📄 নারীমনের একান্ত চাহিদা
কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য না রাখলে নিজ ঘরে শান্তির দেখা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে ঐ বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথভাবে খেয়াল করলে বৈবাহিক জীবন হয় সুখময়। ভালোবাসার প্রজাপতি আনন্দে পাখনা মেলে উড়াউড়ি করে। প্রত্যেক স্বামীর পক্ষ হতে নিজের স্ত্রীর জন্য এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা কর্তব্য। নিচে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
স্ত্রীরা প্রেম ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পছন্দ করে। তারা ভালোবাসার সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনতে চায়। অতএব স্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কার্পণ্য করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে যদি কার্পণ্য করা হয়, তবে তার ও নিজের মধ্যে নির্দয়তার দেয়াল টেনে দেয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর নির্মল ভালোবাসার ব্যাকরণে ভুল করা হয়!
স্ত্রীরা কঠোর ও অনড় স্বভাবের পুরুষদের অপছন্দ করে। পক্ষান্তরে তারা কোমল চিত্তধারী পুরুষদের পছন্দ করে। অতএব প্রতিটি গুণকে স্বস্থানে রাখা অপরিহার্য। কারণ, এটি ভালোবাসা ডেকে আনে এবং প্রশান্তি ত্বরান্বিত করে।
নারীরা স্বামীর কাছে তা-ই প্রত্যাশা করে স্বামীরা স্ত্রীর কাছে যা প্রত্যাশা করে। যেমন- ভদ্রোচিত কথা, সুন্দর চেহারা, পরিচ্ছন্ন বসন ও সুগন্ধি। অতএব প্রতিটি অবস্থায় এসবের প্রতি লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।
স্ত্রীকে নিজের মতো করে কাছে পেতে তার কাছে এমন অবস্থায় ঘেঁষা ঠিক নয়, যখন নিজের শরীর থাকে ঘামে জবজবে। কিংবা যখন স্বীয় কাপড় থাকে ময়লা। এমনটি করলে যদিও সে স্বামীর আনুগত্য দেখাবে; কিন্তু তার অন্তরে তার প্রতি এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়ে যাবে। ফলে শুধু তার শরীরই স্বামীর ডাকে সাড়া দিবে; তার অন্তর পালিয়ে বেড়াবে দূরে বহু দূরে।
ঘর হলো নারীর রাজত্ব। ঘরের মধ্যে তারা নিজেকে নিজের আসনে সমাসীন ভাবে। নিজেকে সেখানকার প্রধানতম নেত্রী মনে করে। অতএব তার সাজানো এই প্রশান্তির রাজ্যটিকে তছনছ করতে যাওয়া ঠিক নয়। এ আসন থেকে তাকে নামাবার চেষ্টাও করা প্রয়োজন নেই। তাকে তার আসনে অটুট থাকতে দেয়া উচিত। কারণ এটি মূলত নিজেরই আসন। স্বামী নিজ স্ত্রীকে তার অবস্থানে রাখলে প্রকারান্তরে নিজের আসনই পোক্ত করা হয়। আর যদি তার আসন গুঁড়িয়ে দেয়া হয় তাহলেও প্রকারান্তরে নিজেকেই যেন রাজত্ব থেকে উচ্ছেদ করলে। মনে রাখবেন, কোনো রাজার জন্য তার চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ হতে পারে না, যে নিজ রাজত্ব নিয়ে টানাটানি করে।
যদিও স্ত্রী মুখ বুজে সব সয়ে যায় এবং কিছু বলে না; কিন্তু এতে করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়।
নারী যেমন চায় তার স্বামীকে পেতে তেমনি তার পরিবারকেও সে হারাতে চায় না। অতএব তার পরিবারের সঙ্গে নিজেকে এক পাল্লায় মাপতে যাওয়া মোটেই উচিত নয়। যদি এমন চান যে, সে হয়তো আপনার হবে, নয়তো পরিবারের; তবে সে যদিও আপনাকেই অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু মনে মনে ঠিকই বিষণ্ণ হবে। যার ভার সে আপনার দৈনন্দিন জীবন পর্যন্ত বয়ে আনবে।
হাদিসের ভাষ্য মতে, নিশ্চয় নারীকে সবচে বাঁকা হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি তার দোষ নয়; বরং এ তার সৌন্দর্যের এক প্রকার রহস্য। এটি তার আকর্ষণের চাবিকাঠি। ভ্রুর সৌন্দর্য যেমন তার বক্রতায়, নারীর সৌন্দর্যও এমনই।
অতএব সে কোনো ভুল করলে তার ওপর এমন হামলা চালাবেন না যাতে কোনো সহমর্মিতা বা সদয়তা থাকে না। বাঁকাকে বেশি সোজা করতে গেলে আপনি তা ভেঙেই ফেলবেন। তবে হ্যাঁ, তার ভুলগুলো প্রশ্রয় দিবেন না। সেগুলো তাকে বুঝিয়ে বলবেন। তা না করে আপনি তার ওপর শাসনের ছড়ি চালালে তার বক্রতা বেড়েই যাবে। এতে সে নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নেবে। ফলে সে আপনার জন্য নরম হবে না, আপনার কোনো কথাও শুনবে না। খিটখিটে মেজাজ থেকে ক্রমেই আপনি তার কাছে হয়ে যাবেন তাচ্ছিল্যের পাত্র।
নারীদের সৃষ্টিই করা হয়েছে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এবং উপকার অস্বীকারের উপাদান দিয়ে। যদি যুগ যুগ ধরে তাদের কারো প্রতি সহৃদয়তা ও সদাচার
দেখানো হয় তারপর যদি কালেভদ্রে একটিবার মাত্র তার সঙ্গে মন্দ ব্যবহার হয়ে যায় তবে সে অকপটে বলে ফেলবে- 'তোমার কাছে আমি জীবনে ভালো কিছুই পেলাম না।' অতএব তাদের এ বৈশিষ্ট্য যেন তাকে অপছন্দ বা ঘৃণায় প্ররোচিত না করে। কারণ, আপনার কাছে তার এ বৈশিষ্ট্যটি খারাপ লাগলেও তার অনেক গুণ দেখবেন ভালো লাগার মতো।
নানাবিধ শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির মাঝ দিয়ে নারীর জীবন বয়ে চলে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য কিছু ফরজ পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন। যা এ সময় কর্তব্য ছিল। যেমন রজঃস্রাব ও সন্তান প্রসবকালে তার জন্য পুরোপুরিভাবে সালাত মাফ করে দিয়েছেন। এ সময় ফরজ সিয়াম পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না তার শারীরিক সুস্থতা ফিরে আসে এবং তার মেজাজ স্বাভাবিক হয়ে যায়। অতএব এ সময়গুলোয় পুরুষের জন্য আল্লাহর ইবাদতমুখী হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ, তার জন্য আল্লাহ যেমন ফরজকে হালকা করে দিয়েছেন তেমনি তার থেকে পুরুষের চাহিদা ও নির্দেশও হালকা করে দেয়া অপরিহার্য।
মনে রাখবেন স্ত্রী কিন্তু আপনার কাছে একজন বন্দিনীর মতো। অতএব তার বন্দিত্বের প্রতি সদয় থাকবেন এবং তার দুর্বলতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তাহলে সে হবে আপনার জন্য সর্বোত্তম সম্পদ। সে আপনার সর্বोत्কৃষ্ট সঙ্গী হবে। একজন পুরুষের কাছে নারীর এগুলোই প্রধানতম চাহিদা।
📄 ব্যভিচারের পরিণাম
জীবন ও যৌনতা অকাট্য সত্য। এ বাস্তবতাকে ইসলাম অকপটে স্বীকার করে। তবে পাশবিক বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেয় না। ইসলাম মানুষের যৌনক্ষমতা ও তার কামনাকে স্বচ্ছ, পবিত্র ও সুশৃঙ্খল করতে চায়। বিশ্ব মানবতাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে তুলে আনার মহান লক্ষ্যেই হয়েছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব। কথাবার্তা, আচার-আচরণ, লেনদেন, চিন্তাচেতনা, স্বভাব-চরিত্র সকল ক্ষেত্রেই তিনি অন্ধকার দূর করে উম্মাহকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। যে যৌনক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য হলো মানব বংশের বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ; সে ক্ষমতা যেন যথার্থ স্থানে প্রবাহিত হয়; অধিকন্তু সে তাড়নায় যেন মানুষ উন্মাদনার শিকার না হয়, সে কারণে যৌন সম্পর্কের কঠোরভাবে প্রতিবিধান করেছে ইসলাম। এক কথায় ইসলাম যৌন চাহিদা পূরণের বৈধ আয়োজনকে উৎসাহিত করেছে।
যেনা-ব্যভিচার ধর্মীয়, সামাজিক ও আদর্শিক সকল মাপকাঠিতেই জঘন্য অপরাধ। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই সকল ধর্ম ও সকল দেশেই এটি অন্যায় বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইসলাম এ অপরাধকে সর্বাধিক ঘৃণিত বিবেচনা করে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, নিঃসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। [বনি ইসরাঈল: ৩২।
ব্যভিচার মানুষকে মর্যাদার আসন থেকে পতিত করে। ব্যভিচারের ভয়াবহ পরিস্থিতির হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই ইসলাম এর কঠিন শাস্তির বিধান করেছে। এ অপরাধ কাজটি যেমন জঘন্য, শাস্তিও ঠিক তেমনি কঠোর। ব্যভিচারী নারী-পুরুষের একশটি বেত্রাঘাত, অবস্থাভেদে পাথর মেরে প্রাণনাশের শাস্তির বিধান করেছে ইসলামি শরিয়ত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পাপের উৎসমূল চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া।
অবশ্য এই শাস্তি প্রয়োগ হওয়ার জন্য উপযুক্ত সাক্ষী অথবা স্বীকারোক্তিমূলক স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাওয়া শর্ত। সাক্ষী কমপক্ষে চারজন হতে হবে। স্পষ্ট ভাষায় ঘটনার বিবরণ দিতে হবে। কোথায় কখন কার সাথে কিভাবে যেনা-ব্যভিচার হতে দেখেছে তা পরিষ্কার করে বলতে হবে। 'সুরমাদানির কাঠি সুরমাদানির মধ্যে যেভাবে প্রবিষ্ট করে সেভাবে প্রবিষ্ট করতে দেখেছি' এই জাতীয় স্পষ্ট বক্তব্য সকল সাক্ষীকে দিতে হবে। অনুরূপ স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রেও চারবার স্পষ্ট ভাষায় অপরাধের ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিতে হবে। বিচারক এক্ষেত্রে বরং এইভাবে টলাতে চেষ্টা করবেন, 'তুমি হয়তো ব্যভিচার করোনি। চুমু খেয়েছ, ধরেছ ইত্যাদি। তাতেও যদি না দমে বরং নিজের অপরাধ অকপটে স্বীকার করে তবেই তাকে উপরোক্ত দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। হিদায়া: ২য় খণ্ড, পৃ ৪৮৬]
কুরআন মাজিদের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُم ... عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ
আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের ওপর (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের কাছে (অপবাদের পক্ষে) অন্য কোনো সাক্ষীও মজুদ থাকে না, তবে এটাই তাদের সাক্ষ্য যে, তারা আল্লাহর নামে চারবার
শপথ করে বলবে, অবশ্যই (এ অভিযোগের ব্যাপারে) সে সত্যবাদী।
এরপর পঞ্চমবার শপথ করার সময় বলবে, মিথ্যাবাদীর ওপর যেন আল্লাহ তায়ালার গজব নাযিল হয়। কোনো স্ত্রীর ওপর থেকেও এভাবে আনীত অভিযোগের শাস্তি রহিত করা হবে- যদি সেও চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলে, এ (পুরুষ) ব্যক্তিটি হচ্ছে আসলেই মিথ্যাবাদী। অতঃপর সেও পঞ্চমবার শপথ করার সময় বলবে, সে অভিযোগকারী ব্যক্তিটি সত্যবাদী হলে তার অভিযুক্তের ওপরও আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসুক। [নূর: ৬-৯] আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء ..
(অপরদিকে) যারা খামোখা সতী-সাধ্বী নারীদের ওপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করবে এবং এর সপক্ষে চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারবে না, তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না, কেননা এরা হচ্ছে নিকৃষ্ট গুনাহগার। [সূরা নূর: ৪]
স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেয়ার পর শাস্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে যদি বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে শাস্তি রহিত হয়ে যাবে। শাস্তিটি অত্যন্ত কঠিন বিধায়ই তার বাস্তবায়নে এতটা সতর্কতা ও শর্তসাপেক্ষে তা অবলম্বন করা হয়েছে।
মূলত ইসলামি হুকুমত এসব শাস্তি কার্যকর করবে; কোনো ব্যক্তি নয়। এসব শর্ত এজন্য আরোপ করা হয়েছে যে, এগুলো সবই আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এগুলো এমন এক মহান বৈশিষ্ট্য যার পরশে একটি মানুষ এমনিতেই সুস্থ হয়ে যায়। অধিকন্তু যে যৌন শৃঙ্খলার সে শিকার তা চরিতার্থ করার উপযুক্ত পাত্রও তার রয়েছে। এরপরও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। প্রকারান্তরে তা আল্লাহর আইনের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা ও বিদ্রোহের শামিল। তাই এর শাস্তির বিধান করা হয়েছে অত্যন্ত কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক।
📄 বোরকাওয়ালির রূপ প্রদর্শন
আমরা রোজ সমাজের অশান্তি ও অপরাধগুলো নিয়ে সমালোচনা করি। চিন্তা ও টেনশন করি। নিজেদের সন্তান কোনো দুর্ঘটনার শিকার হোক, অপক্ক বয়সে না বুঝে কোনো খারাপ ছেলের খপ্পরে পড়ুক, বখাটের হাতে ধর্ষিতা বা লাঞ্ছিতা হোক- কেউ তা চাই না। কিন্তু মেয়েদের পোশাক,
উচ্ছৃঙ্খল আচরণ আর অতি আড়ম্বরপূর্ণ পদচারণা যে এসব ডেকে আনে তা ঘুণাক্ষরেও গুরুত্ব দিয়ে ভাবি না। সাহস করে সে সত্য উচ্চারণ করি না। তাই বদলায় না আমাদের ভাগ্যও। থামে না নির্যাতিতার কান্না। বারবার পুনরাবৃত্তি ঘটে ধর্ষণ আর নির্যাতনের। যার জেরে ঘটে অসহায় মেয়েদের আত্মহত্যা আর আত্মাহুতির ঘটনা।
শালীন পোশাক পরার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে বৈ কমছে না। তবে এই শালীন পোশাক পরিধানকারিণীদের প্রতি এক শ্রেণির ভুঁইফোড়ের এলার্জিক্যাল প্রবলেম প্রতিনিয়তই বাড়ছে। মুসলিম নারীদের মধ্যে পর্দা করেন কিংবা বোরকা পরেন এমন নারীর সংখ্যা একেবারেই নগণ্য নয়। মুসলিম নারীদের অনেকেই আলহামদু লিল্লাহ পর্দা করেন। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে গেলে কিছু বোরকা পরা নারী চোখে না পড়ে থাকে না। এতে সন্দেহ নেই যে, বোরকাপরা নারীকে অন্য যে কোনো পোশাক পরিহিত নারীর চেয়ে শালীন ও সমীহযোগ্য মনে হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, তাদের দেখলে এক শ্রেণির অসুস্থ মানসিকতার লোক কপাল কুঁচকায়। অবশ্য এ জাহেল লোকগুলো ছাড়া অন্য সবাই মনে মনে শ্রদ্ধাবোধ করেন।
মুসলিম সমাজে পথেঘাটে বোরকাপরা নারীদের সম্মান দেখানো হয়। গাড়িতে সিট না পেলে বেপরোয়া তরুণরাও তাদের জন্য নিজের আসন ছেড়ে দেয়। যারা সত্যিকার পর্দা করেন রাস্তাঘাটে তাদের পিছু লাগে না বখাটে যুবকরাও। এটিই স্বাভাবিক চিত্র। তবে এই স্বাভাবিক চিত্রের উল্টো পিঠও আজকাল দেখা যায়।
এ যুগের বোরকাপরা মেয়েদের পেছনেও ইদানীং বখাটে ছেলেরা ঘুরঘুর করে। বোরকা হেফাজতের কারণ হওয়ার পরও অনেক বোরকাবৃতা দুর্ঘটনার শিকার হন। গৃহবধূ থেকে নিয়ে স্কুল-কলেজ এমনকি মাদরাসার ছাত্রীরাও সাম্প্রতিককালে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারাও আজকাল খবরের শিরোনাম হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে আসলে স্বতন্ত্রভাবে ভাবা দরকার। আমার মতে, এর অন্যতম কয়েকটি কারণ রয়েছে। নিচে এ সম্পর্কই আলোচনার প্রয়াস পাবো ইনশা আল্লাহ।
বিশ্বব্যাপী শালীন পোশাক তথা ইসলামের পর্দা বিধানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার, দেশীয় মিডিয়াগুলোয় বোরকাকে নেতিবাচকভাবে বিরামহীন উপস্থাপন, সর্বোপরি কিছু বোরকাধারীর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণহেতু দিনদিন বোরকার প্রতি এক শ্রেণির মানুষের বিরূপ মনোভাব গড়ে ওঠছে। মিডিয়ার বিষয়টি
বাদ দিলে তথাকথিত এই বোরকাওয়ালীদের আচরণই মূলত দায়ী। অনেক সময় দেখা যায় অনেক যুবতি বোরকা পরে বটে; কিন্তু তার চাকচিক্য এমন হয় যে, বোরকা পরেই সে অন্যকে বেশি আকৃষ্ট করে।
আল্লাহ তায়ালা পর্দা করার নির্দেশ দিয়েছেন। যাতে নারীরা তাদের সৌন্দর্যকে গোপন করে এবং তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। কিন্তু পর্দা যদি এমন সুন্দর হয়, যা দেখে পুরুষরা নারীদের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং ফেতনার মুখোমুখি হয়, তাহলে এ ধরনের পর্দার কোনো অর্থ হতে পারে না। কারণ, এ ধরনের কাপড় ছাড়া পর্দা বাস্তবায়ন হবে না। কেননা, চিকন ও পাতলা কাপড় পরিধান করলে বাস্তবে মহিলারা উলঙ্গই থেকে যায়।
ইদানীং এমন কিছু হিজাব বা বোরকা বের হয়েছে, যার সৌন্দর্য ও চাকচিক্য ঢেকে রাখার জন্য আরেকটি হিজাবের প্রয়োজন হয়ে পড়ে। এ ধরনের হিজাব পরার দ্বারা নারীর প্রতি পুরুষের আকর্ষণ আরো বেড়ে গিয়ে থাকে। এ প্রসঙ্গে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন- سَيَكُونُ فِي آخِرِ أُمَّتِي نِسَاءٌ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتٌ عَلَى رُؤُوسِهِنَّ كَأَسْنِمَةِ البُخْتِ الْعَنُوهُنَّ فَإِنَّهُنَّ مَلْعُوْنَاتٍ.
আমার আখেরি জামানার উম্মতদের মধ্যে এমন কতক নারীর আবির্ভাব হবে, যারা পোশাক পরিধান করলেও মূলত তারা উলঙ্গ। তাদের মাথা উটের চোটের মতো উঁচু হবে। তোমরা তাদের অভিশাপ কর। কারণ, তারা অভিশপ্ত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন- لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ، وَلَا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَيُوجَدُ مِنْ مَسِيرَةِ كَذَا وَكَذَا .
তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এবং জান্নাাতের সুঘ্রাণও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ অনেক দূর থেকেও পাওয়া যাবে। [মুসলিম শরীফ]
সম্প্রতি একটি শ্রেণি বোরকাবিরোধী কটুবাক্য উচ্চারণে অভ্যস্ত। এদের কারণে অনেক সময় প্রকৃত পর্দানশীল নারীদেরও দুষ্টলোকের অশিষ্ট মন্তব্য হজম করতে হয়। নিজের মতো বোরকাপরা একটি মেয়েকে নষ্টামি করতে দেখে কে না লজ্জায় অধোবদন হন। মানুষের সামনে আড়ষ্ট হয়ে ভেতরে হায় হায় করেন।
এখন শহরের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বলতেই এমন কিছু ব্যাপার সেখানে ডালভাত। বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের হোটেল রেস্তোরাঁয় অশ্লীল পোশাকপরা মেয়েদের মতো বোরকাপরা কিছু শালীন পোশাকধারীকেও দেখা যায় বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবলীলায় আড্ডা দিতে। আবার অনেককে বেগানা পুরুষের সঙ্গে স্বামীর মতো করে গা ঘেঁষে বিচরণ করতেও দেখা দেয়।
সার্ভিস বাসগুলোয় অন্য তরুণ-তরুণীর তো বটেই বোরকাপরা কোনো মেয়েকে পেছনের সিটে বসে বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে খুনসুটি করতে দেখলে আর কষ্টের অন্ত থাকে না। মুসলিম মেয়েদের আঁটসাঁট পোশাক আর অশ্লীলতার নির্লজ্জ প্রদর্শনীর জ্বালায় যখন পথে বেরুনো দায় তখন এই গুটিকয় বোরকাধারীর এসব আচরণ আরো অসহ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।
ইদানীং কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে কিংবা শহরের কোনো পার্ক বা রেস্টুরেন্টে গেলে যে কারো চোখে পড়বে বোকরাবৃতা মেয়েদের অসংলগ্ন আচরণ। যানবাহন আর পার্কে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত বাপের টাকায় পড়তে আসা ছাত্রীদের দেখা যায় বয়ফ্রেন্ডদের সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। সত্যিকার পর্দাকারিণী এবং ইসলাম অন্তঃপ্রাণ বলতেই তাদের এসব অসভ্য ও ইসলামি শিষ্টাচার বহির্ভূত কর্মকাণ্ড দেখে বিস্মিত ও ব্যথিত হন। তাদের নিয়ে যখন মানুষ বিরূপ মন্তব্য করে তখন নিলাজ তারা হয়তো শুনতে পান না কিংবা শুনলেও তাদের মধ্যে কোনো প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় না। কিন্তু ইসলামপ্রেমী অন্য যারা এসব খারাপ মন্তব্য করতে শোনেন, তারা ঠিকই বিব্রতবোধ করেন। প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত হন।
আবার কাউকে দেখা যায় বোরকা পরেছেন তো তার মুখ খোলা। উপরন্তু মুখমণ্ডলে মেকআপ আর রঙের ছড়াছড়ি। ঠোঁটে কড়া লিপস্টিকের দৃষ্টিকটু কারুকাজ। বোরকাওয়ালির এহেন রূপ প্রদর্শন ইসলামের জন্য দুর্ভাগ্যজনক।
আরেক শ্রেণির নারী জিন্স প্যান্ট আর টাইট গেঞ্জি পরে। কিন্তু মাথা আবৃত রাখে ফ্যাশনেবল স্কার্ফ দিয়ে। শরীরের গঠন তাতে কেবল সুদৃশ্যমানই হয়ে ওঠে না, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পুরুষকে আর দশজন বেপর্দা নারীর চেয়ে বরং বেশিই আকর্ষণ করে। আরেকটি শ্রেণি আছে যারা বোরকা পরে মুখও ঢাকে ঠিক; কিন্তু সেই বোরকা আর স্কার্ফ এতোটাই পাতলা যে, তাতে আবৃত দেহের আকার-আকৃতি অক্লেশেই পুরুষের লোলুপ দৃষ্টির সামনে তুলে ধরে।
ইদানীং অনেক মা-বোনকে দেখা যায়, বোরকা পরে কিংবা মাথায় হিজাব লাগিয়ে নিজের মেয়েকে অর্ধনগ্ন পোশাকে সুন্দরী প্রতিযোগিতা কিংবা নাচ, গান কিংবা সুন্দরী বিচিত্র দেহ প্রদর্শনীমূলক প্রতিযোগিতায় নিয়ে যান। আর এসব প্রতিযোগিতায় নিজের মেয়েকে খেতাবধারী বানাতে ছোটবেলা থেকেই নিয়ে যান গান বা নাচের স্কুলে। মুসলিম হিসেবে শুদ্ধভাবে কুরআন শেখার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সন্তানকে তা শেখাতে যারা যত্নশীল নন, বিস্ময়করভাবে তারাই কি-না দু'দিনের যশ-খ্যাতি কামাতে নাচ-গানে এতো আন্তরিক!
এ পর্যায়ে একটি ব্যাপার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। তাহলো, যারা বোরকা পরা সেসব নারীর সমালোচনা না করে বোরকাকে সমালোচনায় বিদ্ধ করেন, তাদেরও একটি বিষয় বিবেচনায় রাখা উচিত যে, কিছু দুষ্ট প্রকৃতির নারী তাদের অপকর্ম নির্বিঘ্নে সম্পাদনের জন্য বোরকা ব্যবহার করেন। আবাসিক বোর্ডিং কিংবা ছিনতাই বা চুরি-ডাকাতির ক্ষেত্রে, মাদক পাচারকালেও এর আশ্রয় নেয় অনেক দুষ্ট লোক। হতভাগা কিছু নারী পরীক্ষায় নকলের জন্যও বোরকাকে কলংকিত করে। এদের বিচার তো আল্লাহই করবেন। এ জন্য ঢালাওভাবে বোরকাকে দোষারোপ করা বা ধর্মদ্রোহীদের ভাষায় বোরকাবৃতাদের দোষ খুঁজে বেড়ানো আর যাই হোক কোনো ঈমানদারির পরিচয় হতে পারে না; হতে পারে না কোনো ভদ্রলোকের আচরণও। এদের অপকর্মকে যদি কেউ বোরকা না পরার যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেন তবে তিনি অজ্ঞতা কিংবা ধর্মদ্রোহিতার পরিচয় দেবেন। মনে রাখতে হবে যে, কিছু লোকের অপকর্মের ভার কখনো কোনো শ্রেণির ওপর চাপানো সুবিবেচনা হতে পারে না। এটি অবশ্যই জঘন্য অন্যায়।
📄 বোরকার মুণ্ডপাত
একটি বিষয় আজ সমাজদেহকে বিষিয়ে তুলছে। তাহলো, সারা পৃথিবীর সঙ্গে সুর মিলিয়ে আমাদের মিডিয়াগুলোও তো বর্ণবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। রোজ পেপারে গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণবাদী ঘটনার বিবরণে একে অপরাধ হিসেবে তুলে ধরা হয়। তথাপি তারা আবার কিভাবে বর্ণবাদী আচরণ করে ইসলাম অনুশীলনকারীদের প্রতি? সন্দেহ নেই যে, ইসলামি পোশাকের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও এক ধরনের বর্ণবাদী মানসিকতার পরিচায়ক। কেউ যদি উল্টো যুক্তি দিয়ে বলে যে, তারা নিজেরা যে সাধারণ পোশাক পরেন, দুনিয়ার সব অপরাধী আর সন্ত্রাসী বদমাশই তো সে পোশাকে শোভিত হয়।
তাই বলে কি প্যান্ট-শার্ট পরা দেখলেই তাকে কেউ বলতে পারে সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী? বিশ্বসন্ত্রাসী আমেরিকা আর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ফুলপ্যান্ট আর টি শার্ট বা কোর্ট-টাই পরেন বলে আমি কি এ পোশাকে কাউকে দেখলেই বলতে পারি যে, এই হিটলার, মুসোলিনি? কখনো না। তাহলে বোরকাপরা কোনো নারীকে কিংবা অপরাধ সংঘটনের জন্যই বোরকাপরা পুরুষকে কাব্যাঘাত না করে কেন মুণ্ডপাত করা হবে বোরকার? এ এক অবিচারই বটে।
তবে বোরকাপরা বোনদেরও মনে রাখতে হবে যে, ইসলামবিরোধী মিডিয়াগুলো সব সময় এসব খারাপ দৃষ্টান্ত লুফে নেয়ার অপেক্ষায় থাকে। তারা টুপি-দাড়ি বা বোরকাপরা মানুষের কোনো দোষ পেলে দায়ী ব্যক্তির অপরাধের সমালোচনা না করে এই পোশাকের বিরুদ্ধে ওঠেপড়ে লেগে যায়। আসলে এই ছুতোয় তারা নিজেদের ইসলাম না মানার কুবাসনা চরিতার্থ করে। নিজের ধর্মহীনতাকে জায়েয করার ব্যর্থ চেষ্টা চালায় ষোলকলা পাকাপোক্ত করে।
বোরকার প্রমাণ দিতে গিয়ে বিশিষ্ট সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেছেন-
كَالرِّدَاءِ وَالثَّيَابِ يَعْنِي عَلَى مَا كان يتعاطاه نِسَاءُ الْعَرَبِ مِنَ الْمِقْنَعَةِ الَّتِي تُجَلِّلُ ثِيَابَهَا وَمَا يَبْدُو مِنْ أَسَافِلِ الثَّيَابِ. فَلَا حَرَج عليها فيه لأن هذا لا يمكنها إخفاؤه
চাদর ও কাপড়। আরবের নারীগণ যে বড় চাদরে তাদের পরনের কাপড় ঢেকে বের হতেন এবং কাপড়ের নিচের অংশ, যা চলার সময় চাদরের নিচ দিয়ে প্রকাশিত হয়ে যেত, তা যেহেতু ঢেকে রাখা সম্ভব নয় সেহেতু এতে কোনো দোষ নেই। [ইবনে কাসীর: ৬/৪১]
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর বিন আস রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন-
رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلَا تَلْبَسْهَا
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার গায়ে জাফরান ব্যবহৃত একজোড়া কাপড় দেখে বললেন, 'এসব হলো কাফেরদের পোশাক। তাই তুমি তা পরিধান করো না।' [মুসলিম: ৫৫৫৫]
সমাজদেহ থেকে এই অভিযোগ ও সমালোচনার মূলোৎপাটন জরুরি। সেজন্য বোরকাপরা নারীদের প্রয়োজন দায়িত্বশীল আচরণ। কারণ প্রকৃত বোরকাবৃতা মা বোনেরা কিছুতেই নিজের মর্যাদা ও সম্মানের কথা ভুলতে পারেন না। তাদের জানতে হবে কোন কাজটি তাদের সম্মানের সঙ্গে যায় আর কোনটি যায় না। শুধু সামাজিকতা রক্ষায় কিংবা বাবা-মা'র পীড়াপীড়িতে নয়, সকল নারীকে বোরকা পরতে তথা শালীন পোশাক পরতে হবে আল্লাহর হুকুম সম্পর্কে জেনে এবং বিধানটিকে বুঝে। বুঝতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ বোরকা নয়; তাঁর নির্দেশ হলো পর্দা রক্ষা করা। তাই প্রয়োজন আপাদমস্তক নিজেকে ঢেকে ফেলা এবং বেগানা পুরুষের সংশ্রব থেকে যথাসাধ্য দূরত্ব বজায় রাখা। মনে রাখতে হবে যে, পরিবারের নিরাপদ ছায়াই নারীর ঠিকানা।
ইদানীং এ বিষয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মাঝেমধ্যেই বিতর্ক তোলা হচ্ছে। আসলে এ বিষয়টি স্বতন্ত্র আলোচনার দাবি রাখে। তবে হ্যাঁ, এ জন্য অভিভাবকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। সন্তানকে আর সব শিক্ষার পাশাপাশি ইসলামের মৌলিক শিক্ষাও দিতে হবে। পর্দা এবং ইসলামের শিষ্টাচার শেখাতে হবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে। পাশাপাশি তাদের জন্য পরিবারে নিশ্চিত করতে হবে ইসলামি অনুশাসন এবং সঠিক গৃহশিক্ষার। নিজের কষ্টে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কলিজার টুকরো মেয়েকে বিধর্মী পোশাক কিংবা পুরুষদের বেশ কিনে দেবেন না। সন্তানকে বানাবেন না আল্লাহর রাসূলের অভিশাপের ভাগিদার। দায়িত্বশীল হিসেবে নিজেকেও বানাবেন না অপরাধী।