📄 সব ধর্মই নারীকে শালীন হওয়ার শিক্ষা দেয়
আল্লাহর কসম! ইসলাম ধর্ম, খ্রিস্টধর্ম এবং পৃথিবীর সব ধর্মই নারীদের অঙ্গ ঢেকে রাখার নির্দেশ দেয়। যেখানে ফেতনার আশঙ্কা আছে, সেখানে দেহ প্রকাশ অবৈধ বলে ঘোষণা দেয়।
আমি সিরিয়ার এক গির্জায় নারীসংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে দেখেছি, যারা সেখানে উপাসনায় গমন করবে, তাদের মাথার চুল লম্বা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং চেহারায় কোনো ধরনের পালিশ করা যাবে না। অথচ আজ মোড়ে মোড়ে গড়ে ওঠেছে বিউটি পার্লার। শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরুষদেরকে স্মার্ট করে তোলার জন্যও আছে জেন্টস পার্লার। এতে এ কথা প্রতীয়মান হয় যে, আমাদের যুবক-যুবতিরা কোনো ধর্মের অনুশাসনই মানে না। তা না হলে তো অন্তত যে কোনো ধর্মের আদেশ মেনে নিলেই এভাবে খোলামেলা বিচরণ সম্ভব হতো না।
আমারা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ করছি যে, ধীরে ধীরে নারীদের পোশাক একেক আঙুল করে ছোট হচ্ছে। আর যখন তারা সমুদ্রতীরে ভ্রমণে বের হয়, তখন দেহে কখনো এক টুকরো বিকিনি থাকে কিংবা কোনো পোশাকই থাকে না। এই হলো যুগের হাল। তাহলে বলুন তো, যুবক-যুবতির অপরাধ কোথায়?
একজন যুবকের হৃদয়ে যৌনচাহিদা প্রবলভাবে উপলব্ধি হয়। কিন্তু সে বিয়ের সব পথ রুদ্ধ পায়। পক্ষান্তরে ব্যভিচারের সদর দরজা দেখে খোলা। ফলে তার কাছে যৌনসম্ভোগ বড়ই স্বাদের অনুভূত হয়। আর ব্যভিচারিণীরাও থাকে সবখানে হাজির। তাহলে একজন যুবক আর কিভাবে নিজেকে সামাল দিতে পারবে? কিভাবে পুস্তক অধ্যয়নে মনোযোগ বসাতে সমর্থ হবে?
এটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা। এর প্রতিবিধানে প্রশাসন, সংগঠন, জ্ঞানসাধক, কলম চর্চাকারী এবং বৃহত্তর নারীগোষ্ঠীর উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
আমাদের সমাজে অসংখ্য নারী নির্যাতনের শিকার। অবলা নারীরা নিষ্ঠুরভাবে বলি হচ্ছে। সবাই একযোগে বিহিত ব্যবস্থাগ্রহণ করলে এ সমস্ত মজলুম নারীর পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব।
📄 সব ঘর পুড়ে হবে ছাই
আজ এক পত্রলেখকের মেয়ে নষ্টা হয়েছে। সে বাবা-মা কিংবা অভিভাবক কারো কথাই শুনছে না। উল্টো তাকে কিছু বললে সে বলল তার নিজের প্রাণের জন্যই তা হুমকি হয়ে দাঁড়ায়! মনে রাখবেন, আমাদের অবহেলার দরুন এই বিষক্রিয়া দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে সবদিকে। এর প্রভাব আপনার আমার পর্যন্তও পৌছবে। ঘরে-ঘরে লেলিহান শিখার মতো ছড়িয়ে পড়বে। সব ঘর পুড়ে হবে ছাই, হবে ভস্ম।
তবে কি আমরা নীরবে বসে থাকব! সর্বধ্বংসী এ অগ্নি কি নিরোধ করব না! নাকি জ্বলন্ত শিখায় আরও ইন্ধন যোগাতে থাকব!
তাহলে কিভাবে আমরা অগ্নি থেকে রেহাই পাব?
বলুন! জবাব দিন! হে বিবেকবান সম্প্রদায়!
নাকি বিবেকের কপাটে খিল মেরেছি সবাই! বিবেকের লোহার কপাটে কি ঝং ধরেছে?
আসুন সবাই মিলে এই বদ্ধ কপাটের খিল ভেঙে ফেলতে অগ্রসর হই। আসুন, আমাদের দেশ ও জাতিকে রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই। আসুন কথিত নারীবাদী ও প্রগতির ধ্বজাধারীদের সম্পর্কে সজাগ হই। আসুন সবাই নিজ ছেলেমেয়ের গতিবিধি নিরীক্ষা করি।
📄 পাগলের মাথা খারাপ
'আল-মুসলিমুন' পত্রিকার তৃতীয় সংখ্যা। এ সংখ্যাটি ছিল একটি বিশেষ সংখ্যা। এতে সমকালীন বেশ কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা করা হয়। এতে আমার একটি প্রবন্ধও গুরুত্বের সাথে ছাপা হয়েছিল। সামাজির নানা অপকর্মের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রবন্ধটি রচিত হয়েছিল। প্রবন্ধটি পাঠ করে অনেকে লিখে পাঠিয়েছেন যে, বুঝলাম এটি একটি ব্যাধি। কিন্তু এর প্রতিষেধক কী?
হ্যাঁ, আগ্রহোদ্দীপক পাঠকের সেই প্রতিষেধক সম্পর্কেই আজকের কলম ধরা। এক্ষেত্রে এক কথায় বলতে গেলে বলতে হয় যে, প্রতিষেধক আমাদের কাছেই আছে। আমরা অতি সহজেই তা গ্রহণ করতে পারি। অথচ তার খোঁজে, তার অন্বেষায় আমরা দূরদূরান্তে ছুটে চলি।
মানুষের ধারণা প্রান্তিকতায় অবস্থান করে। কারও কারও চিন্তাধারা আধুনিক মানের। তাদের ধারণা হলো, অপকর্ম ওপেন সিক্রেট হয়ে গেলে আর কেউ অপকর্ম করবে না। বিশেষত যুবক-যুবতির জন্যে যৌনদুয়ার অবাধভাবে খুলে দিলে এর প্রতি কারো আর আকর্ষণ থাকবে না। তখন আর এসব অপকর্মও আর হবে না।
কী আজগুবি ধারণা! পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষের মাথা হতে কিভাবে যে এমন অহেতুক ও আজগুবি কল্পনা পয়দা হয়, তা ভাবতেই আমার রক্ত হিম হয়ে আসে। নাকি আমরা সবাই পাগল হয়ে যাচ্ছি। নাকি পাগলের চেয়েও জঘন্য? তাহলে কি পাগলের মাথা খারাপ পর্যায়ে? পশুর মতো প্রকাশ্যে অপকর্মের পথ খুলে দিলেই কি এসব অপকর্ম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব?
📄 মহামারি ভাইরাসের প্রতিষেধক
তথাকথিত আধুনিক দাবিদার ও কথিত নারীমুক্তির মিছিলকারীরা যুক্তি দেখায় যে, এসব কাজে দমন-পীড়ন ও প্রতিহতকরণ নতুন সমস্যার সৃষ্টি করে। অপরদিকে পাপাচার থেকে পৃথিবীর কোথাও কোনো কালের মানুষ
মুক্ত থাকুন। তাই নিজেরা গোপনে কাজ সেরে ফেলার চেয়ে বিচারকের কাঠগড়ায় প্রকাশ পাওয়াটাই ভালো।
এ ব্যাপারে তাদের খোঁড়া যুক্তিও কম নয়। তাদের সাফ কথা হলো, ঘরের ময়লা রাখার জন্যে দরজার সামনে ঝুড়ি রাখা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো যেন ময়লাগুলো রুমের মধ্যে ঢুকতে না পারে। এর দ্বারা ঘরের সামনে মোটে ময়লা জমানো কারো উদ্দেশ্য থাকে না। তেমনি এই মৌনপথের শিল খুলে দিলেই শহর-নগর পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।
আবার অনেকের থিওরি এর সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তাহলো, যুবক-যুবতি সমস্যা নিরসনের একটিই মাত্র পথ রয়েছে। তাহলো, আধুনিকতা পরিহার করে সাধারণ জীবন ধারণে অভ্যস্ত হতে হবে। যুগ ও বাস্তবতার তারা কোনোই তোয়াক্কা করবে না।
এক্ষেত্রে আমার মতামত হলো, এই থিওরিধারীদের মতামতও যথার্থ নয়। কারণ, এ চিন্তাধারায় আকস্মিকতার ভাব রয়েছে। কোনো কাজে সফল হতে চাইলে আকস্মিক বা তরিৎ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কেননা, এই ফেতনা একদিনে ছড়ায়নি; বরং তা ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করেছে। ক্রমে ক্রমে নারিরা কামিজ খাটো করেছে; শার্ট কামিজ, অর্ধউলঙ্গ পোশাক পরে আজকের দৃশ্যপটে আমাদের সামনে উপস্থাপিত হয়েছে।
আমি এসব বন্ধুকে বলছি না যে, এখনই আপনাদেরকে সম্পূর্ণ পর্দায় প্রবেশ করতে হবে। তবে হ্যাঁ, যারা সংস্কার কাজে এগিয়ে আসতে চান, তাদের বলতে চাই যে, চিন্তাচেতনা ও মানসিক ভাবনা জমিন থেকে করতে হবে; মুয়াজ্জিনের আজানখানা থেকে নয়। তাছাড়া সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োগসক্ষম ও বাস্তবমুখী কাজের উদ্যোগ নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে কোনো মিথ্যাকে যুক্তি দিয়ে উপস্থাপন করতে পারলেই তা সত্য হয়ে যায় না। এমনিভাবে উদাহরণ ধরে ধারণামূলক ছন্দ তৈরি করলেই তা ছন্দময় বলে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তাই প্রকাশ্যে যৌনদুয়ার খুলে দিয়ে সমস্যা নিরসনের চিন্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমি এ মহামারি ভাইরাস নিরাময়ে কয়েকটি প্রেসক্রিপশন পেশ করতে চাই। তাহলো-
প্রথমত, মনে রাখবেন যে, চুরি-ডাকাতি ও হত্যার মতো ব্যভিচারও একটা জঘন্য অপরাধ। জগতের কোনো জ্ঞানবান ব্যক্তিই একে ভালো বলতে পারে না। যদি তথাকথিত যুক্তিবাদীদের যুক্তির আলোকে ব্যভিচারের পথ খোলা রাখা হয়, তাহলে তো চুরি, ডাকাতি কিংবা হত্যার পথও খোলা রাখতে হয়! কারণ মানবসৃষ্টর পর থেকে কোনো কাল, কোনো স্থানেই তো এ অপরাধ গ্রহণযোগ্য নয়।
থেকে মুক্ত থাকেনি। তবুও কেন আমরা প্রতিটি শহরে, প্রতিটি গ্রামে এগুলোর বৈধতার কথা বলি না?
দ্বিতীয়ত, যদি নারীবাদীদের কথামতো ধরে নিই যে, যেনা হত্যার মতো অপরাধ নয়। কারণ, হত্যা উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে হয় না। পক্ষান্তরে যেনা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দু'পক্ষের সম্মতির প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। আমি বলব যে, আরে! এ যুক্তির আলোকে তো দেশের প্রতিটি যুবককে ইচ্ছামতো নারীভোগের স্বাধীনতা দিতে হয়! নির্দিষ্ট কোনো মেয়ে কলিমুদ্দির জন্য বৈধ থাকবে; কিন্তু ছলিমুদ্দির জন্যে থাকবে না; এমন হতে পারবে না। তাই প্রতিটি অঞ্চলে পুরুষের সংখ্যানুপাতে ব্যভিচারিণীও বিদ্যমান থাকতে হবে। বাস্তবে কি আদৌ কোনো মানবসমাজ এটি গ্রহণ করে নিবে? অতএব, একথা সন্দেহাতীতভাবেই বলা যায় যে, এই খোঁড়া যুক্তিবাদীদের মতলব খারাপ!
ধরে নিই যে, মিসরের রাজধানী কায়রো শহরে যদি আড়াই মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে। পাশাপাশি যদি কথিত যুক্তিবাদীদের কথায় মেনে নিই যে, যৌনদুয়ার খুলে দিতে হবে; তাহলে তো তাদের মধ্যে অন্তত চার লাখ পুরুষ আছে। এই পুরুষদের জন্যে চল্লিশ হাজার অসতী নারী থাকাও কি জরুরি নয়? কোনো ভদ্র মানুষ কি দাবি করতে পারে যে, কায়রোতে চল্লিশ হাজার এ জাতীয় নারীর অস্তিত্ব থাকবে?
আমরা এই সংখ্যা যোগাব কোত্থেকে? চল্লিশ হাজার পরিবারকে অপদস্থ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থায় এই সংখ্যা কি পূরণ করা সম্ভব? তবে কি আমরা সেই জাতির অনুসরণে প্রবৃত্ত হব, যারা অপকর্মের প্লাবনে দৈহিক ও মানসিক রোগে আক্রান্ত? তাদের কাছে কি নিজেদের মান-মর্যাদা, গর্ব-অহমিকা বিলীন করে দেব?
তৃতীয়ত. যদি কথিত আধুনিক দাবিদার নারীবাদী ও প্রগতির ঢেঁকিদের মতের সাথে একমত হয়ে উল্লিখিত সংখ্যা পূরণ কোনোভাবে সম্ভবপরও হয়, তাহলে এই কর্ম আয়োজনে যুবকরা বিবাহের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়বে। সাংসারিক জীবনে ধস নেমে আসবে। ঘরের কন্যারা বিয়ে ছাড়া নিঃসঙ্গ জীবন কাটাবে।
কথা হলো, এই ব্যভিচারিণীদের নিয়ে আমরা কী করব? আমরা কি আশ্রয়কেন্দ্র বা উপাসনার দ্বার খুলে দেব, যেখানে তাদের ফেলে আসব? এরপর কি তারা আগন্তুক, পথচারী, পাদ্রী ও সংসারত্যাগীদের ভোগ-
প্রয়োজন মেটাবে? অথবা নির্দিষ্ট স্থানে পুরুষের বাজার বসানো হবে, যেখান থেকে নারীরা যৌনক্ষুধা নিবরণ করতে পারবে?
প্লিজ, আপনারা এই বিবরণকে ভিন্ন চোখে পর্যালোচনা করবেন না। কারণ, যে রোগ ধরিয়ে দেয় এবং সেই মতে প্রেসক্রিপশন দেয়, দোষ তার নয়; বরং অপরাধ হলো ব্যাধির।
আমার এই বর্ণনা যদি কারো কাছে অতৃপ্তিকর মনে হয়, তাহলে বাস্তব ঘটনা ও বর্ণনাগুলো অবশ্যই আরও বিরক্তিকর হওয়ার কথা।