📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 স্বামীর কোলেই নারীর প্রকৃত প্রশান্তি

📄 স্বামীর কোলেই নারীর প্রকৃত প্রশান্তি


নারী যত উচ্চ মর্যাদাই অর্জন করুক না কেন! শিক্ষা ও জ্ঞানে যতই অগ্রগতি লাভ করুক এবং ধন-সম্পদ ও সুখ্যাতি যতই আয়ত্ত করুক- এতে তাদের প্রকৃত প্রত্যাশা পূরণ হবে না। তাদের মান-মর্যাদা, প্রসিদ্ধি, সুখ্যাতি, ধন-সম্পদ তাদের মনকে শান্ত করবে না; বরং বিবাহ ও স্বামীর সান্নিধ্যই কেবল দিতে পারে তাদেরকে অনাবিল শান্তি ও সুখ। এর মাধ্যমেই পূরণ হতে পারে তাদের প্রত্যাশার ডালি।
নারীরা তাদের জীবনে তখনই প্রকৃত শান্তি খুঁজে পায় যখন সে একজন সৎ ও আদর্শ স্ত্রী হতে পারে, সম্মানিত একজন মা হতে পারে এবং একটি বাড়ির পরিচালিকা হতে পারে। এক্ষেত্রে একজন সাধারণ নারী থেকে শুরু করে রানি, রাজকন্যা, অভিনেত্রী, বিশ্বসুন্দরীর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। সকলের ক্ষেত্রেই একই কথা।
এ প্রসঙ্গে আমি নাম উল্লেখ না করে দু'জন নারীর উদাহরণ দিতে চাই। আমি তাদেরকে খুব ভালো করে চিনি ও জানি। তারা উচ্চশিক্ষিতা, ধনবতী ও সুসাহিত্যিক। স্বামীহারা হয়ে তারা প্রায় পাগল অবস্থায় বেঁচে আছেন। কয়েকদিন আগেও তাদের জীবন ছিল স্বাভাবিক। তাদের মুখে ছিল হাসি। আনন্দের সাম্পানে চড়ে খলখল করছিল তাদের জীবন। তাদের জীবন ছিল সুখে ভরপুর। এখন তাদের সবই আছে ভরা বেলুনের মতো। শুধু তাদের স্বামী নেই। এই একটি জিনিসের অভাবেই তাদের জীবন পানসা হয়ে আছে। তারা যেন বেঁচে থেকেও মৃতপ্রায়। এতে তাদের ভরা বেলুন চুপসে গেছে।
মূলত বিবাহ হচ্ছে প্রতিটি নারীর সর্বোচ্চ কামনা। এটিই তাদের মনের বাসনা। এটি দিয়েই মহান প্রভু তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। সে যদি পার্লামেন্টের সদস্যও হয়ে যায় কিংবা কোনো রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্টও হয়ে যায় তথাপি ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের মনের প্রকৃত বাসনা পূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না বউ হয়ে স্বামীর ঘরে প্রবেশ করতে পারবে।
তাই স্বামীর কোলেই নারীর প্রকৃত প্রশান্তি নিহিত। একবার যদি কোনো মেয়ের জীবনে কলঙ্ক নেমে আসে এবং তার সমাজ যদি তা জেনে ফেলে; তবে কেউ তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করবে না। এমনকি যেই পুরুষ তাকে নষ্ট করেছে সেও তাকে বিয়ে করে নিজের সংসার গড়তে রাজি হবে না। অথচ সে বিয়ের মিথ্যা ওয়াদা করে তার সতীত্ব ও সম্ভ্রম নষ্ট করেছে আর মনের চাহিদা পূরণ করে কেটে পড়েছে। উল্টো সে যখন বিয়ের মাধ্যমে কোনো নারীকে ঘরে তুলতে চাইবে তখন তাকে বাদ দিয়ে অন্য কোনো সম্ভ্রান্ত, সম্মানিত, ভদ্র, সতী ও পবিত্র নারীকেই খুঁজবে।
একজন পুরুষ কখনই চাইবে না যে, তার স্ত্রী হোক একজন নষ্ট নারী। কোনোক্রমেই সে মেনে নিতে চাইবে না যে, নিজ ঘরের পরিচালিকা হোক একজন নিকৃষ্ট মহিলা। কোনো পুরুষই মেনে নিতে চায় না যে, তার সন্তানের মা হোক একজন ব্যভিচারিণী।
পুরুষরা নিজে ফাসেক ও পাপী হয়েও চাইবে তার স্ত্রীটি হোক ফুলের মতো পবিত্র। এমনকি যখন সে নিজের পাপ ইচ্ছা পূর্ণ করার জন্য পাপের বাজারে কোনো পাপিষ্ঠা নারীকে খুঁজে পাবে না এবং বিয়ে ছাড়া নিজের যৌনচাহিদা পূর্ণ করার কোনো রাস্তা খুঁজে পাবে না তখন সে ইসলামের সুন্নাত অনুযায়ী বিয়ের মাধ্যমে কাউকে নিজের স্ত্রী বানানোর সন্ধানে বের হবে। সে কোনো পতিতাকে বা নষ্ট মহিলাকে কখনোই ঘরের স্ত্রী বানাতে রাজি হবে না।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 যুবকের রঙিন চশমায় নারীর অবয়ব

📄 যুবকের রঙিন চশমায় নারীর অবয়ব


সতেরো বছর বয়সে যে জিনিসটি কোনো যুবককে ঘুমুতে দেয় না, এই জিনিসটি ছোট বড় আরও অনেককেই ঘুমুতে দেয় না। এমনকি এ কামনার আগুন অনেকের আরামের ঘুম হারাম করে। অনেক ছাত্রকে অমনোযোগী করে পাঠে। অনেক শ্রমিক কাজ হারায়। অনেক ব্যবসায়ীর ব্যবসা লাটে ওঠে।
যে প্রেমের বর্ণনা কবিরা দিয়েছে, সাহিত্যিকরা কল্পনার রং মেখে যা উপস্থাপন করেছে, তা-ই প্রত্যেকের মাঝে বিরাজ করে। দুটো একই। পার্থক্য হলো, কেউ এ প্রেমকে গ্রহণ করে খোলামেলা নিরাভরণ। কথিত বুদ্ধিমানরা তা ঠিকই ধরতে পেরেছে। তাই তারা মানুষকে প্রতারিত করার জন্য বিষয়টিকে চকোলেটের মতো কাগজে মুড়িয়ে পরিবেশন করে। কেউ পান করে ঝরনায় মুখ দিয়ে, আর কেউ পান করে কারুকার্যমণ্ডিত সুন্দর গ্লাস দিয়ে।
যৌবনের চাহিদা মূলত কবিদের কবিতা, গজলের পঙ্ক্তি, ফটোগ্রাফারের ফটো, চিত্রশিল্পীর আলপনা আর গায়কের সুরের মতো। এখানে কামনা সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, ওখানে প্রচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট। মজার ব্যাপার হলো, সবচেয়ে মন্দ ব্যাধি হলো যা প্রচ্ছন্ন ও অস্পষ্ট। মানুষের সামনে যা রঙিন ফানুসের মতো তুলে ধরে অথচ এর ভিতরটায় থাকে গরল। যাকে 'কথা সত্য মতলব খারাপ' বলা যেতে পারে।
যুবক বয়সে এসে সবারই ভেতরে নিভে থাকা একটি জিনিস জ্বলে ওঠে। এ বয়সীরা এর উত্তাপ অনুভব করে হাড়ে হাড়ে। পৃথিবী হয়ে ওঠে তাদের কাছে অন্য পৃথিবী। মানুষ হয়ে যায় তাদের চোখে অন্য কিছু। তাদের চোখে একজন নারীকে রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ মনে হয় না; হয় অপরূপা হুর।
একজন মানুষের যা বৈশিষ্ট্য থাকে প্রতিটি নারীর মাঝেও তা বিদ্যমান। একজন মানুষের যা দোষ আছে তা-ও আছে তার মাঝে। কিন্তু যুবকেরা সে নারীর মধ্যে দেখতে পায় এক ধরনের আশা। সে দেখতে পায় তার জীবনের সব আশাই যেন ঐ যুবতির মাঝে এসে ভিড় করেছে। তার মাঝেই যেন শাদা বলাকার মতো এসে উড়াউড়ি করছে সব স্বপ্নের চাওয়া পাওয়া। তার মাঝেই বাস্তব হয়ে দেখা দেয় মনের গহীনে লুকিয়ে থাকা আশাগুলো। হ্যাঁ, যুবক যদি তার প্রত্যাশিত যুবতিকে শরিয়ত মোতাবেক বিয়ে করার প্রস্তাব দেয় তাহলে একবার তাকে দেখা বৈধ। যেমন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন-
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمْ امْرَأَةً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا لِخِطْبَةٍ ، وَإِنْ كَانَتْ لَا تَعْلَمُ .
তোমাদের কেউ কোনো নারীর প্রতি বিয়ের প্রস্তাব প্রদানের পর তাকে দেখলে কোনো গুনাহ হবে না। [মুসনাদে আহমাদ।]
একজন যুবক নারীর মাঝে দেখতে পায় এক ধরনের আকাঙ্ক্ষা। যেখানে এসে মিলিত হয়েছে সব চাওয়া পাওয়া। তার সহজাত কল্পনায় নারীকে পরিয়ে দেয় এমন পোশাক, যা তার সব দোষ ঢেকে দেয়, দুর্বলতা আড়াল করে দেয়। সে তখন তাকে উন্মুক্ত করে সৌন্দর্য আর কল্যাণের প্রতিমারূপে।
প্রতিটি যুবক একজন নারীকে নিয়ে তা-ই করে, যা করে একজন কৃতার্থ পূজারী পাষাণ প্রতিমা নিয়ে। সে নিজ হাতে প্রতিমা গড়ে তারপর প্রভু ভেবে পূজা করে। মূর্তিপূজারীর কাছে পাথরের প্রভু আর প্রেমিকদের কাছে রমণী কল্পনার মূর্তি।
এসবই স্বাভাবিক এবং যৌক্তিক। কিন্তু যে জিনিসটা অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক তাহলো পনেরো-ষোলো বছর বয়সের একটি যুবককে কামনার এহেন তীব্র দহনে দগ্ধ হওয়ার পরও শিক্ষাব্যবস্থার অযৌক্তিক দীর্ঘসূত্রিতার কারণে বিশ-পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত এভাবেই কামনার তীব্র দহনে দগ্ধ হতে হয়। এই বছরগুলোতে যৌবনে ভরপুর তরুণ বা তরুণী কী করবে? একজন যুবক যেমন তার কল্পনার যুবতি প্রতিমাকে নানা রঙে সাজায় তেমনি একজন তরুণীও তার কল্পনার পাখায় ভর করে উড়াউড়ি করে একজন স্মার্ট যুবকের সন্ধানে। সেও তার স্বপ্নের রাজকুমারের প্রতিমায় মনের মাধুরী মিশিয়ে আল্পনার প্রলেপ আঁটে। যুবক-যুবতিদের বিশ-পঁচিশ বছরগুলোই কামনা বাসনা আর দৈহিক অস্থিরতার চূড়ান্ত সময়।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 হীরা মানিক পান্না

📄 হীরা মানিক পান্না


প্রত্যেক নারীর কাছে রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। এই সম্পদ হীরা, মানিক কিংবা পান্নার চেয়েও দামি। সেই বড় সম্পদ হলো তার সতীত্ব। এ সম্পদ হারালে তামাম দুনিয়ার বিনিময়েও তা আর ফিরে পাওয়া যায় না। মানুষরূপী জানোয়ারদের কবলে পড়ে কোনো নারী যদি তার অমূল্য সম্পদ হারায়, তার মর্যাদা নষ্ট হয় এবং সম্ভ্রম ও সতীত্ব চলে যায়, তাহলে তার হারানো সম্মান দুনিয়ার কেউ পুনরায় ফেরত দিতে পারবে না।
কোনো নারী যদি স্বীয় ইজ্জতহারা হয়ে সমাজ থেকে ছিটকে পড়ে কেউ তার হাত ধরবে না এবং তার দিকে সাহায্যের হাত প্রসারিত করবে না।
যতদিন সেই নারীর শরীরে যৌবন অবশিষ্ট ছিল ততদিন পাপিষ্ঠরা তার সৌন্দর্যের চারপাশে ঘুরঘুর করেছে এবং তার প্রশংসা করেছে। যৌবন চলে যাওয়ার সাথে সাথেই কুকুর যেমন মৃত জন্তুর মাংস ভক্ষণ করে হাড্ডিগুলো ফেলে রেখে চলে যায় ঠিক তেমনি তারা তাকে রেখে দূরে চলে যায়।
রক্তে-মাংসে গড়া যে কোনো যুবকের মনই কোনো টগবগে যুবতিকে কাছে পেতে চায়। আর এ কারণে সে যে কোনো যুবতির পিছে কুকুরের মতো ঘুরঘুর করতেও লজ্জাবোধ করে না। যে যুবতির চাহনি কিংবা চলাফেরা সুন্দর তার প্রতিই যুবকরা বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকে। আর তরুণীরা যুবকের চাহনিতে মজে যায়। সে বেমালুম ভুলে যায় পুরুষের আসল কামুক চেহারা।
তাই আমি বলব, হে যুবতি! তুমি কি জান পুরুষেরা কেন তোমার কাছে আসতে চায়? সে কেন তোমাকে নিয়ে ভাবে? কারণ তুমি খুব সুন্দরী এবং যুবতি। সে তোমার সৌন্দর্যের পাগল। তাই সে তোমার চারপাশে ঘুরঘুর করে এবং তোমাকে নিয়েই ভাবে। এখন আমার প্রশ্ন হলো, তোমার এই যৌবন ও সৌন্দর্য কি চিরকাল থাকবে? পৃথিবীতে কোনো জিনিস কি চিরস্থায়ী হয়েছে? শিশুর শিশুকাল কি শেষ হয় না? সুন্দরীর সৌন্দর্য কি আজীবন থাকে?
তোমার বোন যদি বিবাহের মাধ্যমে পরিবার গঠনে আত্মনিয়োগ না করে এবং ইসলামের শত্রুদের ষড়যন্ত্রের শিকারে পরিণত হয়ে ইসলামি পারিবারিক জীবনের গণ্ডির বাইরে চলে যেতে চায় তাহলে তাকে প্রশ্ন কর যে, হে বোন! তুমি যখন বৃদ্ধ হবে, যখন তোমার পিঠ ও কোমর বাঁকা হবে এবং দেহের সৌন্দর্য বিলীন হবে তখন কে তোমার দায়িত্ব নেবে? তোমার পরিচর্যাই বা করবে কে? তা কি তোমার জানা আছে? যারা তার সেবা করবে, তারা হচ্ছে তার ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি। আর সে রানির মতো সিংহাসনে বসে পরিবারের অন্যদেরকে পরিচালনা করবে। এখন তুমি চিন্তা কর তো, তুমি কী করবে? বিবাহের মাধ্যমে তুমি কি এক নির্মল শান্তির সংসার রচনা করবে, নাকি ব্যভিচারিণী হয়ে স্বল্প সময় উপভোগ করে তোমার ভবিষ্যৎ জীবনকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিবে? স্থায়ী সুখের বিনিময়ে অস্থায়ী সুখ ক্রয় করা কি কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হবে?
তুমি যদি আঁচ করতে পার যে, পুরুষ হচ্ছে নেকড়ে আর তুমি হচ্ছ ভেড়া, তাহলে কিন্তু তুমি নেকড়ের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য ভেড়ার ন্যায় পলায়ন করবে। তুমি যদি জানতে পার যে, সকল পুরুষই চোর তাহলে কৃপণের মতো তুমি তোমার সকল মূল্যবান সম্পদ পুরুষের কবল থেকে হেফাজত করার জন্য সিন্দুকে লুকিয়ে রাখবে।
মনে রেখ, নেকড়ে কিন্তু ভেড়ার গোশত ছাড়া অন্য কিছু চায় না। আর পুরুষ তোমার কাছ থেকে যা ছিনিয়ে নিতে চায় তা কিন্তু ভেড়ার গোশতের চেয়েও অনেক মূল্যবান। তা যদি তোমার কাছে থেকে চলে যায়, তাহলে জেনে রাখবে তা হারিয়ে তোমার বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো। সে তোমার সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদটি নষ্ট করতে চায়, তোমার সম্মানের বিষয়টি ছিনিয়ে নিতে চায় এবং তোমার অমূল্য রত্নটি অপহরণ করতে চায়।
জানতে চাও! সে অমূল্য সম্পদটি কী? কী সেই অমূল্য রতন ও হীরা? হ্যাঁ, সেটি হচ্ছে তোমার সতীত্ব ও পবিত্রতা। যাতে রয়েছে তোমার সম্মান। যা নিয়ে তুমি গর্বিত হয়ে বেঁচে থাকতে চাও। আল্লাহর শপথ! পুরুষ তোমার এটিই নিয়ে নিতে চায়। এটি ছাড়া অন্য কথা কেউ বললে তুমি তা বিশ্বাস করো না। কোনোক্রমেই তার মধুর কথায় গলে যেও না।
বর্তমান সময়টাকে আমরা বড়ই জটিল স্থানে নিয়ে এসেছি। এখন কেউ কারো উপকার করতে এগিয়ে আসতে চায় না। তাই জেনে রেখ যে, তোমার হেফাজত তোমার হাতেই। হ্যাঁ, এ কথা সঠিক যে, পাপের পথে অগ্রসর হওয়াতে পুরুষকেই প্রথম দায়ী করা যায়। এর সাথে সাথে আমার অভিজ্ঞতা এ কথা অকপটে বলে দেয় যে, নারী কখনই প্রথমে এ পথে অগ্রসর হয় না। তবে তাদের সম্মতি ব্যতীত কখনই পুরুষও অগ্রসর হতে পারে না। নারী নরম না হলে পুরুষ শক্ত হয় না। নারী দরজা খুলে দেয় আর পুরুষ তাতে প্রবেশ করে। আর প্রবেশ করেই ডাকাতের মতো লুটে নেয় মূল্যবান হীরে মানিক মুতি পান্না।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 সুস্থ বিবাহের প্রতিবন্ধকতাসমূহ

📄 সুস্থ বিবাহের প্রতিবন্ধকতাসমূহ


প্রচলিত সমাজব্যবস্থায় সুস্থ বিবাহ সম্বন্ধে জটিলতা সৃষ্টির বেশ কিছু কারণ রয়েছে। সামাজিক নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত আমাদের সমাজদেহ। নিচে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য সামাজিক প্রতিবন্ধকতা তুলে ধরা হলো-
১. তথাকথিত শিক্ষাব্যবস্থা:
বিবাহোত্তর নানা জটিলতার অন্যতম সামাজিক ব্যাধি হলো বর্তমান তথাকথিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা। বর্তমানে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা মানুষের আল্লাহপ্রদত্ত স্বভাবগুণ ও আত্মিক চাহিদা এবং বস্তু ও বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত।
আল্লাহ তায়ালা যুবক ও যুবতির মধ্যে যৌনপ্রবৃত্তির উপকরণ রেখে দিয়েছেন। তিনি এই সুপ্ত শক্তির প্রকাশের জন্যে পনেরো ও এর কাছাকাছি বয়স নির্ধারণ করেছেন। একথা অনস্বীকার্য যে, মানুষ সৃষ্টি করেছেন আল্লাহ তায়ালা। সুতরাং মানুষের চাহিদা ও সেই চাহিদার সময় সম্পর্কে তিনিই সম্যক অবহিত। সেই প্রেক্ষিতেই ইসলাম যুবক-যুবতির যৌনপ্রবৃত্তি প্রকাশের বয়স নির্ধারণ করেছে পনেরো-ষোলো বছর। যখন কোনো ছেলে অথবা মেয়ে এ বয়সে উপনীত হয়, তখন নিজের ভেতর এক অজানা তাড়না অনুভব করে। এতদিন যা ঘুমন্ত ও অচেতন ছিল, এ সময়ে তা জাগ্রত ও সচেতন হয়ে পড়ে। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَأَنكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ )
তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহহীন, তাদের বিবাহ সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (সূরা নূর: ৩২]
দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যুবক-যুবতিদের পঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে থাকতে বাধ্য করে। একটি শিশু জাতিসংঘের নিয়ম মোতাবেক স্বভাবত সাত বছর বয়সে স্কুলে ভর্তি হয়। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বারো বছর পড়াশোনা করে। তখন তার বয়স উনিশে পৌছে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে চার থেকে সাত বছর অধ্যয়ন করে। এ সময়ে তার বয়স হয় তেইশ থেকে ছাব্বিশ। পরে অনেকে ডিগ্রি অর্জনের জন্যে ইউরোপ-আমেরিকায় গমন করে। সেখানে আরও তিন-চার বছর সময় ব্যয় হয়। ফলে দেখা যায়, শিক্ষাজীবন পাড়ি দিতেই ত্রিশ বছর শেষ!
স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, এই দশ-পনেরো বছর কিভাবে একজন তারুণ্য উদ্দীপ্ত যুবক-যুবতি সততার সঙ্গে কাটাতে পারে? যখন তার ভরা যৌবনে কামনা-বাসনার পূর্ণ জোয়ার, শিরা-উপশিরায় যখন তার প্রবৃত্তির তাড়না,
সেই সাথে তার ওঠাবসা-চলাফেরা আবেগপূর্ণ সহপাঠীদের সাথে! তার সাথে যদি পাশ্চাত্যে সফর করা যোগ হয়ে থাকে, তাহলে তো ভালোবাসার সাগরেই হাবুডুবু খেয়ে একাকার। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, আমাদের কথিত আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা আর ইসলামি নির্দেশের মাঝে ফারাক অনেক।
আমার এ আলোচনা প্রবৃত্তিবিষয়ক নয়। আমি জানাতে চাচ্ছি না, এই সময়ে তারা কী করে? বরং আমার আলোচ্য বিষয় হলো, বিবাহ কিভাবে বাধ্যতামূলক ও অপরিহার্য।
ত্রিশ বছরের আগে যুবক-যুবতিরা বাবার খেয়ে লালিত-পালিত হয়। এ সময়ে নিজের কায়-কারবার কিছুই নেই। একেবারেই হতদরিদ্র! এরপর যখন বিয়ের বয়স (?) হয়, তখন আয়-উপার্জন করতে আরও পাঁচ বছর চলে যায়। ফলে তখন কারো কারো বয়স এসে দাঁড়ায় پঁয়ত্রিশে।
মূলত এসব কল্যাণকর পথ হতে শয়তান মানুষকে বিরত রাখে। তাই নীতিবান মানুষের জন্য উচিত হলো এসব অন্যায় কাজ হতে নিজেকে বিরত রাখা। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَنْ ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا
কখনো এমন কোনো ব্যক্তির কথামতো চল না, যার অন্তঃকরণকে আমি আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি। আর যে ব্যক্তি নিজের প্রবৃত্তির গোলামি করতে শুরু করেছে এবং যার কার্যকলাপ সীমানা লঙ্ঘন করেছে সে (শয়তানের) পথেও চল না। [সূরা কাহাফ: ২৮]
ভালোভাবে হিসেব নিলে দেখা যাবে যে, আমাদের সমাজে এ ধরনের যুবকের অভাব নেই। এক পর্যায়ে দেখা যায়, তারা আর বিয়ে-শাদি করে না। কারণ, তাদের কাছে ঐ সময়টাতে বিয়ে করা এক ধরনের ঝামেলা বলে মনে হয়। সেই সাথে প্রবৃত্তি-চাহিদাও অনেকাংশে কমে যায়। যৌবনেও ভাটা নামে ততদিনে।
এ কারণে আমার গবেষণা মতে, বৈবাহিক জটিলতার অন্যতম সামাজিক ব্যাধি হলো প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা। গত কয়েক যুগ আগেও যখন বড় বড় এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছিল না, তখন সাধারণ যুবকশ্রেণি ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকত। বিশ বছরে পা রাখলে তাদের দু-একটা দোকান থাকত এবং তারা বেশ সম্পদের অধিকারী হয়ে যেত। একদিকে হতো খাঁটি ব্যবসায়ী, অন্যদিকে স্বামী, বাবা ও পরিবারের কর্তা। আর মেয়েদের চৌদ্দ বছর হলে বিয়ে-শাদি দেয়া হতো।
কিন্তু আজকের প্রেক্ষিত সম্পূর্ণ ভিন্ন। আজ চৌদ্দকে দ্বিগুণ করে আটাশ বছরেও দেখা যায় মেয়েদের বিয়ের পিঁড়িতে বসানোর কোনো পেরেশানি অভিভাবকের মাঝে দেখা যায় না। এসবই আমাদের প্রচলিত আধুনিক (?) শিক্ষাব্যবস্থার ফসল।
২. বিয়ে-শাদিতে প্রচলিত কুসংস্কার ও সামাজিক প্রথা : বৈবাহিক জটিলতার আরেক সামাজিক ব্যাধি হলো আমাদের সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার ও সামাজিক কুপ্রথা। মূলত সমাজদেহে ঘাপটি মেরে বসে থাকা এই কুপ্রথাগুলো একসাথে ছেলে ও মেয়ে উভয়ের পরিবারকে ধ্বংস করে দেয়। এ প্রথা কারও জন্যে কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। আমাদের সমাজে বিবাহ উপলক্ষে নানা আয়োজন-অনুষ্ঠান করা হয় শুধু মানুষের সামনে নিজেকে বড় দেখানোর উদ্দেশ্যে। অনেক আয়োজন হয়ে থাকে অন্যায়-অপচয়ে গর্হিত প্রতিযোগিতা প্রদর্শনের জন্যে। যেমন অধিক পরিমাণে দেনমোহর নির্ধারণ, দামি-দামি উপহারসামগ্রী ও সজ্জা সরবরাহ করা।
বিভিন্ন কারণে আমাকে নানা জায়গায় যেতে হয়েছে। মোটামুটি বিশ্বের বহু দেশ ভ্রমণ করার সুযোগ আমার হয়েছে। বিশেষত কথিত উন্নত দেশ দাবিদার সবগুলো দেশই আমি ভ্রমণ করেছি। সে সময়গুলোতে আমি বহু বিলাসবহুল বাড়িতে গমন করেছি। অধিকাংশ বাড়িই পেয়েছি বিলাসসামগ্রীতে ভরপুর। এখানে-ওখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এলোমেলোভাবে পড়ে থাকতে দেখেছি নানা সামগ্রী। আমি আক্ষেপের সাথে এও দেখেছি যে, রুচি ও সৌন্দর্যের কোনো চর্চাই করা হয়নি সেগুলোতে। অথচ আমরা যাদের অনুকরণে এ সমস্ত বস্তুর আয়োজন করি, তারা আমাদের মতো অপচয়-অপব্যয়ে পয়সা খরচ করে না। যা প্রয়োজন তা-ই সংগ্রহে রাখে।
আমি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে একটি বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি যে, সেসব দেশের মানুষ বিনা প্রয়োজনে কিছু করেন না। কখনও সাজসজ্জার প্রয়োজন হলে মূল্যবান জিনিস দিয়ে ঘরবাড়ি সাজায়। রুচি ও চাহিদামতো সবকিছুর আয়োজন করে। স্মৃতি-স্মারক কিছু হয়তো উপহার দেয়। শুধু দামি আর মোটা হলেই হলো না। তাদের কাছে আপনারা অব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখতে পাবেন না। সারি সারি গ্লাস, চিনামাটির পাত্র, বোল-বাটি, সুগন্ধির কৌটা দিয়ে ঘর ঠাসা করা তাদের অভ্যাস নয়। তারা সব সময় ধাতুর চেয়ে রুচির মূল্য বেশি দিয়ে থাকে।
আমাদের দেশে বিবাহকে কেন্দ্র করে যেই ধারাবাহিক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়ে থাকে বিদেশবৈভবে এসবের কোনো বালাই নেই।
যেমন আমাদের অনুষ্ঠানমালার ধারাবাহিক আয়োজন- প্রথমে মেয়ে দেখা, তারপর আংটি পরানো, পোশাক পরানো, বিয়ে পরানো, বৌ-ভাত, সপ্তম দিন উদ্যাপন, পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান, প্রতিটি আয়োজনে অন্ততপক্ষে একশ প্রকারের বোঝা বহন করতে হয়। এসবের বালাই খুব একটা নেই তাদের কাছে। মূলত আমাদের দেশের প্রচলিত এসব অনুষ্ঠানে হৃদয়হীন কিছু মানুষের সমাগম করানো হয়। যাদের প্রকৃত অর্থেই না আছে কোনো ধরনের সহমর্মিতা, না আছে স্নেহ-মমতা। শুধু ভুঁড়িভোজই তাদের আসল উদ্দেশ্য।
এ সমস্ত আয়োজন পাত্র-পাত্রী উভয়ের জন্যে একটা বোঝা। এগুলো একটা আপদ। এগুলো তাদের জীবনে সংকট সৃষ্টি করে দেয়। নীরবে কুড়ে খায় তাদের কলিজা। কী বিশ্রী কথা যে, ইদানীং বিভিন্ন জায়গায় আধুনিকতার নামে নারীদের থাকে কাপড়-প্রদান অনুষ্ঠান। বর-কনের হয় পোশাক বিনিময়। আবার পরস্পরের প্রদত্ত পোশাক নিয়ে চলে খুঁত বের করা। এসব বেলেল্লাপনা ও ভদ্রতা বর্জিত প্রথা ইসলামের নির্মল জমিনে নেই। এসবই আমাদের কথিত সামাজিকতা ও লৌকিকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
তাছাড়া কথিত সভ্যতার আবরণে অন্যান্য নির্ধারিত 'হাদিয়া' ও 'উপঢৌকন'-এর নামে যৌতুকের লীলাখেলা তো আছেই। কখনও উভয় পক্ষের চুক্তিমতো নির্দিষ্ট মূল্যের উপহারকে বাধ্য করা হয়। প্রস্তাবকারী সাধারণ দেনমোহরের থেকে বেশির দায়িত্বও নিয়ে থাকে। কন্যার পিতাও মান রক্ষার্থে উপঢৌকনের মাত্রা বাড়াতে সম্মত হয়।
শুধু এখানেই শেষ নয়, সামাজিকতা ও লৌকিকতার শ্রাদ্ধ করতে সাথে সাথে যাদের দাওয়াত করা হয়, তাদের ওপরও সৃষ্টি হয় প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ অঘোষিতভাবে বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নতুন পোশাক এবং বর-কনের জন্যে 'হাদিয়া'র যোগান দিতে ভিন্ন পরিবারেও ব্যাপক কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি হয়। যা অনেকের মুখ বুজে সয়ে যাওয়া ছাড়া গত্যন্তর থাকে না।
আমি এক সময় ইন্দোনেশিয়ার 'জাওয়া' দীপে ছিলাম। তখন সেখানকার অধিকাংশ যুবককেই বিবাহিত পেয়েছিলাম। তাদের সাথে বিবাহের রীতিনীতি সম্পর্কে কথা বলে জানতে পারলাম যে, তাদের দেশে এটা
একেবারেই সহজ ও স্বাভাবিক। আমি আমাদের দেশের বিবাহ-প্রথার কঠিনতা এবং আনুষ্ঠানিকতার বাধ্যবাধকতার বিষয়টি তাদের জানালাম। আরো বললাম যে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈধ পন্থায় বিয়ে করার চেয়ে অবৈধভাবে যৌনমিলন সহজসাধ্য হয়ে গেছে। একথা বলছিলাম আর মনে মনে লজ্জিত হচ্ছিলাম।
আমাদের অভিভাবকরা এই অশুভ দিকটা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অমনোযোগী। একদিকে তারা সন্তানদের চরিত্রের ব্যাপারে তেমন যত্নশীল নন। অপরদিকে বিয়ের বিষয়টাও উপেক্ষার দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। শুধু তাই না, আমাদের অভিভাবকরা বিয়েপ্রার্থীর সামনে নানা অজুহাতে ও ছলে-বলে শত কাঁটা ও বাধার প্রাচীর দাঁড় করিয়ে রাখেন। এসবই আমাদের কথিত সামাজিক কুপ্রথা ও কুসংস্কার। যা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে সন্তানদের সোনালি ভবিষ্যৎ অমানিশার অতল গহ্বরে হারিয়ে যাবে।
৩. ধর্মীয় বিধান অমান্য করা:
বিবাহের পথে তৃতীয় সামাজিক ব্যাধি হলো, অধিকাংশ বিয়েতে ধর্মীয় বিধান মানা তো হয়ই না; উল্টো বর্জন করা হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিবাহের ধর্মীয় নিয়ম সম্পর্কেই অনেকে ওয়াকিবহাল নয়। তারা এর নিয়ম-পদ্ধতিই জানে না। স্বামী যেমন জানে না স্ত্রীর হক কী এবং নিজের দায়দায়িত্ব কী! ঠিক তেমনি স্ত্রীও বোঝে না স্বামীর হক কী এবং নিজের কর্তব্যই বা কী? ফলে কেউ কারও হক যথাযথভাবে আদায় করে না। একে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় মতবিরোধ ও মতানৈক্য। জন্ম নেয় ঝগড়া ও বাদানুবাদ। এভাবে দাম্পত্যজীবন হয়ে ওঠে বিষাদময়। মামলা, তালাক এবং পরিশেষে বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়।
৪. চারিত্রিক অধঃপতন:
বৈবাহিক জটিলতার চতুর্থ সামাজিক ব্যাধি হলো চারিত্রিক অধঃপতন ও নৈতিকতার অবনতি। এটা মূলত বিয়ের পথে বাধা সৃষ্টির কারণেই তৈরি হয়েছে। সমস্যাটা চক্রাকারে আবর্তিত। অর্থাৎ চারিত্রিক অধঃপতনের কারণেই আবার বিয়ের পথে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। যেমন এক কবি বলেছেন-
চক্রাবর্তন সমস্যা এসেছে আমার মাঝে আর যাকে ভালোবাসি, তার মাঝে। যদি আমার বার্ধক্য না হতো, তাহলে সে বিরূপ হতো না। সে বিরূপ না হলে আমার চুলে শুভ্রতা ছেয়ে যেত না।
বিয়ে যে কারণে প্রয়োজন সে প্রয়োজন পূরণ এখনকার যুবকদের হাতের নাগালে। সামাজিক প্রথা যে যুবককে বিয়ে থেকে বিরত রাখছে, সে বিয়ের প্রয়োজন ভিন্ন পথে সেরে নিচ্ছে। এভাবে সে নৈতিক বিপর্যয়ের শিকার হচ্ছে। সহজভাবে যৌনক্ষুধা নিবারণের ফলে বিয়ের প্রতি ধীরে ধীরে আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। কারণ তার ভাবনায় থাকে- বিয়ে মানে বিশাল আয়োজন, অন্যের দায়িত্ব গ্রহণ, টাকা-পয়সার ব্যাপক ছড়াছড়ি ইত্যাদি। এর চেয়ে ভালো হলো সহজেই কাজ সেরে নেয়া। যা চাওয়ার তা যখন সহজেই পাওয়া যায়, তাহলে আর এত ঝামেলার মুখোমুখি হওয়ার কী দরকার!
মনে রাখবে, বৈবাহিক জটিলতা এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে ব্যভিচার কিংবা পতিতাবৃত্তির জটিলতা এক সূত্রে গাঁথা। একটা বাদ দিয়ে আরেকটার সমাধান সম্ভব নয়। আমাদের সমাজের পরতে পরতে এ সমস্যা ঘাপটি মেরে বসে আছে। যতদিন পর্যন্ত এ সমস্যার সমাধান করা না যাবে, ততদিন হাজারো শান্তিচুক্তি করেও শান্তির সুবাতাস পাওয়া অসম্ভবই বটে।
৫. বিবাহের সংস্থান না হওয়া: সুস্থ বিবাহের পথে পঞ্চম বাধাটি আমি এ লেখার শুরুতে ইঙ্গিত দিয়েছি। শুরুতে যে বিষয়ের সাথে পরিচিত করিয়েছি, তার ফলাফলই এ সমস্যা সমাধানের মোক্ষম উপায়। আমি সেখানে বলেছিলাম, বৈবাহিক জটিলতা সৃষ্টির অন্যতম কারণ হলো হাজার হাজার অবিবাহিত নারী ও পুরুষের বিদ্যমানতা।
যুবকদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি ও স্তর রয়েছে। ধনী-গরিব, ভদ্র-মূর্খ, ফাসেক-মুত্তাকি, মেধাবী-দুর্বল প্রভৃতি।
মেয়েদের মাঝেও স্তরবিন্যাস রয়েছে। তাই কোনো যুবক যখন বিয়ে করতে চায়, তার জন্যে উচিৎ হলো, মেধা-মননশীলতা, গুণ ও বৈশিষ্ট্যে নিজের মতো কাউকে প্রস্তাব দেয়া, যেন চিন্তাচেতনায় সামাজিক ও বাস্তব জীবনের সর্বাংশে একজন নারী তার সহকর্মী ও সহযোগী হতে পারে।
বৈবাহিক জীবনে যখন এ ধরনের স্বভাবগত ভিন্নতা ও বৈপরীত্য থাকে, তখন কর্তব্য হলো, প্রতিটি এলাকায় একদল সংস্কারক লোক থাকা। তারা মানুষের কাছে এই সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন এবং সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
সারকথা হলো, সারা দেশে বৈবাহিক জটিলতা বিদ্যমান। এই জটিলতা নৈতিক ও চারিত্রিক বিপর্যয়ের সাথে সম্পৃক্ত। একটিকে বাদ দিয়ে আরেকটির সংশোধন সম্ভব নয়। এসবের মূলে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থা। এরপর দেনমোহর নির্ধারণ, হাদিয়া-উপঢৌকন ও আনুষ্ঠানিক কুসংস্কারের সয়লাব।
তাছাড়া স্বামী-স্ত্রী শরয়ী আহকাম উপেক্ষা করে থাকে। ফলে যেখানে তাদের মাঝে মিল-মহব্বত হওয়ার কথা ছিল, সেখানে বিরোধ ও মনোমালিন্য হয়ে থাকে। বাবা-মা ও অভিভাবকদের রেখে নিজেরাই সব সম্পন্ন করে ফেলে। আবার কখনো এমন মেয়েদের বেছে নেয়া হয়, যারা বিবেচনায় ছেলের উপযোগী নয়। তারা কেবল গুণের পরিবর্তে সৌন্দর্যকে, দীনের বদলে সম্পদকে এবং চরিত্র ও নৈতিকতা না দেখে প্রেম-ভালোবাসাকেই প্রাধান্য দিয়ে থাকে। ফলে সমস্যার জাল ফসকা হওয়া অপেক্ষা দিন দিন ঠাসা হতে থাকে। পরিশেষে এর হাত ধরে অনুপ্রবেশ করে মনকষাকষি, হাতাহাতি, রেষারেষি, মামলা-মকদ্দমা, আত্মহত্যা, খুনখারাবি প্রভৃতি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00