📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 সেক্স খেলা! সেক্স কালচার

📄 সেক্স খেলা! সেক্স কালচার


এক সময় সেক্স কথাটি বলতেও লজ্জাবোধ হতো। কিন্তু সময় যত অতিবাহিত হচ্ছে, সেক্স শব্দ কিংবা সেক্সখেলা যেন সহজায়ন হয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের পাঠ্যবইগুলোতে পর্যন্ত সেক্স শেখানো হচ্ছে। এতে যে আমাদের ছেলে মেয়েরা অজানা অন্ধকারের দিকে হারিয়ে যাচ্ছে তা কেউ তলিয়ে দেখে না।
ইদানীংকালে খোদ আমেরিকাও এসব নোংরামি থেকে নিজেদের প্রজন্মকে বাঁচাবার মিশন হাতে নিয়েছে। তারা কথিত গবেষণা করে দেখেছে যে, যৌনশিক্ষাকে সবার বোধে আনলেই এসব থেকে আকর্ষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু এতে যে হিতে বিপরীত হচ্ছে তা তারা তলিয়ে দেখছে না।
কথিত গবেষকরা এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যৌনসচেতনতা বা সেক্সশিক্ষা নামে একটি বিষয় সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে তা ছাত্র- ছাত্রীদেরকে পাঠদান করছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি! আমি মনে করি, এর মাধ্যমে তারা আগুনের মধ্যে পেট্রোল ঢালছে। অল্পবয়স্ক নির্দোষ বালিকার মধ্যে লুক্কায়িত যৌন স্পৃহাকেই তারা জাগিয়ে তুলছে। স্কুল পর্যায়ের ছাত্রীদেরকে তারা কনডম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং একজন পুরুষ নির্জনে একজন মহিলার সাথে কী করে তারা উঠতি বয়সের বালিকাদেরকে তাও শিক্ষা দিচ্ছে।
মূলত আমাদের মধ্যে বসবাসকারী এক ধরনের মানুষ নামধারী শয়তান আমাদেরকেও তাদের শয়তানি কর্মকাণ্ডের অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু ইসলামি অনুশাসনই যে এ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে পারে তা ভেবে দেখার লোকের আকাল বললেও অত্যুক্তি হবে না। এসব বিষয়ে জনসচেতনতা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।
একটু আগেও ইউরোপ-আমেরিকার সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। এবার কথিত সভ্য দেশ দাবিদার এক দেশের কথা শোনাব। আমার রূহানি সন্তান যারা আছে তাদের চেতনায় শান দেয়ার জন্যই এ বিষয়টির অবতারণা করছি-
বিশ্বমোড়ল দাবিদার যুক্তরাষ্ট্রের কথা কে না জানে! সেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ১৯৮২ সালের ৩০ নভেম্বর রয়টার পরিবেশিত খবরে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে, ১৬ বছর বয়সে পদার্পণের আগেই সে দেশের মেয়েদের কুমারীত্ব লোপের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর তরুণীদের কথা! সেই খবরে বলা হয়েছে যে, তরুণী ভার্যাদের অন্য পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্ভোগের হারও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। বিখ্যাত প্লেবয় ম্যাগাজিন তরুণ পাঠকদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বলতেও আমার সংশয় হচ্ছে। আবার না বলেও পারছি না। কারণ তরুণীদের সতর্ক হওয়ার জন্য এবং স্ব স্ব ইজ্জত হেফাজতের জন্য এ কথাগুলো জানা অতি প্রয়োজন। সেই শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, প্লেবয় ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট তরুণ পাঠকদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে যে, নির্ধারিত ১৩৩টি প্রশ্নের জবাব পাঠিয়েছে ম্যাগাজিনের ৮০ হাজার পাঠক। যাদের শতকরা ৮৯ ভাগ পুরুষ। জরিপে
বলা হয়, ২১ বছরের নিচের শতকরা ৫৮ ভাগ মেয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পৌঁছার আগেই সেক্সখেলা তথা যৌনসম্ভোগে লিপ্ত হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে একই বয়সের ছেলেদের যৌনসম্ভোগে লিপ্ত হওয়ার হার হলো ৩৮ ভাগ। এসবই সেক্স খেলা ও সেক্স শিক্ষার বদৌলতে হয়েছে।
বিশ্ববিখ্যাত ক্যামব্রিজ ইউনিভাসির্টির ডক্টর আইডিমিয়াম পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং পুরাতন গোত্রসমূহের লোকদের জীবনী অধ্যয়ন করেছেন। এ অধ্যয়নের পর তিনি সভ্য সমাজের লোকদের জীবনীও পাঠ করেছেন। তারপর তিনি এ বিষয়ক প্রামাণ্য গবেষণা রিপোর্ট স্বীয় বই 'সেক্স কালচার'-এ খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেছেন- আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের পর যে ফলাফল লাভ করেছি তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো, প্রতিটি জাতি দুটি জিনিসের ওপর নির্ভর করে। একটি হলো তাদের সম্মিলিত জীবনব্যবস্থা, অপরটি হলো এমন আইনশৃঙ্খলা। যা তারা যৌন চাহিদার ওপর আরোপ করে। তিনি আরো লিখেন যে, যদি আপনি কোনো জাতির ইতিহাসে দেখেন যে, কোনো সময় তাদের সভ্যতা উন্নত হয়েছে অথবা নিচে নেমে গিয়েছে তাহলে আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, তারা যৌন বিষয়ক আইনে রদবদল করেছে। যার ফলাফল সভ্যতার উন্নতি অথবা অবনতির আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে।
ডক্টর আইডিমিয়াম তার 'সেক্স কালচার' গ্রন্থে আরো মন্তব্য করেন যে, মনোবিজ্ঞানের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, যৌনাচারের ওপর আইন আরোপ করা হলে তার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল দাঁড়াবে এই যে, জাতির কর্ম ও চিন্তা-চেতনার শক্তি ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যে জাতি নারী-পুরুষকে অবাধ যৌনতার সুযোগ দেয়; তাদের কর্মক্ষমতা, চিন্তাশক্তি এবং যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়।
রোমীয়দের অবস্থাও তাই হয়েছিলো। রোমীয়রা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পশুর ন্যায় যৌনতায় লিপ্ত হতো। ফলে তারা শারীরিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোনো কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 যুক্তরাষ্ট্রের রোজনামচা

📄 যুক্তরাষ্ট্রের রোজনামচা


একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেশ কিছু কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। তাহলো, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২১ থেকে ২৯ বছর বয়স্কা বিবাহিতা মেয়েদের শতকরা ৩৫ ভাগ পরপুরুষের সঙ্গে যৌনসম্ভোগে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকৃত। একই বয়সের বিবাহিত পুরুষরা অন্য নারীর সঙ্গে সহবাসের হার শতকরা ২৫ ভাগ।
এ ক্ষেত্রে লোমহর্ষক কথা হলো, আজকাল এসব সংবাদে তথাকথিত সভ্য জগৎ বিচলিত হয় না বা অবাকও হয় না। অথচ তারা কেউই তলিয়ে দেখছে না যে, এতে সকলের অজান্তেই তাসের ঘরের মতো করে সমাজের ভিত্ ধসে যাচ্ছে।
তাবৎ দুনিয়ার মানুষই জানে যে, যুক্তরাষ্ট্র আজ সভ্য দেশের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে আছে। চোখ বুজে একটু ভেবে দেখুন তো, যদি একটি সভ্য দেশের অবস্থা এই হয়, তবে অসভ্য দেশের মেয়েদের অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে? তাদের মাঝে অসভ্যতার প্লাবন কতটা দুর্বার গতিতে চলছে তা কল্পনা করতেও মাথা হেঁট হয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি খবরে শরীরের রক্ত হিম হয়ে আসবে। আজ সেই নির্লজ্জ খবরই জানাতে হচ্ছে। তাহলো, ফেডারেল সরকারের হিসেব মতে, জারজ সন্তানের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতহারে বাড়ছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপরন্তু বাড়ছে বৈ কমছে না।
সত্তর দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে জারজ সন্তানের সংখ্যা ছিল শতকরা ৪০ ভাগ। সে দেশে প্রতি ৬ জনে মাত্র একজনের জন্ম হয় বিবাহবন্ধনের বাইরে। ১৯৭৯ সালে ৫ লাখ ৯৭ হাজার অবৈধ সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৭০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ বেড়েছে। ১৯৯৩ সালে তা ৮০ ভাগে গিয়ে দাঁড়ায়। দেশব্যাপী শ্বেতাঙ্গ কুমারীদের এক-তৃতীয়াংশের এবং কৃষ্ণাঙ্গ তরুণীদের শতকরা ৪৩ জনের রয়েছে অবৈধ সন্তান।
আমেরিকার জনস হপকিস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপের সমীক্ষা অসংখ্য যুবতির হৃদয় নাড়া দিতে পারে। ঐ সমীক্ষায় বলা হয় যে, সেখানকার শতকরা ১৪ ভাগ কুমারী প্রথম সঙ্গমের আগে জন্মনিয়ন্ত্রণের পরামর্শ নেয়। কোনো কোনো মেয়ে অবৈধ সন্তানের মা হওয়াকে পূর্ণতা প্রাপ্তিলাভ বলে মনে করে।
ঐ জরিপে আরো বলা হয়েছে যে, যৌনাচার, মাদকদ্রব্য সেবন এবং অ্যালকোহলের প্রচুর ব্যবহারজনিত কারণে প্রায় ২ কোটির অধিক আমেরিকান পুরুষত্বহীনতায় আক্রান্ত। এছাড়া আরো লাখ লাখ নারী-পুরুষ প্রায়ই এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছে। এই হলো একটি সভ্য দেশের সংক্ষিপ্ত রোজনামচা।
এই যদি হয় সভ্য দাবিদারদের কারবার তাহলে যাদের মাঝে তুলনামূলকভাবে সভ্যতার জোয়ার কম তাদের মাঝে এ অবাধ যৌনাচার কোথায় গিয়ে ঠেকে থাকবে?

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো

📄 কোথায় হারিয়ে গেল সোনালি বিকেলগুলো


আমরা 'খাও দাও ফুর্তি কর আগামীকাল বাঁচবে কিনা বলতে পার' নীতি পোষণ করি। তাই যৌবনটাকে উপভোগ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠি। লজ্জাকর কথা হলো, আজ আমাদের সমাজেরও যৌনচাহিদা নিবারণ ইউরোপের মতোই সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। ফলে আমাদের কচি প্রজন্ম বাল্য বয়সেই যৌন কার্যকলাপ সম্পর্কে ধারণা পেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো আমরা কেউই ভেবে দেখি না যে, আমাদের এই টগবগে তারুণ্যে এক সময় নিঃসন্দেহে ভাটা নামবে। তখন বৃদ্ধ ষাঁড়ের গাভীর দিকে চেয়ে চেয়ে দেখার মতো আর করার কিছু থাকে না। আমরা ঘুণাক্ষরেও ভাবি না যে, এই সোনালি দিনগুলোয় এক সময় বিকেল আসবে, আসবে সন্ধ্যা। তখন আমার দিকে ফিরে কেউ তাকাবারও থাকবে না।
এ প্রসঙ্গে এবার এক ইউরোপ ভ্রমণকারী পর্যটকের কথা শুনাব। তিনি লিখেছেন-
আমি বেলজিয়ামের কোনো এক শহরের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় পথচারী পারাপারের জন্য সিগন্যাল খুলে দেয়া হলো। আমি দেখলাম এক বৃদ্ধা রাস্তা পার হতে চাচ্ছে। তিনি এতই দুর্বল ছিলেন যে, তার হাত-পা কাঁপছিল। গাড়িগুলো প্রায় তার উপর দিয়ে ওঠে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছিল। কিন্তু কেউ তার হাত ধরে সহায়তা করছিল না।
মজার কথা হলো, আমি আমার সাথের একজন যুবককে মহিলাটির হাত ধরে সাহায্য করতে বললাম। তখন ৪০ বছর যাবৎ বেলজিয়ামে বসবাসকারী আমার ঐ বন্ধুটি বললেন, দোস্ত! এই মহিলাটি এক সময় এই শহরের অন্যতম সুন্দরী হিসেবে সকলের কাছে পরিচিত ছিল।
পুরুষেরা তার ওপর দৃষ্টি ফেলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো। তার সংস্পর্শ পেতে পকেটের অর্থ খরচ করত এবং তার সাথে একবার হলেও করমর্দন করার প্রচেষ্টা চালাত। আজ এই মহিলাটির যখন যৌবন ও সৌন্দর্য চলে গেল, তখন তার হাত ধরে একটু সাহায্য করার জন্য একজন লোকও সে পাচ্ছে না!
এ রকম ঘটনা একটি নয়; শত শত পাওয়া যাবে। কিন্তু তারপরও আমাদের চেতনার বারান্দায় রোদ ওঠে না।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 তুমি যখন রাঙাবউ

📄 তুমি যখন রাঙাবউ


আজ যে যুবতি, আজ যার রূপসাগরে ডুব দিতে অনেকে নাওয়া খাওয়া বাদ দেয়, সে এক সময় হয় অন্যের ঘরনি, অন্যের রাঙাবউ। আর এর মধ্যেই নারীর প্রকৃত সার্থকতা। এ পর্যায়ে যারা নববধূ হয়ে অন্যের গৃহ আলোকিত করতে গেছে, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু কথা বলতে চাই। তাদেরকে কয়েকটি দরকারি কথা বলতে চাই। আশা করি যারা নববধূ হিসেবে স্বামীর ঘরে যাবে তাদের প্রত্যেকের জন্য কথাগুলো টনিকের কাজ দিবে।
হে নববধূ! তুমি যখন স্বামীর ঘরে সর্বপ্রথম প্রবেশ করবে তখন 'বিসমিল্লাহ' বলে প্রবেশ করবে। কারণ যে কাজ আল্লাহর নামে শুরু করা হয়, সে কাজে শয়তান কুমন্ত্রণা দিতে পারে না। বরং তার সাথে আল্লাহর রহমত সঙ্গী হয়ে থাকে।
স্বামীর ঘরে সর্বদা পাক-সাফ ও পবিত্র পোশাক পরিধান করবে। চোখে সুরমা ব্যবহার করবে। প্রতিটি কাজেই পরিচ্ছন্নতা ও ভদ্রতাবোধের প্রতি লক্ষ্য রাখবে। সবসময় সুগন্ধি ব্যবহার করবে। ঘরের দরজা জানালাসহ সকল কিছু পরিচ্ছন্ন রাখবে। কারণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ।
শরীর ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন থাকলে মন প্রফুল্ল থাকে। এতে কর্মস্পৃহা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। সুস্থ সবল জীবনযাপনের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। আর যদি তুমি নোংরা, ময়লা আবর্জনাময় পোশাক পরিধান কর, তাহলে রোগ তোমার যেমন সাথি হবে তেমনি সবাই তোমাকে ঘৃণার চোখে দেখবে।
স্বামীর কাছে যাওয়ার আগে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে তাতে সুগন্ধি মেখে যাবে। এতে তোমার প্রতি স্বামীর মায়া-মমতা, ভালোবাসা বৃদ্ধি পাবে।
স্বামীর আনুগত্য করবে। স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহমর্মী হয়ে জীবনযাপন করবে। স্বামীর হক উত্তমরূপে আদায় করে চলবে। মনে রাখবে- ঘরের সকল কাজ আঞ্জাম দেয়ার দায়িত্ব তোমার। আর বাহিরের সমস্ত কাজের জিম্মাদারি স্বামীর। স্বামী কত কষ্ট করে তোমার ও পরিবারের সকলের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করে থাকেন। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেই তিনি তোমার ও পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার জোটান। তাই তিনি ঘরে আসলে যেন সারাদিনের ক্লান্তি ভুলে আনন্দের বাগান খুঁজে পান, তোমাকে সেই ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত আমাদের প্রিয়নবী হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন তার কন্যা রোকেয়া (রা.)-এর পর উম্মে কুলসুম (রা.)-কে ওসমান ইবনে আফফান (রা.)-এর সঙ্গে বিবাহ দেন তখন তার কন্যাদের উদ্দেশ্যে কয়েকটি মূল্যবান নসিহত করেছিলেন। এ পর্যায়ে তোমার সামনে সেই অমূল্য উপদেশগুলো তুলে ধরছি।
'ঘরের শৃঙ্খলা ও তার তত্ত্বাবধান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ঘরোয়া সব কাজ আঞ্জাম দেয়া যেমন তোমার দায়িত্ব। একইভাবে স্বামীকে সন্তুষ্ট করা, তার কথা মান্য করা, তার আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করা এবং সন্তানদেরকে আচার-আচরণ শিক্ষা দেয়াও তোমার কর্তব্য।'
তুমি স্বামীর গৃহে মাটি হয়ে যাবে। তাহলে দেখবে যে, তোমার স্বামী তোমার জন্য আসমান হয়ে থাকবে। তুমি যদি তার আরাম হতে পার, তবে দেখবে তোমার স্বামী তোমার জন্য আরামের ব্যবস্থা করবেন। তুমি যদি তার জন্য দাসী হয়ে যাও তবে স্বামীও তোমার জন্য গোলাম হয়ে যাবে।
তুমি তার নাক, কান ও চক্ষুর প্রতি লক্ষ রাখবে। বিশেষত তার চোখের ভাষা বুঝতে চেষ্টা করবে। যখনই তোমার সঙ্গ চায় তাৎক্ষণিক তার নিকটবর্তী হয়ে যাবে। আর মনে রাখবে তিনি যেন তোমার নিকট সুগন্ধি ছাড়া অন্য কোনো গন্ধ না পান; ভালো কথা ছাড়া অন্য কিছু শুনতে না পান; এবং তার পছন্দনীয় বিষয় ছাড়া অন্য কিছু দেখতে না পান।
মনে রাখবে তুমি একদিকে যেমন ঘরের রানি, অন্যদিকে তুমি দাসীও বটে। তোমার স্বামী তোমার মালিক। বিবাহের পর তোমার স্বামীই তোমার মন ও প্রাণের মালিক। তাই সর্বদা আদব-আখলাক ও সদাচরণ দ্বারা তাকে খুশি রাখতে চেষ্টা করবে। কারণ স্বামীর আনুগত্য নারীর জন্য অতি উচ্চ পর্যায়ের নেকীর কাজ। তুমি যখন অন্যের রাঙাবউ হবে তখন এ কথাগুলো যদি মনে রেখে সে মোতাবেক জীবন চালাতে পার তাহলে সুখপাখি তোমাকে ছেড়ে কখনও পালিয়ে যাওয়ার কল্পনাই করবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00