📄 মহামারি ভাইরাসের প্রতিষেধক
তথাকথিত আধুনিক দাবিদার ও কথিত নারীমুক্তির মিছিলকারীরা যুক্তি দেখায় যে, এসব কাজে দমন-পীড়ন ও প্রতিহতকরণ নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে। অপরদিকে পাপাচার থেকে পৃথিবীর কোথাও কোনো কালের মানুষ
মুক্ত থাকুন। তাই নিজেরা গোপনে কাজ সেরে ফেলার চেয়ে বিচারকের কাঠগড়ায় প্রকাশ পাওয়াটাই ভালো।
এ ব্যাপারে তাদের খোঁড়া যুক্তিও কম নয়। তাদের সাফ কথা হলো, ঘরের ময়লা রাখার জন্যে দরজার সামনে ঝুড়ি রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো যেন ময়লাগুলো রুমের মধ্যে ঢুকতে না পারে। এর দ্বারা ঘরের সামনে মোটে ময়লা জমানো কারো উদ্দেশ্য থাকে না। তেমনি এই মৌনপথের শিল খুলে দিলেই শহর-নগর পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।
আবার অনেকের থিওরি এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তাহলো, যুবক-যুবতি সমস্যা নিরসনের একটিই মাত্র পথ রয়েছে। তাহলো, আধুনিকতা পরিহার করে সাধারণ জীবন ধারণে অভ্যস্ত হতে হবে। যুগ ও বাস্তবতার তারা কোনোই তোয়াক্কা করবে না।
এক্ষেত্রে আমার মতামত হলো, এই থিওরিধারীদের মতামতও যথার্থ নয়। কারণ, এ চিন্তাধারায় আকস্মিকতার ভাব রয়েছে। কোনো কাজে সফল হতে চাইলে আকস্মিক বা তরিৎ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কেননা, এই ফেতনা একদিনে ছড়ায়নি; বরং তা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করেছে। ক্রমে ক্রমে নারিরা কামিজ খাটো করেছে; শার্ট কামিজ, অর্ধউলঙ্গ পোশাক পরে আজকের দৃশ্যপটে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
আমি এসব বন্ধুকে বলছি না যে, এখনই আপনাদেরকে সম্পূর্ণ পর্দায় প্রবেশ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, যারা সংস্কার কাজে এগিয়ে আসতে চান, তাদের বলতে চাই যে, চিন্তাচেতনা ও মানসিক ভাবনা জমিন থেকে করতে হবে; মুয়াজ্জিনের আজানখানা থেকে নয়। তাছাড়া সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োগসক্ষম ও বাস্তবমুখী কাজের উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে কোনো মিথ্যাকে যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করতে পারলেই তা সত্য হয়ে যায় না। এমনিভাবে উদাহরণ ধরে ধারণামূলক ছন্দ তৈরি করলেই তা ছন্দময় বলে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই প্রকাশ্যে যৌনদুয়ার খুলে দিয়ে সমস্যা নিরসনের চিন্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এ মহামারি ভাইরাস নিরাময়ে কয়েকটি প্রেসক্রিপশন পেশ করতে চাই। তাহলো-
প্রথমত, মনে রাখবেন যে, চুরি-ডাকাতি ও হত্যার মতো ব্যভিচারও একটা জঘন্য অপরাধ। জগতের কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তিই একে ভালো বলতে পারে না। যদি তথাকথিত যুক্তিবাদীদের যুক্তির আলোকে ব্যভিচারের পথ খোলা রাখা হয়, তাহলে তো চুরি, ডাকাতি কিংবা হত্যার পথও খোলা রাখতে হয়! কারণ মানবসৃষ্টর পর থেকে কোনো কাল, কোনো স্থানেই তো এ অপরাধ গ্রহণযোগ্য নয়।
থেকে মুক্ত থাকেনি। তবুও কেন আমরা প্রতিটি শহরে, প্রতিটি গ্রামে এগুলোর বৈধতার কথা বলি না?
দ্বিতীয়ত, যদি নারীবাদীদের কথামতো ধরে নিই যে, যেনা হত্যার মতো অপরাধ নয়। কারণ, হত্যা উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে হয় না। পক্ষান্তরে যেনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দু'পক্ষের সম্মতির প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। আমি বলব যে, আরে! এ যুক্তির আলোকে তো দেশের প্রতিটি যুবককে ইচ্ছামতো নারীভোগের স্বাধীনতা দিতে হয়! নির্দিষ্ট কোনো মেয়ে কলিমুদ্দির জন্য বৈধ থাকবে; কিন্তু ছলিমুদ্দির জন্যে থাকবে না; এমন হতে পারবে না। তাই প্রতিটি অঞ্চলে পুরুষের সংখ্যানুপাতে ব্যভিচারিণীও বিদ্যমান থাকতে হবে। বাস্তবে কি আদৌ কোনো মানবসমাজ এটি গ্রহণ করে নিবে? অতএব, একথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, এই খোঁড়া যুক্তিবাদীদের মতলব খারাপ!
ধরে নিই যে, মিসরের রাজধানী কায়রো শহরে যদি আড়াই মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। পাশাপাশি যদি কথিত যুক্তিবাদীদের কথায় মেনে নিই যে, যৌনদুয়ার খুলে দিতে হবে; তাহলে তো তাদের মধ্যে অন্তত চার লাখ পুরুষ আছে। এই পুরুষদের জন্যে চল্লিশ হাজার অসতী নারী থাকাও কি জরুরি নয়? কোনো ভদ্র মানুষ কি দাবি করতে পারে যে, কায়রোতে চল্লিশ হাজার এ জাতীয় নারীর অস্তিত্ব থাকবে?
আমরা এই সংখ্যা যোগাব কোত্থেকে? চল্লিশ হাজার পরিবারকে অপদস্থ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থায় এই সংখ্যা কি পূরণ করা সম্ভব? তবে কি আমরা সেই জাতির অনুসরণে প্রবৃত্ত হব, যারা অপকর্মের প্লাবনে দৈহিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত? তাদের কাছে কি নিজেদের মান-মর্যাদা, গর্ব-অহমিকা বিলীন করে দেব?
তৃতীয়ত. যদি কথিত আধুনিক দাবিদার নারীবাদী ও প্রগতির ঢেঁকিদের মতের সাথে একমত হয়ে উল্লিখিত সংখ্যা পূরণ কোনোভাবে সম্ভবপরও হয়, তাহলে এই কর্ম আয়োজনে যুবকরা বিবাহের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়বে। সাংসারিক জীবনে ধস নেমে আসবে। ঘরের কন্যারা বিয়ে ছাড়া নিঃসঙ্গ জীবন কাটাবে।
কথা হলো, এই ব্যভিচারিণীদের নিয়ে আমরা কী করব? আমরা কি আশ্রয়কেন্দ্র বা উপাসনার দ্বার খুলে দেব, যেখানে তাদের ফেলে আসব? এরপর কি তারা আগন্তুক, পথচারী, পাদ্রী ও সংসারত্যাগীদের ভোগ-
প্রয়োজন মেটাবে? অথবা নির্দিষ্ট স্থানে পুরুষের বাজার বসানো হবে, যেখান থেকে নারীরা যৌনক্ষুধা নিবরণ করতে পারবে?
প্লিজ, আপনারা এই বিবরণকে ভিন্ন চোখে পর্যালোচনা করবেন না। কারণ, যে রোগ ধরিয়ে দেয় এবং সেই মতে প্রেসক্রিপশন দেয়, দোষ তার নয়; বরং অপরাধ হলো ব্যাধির।
আমার এই বর্ণনা যদি কারো কাছে অতৃপ্তিকর মনে হয়, তাহলে বাস্তব ঘটনা ও বর্ণনাগুলো অবশ্যই আরও বিরক্তিকর হওয়ার কথা।
📄 জৈবিক রোগ প্রতিরোধের ধাপ-উপধাপ
এবার আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন যে, যদি যৌনদুয়ার ওপেন রাখতে আপনাদের আপত্তি হয়, তাহলে আপনার কাছে এর প্রতিরোধক কী? জবাবে আমি নিঃসঙ্কোচে বলব যে, এই জৈবিক ব্যাধি প্রতিরোধের কয়েকটি ধাপ-উপধাপ রয়েছে। কারণ, বর্তমান সমাজ 'রোগ-ব্যাধির' ছড়াছড়িতে পচা ঘায়ের মতো নির্দয়-নিষ্ঠুর হয়ে পড়েছে। এজন্যে প্রথম ধাপে রোগ প্রতিরোধ, দ্বিতীয় ধাপে পুনরাবৃত্তি প্রতিহত, তৃতীয় ধাপে ব্যাধি সুস্থকরণ এবং চতুর্থ ধাপে দৈহিক শক্তি অর্জন ও রক্ষণের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তির পথ রোধ করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ: যৌনরোগ প্রতিরোধ একদিনেই সম্ভব নয়। এর জন্য কয়েকটি ধাপ-উপধাপ অতিক্রম করতে হবে। এ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করছি। প্রথমত এর জন্য শান্তিরক্ষী বাহিনীর নৈতিক উন্নতি ও চারিত্রিক অগ্রগতি সাধন করতে হবে। কারণ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম পুলিশের আশ্রয় নেয়া হয়। কোনো এলাকায় যদি পুলিশ না থাকে অথবা কারও নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ার কারণে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে অপরাধ এবং অপরাধীকে রোধ করার কেউই থাকবে না।
আমার কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, এমন অনেক অপরাধী আছে, যাদের অপরাধের ধরন ও সেই অপরাধীর পূর্ণ পরিচয় জানেন। কিন্তু তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার সাংবিধানিক কোনো সুযোগ নেই। সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেয়ার মতো কোনো আইন না থাকার কারণে এসবের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারেন না। কখনও নষ্টা নারী সরাসরি ধরা পড়লেও কিছু বলার সুযোগ থাকে না। উল্টো তাদের
ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন বিধান। তাহলো, এসব অপরাধী রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাদের সুস্থতার জন্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
কথা হলো, এই ব্যভিচারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক আইনি সুযোগ না রেখে উল্টো তাদেরকে সুস্থ করার আইন সংবিধানে থাকবে কেন? তাহলে সুস্থ হয়ে যেন তারা পুনরায় ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারে সেজন্যেই? এই অপকর্মগুলো মূলত বিভিন্ন শক্তি, ব্যক্তি, সংগঠন ও সংবিধানের অধীনে হয়ে থাকে।
একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বটা বেশ জটিল ও কঠিন। কারণ, তাদের একদিকে থাকে সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রলোভন, অপরদিকে সিদ্দীকীন, শুহাদা ও সালিহীনের ধৈর্য ও ঈমানি জযবা। এ কারণে কর্তব্য হলো, অভিজ্ঞ, বয়োবৃদ্ধ, ধার্মিক ও চরিত্রবান ব্যক্তিবর্গকে নিয়োগ দেয়া এবং বেতন ছাড়াও তাদেরকে ভিন্ন অনুদান প্রদান করা। যখন তারা এই অর্থ গ্রহণ করবে, তখন তাদের শক্তি-সাহস প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাবে।
যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো অসৎ সদস্যের ছত্রছায়ায় অপরাধকর্ম হয়ে থাকে আবার অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষমতাও তাদের হাতে, তাই এমতাবস্থায় বেতনের বাইরে বড় একটা অঙ্ক হাতে এলে প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে তারা পিছপা হতে পারবে না। পক্ষান্তরে তাদের অর্থনৈতিক অভাবেই তাদের স্বভাব নষ্টের দিকে ধাবিত করে দেয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হলো একটি গোপন অপরাধ কর্মের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা। এর আওতায় যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ রোধ এবং উৎস থেকে মূলোৎপাটন করা সম্ভব।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, অপরাধীরা সম্ভ্রান্তদের মাঝে আত্মগোপন করে থাকে। নষ্টা নারীরা বিভিন্ন রুচিশীল পোশাক পরে নানা স্টাইলে পরিবেশিত হয়। রাতে অন্ধকারে অসৎ উদ্দেশ্যে গাড়িতে করে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। তাদেরকে জৈবিক চাহিদা পূরণের কাজে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় সতী-সাধ্বী নারীর বেশও ধারণ করে তারা। দেখলে মনে হবে, বড় কোনো সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অভিজাত শ্রেণির অথবা কোনো ধার্মিক যুবতি! অথচ এই পোশাকের আড়ালে সে একজন পেশাজীবী দেহ ব্যবসায়ী বৈ কিছু নয়।
এক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে করণীয় হলো এ সমস্ত গোপন দুরাচারীদের উচ্ছেদ করা। এখানে কোনো ধরনের শৈথিল্য এবং কারও সুপারিশ বা অনুরোধ গ্রহণ করা কোনোক্রমেই উচিত নয়।
এই তিনটি প্রক্রিয়ায় রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পার।
রোগ প্রতিরোধের দ্বিতীয় ধাপ: যৌনরোগ প্রতিরোধের দ্বিতীয় ধাপ হলো অপরাধ পুনরাবৃত্তি প্রতিহতকরণ। এই ধাপটি বাস্তবায়ন করতে হলে নষ্টা নারী ও অপরাধকর্মে সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র প্রসঙ্গটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। পৃথিবীর সব দেশেই চলচ্চিত্রের অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হয়; তবে তা হয়ে থাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে এবং তাদের অনুমতিক্রমে। ছোট-বড় এবং যুবক-বৃদ্ধ সবার জন্যে আলাদা-আলাদা প্রোগ্রাম পরিবেশন করা হয়। কিন্তু আমরা ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধের মাঝে কোনো তফাৎ রাখি না। একই অনুষ্ঠান সবার জন্যে প্রচার করা হয়। যে কারণে আমাদের নৈতিক উন্নতি ও পৌরুষ বিকাশের পথে রুদ্ধ হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন হলো, আমরা কেন ফিরিঙ্গি জাতির ভালো দিকগুলো অনুকরণ না করে কেবল মন্দ দিকগুলোর অনুসরণ করে যাই?
মূলত এই সিনেমাই হলো সমস্ত অনিষ্টের মূল এবং ফেতনার উৎস। দ্বিতীয়ত, এই ধাপেরই আরেক উপ-ধাপ হলো নগ্ন উপন্যাস এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিনে নারীদের অশোভন চিত্র ও চরিত্র প্রকাশ হওয়া।
এ ব্যাপারে কোনো পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। সরকারি-বেসরকারি আলেম-ওলামা কেউই এ ব্যাপারে জোরালো প্রতিবাদ জানায় না। অথচ যারা ধর্মীয় চিন্তাবিদ, উচ্চপদস্থ লেখক এবং শিক্ষা-অধ্যাপনায় নিয়োজিত, তাদের তো অবশ্যই এ সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল।
এ নোংরা উপন্যাসগুলো যুবক-যুবতির চরিত্রে পচন ধরিয়েছে। তাদের দেহে অপ্রতিরোধ্য ভাইরাস পাচার করেছে। এগুলো তাদের মাঝে দীনি বোধশক্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি বিলুপ্ত করে দিয়েছে।
ইদানীং পত্রিকার সম্পাদক ও বিভাগীয় সম্পাদকরা ম্যাগাজিনগুলোতে নগ্ন ছবি ফলাও করে ছাপিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, কোন পত্রিকা বেশি
খোলামেলা নগ্নছবি প্রকাশ করতে পারে, তা নিয়ে দস্তুরমতো প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এসবের অপথাবায় জাতির যে অধঃপতন হয়েছে, ইতোপূর্বে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও তা সম্ভবপর হয়নি। কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদও দেশ ও জাতিকে এতটা ক্ষতি করতে পারেনি।
রোগ প্রতিরোধের তৃতীয় ধাপ: সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও যৌন মহামারি রোধ করার তৃতীয় ধাপ বোঝার আগে কিছু বিষয়ের অবতারণা করা অপরিহার্য মনে করছি। তাহলো, সড়কে, পথেঘাটে উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ নারীর ছবি দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। তাছাড়া অশালীনভাবে পর্দা ছাড়া নারীরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। তাদের হাঁটু, হাতের বাহু, বুক-পিঠ, নিতম্বের দিক প্রায় খোলাই থাকে। অথচ ধর্মীয় রীতিনীতি, মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এবং উন্নত সভ্যতা এসব পোশাক কোনোভাবেই সমর্থন করে না। পরিতাপের বিষয় হলো, তা সত্ত্বেও এসব নোংরা পোশাককেই আমাদের আধুনিক দাবিদাররা প্রগতির ধারক মনে করে থাকে।
আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তথাকথিত আধুনিকতার ছোঁয়া মহামারি আকার ধারণ করে চলেছে। নগ্ন অপরাধ এমনভাবে সমাজদেহের সাথে মিশে গেছে যে, এখন এগুলোকে কেউ অপরাধ মনে করে না। দিন দিন এর প্রচারকার্য এমনভাবে বেড়ে চলেছে যে, এখন দেশের মিডিয়াগুলোর অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব নোংরা চিত্র আর নোংরা ছবির প্রদর্শন।
অবস্থার বাস্তবতায় এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, নগ্ন অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার কর্মী সংগ্রহ করি কিংবা আমরা যদি অন্যায় প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তিবিধানও প্রণয়ন করি; তথাপি আশানুরূপ ফল লাভ করা সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নষ্টা নারী ও নগ্ন প্রচার রোধ করা না হবে ততক্ষণ কপাল থাপড়ালেও কোনো লাভের মুখ দেখার আশা করা উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মতোই হাস্যকর হয়ে দাঁড়াবে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের কর্মসূচি হলো- একদিকে ঘর পরিষ্কার করব, অপরদিকে ছাদের ছিদ্র দিয়ে বালু পড়তে থাকবে। আমাদের আরো দুঃখজনক অবস্থা হলো, কেউ রোগাক্রান্ত হলে সেবা-সহযোগিতায় এগিয়ে আসব বটে; কিন্তু ভিন্ন দিকে রোগের আগমনপথও সুরক্ষিত রাখতে কসুর করব না!
তাই আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, এই রোগের প্রতিরোধ এবং মূল থেকে উৎপাটনের একটাই মাত্র পথ রয়েছে। তা হচ্ছে যুবক-যুবতির বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন।
📄 রোগ নিরাময়ের স্থায়ী ব্যবস্থা
এ পর্যন্ত যে সমস্ত সমাধানের কথা উল্লেখ করেছি, সেগুলো হলো সাময়িক এবং তাৎক্ষণিক উপশমের প্রাথমিক ব্যবস্থা। একে ওয়ান টাইম ট্রিটমেন্টও বলতে পারেন। কিন্তু এবার যেই প্রতিষেধক নিয়ে কথা বলব তা হলো বাস্তবভিত্তিক এবং স্থায়ী।
আমার কথায় হয়তো কেউ কেউ হাসতে পারেন যে, আরে! কিছুক্ষণ আগে আপনি নিজেই তো বিবাহের জটিলতার কথা বলে এলেন। এখন একে আবার সমাধান হিসেবে পেশ করছেন কিভাবে? ব্যাপারটি কি পরস্পর বিরোধী হলো না?
আপনাদের হাসি উদ্রেক হওয়া সেই মনের খুদুরবুদুরের জবাবে আমার উক্তি হলো, আমি এ মুহূর্তে একজন চিকিৎসক। আমার কাজ হচ্ছে রোগ নির্ণয় করে ব্যবস্থাপত্র লিখে দেয়া।
ধরুন, রোগ হলো ম্যালেরিয়া এবং এর প্রতিষেধক হলো কুইনাইন। এখন যদি ফার্মেসির লোকেরা কুইনাইন লুকিয়ে রাখে বা দাম বাড়িয়ে দেয় কিংবা তাদের ফার্মেসি বন্ধ করে রাখে, তাহলে ডাক্তারের দোষ কোথায়?
হ্যাঁ, ফার্মাসিস্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে। এটা কেবল একটা উদাহরণ। সুনির্দিষ্টভাবে কোনো ফার্মেসি বা প্রশাসনের নাম মেনশন করে আমি কথা বলছি না।
আমার সাথে আপনারা অবশ্যই ঐকমত্য পোষণ করবেন যে, রাষ্ট্রের কর্তব্য হলো বৈবাহিক সমস্যা নিরসনকল্পে বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা। তাদের কাজ হবে বিয়ের সহজায়নের পথ নির্ণয় করা। কমিটি গঠনের নির্দেশনামূলক একটা প্রবন্ধ অবশ্য আমি লিখেছিলাম। শরিয়তসম্মত বিধিও প্রণয়ন করেছিলাম। হয়তো কাগজের পাতায় এখনও বেঁচে আছে এবং থাকবে।
রাষ্ট্র কর্তৃক কমিটি গঠন বিষয়ক প্রবন্ধের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল, মানুষকে বৈবাহিক জীবনের প্রতি উৎসাহদান, সামাজিক প্রথা ও কুসংস্কার রোধ, অনুষ্ঠান-আয়োজন ও দেনমোহর সাধ্যের ভেতরে নির্ধারণ, ষষ্ঠ শ্রেণি ও
তদুপরি কর্মচারীদের বিবাহ বাধ্যতামূলক করা, সামর্থ্য থাকার পরও যারা বিয়েতে অনাগ্রহী, তাদের ওপর করারোপের মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থায় স্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের নারীশিক্ষার উপযোগী শিক্ষাধারা চালু করা ইত্যাদি। আশা করি, সরকারিভাবে এসব উদ্যোগ নেয়া হলে যৌন অপরাধ তো কমবেই, সময়ের ব্যবধানে অন্য অপরাধও শূন্যের কোটায় চলে আসবে।
আমি মনে করি, এ বিষয়ে প্রতিটি সেক্টরে নিয়োজিতদের কলম ধরা উচিৎ। যেমন- ফতোয়া বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনী, অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা বিভাগ, পরামর্শ বিভাগ, বিচার বিভাগ, লেখক ফোরাম, কবি-সাহিত্যিক সংগঠন এবং আঞ্চলিক ও এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন কমিটি এতে অংশগ্রহণ করে তাদের কর্ম নির্ধারণ করতে পারে।
সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়রোধে আমি আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বলেছি, তা শুধুমাত্র কথার কথা নয়। বিষয়গুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ভেবেছি। এ সমস্যা সমাধানে আমি অনেক গবেষণাও করেছি। শুধু গবেষণা করেই ক্ষান্ত হইনি। আমি বিষয়গুলো নিয়ে বহু চিন্তাবিদ ও গবেষকের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তারা সবাই আমার সাথে একাত্মতা পোষণ করেছেন। আর এ কারণেই আমি জোর দিয়ে বলতে পারি যে, আমার প্রেসক্রিপশন সবই ভুল হবে কিংবা সবই বৃথা যাবে- এমন হওয়া সম্ভব নয়। তাই এই ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত নির্দেশনা হলো বিবাহের পথ সহজ করা। এ ব্যাপারটি যত সহজ-করা যাবে, ততই সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়মুক্ত সমাজ-গঠন সহজ হবে।
একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। তাহলো, আপনি হয়তো কাউকে দেখলেন যে, সে খুব ক্ষুধার্ত। আপনার চোখের সামনেই লোকটি ক্ষুধার জ্বালায় কাতরতা দেখাচ্ছে। তার এই অবস্থা দেখে আপনার মনে দয়ার উদ্রেক হলো। আপনি এও দেখলেন যে, লোকটির সামনেই রেস্টুরেন্টে বিভিন্ন আইটেমের খাবার সাজানো আছে। কিন্তু তার সেগুলো কিনে খাওয়ার সামর্থ্য নেই। এখন আপনি কী করবেন?
আপনি তো আর সেখান থেকে কোনো খাবার চুরি করে নিবেন না! তাহলে আপনাকে কী করতে হবে? হ্যাঁ, তাহলে আপনাকে অবশ্যই কোনো বিনিময় দিতে হবে এবং খাবার কিনে ক্ষুধার্তকে খাওয়াতে হবে। আপনি যদি তার জন্য খাবারের ব্যবস্থা না করে শুধু ওয়াজ-নসিহত করেন, তাহলে কি কোনো ফায়েদা হবে? না। নিশ্চয় হবে না।
মনে রাখবেন নিশ্চয় বিশ্বজাহানের অধিপতি মহান স্রষ্টা যেখানেই কোনো দরজার কোনো পার্ট বন্ধ করেছেন, সেখানেই তিনি সাথে সাথে আরেকটি পার্ট মেলে ধরেছেন। তিনি যা কিছুই হারাম করেছেন, তার বিপরীতে অন্য একটি জিনিস হালাল করেছেন। যেমন আল্লাহ তায়ালা সুদ-জুয়া অবৈধ বলেছেন; পক্ষান্তরে ব্যবসায়-বাণিজ্য বৈধ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি যেনা নিষিদ্ধ করেছেন পক্ষান্তরে বিয়ের পথ খুলে রেখেছেন। এখন সমাজ যদি হালাল ও বৈধ পন্থার সাথে বয়কট করে, তাহলে যুবক-যুবতিরা হারাম পথে সন্ধির হাত না বাড়িয়ে কী করবে?
রোগ প্রতিরোধের চতুর্থ ধাপ : সমাজবিধ্বংসী যৌনরোগ প্রতিরোধের চতুর্থ ধাপ হলো দেহাবয়বে শক্তি সঞ্চার এবং রোগের পুনরাবৃত্তির পথে বাঁধ নির্মাণ করা। এর জন্য তিনটি জিনিস অপরিহার্য। তাহলো, আল্লাহর ভয়, উত্তম নৈতিকতা এবং উন্নত মানবিক ধারা অনুশীলন।
এই অপরিহার্য তিনটি বিষয় রপ্ত করার জন্য নিয়মিত কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা জরুরি নয়। বরং এক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিক্ষা তথা দীনি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা। মনে রাখতে হবে যে, যার মাঝে থাকবে দীনের প্রতি পূর্ণ আস্থা-বিশ্বাস, যার হৃদয়ের অণুগুলো আল্লাহর স্মরণে থাকবে প্রকম্পিত এবং সৎকাজে আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধের ক্ষেত্রে যে হবে অকুতোভয় তিনিই হন আদর্শ শিক্ষক। কারণ, যে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ভালো কাজে উদ্বুদ্ধ করেন কিন্তু নিজেই এর বরখেলাফ করেন অথবা কথা আর কাজে কোনো সমতা রাখেন না কিংবা তিনি মানুষকে আখেরাতের প্রতি আহ্বান জানান বটে অথচ তিনি নিজেই দুনিয়ামুখী, তাহলে এমন শিক্ষকই হলেন মন্দের উৎসভূমি।
📄 গায়ে হলুদ ও প্রাসঙ্গিক বিষয়
প্রশ্ন : আমি একজন বিত্তশালী ব্যক্তি। আমার কন্যাকে বিবাহ দিব। এজন্য আমি মনস্থ করেছি- ব্যাপক আলোকসজ্জা, সাময়িক পানির ঝরনা ও আলিশান গেট করে বিয়ে বাড়ি সজ্জিত করব। তাছাড়া আমার কন্যার মন প্রফুল্ল রাখার জন্য যদি শুধু মেয়েরা মিলে গায়ে হলুদ অনুষ্ঠান করে তাহলে এগুলো ইসলামের দৃষ্টিতে জায়েয হবে কিনা? তাছাড়া আমি খুশি হয়ে যদি বিবাহের দিন একশত লোককে দাওয়াত করি, তাহলে এই খাবার তাদের জন্য জায়েয হবে কিনা? বিবাহের একদিন অথবা কয়েকদিন পর যদি দুলহাসহ প্রায় পঞ্চাশজন লোক খাওয়ার জন্য আসে এবং আসার সময় তারা সবজি, গোশত, মাছ ইত্যাদি অনেক জিনিস আনে; এসব খাবারকে আমাদের এলাকায় ফিরানি খানা বলে। এটা জায়েয হবে কিনা? দলিল-প্রমাণসহ সমাধান দিয়ে অবগত করাবেন।
জবাব : আমাদের সমাজে বিবাহ-শাদিতে যে গেট দেয়া, নানাভাবে সজ্জিত ও আলোকসজ্জা করা হয় তা নিম্নলিখিত কয়েকটি কারণে নিষেধ-
১. গেট ও আলোকসজ্জা বিবাহের প্রয়োজন বহির্ভূত। তাই অপ্রয়োজনীয় কাজে টাকা-পয়সা খরচ করাকে শরিয়তের পরিভাষায় ইসরাফ তথা অপচয় বলা হয়। অপচয় সম্পর্কে কুরআনুল কারিমে অবতীর্ণ হয়েছে- তোমরা অপব্যয় কর না। তিনি অপব্যয়কারীকে পছন্দ করেন না। [সূরা আরাফ: ৩১] কুরআন মাজিদে আরো ইরশাদ হয়েছে, নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই। শয়তান স্বীয় পালনকর্তার প্রতি অভিশপ্ত, অকৃতজ্ঞ। (সূরা বনি ইসরাঈল: ২৭।
২. গেট দেয়া ও আলোকসজ্জা নিজের অহংকার প্রকাশ এবং লোক দেখানোর অন্তর্ভুক্ত। আর প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য হলো, বিবাহসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে গৌরবময় ও লোক দেখানো কাজ পরিহার করা।
৩. বিবাহ-শাদিতে গেট ও আলোকসজ্জা করার রীতি-নীতি বিজাতীয় কালচার। তাই তা মুসলামানেদের পরিহার করা উচিত। কেননা হাদিসে ইরশাদ হয়েছে- যে যেই সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে সে তাদের মধ্য থেকে গণ্য হবে। [আবু দাউদ: হাদিস নং ৪০০১]
গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের উৎপত্তি হয়েছে প্রাচীন ভারতের হিন্দু সমাজ থেকে। সাধারণত গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানে বরের ভাবী, বোন ও অন্যান্য আত্মীয় এবং তার বান্ধবীরা হলুদ রঙের জামা, কাপড় ও শাড়ি পরে অপরূপা সেজে কনের পিত্রালয়ে গিয়ে থাকে। সেখানে তাকে প্রথা অনুযায়ী হলুদের পানি দ্বারা গোসল দিয়ে আবার সকলে প্রস্থান করে। তাদের সাথে 'গায়ে হলুদ' লেখা একটি কুলাও শোভা পেতে দেখা যায়। এমনকি এলাকাভেদে আরো নানা প্রথার প্রচলনও দেখা যায়। এসব কর্মকাণ্ডের অনুমোদন কোরআন হাদিসের কোথাও নেই। বরং এগুলো হিন্দুদের আবিষ্কৃত কিছু কুসংস্কার। তাই মুসলমানদের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা আদৌ বৈধ নয়। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, যে যেই সম্প্রদায়ের অনুসরণ করবে, সে তাদের মধ্যে গণ্য হবে।
আপনি যে বিবাহের দিন বরপক্ষের একশ জনের খাওয়ার আয়োজন করতে চান এটিও আমাদের সমাজে বিবাহে প্রচলিত হিন্দুয়ানি কুসংস্কারের একটি। একে সমাজের পরিভাষায় বরযাত্রী ভোজন বলা হয়। হুজুরে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম (রা) ও উত্তম তিন সোনালি যুগের কোথাও বিবাহের দিন বরযাত্রীদের খাওয়া দাওয়া (বৈরাত) অর্থাৎ কনের বাড়িতে খাওয়া দাওয়ার কোনো নাম-চিহ্নও পাওয়া যায় না। এজন্য বরযাত্রী ভোজনের আয়োজন করা যাবে না। কেউ যদি খুশিমনে করে, তখনও এ খাবার আয়োজন বিবাহের দিন করা সমীচীন নয়। কারণ এটি বিজাতীয়দের প্রচলিত একটি প্রথা।
অতএব, আপনি নিজের খুশিতে বরপক্ষের একশজন বা কম-বেশ মানুষের খাবারের আয়োজন করতে চাইলে উক্ত কুসংস্কার থেকে বাঁচার জন্য এ আয়োজন বিয়ের দিন না করে বিয়ে অনুষ্ঠানের তিন চারদিন পর করতে পারেন।
আর বরপক্ষ আসার সময় যে সবজি, গোশত ও মাছ ইত্যাদি নিয়ে আসে, যাকে আপনাদের এলাকায় ফিরানি খানা বলে; এটিও একটি কুসংস্কার। এ কুসংস্কার সব জায়গাতে আছে। একেক জেলায় এ কুসংস্কারের নাম ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে।
যাহোক, আপনি এ কুসংস্কার থেকে বাঁচার জন্য বরপক্ষকে আগেই বলে দিতে পারেন যে, ফিরানি খানা বিজাতীয়দের প্রচলিত একটি ক্ষতিকর প্রথা। তাই আমি আশা করি যে, আপনারা এ ধরনের কোনো খানা আমার বাড়িতে আনবেন না।
উল্লেখ্য যে, বিবাহের দিন বরপক্ষ হতে কনে উঠিয়ে নেয়ার জন্য বরসহ তার সঙ্গে তার পিতা, দাদা, চাচা, ভাইবোন ইত্যাদি যে পাঁচ-দশজন স্বাভাবিকভাবে এসে থাকেন, তাদের মেহমানদারি প্রথার অন্তর্ভুক্ত হবে না। [আবু দাউদ: হাদিস নং ৪০৩১, মিশকাতুল মাসাবীহ: ২৫৫, সুনানুন নাসায়ী: হাদিস নং ৫০২৩, ফাতাওয়া মাহমুদিয়া: ১৭/৪০৬, ৩৯৪, ৪৬২] সূত্র: মাসিক মঈনুল ইসলাম: মে ২০১৬।