📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 চেয়ারম্যান বাড়ির ল্যাম্পপোস্ট

📄 চেয়ারম্যান বাড়ির ল্যাম্পপোস্ট


খুব অন্ধকার রাত্রিতে একজন পথিক একাকী পথ চলছেন। এলাকার এই সরু পথটার কোথাও কোনো আলো নেই। রিলিফের মাল হিসেবে পাওয়া সরকারি একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির সামনে। পথিকের এই পথ থেকে তা অনেক দূর। এখান থেকে তাকালে ঝাপসা ঝাপসা দেখায়। নিভু নিভু করে আলো জ্বলছে। এ পথটা ধরে পথিক চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে যতো আগাবে, ততোই সে আলো পাবে। অন্ধকারচ্ছন্ন এই পথ তার নিকট স্পষ্ট হতে থাকবে। ধীরে ধীরে যখন সে বাড়ির সামনে চলে আসবে, তখন নিঃসন্দেহে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট আলো পাবে।

ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন মসজিদ থেকে দূরে থাকবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে অবজ্ঞা করে চলবো, তখন আমরাও এই ব্যক্তির মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবো। কোথাও কোনো আলো পাবো না। চারদিক শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। আর আমরা যখন মসজিদমুখি হবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে পূর্ণরূপে পালন করবো, তখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত হবো।

পথিক অন্ধকার রাতে এতো কষ্টকরে পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় কেউ যেমন তার এই পথ চলার সাথী হয়নি বা তার কষ্টের বোঝা বহন করেনি, ঠিক তেমনি আমরা যখন মসজিদ থেকে বিমুখ হয়ে যাবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম আহকাম থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার বহন করে চলবো, তখন আমাদের এই অন্ধকারত্বের বোঝা কেউ বহন করে নিবে না। কেউ আমাদের সাথী হবে না। কেউ আমাদেরকে ভালো বলবেও না ভালোবাসবেও না।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْنِي إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহনের জন্য কাউকে ডাকে, তবে তার বোঝার কোনো অংশই বহন করা হবে না, যদিও সে আত্মীয় হয়। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করবে, যারা তাদের রবকে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছেই আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে।

إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لকেُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা যদি কুফরী করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করো, তবে তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। অতঃপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চই তোমাদের অন্তরের বিষয়গুলো তিনি সম্যক অবগত।

۞أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না।

টিকাঃ
৪০. সুরা ফাত্বির, আয়াত: ১৮
৪১. সুরা যুমার, আয়াত: ৭
৪২. সুরা আন-নজম, আয়াত: ৩৮

খুব অন্ধকার রাত্রিতে একজন পথিক একাকী পথ চলছেন। এলাকার এই সরু পথটার কোথাও কোনো আলো নেই। রিলিফের মাল হিসেবে পাওয়া সরকারি একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির সামনে। পথিকের এই পথ থেকে তা অনেক দূর। এখান থেকে তাকালে ঝাপসা ঝাপসা দেখায়। নিভু নিভু করে আলো জ্বলছে। এ পথটা ধরে পথিক চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে যতো আগাবে, ততোই সে আলো পাবে। অন্ধকারচ্ছন্ন এই পথ তার নিকট স্পষ্ট হতে থাকবে। ধীরে ধীরে যখন সে বাড়ির সামনে চলে আসবে, তখন নিঃসন্দেহে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট আলো পাবে।

ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন মসজিদ থেকে দূরে থাকবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে অবজ্ঞা করে চলবো, তখন আমরাও এই ব্যক্তির মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবো। কোথাও কোনো আলো পাবো না। চারদিক শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। আর আমরা যখন মসজিদমুখি হবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে পূর্ণরূপে পালন করবো, তখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত হবো।

পথিক অন্ধকার রাতে এতো কষ্টকরে পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় কেউ যেমন তার এই পথ চলার সাথী হয়নি বা তার কষ্টের বোঝা বহন করেনি, ঠিক তেমনি আমরা যখন মসজিদ থেকে বিমুখ হয়ে যাবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম আহকাম থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার বহন করে চলবো, তখন আমাদের এই অন্ধকারত্বের বোঝা কেউ বহন করে নিবে না। কেউ আমাদের সাথী হবে না। কেউ আমাদেরকে ভালো বলবেও না ভালোবাসবেও না।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْنِي إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহনের জন্য কাউকে ডাকে, তবে তার বোঝার কোনো অংশই বহন করা হবে না, যদিও সে আত্মীয় হয়। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করবে, যারা তাদের রবকে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছেই আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে।

إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لকেُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা যদি কুফরী করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করো, তবে তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। অতঃপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চই তোমাদের অন্তরের বিষয়গুলো তিনি সম্যক অবগত।

۞أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না।

টিকাঃ
৪০. সুরা ফাত্বির, আয়াত: ১৮
৪১. সুরা যুমার, আয়াত: ৭
৪২. সুরা আন-নজম, আয়াত: ৩৮

📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 ভালোবাসার ফ্রেম

📄 ভালোবাসার ফ্রেম


আমরা কমবেশি সবাই ছবি তুলতে ভালোবাসি। কোথাও ঘুরতে বেরুলে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে স্মৃতির ফ্রেমে আবদ্ধ করে রাখি। সুন্দর কোনো মুহূর্ত, পরিবেশ, প্রকৃতির ছবি তুলতে পারলে আমরা তা যত্নকরে রেখে দেই। আবার এই পরিবেশ প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে নিজের ছবি তুলে আমরা সেগুলো যত্নভরে রত্নের মতো স্মৃতির ফ্রেমে রাঙ্গিয়ে রাখি।

আচ্ছা আমাদের মনে শত কষ্ট থাকার পরও কি আমরা কখনো ক্যামেরার সামনে কষ্টের লুক দেই? কখনোই না। আমরা সবসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কিউট লুকে ছবি তুলতে ভালোবাসি। কারণ আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে যে, ক্যামেরার সামনে আমার এই মাত্র দুই সেকেন্ড হাসির দ্বারা আমার চেহারায় সারাজীবন হাসি ফুটে উঠবে। অর্থাৎ, ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় যদি আমি হাসি, তাহলে সেই হাসি মুখটাই সারাজীবন এই ছবিতে ভেসে উঠবে। আজ থেকে নিয়ে পঞ্চাশ বছর পরও যদি আমি এই ছবিটার দিকে তাকাই, তাহলে তখনও আমাকে হাসি মুখে দেখা যাবে।

সুতরাং সময় মতো দুই সেকেন্ডের হাসি আমার মুখে সারাজীবন হাসি ফোটাবে। আর ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কিংবা ভুলে-ভালেও যদি সেই দুই সেকেন্ড মুখ গোমড়া করে রাখি, তাহলে সারাজীবন আমাদের মুখ গোমড়াই দেখাবে। এই ছবির উপর তখন হাজার ঘসামাজা করলেও তখন কোনো কাজে আসবে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের উপর মাঝে মধ্যেই বিপদ দিয়ে দেখেন যে, আমরা তখন কেমন রিয়েক্ট করি! সে বিপদের সময় আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি হয়ে তাকে ডাকি নাকি আমরা শয়তানের প্ররোচনায় তাঁকে ভুলে বসে থাকি। বিপদ আসলে আমাদেরকে মনে করতে হবে যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার রিযিক বরাদ্দ। সুতরাং আমাদের প্রত্যেককেই প্রাপ্ত রিযিকের উপর সন্তষ্ট থাকা চাই। এর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে দোষ না দেয়া। আমাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যা নির্ধারণ করেছেন এবং যতোটুকু নির্ধারণ করেছেন, আমরা তা এবং ততোটুকুই পাবো। এর থেকে কানাকড়িও বেশি পাবো না।

বিপদ আসলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি না হয়ে তাঁর উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে আমাদের নিজের ইমেজ নষ্ট করা বোকামি বৈ আর কী হতে পারে?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।

الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার পতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে তার পক্ষ হতে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই প্রচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।

لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ মَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَإِتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَاْتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ঈমান আনে এবং শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রর্থনাকারীকে এবং বন্দীমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, কষ্ট দুর্দশা ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ করে, তারাই সত্যবাদী তারাই মুত্তাকী।

টিকাঃ
৪০. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫
৪৪. সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৮
৪৫. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭

আমরা কমবেশি সবাই ছবি তুলতে ভালোবাসি। কোথাও ঘুরতে বেরুলে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে স্মৃতির ফ্রেমে আবদ্ধ করে রাখি। সুন্দর কোনো মুহূর্ত, পরিবেশ, প্রকৃতির ছবি তুলতে পারলে আমরা তা যত্নকরে রেখে দেই। আবার এই পরিবেশ প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে নিজের ছবি তুলে আমরা সেগুলো যত্নভরে রত্নের মতো স্মৃতির ফ্রেমে রাঙ্গিয়ে রাখি।

আচ্ছা আমাদের মনে শত কষ্ট থাকার পরও কি আমরা কখনো ক্যামেরার সামনে কষ্টের লুক দেই? কখনোই না। আমরা সবসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কিউট লুকে ছবি তুলতে ভালোবাসি। কারণ আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে যে, ক্যামেরার সামনে আমার এই মাত্র দুই সেকেন্ড হাসির দ্বারা আমার চেহারায় সারাজীবন হাসি ফুটে উঠবে। অর্থাৎ, ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় যদি আমি হাসি, তাহলে সেই হাসি মুখটাই সারাজীবন এই ছবিতে ভেসে উঠবে। আজ থেকে নিয়ে পঞ্চাশ বছর পরও যদি আমি এই ছবিটার দিকে তাকাই, তাহলে তখনও আমাকে হাসি মুখে দেখা যাবে।

সুতরাং সময় মতো দুই সেকেন্ডের হাসি আমার মুখে সারাজীবন হাসি ফোটাবে। আর ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কিংবা ভুলে-ভালেও যদি সেই দুই সেকেন্ড মুখ গোমড়া করে রাখি, তাহলে সারাজীবন আমাদের মুখ গোমড়াই দেখাবে। এই ছবির উপর তখন হাজার ঘসামাজা করলেও তখন কোনো কাজে আসবে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের উপর মাঝে মধ্যেই বিপদ দিয়ে দেখেন যে, আমরা তখন কেমন রিয়েক্ট করি! সে বিপদের সময় আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি হয়ে তাকে ডাকি নাকি আমরা শয়তানের প্ররোচনায় তাঁকে ভুলে বসে থাকি। বিপদ আসলে আমাদেরকে মনে করতে হবে যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার রিযিক বরাদ্দ। সুতরাং আমাদের প্রত্যেককেই প্রাপ্ত রিযিকের উপর সন্তষ্ট থাকা চাই। এর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে দোষ না দেয়া। আমাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যা নির্ধারণ করেছেন এবং যতোটুকু নির্ধারণ করেছেন, আমরা তা এবং ততোটুকুই পাবো। এর থেকে কানাকড়িও বেশি পাবো না।

বিপদ আসলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি না হয়ে তাঁর উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে আমাদের নিজের ইমেজ নষ্ট করা বোকামি বৈ আর কী হতে পারে?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।

الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার পতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে তার পক্ষ হতে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই প্রচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।

لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ মَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَإِتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَاْتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ঈমান আনে এবং শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রর্থনাকারীকে এবং বন্দীমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, কষ্ট দুর্দশা ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ করে, তারাই সত্যবাদী তারাই মুত্তাকী।

টিকাঃ
৪০. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫
৪৪. সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৮
৪৫. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭

📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 বাচ্চারা দোষ করলেও আনন্দ লাগে

📄 বাচ্চারা দোষ করলেও আনন্দ লাগে


আমাদের সবার বাসায় কমবেশি বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ফুর্তি করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এই আনন্দ ফুর্তির জন্য ওদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি অভিজ্ঞ। ওদের হাসি কান্নার সাথেই আমাদের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।

আচ্ছা বাচ্চারা যখন আনন্দ ফুর্তির মাঝে আমাদের শরীরে হাজত সেরে ফেলে, তখন কি আমরা রেগে আগুন হয়ে যাই? কখনোই না। বরং আমরা মুচকি হেসে মনকে এই বলে প্রমোদ দেই যে, থাক... না বুঝে করে ফেলছে।

সন্তান যখন বাবা-মায়ের গায়ে বা অন্য কোথাও বড় ইস্তিঞ্জা বা ছোট ইস্তিঞ্জা সেরে ফেলে, বাবা-মা কিন্তু তখন সেই সন্তানের উপর রাগ হন না; বরং আনন্দের সাথে তা পরিষ্কার করেন। বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে সাফ করেন। নতুন জামা পরিয়ে আবার আগের মতো সাজিয়ে তুলেন।

আচ্ছা বাচ্চা পায়খানা করার পর নিজে নিজেই যদি বলে যে, 'আম্মু আমি আক্কা দিছি' তখন কিন্তু মা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। আনন্দচিত্তে বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেন।

আবার অন্যদিকে এই বাচ্চাটাই যখন ময়লা দিয়ে মাখানো থাকে আর মা গোসলখানার দিকে নিয়ে যায় পরিষ্কার করাতে, তখন যদি বাচ্চাটা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলে যে, 'আমি আক্কা দেই নাই, আমি গোসল কব্বো না', এমন করলে কিন্তু নিশ্চিত মায়ের হাতে বাচ্চাটা মার খাবে। কেনো? কারণ একে তো ময়লা দিয়ে মাখামাখি, তারউপর আবার স্বীকার করতে চাচ্ছে না। গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইছে না।

ঠিক তেমনিভাবে, বান্দা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট বাচ্চাদের মতো। যখন সে গুনাহ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট স্বীকার করবে, এক মনে এক ধ্যানে তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার গুনাহ সমূহ আনন্দচিত্তে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

আর যখন গুনাহ করার পর স্বীকার করতে চাইবে না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করবে না, তখন নিশ্চিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার উপর রাগান্বিত হবেন। বাবা মা যেমন বাধ্য সন্তানের ময়লা সাফ করে আনন্দ লাভ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও তার বাধ্যগত বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে আনন্দ লাভ করেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحِبُّبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমাও করে দিবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে। যার পরিধি আসমান সমূহ ও জমিনের সমান। যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ছাড়া কে তাদের গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তারা তা বারবার করে না।

أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
এরাই তারা, যাদের প্রতিদান তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতোই না উত্তম।

فاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।

وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তার তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন।

টিকাঃ
৪৬. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
৪৭. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩
৪৮. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫
৪৯. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬
৫০. সুরা মু'মিন, আয়াত: ৫৫
৫১. সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫

আমাদের সবার বাসায় কমবেশি বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ফুর্তি করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এই আনন্দ ফুর্তির জন্য ওদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি অভিজ্ঞ। ওদের হাসি কান্নার সাথেই আমাদের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।

আচ্ছা বাচ্চারা যখন আনন্দ ফুর্তির মাঝে আমাদের শরীরে হাজত সেরে ফেলে, তখন কি আমরা রেগে আগুন হয়ে যাই? কখনোই না। বরং আমরা মুচকি হেসে মনকে এই বলে প্রমোদ দেই যে, থাক... না বুঝে করে ফেলছে।

সন্তান যখন বাবা-মায়ের গায়ে বা অন্য কোথাও বড় ইস্তিঞ্জা বা ছোট ইস্তিঞ্জা সেরে ফেলে, বাবা-মা কিন্তু তখন সেই সন্তানের উপর রাগ হন না; বরং আনন্দের সাথে তা পরিষ্কার করেন। বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে সাফ করেন। নতুন জামা পরিয়ে আবার আগের মতো সাজিয়ে তুলেন।

আচ্ছা বাচ্চা পায়খানা করার পর নিজে নিজেই যদি বলে যে, 'আম্মু আমি আক্কা দিছি' তখন কিন্তু মা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। আনন্দচিত্তে বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেন।

আবার অন্যদিকে এই বাচ্চাটাই যখন ময়লা দিয়ে মাখানো থাকে আর মা গোসলখানার দিকে নিয়ে যায় পরিষ্কার করাতে, তখন যদি বাচ্চাটা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলে যে, 'আমি আক্কা দেই নাই, আমি গোসল কব্বো না', এমন করলে কিন্তু নিশ্চিত মায়ের হাতে বাচ্চাটা মার খাবে। কেনো? কারণ একে তো ময়লা দিয়ে মাখামাখি, তারউপর আবার স্বীকার করতে চাচ্ছে না। গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইছে না।

ঠিক তেমনিভাবে, বান্দা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট বাচ্চাদের মতো। যখন সে গুনাহ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট স্বীকার করবে, এক মনে এক ধ্যানে তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার গুনাহ সমূহ আনন্দচিত্তে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।

আর যখন গুনাহ করার পর স্বীকার করতে চাইবে না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করবে না, তখন নিশ্চিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার উপর রাগান্বিত হবেন। বাবা মা যেমন বাধ্য সন্তানের ময়লা সাফ করে আনন্দ লাভ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও তার বাধ্যগত বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে আনন্দ লাভ করেন।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحِبُّبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমাও করে দিবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।

وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে। যার পরিধি আসমান সমূহ ও জমিনের সমান। যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ছাড়া কে তাদের গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তারা তা বারবার করে না।

أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
এরাই তারা, যাদের প্রতিদান তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতোই না উত্তম।

فاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।

وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তার তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন।

টিকাঃ
৪৬. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
৪৭. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩
৪৮. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫
৪৯. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬
৫০. সুরা মু'মিন, আয়াত: ৫৫
৫১. সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫

📘 লজিক্যাল মাইন্ড 📄 অটোর গতি

📄 অটোর গতি


আমাদের দেশে অটোরিকশা এখন এভেইলেবেল। একটা সময় ছিলো, যখন অটোরিকশার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারতো না। তখন সর্বত্র পা-চালিত রিকশা ছিলো। খুব কষ্ট করে তাদেরকে রিকশা চালাতে হতো। প্যাডেল দিলে রিকশা সামনে আগাবে, নয়তো না। এ যাত্রায় মুরব্বি রিকশা চালকদের অনেক বেশি কষ্ট হয়ে যেতো। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি কখনো মুরব্বি রিকশা চালকের রিকশায় উঠতাম না। এটা আমার বিবেক বাঁধা দিতো। মুরব্বিদের রিকশা চালাতে দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে; আর সেটা এখনও। যদিও এখন অটোরিকশা অহরহ; তবুও মুরব্বি তো মুরব্বি-ই।

এইতো কিছুদিন আগে চাচা হৃদয় ছোঁয়া এক কারগুজারি শোনালেন। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমাদের এলাকায় জর্ডান থেকে একটি তাবলিগের জামাত আসে। বয়ষ্ক আমির সাহেব খুব নম্র-ভদ্র গোছের লোক। পাশের মহল্লার মসজিদে তাকে আসরের নামাজের পর বয়ান করতে হবে। বাবা আমির সাহেবকে সাথে নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে আসরের আগে আগেই বেরুলেন। তখন পথের একমাত্র জানবাহন পা-চালিত রিকশা। একজন রিকশাওয়ালাকে ডাকা হলো। বাবা আমির সাহেবকে বললেন রিকশায় উঠতে, কিন্তু তার কপালে চিন্তার ভাঁজ; 'একজন মানুষ আমাদের দু'জনকে টেনে নিয়ে যাবে এটা কোন ধরণের মানবতা!' কোনে মতেই আমির সাহেবকে রিকশায় উঠানো গেলো না। বেচারা আমির সাহেব পায়ে হেঁটে যেতে রাজি, তবুও তিনি রিকশায় উঠবেন না। পায়ে হেঁটেও মসজিদে যাওয়া যেতো; কিন্তু মসজিদ এতোটুকু দূর যে, পায়ে হেঁটে গেলে নামাজ তো দূরের কথা বয়ান ধরতে পারবে কিনা সন্দেহ। অবশেষে বাবা তাকে বেবি (সি.এন.জির আগের ভার্সন, তেলে চালিত) ভাড়া করে সেই মসজিদে নিয়ে গেলেন। কারগুজারি শোনার পর আমি চাচাকে বললাম, 'আমির সাহেব যদি এখন আমাদের দেশে আসতেন, তাহলে নির্দিধায় তিনি অটোরিকশায় চড়ে বসতেন।'

বর্তমান সময়ে অটোর সাথে সাথে পা-চালিত রিকশাও আমাদের দেশে এভেইলেবেল। এখন ইচ্ছেটা শুধুমাত্র আপনার, আপনি অটো চালাবেন নাকি পা-চালিত রিকশা চালাবেন! কেউ যদি আমাকে এই দুটি অপশন দেয়, তাহলে আমি অটোকেই বেছে নিবো। কারণ সারাদিন আমাকে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে না, ঘন্টাখানেক পর পর আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে না, দিনশেষে আমার পা'ও ব্যথা করবে না। শুধুমাত্র রিকশার স্টিয়ারিংটা ধরে বসে থাকলেই হলো। আমার ফোকাস ঠিক থাকলে অটো আমাকে নিয়ে যাবে দূর হতে বহুদূর। অটোরিকশা একদিনে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশার একদিনে ঐ পরিমাণ কখনোই সম্ভব না। অটোতে এটা কেনো সম্ভব? কারণ তার পেছনে ব্যাকাপ আছে। পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আর সে নিশ্চিন্তে সামনে আগায়। ফলে চালকের তেমন কষ্ট হয় না, দিনশেষে তার ক্লান্তিও আসে না।

অপরদিকে পা-চালিত রিকশার পেছনে ব্যাকাপ না থাকায় পেছন থেকে তাকে কেউ ধাক্কাও দেয় না আর সে দ্রুত গতিতে সামনেও আগায় না। যতোটুকু সামনে আগায় নিজের পায়ের জোরে আগায়। বেচারা অর্ধদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে। ক্লান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যায়। কেউ কেউ যদিওবা পূর্ণদিবস কাজ করে, কিন্তু একজন অটোওয়ালা যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশাওয়ালা তার ধারে কাছেও যেতে পারে না। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে- অটোর যতো গতিই থাকুক, দিনশেষে কিন্তু তাকে চার্জে ঠিকই বসাতে হয়। একরাত চার্জে না বসালে পরেরদিন সে অটো আর রাস্তায় বেরুতে পারে না, চলতেও পারে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, এখন ইচ্ছেটা আমাদের। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বুকে ধারণ করে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলবো নাকি রাসূলুল্লাহ'র আদর্শে চুনকালি মেখে উযবুকের ন্যায় ঘুরে বেড়াবো!

রাসূলুল্লাহ'র আদর্শ মেনে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলার অর্থ হলো অটোরিকশার মতো পেছনে ব্যাকাপ থাকা। আমরা শুধু ইসলামের হুকুম-আহকামের স্টিয়ারিংটা ধরে রাখবো, গন্তব্যে পৌঁছানোর দায়িত্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার। আর যদি ব্যাকাপ না থাকে, তাহলে শতকষ্ট করেও লক্ষ্যবস্তু স্থির করা যাবে না। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- অটোর যেমন চার্জ শেষ হয়ে যায়, অনুরূপ আমাদের ঈমানেরও পাওয়ার কমে যায়। এজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি বড়দের মজলিসে বসা চাই। তাদের কথা শুনে নিজের ঈমানকে আরো অনেকগুণ বেশি পাকাপোক্ত করা চাই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
বলো, ' তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো'। তারপর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।

تِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذُلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এগুলো হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার সীমারেখা। আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা।

وَمَنْ يَّعْصِ اللّٰهَ وَرَسُوْলَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهٗ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰমَنُوْٓا اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَاَطِيْعُوا الرَّসُوْলَ وَاُولِي الْاَمْرِ مِنْكُمْۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرুদُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّসُوْলِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِۗ ذٰلِكَ خَيْرٌ ওَّاَحْسَنُ تَاْوِيْلًا
হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ও তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করাও, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।

وَمَنْ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّসُوْলَ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيّٖনَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصّٰلِحِيْنَۚ وَحَسُنَ اُولٰٓئِكَ رَفِيْקًا ذٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّٰهِ وَكَفٰى بِاللّٰهِ عَلِيْمًا
আর যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। এই অনুগ্রহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পক্ষ হতে। আর সর্বজ্ঞ হিসেবে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই যথেষ্ট।

টিকাঃ
৫২. সুরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩২
৫৩. সুরা নিসা, আয়াত: ১৩
৫৪. সুরা নিসা, আয়াত: ১৪
৫৫. সুরা নিসা, আয়াত: ৫৯
৫৬. সুরা নিসা, আয়াত: ৬৯-৭০

আমাদের দেশে অটোরিকশা এখন এভেইলেবেল। একটা সময় ছিলো, যখন অটোরিকশার কথা মানুষ কল্পনাও করতে পারতো না। তখন সর্বত্র পা-চালিত রিকশা ছিলো। খুব কষ্ট করে তাদেরকে রিকশা চালাতে হতো। প্যাডেল দিলে রিকশা সামনে আগাবে, নয়তো না। এ যাত্রায় মুরব্বি রিকশা চালকদের অনেক বেশি কষ্ট হয়ে যেতো। আমার মনে আছে, ছোটবেলায় আমি কখনো মুরব্বি রিকশা চালকের রিকশায় উঠতাম না। এটা আমার বিবেক বাঁধা দিতো। মুরব্বিদের রিকশা চালাতে দেখলে আমার খুব খারাপ লাগে; আর সেটা এখনও। যদিও এখন অটোরিকশা অহরহ; তবুও মুরব্বি তো মুরব্বি-ই।

এইতো কিছুদিন আগে চাচা হৃদয় ছোঁয়া এক কারগুজারি শোনালেন। আজ থেকে বিশ বছর আগে আমাদের এলাকায় জর্ডান থেকে একটি তাবলিগের জামাত আসে। বয়ষ্ক আমির সাহেব খুব নম্র-ভদ্র গোছের লোক। পাশের মহল্লার মসজিদে তাকে আসরের নামাজের পর বয়ান করতে হবে। বাবা আমির সাহেবকে সাথে নিয়ে মসজিদের উদ্দেশ্যে আসরের আগে আগেই বেরুলেন। তখন পথের একমাত্র জানবাহন পা-চালিত রিকশা। একজন রিকশাওয়ালাকে ডাকা হলো। বাবা আমির সাহেবকে বললেন রিকশায় উঠতে, কিন্তু তার কপালে চিন্তার ভাঁজ; 'একজন মানুষ আমাদের দু'জনকে টেনে নিয়ে যাবে এটা কোন ধরণের মানবতা!' কোনে মতেই আমির সাহেবকে রিকশায় উঠানো গেলো না। বেচারা আমির সাহেব পায়ে হেঁটে যেতে রাজি, তবুও তিনি রিকশায় উঠবেন না। পায়ে হেঁটেও মসজিদে যাওয়া যেতো; কিন্তু মসজিদ এতোটুকু দূর যে, পায়ে হেঁটে গেলে নামাজ তো দূরের কথা বয়ান ধরতে পারবে কিনা সন্দেহ। অবশেষে বাবা তাকে বেবি (সি.এন.জির আগের ভার্সন, তেলে চালিত) ভাড়া করে সেই মসজিদে নিয়ে গেলেন। কারগুজারি শোনার পর আমি চাচাকে বললাম, 'আমির সাহেব যদি এখন আমাদের দেশে আসতেন, তাহলে নির্দিধায় তিনি অটোরিকশায় চড়ে বসতেন।'

বর্তমান সময়ে অটোর সাথে সাথে পা-চালিত রিকশাও আমাদের দেশে এভেইলেবেল। এখন ইচ্ছেটা শুধুমাত্র আপনার, আপনি অটো চালাবেন নাকি পা-চালিত রিকশা চালাবেন! কেউ যদি আমাকে এই দুটি অপশন দেয়, তাহলে আমি অটোকেই বেছে নিবো। কারণ সারাদিন আমাকে কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হবে না, ঘন্টাখানেক পর পর আমাকে বিশ্রাম নিতে হবে না, দিনশেষে আমার পা'ও ব্যথা করবে না। শুধুমাত্র রিকশার স্টিয়ারিংটা ধরে বসে থাকলেই হলো। আমার ফোকাস ঠিক থাকলে অটো আমাকে নিয়ে যাবে দূর হতে বহুদূর। অটোরিকশা একদিনে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশার একদিনে ঐ পরিমাণ কখনোই সম্ভব না। অটোতে এটা কেনো সম্ভব? কারণ তার পেছনে ব্যাকাপ আছে। পেছন থেকে ধাক্কা দেয় আর সে নিশ্চিন্তে সামনে আগায়। ফলে চালকের তেমন কষ্ট হয় না, দিনশেষে তার ক্লান্তিও আসে না।

অপরদিকে পা-চালিত রিকশার পেছনে ব্যাকাপ না থাকায় পেছন থেকে তাকে কেউ ধাক্কাও দেয় না আর সে দ্রুত গতিতে সামনেও আগায় না। যতোটুকু সামনে আগায় নিজের পায়ের জোরে আগায়। বেচারা অর্ধদিনেই হাঁপিয়ে ওঠে। ক্লান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে যায়। কেউ কেউ যদিওবা পূর্ণদিবস কাজ করে, কিন্তু একজন অটোওয়ালা যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে, পা-চালিত রিকশাওয়ালা তার ধারে কাছেও যেতে পারে না। দ্বিতীয় আরেকটি বিষয় হচ্ছে- অটোর যতো গতিই থাকুক, দিনশেষে কিন্তু তাকে চার্জে ঠিকই বসাতে হয়। একরাত চার্জে না বসালে পরেরদিন সে অটো আর রাস্তায় বেরুতে পারে না, চলতেও পারে না।

ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, এখন ইচ্ছেটা আমাদের। আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বুকে ধারণ করে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলবো নাকি রাসূলুল্লাহ'র আদর্শে চুনকালি মেখে উযবুকের ন্যায় ঘুরে বেড়াবো!

রাসূলুল্লাহ'র আদর্শ মেনে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পথে চলার অর্থ হলো অটোরিকশার মতো পেছনে ব্যাকাপ থাকা। আমরা শুধু ইসলামের হুকুম-আহকামের স্টিয়ারিংটা ধরে রাখবো, গন্তব্যে পৌঁছানোর দায়িত্ব আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার। আর যদি ব্যাকাপ না থাকে, তাহলে শতকষ্ট করেও লক্ষ্যবস্তু স্থির করা যাবে না। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে- অটোর যেমন চার্জ শেষ হয়ে যায়, অনুরূপ আমাদের ঈমানেরও পাওয়ার কমে যায়। এজন্য আমাদেরকে বেশি বেশি বড়দের মজলিসে বসা চাই। তাদের কথা শুনে নিজের ঈমানকে আরো অনেকগুণ বেশি পাকাপোক্ত করা চাই।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ
বলো, ' তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো'। তারপর যদি তার মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা কাফিরদেরকে ভালোবাসেন না।

تِلْكَ حُدُودُ اللهِ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَذُلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এগুলো হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার সীমারেখা। আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে প্রবেশ করাবেন জান্নাতে, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর এটা মহা সফলতা।

وَمَنْ يَّعْصِ اللّٰهَ وَرَسُوْলَهٗ وَيَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيْهَا وَلَهٗ عَذَابٌ مُّهِيْنٌ
আর যে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করে এবং তাঁর সীমারেখা লঙ্ঘন করে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন। সেখানে সে স্থায়ী হবে। আর তার জন্যই রয়েছে অপমানজনক শাস্তি।

يٰٓاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰমَنُوْٓا اَطِيْعُوا اللّٰهَ وَاَطِيْعُوا الرَّসُوْলَ وَاُولِي الْاَمْرِ مِنْكُمْۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِيْ شَيْءٍ فَرুদُّوْهُ اِلَى اللّٰهِ وَالرَّসُوْলِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللّٰهِ وَالْيَوْمِ الْاٰخِرِۗ ذٰلِكَ خَيْرٌ ওَّاَحْسَنُ تَاْوِيْلًا
হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ও তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্য থেকে কর্তৃত্বের অধিকারীদের। অতঃপর কোনো বিষয়ে যদি তোমরা মতবিরোধ করো তাহলে তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তাঁর রাসূলের দিকে প্রত্যাবর্তন করাও, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখো। এটি উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।

وَمَنْ يُّطِعِ اللّٰهَ وَالرَّসُوْলَ فَاُولٰٓئِكَ مَعَ الَّذِيْنَ اَنْعَمَ اللّٰهُ عَلَيْهِمْ مِّنَ النَّبِيّٖনَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاءِ وَالصّٰلِحِيْنَۚ وَحَسُنَ اُولٰٓئِكَ رَفِيْקًا ذٰلِكَ الْفَضْلُ مِنَ اللّٰهِ وَكَفٰى بِاللّٰهِ عَلِيْمًا
আর যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ও তার রাসূলের আনুগত্য করে, তারা তাদের সাথে থাকবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যাদের উপর অনুগ্রহ করেছেন- নবী, সিদ্দীক, শহীদ ও সৎকর্মশীলদের মধ্য থেকে। আর সাথী হিসেবে তারা হবে উত্তম। এই অনুগ্রহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পক্ষ হতে। আর সর্বজ্ঞ হিসেবে একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই যথেষ্ট।

টিকাঃ
৫২. সুরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৩২
৫৩. সুরা নিসা, আয়াত: ১৩
৫৪. সুরা নিসা, আয়াত: ১৪
৫৫. সুরা নিসা, আয়াত: ৫৯
৫৬. সুরা নিসা, আয়াত: ৬৯-৭০

ফন্ট সাইজ
15px
17px