📄 কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো
আমরা 'খাও দাও ফুর্তি কর আগামীকাল বাঁচবে কিনা বলতে পার' নীতি পোষণ করি। তাই যৌবনটাকে উপভোগ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠি। লজ্জাকর কথা হলো, আজ আমাদের সমাজেরও যৌনচাহিদা নিবারণ ইউরোপের মতোই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের কচি প্রজন্ম বাল্য বয়সেই যৌন কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমরা কেউই ভেবে দেখি না যে, আমাদের এই টগবগে তারুণ্যে এক সময় নিঃসন্দেহে ভাটা নামবে। তখন বৃদ্ধ ষাঁড়ের গাভীর দিকে চেয়ে চেয়ে দেখার মতো আর করার কিছু থাকে না। আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবি না যে, এই সোনালি দিনগুলোয় এক সময় বিকেল আসবে, আসবে সন্ধ্যা। তখন আমার দিকে ফিরে কেউ তাকাবারও থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে এবার এক ইউরোপ ভ্রমণকারী পর্যটকের কথা শুনাব। তিনি লিখেছেন-
আমি বেলজিয়ামের কোনো এক শহরের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় পথচারী পারাপারের জন্য সিগন্যাল খুলে দেয়া হলো। আমি দেখলাম এক বৃদ্ধা রাস্তা পার হতে চাচ্ছে। তিনি এতই দুর্বল ছিলেন যে, তার হাত-পা কাঁপছিল। গাড়িগুলো প্রায় তার উপর দিয়ে ওঠে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। কিন্তু কেউ তার হাত ধরে সহায়তা করছিল না।
মজার কথা হলো, আমি আমার সাথের একজন যুবককে মহিলাটির হাত ধরে সাহায্য করতে বললাম। তখন ৪০ বছর যাবৎ বেলজিয়ামে বসবাসকারী আমার ঐ বন্ধুটি বললেন, দোস্ত! এই মহিলাটি এক সময় এই শহরের অন্যতম সুন্দরী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত ছিল।
পুরুষেরা তার ওপর দৃষ্টি ফেলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। তার সংস্পর্শ পেতে পকেটের অর্থ খরচ করত এবং তার সাথে একবার হলেও করমর্দন করার প্রচেষ্টা চালাত। আজ এই মহিলাটির যখন যৌবন ও সৌন্দর্য চলে গেল, তখন তার হাত ধরে একটু সাহায্য করার জন্য একজন লোকও সে পাচ্ছে না!
এ রকম ঘটনা একটি নয়; শত শত পাওয়া যাবে। কিন্তু তারপরও আমাদের চেতনার বারান্দায় রোদ ওঠে না।
📄 তুমি যখন রাঙাবউ
আজ যে যুবতি, আজ যার রূপসাগরে ডুব দিতে অনেকে নাওয়া খাওয়া বাদ দেয়, সে এক সময় হয় অন্যের ঘরনি, অন্যের রাঙাবউ। আর এর মধ্যেই নারীর প্রকৃত সার্থকতা। এ পর্যায়ে যারা নববধূ হয়ে অন্যের গৃহ আলোকিত করতে গেছে, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। তাদেরকে কয়েকটি দরকারি কথা বলতে চাই। আশা করি যারা নববধূ হিসেবে স্বামীর ঘরে যাবে তাদের প্রত্যেকের জন্য কথাগুলো টনিকের কাজ দিবে।
হে নববধূ! তুমি যখন স্বামীর ঘরে সর্বপ্রথম প্রবেশ করবে তখন 'বিসমিল্লাহ' বলে প্রবেশ করবে। কারণ যে কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা হয়, সে কাজে শয়তান কুমন্ত্রণা দিতে পারে না। বরং তার সাথে আল্লাহর রহমত সঙ্গী হয়ে থাকে।
স্বামীর ঘরে সর্বদা পাক-সাফ ও পবিত্র পোশাক পরিধান করবে। চোখে সুরমা ব্যবহার করবে। প্রতিটি কাজেই পরিচ্ছন্নতা ও ভদ্রতাবোধের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। সবসময় সুগন্ধি ব্যবহার করবে। ঘরের দরজা জানালাসহ সকল কিছু পরিচ্ছন্ন রাখবে। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
শরীর ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন থাকলে মন প্রফুল্ল থাকে। এতে কর্মস্পৃহা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সুস্থ সবল জীবনযাপনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। আর যদি তুমি নোংরা, ময়লা আবর্জনাময় পোশাক পরিধান কর, তাহলে রোগ তোমার যেমন সাথি হবে তেমনি সবাই তোমাকে ঘৃণার চোখে দেখবে।
স্বামীর কাছে যাওয়ার আগে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে তাতে সুগন্ধি মেখে যাবে। এতে তোমার প্রতি স্বামীর মায়া-মমতা, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।
স্বামীর আনুগত্য করবে। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহমর্মী হয়ে জীবনযাপন করবে। স্বামীর হক উত্তমরূপে আদায় করে চলবে। মনে রাখবে- ঘরের সকল কাজ আঞ্জাম দেয়ার দায়িত্ব তোমার। আর বাহিরের সমস্ত কাজের জিম্মাদারি স্বামীর। স্বামী কত কষ্ট করে তোমার ও পরিবারের সকলের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেই তিনি তোমার ও পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার জোটান। তাই তিনি ঘরে আসলে যেন সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে আনন্দের বাগান খুঁজে পান, তোমাকে সেই ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত আমাদের প্রিয়নবী হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কন্যা রোকেয়া (রা.)-এর পর উম্মে কুলসুম (রা.)-কে ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সঙ্গে বিবাহ দেন তখন তার কন্যাদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি মূল্যবান নসিহত করেছিলেন। এ পর্যায়ে তোমার সামনে সেই অমূল্য উপদেশগুলো তুলে ধরছি।
'ঘরের শৃঙ্খলা ও তার তত্ত্বাবধান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ঘরোয়া সব কাজ আঞ্জাম দেয়া যেমন তোমার দায়িত্ব। একইভাবে স্বামীকে সন্তুষ্ট করা, তার কথা মান্য করা, তার আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা এবং সন্তানদেরকে আচার-আচরণ শিক্ষা দেয়াও তোমার কর্তব্য।'
তুমি স্বামীর গৃহে মাটি হয়ে যাবে। তাহলে দেখবে যে, তোমার স্বামী তোমার জন্য আসমান হয়ে থাকবে। তুমি যদি তার আরাম হতে পার, তবে দেখবে তোমার স্বামী তোমার জন্য আরামের ব্যবস্থা করবেন। তুমি যদি তার জন্য দাসী হয়ে যাও তবে স্বামীও তোমার জন্য গোলাম হয়ে যাবে।
তুমি তার নাক, কান ও চক্ষুর প্রতি লক্ষ রাখবে। বিশেষত তার চোখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করবে। যখনই তোমার সঙ্গ চায় তাৎক্ষণিক তার নিকটবর্তী হয়ে যাবে। আর মনে রাখবে তিনি যেন তোমার নিকট সুগন্ধি ছাড়া অন্য কোনো গন্ধ না পান; ভালো কথা ছাড়া অন্য কিছু শুনতে না পান; এবং তার পছন্দনীয় বিষয় ছাড়া অন্য কিছু দেখতে না পান।
মনে রাখবে তুমি একদিকে যেমন ঘরের রানি, অন্যদিকে তুমি দাসীও বটে। তোমার স্বামী তোমার মালিক। বিবাহের পর তোমার স্বামীই তোমার মন ও প্রাণের মালিক। তাই সর্বদা আদব-আখলাক ও সদাচরণ দ্বারা তাকে খুশি রাখতে চেষ্টা করবে। কারণ স্বামীর আনুগত্য নারীর জন্য অতি উচ্চ পর্যায়ের নেকীর কাজ। তুমি যখন অন্যের রাঙাবউ হবে তখন এ কথাগুলো যদি মনে রেখে সে মোতাবেক জীবন চালাতে পার তাহলে সুখপাখি তোমাকে ছেড়ে কখনও পালিয়ে যাওয়ার কল্পনাই করবে না।
📄 যৌন সুড়সুড়ির ফেরিওয়ালা
আজ বিশ্বব্যাপী চলছে মুসলমানদেরকে বিভ্রান্ত করার পাঁয়তারা। ভ্রান্তির বেড়াজালে আবদ্ধ করতে হেন কোনো প্রচেষ্টা নেই যা ষড়যন্ত্রকারীরা করছে না। অশ্লীল পত্রিকা, নিকৃষ্ট ম্যাগাজিন, উলঙ্গ সিনেমা, বিভিন্ন টিভি চ্যানেল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ওয়েবসাইট, ইউটিউব, টুইটারে রয়েছে ফাসেক ও পাপিষ্ঠদের প্ররোচনা। সর্বোপরি মুসলিম নারীদেরকে নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ইসলামের শত্রুরা অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে বর্তমান মুসলিম নারীর অবস্থা এমন পর্যায়ে এসে পৌছেছে, যা ইসলাম ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করে।
গভীর উদ্বেগের সাথে চ্যানেলগুলোতে দেখা যায় যে, একজন যুবক অন্য একজন যুবতি মেয়েকে হাত ধরে নাচাচ্ছে, পরস্পর জড়িয়ে ধরছে, গালে গাল ও বুকে বুক লাগাচ্ছে। টিভির পর্দার সামনে কি সেই মহিলার পিতা-মাতা ও যুবক-যবতি ভাই-বোন থাকে না? এ ধরনের পিতা-মাতা কি তাদের এই নায়িকা মেয়েটিকে চিনতে পারে না? তারা কি মুসলিম নয়? প্রকৃত কোনো মুসলিম কি তার মেয়েকে এ অবস্থায় দেখতে পছন্দ করতে পারে? এই দৃশ্য কি চোখ খুলে দেখতে পারে? তার মেয়েকে নিয়ে অন্য একজন পুরুষ এভাবে খেলা করবে আর সে তা উপভোগ করবে- এটি কোনো মুসলিম কি সমর্থন করতে পারে?
আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করে থাকবেন যে, আজকালকার অধিকাংশ মিডিয়া প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যৌন সুড়সুড়ি ফেরি করে থাকে। অবশ্য দুয়েকটি ভালো যে নেই তা নয়। তবে তা শাদা কাকের মতোই বিরল।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় যেন আজকের মিডিয়ার বুদ্ধিজীবী দাবিদার বুদ্ধির ঢেঁকিরা যৌনতা প্রকাশের ঠিকাদারি নিয়েছে কিংবা তারা উলঙ্গপনা প্রকাশের ষোলএজেন্ট। তারা পত্রিকায় বিদেশি অভিনেত্রীদের ছবি প্রকাশ করে। খেলাধুলার নামে স্কুলের ছাত্রীদের অবকাশ যাপনের নামে সমুদ্র সৈকতের নারীদের ছবি ছাপে। তারা দিনের পর দিন এভাবে কাজ করে যাচ্ছে শয়তানি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য। নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আর সুনির্দিষ্ট কৌশলেই তারা অগ্রসর হচ্ছে। যদি তারা না থাকত, যদি না থাকত তাদের
পত্রিকা এবং অশ্লীল গল্প ও ছবি! আর যদি না থাকত বিপথগামী বিদ্যালয়গুলো থেকে শিক্ষা সমাপনকারী লোকগুলো! তাহলে কতই না ভালো হতো আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য।
যারা একসময় স্কুল-কলেজে আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ভার লাভ করে তারা যদি সত্যিকারের আদর্শবাদী শিক্ষক হতো তাহলে কোনো দিনও খেলার নামে, গ্রীষ্মকালীন অবকাশের নামে মুসলিম মেয়েদের পা আর উরু উদাম করা চিত্র দেখতে হতো না। ইসলাম তো দূরের কথা, এমনকি খ্রিস্টান ও অগ্নিপূজকদের ধর্মও তা সমর্থন করে না। তাদের ইতিহাস পাঠ করলেই এ কথার প্রমাণ মিলে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে বেশ কিছু মুসলিম দেশে মুসলিম নারী-পুরুষের চারিত্রিক অবস্থা এই পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে যে, মানুষ তো দূরের কথা; পশুরাও তা গ্রহণ করতে পারে না। এ নির্মম বাস্তবতাকে কি আমরা আজীবন নীরবে সয়েই যাব? এ অধঃপতিত মানবতাকে উদ্ধারের জন্য কি আমাদের কোনো করণীয় নেই?
দুটি মোরগ যখন একটি মুরগীর নিকটবর্তী হয়, তখন মুরগীটিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়ার জন্য মোরগ দু'টি পরস্পর ঝগড়া করে এবং একটি অন্যটিকে তাড়িয়ে দেয়।
ইউরোপ, আমেরিকা, ব্রিটেনসহ বিধর্মী রাষ্ট্রের কথা নাইবা বললাম। মুসলিম রাষ্ট্র মিসর, লেবানন বা বাংলাদেশের কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতসমূহে এবং ঢাকার পার্কসমূহে মুসলিম নারীদের অবস্থা খুবই শোচনীয়। তাদের মুখ, মাথা, পেট, পিঠ এমনকি সবই উন্মুক্ত। বিকিনি পরে তারা আনন্দে অবগাহন করছে!
শুধু এখানেই শেষ নয়! অবস্থা এ পর্যায়ে পৌছেছে যে, দু'জন পুরুষ মিলে একজন নারীকে ভাগাভাগি করে উপভোগ করছে। এই অবস্থা কি কোনো পশু সমর্থন করে? একটি মোরগ কি চায় যে, তার আয়ত্তের মুরগীটির ওপর আরেকটি মোরগ এসে আরোহণ করুক? অথচ সৃষ্টির সেরা মানুষ কি অবলীলায়ই না এসব পশুত্বকে হার মানাচ্ছে!
আমি এ কথা বলছি না যে, মুসলিম নারীরা এক লাফে প্রথম জমানার মুসলিম নারীদের মতো হয়ে যাবে। কেননা এটি অসম্ভব। কারণ বর্তমানে মুসলিম নারীরা যে অবস্থায় এসে পৌঁছেছে, তা এক লাফে এসে পৌছেনি। তারা প্রথমে মাথার চুলের একাংশ খুলেছে, তারপর খোপা, তারপর
পুরোটাই। এরপর বফকার্টিং করে চুল কাটতে শুরু করেছে। আর এখন! এখন তো চুলের দিকে তাকালে ছেলে আর মেয়ের মধ্যে পার্থক্য করাই দায় হয়ে পড়বে।
মুসলিম নারীরা অজ্ঞানতার আঁধারে পড়ে তাদের কাপড় ছোট করতে শুরু করেছে। ধীরে ধীরে দীর্ঘদিনের ব্যবধানে তারা জাতির পুরুষদের গাফিলতির সুযোগে বর্তমানের দুঃখজনক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। তারা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি যে, বিষয়টি এ পর্যন্ত গিয়ে পৌছুবে।
ঘড়ির ঘণ্টা বা মিনিটের কাঁটার দিকে তাকালে দেখা যাবে, সেটি নড়ছে না; বরং আপন স্থানেই অবস্থান করছে। কিন্তু যদি দু'ঘণ্টা পর পুনরায় সেই ঘড়িটির কাছে ফেরত আসা যায়, তাহলে দেখা যাবে যে, ঘড়ির কাঁটাদ্বয় এখন আগের স্থানে নেই; বরং অনেক অগ্রসর হয়েছে। এমনিভাবে শিশু জন্মগ্রহণ করে একদিনেই যুবক হয়ে যায় না এবং যুবক হয়ে এক লাফে বৃদ্ধে পরিণত হয় না; বরং দিনের পর রাত, রাতের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর অতিক্রম করার মাধ্যমে সে বিভিন্ন অবস্থা অতিক্রম করে। এমনিভাবেই জাতির অবস্থা পরিবর্তন হয় এবং ভালো থেকে মন্দ ও মন্দ থেকে ভালোর দিকে ধাবিত হয়।
এ কারণেই বলছি যে, মুসলিম মেয়েদের এই অবস্থা একদিনেই পরিবর্তন হবে না। এক লাফে তারা পূর্বের সেই আসল অবস্থায়ও ফিরে যাবে না; বরং আমরা সেভাবেই তাদেরকে ধীরে ধীরে পূর্বের অবস্থায় ফেরত নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব, যেভাবে পর্যায়ক্রমে তারা বর্তমানের করুণ ও দুঃখজনক অবস্থায় এসে পৌঁছেছে।
আমাদের সামনে পথ অনেক দীর্ঘ। পথ যদি অনেক দীর্ঘ হয়, তার বিকল্প সংক্ষিপ্ত অন্য পথ না থাকলে যে ব্যক্তি পথ দীর্ঘের অভিযোগ করে যাত্রা শুরু করবে না, সে কখনো তার গন্তব্যে পৌছাতে সক্ষম হবে না।
📄 প্রেমের রঙিন ফাঁদ
প্রেম-ভালোবাসা আদিকাল থেকেই চলে আসছে। তবে হ্যাঁ, এখনকার মতো আগেকার প্রেম-ভালোবাসা এতটা নোংরা ছিল না। দিন যতই যাচ্ছে প্রেম-ভালোবাসার নামে নোংরামিও ততই ঘৃণ্য আকার ধারণ করছে। ইদানীং নিষিদ্ধ পল্লীতে গমনকারী খদ্দেরের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে।
মিসরের এক যুবক আমার কাছে তার ফ্রেন্ডসার্কেলের এমন দিল কাঁপানো তথ্য দিয়েছে। পাশাপাশি সে এ অবস্থায় করণীয়ও জানতে চেয়েছে। আমি তার জবাবে বলেছি যে, খবরদার, বাবা! সমাজের রঙিন ফাঁদ কিংবা কথিত বন্ধুমহলই হয়তো তোমাকে নিয়ে যাবে এ নরক ভুবনে। তখন তোমার আর ভালো-মন্দের হিতাহিত জ্ঞান থাকবে না। তুমি আঁজলা ভরে নেবে হারাম প্রবৃত্তির কাদা। এগিয়ে যেতে থাকবে ভ্রান্তির পথে। গমন করবে নিষিদ্ধ পল্লিতে। নিজের দীন-ধর্ম জীবন যৌবন বিলিয়ে দিবে সাময়িক ভোগের পেছনে। তখন অনেক পরিশ্রমের সনদ খোয়াবে। বহু কাঙ্ক্ষিত চাকরি হারাবে। আশা জাগানিয়া বিদ্যা ভুলে যাবে। তোমার শক্তি ও যৌবনের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। এক সময় যা দিয়ে তুমি অবলীলায় কর্মময়তার বিশাল সমুদ্র পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন দেখতে তা ক্রমেই তোমার অজান্তে হারিয়ে যাবে। তখন তুমি শুধু ঠুটো জগন্নাথ হয়ে পড়ে থাকবে।
মনে রাখবে যে, নিষিদ্ধ পল্লির ললনারা তোমাকে হয়তো সাময়িক জৈবিক আনন্দ দিবে। কিন্তু তোমার সব হারানোয় সে-ই হবে সবচেয়ে জঘন্য সারথি।
নিষিদ্ধ পল্লিতে একবার গমনে তুমি মনে করবে তৃপ্ত হতে পেরেছ? নাহ! কখনও না। কোনো একজনের সঙ্গে মিলনের পর বাসনা আরও তীব্র হবে। এ যেন লবণাক্ত পানি। যতই পান কর ততই পিপাসা বাড়ে। ওই পাড়ার হাজারজনের সঙ্গে তোমার পরিচয় হয়ে যাবে। দেখবে- যে একজন তোমার থেকে দূরে থাকে, যে তোমাায় এড়িয়ে চলে; তুমি তার প্রতিই আগ্রহী হয়ে উঠবে। তাকে না দেখলে তোমার কষ্ট লাগবে। যেমন কষ্ট লাগে যে নারীকে কখনো আবিষ্কার করেনি তার মতো।
মেনে নিলাম যে, তুমি তাদের থেকে যা চেয়েছ তা-ই পেয়েছ। তোমার সম্পদ আছে, ক্ষমতাও আছে। তোমার দেহ কি তা সইতে পারবে? তোমার স্বাস্থ্য কি কামনার সব বোঝা বহন করতে পারবে? এ ক্ষেত্রে বীর বাহাদুরও ধরাশায়ী হয়ে যায়। কতজন শক্তির নায়ক ছিল- ভারোত্তোলন, কুস্তি, তীরনিক্ষেপ ও দৌড় প্রতিযোগিতায় ছিল বিস্ময়! কিন্তু যখনই তারা জৈবিক চাহিদার ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং স্বাদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে তখনই তারা বিচূর্ণ হয়ে গেছে।
আল্লাহ তায়ালার প্রজ্ঞার একটি বিস্ময়কর দিক হলো তিনি উত্তম কাজের প্রতিদান রেখেছেন সাওয়াব, স্বাস্থ্য ও সুস্থতা দিয়ে। পক্ষান্তরে পাপের শাস্তি নির্ধারণ করেছেন অধঃপতন আর অসুস্থতা দিয়ে।
আমার দেখা ত্রিশ বছর পার হয়নি এমন কত পুরুষকে পাপের ঝড়ে মনে হয়েছে ষাট পেরোনো বুড়ো। আবার তার বিপরীত নজিরও আছে। দেখেছি ষাট পার করা কত বুড়োকে। তাদেরকে সংযম আর নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের দরুন ত্রিশ বছরের যুবক মনে হয়। ইউরোপের সেই প্রবাদ আসলেই তার সত্যতা প্রমাণ করেছে- 'তুমি যৌবনের যত্ন নিলে বার্ধক্যে যৌবন তোমার যত্ন নিবে।'