📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 লাভ ম্যারেজ

📄 লাভ ম্যারেজ


আমি আরবের এক কবির কথা বলছি। তখন তার টগবগে তারুণ্য উজিয়ে পড়ছিল। টইটম্বুর তারুণ্যের হেফাজতের ভাবনা তার অনেক কবিতা ও সাহিত্য রসে ভরে ওঠে। কিন্তু বিয়ে বলে কথা! ভাবলেই কি আর বিয়ে করা যায়? বিয়ের জন্য দরকার অনেক কিছু। আবার উপযুক্ত পাত্রীই বা পাবে কোথায়? এদিকে যৌবনের তরও সইছে না। তার যৌবন নদীতে যে ভরা জোয়ার। তিনি কবিতার ছন্দে খুঁজে পান নিজের ব্যতিক্রমিতা। তার রচিত সাহিত্যে ঝরে পড়তে থাকে অজানা রস, অচিন জাদু।
এরই মধ্যে তার কবিমনের সামনে বাঁকা চাঁদের মতোই উঁকি দেয় এক ছিপছিপে গড়নের যুবতি। এক মার্কেটে তার চোখে ধরা পড়ে সেই দুধে আলতা গণ্ডালোক। রক্তিম চেহারা। টসটসে ভরা যৌবন। তার কোমর দোলা হাঁটার মাঝে কবিতার ছন্দ খুঁজে পান কবি। ব্যাস! আর যান কোথায়! তিনি যুবতির প্রেমে পড়ে যান। কিন্তু আরব্য নারীরা যে ওপেন চলাফেরা করেন না। কী করে মনের ইচ্ছা পুরিয়ে দেখবেন তাকে? তিনি নানা ছুতো খুঁজতে থাকেন। মিছে কেনাকাটার অজুহাতে তরুণীর কাছে ঘেঁষার চেষ্টা চালান। কিছুটা সফলও হন।
আরব্য যুবক কবি মুহূর্তে দক্ষ কাস্টমার বনে যান। ঐ যুবতি যেই দোকানে প্রবেশ করে, কবি সাহেবও পৌঁছেন সেই দোকানে। কালো বোরকার আস্তিন হতে বেরিয়ে আসা রমণীর হাতের তালু আর কজি নজর কাড়ে তার। ব্যাস! এতটুকুতেই তার মাথায় চক্কর লেগে যায়। উদ্বেগ আর প্রেম-ভালোবাসায় হৃদয় হয়ে পড়ে অস্থির ও ব্যাকুল। সে তার প্রেমে পড়ে যায়। শুরু হয় ভালোবাসা। কিন্তু সেটি একতরফা ভালোবাসা। তবু তাতেই তার জবান দিয়ে ঝংকৃত হতে থাকে উচ্ছ্বসিত গীতছন্দ। কাব্যের ফুল ঝরতে থাকে দিনকয়েক।
যুবতি তার অভিভাবকসহ কেনাকাটা শেষ করে গাড়িতে চেপে বসে। কিন্তু তরুণ কবির কি আর হা করে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখার সময় আছে? তার যে আর তর সইছে না। ব্যাস, তিনিও একদেখাতেই প্রেমে পড়ে যাওয়া যুবতির বাসার ঠিকানা সংগ্রহের মানসে গাড়ি ফলো করে পেছনে পেছনে নিজ গাড়ি চালাতে থাকেন। অবশেষে অন্তত এই ধাপে তিনি সফল হন। চুপিসারে দূরে দাঁড়িয়ে বাসার ঠিকানা কালেকশন করেন।
এবার কবির নাওয়া খাওয়া বাদ যাওয়ার উপক্রম। কেমন যেন উন্মাদ ভাব তার দেহ জুড়ে। কাজকর্মে তার মন বসে না। কারণ অপরূপাকে যে তার চাই-ই চাই। কিন্তু এত সহজেই কি সোনার হরিণ বাগে আসে! তিনি তাকে পাওয়ার নানা ফন্দি আঁটতে থাকেন। কী হারিয়ে ফেলেছেন- এমন ভাব তার আপাদমস্তকে। তিনি মনের মুকুরে এক মহাসিংহাসন রচনা করেন ঐ যুবতির জন্য। গড়ে তোলেন অপরূপ তাজমহল!
'প্রচেষ্টা সাফল্য আনে পুণ্য আনে ধন' প্রবাদ যুবক কবির ক্ষেত্রে বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। তিনি নিরাশার ছাই ঝেড়ে ফেলে আপ্রাণ প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। যুবতি যুবক কবির ভালোবাসার কথা না জানলেও কবি স্বপ্নের প্রেয়সীর ভালোবাসার জালে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন।
একপাক্ষিক ভালোবাসার জানা অজানা প্রাপ্তি অপ্রাপ্তিতে গত হয় তার দিন, সপ্তাহ, মাস, বছর। একেকটি মুহূর্ত তার কাছে মনে হয় যেন একেক যুগ। এভাবেই পরিষ্কার হতে থাকে তার বেদনার নীল আকাশ। তিনি স্বপ্নে বীজ বুনেন লাভ ম্যারেজ তথা ভালোবেসে ঘর বাঁধার। কিন্তু কিভাবে পাঠাবেন বিয়ের প্রস্তাব! সাত-পাঁচ ভাবতে ভাবতে তার আশার তরি তীরের দেখা পায়। তার নিরন্তর প্রচেষ্টা তাকে নিরাশ করেনি। সফলতা তাকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। ভালোবাসার আকাশ হতে সরে যেতে থাকে উড়ে বেড়ানো কালো মেঘগুলো। তার সামনে ভেসে ওঠে কুরআন মাজিদের চিরন্তন বাণী-
وَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا عَرَّضْتُمْ بِهِ مِنْ خِطْبَةِ النِّسَاءِ أَوْ أَكْنَنْتُمْ .
فِي أَنفُسِكُمْ ..... وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ حَلِيمٌ
আর যদি তোমরা আকার ইঙ্গিতে সে নারীকে বিবাহের পয়গাম দাও কিংবা নিজেদের মনে গোপন রাখ তবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আল্লাহ তায়ালা জানেন যে, তোমরা অবশ্যই সে নারীদের কথা উল্লেখ করবে। তোমাদের মনে যে কথা রয়েছে, আল্লাহ তায়ালার তা জানা আছে। কাজেই তাঁকে ভয় করতে থাক। আর জেনে রেখ, আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাকারী ও ধৈর্যশীল। [বাকারা: ২৩৫]
কুরআন মাজিদের এ আয়াত যুবকের মনে শতগুণে সাহস বাড়িয়ে দেয়। এক পর্যায়ে তিনি সাহস করে প্রস্তাব পাঠান বিয়ের। কবি যুবতিকে তার মনের কথা খুলে বলেন।
কবি ছিলেন স্মার্ট চেহারার। শিক্ষাগত যোগ্যতাও সর্বোচ্চ ডিগ্রি। আর চলাফেরা, আদর্শ! মন্দ নয়। ফলে যুবতিরও মনে ধরে তাকে। তার ইচ্ছেনদীতে তরতরিয়ে জোয়ার আসে। তিনিও যেন এতদিন এমন একটি প্রস্তাবেরই অপেক্ষা করছিলেন। যুবতির ইচ্ছায় তার অভিভাবকগণ কবি পরিবারের খোঁজখবর নেন। অবশেষে সফল হয় 'লাভ ম্যারেজ'।
প্রিয় পাঠক! একবার ভেবে দেখেছেন কি যুবতিকে একবার দেখেই সাহিত্যজগতের কবি কেন তার প্রেমে মাতাল হয়ে গেলেন? এর কারণ হলো, আরবের রমণীরা মানুষের অগোচরে থাকে। মুক্তা যেমন লুকিয়ে লুকিয়ে নজরের আড়ালে থেকে দামি হয়, ঠিক তেমনি। বিপরীতে পাশ্চাত্যের নারীদের সমুদ্রতীরে, বাজারে-বন্দরে সবখানে দেখা যায়। ফলে তাদের পায়ের গোছা দেখেও মানুষ উত্তেজিত হয় না, হৃদয় দুলে ওঠে না। এতে তারা লজ্জাবোধও করে না। রমণীর পায়ের গোছা, চেয়ারের পায়া এবং ঘরের কাঠ সবই তাদের কাছে সমান হয়ে পড়েছে। ফলে তাদের সমাজে বৈবাহিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ে।
বৈবাহিক সম্পর্ক হলো স্থায়ী বন্ধন। এর মাধ্যমে একজন পুরুষ স্বাধীন-রুচিবোধের সাথে যুক্ত হয় এবং মানসিক চাহিদা পূরণে উদ্বুদ্ধ হয়ে থাকে। কিন্তু এ চাহিদা যদি ভিন্নপথে অর্জিত হয়, তাহলে আর বিবাহের মৌলিক প্রয়োজনীয়তা থাকল কোথায়?
সৌন্দর্য প্রদর্শন করা ও পর্দাহীনতা ইহুদিদের মজ্জাগত অভ্যাস। নারীর ফেতনা দ্বারা কোনো জাতিকে ধ্বংস করার ক্ষেত্রে ইহুদিদের ষড়যন্ত্র ও কৌশল সফলতার দাবিদার। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, অতীতে উলঙ্গ নারীরাই ছিল তাদের বিভিন্ন সংস্থা ও কার্যক্রমের বড় হাতিয়ার। ইহুদিরা এ বিষয়ে প্রাচীন ও অভিজ্ঞ। এ কারণেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেন-
فَاتَّقُوا الدُّنْيَا وَاتَّقُوا النِّسَاءَ، فَإِنَّ أَوَّلَ فِتْنَةِ بَنِي إِسْرَائِيلَ كَانَتْ فِي النساء.
তোমরা দুনিয়াকে ভয় কর এবং ভয় কর নারীকে। কারণ, বনি ইসরাইলের প্রথম ফেতনা ছিল নারীর ফেতনা। (মুসলিম শরীফ)
সিফরে আশিয়া কিতাবের তৃতীয় সংস্করণে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা ছিহয়ুন গোত্রের মেয়েদের সৌন্দর্য প্রদর্শনের কারণে শাস্তি প্রদান করেন।
পরিতাপের বিষয় হলো, পশ্চিমা নারীরা নিজেরাই নিজেদের সম্মান হারিয়ে ফেলেছে। এখন তাদের ভরণপোষণ পর্যন্ত দেয়ার মতো কেউ নেই। এ কারণে তারা বাধ্য হয়ে জীবনধারণের জন্যে কোনো না কোনো পেশা বেছে নিচ্ছে। কলকারখানার শ্রমিক হওয়া, হাটেবাজারে শ্রম দেয়া এবং রাস্তাঘাট ঝাড়ু দেয়াসহ সব ধরনের কাজে অবাধে অংশগ্রহণ করছে। ইউরোপের নারীরা টয়লেট পর্যন্ত পরিষ্কার করে দিচ্ছে।
ইউরোপে এমন অনেক তরুণী-যুবতি নারী আছে, যারা জুতা সেলাই করে, জুতা কালি করার বাক্স কাঁধে রাখে। এমনও কাউকে দেখা যায় যে, সে বই হাতে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে; ঠিক এরই মধ্যে কোনো সাহেব পা বাড়িয়ে দিলেন জুতা কালি করার জন্যে। ব্যাস! পাশ্চাত্য-কন্যা মাথা নিচু করে জুতা কালিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে।
ইউরোপের এই হলো সামাজিক ব্যবস্থা। অথচ ঠিক একই মুহূর্তে প্রাচ্যের নারীরা নিজ নিজ ঘরে স্বামীর পাশে স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন করছে। আর তা দেখেই হিংসায় কলজে ফেটে মরে হায়েনা আর নির্লজ্জ পশুর মতো কিছু মানুষ নামের অমানুষ।
ইসলামের চিরন্তন বিধানের মধ্যেই রয়েছে নারীর মর্যাদা। এ বিধান মেনে নিলেই তাদের মধ্যে স্মার্টনেস খুঁজে পাওয়া যায়। এ বিধানের মধ্যেই নিহিত রয়েছে তাদের আসল মূল্য। যে নারী নিজের সৌন্দর্য লুকিয়ে রেখে চলে সে দামি সোনার মতোই অন্যের চোখে ধরা দেয়। আদর্শ যুবতির পেছনেই শিক্ষিত ও যোগ্য কবির ন্যায় হাজারো যোগ্য পুরুষ ঘুরঘুর করে থাকে। অনাদর্শ তরুণীকে টিস্যু পেপারের মতো ব্যবহারের পর ছুঁড়ে ফেলে দিলেও প্রকৃত আদর্শ নারীকে নিয়েই ঘর বাঁধতে চায় পুরুষরা। এসব যুবক একজন আদর্শ জীবনসঙ্গিনী খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাদেরকে মর্যাদার আসনে রেখে তাদের সাথে 'লাভ ম্যারেজ'এ আবদ্ধ হওয়াকে নিজের জীবনের বড় পাওনা মনে করে থাকে।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 নন্দিত নারীর নিন্দিত গন্তব্য

📄 নন্দিত নারীর নিন্দিত গন্তব্য


আমাদের দেশের মেয়েদের বিয়ের বয়স হলে বিভিন্ন স্থান থেকে পাত্রের সন্ধান আসতে থাকে। বড় বড় হাদিয়া-তোহফা, দেনমোহর নির্ধারণ হয়ে থাকে। ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা হলো, এই হাদিয়া ও দেনমোহর কেবল নারীর অধিকার। ভাই-বাবা কারও এতে দখল নেই। তার অনুমতি ছাড়া কেউ এখানে হাতও লাগাতে পারবে না।
পক্ষান্তরে পাশ্চাত্যের নারীরা পুরুষের পেছনে ঘুরে বেড়ায়। একজন পুরুষের নাগাল পেতে পঞ্চাশটি গর্ভপাত করতে হয়। কখনও এই অকাল গর্ভপাত তাদের মৃত্যুর কারণও হয়ে থাকে। এরপরও যদি তাকে বিয়ে করতে সম্মত না হয়, তাহলে বড় অঙ্ক নিয়ে পুরুষের ধরনা দিতে থাকে। তাদের সমাজে পুরুষকে নারীরাই দেনমোহর (?) প্রদান করে। প্রদত্ত অর্থে স্ত্রী কোনো অধিকার পায় না। স্বামীর একক কর্তৃত্বই সেই অর্থে প্রতিষ্ঠিত থাকে। তাতে নারীর টু-শব্দটি করার সুযোগ থাকে না।
হয়তো আপনি বলবেন যে, আরে! এ তো সময় ও যুগের পরিবর্তনের কারণেই হয়েছে। আমাদের এখানেও তো বৈবাহিক ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়েছে! চিরকুমারীদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে!
হ্যাঁ, আমি আপনার এ কথার সাথে দ্বিমত পোষণ করি না। কিন্তু একটু ভেবে দেখুন তো, কী কারণে এমনটি হতে চলেছে?
শুনুন তাহলে। আমাদের নন্দিত নারীরা আজ নিন্দিত গন্তব্যের পথচারিণী। আজকের যুবকেরা যেই নন্দিত ললনাকে নিয়ে সুখের স্বর্গ গড়ার স্বপ্ন দেখে, ক'দিন পরে সেই তার চোখেই তাকে আবিষ্কার করে নিন্দিত গন্তব্যে। ফলে নন্দিত সোনালি স্বর্গ তাসের ঘরের মতোই খানখান করে ভেঙ্গে পড়ে।
আমাদের দেশে বৈবাহিক ব্যবস্থাপনা ভেঙ্গে পড়ার মৌলিক কারণ হলো, আমরা ফিরিঙ্গি জাতির অনুসরণে প্রবৃত্ত হয়েছি। তারা আমাদের কাছে নারীসংক্রান্ত যে সমস্ত অভিযোগ তুলেছিল, সেগুলো নির্দ্বিধায় আমরা মেনে নিয়েছিলাম। সাম্রাজ্যবাদীরা আমাদের হৃদয়ে গত কয়েক যুগে তাদের
চিন্তাধারা বপন করে দিতে সমর্থ হয়েছে। অথচ সে সময়ে আমরা অচেতন ও ঘুমন্ত এক জাতি। তাদের জীবনধারার বাহ্যিক চাকচিক্য দ্বারা প্রতারিত হয়ে তাদেরকে আমরা উন্নত ও প্রগতিশীল হিসেবে বিবেচনা করতাম। তারা যে সিদ্ধান্ত ও মতামত ব্যক্ত করত, সেগুলোকেই নির্ভুল ভেবে অন্ধ অনুকরণে উঠেপড়ে লেগে যেতাম।
কিন্তু বাস্তবে এসব অনুকরণ আরবের শোণিতধারা কিভাবে বরদাশত করতে পারে? মনে রাখবেন ইসলামের মশালধারী আরব জাতি হচ্ছে সবচেয়ে আত্মমর্যাদাশীল জাতি। তারা লজ্জায় কন্যাসন্তানকে জীবন্ত পুতে রাখত। কোনো আরব কি সহ্য করবে, তার আনন্দ-অনুষ্ঠানে অপরিচিত কেউ মুখ বাড়িয়ে বলবে যে, 'প্লিজ আসতে পারি?'
কিভাবে তাকে মেনে নিতে পারবে? আর কেনইবা মেনে নিবে? একজন আরব তো তার ঘড়ি বা একটি ম্যাচের কাঠির ক্ষেত্রেও এসব সহ্য করবে না। হ্যাঁ, এই পাশ্চাত্যের লোকটি অনুমতি দিতে পারে। শুধু অনুমতিই না; বরং নিজের স্ত্রীকেও দিয়ে দিয়ে প্র্যাসটিজ রক্ষার খেলায় মেতে যাবে। তাকে নিয়ে নৃত্য করবে। দেহে দেহ মিলাবে। মুখে মুখ লাগাবে। অঙ্গে অঙ্গে জড়িয়ে থাকবে। আরো কতো কী!
পক্ষান্তরে পৃথিবীর কোনো আরব নেই, যে এতে সম্মতি জ্ঞাপন করতে পারে। কোনো মুসলিমও এটা মেনে নিতে পারে না। এমনকি যার ভেতরে পৌরুষ আছে, সেও এসব বরদাশত করবে না। শুধু মানুষই নয়, একমাত্র শূকর ছাড়া ভিন্ন কোনো প্রাণীও সহ্য করবে না।
আপনাদের নিশ্চয় মনে থাকার কথা- আমেরিকান মহিলাটি শায়খ বাহযাতুল বায়তারকে কী বলেছিল? ফ্রান্সের বা আমেরিকার যেকোনো নারীর সাথে কথা বলার সুযোগ হলে তাদের প্রত্যেকে একই জবাব দিত যে, তোমরা আমাদের শরিয়তের প্রতিশোধ নিচ্ছ। ইসলামি শরিয়ত নারীকে মিরাসের সম্পত্তিতে পুরুষের অর্ধেক স্থির করেছে এবং একজন পুরুষকে একসাথে একাধিক বিবাহের অনুমতি প্রদান করেছে।
পক্ষান্তরে আমেরিকান নারীদের আপনারা জিজ্ঞেস করে দেখুন তো, তারা পুরুষের অর্ধেক মিরাস গ্রহণ করতে চায় কিনা এবং একজন পুরুষের দায়িত্বে ও তত্ত্বাবধানে থাকতে প্রস্তুত কিনা?
জার্মান রমণীদের জিজ্ঞেস করে দেখুন, যুদ্ধের পরে তারা দশজন একজন স্বামীর অধীনে থাকতে প্রস্তুত আছে কি না, যে তাদের সবার মাঝে সমান।
হারে সবকিছু বণ্টন করবে? এই পদ্ধতি ছাড়া আর কী উপায়ে জার্মান নারীর আধিক্য সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে?

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 প্রকৃতির মাঝে মিলনের সুর

📄 প্রকৃতির মাঝে মিলনের সুর


একটা প্রকৃতির ওপর আল্লাহ তায়ালা মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন। এই প্রকৃতিই দুটি জাতিকে পরস্পর মিলনের তাগিদ দেয়। এ দুয়ের মাঝে মিলন অপিরহার্য। ধরুন, কোথাও পঞ্চাশজন পুরুষ আছে। বিপরীতে একশত নারীর অবস্থান হলে সেখানে তরুণীর কী হতে পারে? একজন পুরুষের কি দু'জন-দু'জন করে নারীর দায়িত্ব নেয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো উপায় থাকতে পারে? একই প্রকৃতি কি সমস্ত প্রাণীর মধ্যে বিদ্যমান নেই? মৌমাছি ও মোরগ-মুরগীর মাঝে নারী-পুরুষের ব্যবধান কি বড় বেশি?
পাশ্চাত্যের একজন পুরুষ কি বিয়ের আগে চারজন নারী গ্রহণ করে না? হ্যাঁ, করে। তবে তারা করে অবৈধ পন্থায়। সুতরাং আপন বিবেককে প্রশ্ন করুন যে, আপনারা কি ইবলিসের শেখানো পথে সন্তুষ্ট হবেন? নাকি আল্লাহপ্রদত্ত বৈধ পথ অবলম্বন করে?
আপনি মনে করবেন না যে, পাশ্চাত্যের নারীরা সম্মানজনক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবনযাপন করছে। নাহ! আল্লাহর কসম! কখনও নয়। আমি পৃথিবীর বহু দেশ ভ্রমণ করেছি। আমি আমার সেই অভিজ্ঞতার আলোকে হলফ করে বলতে পারি যে, মুসলিম নারীদের চেয়ে জগতে সম্ভ্রান্ত ও অধিক সম্মানিতা কোনো নারী নেই।
আমাদের মুসলিম সমাজে স্বামী হচ্ছে স্ত্রীর জন্যে। তার বন্ধুর জন্য নয়। ঠিক তেমনই নারী হচ্ছে তার স্বামীর জন্যে। তার বান্ধবী বা জিএফএর জন্য নয়। স্বামী-ই তার একান্তজন। তার সামনেই পর্দা উন্মোচিত হবে; অন্য কারও সামনে নয়।
এবার বলুন তো, এটা কি একজন রমণীর জন্যে দোষের বিষয়? এ সমস্ত পরজীবীরাও কি নিজেদের স্ত্রীদের অন্যের সাথে থাকতে দিবে? নির্দিষ্টভাবে একটি প্লেট তার জন্যে রেখে দিবে আর সেখান থেকে একাই ভক্ষণ করবে- এতে কি একজন বিবেকবান পুরুষ সন্তুষ্ট হতে পারে না? নাকি অনেকের হাত দিয়ে ঝুটা করা উচ্ছিষ্ট ভোজে সে সন্তুষ্ট হবে?
আমি জিজ্ঞেস করি যে, পবিত্রতাই কি দোষের বিষয়? পাপ থেকে দূরে থাকাটাই কি অন্যায় বা লজ্জার কারণ? তাদের কাছে ভালোই কি মন্দের নামান্তর? আলোই কি তাদের কাছে অন্ধকার?
সুপ্রিয় পাঠক! অন্যের মাথা দিয়ে চিন্তা-গবেষণা, শত্রুদের চোখ দিয়ে দর্শন- পর্যবেক্ষণ এবং বানরের মতো তাদের অনুসরণ আমরা অনেক করেছি। এবার ফেরা দরকার নিজেদের রুচিবোধে, নিজেদের কৃষ্টিকালচারে এবং ইসলামি দর্শনে।
মনে রাখবেন, পশ্চিমা নারীরা পুরুষের খেলার পুতুল। তাই তাদের মতো কেন হতে দেব আমাদের রমণীদের? আমাদের রমণীরা আমাদের মর্জি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবনযাপন করবে। যেন আমরা তাদের জন্যেই হতে পারি। যেন আমরা তাদের নিয়েই তুষ্ট জীবন ধারণ করতে পারি। অন্য কারও দিকে আমাদের নজর ফেরানোর প্রয়োজন নেই।
অভিজ্ঞতার আলোকে আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি যে, জগতে মুসলিম রমণীদের চেয়ে উত্তম কোনো রমণীই হতে পারে না। যতক্ষণ পর্যন্ত সে নিজস্ব পোশাক ও কৃষ্টিকালচার এবং ইসলামি জীবনবিধান ও চারিত্রিক পরিশীলতা গ্রহণ করবে।
মনে রাখবেন- এই সমাজ থেকেই জগদ্বিখ্যাত হয়েছেন হযরত আয়েশা, আসমা, খাওলা, ফাতেমা, রবীয়া। এখান থেকেই খ্যাতিলাভ করেছেন শত শত তাপসী নারী, আলেমা, আবেদা। এখান থেকেই জন্ম নিয়েছিলেন সেই সন্তানেরা মায়েরা, যারা যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন ঘোড়সওয়ার আর রাতের আঁধারে ছিলেন ইবাদতগুজার। যারা সিংহাসনের বুকে ছিলেন অহিংস সিপাহসালার আর চিন্তা-গবেষণায় ছিলেন প্রতিভার সর্বোচ্চ চূড়ায় আরোহণকারী। অর্থ ও বিত্তের দিক থেকে তারাই ছিলেন প্রতাপশালী সম্রাট। তাবৎ দুনিয়া যাদের কাছে মাথা নত করত ইসলামের বিমুগ্ধ শোভায়।

📘 লাভ ম্যারেজ > 📄 বিয়ের বয়স কত

📄 বিয়ের বয়স কত


বিয়ের প্রকৃত বয়স কত- এ নিয়ে মহাবিপাকে দুনিয়ার মানুষ। অনেক অভিভাবক কুয়ারার সুরে বলে থাকে যে, 'এখনো ছেলে বা মেয়ের বিয়ের বয়স হয়নি। আর কয়েক বছর অপেক্ষা করি! তারপরই না হয় তাদের বিয়েটা দিই। ছেলেমেয়ের পড়ালেখাটাও একটা পর্যায়ে পৌঁছুক কিংবা কোনো চাকরি বাকরি ধরে ফেলুক। না হয় বিয়ে করে তারা খাবে কী? বউকে দিবে কী? তাছাড়া পড়ালেখা শেষ না করে বিয়ে করলে লোকসমাজে মুখ দেখাই কিভাবে?' ইত্যাকার প্রশ্ন আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন থেকেই চলে আসছে।
জাতিসংঘ ছেলে-মেয়ে উভয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বয়সসীমা নির্ধারণ করেছে আঠারো। এর আগে সবাই শিশু। তাই আঠারো বছরের আগে কোনো ছেলে কিংবা মেয়ের বিয়ে দেয়া কথিত আন্তর্জাতিক আইনে সিদ্ধ নয়। কিন্তু বাস্তবে জাতিসংঘের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার এই বয়স নির্ধারণ করা কতটা যুক্তিযুক্ত? প্রকৃতপক্ষে বিয়ের প্রকৃত বয়স কত?
এ প্রশ্নের জবাবে আমার দ্বিধাহীন বক্তব্য হলো, আপনি নিজ থেকে প্রথম যেদিন নিজের সাবালকত্ব সম্পর্কে পূর্ণ অনুভূতি লাভ করবেন, সেটাই আপনার বিয়ের উপযুক্ত বয়স।
সব বিষয় দলিল-প্রমাণ দিয়ে হয় না। বিয়ের বয়স নির্ধারণের জন্যেও কোনো দলিল-প্রমাণ তলবের প্রয়োজন নেই। কারণ কারও মতে বিয়ের বয়স হচ্ছে ত্রিশ। কেউ আবার মত দিয়েছেন চল্লিশ।
আমার জবাব হলো- আল্লাহ মানুষকে যে ফিতরাতের ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার অনুকূল হলেই বিয়ে করে ফেলা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই কল্যাণকর। আমার দেয়া জবাবটি বোঝার জন্যে একটা ভূমিকা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
মনে রাখবেন যে, আল্লাহ মানুষকে দুটি স্বভাবজাত গুণ দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। একটি হলো মানবসত্তার সংরক্ষণ ভাবনা। এই ভাবনার কারণেই আমাদের ক্ষুধা লাগে। দ্বিতীয়টি হলো জাতিসত্তার সংরক্ষণ চেতনা। এই চেতনার তাগিদেই বংশধারা টিকে আছে। এই দুটির একটি বিশুদ্ধ প্রমাণিত হলে অপরটিও নির্ভুল মেনে নিতে হবে।
আচ্ছা বলুন তো, মানুষ কখন খাবার গ্রহণ করে? আপনি অবশ্যই এ প্রশ্নের জবাবে বলবেন যে, যখন খাওয়ার চাহিদা হয় কিংবা ক্ষুধা লাগে তখনই মানুষ খাবারের প্রতি আগ্রহী হয়ে থাকে। আপনার এই জবাবের সূত্র ধরেই আমি বলব যে, মনের মাঝে জৈবিক চাহিদা পূরণের চাহিদা জন্ম নিলে কিংবা যৌনচাহিদা পূরণের তাগাদা অনুভব করলেই বিয়ের প্রকৃত বয়স হয়ে থাকে। কথাটাকে খোলাসা করার জন্য আবার বলছি- মানুষ কখন খাবার খায়?
জবাবে আপনারা বলবেন, যখন ক্ষুধা লাগে তখন।
তো আমিও বলব, বিয়ে তখনই করবেন, যখন কামনার উদ্রেক হয়, মনের সুপ্ত বাসনা জাগ্রত হয়। অর্থাৎ যে সময়ে পৌরুষ আসে, যৌবন আসে তখন। মোটামুটি সর্বোচ্চ আঠারো বছর ধরা যায়।
আপনারা প্রশ্ন করবেন, এ বয়সে পৌঁছার পরও যদি বিয়ে করার মতো অর্থ হাতে না থাকে, তাহলে কী করব?
আমি বলব, ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে পয়সা না থাকলে সে যা করে, এই যুবকও তা-ই করবে। খাবার হাতে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে।
আপনারা বলবেন, যদি ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে না পেরে সামনে অন্যের খাবার উপস্থিত পেয়ে চুরি করে খেয়ে ফেলে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে আমরা কী করব?
এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হলো, প্রতিটি সমাজে অনাহারীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যেন তারা চুরি বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। যদি কোনো কারণে সমাজের লোক খাবারের যোগান দিতে না পারে এবং তাদের থেকে চুরির আশঙ্কা করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কর্তব্য হলো, যার যার মাল ও অর্থসম্পদ হেফাজত করা। এখন যদি বলেন যে, তাদের চুরি করা একদিকে বৈধ! কারণ, সমাজ তাদেরকে খাদ্যবঞ্চিত করেছে; অথচ এটা তাদের জৈবিক অধিকার? অপরদিকে অবৈধ! কারণ অন্যের সংরক্ষিত জিনিসে তারা হাত লাগিয়েছে। ঠিক একই কথা বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00