📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 যৌন সুড়সুড়ির ফেরিওয়ালা

📄 যৌন সুড়সুড়ির ফেরিওয়ালা


আজ বিশ্বব্যাপী চলছে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার পাঁয়তারা। ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করতে হেন কোনো প্রচেষ্টা নেই যা ষড়যন্ত্রকারীরা করছে না। অশ্লীল পত্রিকা, নিকৃষ্ট ম্যাগাজিন, উলঙ্গ সিনেমা, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ওয়েবসাইট, ইউটিউব, টুইটারে রয়েছে ফাসেক ও পাপিষ্ঠদের প্ররোচনা। সর্বোপরি মুসলিম নারীদেরকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইসলামের শত্রুরা অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান মুসলিম নারীর অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌছেছে, যা ইসলাম ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করে।
গভীর উদ্বেগের সাথে চ্যানেলগুলোতে দেখা যায় যে, একজন যুবক অন্য একজন যুবতি মেয়েকে হাত ধরে নাচাচ্ছে, পরস্পর জড়িয়ে ধরছে, গালে গাল ও বুকে বুক লাগাচ্ছে। টিভির পর্দার সামনে কি সেই মহিলার পিতা-মাতা ও যুবক-যবতি ভাই-বোন থাকে না? এ ধরনের পিতা-মাতা কি তাদের এই নায়িকা মেয়েটিকে চিনতে পারে না? তারা কি মুসলিম নয়? প্রকৃত কোনো মুসলিম কি তার মেয়েকে এ অবস্থায় দেখতে পছন্দ করতে পারে? এই দৃশ্য কি চোখ খুলে দেখতে পারে? তার মেয়েকে নিয়ে অন্য একজন পুরুষ এভাবে খেলা করবে আর সে তা উপভোগ করবে- এটি কোনো মুসলিম কি সমর্থন করতে পারে?
আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করে থাকবেন যে, আজকালকার অধিকাংশ মিডিয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যৌন সুড়সুড়ি ফেরি করে থাকে। অবশ্য দুয়েকটি ভালো যে নেই তা নয়। তবে তা শাদা কাকের মতোই বিরল।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যেন আজকের মিডিয়ার বুদ্ধিজীবী দাবিদার বুদ্ধির ঢেঁকিরা যৌনতা প্রকাশের ঠিকাদারি নিয়েছে কিংবা তারা উলঙ্গপনা প্রকাশের ষোলএজেন্ট। তারা পত্রিকায় বিদেশি অভিনেত্রীদের ছবি প্রকাশ করে। খেলাধুলার নামে স্কুলের ছাত্রীদের অবকাশ যাপনের নামে সমুদ্র সৈকতের নারীদের ছবি ছাপে। তারা দিনের পর দিন এভাবে কাজ করে যাচ্ছে শয়তানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর সুনির্দিষ্ট কৌশলেই তারা অগ্রসর হচ্ছে। যদি তারা না থাকত, যদি না থাকত তাদের
পত্রিকা এবং অশ্লীল গল্প ও ছবি! আর যদি না থাকত বিপথগামী বিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষা সমাপনকারী লোকগুলো! তাহলে কতই না ভালো হতো আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য।
যারা একসময় স্কুল-কলেজে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ভার লাভ করে তারা যদি সত্যিকারের আদর্শবাদী শিক্ষক হতো তাহলে কোনো দিনও খেলার নামে, গ্রীষ্মকালীন অবকাশের নামে মুসলিম মেয়েদের পা আর উরু উদাম করা চিত্র দেখতে হতো না। ইসলাম তো দূরের কথা, এমনকি খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের ধর্মও তা সমর্থন করে না। তাদের ইতিহাস পাঠ করলেই এ কথার প্রমাণ মিলে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু মুসলিম দেশে মুসলিম নারী-পুরুষের চারিত্রিক অবস্থা এই পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, মানুষ তো দূরের কথা; পশুরাও তা গ্রহণ করতে পারে না। এ নির্মম বাস্তবতাকে কি আমরা আজীবন নীরবে সয়েই যাব? এ অধঃপতিত মানবতাকে উদ্ধারের জন্য কি আমাদের কোনো করণীয় নেই?
দুটি মোরগ যখন একটি মুরগীর নিকটবর্তী হয়, তখন মুরগীটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়ার জন্য মোরগ দু'টি পরস্পর ঝগড়া করে এবং একটি অন্যটিকে তাড়িয়ে দেয়।
ইউরোপ, আমেরিকা, ব্রিটেনসহ বিধর্মী রাষ্ট্রের কথা নাইবা বললাম। মুসলিম রাষ্ট্র মিসর, লেবানন বা বাংলাদেশের কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতসমূহে এবং ঢাকার পার্কসমূহে মুসলিম নারীদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাদের মুখ, মাথা, পেট, পিঠ এমনকি সবই উন্মুক্ত। বিকিনি পরে তারা আনন্দে অবগাহন করছে!
শুধু এখানেই শেষ নয়! অবস্থা এ পর্যায়ে পৌছেছে যে, দু'জন পুরুষ মিলে একজন নারীকে ভাগাভাগি করে উপভোগ করছে। এই অবস্থা কি কোনো পশু সমর্থন করে? একটি মোরগ কি চায় যে, তার আয়ত্তের মুরগীটির ওপর আরেকটি মোরগ এসে আরোহণ করুক? অথচ সৃষ্টির সেরা মানুষ কি অবলীলায়ই না এসব পশুত্বকে হার মানাচ্ছে!
আমি এ কথা বলছি না যে, মুসলিম নারীরা এক লাফে প্রথম জমানার মুসলিম নারীদের মতো হয়ে যাবে। কেননা এটি অসম্ভব। কারণ বর্তমানে মুসলিম নারীরা যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে, তা এক লাফে এসে পৌছেনি। তারা প্রথমে মাথার চুলের একাংশ খুলেছে, তারপর খোপা, তারপর
পুরোটাই। এরপর বফকার্টিং করে চুল কাটতে শুরু করেছে। আর এখন! এখন তো চুলের দিকে তাকালে ছেলে আর মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করাই দায় হয়ে পড়বে।
মুসলিম নারীরা অজ্ঞানতার আঁধারে পড়ে তাদের কাপড় ছোট করতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনের ব্যবধানে তারা জাতির পুরুষদের গাফিলতির সুযোগে বর্তমানের দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি যে, বিষয়টি এ পর্যন্ত গিয়ে পৌছুবে।
ঘড়ির ঘণ্টা বা মিনিটের কাঁটার দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেটি নড়ছে না; বরং আপন স্থানেই অবস্থান করছে। কিন্তু যদি দু'ঘণ্টা পর পুনরায় সেই ঘড়িটির কাছে ফেরত আসা যায়, তাহলে দেখা যাবে যে, ঘড়ির কাঁটাদ্বয় এখন আগের স্থানে নেই; বরং অনেক অগ্রসর হয়েছে। এমনিভাবে শিশু জন্মগ্রহণ করে একদিনেই যুবক হয়ে যায় না এবং যুবক হয়ে এক লাফে বৃদ্ধে পরিণত হয় না; বরং দিনের পর রাত, রাতের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অতিক্রম করার মাধ্যমে সে বিভিন্ন অবস্থা অতিক্রম করে। এমনিভাবেই জাতির অবস্থা পরিবর্তন হয় এবং ভালো থেকে মন্দ ও মন্দ থেকে ভালোর দিকে ধাবিত হয়।
এ কারণেই বলছি যে, মুসলিম মেয়েদের এই অবস্থা একদিনেই পরিবর্তন হবে না। এক লাফে তারা পূর্বের সেই আসল অবস্থায়ও ফিরে যাবে না; বরং আমরা সেভাবেই তাদেরকে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব, যেভাবে পর্যায়ক্রমে তারা বর্তমানের করুণ ও দুঃখজনক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।
আমাদের সামনে পথ অনেক দীর্ঘ। পথ যদি অনেক দীর্ঘ হয়, তার বিকল্প সংক্ষিপ্ত অন্য পথ না থাকলে যে ব্যক্তি পথ দীর্ঘের অভিযোগ করে যাত্রা শুরু করবে না, সে কখনো তার গন্তব্যে পৌছাতে সক্ষম হবে না।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 প্রেমের রঙিন ফাঁদ

📄 প্রেমের রঙিন ফাঁদ


প্রেম-ভালোবাসা আদিকাল থেকেই চলে আসছে। তবে হ্যাঁ, এখনকার মতো আগেকার প্রেম-ভালোবাসা এতটা নোংরা ছিল না। দিন যতই যাচ্ছে প্রেম-ভালোবাসার নামে নোংরামিও ততই ঘৃণ্য আকার ধারণ করছে। ইদানীং নিষিদ্ধ পল্লীতে গমনকারী খদ্দেরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে।
মিসরের এক যুবক আমার কাছে তার ফ্রেন্ডসার্কেলের এমন দিল কাঁপানো তথ্য দিয়েছে। পাশাপাশি সে এ অবস্থায় করণীয়ও জানতে চেয়েছে। আমি তার জবাবে বলেছি যে, খবরদার, বাবা! সমাজের রঙিন ফাঁদ কিংবা কথিত বন্ধুমহলই হয়তো তোমাকে নিয়ে যাবে এ নরক ভুবনে। তখন তোমার আর ভালো-মন্দের হিতাহিত জ্ঞান থাকবে না। তুমি আঁজলা ভরে নেবে হারাম প্রবৃত্তির কাদা। এগিয়ে যেতে থাকবে ভ্রান্তির পথে। গমন করবে নিষিদ্ধ পল্লিতে। নিজের দীন-ধর্ম জীবন যৌবন বিলিয়ে দিবে সাময়িক ভোগের পেছনে। তখন অনেক পরিশ্রমের সনদ খোয়াবে। বহু কাঙ্ক্ষিত চাকরি হারাবে। আশা জাগানিয়া বিদ্যা ভুলে যাবে। তোমার শক্তি ও যৌবনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এক সময় যা দিয়ে তুমি অবলীলায় কর্মময়তার বিশাল সমুদ্র পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন দেখতে তা ক্রমেই তোমার অজান্তে হারিয়ে যাবে। তখন তুমি শুধু ঠুটো জগন্নাথ হয়ে পড়ে থাকবে।
মনে রাখবে যে, নিষিদ্ধ পল্লির ললনারা তোমাকে হয়তো সাময়িক জৈবিক আনন্দ দিবে। কিন্তু তোমার সব হারানোয় সে-ই হবে সবচেয়ে জঘন্য সারথি।
নিষিদ্ধ পল্লিতে একবার গমনে তুমি মনে করবে তৃপ্ত হতে পেরেছ? নাহ! কখনও না। কোনো একজনের সঙ্গে মিলনের পর বাসনা আরও তীব্র হবে। এ যেন লবণাক্ত পানি। যতই পান কর ততই পিপাসা বাড়ে। ওই পাড়ার হাজারজনের সঙ্গে তোমার পরিচয় হয়ে যাবে। দেখবে- যে একজন তোমার থেকে দূরে থাকে, যে তোমাায় এড়িয়ে চলে; তুমি তার প্রতিই আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাকে না দেখলে তোমার কষ্ট লাগবে। যেমন কষ্ট লাগে যে নারীকে কখনো আবিষ্কার করেনি তার মতো।
মেনে নিলাম যে, তুমি তাদের থেকে যা চেয়েছ তা-ই পেয়েছ। তোমার সম্পদ আছে, ক্ষমতাও আছে। তোমার দেহ কি তা সইতে পারবে? তোমার স্বাস্থ্য কি কামনার সব বোঝা বহন করতে পারবে? এ ক্ষেত্রে বীর বাহাদুরও ধরাশায়ী হয়ে যায়। কতজন শক্তির নায়ক ছিল- ভারোত্তোলন, কুস্তি, তীরনিক্ষেপ ও দৌড় প্রতিযোগিতায় ছিল বিস্ময়! কিন্তু যখনই তারা জৈবিক চাহিদার ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং স্বাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে তখনই তারা বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
আল্লাহ তায়ালার প্রজ্ঞার একটি বিস্ময়কর দিক হলো তিনি উত্তম কাজের প্রতিদান রেখেছেন সাওয়াব, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দিয়ে। পক্ষান্তরে পাপের শাস্তি নির্ধারণ করেছেন অধঃপতন আর অসুস্থতা দিয়ে।
আমার দেখা ত্রিশ বছর পার হয়নি এমন কত পুরুষকে পাপের ঝড়ে মনে হয়েছে ষাট পেরোনো বুড়ো। আবার তার বিপরীত নজিরও আছে। দেখেছি ষাট পার করা কত বুড়োকে। তাদেরকে সংযম আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের দরুন ত্রিশ বছরের যুবক মনে হয়। ইউরোপের সেই প্রবাদ আসলেই তার সত্যতা প্রমাণ করেছে- 'তুমি যৌবনের যত্ন নিলে বার্ধক্যে যৌবন তোমার যত্ন নিবে।'

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 নারীমনের একান্ত চাহিদা

📄 নারীমনের একান্ত চাহিদা


কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য না রাখলে নিজ ঘরে শান্তির দেখা পাওয়া দুরূহ হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে ঐ বিষয়গুলোর প্রতি যথাযথভাবে খেয়াল করলে বৈবাহিক জীবন হয় সুখময়। ভালোবাসার প্রজাপতি আনন্দে পাখনা মেলে উড়াউড়ি করে। প্রত্যেক স্বামীর পক্ষ হতে নিজের স্ত্রীর জন্য এ বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা কর্তব্য। নিচে এ বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো।
স্ত্রীরা প্রেম ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ পছন্দ করে। তারা ভালোবাসার সুস্পষ্ট উচ্চারণ শুনতে চায়। অতএব স্ত্রীর সাথে এ ব্যাপারে কার্পণ্য করা ঠিক নয়। এ ব্যাপারে যদি কার্পণ্য করা হয়, তবে তার ও নিজের মধ্যে নির্দয়তার দেয়াল টেনে দেয়া হয়। স্বামী-স্ত্রীর নির্মল ভালোবাসার ব্যাকরণে ভুল করা হয়!
স্ত্রীরা কঠোর ও অনড় স্বভাবের পুরুষদের অপছন্দ করে। পক্ষান্তরে তারা কোমল চিত্তধারী পুরুষদের পছন্দ করে। অতএব প্রতিটি গুণকে স্বস্থানে রাখা অপরিহার্য। কারণ, এটি ভালোবাসা ডেকে আনে এবং প্রশান্তি ত্বরান্বিত করে।
নারীরা স্বামীর কাছে তা-ই প্রত্যাশা করে স্বামীরা স্ত্রীর কাছে যা প্রত্যাশা করে। যেমন- ভদ্রোচিত কথা, সুন্দর চেহারা, পরিচ্ছন্ন বসন ও সুগন্ধি। অতএব প্রতিটি অবস্থায় এসবের প্রতি লক্ষ্য রাখা কর্তব্য।
স্ত্রীকে নিজের মতো করে কাছে পেতে তার কাছে এমন অবস্থায় ঘেঁষা ঠিক নয়, যখন নিজের শরীর থাকে ঘামে জবজবে। কিংবা যখন স্বীয় কাপড় থাকে ময়লা। এমনটি করলে যদিও সে স্বামীর আনুগত্য দেখাবে; কিন্তু তার অন্তরে তার প্রতি এক ধরনের বিতৃষ্ণা তৈরি হয়ে যাবে। ফলে শুধু তার শরীরই স্বামীর ডাকে সাড়া দিবে; তার অন্তর পালিয়ে বেড়াবে দূরে বহু দূরে।
ঘর হলো নারীর রাজত্ব। ঘরের মধ্যে তারা নিজেকে নিজের আসনে সমাসীন ভাবে। নিজেকে সেখানকার প্রধানতম নেত্রী মনে করে। অতএব তার সাজানো এই প্রশান্তির রাজ্যটিকে তছনছ করতে যাওয়া ঠিক নয়। এ আসন থেকে তাকে নামাবার চেষ্টাও করা প্রয়োজন নেই। তাকে তার আসনে অটুট থাকতে দেয়া উচিত। কারণ এটি মূলত নিজেরই আসন। স্বামী নিজ স্ত্রীকে তার অবস্থানে রাখলে প্রকারান্তরে নিজের আসনই পোক্ত করা হয়। আর যদি তার আসন গুঁড়িয়ে দেয়া হয় তাহলেও প্রকারান্তরে নিজেকেই যেন রাজত্ব থেকে উচ্ছেদ করলে। মনে রাখবেন, কোনো রাজার জন্য তার চেয়ে বড় শত্রু আর কেউ হতে পারে না, যে নিজ রাজত্ব নিয়ে টানাটানি করে।
যদিও স্ত্রী মুখ বুজে সব সয়ে যায় এবং কিছু বলে না; কিন্তু এতে করে পারস্পরিক বিশ্বাস ও ভালোবাসার পরিবেশ দূষিত হয়ে যায়।
নারী যেমন চায় তার স্বামীকে পেতে তেমনি তার পরিবারকেও সে হারাতে চায় না। অতএব তার পরিবারের সঙ্গে নিজেকে এক পাল্লায় মাপতে যাওয়া মোটেই উচিত নয়। যদি এমন চান যে, সে হয়তো আপনার হবে, নয়তো পরিবারের; তবে সে যদিও আপনাকেই অগ্রাধিকার দেবে। কিন্তু মনে মনে ঠিকই বিষণ্ণ হবে। যার ভার সে আপনার দৈনন্দিন জীবন পর্যন্ত বয়ে আনবে।
হাদিসের ভাষ্য মতে, নিশ্চয় নারীকে সবচে বাঁকা হাড় দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি তার দোষ নয়; বরং এ তার সৌন্দর্যের এক প্রকার রহস্য। এটি তার আকর্ষণের চাবিকাঠি। ভ্রুর সৌন্দর্য যেমন তার বক্রতায়, নারীর সৌন্দর্যও এমনই।
অতএব সে কোনো ভুল করলে তার ওপর এমন হামলা চালাবেন না যাতে কোনো সহমর্মিতা বা সদয়তা থাকে না। বাঁকাকে বেশি সোজা করতে গেলে আপনি তা ভেঙেই ফেলবেন। তবে হ্যাঁ, তার ভুলগুলো প্রশ্রয় দিবেন না। সেগুলো তাকে বুঝিয়ে বলবেন। তা না করে আপনি তার ওপর শাসনের ছড়ি চালালে তার বক্রতা বেড়েই যাবে। এতে সে নিজেকে নিজের মধ্যে গুটিয়ে নেবে। ফলে সে আপনার জন্য নরম হবে না, আপনার কোনো কথাও শুনবে না। খিটখিটে মেজাজ থেকে ক্রমেই আপনি তার কাছে হয়ে যাবেন তাচ্ছিল্যের পাত্র।
নারীদের সৃষ্টিই করা হয়েছে স্বামীর অকৃতজ্ঞতা এবং উপকার অস্বীকারের উপাদান দিয়ে। যদি যুগ যুগ ধরে তাদের কারো প্রতি সহৃদয়তা ও সদাচার
দেখানো হয় তারপর যদি কালেভদ্রে একটিবার মাত্র তার সঙ্গে মন্দ ব্যবহার হয়ে যায় তবে সে অকপটে বলে ফেলবে- 'তোমার কাছে আমি জীবনে ভালো কিছুই পেলাম না।' অতএব তাদের এ বৈশিষ্ট্য যেন তাকে অপছন্দ বা ঘৃণায় প্ররোচিত না করে। কারণ, আপনার কাছে তার এ বৈশিষ্ট্যটি খারাপ লাগলেও তার অনেক গুণ দেখবেন ভালো লাগার মতো।
নানাবিধ শারীরিক দুর্বলতা ও মানসিক ক্লান্তির মাঝ দিয়ে নারীর জীবন বয়ে চলে। এদিকে লক্ষ্য রেখেই আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য কিছু ফরজ পর্যন্ত ক্ষমা করে দিয়েছেন। যা এ সময় কর্তব্য ছিল। যেমন রজঃস্রাব ও সন্তান প্রসবকালে তার জন্য পুরোপুরিভাবে সালাত মাফ করে দিয়েছেন। এ সময় ফরজ সিয়াম পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না তার শারীরিক সুস্থতা ফিরে আসে এবং তার মেজাজ স্বাভাবিক হয়ে যায়। অতএব এ সময়গুলোয় পুরুষের জন্য আল্লাহর ইবাদতমুখী হয়ে যাওয়া উচিত। কারণ, তার জন্য আল্লাহ যেমন ফরজকে হালকা করে দিয়েছেন তেমনি তার থেকে পুরুষের চাহিদা ও নির্দেশও হালকা করে দেয়া অপরিহার্য।
মনে রাখবেন স্ত্রী কিন্তু আপনার কাছে একজন বন্দিনীর মতো। অতএব তার বন্দিত্বের প্রতি সদয় থাকবেন এবং তার দুর্বলতাগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। তাহলে সে হবে আপনার জন্য সর্বোত্তম সম্পদ। সে আপনার সর্বोत्কৃষ্ট সঙ্গী হবে। একজন পুরুষের কাছে নারীর এগুলোই প্রধানতম চাহিদা।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 ব্যভিচারের পরিণাম

📄 ব্যভিচারের পরিণাম


জীবন ও যৌনতা অকাট্য সত্য। এ বাস্তবতাকে ইসলাম অকপটে স্বীকার করে। তবে পাশবিক বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেয় না। ইসলাম মানুষের যৌনক্ষমতা ও তার কামনাকে স্বচ্ছ, পবিত্র ও সুশৃঙ্খল করতে চায়। বিশ্ব মানবতাকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে তুলে আনার মহান লক্ষ্যেই হয়েছিল বিশ্বনবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাব। কথাবার্তা, আচার-আচরণ, লেনদেন, চিন্তাচেতনা, স্বভাব-চরিত্র সকল ক্ষেত্রেই তিনি অন্ধকার দূর করে উম্মাহকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। যে যৌনক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য হলো মানব বংশের বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ; সে ক্ষমতা যেন যথার্থ স্থানে প্রবাহিত হয়; অধিকন্তু সে তাড়নায় যেন মানুষ উন্মাদনার শিকার না হয়, সে কারণে যৌন সম্পর্কের কঠোরভাবে প্রতিবিধান করেছে ইসলাম। এক কথায় ইসলাম যৌন চাহিদা পূরণের বৈধ আয়োজনকে উৎসাহিত করেছে।
যেনা-ব্যভিচার ধর্মীয়, সামাজিক ও আদর্শিক সকল মাপকাঠিতেই জঘন্য অপরাধ। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই সকল ধর্ম ও সকল দেশেই এটি অন্যায় বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। ইসলাম এ অপরাধকে সর্বাধিক ঘৃণিত বিবেচনা করে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا إِنَّهُ كَانَ فَاحِشَةً وَسَاءَ سَبِيلًا
তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, নিঃসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। [বনি ইসরাঈল: ৩২।
ব্যভিচার মানুষকে মর্যাদার আসন থেকে পতিত করে। ব্যভিচারের ভয়াবহ পরিস্থিতির হাত থেকে মানবজাতিকে রক্ষা করার লক্ষ্যেই ইসলাম এর কঠিন শাস্তির বিধান করেছে। এ অপরাধ কাজটি যেমন জঘন্য, শাস্তিও ঠিক তেমনি কঠোর। ব্যভিচারী নারী-পুরুষের একশটি বেত্রাঘাত, অবস্থাভেদে পাথর মেরে প্রাণনাশের শাস্তির বিধান করেছে ইসলামি শরিয়ত। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পাপের উৎসমূল চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়া।
অবশ্য এই শাস্তি প্রয়োগ হওয়ার জন্য উপযুক্ত সাক্ষী অথবা স্বীকারোক্তিমূলক স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যাওয়া শর্ত। সাক্ষী কমপক্ষে চারজন হতে হবে। স্পষ্ট ভাষায় ঘটনার বিবরণ দিতে হবে। কোথায় কখন কার সাথে কিভাবে যেনা-ব্যভিচার হতে দেখেছে তা পরিষ্কার করে বলতে হবে। 'সুরমাদানির কাঠি সুরমাদানির মধ্যে যেভাবে প্রবিষ্ট করে সেভাবে প্রবিষ্ট করতে দেখেছি' এই জাতীয় স্পষ্ট বক্তব্য সকল সাক্ষীকে দিতে হবে। অনুরূপ স্বীকারোক্তির ক্ষেত্রেও চারবার স্পষ্ট ভাষায় অপরাধের ব্যাখ্যামূলক বিবৃতি দিতে হবে। বিচারক এক্ষেত্রে বরং এইভাবে টলাতে চেষ্টা করবেন, 'তুমি হয়তো ব্যভিচার করোনি। চুমু খেয়েছ, ধরেছ ইত্যাদি। তাতেও যদি না দমে বরং নিজের অপরাধ অকপটে স্বীকার করে তবেই তাকে উপরোক্ত দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। হিদায়া: ২য় খণ্ড, পৃ ৪৮৬]
কুরআন মাজিদের অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُم ... عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ
আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের ওপর (ব্যভিচারের) অপবাদ আরোপ করে অথচ নিজেরা ছাড়া তাদের কাছে (অপবাদের পক্ষে) অন্য কোনো সাক্ষীও মজুদ থাকে না, তবে এটাই তাদের সাক্ষ্য যে, তারা আল্লাহর নামে চারবার
শপথ করে বলবে, অবশ্যই (এ অভিযোগের ব্যাপারে) সে সত্যবাদী।
এরপর পঞ্চমবার শপথ করার সময় বলবে, মিথ্যাবাদীর ওপর যেন আল্লাহ তায়ালার গজব নাযিল হয়। কোনো স্ত্রীর ওপর থেকেও এভাবে আনীত অভিযোগের শাস্তি রহিত করা হবে- যদি সেও চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলে, এ (পুরুষ) ব্যক্তিটি হচ্ছে আসলেই মিথ্যাবাদী। অতঃপর সেও পঞ্চমবার শপথ করার সময় বলবে, সে অভিযোগকারী ব্যক্তিটি সত্যবাদী হলে তার অভিযুক্তের ওপরও আল্লাহর অভিশাপ নেমে আসুক। [নূর: ৬-৯] আরো ইরশাদ হয়েছে-
وَالَّذِينَ يَرْمُونَ الْمُحْصَنَاتِ ثُمَّ لَمْ يَأْتُوا بِأَرْبَعَةِ شُهَدَاء ..
(অপরদিকে) যারা খামোখা সতী-সাধ্বী নারীদের ওপর ব্যভিচারের অপবাদ আরোপ করবে এবং এর সপক্ষে চারজন সাক্ষী হাজির করতে পারবে না, তাদের আশিটি বেত্রাঘাত করবে এবং ভবিষ্যতে আর কখনো তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে না, কেননা এরা হচ্ছে নিকৃষ্ট গুনাহগার। [সূরা নূর: ৪]
স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দেয়ার পর শাস্তি কার্যকর হওয়ার পূর্বে যদি বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেয় তাহলে শাস্তি রহিত হয়ে যাবে। শাস্তিটি অত্যন্ত কঠিন বিধায়ই তার বাস্তবায়নে এতটা সতর্কতা ও শর্তসাপেক্ষে তা অবলম্বন করা হয়েছে।
মূলত ইসলামি হুকুমত এসব শাস্তি কার্যকর করবে; কোনো ব্যক্তি নয়। এসব শর্ত এজন্য আরোপ করা হয়েছে যে, এগুলো সবই আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত। এগুলো এমন এক মহান বৈশিষ্ট্য যার পরশে একটি মানুষ এমনিতেই সুস্থ হয়ে যায়। অধিকন্তু যে যৌন শৃঙ্খলার সে শিকার তা চরিতার্থ করার উপযুক্ত পাত্রও তার রয়েছে। এরপরও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া নিঃসন্দেহে গুরুতর অপরাধ। প্রকারান্তরে তা আল্লাহর আইনের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা ও বিদ্রোহের শামিল। তাই এর শাস্তির বিধান করা হয়েছে অত্যন্ত কঠিন ও দৃষ্টান্তমূলক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00