📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 সব ঘর পুড়ে হবে ছাই

📄 সব ঘর পুড়ে হবে ছাই


আজ এক পত্রলেখকের মেয়ে নষ্টা হয়েছে। সে বাবা-মা কিংবা অভিভাবক কারো কথাই শুনছে না। উল্টো তাকে কিছু বললে সে বলল তার নিজের প্রাণের জন্যই তা হুমকি হয়ে দাঁড়ায়! মনে রাখবেন, আমাদের অবহেলার দরুন এই বিষক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সবদিকে। এর প্রভাব আপনার আমার পর্যন্তও পৌছবে। ঘরে-ঘরে লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়বে। সব ঘর পুড়ে হবে ছাই, হবে ভস্ম।
তবে কি আমরা নীরবে বসে থাকব! সর্বধ্বংসী এ অগ্নি কি নিরোধ করব না! নাকি জ্বলন্ত শিখায় আরও ইন্ধন যোগাতে থাকব!
তাহলে কিভাবে আমরা অগ্নি থেকে রেহাই পাব?
বলুন! জবাব দিন! হে বিবেকবান সম্প্রদায়!
নাকি বিবেকের কপাটে খিল মেরেছি সবাই! বিবেকের লোহার কপাটে কি ঝং ধরেছে?
আসুন সবাই মিলে এই বদ্ধ কপাটের খিল ভেঙে ফেলতে অগ্রসর হই। আসুন, আমাদের দেশ ও জাতিকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই। আসুন কথিত নারীবাদী ও প্রগতির ধ্বজাধারীদের সম্পর্কে সজাগ হই। আসুন সবাই নিজ ছেলেমেয়ের গতিবিধি নিরীক্ষা করি।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 পাগলের মাথা খারাপ

📄 পাগলের মাথা খারাপ


'আল-মুসলিমুন' পত্রিকার তৃতীয় সংখ্যা। এ সংখ্যাটি ছিল একটি বিশেষ সংখ্যা। এতে সমকালীন বেশ কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা করা হয়। এতে আমার একটি প্রবন্ধও গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছিল। সামাজির নানা অপকর্মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রবন্ধটি রচিত হয়েছিল। প্রবন্ধটি পাঠ করে অনেকে লিখে পাঠিয়েছেন যে, বুঝলাম এটি একটি ব্যাধি। কিন্তু এর প্রতিষেধক কী?
হ্যাঁ, আগ্রহোদ্দীপক পাঠকের সেই প্রতিষেধক সম্পর্কেই আজকের কলম ধরা। এক্ষেত্রে এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় যে, প্রতিষেধক আমাদের কাছেই আছে। আমরা অতি সহজেই তা গ্রহণ করতে পারি। অথচ তার খোঁজে, তার অন্বেষায় আমরা দূরদূরান্তে ছুটে চলি।
মানুষের ধারণা প্রান্তিকতায় অবস্থান করে। কারও কারও চিন্তাধারা আধুনিক মানের। তাদের ধারণা হলো, অপকর্ম ওপেন সিক্রেট হয়ে গেলে আর কেউ অপকর্ম করবে না। বিশেষত যুবক-যুবতির জন্যে যৌনদুয়ার অবাধভাবে খুলে দিলে এর প্রতি কারো আর আকর্ষণ থাকবে না। তখন আর এসব অপকর্মও আর হবে না।
কী আজগুবি ধারণা! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মাথা হতে কিভাবে যে এমন অহেতুক ও আজগুবি কল্পনা পয়দা হয়, তা ভাবতেই আমার রক্ত হিম হয়ে আসে। নাকি আমরা সবাই পাগল হয়ে যাচ্ছি। নাকি পাগলের চেয়েও জঘন্য? তাহলে কি পাগলের মাথা খারাপ পর্যায়ে? পশুর মতো প্রকাশ্যে অপকর্মের পথ খুলে দিলেই কি এসব অপকর্ম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব?

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 মহামারি ভাইরাসের প্রতিষেধক

📄 মহামারি ভাইরাসের প্রতিষেধক


তথাকথিত আধুনিক দাবিদার ও কথিত নারীমুক্তির মিছিলকারীরা যুক্তি দেখায় যে, এসব কাজে দমন-পীড়ন ও প্রতিহতকরণ নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে। অপরদিকে পাপাচার থেকে পৃথিবীর কোথাও কোনো কালের মানুষ
মুক্ত থাকুন। তাই নিজেরা গোপনে কাজ সেরে ফেলার চেয়ে বিচারকের কাঠগড়ায় প্রকাশ পাওয়াটাই ভালো।
এ ব্যাপারে তাদের খোঁড়া যুক্তিও কম নয়। তাদের সাফ কথা হলো, ঘরের ময়লা রাখার জন্যে দরজার সামনে ঝুড়ি রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো যেন ময়লাগুলো রুমের মধ্যে ঢুকতে না পারে। এর দ্বারা ঘরের সামনে মোটে ময়লা জমানো কারো উদ্দেশ্য থাকে না। তেমনি এই মৌনপথের শিল খুলে দিলেই শহর-নগর পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।
আবার অনেকের থিওরি এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তাহলো, যুবক-যুবতি সমস্যা নিরসনের একটিই মাত্র পথ রয়েছে। তাহলো, আধুনিকতা পরিহার করে সাধারণ জীবন ধারণে অভ্যস্ত হতে হবে। যুগ ও বাস্তবতার তারা কোনোই তোয়াক্কা করবে না।
এক্ষেত্রে আমার মতামত হলো, এই থিওরিধারীদের মতামতও যথার্থ নয়। কারণ, এ চিন্তাধারায় আকস্মিকতার ভাব রয়েছে। কোনো কাজে সফল হতে চাইলে আকস্মিক বা তরিৎ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কেননা, এই ফেতনা একদিনে ছড়ায়নি; বরং তা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করেছে। ক্রমে ক্রমে নারিরা কামিজ খাটো করেছে; শার্ট কামিজ, অর্ধউলঙ্গ পোশাক পরে আজকের দৃশ্যপটে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
আমি এসব বন্ধুকে বলছি না যে, এখনই আপনাদেরকে সম্পূর্ণ পর্দায় প্রবেশ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, যারা সংস্কার কাজে এগিয়ে আসতে চান, তাদের বলতে চাই যে, চিন্তাচেতনা ও মানসিক ভাবনা জমিন থেকে করতে হবে; মুয়াজ্জিনের আজানখানা থেকে নয়। তাছাড়া সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োগসক্ষম ও বাস্তবমুখী কাজের উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে কোনো মিথ্যাকে যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করতে পারলেই তা সত্য হয়ে যায় না। এমনিভাবে উদাহরণ ধরে ধারণামূলক ছন্দ তৈরি করলেই তা ছন্দময় বলে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই প্রকাশ্যে যৌনদুয়ার খুলে দিয়ে সমস্যা নিরসনের চিন্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এ মহামারি ভাইরাস নিরাময়ে কয়েকটি প্রেসক্রিপশন পেশ করতে চাই। তাহলো-
প্রথমত, মনে রাখবেন যে, চুরি-ডাকাতি ও হত্যার মতো ব্যভিচারও একটা জঘন্য অপরাধ। জগতের কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তিই একে ভালো বলতে পারে না। যদি তথাকথিত যুক্তিবাদীদের যুক্তির আলোকে ব্যভিচারের পথ খোলা রাখা হয়, তাহলে তো চুরি, ডাকাতি কিংবা হত্যার পথও খোলা রাখতে হয়! কারণ মানবসৃষ্টর পর থেকে কোনো কাল, কোনো স্থানেই তো এ অপরাধ গ্রহণযোগ্য নয়।
থেকে মুক্ত থাকেনি। তবুও কেন আমরা প্রতিটি শহরে, প্রতিটি গ্রামে এগুলোর বৈধতার কথা বলি না?
দ্বিতীয়ত, যদি নারীবাদীদের কথামতো ধরে নিই যে, যেনা হত্যার মতো অপরাধ নয়। কারণ, হত্যা উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে হয় না। পক্ষান্তরে যেনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দু'পক্ষের সম্মতির প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। আমি বলব যে, আরে! এ যুক্তির আলোকে তো দেশের প্রতিটি যুবককে ইচ্ছামতো নারীভোগের স্বাধীনতা দিতে হয়! নির্দিষ্ট কোনো মেয়ে কলিমুদ্দির জন্য বৈধ থাকবে; কিন্তু ছলিমুদ্দির জন্যে থাকবে না; এমন হতে পারবে না। তাই প্রতিটি অঞ্চলে পুরুষের সংখ্যানুপাতে ব্যভিচারিণীও বিদ্যমান থাকতে হবে। বাস্তবে কি আদৌ কোনো মানবসমাজ এটি গ্রহণ করে নিবে? অতএব, একথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, এই খোঁড়া যুক্তিবাদীদের মতলব খারাপ!
ধরে নিই যে, মিসরের রাজধানী কায়রো শহরে যদি আড়াই মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। পাশাপাশি যদি কথিত যুক্তিবাদীদের কথায় মেনে নিই যে, যৌনদুয়ার খুলে দিতে হবে; তাহলে তো তাদের মধ্যে অন্তত চার লাখ পুরুষ আছে। এই পুরুষদের জন্যে চল্লিশ হাজার অসতী নারী থাকাও কি জরুরি নয়? কোনো ভদ্র মানুষ কি দাবি করতে পারে যে, কায়রোতে চল্লিশ হাজার এ জাতীয় নারীর অস্তিত্ব থাকবে?
আমরা এই সংখ্যা যোগাব কোত্থেকে? চল্লিশ হাজার পরিবারকে অপদস্থ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থায় এই সংখ্যা কি পূরণ করা সম্ভব? তবে কি আমরা সেই জাতির অনুসরণে প্রবৃত্ত হব, যারা অপকর্মের প্লাবনে দৈহিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত? তাদের কাছে কি নিজেদের মান-মর্যাদা, গর্ব-অহমিকা বিলীন করে দেব?
তৃতীয়ত. যদি কথিত আধুনিক দাবিদার নারীবাদী ও প্রগতির ঢেঁকিদের মতের সাথে একমত হয়ে উল্লিখিত সংখ্যা পূরণ কোনোভাবে সম্ভবপরও হয়, তাহলে এই কর্ম আয়োজনে যুবকরা বিবাহের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়বে। সাংসারিক জীবনে ধস নেমে আসবে। ঘরের কন্যারা বিয়ে ছাড়া নিঃসঙ্গ জীবন কাটাবে।
কথা হলো, এই ব্যভিচারিণীদের নিয়ে আমরা কী করব? আমরা কি আশ্রয়কেন্দ্র বা উপাসনার দ্বার খুলে দেব, যেখানে তাদের ফেলে আসব? এরপর কি তারা আগন্তুক, পথচারী, পাদ্রী ও সংসারত্যাগীদের ভোগ-
প্রয়োজন মেটাবে? অথবা নির্দিষ্ট স্থানে পুরুষের বাজার বসানো হবে, যেখান থেকে নারীরা যৌনক্ষুধা নিবরণ করতে পারবে?
প্লিজ, আপনারা এই বিবরণকে ভিন্ন চোখে পর্যালোচনা করবেন না। কারণ, যে রোগ ধরিয়ে দেয় এবং সেই মতে প্রেসক্রিপশন দেয়, দোষ তার নয়; বরং অপরাধ হলো ব্যাধির।
আমার এই বর্ণনা যদি কারো কাছে অতৃপ্তিকর মনে হয়, তাহলে বাস্তব ঘটনা ও বর্ণনাগুলো অবশ্যই আরও বিরক্তিকর হওয়ার কথা।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 জৈবিক রোগ প্রতিরোধের ধাপ-উপধাপ

📄 জৈবিক রোগ প্রতিরোধের ধাপ-উপধাপ


এবার আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন যে, যদি যৌনদুয়ার ওপেন রাখতে আপনাদের আপত্তি হয়, তাহলে আপনার কাছে এর প্রতিরোধক কী? জবাবে আমি নিঃসঙ্কোচে বলব যে, এই জৈবিক ব্যাধি প্রতিরোধের কয়েকটি ধাপ-উপধাপ রয়েছে। কারণ, বর্তমান সমাজ 'রোগ-ব্যাধির' ছড়াছড়িতে পচা ঘায়ের মতো নির্দয়-নিষ্ঠুর হয়ে পড়েছে। এজন্যে প্রথম ধাপে রোগ প্রতিরোধ, দ্বিতীয় ধাপে পুনরাবৃত্তি প্রতিহত, তৃতীয় ধাপে ব্যাধি সুস্থকরণ এবং চতুর্থ ধাপে দৈহিক শক্তি অর্জন ও রক্ষণের মাধ্যমে পুনরাবৃত্তির পথ রোধ করতে হবে।
রোগ প্রতিরোধের প্রথম ধাপ: যৌনরোগ প্রতিরোধ একদিনেই সম্ভব নয়। এর জন্য কয়েকটি ধাপ-উপধাপ অতিক্রম করতে হবে। এ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনার অবতারণা করছি। প্রথমত এর জন্য শান্তিরক্ষী বাহিনীর নৈতিক উন্নতি ও চারিত্রিক অগ্রগতি সাধন করতে হবে। কারণ, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর সর্বপ্রথম পুলিশের আশ্রয় নেয়া হয়। কোনো এলাকায় যদি পুলিশ না থাকে অথবা কারও নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ার কারণে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে অপরাধ এবং অপরাধীকে রোধ করার কেউই থাকবে না।
আমার কাছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষী বাহিনীর অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, এমন অনেক অপরাধী আছে, যাদের অপরাধের ধরন ও সেই অপরাধীর পূর্ণ পরিচয় জানেন। কিন্তু তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার সাংবিধানিক কোনো সুযোগ নেই। সাংবিধানিক পদক্ষেপ নেয়ার মতো কোনো আইন না থাকার কারণে এসবের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থাগ্রহণ করতে পারেন না। কখনও নষ্টা নারী সরাসরি ধরা পড়লেও কিছু বলার সুযোগ থাকে না। উল্টো তাদের
ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন বিধান। তাহলো, এসব অপরাধী রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লে তাদের সুস্থতার জন্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।
কথা হলো, এই ব্যভিচারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক আইনি সুযোগ না রেখে উল্টো তাদেরকে সুস্থ করার আইন সংবিধানে থাকবে কেন? তাহলে সুস্থ হয়ে যেন তারা পুনরায় ব্যভিচারে লিপ্ত হতে পারে সেজন্যেই? এই অপকর্মগুলো মূলত বিভিন্ন শক্তি, ব্যক্তি, সংগঠন ও সংবিধানের অধীনে হয়ে থাকে।
একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বটা বেশ জটিল ও কঠিন। কারণ, তাদের একদিকে থাকে সম্পদ ও সৌন্দর্যের প্রলোভন, অপরদিকে সিদ্দীকীন, শুহাদা ও সালিহীনের ধৈর্য ও ঈমানি জযবা। এ কারণে কর্তব্য হলো, অভিজ্ঞ, বয়োবৃদ্ধ, ধার্মিক ও চরিত্রবান ব্যক্তিবর্গকে নিয়োগ দেয়া এবং বেতন ছাড়াও তাদেরকে ভিন্ন অনুদান প্রদান করা। যখন তারা এই অর্থ গ্রহণ করবে, তখন তাদের শক্তি-সাহস প্রবলভাবে বৃদ্ধি পাবে।
যেহেতু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো কোনো অসৎ সদস্যের ছত্রছায়ায় অপরাধকর্ম হয়ে থাকে আবার অপরাধ প্রতিরোধের ক্ষমতাও তাদের হাতে, তাই এমতাবস্থায় বেতনের বাইরে বড় একটা অঙ্ক হাতে এলে প্রচলিত আইন বাস্তবায়নে তারা পিছপা হতে পারবে না। পক্ষান্তরে তাদের অর্থনৈতিক অভাবেই তাদের স্বভাব নষ্টের দিকে ধাবিত করে দেয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হলো একটি গোপন অপরাধ কর্মের বিরুদ্ধে শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা। এর আওতায় যাবতীয় অন্যায়-অপরাধ রোধ এবং উৎস থেকে মূলোৎপাটন করা সম্ভব।
একটি বিষয় মনে রাখতে হবে যে, অপরাধীরা সম্ভ্রান্তদের মাঝে আত্মগোপন করে থাকে। নষ্টা নারীরা বিভিন্ন রুচিশীল পোশাক পরে নানা স্টাইলে পরিবেশিত হয়। রাতে অন্ধকারে অসৎ উদ্দেশ্যে গাড়িতে করে নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয় তাদের। তাদেরকে জৈবিক চাহিদা পূরণের কাজে ব্যবহৃত হয়। অনেক সময় সতী-সাধ্বী নারীর বেশও ধারণ করে তারা। দেখলে মনে হবে, বড় কোনো সরকারি কর্মকর্তা কিংবা অভিজাত শ্রেণির অথবা কোনো ধার্মিক যুবতি! অথচ এই পোশাকের আড়ালে সে একজন পেশাজীবী দেহ ব্যবসায়ী বৈ কিছু নয়।
এক্ষেত্রে আবশ্যিকভাবে করণীয় হলো এ সমস্ত গোপন দুরাচারীদের উচ্ছেদ করা। এখানে কোনো ধরনের শৈথিল্য এবং কারও সুপারিশ বা অনুরোধ গ্রহণ করা কোনোক্রমেই উচিত নয়।
এই তিনটি প্রক্রিয়ায় রোগ প্রতিরোধ করা যেতে পার।
রোগ প্রতিরোধের দ্বিতীয় ধাপ: যৌনরোগ প্রতিরোধের দ্বিতীয় ধাপ হলো অপরাধ পুনরাবৃত্তি প্রতিহতকরণ। এই ধাপটি বাস্তবায়ন করতে হলে নষ্টা নারী ও অপরাধকর্মে সহায়তাকারীদের আইনের আওতায় এনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ প্রসঙ্গে চলচ্চিত্র প্রসঙ্গটির কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। পৃথিবীর সব দেশেই চলচ্চিত্রের অনুষ্ঠান প্রদর্শিত হয়; তবে তা হয়ে থাকে সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীনে এবং তাদের অনুমতিক্রমে। ছোট-বড় এবং যুবক-বৃদ্ধ সবার জন্যে আলাদা-আলাদা প্রোগ্রাম পরিবেশন করা হয়। কিন্তু আমরা ছোট-বড়, যুবক-বৃদ্ধের মাঝে কোনো তফাৎ রাখি না। একই অনুষ্ঠান সবার জন্যে প্রচার করা হয়। যে কারণে আমাদের নৈতিক উন্নতি ও পৌরুষ বিকাশের পথে রুদ্ধ হয়ে পড়ে।
প্রশ্ন হলো, আমরা কেন ফিরিঙ্গি জাতির ভালো দিকগুলো অনুকরণ না করে কেবল মন্দ দিকগুলোর অনুসরণ করে যাই?
মূলত এই সিনেমাই হলো সমস্ত অনিষ্টের মূল এবং ফেতনার উৎস। দ্বিতীয়ত, এই ধাপেরই আরেক উপ-ধাপ হলো নগ্ন উপন্যাস এবং দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক ও মাসিক ম্যাগাজিনে নারীদের অশোভন চিত্র ও চরিত্র প্রকাশ হওয়া।
এ ব্যাপারে কোনো পর্যবেক্ষণ বা নিয়ন্ত্রণ করা হয় না। সরকারি-বেসরকারি আলেম-ওলামা কেউই এ ব্যাপারে জোরালো প্রতিবাদ জানায় না। অথচ যারা ধর্মীয় চিন্তাবিদ, উচ্চপদস্থ লেখক এবং শিক্ষা-অধ্যাপনায় নিয়োজিত, তাদের তো অবশ্যই এ সমস্ত অপকর্মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত ছিল।
এ নোংরা উপন্যাসগুলো যুবক-যুবতির চরিত্রে পচন ধরিয়েছে। তাদের দেহে অপ্রতিরোধ্য ভাইরাস পাচার করেছে। এগুলো তাদের মাঝে দীনি বোধশক্তি ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি বিলুপ্ত করে দিয়েছে।
ইদানীং পত্রিকার সম্পাদক ও বিভাগীয় সম্পাদকরা ম্যাগাজিনগুলোতে নগ্ন ছবি ফলাও করে ছাপিয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, কোন পত্রিকা বেশি
খোলামেলা নগ্নছবি প্রকাশ করতে পারে, তা নিয়ে দস্তুরমতো প্রতিযোগিতা হয়ে থাকে। এসবের অপথাবায় জাতির যে অধঃপতন হয়েছে, ইতোপূর্বে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডেও তা সম্ভবপর হয়নি। কোনো সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদও দেশ ও জাতিকে এতটা ক্ষতি করতে পারেনি।
রোগ প্রতিরোধের তৃতীয় ধাপ: সামাজিক অবক্ষয় রোধ ও যৌন মহামারি রোধ করার তৃতীয় ধাপ বোঝার আগে কিছু বিষয়ের অবতারণা করা অপরিহার্য মনে করছি। তাহলো, সড়কে, পথেঘাটে উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ নারীর ছবি দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানি বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকে। তাছাড়া অশালীনভাবে পর্দা ছাড়া নারীরা রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। তাদের হাঁটু, হাতের বাহু, বুক-পিঠ, নিতম্বের দিক প্রায় খোলাই থাকে। অথচ ধর্মীয় রীতিনীতি, মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এবং উন্নত সভ্যতা এসব পোশাক কোনোভাবেই সমর্থন করে না। পরিতাপের বিষয় হলো, তা সত্ত্বেও এসব নোংরা পোশাককেই আমাদের আধুনিক দাবিদাররা প্রগতির ধারক মনে করে থাকে।
আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তথাকথিত আধুনিকতার ছোঁয়া মহামারি আকার ধারণ করে চলেছে। নগ্ন অপরাধ এমনভাবে সমাজদেহের সাথে মিশে গেছে যে, এখন এগুলোকে কেউ অপরাধ মনে করে না। দিন দিন এর প্রচারকার্য এমনভাবে বেড়ে চলেছে যে, এখন দেশের মিডিয়াগুলোর অর্থনৈতিক আয়ের প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব নোংরা চিত্র আর নোংরা ছবির প্রদর্শন।
অবস্থার বাস্তবতায় এ কথা বলা অত্যুক্তি হবে না যে, নগ্ন অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজার কর্মী সংগ্রহ করি কিংবা আমরা যদি অন্যায় প্রতিরোধে সর্বোচ্চ শাস্তিবিধানও প্রণয়ন করি; তথাপি আশানুরূপ ফল লাভ করা সম্ভব হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত এই নষ্টা নারী ও নগ্ন প্রচার রোধ করা না হবে ততক্ষণ কপাল থাপড়ালেও কোনো লাভের মুখ দেখার আশা করা উলুবনে মুক্তা ছড়ানোর মতোই হাস্যকর হয়ে দাঁড়াবে।
অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, আমাদের কর্মসূচি হলো- একদিকে ঘর পরিষ্কার করব, অপরদিকে ছাদের ছিদ্র দিয়ে বালু পড়তে থাকবে। আমাদের আরো দুঃখজনক অবস্থা হলো, কেউ রোগাক্রান্ত হলে সেবা-সহযোগিতায় এগিয়ে আসব বটে; কিন্তু ভিন্ন দিকে রোগের আগমনপথও সুরক্ষিত রাখতে কসুর করব না!
তাই আমি সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই যে, এই রোগের প্রতিরোধ এবং মূল থেকে উৎপাটনের একটাই মাত্র পথ রয়েছে। তা হচ্ছে যুবক-যুবতির বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00