📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 নন্দিত নারীর নিন্দিত গন্তব্য

📄 নন্দিত নারীর নিন্দিত গন্তব্য


আমাদের দেশের মেয়েদের বিয়ের বয়স হলে বিভিন্ন স্থান থেকে পাত্রের সন্ধান আসতে থাকে। বড় বড় হাদিয়া-তোহফা, দেনমোহর নির্ধারণ হয়ে থাকে। ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো, এই হাদিয়া ও দেনমোহর কেবল নারীর অধিকার। ভাই-বাবা কারও এতে দখল নেই। তার অনুমতি ছাড়া কেউ এখানে হাতও লাগাতে পারবে না।
পক্ষান্তরে পাশ্চাত্যের নারীরা পুরুষের পেছনে ঘুরে বেড়ায়। একজন পুরুষের নাগাল পেতে পঞ্চাশটি গর্ভপাত করতে হয়। কখনও এই অকাল গর্ভপাত তাদের মৃত্যুর কারণও হয়ে থাকে। এরপরও যদি তাকে বিয়ে করতে সম্মত না হয়, তাহলে বড় অঙ্ক নিয়ে পুরুষের ধরনা দিতে থাকে। তাদের সমাজে পুরুষকে নারীরাই দেনমোহর (?) প্রদান করে। প্রদত্ত অর্থে স্ত্রী কোনো অধিকার পায় না। স্বামীর একক কর্তৃত্বই সেই অর্থে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাতে নারীর টু-শব্দটি করার সুযোগ থাকে না।
হয়তো আপনি বলবেন যে, আরে! এ তো সময় ও যুগের পরিবর্তনের কারণেই হয়েছে। আমাদের এখানেও তো বৈবাহিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে! চিরকুমারীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে!
হ্যাঁ, আমি আপনার এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করি না। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, কী কারণে এমনটি হতে চলেছে?
শুনুন তাহলে। আমাদের নন্দিত নারীরা আজ নিন্দিত গন্তব্যের পথচারিণী। আজকের যুবকেরা যেই নন্দিত ললনাকে নিয়ে সুখের স্বর্গ গড়ার স্বপ্ন দেখে, ক'দিন পরে সেই তার চোখেই তাকে আবিষ্কার করে নিন্দিত গন্তব্যে। ফলে নন্দিত সোনালি স্বর্গ তাসের ঘরের মতোই খানখান করে ভেঙ্গে পড়ে।
আমাদের দেশে বৈবাহিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ার মৌলিক কারণ হলো, আমরা ফিরিঙ্গি জাতির অনুসরণে প্রবৃত্ত হয়েছি। তারা আমাদের কাছে নারীসংক্রান্ত যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছিল, সেগুলো নির্দ্বিধায় আমরা মেনে নিয়েছিলাম। সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের হৃদয়ে গত কয়েক যুগে তাদের
চিন্তাধারা বপন করে দিতে সমর্থ হয়েছে। অথচ সে সময়ে আমরা অচেতন ও ঘুমন্ত এক জাতি। তাদের জীবনধারার বাহ্যিক চাকচিক্য দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদেরকে আমরা উন্নত ও প্রগতিশীল হিসেবে বিবেচনা করতাম। তারা যে সিদ্ধান্ত ও মতামত ব্যক্ত করত, সেগুলোকেই নির্ভুল ভেবে অন্ধ অনুকরণে উঠেপড়ে লেগে যেতাম।
কিন্তু বাস্তবে এসব অনুকরণ আরবের শোণিতধারা কিভাবে বরদাশত করতে পারে? মনে রাখবেন ইসলামের মশালধারী আরব জাতি হচ্ছে সবচেয়ে আত্মমর্যাদাশীল জাতি। তারা লজ্জায় কন্যাসন্তানকে জীবন্ত পুতে রাখত। কোনো আরব কি সহ্য করবে, তার আনন্দ-অনুষ্ঠানে অপরিচিত কেউ মুখ বাড়িয়ে বলবে যে, 'প্লিজ আসতে পারি?'
কিভাবে তাকে মেনে নিতে পারবে? আর কেনইবা মেনে নিবে? একজন আরব তো তার ঘড়ি বা একটি ম্যাচের কাঠির ক্ষেত্রেও এসব সহ্য করবে না। হ্যাঁ, এই পাশ্চাত্যের লোকটি অনুমতি দিতে পারে। শুধু অনুমতিই না; বরং নিজের স্ত্রীকেও দিয়ে দিয়ে প্র্যাসটিজ রক্ষার খেলায় মেতে যাবে। তাকে নিয়ে নৃত্য করবে। দেহে দেহ মিলাবে। মুখে মুখ লাগাবে। অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আরো কতো কী!
পক্ষান্তরে পৃথিবীর কোনো আরব নেই, যে এতে সম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে। কোনো মুসলিমও এটা মেনে নিতে পারে না। এমনকি যার ভেতরে পৌরুষ আছে, সেও এসব বরদাশত করবে না। শুধু মানুষই নয়, একমাত্র শূকর ছাড়া ভিন্ন কোনো প্রাণীও সহ্য করবে না।
আপনাদের নিশ্চয় মনে থাকার কথা- আমেরিকান মহিলাটি শায়খ বাহযাতুল বায়তারকে কী বলেছিল? ফ্রান্সের বা আমেরিকার যেকোনো নারীর সাথে কথা বলার সুযোগ হলে তাদের প্রত্যেকে একই জবাব দিত যে, তোমরা আমাদের শরিয়তের প্রতিশোধ নিচ্ছ। ইসলামি শরিয়ত নারীকে মিরাসের সম্পত্তিতে পুরুষের অর্ধেক স্থির করেছে এবং একজন পুরুষকে একসাথে একাধিক বিবাহের অনুমতি প্রদান করেছে।
পক্ষান্তরে আমেরিকান নারীদের আপনারা জিজ্ঞেস করে দেখুন তো, তারা পুরুষের অর্ধেক মিরাস গ্রহণ করতে চায় কিনা এবং একজন পুরুষের দায়িত্বে ও তত্ত্বাবধানে থাকতে প্রস্তুত কিনা?
জার্মান রমণীদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, যুদ্ধের পরে তারা দশজন একজন স্বামীর অধীনে থাকতে প্রস্তুত আছে কি না, যে তাদের সবার মাঝে সমান।
হারে সবকিছু বণ্টন করবে? এই পদ্ধতি ছাড়া আর কী উপায়ে জার্মান নারীর আধিক্য সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে?

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 প্রকৃতির মাঝে মিলনের সুর

📄 প্রকৃতির মাঝে মিলনের সুর


একটা প্রকৃতির ওপর আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। এই প্রকৃতিই দুটি জাতিকে পরস্পর মিলনের তাগিদ দেয়। এ দুয়ের মাঝে মিলন অপিরহার্য। ধরুন, কোথাও পঞ্চাশজন পুরুষ আছে। বিপরীতে একশত নারীর অবস্থান হলে সেখানে তরুণীর কী হতে পারে? একজন পুরুষের কি দু'জন-দু'জন করে নারীর দায়িত্ব নেয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো উপায় থাকতে পারে? একই প্রকৃতি কি সমস্ত প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান নেই? মৌমাছি ও মোরগ-মুরগীর মাঝে নারী-পুরুষের ব্যবধান কি বড় বেশি?
পাশ্চাত্যের একজন পুরুষ কি বিয়ের আগে চারজন নারী গ্রহণ করে না? হ্যাঁ, করে। তবে তারা করে অবৈধ পন্থায়। সুতরাং আপন বিবেককে প্রশ্ন করুন যে, আপনারা কি ইবলিসের শেখানো পথে সন্তুষ্ট হবেন? নাকি আল্লাহপ্রদত্ত বৈধ পথ অবলম্বন করে?
আপনি মনে করবেন না যে, পাশ্চাত্যের নারীরা সম্মানজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করছে। নাহ! আল্লাহর কসম! কখনও নয়। আমি পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি আমার সেই অভিজ্ঞতার আলোকে হলফ করে বলতে পারি যে, মুসলিম নারীদের চেয়ে জগতে সম্ভ্রান্ত ও অধিক সম্মানিতা কোনো নারী নেই।
আমাদের মুসলিম সমাজে স্বামী হচ্ছে স্ত্রীর জন্যে। তার বন্ধুর জন্য নয়। ঠিক তেমনই নারী হচ্ছে তার স্বামীর জন্যে। তার বান্ধবী বা জিএফএর জন্য নয়। স্বামী-ই তার একান্তজন। তার সামনেই পর্দা উন্মোচিত হবে; অন্য কারও সামনে নয়।
এবার বলুন তো, এটা কি একজন রমণীর জন্যে দোষের বিষয়? এ সমস্ত পরজীবীরাও কি নিজেদের স্ত্রীদের অন্যের সাথে থাকতে দিবে? নির্দিষ্টভাবে একটি প্লেট তার জন্যে রেখে দিবে আর সেখান থেকে একাই ভক্ষণ করবে- এতে কি একজন বিবেকবান পুরুষ সন্তুষ্ট হতে পারে না? নাকি অনেকের হাত দিয়ে ঝুটা করা উচ্ছিষ্ট ভোজে সে সন্তুষ্ট হবে?
আমি জিজ্ঞেস করি যে, পবিত্রতাই কি দোষের বিষয়? পাপ থেকে দূরে থাকাটাই কি অন্যায় বা লজ্জার কারণ? তাদের কাছে ভালোই কি মন্দের নামান্তর? আলোই কি তাদের কাছে অন্ধকার?
সুপ্রিয় পাঠক! অন্যের মাথা দিয়ে চিন্তা-গবেষণা, শত্রুদের চোখ দিয়ে দর্শন- পর্যবেক্ষণ এবং বানরের মতো তাদের অনুসরণ আমরা অনেক করেছি। এবার ফেরা দরকার নিজেদের রুচিবোধে, নিজেদের কৃষ্টিকালচারে এবং ইসলামি দর্শনে।
মনে রাখবেন, পশ্চিমা নারীরা পুরুষের খেলার পুতুল। তাই তাদের মতো কেন হতে দেব আমাদের রমণীদের? আমাদের রমণীরা আমাদের মর্জি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবনযাপন করবে। যেন আমরা তাদের জন্যেই হতে পারি। যেন আমরা তাদের নিয়েই তুষ্ট জীবন ধারণ করতে পারি। অন্য কারও দিকে আমাদের নজর ফেরানোর প্রয়োজন নেই।
অভিজ্ঞতার আলোকে আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, জগতে মুসলিম রমণীদের চেয়ে উত্তম কোনো রমণীই হতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজস্ব পোশাক ও কৃষ্টিকালচার এবং ইসলামি জীবনবিধান ও চারিত্রিক পরিশীলতা গ্রহণ করবে।
মনে রাখবেন- এই সমাজ থেকেই জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন হযরত আয়েশা, আসমা, খাওলা, ফাতেমা, রবীয়া। এখান থেকেই খ্যাতিলাভ করেছেন শত শত তাপসী নারী, আলেমা, আবেদা। এখান থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন সেই সন্তানেরা মায়েরা, যারা যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন ঘোড়সওয়ার আর রাতের আঁধারে ছিলেন ইবাদতগুজার। যারা সিংহাসনের বুকে ছিলেন অহিংস সিপাহসালার আর চিন্তা-গবেষণায় ছিলেন প্রতিভার সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণকারী। অর্থ ও বিত্তের দিক থেকে তারাই ছিলেন প্রতাপশালী সম্রাট। তাবৎ দুনিয়া যাদের কাছে মাথা নত করত ইসলামের বিমুগ্ধ শোভায়।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 বিয়ের বয়স কত

📄 বিয়ের বয়স কত


বিয়ের প্রকৃত বয়স কত- এ নিয়ে মহাবিপাকে দুনিয়ার মানুষ। অনেক অভিভাবক কুয়ারার সুরে বলে থাকে যে, 'এখনো ছেলে বা মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। আর কয়েক বছর অপেক্ষা করি! তারপরই না হয় তাদের বিয়েটা দিই। ছেলেমেয়ের পড়ালেখাটাও একটা পর্যায়ে পৌঁছুক কিংবা কোনো চাকরি বাকরি ধরে ফেলুক। না হয় বিয়ে করে তারা খাবে কী? বউকে দিবে কী? তাছাড়া পড়ালেখা শেষ না করে বিয়ে করলে লোকসমাজে মুখ দেখাই কিভাবে?' ইত্যাকার প্রশ্ন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে।
জাতিসংঘ ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে আঠারো। এর আগে সবাই শিশু। তাই আঠারো বছরের আগে কোনো ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেয়া কথিত আন্তর্জাতিক আইনে সিদ্ধ নয়। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এই বয়স নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? প্রকৃতপক্ষে বিয়ের প্রকৃত বয়স কত?
এ প্রশ্নের জবাবে আমার দ্বিধাহীন বক্তব্য হলো, আপনি নিজ থেকে প্রথম যেদিন নিজের সাবালকত্ব সম্পর্কে পূর্ণ অনুভূতি লাভ করবেন, সেটাই আপনার বিয়ের উপযুক্ত বয়স।
সব বিষয় দলিল-প্রমাণ দিয়ে হয় না। বিয়ের বয়স নির্ধারণের জন্যেও কোনো দলিল-প্রমাণ তলবের প্রয়োজন নেই। কারণ কারও মতে বিয়ের বয়স হচ্ছে ত্রিশ। কেউ আবার মত দিয়েছেন চল্লিশ।
আমার জবাব হলো- আল্লাহ মানুষকে যে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার অনুকূল হলেই বিয়ে করে ফেলা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। আমার দেয়া জবাবটি বোঝার জন্যে একটা ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন যে, আল্লাহ মানুষকে দুটি স্বভাবজাত গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একটি হলো মানবসত্তার সংরক্ষণ ভাবনা। এই ভাবনার কারণেই আমাদের ক্ষুধা লাগে। দ্বিতীয়টি হলো জাতিসত্তার সংরক্ষণ চেতনা। এই চেতনার তাগিদেই বংশধারা টিকে আছে। এই দুটির একটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে অপরটিও নির্ভুল মেনে নিতে হবে।
আচ্ছা বলুন তো, মানুষ কখন খাবার গ্রহণ করে? আপনি অবশ্যই এ প্রশ্নের জবাবে বলবেন যে, যখন খাওয়ার চাহিদা হয় কিংবা ক্ষুধা লাগে তখনই মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার এই জবাবের সূত্র ধরেই আমি বলব যে, মনের মাঝে জৈবিক চাহিদা পূরণের চাহিদা জন্ম নিলে কিংবা যৌনচাহিদা পূরণের তাগাদা অনুভব করলেই বিয়ের প্রকৃত বয়স হয়ে থাকে। কথাটাকে খোলাসা করার জন্য আবার বলছি- মানুষ কখন খাবার খায়?
জবাবে আপনারা বলবেন, যখন ক্ষুধা লাগে তখন।
তো আমিও বলব, বিয়ে তখনই করবেন, যখন কামনার উদ্রেক হয়, মনের সুপ্ত বাসনা জাগ্রত হয়। অর্থাৎ যে সময়ে পৌরুষ আসে, যৌবন আসে তখন। মোটামুটি সর্বোচ্চ আঠারো বছর ধরা যায়।
আপনারা প্রশ্ন করবেন, এ বয়সে পৌঁছার পরও যদি বিয়ে করার মতো অর্থ হাতে না থাকে, তাহলে কী করব?
আমি বলব, ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে পয়সা না থাকলে সে যা করে, এই যুবকও তা-ই করবে। খাবার হাতে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে।
আপনারা বলবেন, যদি ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে না পেরে সামনে অন্যের খাবার উপস্থিত পেয়ে চুরি করে খেয়ে ফেলে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে আমরা কী করব?
এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হলো, প্রতিটি সমাজে অনাহারীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যেন তারা চুরি বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। যদি কোনো কারণে সমাজের লোক খাবারের যোগান দিতে না পারে এবং তাদের থেকে চুরির আশঙ্কা করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কর্তব্য হলো, যার যার মাল ও অর্থসম্পদ হেফাজত করা। এখন যদি বলেন যে, তাদের চুরি করা একদিকে বৈধ! কারণ, সমাজ তাদেরকে খাদ্যবঞ্চিত করেছে; অথচ এটা তাদের জৈবিক অধিকার? অপরদিকে অবৈধ! কারণ অন্যের সংরক্ষিত জিনিসে তারা হাত লাগিয়েছে। ঠিক একই কথা বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 বিয়ের বয়স নিয়ে বিটলামি

📄 বিয়ের বয়স নিয়ে বিটলামি


মূলত বিবাহের স্বাভাবিক বয়স হলো যে বয়সে ছেলেমেয়ে বালেগ-বালেগা হয়। কিন্তু এ বয়সে তারা স্কুল-কলেজে বা মাদরাসায় পড়াশোনা করে। তাদের হাতে তেমন অর্থকড়িও থাকে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কমপক্ষে পঁচিশ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। অর্থাৎ যে সময়ে পারস্পরিক মিলনের সূত্রপাত হওয়ার কথা, ঠিক সে মুহূর্তে তাদের সামনে স্বভাববিরুদ্ধ বিশাল বাধা আপতিত হয়।
তাহলে আমরা এর মোকাবেলা কিভাবে করতে পারি? কী করার আছে এই যুবকের? সে তো এই দশটা বছর বিয়ে ছাড়া কাটিয়ে দিতে বাধ্য। অথচ যৌনচাহিদা জীবনের এই দশ বছরই সর্বাধিক হয়ে থাকে!
আল্লাহ তায়ালা তার দেহের মাঝে জ্বলন্ত অগ্নি স্থাপন করে দিয়েছেন। যদি এই আগুন বিয়ের মাধ্যমে না নেভানো হয়, তাহলে এর তাপে হয়তো নিজে দগ্ধ হবে নতুবা ব্যভিচারের মাধ্যমে অন্যের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে। এখানেই হলো মূল সমস্যা। এ নিয়েই আলোচনা করা দরকার।
আমি মনে করি, বিয়ের প্রকৃত বয়স নিয়ে আমাদের অভিভাবকরা বিটলামি করে থাকেন। কারণ যিনি এ বিষয়ে কলম ধরবেন, তার জন্যে সবচেয়ে সহজ হলো চেয়ারে হেলান দিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে বসা। এরপর রায় ঘোষণা করা। কিন্তু আপনারা হয়তো পড়ালেখা, কর্মযজ্ঞ, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, চাকরি করা ইত্যাদি মিলিয়ে বলবেন যে, বিয়ের উপযুক্ত বয়স হল ত্রিশ বছর!
আমি বলব, এটা আপনার কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত। এ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। শুধু ফ্রি কথা বললেই তো আর হলো না। যে বিচারক ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন, এখানে তার কষ্ট-ক্লেশের কী আছে? কেবল ঠোঁটদুটো নাড়িয়ে একটা মত প্রকাশ করে দেন। কিন্তু মুসিবত হয় তার, যার বিরুদ্ধে রায় হয় এবং কার্যকর হয়। আর এখানে রায় প্রকাশ করা হচ্ছে যুবক-যুবতির বিরুদ্ধে। তাই আপনার ত্রিশ বছর বলতে কষ্ট না হলেও এত বছরে তাদের অবস্থা মহাবিপর্যয় পয়দা করে ছাড়বে।
মনে রাখবেন, প্রকৃতিগতভাবে বয়স পনেরো হলেই তবিয়ত ও সুপ্ত চাহিদা যুবক-যুবতির ভেতরে যৌনক্ষুধা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু আমাদের চিন্তাশীল শ্রদ্ধেয় ভ্রাতৃ মহোদয় তাদের জন্যে মত প্রকাশ করে বলেন, ত্রিশের আগে বিয়ে করা যাবে না। আমার জিজ্ঞাসা হলো, তাহলে বাকি পনেরো বছর সে কী করবে? কুড়িতে যে বুড়ি হয়- সেই প্রাচীন প্রবাদ তো আর অভিজ্ঞজনরা এমনিতেই বলে যাননি!
যে সমাজ যুবককে বিয়ে করতে নিষেধ করে, তারা এই আগুন নিভানোর বিকল্প কোনো পথ বের করতে পারেনি। যখনই বেচারা এই যৌনক্ষুধা কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারে, তখনই আমরা তাকে সেই তাড়না স্মরণ করিয়ে দিই নগ্ন ফিল্ম উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ চিত্রাবলি, পথেঘাটে তরুণীদের অবাধ চলাফেরা ও মেলামেশার মাধ্যমে। মনে রাখবেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ অনুকরণ ব্যতীত মানুষ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে তেমন বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন- كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبِي ، قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَنْ يَأْبِي؟ قَالَ : مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الجَنَّةَ وَمَنْ عَصَانِي فَقَدْ أَنِّي।
যারা আমাকে অস্বীকার করে তারা ব্যতীত আমার সব উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবীরা এ কথা শুনে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কারা অস্বীকার করে? জবাবে রাসূল সা. বললেন, যে আমার অনুকরণ করলাসে জান্নাতে প্রবেশ করল। আর যে আমার নাফরমানি করল, সেই আমাকে 'অস্বীকার করল। [বুখারি শরীফ]
মনে রাখবেন! একজন নারী পথে হাঁটলেও নারী; বাজারে গেলেও নারী; কলেজে এলেও সে নারী। সবখানেই রয়েছে তার সুপ্ত চাহিদা জাগরিত করার ইন্ধন। কিন্তু আমরা এই আগুন বুকের ভেতর পনেরো বছর জ্বালিয়ে রাখার রায় ঘোষণা দিচ্ছি। সাথে সাথে তাকে বলছি, ক্যাম্পাসে যাও, দরসে যাও, অধ্যয়নে ব্যস্ত হও। তাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, অন্যায়-অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা তোমার কর্তব্য।
পৃথিবীর সস্তা জিনিস হলো কাউকে উপদেশ প্রদান করা। আমরা যুবককে অন্যায় অপরাধ থেকে ফিরে থাকার আসল পথ অনুসরণ না করে তার মাথায় উপদেশের কাঁঠাল ভাঙতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকি। এক্ষেত্রে আমি আল্লাহর শপথ করে বলতে পারি, যে ব্যক্তিকে পনেরো বছর জেলে বন্দি রাখার হুকুম দেয়া হয়েছে, তার অবস্থা এ যুবকের চেয়ে করুণতর নয়।
তাহলে এখন উপায় কী?
একটিই পথ। তাহলো স্বভাবধর্মের দিকে ফিরে আসা এবং ফিতরাতের অনুসরণ করা। কারণ, একজন মানুষ জাতিগত স্বভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারে না। একজন যুবক বিয়ে করবে আঠারো বছর বয়সে। যুবতির বয়স হবে ষোলো কিংবা সতেরো বছর। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি এবং উন্নত চরিত্র ও আদর্শ নীতি চালু করা যাবে না। যুবক-যুবতিদেরকে নীতি-নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশকে অশ্লীলতা, পাপাচার ও যৌনচাহিদা উদ্রেককর অবস্থা থেকে মুক্ত করতে হবে। মেয়েদের ব্যাপারে বাবাদের দায়িত্ববান এবং তাদের সম্পদ ও সম্ভ্রম বিনষ্টের কারণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
এটিই জবাব।
আমি আশাবাদী, যিনি এই লেখাটি পাঠ করবেন তিনি অবশ্যই বলবেন যে, এটি সঠিক। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, কেউ আমলে নেন না। কেউ এ
বাস্তব সত্যকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন না; বরং সবাই উল্টো রথে চলতে যেন পছন্দ করেন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00