিসেবে ইসলামি চিন্তাবিদগণ মেহেদিরাঙা কোমল হাতকে ঢেকে রাখাকে জরুরি মনে করেছেন। মূলত ইসলামি বিধানের প্রতিটি নিয়মের মাঝে যেমন পরকালীন মুক্তি রয়েছে, তেমনি রয়েছে ইহকালীন কল্যাণও।
নারীর হাত ঢেকে রাখাকে ইসলামি শরিয়ত বাধ্যতামূলক না করলেও হাত মোজাকে ওলামা মাশায়েখগণ তাকওয়ার পোশাক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাছাড়া নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- 'নারীর সমগ্র দেহই সৌন্দর্য স্বরূপ।'
হাত নারীর অন্যতম সৌন্দর্য প্রকাশকারী অঙ্গ। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا
অর্থাৎ, তারা যেন প্রকাশ না করে তাদের সৌন্দর্য শুধুমাত্র ততটুকু ব্যতীত যতটুকু স্বভাবতই প্রকাশ হয়ে পড়ে। (সূরা আন নূর: ৩১]
এ আয়াতের ব্যাখ্যা হলো, হাত যদিও স্বভাবগত দিক থেকে প্রকাশ হয়ে পড়ে না। তথাপি যেসব কারণে নারীর চেহারা ঢেকে রাখাকে ফোকাহায়ে কেরাম আবশ্যক মনে করেছেন, সেই একই কারণে হাত ঢেকে রাখাকেও আবশ্যক মনে করে থাকেন। আর এ কারণেই হাত মোজা পরার নিয়ম চালু হয়েছে।
এতক্ষণ হাত মোজা পরার শরয়ি যৌক্তিকতা পেশ করা হলো। এবার বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে এর উপকারিতা প্রদত্ত হলো।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, যেসব নারী তাদের হাতসহ শরীরের নানা অঙ্গ খোলা রাখে তারা ম্যালানোমা নামের এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিশ্বে প্রতি ৬২ মিনিটে একজন নারী মারা যায় ম্যালানোমা রোগে আক্রান্ত হয়ে। এতৎপ্রাসঙ্গিক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ভাষ্য হলো- "About 65 percent of melanoma cases can be attributed to ultraviolet (UV) radiation from the sun."
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যালানোমা রোগের আশঙ্কা মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের ত্বক কোমল আর বেশি নার্ভ ফাইবার থাকার দরুন
তাদের ত্বকের প্রতি স্কয়ার সেন্টিমিটারে ৩৪ নার্ভ ফাইবারস আর পুরুষের মাত্র ১৭। আর এ কারণেই নারীর ত্বকের সুরক্ষার জন্য হাত মোজা পরাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ কল্যাণকর মনে করেছেন।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, যাদের কোমল হাত মোজায় ঢেকে থাকে তাদের হাত নানা চর্মরোগ তথা খুজলি, চুলকানি, অ্যাকজিমা, দাদ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ মোজায় হাত ঢেকে থাকার কারণে তাদের হাত ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
আজকের আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণী তাদের হাতকে কোমল ও মসৃণ রাখতে হাত মোজা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। এটি মূলত ইসলামি বিধানেরই সংস্করণ। দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামের হাত মোজা পরার নিয়মকে এক শ্রেণির কথিত ফ্যাশনী নারী অবজ্ঞাচ্ছলে ভ্রু কুঁচকালেও বর্তমানে তারা এসবকে নিজেদের ত্বক সুরক্ষার উপায় বলে মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 পায়ে তার নূপুরের ছন্দ

📄 পায়ে তার নূপুরের ছন্দ


নারীর আপাদমস্তকই মূল্যবান সম্পদ। তরুণীর পায়ের নূপুরের ছন্দ মন – কাড়েনি এমন যুবকের সংখ্যা কম নয়। বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন যে, নারীর সমগ্র দেহটিই সৌন্দর্যের সমাহার। যুক্তির কথা হলো, যে কোনো মূল্যবান জিনিস ঢেকে রাখাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। বুদ্ধিদীপ্ততার পরিচয় হলো, দামি জিনিসকে একেবারে খোলামেলা না রাখা।
আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীর পায়ের তালু পর্যন্ত পুরো শরীরটাকেই পর্দাভুক্ত বলে ঘোষণা করেছেন। শুধু তাই নয়, তা ঢেকে রাখার উপকারিতা ঘোষণা করেছেন। কিন্তু কথিত আধুনিকতার দাবিদাররা এতদিন বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীকে 'মান্ধাতার আমলের' বলে মুখ ভেংচি কাটতো। কিন্তু দেড় হাজার বছর পর এসে আজ বিজ্ঞানীরা এর সত্যতা প্রমাণ পেয়েছে!
কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর। যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। [সূরা নূর: ৩১]
এই আয়াতাংশে নারীকে সজোরে পদচারণা করতে নিষেধ করা হয়েছে। যাতে তাদের পায়ের অলংকার, বেড়ি, ঝুমুর, নূপুর ইত্যদি সম্বন্ধে বেগানা পুরুষ অবহিত হতে না পারে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, পুরুষের প্যান্ট বা কাপড় পায়ের টাখনুর উপর পরতে হবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে। পক্ষান্তরে মেয়েরা তাদের কাপড় বা পায়জামা টাখনুর নিচে পরবে এবং পরিপূর্ণ পর্দা করে চলবে। অন্যথায় তারা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি: ৫৩৭১/
চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ বলেছেন যে, পুরুষের পায়ের পাতার অংশে প্রচুর পরিমাণে হরমোন থাকে এবং তার আলো বাতাসের প্রয়োজন হয়। তাই কেউ যদি তা খোলা না রেখে ঢেকে রাখে, তাহলে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
তদ্রুপ মেয়েলোকের হরমোন কম থাকে এবং তা ঢেকে রাখার প্রয়োজন হয়। যদি কোনো নারী তা ঢেকে না রাখে এবং খোলা রাখে তবে তার যৌনশক্তি কমে যাবে এবং যৌনবাহিত ও নারীবাহিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হবে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, যেসব নারী পা খুলে খোলামেলা চলাফেরা করে, তাদের সিফিলিস, গনোরিয়া, বহুমূত্র এবং কৃমির রোগ দেখা দেয়। তাদের চুলপড়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, যেসব নারী তাদের পাসহ শরীরের নানা অঙ্গ খোলা রাখে তারা ম্যালানোমা নামের এক বিশেষ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।
আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, ম্যালানোমা রোগের আশঙ্কা মেয়েদের বেশি হয়ে থাকে। মেয়েদের ত্বক কোমল আর বেশি নার্ভ ফাইবার থাকার দরুন তাদের ত্বকের প্রতি স্কয়ার সেন্টিমিটারে ৩৪ নার্ভ ফাইবারস আর পুরুষের মাত্র ১৭। আর এ কারণেই নারীর ত্বকের সুরক্ষার জন্য হাত মোজা ও পা মোজা পরাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানীগণ কল্যাণকর মনে করেছেন।
যাদের পা মোজায় ঢেকে থাকে তাদের পা নানা চর্মরোগ তথা খুজলি, চুলকানি, অ্যাকজিমা, দাদ থেকে মুক্ত থাকে। কারণ মোজায় পা ঢেকে থাকার কারণে তাদের হাত ধুলাবালি থেকে সুরক্ষিত থাকে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব নারী পায়ের টাখনুর নিচের অংশ খোলা রেখে চলে, তাদের পায়ের নখের নানা রোগ দেখা দেয়। নখ হালকা হয়ে যাওয়া, নখ ভেঙে যাওয়া, কালচে হওয়া, নখচিপা রোগ, নখের ভেতরে পুঁজ জমা, নখের ব্যথা করাসহ নানা রোগ তাদেরই বেশি হয় যারা পা খোলা রেখে চলে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, এক সময় মানুষ ক্রমেই ইসলামি অনুশাসনকে নিজেদের কল্যাণ মনে করতে থাকবে।
সত্যিই আজ নিজের অজান্তেই অনেকে ইসলামি বিধানকেই সর্বাধুনিক এবং ফ্যাশন বলে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে।
এক সময় দাড়ি রাখাকে কথিত সভ্যতা ও আধুনিকতার পরিপন্থী বলে মনে করা হতো। আজ অনেকেই দাড়ি রাখাকে স্টাইল হিসেবে নিয়ে থাকেন। বিখ্যাত ফুটবলার, ক্রিকেটার, কুস্তিবিদ ও নায়কের সাম্প্রতিককালের রাখা দাড়ির স্টাইল ভক্তবৃন্দের মাঝে দারুণ সাড়া জাগিয়েছে। আধুনিক দাবিদার যুবকরা নিজেদেরকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের এক মাধ্যম মনে করেন দাড়িকে।
আবার এক সময় পুরুষের টাখনুর নিচে কাপড় পরাটা তথাকথিত ফ্যাশন বলে মনে করা হতো। কে কতো লম্বা ও পায়ের পাতা মুড়িয়ে এমনকি পায়ের পাতা পর্যন্ত প্যান্ট জুতার ভেতরে ঢুকিয়ে পরাকে আধুনিকতা মনে করা হতো। কিন্তু আজকের আধুনিকতার দাবি হলো খাটো প্যান্ট পরা। তাইতো হাফ কোয়ার্টার তথা টাখনুর উপর হাঁটুর নিচ পর্যন্ত প্যান্ট পরাটাকে এখন আধুনিকতার প্রতীক মনে করা হয়। দেখুন আজ হতে দেড় হাজার বছর আগে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন, পুরুষের টাখনুর যে অংশ অহংকারবশত কাপড়ে ঢেকে থাকে, তা জাহান্নামে যাবে। [বুখারি ও মুসলিম]
সুদীর্ঘকাল এ সত্যতা অনেকের বুঝে না আসলেও এখন সেই বিধানকেই কল্যাণকর মনে করা হয়ে থাকে। তাইতো এ কথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন পায়ের পাতা ঢেকে রাখাটাকেই মেয়েরা প্রকৃত আধুনিকতা মনে করতে বাধ্য হবে।
ইদানীংকালে আধুনিক বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যায়, অনেক তরুণী তাদের নূপুরপরা পা-কে কোমল ও মসৃণ রাখতে পা মোজা ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে। কলেজ ভার্সিটিতে মেয়েরা পা মোজা পরাটাকে অন্যতম ফ্যাশন মনে করতে শুরু করেছে। কারণ পা মোজায় ঢেকে থাকার কারণে একদিকে যেমন তাদের ত্বক সুরক্ষা হয়, তেমনি পায়ের দোষগুলো অন্যের সামনে ফুটে ওঠে না। এটি মূলত ইসলামি বিধানেরই সংস্করণ।
দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামের পা মোজা পরার নিয়মকে এক শ্রেণির কথিত ফ্যাশনি নারী অবজ্ঞাচ্ছলে ভ্রু কুঁচকাত। তারা মনে করত যে, পা মোজা পরা তো মোল্লাদের পরিবারের মেয়েদের কাজ। তবে আশার কথা হলো, আজকের আধুনিক নারীরা তাদের সৌন্দর্যকে ধরে রাখার অন্যতম মাধ্যম হিসেবেই পা মোজা ব্যবহার করা শুরু করেছে।
তাই চিরন্তন ফ্যাশনের ধর্ম ইসলাম যুবতি, তরুণী নির্বিশেষে সব নারীকে আহ্বান জানাচ্ছে তাদের কোমল পা-কে মোজায় ঢেকে রাখতে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00