📄 অন্যরকম যুবক-যুবতি
দামেশকে একজন লোক ছিল। সে ছিল খুবই চালাক। সে আমারও পরিচিত ছিল। সবকিছুতে সে চতুর ও ঝটপট। আশ্চর্য ও দুর্লভ গল্প শুনিয়ে মানুষকে অবাক করে ফেলত সে। অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে মানুষকে হতবাক করে দিত। মানুষ তার যেকোনো প্রোগ্রামে-আয়োজনে আনন্দের সাথে ছুটে আসত। সে যেখানে আছে সেখানে অন্য কারও কথা বলার সুযোগ থাকত না, অধিকারও না। তার অভিনব সব কাণ্ডকারখানা লোকজনকে হৃদয়ের গভীর থেকে হাসিয়ে তুলত।
কিন্তু এই লোকটিই স্বীয় পরিবারের সাথে ছিল ব্যতিক্রমী এক ব্যক্তি। ঘরের কারও সাথে তার কোনো হাসি-ঠাট্টা ছিল না। ঘরে যাওয়ার পর প্রয়োজন ছাড়া তার মুখ থেকে কথাও বের হতো না। সে ঘরে আসা মানেই এক বিপদের আগমন! সবাই আতঙ্কে থাকত তাকে নিয়ে। সবার সাথে কথার অনশন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে আরেকজন লোক সম্পর্কে জানি। সে বিভিন্ন ভ্রমণে-বিনোদনে বের হলে একাই সবার খেদমত আঞ্জাম দেয়। বন্ধুরা সবাই তাঁবুতে থাকলে সে নিজেই বাজার থেকে গোশত, তরকারি, শাকসবজি নিয়ে আসে; আগুন জ্বালায়; সবার জন্যে খাবারের আয়োজন করে। একসাথে সবাই গল্পে মেতে থাকলে সে বন্ধুদের জন্যে আনন্দচিত্তে চা-কফি পরিবেশন করে। তাদের কারও কিছু প্রয়োজন হলে সে নিজেকে এগিয়ে দেয়। বন্ধুদের সেবায় নিজেকে পেশ করে।
কিন্তু নিজের বাড়িতে সে একজন অলস ব্যক্তি। পরিবারের ওপর সে শাসনের লাঠি ঘোরায়। অযথা তাদেরকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত রাখে। এক গ্লাস পানিও নিজের হাতে ঢেলে পান করে না। বসার চেয়ার, ঘুমানোর কাঁথাটা পর্যন্ত তাকে এনে দিতে হয়। স্ত্রী-কন্যা সবাই যেন তার দাসী! যেন তারা তার কাজের বুয়া।
আরেক ব্যক্তিকে আমি চিনি। বন্ধুদের কাছে তার চেয়ে ভালো দ্বিতীয় কেউ নেই। তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে হাদিয়া পাঠায়। উপহার-গিফট যেকোনো মুহূর্তে তাদের জন্যে প্রস্তুত থাকে। তাদের ছেড়ে নিজে একা কিছুই গ্রহণ করে না। অথচ এই লোকটি পরিবারের কাছে সুপরিচিত কৃপণ ব্যক্তি। পরিবারের সদস্যদের জন্য আবশ্যিক জিনিসপত্র এনে দিতেও তার কলজের পানি শুকিয়ে আসে।
এতক্ষণ কয়েকজন পরিচিত পুরুষের কথা বললাম। আমার পরিচিত ক'জন নারীর কথাও তাহলে বলে ফেলি।
আমি এমন কিছু নারীকেও চিনি। যাদেরকে অভ্যর্থনা বা আতিথেয়তায় রাখা হলে তাদের থেকে একটা শক্ত কথা, তীক্ষ্ণবাক্য কিছুই শোনা যাবে না। একটি মুহূর্তের জন্যেও তাদের মুখ হাসিমলিন হবে না। যে কোনো বদমেজাজি পুরুষও তাদের একটি হাসিতে সব ভুলে যাবে। তারা বাধ্য হয়ে বলবে, মাশাআল্লাহ! কী অপরূপ চাহনি! কত চমৎকার ব্যবহার! কেমন মধুময় কথাবার্তা!
কিন্তু যখনই ঐ নারীরা স্বামীর পাশে যায় তখন তাদের অবস্থা আর অবস্থায় থাকে না। স্বামীর পাশে এরা বড়ই পাষাণ। সব সময় মুখ মলিন করে রাখে; যেন আশি বছরের বৃদ্ধা! কথা বললে এমন বিরক্তি নিয়ে বলে, যেন ইংরেজদের লবণাক্ত পানি পান করেছে! তাকালে মনে হয় খেয়ে ফেলবে!
আমি দেখেছি যে, অধিকাংশ নারী যখন কোনো ট্যুরে বা বিনোদনে বের হয় অথবা বাড়িতে বান্ধবী বা আত্মীয়স্বজনের আগমন ঘটে, তখন তাদের একেকজন নববধূর সাজ নেয়। তখন তারা আগেভাগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ সেরে ফেলে। সময় লাগিয়ে গোসল করে, চুলে শ্যাম্পু করে, সুন্দর সুন্দর জামা পরে, সুগন্ধি পারফিউমের বডি স্প্রে লাগায়, হাতে মেহেদি লাগায়, ক্রিম-আলতা-স্নো আরও কত কি ব্যবহার করে!
কিন্তু স্বামীর সামনে এরা থাকে এলোমেলো কেশে! তার সামনে আসে আধোয়া চেহারায়। স্বামীর কাছে এলে তাদের শরীর থেকে রসুন-পিঁয়াজের গন্ধ বেরুতে থাকে! মসলার গন্ধ থাকে গা জুড়ে।
অথচ স্ত্রীর ওপর স্বামীর হক সবচেয়ে বেশি। জ্ঞান-বুদ্ধি, দীন-ধর্ম সবকিছুই বলে যে, যদি সাজতে হয় তাহলে স্বামীর জন্যে সাজবে; অন্য মানুষের
জন্যে নয়। স্বামীর পাশে উত্তম কাপড়, সুগন্ধি লাগিয়ে, সুন্দর-সুন্দর বাক্যবিনিময়ে অবস্থান করবে। মৃদু হাসি, নম্র ব্যবহার সবকিছুই স্বামীর জন্যে জমিয়ে রাখবে।
একইভাবে যুক্তি ও নীতির দাবি হলো, স্বামীর কাছে নিজ পরিবারই সর্বাধিক সম্মান ও শ্রদ্ধার যোগ্য। তারাই সেবা ও হাদিয়া পাওয়ার উপযুক্ত। হাসি-কৌতুক, সহযোগিতা ও কল্যাণকামিতার সবচেয়ে বড় অংশ পরিবারের জন্যে বরাদ্দ রাখতে হবে। শুধুই অন্য মানুষের জন্যে নির্দিষ্ট হতে পারবে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, কিভাবে যে অবস্থার পরিবর্তন হলো! নিকটের লোক হলো অশ্রদ্ধার পাত্র! পক্ষান্তরে অপরিচিত হলো শ্রদ্ধার যোগ্য!
সম্মানিত পাঠক-পাঠিকা! এসবের মূল কারণগুলো আমি জানি।
এর মূল, প্রথম ও প্রধান কারণ হলো, কৃত্রিমতায় আমাদের সীমাতিরিক্ত বাড়াবাড়ি। বাস্তব কথা হলো, আন্তরিকতা কৃত্রিমতাকে দূর করে দেয়। আর হাস্যকর কথা হচ্ছে, স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ভেতরগত আচরণেও কৃত্রিমতার আশ্রয় নেয়।
তাই কৃত্রিমতা পরিহার করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা উচিৎ। একে অন্যের কাছে নিজের দোষ-গুণ সবই জানাতে পারে। প্রতিটি মানুষের একান্ত কিছু বিষয় আছে, যা সে অন্যের কাছে প্রকাশ করতে চায় না। এমনকি অতি নিকটজনের কাছেও না। আরবদের প্রবাদ হলো 'অধিক নৈকট্য, পর্দা অবিচ্ছেদ্য'।
তোমার চেহারাটা প্রিয়জনের সামনে রাখ। খুব কাছাকাছি হও; যেন তার ও তোমার মাঝে এক আঙুলের বেশি ফাঁকা না থাকে। তখন কিন্তু সে তোমাকে দেখতে পাবে না; বরং নাকের স্থানে দেখবে পাহাড়ের মতো কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে। অথবা সোজা করে তুমি দুটি রেখা টানো। এরপর সেখান থেকে সামান্য দূরে রেখাদুটির প্রতি দৃষ্টিপাত কর। দেখবে খুবই সোজা, কোনো বক্রতা নেই। কিন্তু যত কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করবে; (যদি পার অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে) তাহলে দেখতে পাবে, প্রতি বিন্দু পরপর সরল রেখাদুটো এদিক সেদিক বাঁকিয়ে আছে। একই অবস্থা মানুষের ক্ষেত্রেও।
আমার একজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। ত্রিশ বছর যাবৎ তার সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক। কোনোদিন আমি তার থেকে মন্দ কিছু দেখিনি। সব সময় আমার মতের অনুকূলে তাকে পেয়েছি। একবার তার সাথে কোথাও সফরে বের হলাম। জায়গা সীমিত থাকায় সফরের রাতে এক রুমে দু'জনের থাকতে
হলো। সেখানে তার খাওয়া-দাওয়া, অজু-নিদ্রা দেখে মনে হলো তার সাথে আমার নীতিগত অনেক বৈপরীত্য রয়েছে!
আশা করি এ আলোচনা থেকে স্বামী-স্ত্রী বেশ উপকৃত হবেন এবং যে সমস্ত যুবক-যুবতি এখনও বিয়ে করেনি, তারা বিয়েতে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
📄 এক বেনামি যুবতির আর্তি
আজ হতে ত্রিশ বছর আগে। এক যুবতি তার মনের আকুতি মিশিয়ে আমার কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করে। বেনামি ঐ তরুণীর প্রশ্নের জবাবে একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম। প্রবন্ধটি লেখার কয়েকদিনের মধ্যেই 'মাআন্নাস' নামে একটি বই প্রকাশিত হয়। তাতে প্রবন্ধটি সংযুক্ত করে দিই। প্রবন্ধটিতে বিবাহ ও আমাদের নারী সমাজ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। যখন প্রবন্ধটি লিখি তখন মধ্যপ্রাচ্যে নানা দিক হতে নারীদের অবস্থা ছিল সকরুণ। তাই বইটি সেখানকার অধিবাসীদের জন্যে বেশ উপকারী হবে বলে আশা করছি।
বেনামি ঐ যুবতির পক্ষ থেকে আমার নামে ডাকে একটি পত্র আসে। চিঠিতে লেখা তার কিছু শব্দ ও বাক্য তার গুণ ও মানকে ক্ষুণ্ণ করেছে। পত্রে তিনি কিছু বিষয়ে অভিযোগ তুলেছেন। আর কিছু বিষয়ের প্রশংসাও করেছেন। তার কথার কিছু অংশ পাঠকের সুবিধার্থে তুলে ধরছি-
দেখুন আরব্য রমণীদের সংকীর্ণ জীবন ধারণ। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্য রমণীদের সচ্ছল জীবনোপকরণ। এই নারীর বন্দি জীবন আর ওই নারীর স্বাধীন ভুবন।
বেনামি যুবতির লেখা এই অংশটি পড়ে আমি থমকে যাই। শব্দগুলো আমাকে মহাতাড়নায় ফেলে দেয়। আমাকে দংশন করে বাক্যগুলো। আমি ভাবনার সাগরে হারিয়ে যাই। এক সময় আমার খেই ফিরে। আমি যুবতির চিঠির উত্তর দেয়ার সংকল্প করে ফেলি।
আমার মন বলতে থাকে যে, আরে! এই যুবতি তো ভুল ধারণায় আছে। তাকে সত্য ও সোনালি সুন্দরের পথ দেখানোর দায়িত্ব তো এখন আমার। আমি যদি তার ভুল ধারণা ভেঙ্গে না দিই তাহলে নিশ্চয় আমাকে আল্লাহ তায়ালার দরবারে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। তাই আমি মনস্থির করি। যাতে তার ভুলগুলো শুধরে দিতে পারি।
মূলত তার চিঠির জবাবই এই প্রবন্ধের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়।
আমি ভাবতে থাকি যে, এই বেনামি যুবতির মতো আরও অনেকেই হয়তো এমন ধারণা পোষণ করে থাকে। তারা স্বীকার করতে চায় না যে, এসব হচ্ছে কেবলই ধারণা।
এই ধারণা ও মন্তব্যের সর্বসুন্দর, অর্থবহ ও সংক্ষিপ্ত জবাব সম্পর্কে আমি আমার প্রখ্যাত উস্তাদ শায়খ বাহযাতুল বায়তারের একটি জিজ্ঞাসার জবাবকে তুলে ধরতে চাই। তিনি আমেরিকা নিবাসী এক রমণীর জিজ্ঞাসার প্রতিউত্তরে কথা প্রসঙ্গে আমাকে জানিয়েছেন। তিনি আমেরিকার এক সভায় আলোচনা করতে গিয়ে মুসলিম নারী সম্পর্কে কথা বলছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, অর্থসম্পদে নারীদের নিরঙ্কুশ স্বাধীনতা রয়েছে। এখানে কারও হাত নেই। এমনকি স্বামী, বাবা কেউ তার সম্পদে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
উপরন্তু মহিলা দরিদ্র হলে যাবতীয় খরচাপাতি ও ব্যয়ভার তারাই গ্রহণ করবে। যদি তার বাবা-ভাই কেউ না থাকে, তাহলে যারাই তার উত্তরাধিকারী হতে পারবে তারা তার দায়ভার কাঁধে তুলে নেবে; যদিও সে চাচাতো ভাই-ই হয়। এভাবে ঐ পর্যন্ত তার দায়িত্বভার অন্যের হাতে সোপর্দ থাকবে- যতক্ষণ পর্যন্ত তার বিয়ে না হবে অথবা সে নিজে অর্থসম্পদ উপার্জন করতে না পারবে। বিয়ে করলে স্বামী তার দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নেবে; যদিও স্ত্রী কোটিপতি হয়ে থাকে।
এভাবে ইসলাম ধর্মে নারীর মর্যাদা অতি উচ্চে রাখা হয়েছে।
আমার শায়খের কথায় প্রসিদ্ধ সাহিত্যশালার এক নারী দাঁড়িয়ে বললেন যে, যদি আপনাদের কাছে নারী এতই মর্যাদার হয়, তাহলে আমাদেরকেও আপনাদের ওখানে ছয় মাস রাখুন। এরপর হত্যা করে ফেলুন!
আমার শায়খ তো ভদ্রমহিলার কথা শুনে খুব আশ্চর্য বোধ করলেন। তিনি দরদের সাথে জিজ্ঞানুনেত্রে তার অবস্থা জানতে চাইলেন।
জবাবে মহিলা সবিস্তারে নিজের অবস্থা এবং সন্তানদের দুর্গতির কথা তুলে ধরল।
আমেরিকান ঐ মহিলা বাহ্যত নিজেকে স্বাধীনা ও সম্মানিতা হিসেবে প্রকাশ করে। অথচ সে বন্দিনি ও অপমানিতা। কারণ আমেরিকার লোকেরা নারীদের আনন্দ-আয়োজনে স্বাধীনতা দিয়ে রাখে। সেখানে সম্মান দেখায়। কিন্তু জীবনের বৃহদাংশে তাদেরকে অবহেলা করা হয়।
📄 প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের তরুণী
জনাবা, আপনারা পুরুষের মিষ্টি কথায় কান দেবেন না। কারণ কোনো পরপুরুষই প্রকৃতভাবে আপনার কল্যাণ চায় না। তারা আপনাকে কয়েকদিন ভোগ করে পরে টিস্যু পেপারের মতো ছুঁড়ে ফেলে দিবে।
মনে রাখবেন যেই পুরুষ নারীদের উত্ত্যক্ত করে এবং নারীর জন্যে অসৎ উদ্দেশ্যে অর্থ অপচয় করে, আমাদের কাছে সে পাপাচারী হিসেবে বিবেচিত। কারণ, কোনো পুরুষ একজন নারীকে অনেক চেষ্টা-তদবিরের পরই লাভ করতে পারে। প্রাচ্যের নারীরা আচ্ছাদিত থাকে। গর্হিত কাজ কাজ থেকে নিজেদের বিরত রাখে। এ কারণে তারা সম্মানের পাত্রী; মানুষের কামনার বস্তু নয়। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্যের নারীরা জনসম্মুখে নিজেদের উপস্থাপন করে থাকে। ফলে তাদেরকে লাঞ্ছিত হতে হয়। কেননা, জগতের যা কিছু খোলা চত্বরে প্রকাশ করা হয়, তার দাম কমে যায়। একইভাবে যেসব নারী খোলামেলা চলাফেরা করে আপনারাই তাদের সম্পর্কে নিজের বিবেককে ঠাণ্ডা মাথায় একটু খাটিয়ে দেখুন। আপনারাই ভেবে দেখুন তো আপনাদের কাছে কোন নারীর মূল্যায়ন বেশি! যারা নিজেকে ঢেকে রাখে তাদের, নাকি যারা উদোম চলে তাদের?
তবে হ্যাঁ, যাদের বিবেক লোপ পেয়েছে, যাদের ওপর পাশবিকতা ভর করেছে, রুচিবোধ যাদের কাছ থেকে বিদেয় নিয়েছে, যাদের রঙিন চশমা তামাম পৃথিবীটাকেই নোংরা ও উলঙ্গ দেখে তাদের কাছে তো উদোম দেহটাই ভালো ঠাওর হবে! যাদের মধ্যে মনুষ্যত্ববোধ নেই, যারা মানুষের কাতারে পড়ে না, তাদের ব্যাপার তো আলাদা হওয়াটাই স্বাভাবিক!
📄 ডক্টর বন্ধুর তিক্ত সংলাপ
আমার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ডক্টর ইয়াহইয়া আল শামা। আজ থেকে তেত্রিশ বছর আগে তিনি প্যারিস থেকে অধ্যয়ন সমাপ্ত করেন। উচ্চতর ডিগ্রি লাভশেষে ফিরে এসে আমাকে তিনি একটি তথ্য দিয়েছিলেন। তাহলো, একবার তিনি প্রবাসে থাকাবস্থায় ভাড়া রুমের খোঁজে এক বাড়িতে গিয়েছিলেন। ঘরের বাইরে ছোট একটি বালিকা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছিল। তিনি ঘরের অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করলেন, 'ওর কী হয়েছে?' জবাবে ঘরের লোকেরা বলল, ও আমাদেরই মেয়ে। কিন্তু বয়স হওয়ার কারণে আমাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন সে একাকী জীবনযাপন করবে।
আমার ঐ বন্ধু তাদেরকে বললেন, তো কাঁদছে কেন? জবাবে তারা জানাল যে, সে আমাদেরই একটি রুম ভাড়া চেয়েছিল। আমরা ওর কাছে ভাড়া দেইনি।
তিনি জানতে চাইলেন কী কারণে ভাড়া দিতে চাচ্ছেন না? জবাবে তারা বলল, সে ভাড়া বাবদ বিশ ফ্রাস্ক দিতে চেয়েছে। অথচ অন্যরা ত্রিশ ফ্রাস্ক দিয়েও ভাড়া নিতে রাজি। তাকে বিশ ফ্রাস্কে ভাড়া দিলে যে আমাদের দশ ফ্রাস্ক আয় কমে যায়।
সুপ্রিয় পাঠকমহল! অনেকের মন সবসময় থাকে সন্দেহপ্রবণ। তাই এমন কারো মনে আমার বর্ণিত এই ঘটনার প্রতি সন্দেহ জাগতে পারে। আমি তাদের অনুরোধ করব যে, ডক্টর ইয়াহইয়া আল শামা এখনও বেঁচে আছেন। আপনারা দয়া করে তাকে জিজ্ঞেস করুন। তিনি স্বচক্ষে দেখেছেন এবং নিজের কানে সেই কান্না শুনেছেন।
সত্যি বলতে কি! যারা ইউরোপ-আমেরিকা সফর করেছেন, তারা আমাদের কাছে এ জাতীয় আরও অনেক ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন। সেখানে নারীরা পেটের দায়ে নিজেদেরকে বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত করছে আর লাঞ্ছিত।
হচ্ছে। অহরহ আমরা এসব দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি। সামান্য খাবারের জন্যে নিজেকে তারা বিলিয়ে দিতে এতটুকু ইতস্তত করে না। তার তুলনায় আমাদের নারীরাই অধিক সম্মানের সাথে আছেন।
আপনারা নিশ্চয় 'তাওফীক আল হাকীমে'র লেখাটি পড়ে থাকবেন। সেখানে চোখে আঙুল দিয়ে বোঝানো হয়েছে, একটি মেয়ে তার জীবনের দায়ে কী ধরনের কাজের জন্যে নিজেকে প্রস্তুত করেছিল? মেয়েটি নিরুপায় হয়ে এক পর্যায়ে এক সুসাহিত্যিকের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল। কিন্তু মেয়েটির দুর্বলতার সুযোগকে ষোলআনা কাজে লাগায় সেই লেখক। তিনি মেয়েটির সাথে স্ত্রীসুলভ আচরণ করতেন। তারপরও মেয়েটি বাধ্য হয়েছিল মুখ বুজে সব মেনে নিতে। কারণ মেয়েটির মূল চাহিদা ছিল শুধু দু'বেলার আহার, একটু থাকার ব্যবস্থা। কিন্তু ঐ লেখকই মেয়েটিকে স্বীয় জৈবিক চাহিদায় ব্যবহার করে পরবর্তীতে তাকে ধূর ধূর করে বাড়ি থেকে নিষ্ঠুরভাবে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন।