📄 যার চেহারা সুন্দর তার প্রতি সবার নজর
একটি মজলিসে অনেকগুলো লোক বসে আছে। তারা পরস্পর গল্প কিংবা কোনো পরামর্শ করছে। এখানে সাধারণত আমাদের দৃষ্টি কার উপর পড়বে? নিশ্চয়ই মজলিসের মাঝে যে সবথেকে সুন্দর, গুছিয়ে কথা বলছে তার উপর। অন্য কারো উপর সাধারণত আমাদের দৃষ্টি পড়বে না। আর এটাই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম।
ঠিক তেমনিভাবে, যে ব্যাক্তির দিল সুন্দর। অন্তর পরিস্কার। আমল ভালো। চরিত্র সুন্দর; তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার প্রতিই তাকান। তার প্রতিই তাঁর রহমতের দৃষ্টি দেন।
আজকের সমাজের যুবকেরা নারীর দৃষ্টিতে আকর্ষিত হওয়ার জন্য কতো কিছুই না করে থাকে... এতো কিছু করার কারণ কী? কারণ হলো, যুবক সর্বদা মানুষিক কষ্টে ভোগে। ভাবে- আমাকে কেনো নারীরা পছন্দ করে না! কেনো আমার প্রতি নারীরা আকর্ষিত হয় না! কেনো আমার দিকে তারা তাকায় না!
যাতেকরে, মানুষ তার দিকে তাকায়, নারী তার প্রতি আকর্ষিত হয়, এই জন্য যুবক ছেঁড়া প্যান্ট পরে। বাজার থেকে নতুন প্যান্ট কিনে এনে বিভিন্ন জায়গায় কেটে ডিজাইন বানায় আর মনে মনে বলে যে, 'আমার দিকে তাকাবি না আবার; এবার এমন ডিজাইন করেছি যে, তোর তাকাতেই হবে, এতে আমাকে পাগল বলো আর ছাগল বলো তাতে আমার কিছু যায় আসে না!’
আচ্ছা এরপরেও যদি না তাকায় তখন কী করবে? ছেলে হয়ে মেয়েদের মতোকরে চুল রাখবে, সজারু কার্টিং করবে, দুইপাশ দিয়ে নাই; মাঝ দিয়ে ইয়া বড় বড় রাখবে, বানরের মতো কালার করবে, লাল-নীল-সবুজ আরো কতো কী...! এতো কিছু করার পরও মানুষ তার দিকে তাকায় না, তাকে পাত্তা দেয় না; তখন সে কানে দুল পরে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ওকে বানাইছে পুরুষ, আর ও কানে পরছে দুল। নারীর রূপ ধারণকরে বলবে যে, 'দেখো দেখো আমি নারীর বেশ ধারণ করেছি, তোমরা এবার আমার দিকে তাকাও!’
মানুষ তারপরও যদি তার দিকে না তাকায়, তখন সে হাতে টায়ার-টিউব-লোহা-লক্কর কতো কিছু যে পরে... গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে কিনে এনে হাতের আঙ্গুলের মাঝে কী কী যেনো দেয়! প্রত্যেক আঙ্গুলের বৈশিষ্টও নাকি আলাদা আলাদা।
আচ্ছা যুবকের এতো আয়োজন কেনো? এতো কিছু কেনো করে? কারণ একটাই- ওর মনে শান্তি নেই। ও যার, তাঁর সাথে কানেকশন নেই। যুবকরা আজ দিশেহারা। মানুষিক কষ্টে ভোগে। মানুষ ওর প্রতি তাকায় না। আচ্ছা মানুষ ওর প্রতি তাকাবে কী করে? যে রব ওকে মায়া মুহাব্বাত করে সৃষ্টি করেছে; সেই রবের সাথেই তো ওর কোনো কানেকশন নেই। রবের জন্য ওর ভালোবাসা নেই। মায়া-মুহাব্বাত নেই। ওর অন্তরে রবের পক্ষথেকে বিন্দুমাত্র রহমতও নেই। অন্তরে শুধু আগুন আর আগুন। আর বাস্তব কথা হলো, যার প্রতি রবের রহমত নেই তার প্রতি কারো রহমত নেই।
আরেকটু সহজকরে বলি, এতিম শিশুকে কে দাম দেয় বলুন তো? কে ওকে ভালোমন্দ জিজ্ঞেস করে? কে ওর প্রতি তাকায়? দু'একজন অতি মানবিক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার বান্দা ব্যতীত কেউ ওর খোঁজ-খবর নেয় না। ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করে না। আর যে শিশুর বাবা-মা আছে। ভালো বংশ আছে। পোশাকে বোঝা যায় যে, ও ভালো ঘরের সন্তান; তো ওর প্রতি সবাই তাকায়। সবাই ওকে ভালো-মন্দ জিজ্ঞেস করে। খোঁজ-খবর নেয়। যে পথশিশু রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। রেল লাইনে ঘুমায়। চুরি-বাটপারি করে। ওর প্রতি কেউ তাকায় না। কেউ ওকে মূল্যায়ন করে না। ওর হালপুরুস্তি কেউ জিজ্ঞেসও করে না।
ঠিক তেমনি, যুবকের সাথে যদি সরাসরি রবের সাথে কানেকশন থাকে, তাহলে যুবক যেনো ভালো ঘরের সন্তানের মতো। নতুবা, উদভ্রান্ত যুবক এতিমের সমতুল্য।
যুবকের সাথে রবের সম্পর্ক- হযরত সুহাইব রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: পূর্ববর্তী যুগে এক বাদশাহ ছিলো। তার ছিলো এক যাদুকর। বার্ধ্যক্যে পৌঁছে সে বাদশাহকে বলল, 'আমি তো বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি, সুতরাং একজন যুবককে আপনি আমার নিকট প্রেরণ করুন, যাকে আমি যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিবো।' যাদুকরের কথামতো বাদশাহ তার কাছে এক যুবক প্রেরণ করলো। যুবকের যাত্রাপথে ছিলো একজন আলেম। যুবক তার কাছে বসলো এবং তার কথা শুনলো। তার কথা যুবকের খুবই পছন্দ হলো। এরপর থেকে যুবক যাদুকরের নিকট যাত্রাকালে সর্বদাই তার কাছে বসতো ও তার কথা শুনতো। তারপর সে যখন যাদুকরের নিকট যেতো দেরি হওয়ার কারণে যাদুকর তাকে মারধর করতো। ফলে যাদুকরের ব্যাপারে সে আলেমের নিকট অভিযোগ করলো। আলেম বলল, 'তোমার যদি যাদুকরের ব্যপারে ভয় হয় তবে বলবে, আমাকে বাড়ি থেকে আসতে দেয়নি। আর যদি তুমি গৃহকর্তার ব্যপারে আশঙ্কাবোধ করো তবে বলবে, আমাকে যাদুকর বিলম্বে ছুটি দিয়েছে।
যুবকের দিনগুলো এভাবেই অতিবাহিত হচ্ছিলো। একদিন হটাৎ সে এক ভয়ানক প্রাণীর সম্মুখিন হলো, যা লোকদের পথ আটকিয়ে রেখেছিলো। এ অবস্থা দেখে সে বলল, 'আজই জানতে পারবো যাদুকর উত্তম না আলেম উত্তম।' এই বলে একটি পাথর হাতে নিয়ে সে বলল, 'হে আল্লাহ! যদি যাদুকরের চাইতে আলেম আপনার নিকট পছন্দনীয় হয়, তবে এই পাথরাঘাতে আপনি হিংস্র প্রাণীকে নিঃশেষ করে দিন, যেনো লোকজন চলাচল করতে পারে। যুবক পাথরটি জন্তুর প্রতি ছুঁড়ে মারলো। সাথে সাথে সেটা মারা গেলো। ফলে লোকজন আবার যাতায়াত শুরু করলো।
এরপর সে আলেমের কাছে এসে তাকে সম্পূর্ণ ঘটনা খুলে বলল। আলেম বলল, 'বৎস! আজ তুমি আমার থেকেও শ্রেষ্ঠ। তোমার মর্যাদা এই পর্যন্ত পৌঁছেছে যা আমি দেখতে পাচ্ছি। তবে শীগ্রই তুমি পরিক্ষার সম্মুখিন হবে। যদি পরিক্ষার মুখোমুখি হও তবে আমার কথা গোপন রাখবে।'
এদিকে যুবক আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুমে জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে আরোগ্য দান করতে লাগলো এবং লোকদের সমুদয় রোগ-ব্যাধির নিরাময় করতে লাগলো। বাদশাহর পরিষদবর্গের একলোক অন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। তার ব্যাপারে জানতে পেরে সে বহু হাদিয়া-উপঢৌকন নিয়ে আসলো এবং তাকে বলল, 'তুমি যদি আমাকে আরোগ্য দান করতে পারো তাহলে এসব মাল আমি তোমাকে দিয়ে দিবো।' যুবক বলল, 'আমি তো কাউকে আরোগ্য দান করতে পারি না। আরোগ্য তো দান করেন একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা। তুমি যদি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার উপর ঈমান আনো তাহলে আমি তোমার আরোগ্যের জন্য দোয়া করবো, এতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাকে আরোগ্য দান করবেন। লোকটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার উপর ঈমান আনলো। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে রোগ মুক্ত করে দিলেন।
অন্যান্য দিনের মতো লোকটা বাদশার দরবারে এসে বসলো। বাদশাহ তাকে জিজ্ঞেস করলো, 'কে তোমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছে? সে বলল, 'আমার পালনকর্তা।' এ কথা শুনে বাদশাহ তাকে আবার জিজ্ঞেস করলো, 'আমি ছাড়া তোমার অন্য আর কোনো পালনকর্তা আছে কী?' লোকটা বলল, 'আমার ও আপনার সকলের পালনকর্তাই হলেন মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা। বাদশাহ তাকে পাকড়াও করে অবিরতভাবে শাস্তি দিতে লাগলো। অবশেষে সে ঐ যুবকের সন্ধান দিলো। যুবককে নিয়ে আসা হলো। বাদশাহ তাকে বলল, 'প্রিয় বৎস! তোমার যাদু এ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তুমি অন্ধ ও কুষ্ঠ রোগীকেও নিরাময় দান করতে পারো।' যুবক বলল, 'আমি কাউকে নিরাময় করতে পারি না। নিরাময় তো করেন একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা।
ফলে বাদশাহ তাকে শাস্তি দিতে লাগলো। অবশেষে সে এই আলেমের কথা বলে দিলো। বাদশার আদেশে আলেমকেও ধরে আনা হলো। তাকে বলা হলো, 'তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো।' সে অস্বীকার করলো। ফলে তার মাথায় করাত রেখে তাকে দু'টুকরো করে দেওয়া হলো।
এরপর ঐ যুবকটিকেও আনা হলো। তাকে বলা হলো, 'তুমি তোমার দ্বীন থেকে ফিরে আসো।' সেও অস্বীকার করলো। বাদশাহ তাকে তার কিছু সহচরের হাতে অর্পন করে বলল, 'তোমরা তাকে অমুক পাহাড়ে নিয়ে যাও এবং তাকে সহ তোমরা পাহাড়ে আরোহণ করো। পর্বতশৃঙ্গে পৌঁছার পর সে যদি তার ধর্ম থেকে ফিরে আসে তো ভালো; নতুবা তাকে সেখান থেকে ছুঁড়ে মারবে।' তারা তাকে নিয়ে গেলো এবং পর্বতে আরোহণ করলো। তখন যুবক দোয়া করলো, 'হে আল্লাহ! তোমার যেভাবে ইচ্ছা তুমি আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করো।' ততক্ষণাৎ পাহাড় কেঁপে উঠলো। ফলে তারা পাহাড় হতে গড়িয়ে পড়লো। আর সে হেঁটে হেঁটে বাদশার দরবারে চলে এলো। এ দেখে বাদশাহ তাকে প্রশ্ন করলো, 'তোমার সাথীরা কোথায়?' সে বলল, 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করেছেন।'
আবারো বাদশাহ তার কতিপয় সহচরের হাতে সমর্পণ করে বলল, 'তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং নৌকায় উঠিয়ে তাকে মাঝ সমুদ্রে ফেলে আসো।' তারা তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেলে সে আবার দোয়া করলো। ফলে ততক্ষণাৎ নৌকাটি তাদের সহ উল্টে গেলো। তারা সবাই ডুবে গেলো আর যুবক বাদশার দরবারে হেঁটে হেঁটে উপস্থিত হলো। এ দেখে বাদশাহ তাকে আবার প্রশ্ন করলো, 'তোমার সাথীরা কোথায়?' সে বলল, 'আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাকে তাদের ষড়যন্ত্র হতে রক্ষা করেছেন।'
এরপর যুবক নিজেই বদশাহকে বলল, 'তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে না; যে পর্যন্ত তুমি আমার নির্দেশিত পথ অবলম্বন না করবে।' বাদশাহ বলল, 'সে আবার কী পথ?' যুবক বলল, 'একটি ময়দানে তুমি লোকদেরকে জমায়েত করো। এরপর একটি কাষ্ঠশূলিতে আমাকে উঠিয়ে আমার তীরদানী হতে একটি তীর নিয়ে সেটাকে ধনুকের মাঝে রাখো আর 'এই যুবকের রবের নামে' বলে আমার দিকে নিক্ষেপ করো। এমনটা করলেই তুমি আমাকে মেরে ফেলতে পারবে।
বাদশাহ তাই করলো। এই দৃশ্য দেখে রাজ্যের লোকজন সমস্বরে বলে উঠলো, 'আমরাও এই যুবকের রবের উপর ঈমান আনলাম।' বাদশাহ আরো বেশী রাগান্বিত হলো। রাস্তার দু'পাশে গর্ত খননকরে অগ্নি জ্বালানো হলো। এরপর বাদশাহ বলল, 'যে তার ধর্মমত বর্জন না করবে তাকে এই অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হবে।' অথবা সে বলল, 'ধর্মমত বর্জন না করলে সে যেনো এই অগ্নিকুন্ডে প্রবেশ করে।' লোকেরা দলে দলে অগ্নিকুন্ডে ঝাঁপিয়ে পড়লো। এক মহিলা আগুনে ঝাঁপ দিতে ইতস্ততবোধ করছিলো। মহিলার কোলে একটা দুধের শিশু বাচ্চাও ছিলো। সে বাচ্চা মাকে বলল, আপনি আগুনে ঝাঁপ দিন, নিশ্চই আল্লাহ আপনার সাথে আছেন।
টিকাঃ
৭১. মুসলিম, আসসাহিত, কিতাবুল যুহদ: ৭৪০১
📄 তসবীহ‘য়ের দানা
তসবীহ'য়ের সাথে আমরা মোটামুটি সবাই পরিচিত। সচরাচর আমাদের পকেটে তসবীহ না থাকলেও সবার বাসায় কিন্তু ঠিকই তসবীহ আছে। বর্তমানে ডিজিটাল তসবীহ'য়ের চাহিদা বাড়লেও একটা সময় আমরা সুতোয় গাঁথা দানার তসবীহ জপতাম। আমাদের দাদি/নানি পাঁচশত দানার তসবীহ একপাশ থেকে জপতে শুরু করতেন আর আমরা তাদের কোলে বসে অপর পাশ থেকে তা জপতে থাকতাম। আমি এখনও আম্মুর সাথে পাঁচশত দানার তসবীহ অপর পাশ থেকে জপতে থাকি। এতে অবশ্য আম্মু বিরক্ত হন; তবে মনে একধরণের প্রশান্তি লাভ করেন।
আচ্ছা সুতোয় গাঁথা তসবীহ আমরা জপতে থাকলে একটার পর একটা আসতেই থাকে তাই না? যদিও এক'শ পাঁচ'শ এর একটা নীতি নির্ধারণী আছে; তবুও যদি কেউ টানতে থাকে তাহলে একটার পর একটা আসতেই থাকবে আসতেই থাকবে। আমরা যতক্ষণ টানবো ততক্ষণ-ই আসবে। যখন টানা বন্ধ করে দিবো তখন আর আসবে না।
আচ্ছা ধরুন, সুতোর একমাথা কেউ কেটে দিলো, তখন কি আর দানা আসবে? কিছুতেই না। বরং একটা একটা করে সব দানা গড়িয়ে নিচে পড়ে যাবে। কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
ঠিক তেমনিভাবে, দান-সদকাহ'য়ের বিষয়টা হচ্ছে আমাদের জন্য এমন। যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা মানুষকে দান-সদকাহ করবো, ততক্ষণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের আমল নামায় সাওয়াব ঢেলে দিবেন সাথে সাথে মাল-সম্পদেও বরকত দিবেন। আর যখন আমরা দান-সদকাহ দেয়া বন্ধ করে দিবো, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও আমাদের আমল নামায় সাওয়াব দেয়া বন্ধ করে দিবেন এবং আমাদের মাল-সম্পদকেও সীমিত করে দিবেন। আর যদি আমরা দান-সদকাহ'য়ের সাথে সাথে মানুষকে খোঁটা দেই, তাহলে সেই সুতোর একমাথা কেটে দেয়ার মতো অবস্থা হবে। আমাদের সব সাওয়াব গড়িয়ে নিচে পড়ে যাবে। আমল নামায় কিছুই আর বাকি থাকবে না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
الَّذِينَ يُنْفِقُونَ أَمْوَالَهُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى لَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার রাস্তায় তাদের সম্পদ দান করে, অতঃপর তার যা ব্যয় করেছে তার পেছনে খোঁটা দেয় না এবং কোনো কষ্টও দেয় না, তাদের জন্য তাদের রবের নিকট প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের কোনো ভয় নেই, আর তারা চিন্তিত হবে না।
قَوْلٌ مَعْرُوفٌ وَ مَغْفِرَةٌ خَيْرٌ مِنْ صَدَقَةٍ يَتْبَعُهَا أَذًى وَاللَّهُ غَنِيٌّ حَلِيمٌ
উত্তম কথা ও ক্ষমা প্রদর্শন শ্রেয়, যে দানের পর কষ্ট দেয়া হয় তার থেকে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অভাবমুক্ত, সহনশীল।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَتِكُمْ بِالْمَنِ وَالْأَذَى كَالَّذِي يُنْفِقُ مَالَهُ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ صَفْوَانٍ عَلَيْهِ تُرَابٌ فَأَصَابَهُ وَّابِلٌ فَتَرَكَهُ صَلْدًا لَا يَقْدِرُوْনَ عَلٰى شَيْءٍ مِّمَّا كَسَبُوْا وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكٰفِرِيْنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা ও কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে তোমাদের সদকাহ বাতিল করো না সে ব্যক্তির মতো, যে তার সম্পদ ব্যয় করে লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে এবং বিশ্বাস করে না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও শেষদিনের প্রতি। অতএব তার উপমা এমন একনি মসৃণ পাথর, যার উপর মাটি রয়েছে আর তাতে প্রবল বৃষ্টি হয়ে পরিষ্কার করে দিলো। তারা যা অর্জন করেছে তার মাধ্যমে তারা কোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কাফির জাতিকে হেদায়েত দেন না।
وَالَّذِيْنَ يُنْفِقُوْনَ أَمْوَالَهُمْ رِئَاءَ النَّاسِ وَلَا يُؤْمِنُوْنَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمنْ يَكُنِ الشَّيْطٰنُ لَهُ قَرِيْنًا فَسَاءَ قَرِينًا
আর যারা নিজ ধন-সম্পদ লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে ব্যয় করে এবং ঈমান আনে না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ও শেষ দিবসের প্রতি। আর শয়তান যার সাথী হয়; সাথী হিসেবে কতোই-না নিকৃষ্ট সে।
الَّذِيْنَ يُنْفِقُوْনَ أَمْوَالَهُمْ بِالَّيْلِ وَالنَّهَارِ سِرًّا وَّ عَلَانِيَةً فَلَهُمْ أَجْرُهُمْ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُوْنَ
যারা তাদের সম্পদ ব্যয় করে রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে। তাদের জন্যই রয়েছে তাদের রবের নিকট উত্তম প্রতিদান। তাদের কোনো ভয় নেই। তারা চিন্তিতও হবে না।
তম্মাত বিল খাইর
টিকাঃ
৭২ সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬২
৭৩ সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৩
৭৪. সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৪
৭৫. সুরা নিসা, আয়াত: ৩৮
৭৬. সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৪