📄 নারীর ‘লেট ম্যারিজ’ এর সমস্যা
লেট ম্যারিজ তথা দেরিতে বিবাহের কারণে নারীরা সাধারণত যে ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হয় তাহলো-
১. যৌন চাহিদা হ্রাস পায়: নারীরা দেরিতে বিয়ে করার ফলে যে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন তাহলো, Miscarriage (loss of an embryo or fetus before the 20th week of pregnancy). একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের বয়স ২০-২৫ তাদের Miscarriage এর ঝুঁকি হলো ১০ পার্সেন্ট, যাদের বয়স ২৬-৩০ তাদের ২০ পার্সেন্ট।
২. সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যায় : নারীদের 'Fertility rate' (সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা) বয়স বাড়ার সাথে সাথে হ্রাস পায়। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের 'Infertility rate' বাড়তে থাকে। তার মানে ২০-২৫ বয়সের নারী যতটুকু Fertile, ২৬-৩০ বয়সের নারীরা তত Fertile হবে না। বেশিরভাগ নারীর 'Fertility rate' সর্বোচ্চ হয় ২৪ বছর বয়সে। আর এজন্য নারীদের 'Fertility rate' যখন উপরে উঠতে থাকে মানে তখন তাদের বিয়ে করার সবচেয়ে ভালো সময় হয়। অর্থাৎ যখন তাদের বয়স ১৭-২৪ হয়। তাছাড়া নারীদের এই সময় কনসিভ করাও সহজ। কারণ এই সময়ে তাদের ব্লাড প্রেসারের ঝামেলা, ডায়াবেটিস এবং Gynecological সমস্যা যেমন Fibroids, endometrisis এর আশঙ্কা কম থাকে।
৩. স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে: কোনো নারী যদি দ্রুত সন্তান নিতে পারে তাহলে তার ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক কমে যায়। কারণ প্রেগনেন্সি হরমোনগুলো Cancer-preventive Drugs এর মতো কাজ করে। Florence Williams তার বই Breasts এ উল্লেখ করেছেন-
'A woman who has her first child before age twenty has about half the lifetime risk of breast cancer as a nonmother or a mother who waits until her thirties to have children.'
৪. ডিম্বানুর কোয়ালিটি খারাপ হয়: বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের ডিম্বানুর Quality খারাপ হতে থাকে। এ সম্পর্কে Connie Matthiessen বলেন, "As you get older, your ovaries age along with the rest of your body, and your eggs become less viable. For that reason, younger women's eggs are less likely than older women's to have
genetic abnormalities that result in Down syndrome and other birth defects."
অথচ বর্তমানে অনেক নারীকে দেখা যায়, পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় প্রভাবিত হয়ে ২৬-২৭ বছরে বিয়ে করে এবং কনসিভ করতে করতে বয়স গিয়ে দাঁড়ায় ত্রিশের কোটায়। এ কারণেই মানবসমাজের একটা বিরাট অংশ আজকে জেনেটিক্যালি দুর্বল হচ্ছে। তারা ফিজিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল দিক থেকে দুর্বল হচ্ছে।
নারীদের মনে রাখা উচিত যে, সুস্থ ও সবল মানবশিশু জন্মদানে তাদের ভূমিকাই বেশি। বর্তমানে দেরি করে সন্তান নেয়ার প্রবণতার ফলে যেসব অসুবিধা পৃথিবীতে দেখা যাচ্ছে তা এক কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন The New Republic এর science editor Judith Shulevitz। তিনি বলেন- "For we are bringing fewer children into the world and producing a generation that will be subtly different phenotypically and biochemically different, as one study I read put it from previous generations."
৫. Aging সমস্যা : মনে রাখতে হবে যে, Aging হলো একটা রিস্ক ফ্যাক্টর। Aging ছাড়াও আরও আছে ফ্যাক্টর। যার কারণে সেক্সুয়াল কমপ্লিকেশন দেখা যেতে পারে। যেমন- Smoking, Medication, Obesity, Stressete কারণে সেক্সুয়াল প্রবলেম দেখা যেতে পারে। যদি কারো মাঝে একাধিক ফ্যাক্টর উপস্থিত থাকে তাহলে সেক্সুয়াল প্রবলেমের প্রতি তার Vulnerabilityl বাড়বে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর সম্পর্কে সচেতন থাকলেও Aging এর বিষয়টা ইগনোর করে যাচ্ছি।
মূলত দেরিতে বিয়ে করার শারীরিক অপকারিতার থেকে আত্মিক অপকারিতা বেশি। আমি প্রকৃতপক্ষে ইসলামের আলোকে লেখাটি লিখিনি; বরং আমি এই লেখাটি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি যে, এই পুঁজিবাদী সমাজ একটা জাহেলি সমাজ। এই সমাজ না বিজ্ঞান মানছে, না ইসলাম মানছে। মুসলিমরা জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় বিজ্ঞানকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয় না, সিদ্ধান্ত নেয় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি সামনে রেখে। আর এজন্যেই অনেক মুসলিম নিজেকে পবিত্র রাখার জন্য দ্রুত বিয়ে করতে চায়। কিন্তু এই পুঁজিবাদী সমাজ তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। তাই আমাদের সবারই উচিত দেরি করে বিয়ে করার আত্মিক ও শারীরিক - অপকারিতা সমাজের সামনে তুলে ধরা। -অনুবাদক
তথ্যসূত্র: 1.http://www.webmd.com/.../age-raises-infertility-risk-in-men-t... 2.http://www.theguardian.com/society/2008/../07/health.children 3.http://www.webmd.com/..Jage-raises-infertility-risk-in-men-t... 4.http://www.soc.ucsb.edu/../article/aging-and-sexual-response... 5.http://www.askmen.com/dai..Jaustin_150/155_fashion_style.html 6.http://antiguaobserver.com/your-sexual-health-the-refracto.. 7.Seminars in Reproductive Endocrinology Volume 9, Number 3, August 1991Sherman J. Silber, M.D. 8.Human Reproduction Update, 2004[৮]) The Guardian 9.http://www.babycenter.com/0_age-and-fertility-getting-pregn... 10.Breasts by Florence Williams 11.http://www.catholicworldreport.com/../should_we_bring_back_y...
📄 প্রেম-পিয়াসি যুবক যুবতির ভ্রান্ত বিশ্বাস
তারুণ্য যুবক যুবতিদের জন্যে যেমন আশির্বাদ তেমনি তা তাদের জন্য কালসাপস্বরূপ। যুবক যুবতিদের আল্লাহভীতি যেমন তাদেরকে ফেরেশতার মানে উন্নীত করে তেমনি এ সময়ের পদস্খলন তাদেরকে অধঃপতনের অতল গহ্বরের দিকেই বেশি তাড়িয়ে ফেরে। কিছু কিছু যুবক যুবতি এমন আছে, যাদের কাছে কোনো নীতি আদর্শের কথাই ছোঁয়ানো যায় না। তাদের কাছে ইসলামের কথা, কুরআন হাদিসের কথা কিংবা জাহান্নামের শাস্তির কথা বললে উল্টো তারা একগাদা শুনিয়ে দেয়ার জন্যে মুখিয়ে থাকে।
সবচেয়ে দুঃখজনক কথা হলো, তারা নিজেরা যে ভ্রান্তির মধ্যে নিমজ্জিত আছে তা স্বীকার করতে চায় না। উল্টো তাদের অবাধ মেলামেশার গায়ে বৈধতা(?)র প্রলেপ মাখতে নানা যুক্তি দাঁড় করিয়ে দেয়। তারা পাল্টা প্রশ্ন করে যে, প্রেম এক পবিত্র জিনিস। নবি রাসূলগণও প্রেম করেছেন, তাহলে আমাদের প্রেম প্রেম খেলায় দোষ কোথায়?
কথিত ভালোবাসা আর প্রেমরঙ্গ খেলায় মত্ত যুবক যুবতিদের মাঝে নানা ভ্রান্ত ধারণা বদ্ধমূল আছে। নিচে তন্মধ্য হতে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি তুলে ধরা হলো-
ক. যুবক যুবতিরা বলে বেড়ায় যে, 'মন ভাঙা আর মসজিদ ভাঙা সমান!' এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষিতের এক আধ্যাত্মিক বাক্যকে তারা অজ্ঞানতার কারণে একেবারে ভ্রান্ত পথে জুড়ে দিয়েছে।
খ. 'কারো মনে আঘাত দিলে সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে।' কথাটি ইসলাম যে মানবতার ধর্ম তা বোঝানোর নিমিত্ত ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তাই বলে একে নোংরা প্রেম খেলায় এঁটে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
গ. 'প্রেম স্বর্গীয় উপাদান। আর ভালোবাসা আসে স্বর্গ থেকে।' এমন উক্তির কোনো প্রমাণ ইসলামে খুঁজে পাওয়া যায় না।
ঘ. 'নবীগণও প্রেম করেছেন। যেমন ইউসুফ-জোলেখা।'
নাউজুবিল্লাহ! একজন পুণ্যাত্মা নবি সম্পর্কে এহেন ডাহা মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা মোটেও সমীচীন নয়। বরং হযরত ইউসুফ (আ) কামুক নারীর খপ্পর হতে নিজেকে পবিত্র রাখতে নিজ শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করার মহাসত্য কাহিনি কুরআন মাজিদে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
অথচ তাঁর সম্পর্কে এমন অপবাদ সুস্পষ্ট কুফরি আকিদা এবং আল্লাহর সম্মানিত একজন নবির চরিত্র সম্পর্কে চরম মানহানিকর। কারণ ইউসুফ (আ) যে কোনো ধরনের জৈবিক প্রেম ভালোবাসা থেকে মুক্ত ছিলেন। এমনকি তিনি তার চরিত্রে কোনো কলঙ্ক বহন করার চাইতে কারাগারে বন্দিজীবন বরণ করাকে অধিক পছন্দ করেছেন। এই ঘটনা বিস্তারিত বর্ণিত হয়েছে সূরা ইউসুফে।
যে কোনো নবী বা রাসূল সম্পর্কে কোনো খারাপ বা কটু মন্তব্য করা, তাদেরকে হেয় করা, তাদের মানহানি করা বড় ধরনের কুফরি।
এ ধরনের আরও বিভিন্ন ভ্রান্ত বিশ্বাস নামধারী মুসলিম যুবক-যুবতিদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। তারা বিবাহবহির্ভূত সম্পূর্ণ হারাম প্রেমকে বৈধতার লেবেল পরাতে এটাকে ধর্মের সাথে সংমিশ্রিত করে আজগুবি এবং ভিত্তিহীন কিছু প্রলাপ বকে থাকে।
বিবাহ বহির্ভূত প্রেম খেলাকে বৈধ প্রকাশার্থে যত আজগুবি কথা সমাজে রটিত আছে সবই ভিত্তিহীন। এগুলো থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অপরিহার্য। একমাত্র বিবাহোত্তর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার প্রেম-ভালোবাসা বৈধ এবং নেকির কাজ।
এ প্রসঙ্গে নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যখন স্বামী স্ত্রী একে অপরের প্রতি প্রেম এবং মহব্বতের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে তখন আল্লাহ তায়ালাও তাঁদের উভয়ের প্রতি রহমতের দৃষ্টি বর্ষণ করেন। [সহীহ বুখারী: ৬১৯, তিরমিজি শরীফ: ১৪৭৯]-অনুবাদক
📄 যে চিঠির প্রত্যেক লাইন থেকে অশ্রু ঝরে
মানুষের কাছে সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হচ্ছে কথার পুনরাবৃত্তি। এ বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা করেছি। কিন্তু কী করব, আমি যে বাধ্য হয়েছি আবারও এ নিয়ে লিখতে এবং বলতে!
মূলত একটি পত্র আমাকে বাধ্য করেছে চর্বিত চর্বণে। ডাকে পত্রটি নাম-ঠিকানা বিহীন আমার হাতে পৌছে। কাগজের পাতায় প্রেরকের জীবনবিবরণ উল্লিখিত হয়েছে। মনে হচ্ছিল, তার লেখা প্রতিটি লাইন থেকে অশ্রু ঝরছে। যেন তার দগ্ধ হৃদয় থেকে ধূমায়িত বায়ু বেরিয়ে আসছে।
নাম-ঠিকানা উল্লেখবিহীন ঐ চিঠির প্রেরক লিখেছেন যে, তিনি একজন আত্মগোপনকারী সৎলোক। দীনের বিধান যথাসাধ্যভাবে পালন করে যাচ্ছেন। তার একটিমাত্র কন্যা দিন দিন অন্যায়ের পথে পা বাড়িয়ে চলেছে। এখন পর্দা করাও ছেড়ে দিয়েছে। অসভ্যদের সাথে সম্পর্ক রয়েছে তার। একটি দুষ্ট মেয়ে যতটুকু পৌঁছুতে পারে, ততটুকুও সে অতিক্রম করে ফেলেছে।
তার বর্ণনামতে এসবের কারণ হচ্ছে প্রথমত প্রাথমিক বিদ্যালয়। দ্বিতীয়ত বিশ্ববিদ্যালয়। চিঠিতে তিনি স্কুল ও স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের ইচ্ছেমতো গালিগালাজ করে ধোলাই দিয়েছেন। যারা এই সমাজব্যবস্থার গোড়াপত্তন করেছেন, তিনি তাদের একেবারে পত্রের শেষ পর্যন্ত তাদেরকে অভিশাপ দিয়েছেন।
আমি তার পত্রটি নিয়ে বেশ ভাবতে থাকি। অনেক ভেবেচিন্তে তার পত্রের জবাব লিখতে বসি। তাকে লিখে পাঠালাম যে, আমি জানি আপনি খুবই ব্যথিত। কিন্তু এ মুহূর্তে আমি কী করতে পারি? আরও আগে আমার কাছে লিখে পাঠালেন না কেন? যখন সে কিছুটা আপনার নিয়ন্ত্রণে ছিল অন্তত তখন আমাকে লিখে পাঠালে একটা ব্যবস্থা হয়তো করতে চেষ্টা করতাম।
আমি লিখলাম যে, ভাই। এখন আপনার জন্যে কী করব বলুন! ফেতনার আগুন ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে; প্রবল বন্যায় সব সয়লাব হয়ে গেছে; যা ধ্বংস হওয়ার সবই ধ্বংস হয়েছে; যা ডুববার, সবকিছুই ডুবে গেছে।
যদি রোগী মারা যাওয়ার পর ডাক্তারকে ডাকা হয় তাহলে ডাক্তার কী করতে পারবে? ভাই! আমি আপনার জন্যে কেবল শোক প্রকাশ এবং আল্লাহর কাছে এই মুসিবতে আপনার ধৈর্য প্রার্থনা করতে পারব।
তবে হ্যাঁ, আমি তার সহায়তায় ব্যর্থ হলেও অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসতে পিছপা হব না। যদি আমার লজ্জা না থাকত এবং লোকটির ক্ষত দাগে ব্যথা বৃদ্ধির আশঙ্কা না হতো তাহলে বলতাম যে, এ পর্যন্ত গড়িয়েছে আপনারাই কারণে।
সম্মানিত বাবা! সম্মানিত মাতা! এসব হয়েছে এবং হচ্ছে আপনাদেরই কারণে। আপনারাই সর্বপ্রথম লানত ও অভিশাপ পাওয়ার উপযুক্ত।
যদি আপনি (বাবা ও মা) ঘর ও কন্যার দায়িত্বে থাকেন, তাহলে আপনারা নিজের আনন্দ আর ইচ্ছা পূরণকেই গুরুত্ব দিয়েছেন। সন্তানদের প্রতি আপনাদের অবহেলাই তাদেরকে এ পথে নিয়ে এসেছে। মনে রাখবেন আপনার সন্তান একদিনেই কিন্তু এ পর্যায়ে যায়নি। এজন্য দীর্ঘদিন লেগেছে। এ দিনগুলোতে আপনার করণীয় কিছু কি ছিল না? বাড়ির কাজ এবং আপনার কাপড় সেলাই, সিনেমা দেখা, বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা : সবই কি আপনার ঠিক ছিল না? আর এসব করতে গিয়েই তারা অবহেলায় অযত্নে বড় হয়েছে।
আমি অবশ্য আপনার ন্যায়ই মনোভাব পোষণ করি। তাহলো, প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার স্কুল-কলেজ ও সামাজিক ব্যবস্থাপনাকে আমি ভালো বলছি না। পিতা, শিক্ষক, সন্তান, আইনপ্রণেতা সবাই নিজ নিজ কর্মের কারণে জিজ্ঞাসিত হবে। এরা সর্বশেষ যে প্রশ্নের সম্মুখীন হবে, তাহলো এই কন্যা, যে তাদের কারণে ধ্বংসের পথে অগ্রসর হয়েছে তার সম্পর্কে।
আল্লাহ তায়ালা প্রবৃত্তির তাড়না মানুষের অন্তরে বপন করে দিয়েছেন। এর জন্যে নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাও স্থাপন করেছেন। অন্যায় রোধ করার জন্যে বিভিন্ন বাধা-উপবাধা সৃষ্টি করেছেন। এসব ডিঙ্গিয়ে যদি অন্যায়ের সয়লাব হয়, তাহলে ধ্বংস তো হবেই।
দেখুন, নদীর ধর্ম হলো প্রবাহিত হওয়া। আপনি তাকে যতই বাধা দিবেন, সে তার প্রবহমানতা বহাল রাখতে প্রয়োজনে অন্যদিকে মোড় নিবে। নদীর প্রবাহিত হওয়ার নির্দিষ্ট পথ রয়েছে। স্বাভাবিক অবস্থায় নির্ধারিত পথেই নদী বয়ে চলে। কিন্তু বেড়ি বাঁধের কারণে নদীপ্রবাহ ব্যাহত হলে অন্য পথেই পানি প্রবাহিত হয়ে বাড়িঘর, ক্ষেত-ফসল সব ভাসিয়ে নিয়ে যায়। তেমনি খোদাপ্রদত্ত জীবনের স্বাভাবিক গতি হচ্ছে বৈবাহিক সম্বন্ধ। পক্ষান্তরে অসৎ পথে কার্যসিদ্ধি হচ্ছে ফেতনা ও পাপাচার।
যদি দ্বিতীয় পথ অবলম্বন করা হয়, তাহলে আল্লাহর নির্ধারিত নিয়মের বিরুদ্ধাচারণ করে প্রাকৃতিক গতি থামিয়ে দেয়া হয়। ফলে সীমানা ডিঙ্গিয়ে বন্যা আসার প্রহর গুণার প্রতীক্ষা ছাড়া আর কিইবা থাকতে পারে!
📄 ধাঁধার জাল
আমরা যুবতিদেরকে নানা ছুঁতা দেখাই। তাদেরকে বলি যে, এই বয়সে বিবাহ দরকার নেই! আরেকটু পেকে নাও! তাদেরকে এই যুক্তিও দেখাই যে, এখনকার যুবকরা কেউ ভালো নেই। তারা বিয়ের বিতৃষ্ণা ভাব নিয়ে হারাম পন্থায় কার্যরত।
অন্যদিকে যুবকদের বলি যে, বিয়ে খুব কঠিন বিষয়। মেয়ের ভরণপোষণ, কয়েকদিন পর বালবাচ্চা হলে আরো ঝামেলা; সামাজিকতা ও শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়স্বজন- আরো কত কী! আমরা তার সামনে তুলে ধরি শত ধাঁধার ছড়ানো জাল। অথচ হারাম পথ খুবই সহজ। এর জন্যে শত আহ্বায়ক ও উদ্দীপক রয়েছে। ফলে বৈবাহিক সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। গুনাহের আধিক্য ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কন্যারা যাঁতাকলে পিষ্ট এবং ল্যাম্পট্যের ছায়ায় অবলার মতো বলি হচ্ছে।
একজন যুবক প্রথমে কোনো যুবতির সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করে। উভয়ের মাঝে যৌনসম্ভোগ উদ্যাপিত হয়। তারা অন্যায় কাজে একসাথে শরিক থাকে। কিন্তু একটা সময়ে স্বার্থ ফুরিয়ে এলে কিংবা যৌনস্বাদ নেয়া শেষ হলে যুবক আস্তে করে কেটে পড়ে। নিজেকে পূতপবিত্র রাখার ভাব জাহির করে।
তখন যুবতি হয়ে পড়ে একা। সে তার চোখের সামনের সব অন্ধকার দেখে। সব অপরাধের বোঝা তার কাঁধে চেপে বসে। গুনাহর ফল গর্ভে ধারণ করে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়ায়। ওদিকে যুবক তখন তওবা করে। সমাজের লোক তার তওবা মেনেও নেয়। তার অপরাধের কথা ভুলে যায়।
কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক সত্য হলো, আমাদের সমাজে যুবতির তওবা সমাজে গৃহীত হয় না। চিরকালের জন্যে সে অভিশপ্ত হয়ে পড়ে। আবার এই যুবকটিকেই বিয়ে করতে বললে সে অন্তত তার ভোগের মেয়েটিকে এড়িয়ে চলে। সে মনে করে যে, যার স্বাদ নেয়া হয়ে গেছে, তার মাঝে আমার জন্য আর কী স্বাদ বাকি আছে! সে তখন নতুন স্বাদের নেশায় মাতাল। সে তখন চায় নয়া স্বাদ।
কিন্তু তখন এই যুবতি কী করবে? তার জন্যে যে বিবাহ নিষিদ্ধ! অপরাধ বৈধ। কামনা-বাসনা উদ্দীপ্ত। এ পথে অন্তরায় উত্তেজিত।
আপনারা হয়তো বলবেন যে, আমরাই কি বিবাহ নিষিদ্ধ করেছি?
আমি বলব, হ্যাঁ! আপনারাই এ পথে বাধা সৃষ্টি করেছেন। তবে শক্তি প্রয়োগ করে নয়; বরং কাজের মাধ্যমে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, পনেরো বছর বয়সে যুবক-যুবতিদের মাঝে কামনা-বাসনার সঞ্চার হয়। ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা এ গবেষণার কাছাকাছি। মূলত শরিয়তের দৃষ্টিতে ছেলে বালেগ তথা প্রাপ্তবয়স্ক হয় চৌদ্দ বছর বয়সে আর মেয়েরা নয় পেরুলেই তাদের মধ্যে মা হবার যোগ্যতা চলে আসে। এটি বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা। গবেষণার প্রতিবেদন হলো, এ পনেরো বছর থেকে পঁচিশ বছর পর্যন্ত প্রায় দশ বছর যৌবনজোয়ার থাকে। কিন্তু এ সময়ে কি তারা বিয়ে করতে পারে? কিভাবে পারবে? শিক্ষাব্যবস্থাপনা তাদের এ বছরগুলোতে ক্লাসের পাঠ অধ্যয়নে বসে থাকতে বাধ্য করে। এরপর ডক্টরেট অর্জনের জন্যে ইউরোপ-আমেরিকা সফর করলে বয়স ত্রিশের কোটায় গিয়ে হামাগুড়ি দেয়!
তাহলে বলুন, কিভাবে তারা বিয়ে করতে সমর্থ হবে?
বিয়ে-শাদির ব্যাপারে ফিকির করলে শত চিন্তা মাথায় এসে ঘুরপাক খেতে থাকে। কোথায় পাবে বিয়ের অর্থ? সে একজন উচ্চ বংশের লোক। তার জন্যে দামি জামাকাপড় প্রয়োজন! কিন্তু পয়সা কোথায়? এভাবে ধনসম্পদ উপার্জন করে চল্লিশের দিকে বিয়ের কথা ভাবা যায়। অথচ এ সময়ে তার ঔরসজাত ছেলের বয়স হওয়ারই কথা ছিল বিশ বছর।
একটি বিষয় ভেবে দেখুন তো, অর্থসম্পদ হাতে এলেও কি ছেলেমেয়ের বাবারা বিয়েতে সম্মতি দান করেন? করেন না; বরং তাদের সামনে নানা ধাঁধার জাল বিস্তার করে দীর্ঘসূত্রিতার অবতারণা ঘটাতেই তারা বেশি পারঙ্গমতা প্রদর্শন করেন। অন্যদিকে ছেলের চারিত্রিক অধঃপতনের ব্যাপারে যদি কোনো নালিশ আসে তখন তা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলে দেয় যে, 'এই বয়সে একটু আধটু দুষ্টুমি করেই থাকে। ও কিছু না! বয়স বাড়লে ঠিক হয়ে যাবে!'