📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 যুবক-যুবতিদের উচ্ছন্নে যেতে দায়ী কে

📄 যুবক-যুবতিদের উচ্ছন্নে যেতে দায়ী কে


সুপ্রিয় পাঠক-পাঠিকা! আজ আমাদের সামাজিক জীবনের সবচেয়ে সংকটপূর্ণ একটি সমস্যা আলোচনা করব। তাহলো, ঘরে ঘরে সেয়ানা যুবতি-কন্যারা বিয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুণছে। অন্যদিকে অবিবাহিত যুবকরা চিন্তায় বিভোর হয়ে আছে। তারা বিয়ের পথ খুঁজছে। অলিগলি ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু এই দু'দলের মাঝে বিশাল অন্তরায় সৃষ্টি হয়ে আছে। যে অন্তরায় তাদেরকে হালাল মিলনের পথে বাধা দিচ্ছে। পক্ষান্তরে তাদের সামনে রঙিন অবয়বে ধরা দিচ্ছে যেনা আর ব্যভিচারের ময়লা পথ। অথচ কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে-
তোমরা ব্যভিচারের ধারে কাছেও যেও না, নিঃসন্দেহে এ হচ্ছে একটি অশ্লীল কাজ এবং নিকৃষ্ট পথ। (বনি ইসরাঈল: ৩২/
আমি বলি যে, এই যুবক-যুবতিদের তারুণ্যদীপ্ত জীবনকে বৈধ পথ বিসর্জন দিয়ে অবৈধ পন্থায় কাজে লাগাবার পেছনে অনেকাংশে আমাদের অভিভাবক দায়ী। আর এ কারণেই যুবক-যুবতিরা জৈবিক চাহিদা মিটাতে নানা পন্থা অবলম্বন করে থাকে। কারণ সেখানে কোনো বাধা-বিপত্তির ধার তাদের ধারতে হয় না।
যুবক-যুবতিদের উচ্ছন্নে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বেশি দায়ী হচ্ছেন সম্মানিত বাবারা। ক্ষমা করবেন। আমি সব বাবাকে উদ্দেশ্য করছি না; বরং যারা এখনও উপলব্ধি করতে পারছেন না যে, জগতে বর্তমানে ধ্বংসকারী প্রলয়ঙ্করী ঝড়ো হাওয়া বয়ে চলছে। যে বাতাস চরিত্র, নীতি-নৈতিকতা, ইজ্জত-আবরু সবকিছু ধুলিসাৎ করে দিচ্ছে। এর কোনো প্রতিষেধক নেই। মুক্তির কোনো উপায়ও নেই। একটিমাত্র পথ খোলা। সেটি হচ্ছে বিয়ের দরজা।
মনে রাখবেন, যে ব্যক্তি বিয়ে-শাদিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় অথবা এ পথে শর্তারোপের মাধ্যমে জটিলতা সৃষ্টি করে কিংবা সহজভাবে কার্যসম্পাদন করতে পেরেও সহজায়ন করে না; তিনি এই মহাসঙ্কটের অন্যতম নায়ক। তিনি জটিলতা সৃষ্টির অন্যতম ভূমিকা পালনকারী।
অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত যে, পাত্র-পাত্রী উভয়পক্ষে অসুবিধা থাকলেও মেয়ের দিকে অসুবিধার মাত্রাটা একটু বেশি। কারণ, যুবক অপরাধ করে খালাস হয়ে যায়। কিন্তু যুবতি অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত ভোগ করে। তাছাড়া আমাদের সমাজব্যবস্থাও যুবকদের ক্ষমা করে দেয়। তাদের ক্ষেত্রে বলে, আরে! একটা যুবক মানুষ। কিছু একটা দোষ না হয় করেছে। তওবাও তো করেছে! কিন্তু মেয়ের বেলায় ক্ষমার এই দৃষ্টিটা দেয়া হয় না। তাকে চিরঅপরাধী হিসেবেই দেখা হয়। তাকে মনে করা হয় অলুক্ষণে। তাকে ভাবা হয় নষ্টা-পাপীষ্ঠা!
হ্যাঁ, মেয়ের বাবা যদি বিচক্ষণ হন, তাহলে কন্যার বিয়ের ব্যাপারে জলদি কাজ আঞ্জাম দিয়ে থাকেন। এই অর্থে নয় যে, মেয়েকে বাজারে উপস্থাপন কিংবা প্রথমবার যে প্রস্তাব দেয়, তার হাতেই সোপর্দ করেন। বরং তার
জন্যে শরিয়তসম্মত পথের অনুসন্ধানে মগ্ন থাকেন। ছেলের দীনদারি, চরিত্র ও নীতির সবিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
দীনদারি ও নীতি-নৈতিকতা পছন্দ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে ছেলের পরিবার তাদের আচার-আচরণ এবং চিন্তাচেতনায় দৃষ্টি দেন। যদি ছেলে ও তার পরিবারের উপযোগী হয়, অর্থসম্পদে এবং বংশগত দিক থেকে কাছাকাছি হয়, সেই সাথে মেয়ে বাবার ঘরে যেভাবে লালিত হয়েছে স্বামীর বাড়িতেও সেভাবে জীবনযাপন করতে পারবে বলে বিশ্বাস হয় তাহলে বাবা এবার কবুল করে নেন।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 কুসংস্কারের ছোবলে বিক্ষত পবিত্র বিবাহ

📄 কুসংস্কারের ছোবলে বিক্ষত পবিত্র বিবাহ


আমাদের সমাজে বিবাহ উপলক্ষে নানা আয়োজন প্রচলিত। এসব কুসংস্কারের বিষাক্ত ছোবলে বিবাহের মতো পবিত্র ইবাদত আজ ক্ষতবিক্ষত। যেন এই আয়োজনের দায়ভার দেনমোহরের চেয়েও বেশি! এই কুসংস্কার কখনও ছেলেকে কখনও মেয়ের বাবাকে কখনও আবার উভয়কে ঝাঁজিয়ে তোলে। এক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিভঙ্গি হলো, বিয়ের অনুষ্ঠান অবশ্যই হবে। কারণ, এটি সুন্নাত। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। তাহলো, কাপড়চোপড় আর পোশাক-পরিচ্ছেদ।
আমি এক স্যুট পোশাক পরে বিশটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছি। অথচ একজন মা তার দ্বিতীয় মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রথম মেয়ের বিয়ের কাপড় পরে যেতে রাজি হন না। তাদের মনের মাঝে উঁকি দেয়- হায়রে আমার পোড়া কপাল! আমি দুর্ভাগা মা! আমাকে এক কাপড়ে দু'বার দেখলে মানুষ কী ভাববে?
একই অবস্থা বোনের, চাচীর, চাচাত বোনের এবং প্রতিটি মেয়ের। তারা সবাই নিজেদের স্বামীকে অনুষ্ঠানের জন্যে নতুন কাপড় কেনার জন্যে চাপ প্রয়োগ করে। মূলত এমন একটি অনুষ্ঠান চল্লিশটি পরিবারের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। কখনও তাদের মাঝে এমন বিরূপ ভাব সৃষ্টি করে ফেলে যে, সাংসারিক জীবনে ফাটল ধরে যায়। যা আর জোড়া লাগে না। এর খেসারত দিতে হয় বছর বছর ধরে।
এই তো গেল একটি দিক।
বিবাহের দ্বিতীয় কুসংস্কার হলো ফুলশয্যা সাজানো।
আমি একটি বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানি। সেখানে একেক আইটেমের ফুলের দাম এক হাজার লিরা। এমন কয়েক প্রকারের ফুল! গোলাপ, জবা, পলাশ, জবা, ডালিয়া, সূর্যমুখী আরো কতো কী! আপনারা কি উপলব্ধি করতে পারছেন যে, সেখানকার অবস্থা কেমন হয়েছিল? ফুলগুলোতে স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। থরে থরে সাজানো, ছড়ানো ছিটানো ছিল। পরে এগুলো সরাতে ট্রাক ভাড়া করা হয়েছিল! হাজার হাজার লিরা ডাস্টবিনে ফেলে দেয়া হলো! অথচ শহরে হাজারো পরিবার একটি লিরার জন্যে পথ চেয়ে থাকে তীর্থের কাকের মতো।
তৃতীয় কারণ জামাকাপড় রাখার বক্স। একটি বক্সের দাম কম করে হলেও পাঁচ থেকে সাত পিয়াস্টার। কোনোটির মূল্য পাঁচ লিরা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তাহলে ভাবুন, সাধারণ পর্যায়ের একটি বিয়ে অনুষ্ঠানে কী পরিমাণ পয়সা খরচ হয় শুধু এই বক্সের পেছনে?
এখানে কেবল মধ্যবিত্ত পরিবারের খরচপাতি ও আয়োজন নিয়ে আলোচনা করলাম। উচ্চবিত্তদের বিয়ে-শাদিতে, অন্যায়-অশ্লীল কাজে সম্পদের যে অপচয়, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আল্লাহই ভালো জানেন।
বিষয়টি যদি এখানেই ক্ষ্যান্ত হতো তবে আর কথা ছিল না। কিন্তু ঘটনা এই অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ নয়।
এছাড়াও চতুর্থ আপদ হিসেবে রয়েছে বৌ-ভাত, চুক্তিকৃত হাদিয়া। এটিই সর্বশেষ আপদ। এসব পেয়ে আপনি বেশ খুশি হবেন। এ সময়ে এত হাদিয়া পাবেন, যেগুলো আপনার কোনোই প্রয়োজন নেই। আমন্ত্রিতরা চেয়ার, ডাইনিং টেবিল, খাট-সোফা ও বিভিন্ন ফার্নিচার দিয়ে ঘর ভরে দেবে। অথচ আপনার বাড়ির রুম মাত্র চারটা। এসব রাখারও জায়গা হয় না।
কিন্তু এ পর্যন্তই কি শেষ? না। এখানেই শেষ নয়। যদি আপনি এগুলো বিক্রি করতে চান, তাহলে মানুষ আপনাকে 'ছোটলোক' বলবে। তাহলে কী করবেন এসব দিয়ে? এরপর সাথে সাথে আপনার থেকে এই ঋণ পরিশোধের তাগাদা আসবে। যারা হাদিয়া দিল, তাদেরও তো আনন্দ-আয়োজন হবে। তখন! আপনি ভাববেন, অমুকের মেয়ের বিয়ে। তার বাড়িতে আনন্দ-উল্লাস চলছে। সমাজের সঙ্গতি রেখে তার বাড়িতে না গেলে কি প্রেসটিজ রক্ষা হয়? তিনি আমাদের মেয়ের বিয়েতে উচ্চমূল্যের জাপানি গিফট দিয়েছিলেন। আমি যদি তার চেয়ে বেশি দামের না দিই তাহলে সমাজ ব্যাপারটি কেমন ভাববে?
আপনি হয়তো বলবেন যে, আরে! আমি কি অমুকের কাছে এই দামি জিনিসটি চেয়েছিলাম? ওটা আমাদের কিইবা কাজে এসেছে? বরং ধুলা জমে মেয়ের বাড়িতে পড়ে আছে। ভাগ্যিস! আমাদের এখানে নেই। যদি আমার বাড়িতে থাকত, তাহলে সব সময় ভয়ে-ভয়ে বুক দুরুদুরু করত, কখন জানি খাদেমা ভেঙে ফেলে অথবা বাচ্চারা ছুড়ে মারে!
কিন্তু স্ত্রী বলবে, আপনি যা-ই বলুন, কিছু একটা তাদের দিতে হবে। না হয় মানুষ কী বলবে! মান-ইজ্জত সবই যাবে!
এভাবে আপনাকে উৎপীড়ন করতে থাকবে। কান দুটো ভারী করে তুলবে। এক পর্যায়ে আপনি মেনে নিতে বাধ্য হবেন। সারেন্ডারের শাদা নিশান উড়িয়ে দেবেন এবং বলবেন, নাও! পরিবারের খাদ্যের পয়সা। মানুষের জন্যে কিনে এনো! এভাবে মেয়ের মায়েরা স্বামীদের ওপর নির্যাতন করে থাকেন এবং এসব অপসংস্কৃতি প্রচারে সহায় করে যান। এটাই বিয়ের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ।
আমরা যদি এ ধরনের বড় বড় আয়োজন বর্জন করে নিকটাত্মীয়দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারতাম এবং দামি-দামি বস্তুসামগ্রী উপঢৌকন দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারতাম। যেমন শাহি পালঙ্ক, যা সারা জীবনে চার-
পাঁচবারের বেশি ব্যবহার হয় না। মূলত এসব কীর্তি কলাপের মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের কাছে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে প্রদত্ত আমানতেরই খেয়ানত করছি। যার জবাবদিহি অবশ্যই আমাদেরকে করতে হবে।
কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَخُونُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ وَتَخُونُوا أَمَانَاتِكُمْ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ
হে ঈমানদারগণ! খেয়ানত কর না আল্লাহর সাথে ও রাসূলের সাথে এবং খেয়ানত কর না নিজেদের পারস্পরিক আমানতে জেনেশুনে। [আনফাল: ২৭]
একটি পালঙ্কের মূল্য কমপক্ষে একশ লিরা তো হবেই। আর সর্বোচ্চটির 'মূল্য' থেকে আল্লাহর পানাহ! যদি এসব পরিহার করতে পারি, তাহলে বর-কনের অতিরিক্ত পোশাক ও সাজসরঞ্জামেরও প্রয়োজন হবে না।
দেখুন, বিয়ের কাপড় মাত্র একদিন পরিধান করে আলমিরায় ফেলে রাখা হয়। যেমন করে কঙ্কাল সাইন্সের কলেজে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তাহলে কী প্রয়োজন মাত্র কয়েক দিনের জন্যে এত মূল্য দিয়ে জামাকাপড় ক্রয় করার? কারও থেকে ভাড়াও তো নেয়া যায়! ওহহো ভাড়া নেয়া! তাতে যে মান-ইজ্জত বলতে আর কিছুই রইল না! এতে যে জাত-কুল উভয়ই পাংচার হবে!
তাই আমাদের দেখা উচিৎ, এ সমস্ত খরচাপাতির মধ্যে কোনটি বর-কনের পারিবারিক জীবনে প্রয়োজন। দেখা দরকার তারা কোন কোন বস্তুর মূল্য পরিশোধে সমর্থ। যেসব জিনিসের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যই থাকে মানুষের মাঝে আকর্ষণ সৃষ্টি করা- যেমন বাসরের কাপড়, ফুলশয্যা সজ্জায়ন, পালঙ্ক উপহার, ফুলের তোড়া স্যুটবক্স- এগুলো পরিহার করতে হবে।
আমাদের প্রত্যেকেই চান মানুষ তাকে ভালো বলুক, সামান্য প্রশংসা করুক। কিন্তু এক হাজার লিরা ব্যয় করে প্রশংসাবাক্য 'মাশাআল্লাহ' শোনা একেবারেই নির্বুদ্ধিতা। কারণ, এর মূল্য নিতান্তই কম এবং এর আবেদন বড়জোর কয়েক ঘণ্টা মাত্র। এ কয়েক ঘণ্টার মাশাআল্লাহ কিংবা মারহাবা অথবা ধন্যবাদ শব্দ শোনার জন্য এত বিপুল পরিমাণ অর্থ শ্রাদ্ধের কোনো মানে হয় না। অন্তত বিবেকবান মানুষ এমনটি করতে পারে না।
উপসংহারে বলব, প্রথম পত্রটির লেখায় কিছুটা অতিরঞ্জন রয়েছে। কারণ যদি তিনি নিজের উপযোগী এমন কাউকে প্রস্তাব দিতেন, যারা পূর্ব থেকেই তার সম্পর্কে জানে-চেনে, তাহলে প্রস্তাব খুশিমনে মেনে নিত। তাহলে আর
তারা তার দৈহিক গঠন, অর্থসম্পদ ও পিতামাতার ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ পেত না।
আর দ্বিতীয় পত্রটির লেখিকার বিষয়টি সৎ ও যোগ্য ছেলের সন্ধান পাওয়ার পর কাজীর কাছে পেশ করেছি। কাজী সাহেব ছেলের সততা ও দিয়ানতদারির ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে বিয়ের কার্য সম্পন্ন করেছেন। যদিও মেয়ের অভিভাবক কোনো জামাইর প্রতি খুব একটা রাজি ছিল না।
সম্মানিত পাঠকবৃন্দ! আমরা বিয়েসংক্রান্ত যে সমস্ত জটিলতার কথা উল্লেখ করলাম, এর থেকে উত্তরণের সহজ পথ হলো বৈবাহিক সম্বন্ধ সহজতর করা। আমি মনে করি, যে লোক বিয়ের জন্যে চেষ্টা চালায় এবং পূর্ণতার জন্যে পথ অন্বেষণে থাকে, অবশ্যই সে নেক ও কল্যাণ প্রচেষ্টায় রত। সে দেশ ও দীনের সেবায় আত্মনিয়োজিতদের অন্তর্ভুক্ত।
এ পর্যায়ে যাদের কাছে মেয়ে আছে তাদের বলি, ভালো পাত্রের প্রস্তাব এলে ফিরিয়ে দেবেন না। যুবকদেরও বলি, আপনারা দ্রুত বিয়ে করে ফেলুন। কারণ, ফরজসমূহ আদায় এবং হারাম থেকে বিরত থাকার পর বিবাহ থেকে উত্তম কোনো নেক আমল আপনারা করতে পারেন না। এর মাধ্যমে চরিত্র ও দীন উভয়ই রক্ষা পাবে।
হে শহরের গুণীজন! হে সংস্কারকর্মের দাঈগণ! হে কলমের অধিপতিরা! হে মিম্বরে খোতবাদানকারী সম্মানিত ব্যক্তিবর্গ! বিবাহকে আপনারা কাজের প্রথম ও প্রধান স্থানে রাখুন। আল্লাহ অবশ্যই প্রচেষ্টাকারীদের তাওফীক দান করেন এবং অধিক প্রতিদানের ফয়সলা করবেন।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 সেক্স খেলা! সেক্স কালচার

📄 সেক্স খেলা! সেক্স কালচার


এক সময় সেক্স কথাটি বলতেও লজ্জাবোধ হতো। কিন্তু সময় যত অতিবাহিত হচ্ছে, সেক্স শব্দ কিংবা সেক্সখেলা যেন সহজায়ন হয়ে যাচ্ছে। এখন আমাদের পাঠ্যবইগুলোতে পর্যন্ত সেক্স শেখানো হচ্ছে। এতে যে আমাদের ছেলে মেয়েরা অজানা অন্ধকারের দিকে হারিয়ে যাচ্ছে তা কেউ তলিয়ে দেখে না।
ইদানীংকালে খোদ আমেরিকাও এসব নোংরামি থেকে নিজেদের প্রজন্মকে বাঁচাবার মিশন হাতে নিয়েছে। তারা কথিত গবেষণা করে দেখেছে যে, যৌনশিক্ষাকে সবার বোধে আনলেই এসব থেকে আকর্ষণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু এতে যে হিতে বিপরীত হচ্ছে তা তারা তলিয়ে দেখছে না।
কথিত গবেষকরা এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য যৌনসচেতনতা বা সেক্সশিক্ষা নামে একটি বিষয় সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করে তা ছাত্র- ছাত্রীদেরকে পাঠদান করছে। কিন্তু সত্যি বলতে কি! আমি মনে করি, এর মাধ্যমে তারা আগুনের মধ্যে পেট্রোল ঢালছে। অল্পবয়স্ক নির্দোষ বালিকার মধ্যে লুক্কায়িত যৌন স্পৃহাকেই তারা জাগিয়ে তুলছে। স্কুল পর্যায়ের ছাত্রীদেরকে তারা কনডম ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এবং একজন পুরুষ নির্জনে একজন মহিলার সাথে কী করে তারা উঠতি বয়সের বালিকাদেরকে তাও শিক্ষা দিচ্ছে।
মূলত আমাদের মধ্যে বসবাসকারী এক ধরনের মানুষ নামধারী শয়তান আমাদেরকেও তাদের শয়তানি কর্মকাণ্ডের অনুসরণ করার আহ্বান জানাচ্ছে। কিন্তু ইসলামি অনুশাসনই যে এ থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে পারে তা ভেবে দেখার লোকের আকাল বললেও অত্যুক্তি হবে না। এসব বিষয়ে জনসচেতনতা আজ জরুরি হয়ে পড়েছে।
একটু আগেও ইউরোপ-আমেরিকার সামাজিক ও শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে ধারণা দিয়েছি। এবার কথিত সভ্য দেশ দাবিদার এক দেশের কথা শোনাব। আমার রূহানি সন্তান যারা আছে তাদের চেতনায় শান দেয়ার জন্যই এ বিষয়টির অবতারণা করছি-
বিশ্বমোড়ল দাবিদার যুক্তরাষ্ট্রের কথা কে না জানে! সেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ১৯৮২ সালের ৩০ নভেম্বর রয়টার পরিবেশিত খবরে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে যে, ১৬ বছর বয়সে পদার্পণের আগেই সে দেশের মেয়েদের কুমারীত্ব লোপের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আর তরুণীদের কথা! সেই খবরে বলা হয়েছে যে, তরুণী ভার্যাদের অন্য পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্ভোগের হারও আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। বিখ্যাত প্লেবয় ম্যাগাজিন তরুণ পাঠকদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বলতেও আমার সংশয় হচ্ছে। আবার না বলেও পারছি না। কারণ তরুণীদের সতর্ক হওয়ার জন্য এবং স্ব স্ব ইজ্জত হেফাজতের জন্য এ কথাগুলো জানা অতি প্রয়োজন। সেই শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, প্লেবয় ম্যাগাজিন কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট তরুণ পাঠকদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করে যে, নির্ধারিত ১৩৩টি প্রশ্নের জবাব পাঠিয়েছে ম্যাগাজিনের ৮০ হাজার পাঠক। যাদের শতকরা ৮৯ ভাগ পুরুষ। জরিপে
বলা হয়, ২১ বছরের নিচের শতকরা ৫৮ ভাগ মেয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে পৌঁছার আগেই সেক্সখেলা তথা যৌনসম্ভোগে লিপ্ত হয়ে পড়ে। পক্ষান্তরে একই বয়সের ছেলেদের যৌনসম্ভোগে লিপ্ত হওয়ার হার হলো ৩৮ ভাগ। এসবই সেক্স খেলা ও সেক্স শিক্ষার বদৌলতে হয়েছে।
বিশ্ববিখ্যাত ক্যামব্রিজ ইউনিভাসির্টির ডক্টর আইডিমিয়াম পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের এবং পুরাতন গোত্রসমূহের লোকদের জীবনী অধ্যয়ন করেছেন। এ অধ্যয়নের পর তিনি সভ্য সমাজের লোকদের জীবনীও পাঠ করেছেন। তারপর তিনি এ বিষয়ক প্রামাণ্য গবেষণা রিপোর্ট স্বীয় বই 'সেক্স কালচার'-এ খুবই সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন।
তিনি বইটির ভূমিকায় লিখেছেন- আমি বিভিন্ন পদ্ধতিতে অনুসন্ধানের পর যে ফলাফল লাভ করেছি তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ হলো, প্রতিটি জাতি দুটি জিনিসের ওপর নির্ভর করে। একটি হলো তাদের সম্মিলিত জীবনব্যবস্থা, অপরটি হলো এমন আইনশৃঙ্খলা। যা তারা যৌন চাহিদার ওপর আরোপ করে। তিনি আরো লিখেন যে, যদি আপনি কোনো জাতির ইতিহাসে দেখেন যে, কোনো সময় তাদের সভ্যতা উন্নত হয়েছে অথবা নিচে নেমে গিয়েছে তাহলে আপনি খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন যে, তারা যৌন বিষয়ক আইনে রদবদল করেছে। যার ফলাফল সভ্যতার উন্নতি অথবা অবনতির আকৃতিতে প্রকাশ পেয়েছে।
ডক্টর আইডিমিয়াম তার 'সেক্স কালচার' গ্রন্থে আরো মন্তব্য করেন যে, মনোবিজ্ঞানের অনুসন্ধানে জানা যায় যে, যৌনাচারের ওপর আইন আরোপ করা হলে তার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল দাঁড়াবে এই যে, জাতির কর্ম ও চিন্তা-চেতনার শক্তি ও যোগ্যতা বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু যে জাতি নারী-পুরুষকে অবাধ যৌনতার সুযোগ দেয়; তাদের কর্মক্ষমতা, চিন্তাশক্তি এবং যোগ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়।
রোমীয়দের অবস্থাও তাই হয়েছিলো। রোমীয়রা আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবাধে পশুর ন্যায় যৌনতায় লিপ্ত হতো। ফলে তারা শারীরিক দিক থেকে দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং কোনো কাজ করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিল।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 যুক্তরাষ্ট্রের রোজনামচা

📄 যুক্তরাষ্ট্রের রোজনামচা


একান্ত অনিচ্ছা সত্ত্বেও বেশ কিছু কথা বলতে বাধ্য হচ্ছি। তাহলো, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ২১ থেকে ২৯ বছর বয়স্কা বিবাহিতা মেয়েদের শতকরা ৩৫ ভাগ পরপুরুষের সঙ্গে যৌনসম্ভোগে লিপ্ত হওয়ার কথা স্বীকৃত। একই বয়সের বিবাহিত পুরুষরা অন্য নারীর সঙ্গে সহবাসের হার শতকরা ২৫ ভাগ।
এ ক্ষেত্রে লোমহর্ষক কথা হলো, আজকাল এসব সংবাদে তথাকথিত সভ্য জগৎ বিচলিত হয় না বা অবাকও হয় না। অথচ তারা কেউই তলিয়ে দেখছে না যে, এতে সকলের অজান্তেই তাসের ঘরের মতো করে সমাজের ভিত্ ধসে যাচ্ছে।
তাবৎ দুনিয়ার মানুষই জানে যে, যুক্তরাষ্ট্র আজ সভ্য দেশের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে আছে। চোখ বুজে একটু ভেবে দেখুন তো, যদি একটি সভ্য দেশের অবস্থা এই হয়, তবে অসভ্য দেশের মেয়েদের অবস্থা কোন পর্যায়ে আছে? তাদের মাঝে অসভ্যতার প্লাবন কতটা দুর্বার গতিতে চলছে তা কল্পনা করতেও মাথা হেঁট হয়ে আসে।
এ প্রসঙ্গে আরেকটি খবরে শরীরের রক্ত হিম হয়ে আসবে। আজ সেই নির্লজ্জ খবরই জানাতে হচ্ছে। তাহলো, ফেডারেল সরকারের হিসেব মতে, জারজ সন্তানের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুতহারে বাড়ছে। এই বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। উপরন্তু বাড়ছে বৈ কমছে না।
সত্তর দশকের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে জারজ সন্তানের সংখ্যা ছিল শতকরা ৪০ ভাগ। সে দেশে প্রতি ৬ জনে মাত্র একজনের জন্ম হয় বিবাহবন্ধনের বাইরে। ১৯৭৯ সালে ৫ লাখ ৯৭ হাজার অবৈধ সন্তানের জন্ম হয়। ১৯৭০ সালের তুলনায় এ সংখ্যা শতকরা ৫০ ভাগ বেড়েছে। ১৯৯৩ সালে তা ৮০ ভাগে গিয়ে দাঁড়ায়। দেশব্যাপী শ্বেতাঙ্গ কুমারীদের এক-তৃতীয়াংশের এবং কৃষ্ণাঙ্গ তরুণীদের শতকরা ৪৩ জনের রয়েছে অবৈধ সন্তান।
আমেরিকার জনস হপকিস বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি জরিপের সমীক্ষা অসংখ্য যুবতির হৃদয় নাড়া দিতে পারে। ঐ সমীক্ষায় বলা হয় যে, সেখানকার শতকরা ১৪ ভাগ কুমারী প্রথম সঙ্গমের আগে জন্মনিয়ন্ত্রণের পরামর্শ নেয়। কোনো কোনো মেয়ে অবৈধ সন্তানের মা হওয়াকে পূর্ণতা প্রাপ্তিলাভ বলে মনে করে।
ঐ জরিপে আরো বলা হয়েছে যে, যৌনাচার, মাদকদ্রব্য সেবন এবং অ্যালকোহলের প্রচুর ব্যবহারজনিত কারণে প্রায় ২ কোটির অধিক আমেরিকান পুরুষত্বহীনতায় আক্রান্ত। এছাড়া আরো লাখ লাখ নারী-পুরুষ প্রায়ই এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছে। এই হলো একটি সভ্য দেশের সংক্ষিপ্ত রোজনামচা।
এই যদি হয় সভ্য দাবিদারদের কারবার তাহলে যাদের মাঝে তুলনামূলকভাবে সভ্যতার জোয়ার কম তাদের মাঝে এ অবাধ যৌনাচার কোথায় গিয়ে ঠেকে থাকবে?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00