📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 বাচ্চারা দোষ করলেও আনন্দ লাগে

📄 বাচ্চারা দোষ করলেও আনন্দ লাগে


আমাদের সবার বাসায় কমবেশি বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ফুর্তি করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এই আনন্দ ফুর্তির জন্য ওদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি অভিজ্ঞ। ওদের হাসি কান্নার সাথেই আমাদের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।

আচ্ছা বাচ্চারা যখন আনন্দ ফুর্তির মাঝে আমাদের শরীরে হাজত সেরে ফেলে, তখন কি আমরা রেগে আগুন হয়ে যাই? কখনোই না। বরং আমরা মুচকি হেসে মনকে এই বলে প্রমোদ দেই যে, থাক... না বুঝে করে ফেলছে।

সন্তান যখন বাবা-মায়ের গায়ে বা অন্য কোথাও বড় ইস্তিঞ্জা বা ছোট ইস্তিঞ্জা সেরে ফেলে, বাবা-মা কিন্তু তখন সেই সন্তানের উপর রাগ হন না; বরং আনন্দের সাথে তা পরিষ্কার করেন। বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে সাফ করেন। নতুন জামা পরিয়ে আবার আগের মতো সাজিয়ে তুলেন।

আচ্ছা বাচ্চা পায়খানা করার পর নিজে নিজেই যদি বলে যে, 'আম্মু আমি আক্কা দিছি' তখন কিন্তু মা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। আনন্দচিত্তে বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেন।

আবার অন্যদিকে এই বাচ্চাটাই যখন ময়লা দিয়ে মাখানো থাকে আর মা গোসলখানার দিকে নিয়ে যায় পরিষ্কার করাতে, তখন যদি বাচ্চাটা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলে যে, 'আমি আক্কা দেই নাই, আমি গোসল কব্বো না', এমন করলে কিন্তু নিশ্চিত মায়ের হাতে বাচ্চাটা মার খাবে। কেনো? কারণ একে তো ময়লা দিয়ে মাখামাখি, তারউপর আবার স্বীকার করতে চাচ্ছে না। গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইছে না।

ঠিক তেমনিভাবে, বান্দা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট বাচ্চাদের মতো। যখন সে গুনাহ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট স্বীকার করবে, এক মনে এক ধ্যানে তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার গুনাহ সমূহ আনন্দচিত্তে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

আর যখন গুনাহ করার পর স্বীকার করতে চাইবে না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করবে না, তখন নিশ্চিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার উপর রাগান্বিত হবেন। বাবা মা যেমন বাধ্য সন্তানের ময়লা সাফ করে আনন্দ লাভ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও তার বাধ্যগত বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে আনন্দ লাভ করেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحِبُّبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমাও করে দিবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে। যার পরিধি আসমান সমূহ ও জমিনের সমান। যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ছাড়া কে তাদের গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তারা তা বারবার করে না।

أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
এরাই তারা, যাদের প্রতিদান তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতোই না উত্তম।

فاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।

وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তার তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন।

টিকাঃ
৪৬. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
৪৭. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩
৪৮. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫
৪৯. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬
৫০. সুরা মু'মিন, আয়াত: ৫৫
৫১. সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫

আমাদের সবার বাসায় কমবেশি বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ফুর্তি করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এই আনন্দ ফুর্তির জন্য ওদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি অভিজ্ঞ। ওদের হাসি কান্নার সাথেই আমাদের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।

আচ্ছা বাচ্চারা যখন আনন্দ ফুর্তির মাঝে আমাদের শরীরে হাজত সেরে ফেলে, তখন কি আমরা রেগে আগুন হয়ে যাই? কখনোই না। বরং আমরা মুচকি হেসে মনকে এই বলে প্রমোদ দেই যে, থাক... না বুঝে করে ফেলছে।

সন্তান যখন বাবা-মায়ের গায়ে বা অন্য কোথাও বড় ইস্তিঞ্জা বা ছোট ইস্তিঞ্জা সেরে ফেলে, বাবা-মা কিন্তু তখন সেই সন্তানের উপর রাগ হন না; বরং আনন্দের সাথে তা পরিষ্কার করেন। বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে সাফ করেন। নতুন জামা পরিয়ে আবার আগের মতো সাজিয়ে তুলেন।

আচ্ছা বাচ্চা পায়খানা করার পর নিজে নিজেই যদি বলে যে, 'আম্মু আমি আক্কা দিছি' তখন কিন্তু মা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। আনন্দচিত্তে বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেন।

আবার অন্যদিকে এই বাচ্চাটাই যখন ময়লা দিয়ে মাখানো থাকে আর মা গোসলখানার দিকে নিয়ে যায় পরিষ্কার করাতে, তখন যদি বাচ্চাটা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলে যে, 'আমি আক্কা দেই নাই, আমি গোসল কব্বো না', এমন করলে কিন্তু নিশ্চিত মায়ের হাতে বাচ্চাটা মার খাবে। কেনো? কারণ একে তো ময়লা দিয়ে মাখামাখি, তারউপর আবার স্বীকার করতে চাচ্ছে না। গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইছে না।

ঠিক তেমনিভাবে, বান্দা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট বাচ্চাদের মতো। যখন সে গুনাহ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট স্বীকার করবে, এক মনে এক ধ্যানে তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার গুনাহ সমূহ আনন্দচিত্তে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

আর যখন গুনাহ করার পর স্বীকার করতে চাইবে না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করবে না, তখন নিশ্চিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার উপর রাগান্বিত হবেন। বাবা মা যেমন বাধ্য সন্তানের ময়লা সাফ করে আনন্দ লাভ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও তার বাধ্যগত বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে আনন্দ লাভ করেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحِبُّبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমাও করে দিবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে। যার পরিধি আসমান সমূহ ও জমিনের সমান। যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ছাড়া কে তাদের গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তারা তা বারবার করে না।

أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
এরাই তারা, যাদের প্রতিদান তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতোই না উত্তম।

فاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।

وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তার তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন।

টিকাঃ
৪৬. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
৪৭. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩
৪৮. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫
৪৯. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬
৫০. সুরা মু'মিন, আয়াত: ৫৫
৫১. সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫

📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 অটোর গতি

📄 অটোর গতি


আমাদের দেশে অটোরিকশা এখন এভেইলেবেল। একটা সময় ছিলো, যখন অটোরিকশার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারতো না। তখন সর্বত্র পা-চালিত রিকশা ছিলো। খুব কষ্ট করে তাদেরকে রিকশা চালাতে হতো। প্যাডেল দিলে রিকশা সামনে আগাবে, নয়তো না। এ যাত্রায় মুরব্বি রিকশা চালকদের অনেক বেশি কষ্ট হয়ে যেতো। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি কখনো মুরব্বি রিকশা চালকের রিকশায় উঠতাম না। এটা আমার বিবেক বাঁধা দিতো। মুরব্বিদের রিকশা চালাতে দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে; আর সেটা এখনও। যদিও এখন অটোরিকশা অহরহ; তবুও মুরব্বি তো মুরব্বি-ই।

এইতো কিছুদিন আগে চাচা হৃদয় ছোঁয়া এক কারগুজারি শোনালেন। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমাদের এলাকায় জর্ডান থেকে একটি তাবলিগের জামাত আসে। বয়ষ্ক আমির সাহেব খুব নম্র-ভদ্র গোছের লোক। পাশের মহল্লার মসজিদে তাকে আসরের নামাজের পর বয়ান করতে হবে। বাবা আমির সাহেবকে সাথে নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে আসরের আগে আগেই বেরুলেন। তখন পথের একমাত্র জানবাহন পা-চালিত রিকশা। একজন রিকশাওয়ালাকে ডাকা হলো। বাবা আমির সাহেবকে বললেন রিকশায় উঠতে, কিন্তু তার কপালে চিন্তার ভাঁজ; 'একজন মানুষ আমাদের দু'জনকে টেনে নিয়ে যাবে এটা কোন ধরণের মানবতা!' কোনে মতেই আমির সাহেবকে রিকশায় উঠানো গেলো না। বেচারা আমির সাহেব পায়ে হেঁটে যেতে রাজি, তবুও তিনি রিকশায় উঠবেন না। পায়ে হেঁটেও মসজিদে যাওয়া যেতো; কিন্তু মসজিদ এতোটুকু দূর যে, পায়ে হেঁটে গেলে নামাজ তো দূরের কথা বয়ান ধরতে পারবে কিনা সন্দেহ। অবশেষে বাবা তাকে বেবি (সি.এন.জির আগের ভার্সন, তেলে চালিত) ভাড়া করে সেই মসজিদে নিয়ে গেলেন। কারগুজারি শোনার পর আমি চাচাকে বললাম, 'আমির সাহেব যদি এখন আমাদের দেশে আসতেন, তাহলে নির্দিধায় তিনি অটোরিকশায় চড়ে বসতেন।'

বর্তমান সময়ে অটোর সাথে সাথে পা-চালিত রিকশাও আমাদের দেশে এভেইলেবেল। এখন ইচ্ছেটা শুধুমাত্র আপনার, আপনি অটো চালাবেন নাকি পা-চালিত রিকশা চালাবেন! কেউ যদি আমাকে এই দুটি অপশন দেয়, তাহলে আমি অটোকেই বেছে নিবো। কারণ সারাদিন আমাকে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে না, ঘন্টাখানেক পর পর আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে না, দিনশেষে আমার পা'ও ব্যথা করবে না। শুধুমাত্র রিকশার স্টিয়ারিংটা ধরে বসে থাকলেই হলো। আমার ফোকাস ঠিক থাকলে অটো আমাকে নিয়ে যাবে দূর হতে বহুদূর। অটোরিকশা একদিনে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশার একদিনে ঐ পরিমাণ কখনোই সম্ভব না। অটোতে এটা কেনো সম্ভব? কারণ তার পেছনে ব্যাকাপ আছে। পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আর সে নিশ্চিন্তে সামনে আগায়। ফলে চালকের তেমন কষ্ট হয় না, দিনশেষে তার ক্লান্তিও আসে না।

অপরদিকে পা-চালিত রিকশার পেছনে ব্যাকাপ না থাকায় পেছন থেকে তাকে কেউ ধাক্কাও দেয় না আর সে দ্রুত গতিতে সামনেও আগায় না। যতোটুকু সামনে আগায় নিজের পায়ের জোরে আগায়। বেচারা অর্ধদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে। ক্লান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যায়। কেউ কেউ যদিওবা পূর্ণদিবস কাজ করে, কিন্তু একজন অটোওয়ালা যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশাওয়ালা তার ধারে কাছেও যেতে পারে না। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে- অটোর যতো গতিই থাকুক, দিনশেষে কিন্তু তাকে চার্জে ঠিকই বসাতে হয়। একরাত চার্জে না বসালে পরেরদিন সে অটো আর রাস্তায় বেরুতে পারে না, চলতেও পারে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, এখন ইচ্ছেটা আমাদের। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বুকে ধারণ করে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলবো নাকি রাসূলুল্লাহ'র আদর্শে চুনকালি মেখে উযবুকের ন্যায় ঘুরে বেড়াবো!

রাসূলুল্লাহ'র আদর্শ মেনে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলার অর্থ হলো অটোরিকশার মতো পেছনে ব্যাকাপ থাকা। আমরা শুধু ইসলামের হুকুম-আহকামের স্টিয়ারিংটা ধরে রাখবো, গন্তব্যে পৌঁছানোর দায়িত্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার। আর যদি ব্যাকাপ না থাকে, তাহলে শতকষ্ট করেও লক্ষ্যবস্তু স্থির করা যাবে না। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- অটোর যেমন চার্জ শেষ হয়ে যায়, অনুরূপ আমাদের ঈমানেরও পাওয়ার কমে যায়। এজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি বড়দের মজলিসে বসা চাই। তাদের কথা শুনে নিজের ঈমানকে আরো অনেকগুণ বেশি পাকাপোক্ত করা চাই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
বলো, ' তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো'। তারপর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।

تِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذُلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এগুলো হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার সীমারেখা। আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা।

وَمَنْ يَّعْصِ اللّٰهَ وَرَسُوْলَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهٗ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰমَنُوْٓا اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَاَطِيْعُوا الرَّসُوْলَ وَاُولِي الْاَمْرِ مِنْكُمْۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرুদُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّসُوْলِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِۗ ذٰلِكَ خَيْرٌ ওَّاَحْسَنُ تَاْوِيْلًا
হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ও তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করাও, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।

وَمَنْ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّসُوْলَ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيّٖনَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصّٰلِحِيْنَۚ وَحَسُنَ اُولٰٓئِكَ رَفِيْקًا ذٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّٰهِ وَكَفٰى بِاللّٰهِ عَلِيْمًا
আর যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। এই অনুগ্রহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পক্ষ হতে। আর সর্বজ্ঞ হিসেবে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই যথেষ্ট।

টিকাঃ
৫২. সুরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩২
৫৩. সুরা নিসা, আয়াত: ১৩
৫৪. সুরা নিসা, আয়াত: ১৪
৫৫. সুরা নিসা, আয়াত: ৫৯
৫৬. সুরা নিসা, আয়াত: ৬৯-৭০

আমাদের দেশে অটোরিকশা এখন এভেইলেবেল। একটা সময় ছিলো, যখন অটোরিকশার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারতো না। তখন সর্বত্র পা-চালিত রিকশা ছিলো। খুব কষ্ট করে তাদেরকে রিকশা চালাতে হতো। প্যাডেল দিলে রিকশা সামনে আগাবে, নয়তো না। এ যাত্রায় মুরব্বি রিকশা চালকদের অনেক বেশি কষ্ট হয়ে যেতো। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি কখনো মুরব্বি রিকশা চালকের রিকশায় উঠতাম না। এটা আমার বিবেক বাঁধা দিতো। মুরব্বিদের রিকশা চালাতে দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে; আর সেটা এখনও। যদিও এখন অটোরিকশা অহরহ; তবুও মুরব্বি তো মুরব্বি-ই।

এইতো কিছুদিন আগে চাচা হৃদয় ছোঁয়া এক কারগুজারি শোনালেন। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমাদের এলাকায় জর্ডান থেকে একটি তাবলিগের জামাত আসে। বয়ষ্ক আমির সাহেব খুব নম্র-ভদ্র গোছের লোক। পাশের মহল্লার মসজিদে তাকে আসরের নামাজের পর বয়ান করতে হবে। বাবা আমির সাহেবকে সাথে নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে আসরের আগে আগেই বেরুলেন। তখন পথের একমাত্র জানবাহন পা-চালিত রিকশা। একজন রিকশাওয়ালাকে ডাকা হলো। বাবা আমির সাহেবকে বললেন রিকশায় উঠতে, কিন্তু তার কপালে চিন্তার ভাঁজ; 'একজন মানুষ আমাদের দু'জনকে টেনে নিয়ে যাবে এটা কোন ধরণের মানবতা!' কোনে মতেই আমির সাহেবকে রিকশায় উঠানো গেলো না। বেচারা আমির সাহেব পায়ে হেঁটে যেতে রাজি, তবুও তিনি রিকশায় উঠবেন না। পায়ে হেঁটেও মসজিদে যাওয়া যেতো; কিন্তু মসজিদ এতোটুকু দূর যে, পায়ে হেঁটে গেলে নামাজ তো দূরের কথা বয়ান ধরতে পারবে কিনা সন্দেহ। অবশেষে বাবা তাকে বেবি (সি.এন.জির আগের ভার্সন, তেলে চালিত) ভাড়া করে সেই মসজিদে নিয়ে গেলেন। কারগুজারি শোনার পর আমি চাচাকে বললাম, 'আমির সাহেব যদি এখন আমাদের দেশে আসতেন, তাহলে নির্দিধায় তিনি অটোরিকশায় চড়ে বসতেন।'

বর্তমান সময়ে অটোর সাথে সাথে পা-চালিত রিকশাও আমাদের দেশে এভেইলেবেল। এখন ইচ্ছেটা শুধুমাত্র আপনার, আপনি অটো চালাবেন নাকি পা-চালিত রিকশা চালাবেন! কেউ যদি আমাকে এই দুটি অপশন দেয়, তাহলে আমি অটোকেই বেছে নিবো। কারণ সারাদিন আমাকে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে না, ঘন্টাখানেক পর পর আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে না, দিনশেষে আমার পা'ও ব্যথা করবে না। শুধুমাত্র রিকশার স্টিয়ারিংটা ধরে বসে থাকলেই হলো। আমার ফোকাস ঠিক থাকলে অটো আমাকে নিয়ে যাবে দূর হতে বহুদূর। অটোরিকশা একদিনে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশার একদিনে ঐ পরিমাণ কখনোই সম্ভব না। অটোতে এটা কেনো সম্ভব? কারণ তার পেছনে ব্যাকাপ আছে। পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আর সে নিশ্চিন্তে সামনে আগায়। ফলে চালকের তেমন কষ্ট হয় না, দিনশেষে তার ক্লান্তিও আসে না।

অপরদিকে পা-চালিত রিকশার পেছনে ব্যাকাপ না থাকায় পেছন থেকে তাকে কেউ ধাক্কাও দেয় না আর সে দ্রুত গতিতে সামনেও আগায় না। যতোটুকু সামনে আগায় নিজের পায়ের জোরে আগায়। বেচারা অর্ধদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে। ক্লান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যায়। কেউ কেউ যদিওবা পূর্ণদিবস কাজ করে, কিন্তু একজন অটোওয়ালা যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশাওয়ালা তার ধারে কাছেও যেতে পারে না। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে- অটোর যতো গতিই থাকুক, দিনশেষে কিন্তু তাকে চার্জে ঠিকই বসাতে হয়। একরাত চার্জে না বসালে পরেরদিন সে অটো আর রাস্তায় বেরুতে পারে না, চলতেও পারে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, এখন ইচ্ছেটা আমাদের। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বুকে ধারণ করে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলবো নাকি রাসূলুল্লাহ'র আদর্শে চুনকালি মেখে উযবুকের ন্যায় ঘুরে বেড়াবো!

রাসূলুল্লাহ'র আদর্শ মেনে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলার অর্থ হলো অটোরিকশার মতো পেছনে ব্যাকাপ থাকা। আমরা শুধু ইসলামের হুকুম-আহকামের স্টিয়ারিংটা ধরে রাখবো, গন্তব্যে পৌঁছানোর দায়িত্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার। আর যদি ব্যাকাপ না থাকে, তাহলে শতকষ্ট করেও লক্ষ্যবস্তু স্থির করা যাবে না। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- অটোর যেমন চার্জ শেষ হয়ে যায়, অনুরূপ আমাদের ঈমানেরও পাওয়ার কমে যায়। এজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি বড়দের মজলিসে বসা চাই। তাদের কথা শুনে নিজের ঈমানকে আরো অনেকগুণ বেশি পাকাপোক্ত করা চাই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
বলো, ' তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো'। তারপর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।

تِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذُلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এগুলো হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার সীমারেখা। আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা।

وَمَنْ يَّعْصِ اللّٰهَ وَرَسُوْলَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهٗ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰমَنُوْٓا اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَاَطِيْعُوا الرَّসُوْলَ وَاُولِي الْاَمْرِ مِنْكُمْۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرুদُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّসُوْলِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِۗ ذٰلِكَ خَيْرٌ ওَّاَحْسَنُ تَاْوِيْلًا
হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ও তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করাও, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।

وَمَنْ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّসُوْলَ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيّٖনَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصّٰلِحِيْنَۚ وَحَسُنَ اُولٰٓئِكَ رَفِيْקًا ذٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّٰهِ وَكَفٰى بِاللّٰهِ عَلِيْمًا
আর যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। এই অনুগ্রহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পক্ষ হতে। আর সর্বজ্ঞ হিসেবে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই যথেষ্ট।

টিকাঃ
৫২. সুরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩২
৫৩. সুরা নিসা, আয়াত: ১৩
৫৪. সুরা নিসা, আয়াত: ১৪
৫৫. সুরা নিসা, আয়াত: ৫৯
৫৬. সুরা নিসা, আয়াত: ৬৯-৭০

📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 রান্নাঘরের ধোঁয়া

📄 রান্নাঘরের ধোঁয়া


ছোটবেলা থেকে লাকড়ির চুলায় রান্না দেখতে দেখতে আমরা বড় হয়েছি। গ্যাসের চুলা এখন আমাদের দেশে অহরহ। একটা সময় আমাদের মা-চাচিরা লাকড়ির চুলায় রান্না করতে অভ্যস্ত ছিলেন। শহরে এখন গ্যাসের প্রচলন থাকলেও আমাদের দেশ-গ্রামে লাকড়ির চুলার প্রচলন অনেক বেশি। গ্যাসের রান্না থেকে যে লাকড়ির চুলার রান্না বেশি মজা হয়- সে দলিল প্রমাণ দিতে না হয় না-ই গেলাম।

আজকে লাকড়ির চুলার একটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করবো। লাকড়ি দিয়ে রান্না করতে গেলে ধোঁয়া বেরোয়। কালো ধোঁয়া। চোখে মুখে আসলে অন্ধকার লাগে। মাঝে মধ্যে চোখ জ্বালাপোড়াও করে।

আবার চুলার উপর যে পাত্র বা পাতিল বসানো থাকে, সে পাত্র থেকেও ধোঁয়া বেরোয়। একটু খেয়াল করলে দেখা যাবে- দুইটা দু'রকমের ধোঁয়া। পাত্র থেকে যেটা বেরোয়, সেটা বাষ্প জাতীয়। খানিকটা উপরে উঠে কুয়াশার পানির মতো মিশে যায়। আর চুলা থেকে যেটা বেরোয়, সেটা অন্ধকার-কালো।

দুটো ধোঁয়া একই সাথে উঠতেছে কিন্তু পাতিলের ধোঁয়াটা একটু উপরে উঠেই হাওয়ার সাথে মিলিয়ে যাচ্ছে আর চুলোর সে কালো ধোঁয়া পরিবেশ দূষিত করছে। যেমন- পাতিলে লেগে তা কালো হয়ে যাচ্ছে, দেয়াল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে কিংবা উপরের টিনের চালে জড়িয়ে আছে। পাতিল থেকে বের হওয়া সেই বাষ্প নিয়ে আমাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই। কারণ ধোঁয়ার মতো দেখালেও বাষ্পের মতো সহজেই মুছে যাচ্ছে। আমাদের মাথা ব্যথা হলো- চুলো থেকে বের হওয়া সেই কালো ধোঁয়া নিয়ে। ওটা যেখানে লাগছে সেখানেই ডিটারজেন্ট পাউডার কিংবা ভীম সাবান দিয়ে খুব ভালোভাবে ধুতে হচ্ছে। ধোঁয়াগুলো এমনভাবে লেপ্টে আছে যে, যদি সাবান দিয়ে তা ঘসে মেজে না ধোয়া হয়; তাহলে তা কিছুতেই উঠছে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আমাদের জীবনে আমরা দু'ধরণের গুনাহ করে থাকি। ১. গুনাহে ছগীরা। ২. গুনাহে কবীরা। ছগীরা গুনাহ হচ্ছে পাতিল থেকে বের হওয়া সেই বাষ্পের মতো। যা সামান্য ভালো কাজের দ্বারাই মুছে যাচ্ছে। যেমনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুম'আ হতে আরেক জুম'আ, এক রমজান হতে আরেক রমজান এর মধ্যবর্তী সকল গুনাহের কাফফারা হবে যদি কবীরা গুনাহ সমূহ থেকে বিরত থাকা যায়'।

দ্বিতীয়ত হলো কবীরা গুনাহ। এই গুনাহ চুলো থেকে বের হওয়া সেই কালো ধোঁয়ার মতো। তাওবা না করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে ক্ষমা করবেন না। এই গুনাহের জন্য আমাদেরকে অবশ্য অবশ্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করতে হবে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
يَأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوْا تُوبُوا إِلَى اللهِ تَوْبَةً نَصُوحًا عَسَى رَبُّكُمْ أَنْ يُكَفِّرَ عَنْكُمْ سَيَآتِكُمْ وَيُدْخِلَكُمْ جَنَّتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهُرُ يَوْمَ لَا يُخْزِي اللَّهُ النَّبِيَّ وَ الَّذِينَ آمَنُوْا مَعَهُ نُورُهُمْ يَسْعَى بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا آتِمْ لَنَا نُورَنَا وَاغْفِرْ لَنَا إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করো, খাঁটি তাওবা। আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত। নবী ও তার সাথে যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে সেদিন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা লঞ্চিত করবেন না। তাদের আলো তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হবে। তারা বলবে, 'হে আমাদের রব, আমাদের জন্য আমাদের আলো পূর্ণ করে দিন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।'

إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَصَدُّوا عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ ثُمَّ مَاتُوْا وَهُمْ كُفَّارٌ فَلَنْ يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ
নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে বাঁধা দিয়েছে; অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা গেছে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কখনই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না।

قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيمُ
সে বলল, 'হে আমার রব, নিশ্চয়ই আমি আমার নফসের উপর জুলুম করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে ক্ষমা করে দিন'। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয়ই তিনি অতি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

إِلَّا مَنْ تَابَ وَآمَنَ وَعَمِلَ عَمَلًا صَالِحًا فَأُولَئِكَ يُبَدِّلُ اللهُ سَيَأْتِهِمْ حَسَنَتٍ وَكَانَ اللَّهُ غَفُوْرًا رَّحِيمًا
তবে যে তাওবা করে, ঈমান আনে এবং সৎকর্ম করে। পরিণামে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাদের পাপগুলোকে পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অতীব ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

وَ أَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُمْ مَّতَاعًا حَسَنًا إِلَى أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ وَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِير
আর তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও। তারপর তারে কাছে ফিরে যাও, (তাহলে) তিনি তোমাদেরকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত উত্তম ভোগ-উপকরণ দিবেন এবং প্রত্যেক আনুগত্যশীলকে তাঁর আনুগত্য মুতাবিক দান করবেন। আর যদি তারা ফিরে যায়, তবে আমি নিশ্চয়ই তোমাদের উপর বড় একদিনের আযাবের ভয় করছি।

فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ إِنَّهُ كَانَ تَوَّابًا
তখন তুমি তোমার রবের প্রশংসা তাসবীহ পাঠ করো এবং তাঁর কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি তাওবা কবুলকারী।

গল্পের পরিশিষ্টঃ
ছগীরা গুনাহ- ছগীরা গুনাহ অর্থ ছোট গুনাহ। যে সকল গুনাহের ব্যপারে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সতর্ক করেছেন কিন্তু কোনো শাস্তির কথা বলেননি। যা নেক আমল করলেই ক্ষমা হয়ে যায়, তাওবার প্রয়োজন হয় না। যেমনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, এক জুম'আ হতে আরেক জুম'আ, এক রমজান হতে আরেক রমজান এর মধ্যবর্তী সকল গুনাহের কাফ্ফ্ফারা হবে যদি কবীরা গুনাহ সমূহ থেকে বিরত থাকা যায়'।

ছগীরা গুনাহের উদাহরণঃ
১. নামায অবস্থায় কাপড়, দাঁড়ি বা শরীরের কোনো অঙ্গ নিয়ে খেলা করা।
২. কাউকে গালি প্রদান করা।
৩. হিংসা করা।
৪. প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়া।
৫. নামাযরত অবস্থায় এদিক-সেদিক দৃষ্টিপাত করা।
৬. জুম'আর ২য় আযানের সময় বেচা-কেনা করা।
৭. কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাবের উপর তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অন্যজন প্রস্তাব করা।
৮. বেচাকেনার ক্ষেত্রে কেউ দরদাম করছে এমতাবস্থায় তার শেষ হওয়ার আগে আরেকজন এসে দরদাম শুরু করা।
৯. স্ত্রীকে এক বৈঠকে একাধিক তালাক দেয়া।
১০. অতিরিক্ত ঝগড়া-ঝাটি করা।
১১. গীবত শুনে চুপ থাকা।
১২. পাপাচারী লোকদের সাথে (সংশোধন ও দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার উদ্দেশ্য ছাড়া) উঠবস করা।
১৩. খোলা স্থানে কিবলার দিকে মুখ করে বা কেবলাকে পেছনে করে পেশাব-পায়খানা করা।
১৪. বিনা প্রয়োজনে অহেতুক কথাবার্তা বলা।
১৫. বিনা কারণে পরনারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া, ইত্যাদি।

একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, ছগীরা গুনাহ বারবার করলে তা কবীরা গুনাহে পরিণত হয়। যেমনঃ হযরত উমর ও ইবনে আব্বাস প্রমুখ সাহাবা থেকে বর্ণিত আছে যে,
لَا صَغِيرَةً فِي الْإِصْرَارِ وَلَا كَبِيرَةً فِي الاسْتِغْفَارِ
বারবার ছগীরা গুনাহ করলে সেটি আর ছগীরা থাকে না এবং ক্ষমা প্রর্থনা ও তাওবা করলে আর কবীরা থাকে না। যেমন পরনারীর প্রতি দৃষ্টি দেয়া ছগীরা গুনাহ কিন্তু বারবার তাকালে তা কবীরা গুনাহ হয়ে যাবে। সেজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছোট গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে তাকীদ করেছেন। তিনি বলেন, 'হে আয়েশা! ক্ষুদ্র গুনাহ থেকেও সাবধান হও। কারণ সেগুলোর জন্যও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট জবাবদিহি করতে হবে। '

কবীরা গুনাহ- কবীরা গুনাহের আভিধানিক অর্থ বড় গুনাহ। আর শরী'আতের পরিভাষায় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সকল কাজ করতে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন এবং সে সকল কাজের জন্য শাস্তির বিধান অথবা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার রাগের কথা ঘোষণা রয়েছে, তাকে কবীরা গুনাহ বলা হয়।

কবীরা গুনাহের সংখ্যা কতো?
স্থান-কাল-পাত্র ভেদে হাদীস শরীফে কবীরা গুনাহ তিন, চার বা সাতটি বলা হয়েছে। আল্লামা জাহাবি (রহঃ) 'আয-যাওয়াজের' নামক গ্রন্থে কবীরা গুনাহ ৪৬৭টি বলে উল্লেখ করেছেন। আল্লামা মুফতি শফি (রহঃ) 'ইনযারুল আশায়ের' নামক গ্রন্থে কবীরা গুনাহ ৮৩টি ছগীরা গুনাহ ১২৬টি বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রসিদ্ধ কিছু কবীরা গুনাহঃ
১. শিরক করা।
২. মাতা-পিতাকে কষ্ট দেওয়া।
৩. আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা।
৪. ব্যভিচার করা। নিজের স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোনো নারী বা নিজ স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করা।
৫. চুরি করা।
৬. অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা।
৭. মিথ্যা অপবাদ ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া।
৮. পণ্যে ভেজাল মিশ্রিত করা।
৯. ওয়াদা ভঙ্গ করা।
১০. মিথ্যা বলা ও ধোঁকা দেওয়া।
১১. খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে রাখা।
১২. মাপে কম দেওয়া।
১৩. অন্যায়ভাবে কারো জমি দখল করা।
১৪. শ্রমিকের মজুরি কম দেওয়া বা না দেওয়া।
১৫. জুয়া খেলা ও লটারি ধরা।
১৬. নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়া বা পান করা।
১৭. সুদ খাওয়া।
১৮. ঘুষ খাওয়া।
১৯. চাঁদাবাজি বা জোর-জুলুম করে অর্থ-সম্পদ লুটে নেওয়া।
২০. অনাথ, এতিম ও বিধবাদের সম্পদ গ্রাস করা।
২১. আমানতের খিয়ানত করা।
২২. অহংকার করা, অন্যকে হেয় করা।
২৩. কোনো মুসলমানকে গালি দেওয়া।
২৪. নিজের স্ত্রী, কন্যা, বোন ও অন্য অধীন নারীদের পরপুরুষের সাথে অবাধ মেলামেশা করতে দেওয়া।
২৫. স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে আবার তাকে নিয়েই ঘর-সংসার করতে থাকা।
২৬. চোগলখুরি করা।
২৭. গীবত-পরনিন্দা তথা কারো অগোচরে তার বদনাম করা, যদিও তা সত্য হয়।
২৮. হস্তমৈথুন করা।
২৯. অসৎ কাজ দেখে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বাঁধা না দেওয়া।
৩০. তাকদিরের উপর আস্থা ও বিশ্বাস না রাখা।
৩১. অবহেলেলা করে নামাজ কাজা করা, রোজা না রাখা, যাকাত না দেয়া ও হজ্জ ফরজ হওয়া সত্ত্বেও আদায় না করা।

টিকাঃ
৫৭. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৪
৫৮. সুরা তাহরীম, আয়াত: ৮
৫৯. সুরা মুহাম্মাদ, আয়াত: ৩৪
৬০. সুরা ক্বাসাস, আয়াত: ১৬
৬১. সুরা ফুরক্বান, আয়াত: ৭০
৬২. সুরা হুদ, আয়াত: ৩
৬৩. সুরা নাসর, আয়াত: ৩
৬৪. মুসলিম, মিশকাত হা/৫৬৪
৬৫. নববী, মুসলিম ২/৮৭
৬৬. ইবনু তাইমিয়্যাহ, মাজমূ' ফতওয়া ১৫/২৯৩
৬৭. ইবনু মাজাহ হা/৪২৪৩; মিশকাত হা/৫৩৫৬
৬৮. বুখারী হা/৬৮৫৭; ফতওয়ায়ে আলমগিরি ৩/৫৩২; মিরকাত ১/২২১

📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 শীতের আনন্দ পা ঢেকে রাখা

📄 শীতের আনন্দ পা ঢেকে রাখা


ছয় ঋতুর ভিন্ন ভিন্ন রঙে রঙিন আমাদের প্রিয় দেশ। কিন্তু বছরের বেশিরভাগ সময়ই গরমে আমাদের জীবন কাটে। মাত্র দু'তিন মাসের জন্য আমাদের বাংলার বুকে নেমে আসে এক আশ্চর্য শীতলতা। হেমন্তের অন্তে শীতের কোমল ছোঁয়া লাগে সর্বত্র। পৌষ, মাঘ মাসে কয়েকদিনের জন্য শীতের প্রবল প্রকোপ পড়ে আর সেটার টের পাই আমরা শীতের সকালে। শীতের সকাল থাকে শীত আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা। সবকিছু খুব ঘোলা দেখায়। ঘাস ভেজা থাকে শিশিরে। সূর্য উঠলে শিশির ফোঁটা মুক্তোর মতো ঝরঝরে হয়। দরিদ্র লোকেরা প্রচণ্ড শীতে খড় জড়ো করে আগুন জ্বালায়। প্রাণীগুলোও অসহায় হয়ে পড়ে। তারা নিজেকে ঘরের কোণে লুকিয়ে রাখে এবং বাহিরের ঠাণ্ডা থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে।

শীতের সকাল মানুষের মনের মাঝে এক বিচিত্র অনুভূতির সৃষ্টি করে। কুয়াশায় ঢাকা চারপাশে তাকালে মন কেমন বিষণ্ণ হয়ে পড়ে। শীতকালে আমরা একটু কাবু হয়ে পড়লেও শীতের সকালে রয়েছে এক অপরূপ রূপ। রাত্রির কালো পর্দা সরিয়ে এক রৌদ্রদীপ্ত সোনালী দিন উপহার দেয় শীতের সকাল।

কখনো কখনো সারাদেশে শৈত প্রবাহ বয়ে যায়। আমরা তা থেকে বাঁচতে বিভিন্ন জামা কাপড়ের সাহায্য নেই। জামা কাপড়ের সাহায্যে আমরা সবথেকে বেশি আনন্দলাভ করি তখন; যখন আমাদের পা ঢাকা থাকে। কারণ, শীতকালের নিয়ম হচ্ছে- পা ঢেকে রাখা, তাহলে পুরো শরীর গরম থাকবে। আর গ্রীস্মকালে পা খোলা রাখা, তাহলে পুরো শরীর ঠান্ডা থাকবে। এটাই হচ্ছে প্রকৃতির নিয়ম। এই পদ্ধতি অবলম্বন করলে উভয়কালেই খুব শান্তিতে থাকা যাবে।

ঠিক তেমনিভাবে, রাস্তা-ঘাটে বেরিয়ে যদি আমরা আমাদের চোখ খোলা রাখি; অর্থাৎ দৃষ্টি অবনত না রাখি, তাহলে আমাদের ঈমানটাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ঠান্ডা হয়ে যাবে। আমাদের ঈমান আর গরম থাকবে না। ঈমানে কোনো নূর থাকবে না। ব্যক্তির নূরহীন ঈমান দিন দিন নষ্ট হয়ে যায়। কারণ, ঈমান ঠান্ডা মানে অন্তর ঠান্ডা। ঈমানে কোনো তেজ নেই অর্থাৎ গোনাহে ভরপুর।

পক্ষান্তরে, আমরা যদি বাহিরে বেরিয়ে চোখ বন্ধ রাখি, দৃষ্টি অবনত রাখি। তাহলে আমাদের ঈমান গরম থাকবে। ঈমানে নূরও থাকবে। এই নূরের কারণে আমাদের ঈমানী শক্তিটাও সতেজ থাকবে, ইন শা আল্লাহ। শীতকালে যেমন পা ঢেকে রাখতে হয় আর গরমকালে পা খোলা রাখতে হয়। ঠিক তেমনি, রাস্তায় বেরুলে চোখ বন্ধ রাখতে হয় আর ঘরে প্রবেশ করলে চোখ খোলা রাখতে হয়। কারণ, রাস্তা-ঘাটে বেগানা নারীদেরকে দেখলে আমাদের ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত ঈমান দিনদিন নিস্তেজ হয়ে পড়বে। কিন্তু ঘরে এর সম্পূর্ণ বিপরীত, ঘরে এসে আমাদের স্ত্রীকে দেখলে গুনাহ তো দূরের কথা, উল্টো আরো আমাদের আমল নামায় সাওয়াব লিখা হবে।

হযরত আলী রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবদ্দশায় এক লোক মদিনায় কোনো এক গলি পথ দিয়ে যাচ্ছিলো। তখন একটি রমণীর প্রতি তার দৃষ্টি পতিত হয়। রমণীরও তার প্রতি দৃষ্টি পতিত হয়। শয়তান সে দু'জনের মাঝে কু'মন্ত্রণা যুগিয়ে দেয়। ফলে তারা একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাকিয়েই থাকে। পুরুষ লোকটি একটি দেয়ালের দিকে চলতে ছিলো। দেয়ালের কাছে গিয়ে পৌঁছে হঠাৎ করে দেয়ালে জোরে ধাক্কা খেলো। এতে তার নাক ফেটে গেলো। রক্তও বেরুলো। তখন সে বলল, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কসম! আমি এই রক্ত ধৌত করবো না।

সুতরাং সে লোকটি রক্তাক্ত অবস্থাতেই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে উপস্থিত হয়ে পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করলেন। ঘটনার বর্ণনা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এটা হলো তোমার গুনাহের শাস্তি।' এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পবিত্র কুরআনে আয়াতও নাযিল করেন। তিনি বলেন-
قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
আপনি মুসলমান পুরুষদেরকে বলে দিন, যেনো তারা তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং নিজ নিজ লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। এটা তাদের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কথা। নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সবকিছুই জানেন তারা যা কিছু করে থাকে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা নির্দেশ দিচ্ছেন যেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করা হারাম করেছি ওগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করো না। হারাম জিনিস হতে চক্ষু নিচু করে নাও। যদি আকস্মিকভাবে পড়েই যায়, তবে সাথে সাথে দৃষ্টিকে ফিরিয়ে নাও।

হযরত বুরাইদা রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত আলী রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহুকে বলেন, 'হে আলী! তুমি দৃষ্টির উপর দৃষ্টি ফেলো না। হঠাৎ যে দৃষ্টি পড়ে ওটা তোমার জন্য ক্ষমার যোগ্য, কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমার যোগ্য নয়।'

টিকাঃ
৬৯. সুরা নূর, আয়াত: ৩০
৭০. আবূ দাউদ শরীফ

ফন্ট সাইজ
15px
17px