📄 পাতি মাস্তান থেকে বাঁচার উপায়
আমরা কমবেশি সকলেই গোপন গুনাহ করে থাকি। কেউ ইচ্ছায় কেউ বা আবার অনিচ্ছায়। গুনাহ করার পর আমরা আফসোস করি। অনেকেই আমরা এই গোপন গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই কিন্তু কী রেখে কী করবো তার কোনো উপায় খুঁজে পাই না। আজকের বাতলানো উপায়টি হয়তোবা অনেকের জন্য গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার থেরাপি সরূপ হতে পারে। এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে-
প্রথমত তাকওয়া অর্জন করা।
দ্বিতীয়ত কঠিন হিম্মত করা।
যেমন ধরুন, বাচ্চারা অনেক সময় জিদ ধরে যে, 'ডিম ভেজে না দিলে আমি ভাত খাবো না!' কঠিন জিদ। ডিম ভাজা ছাড়া ভাত খাবে না খাবেই না। শেষ পর্যন্ত হয়-ও তাই। সবাই খেয়ে ফেলে কিন্তু ও খায় না। ওর ডিম ভাজা লাগবেই লাগবে। বাধ্যহয়ে, মা ওকে ডিম ভেজে দেয়।
অনুরূপ আমাদেরকেও জিদ ধরতে হবে যে, আমি গুনাহে যাবো না। গুনাহের কাজ করবো না। গুনাহ ছাড়বোই। দেখবেন যে, অবশ্য অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আপনাকে নুসরত করবেন। আরেকটি হলো, ঘনঘন আল্লাহ ওয়ালাদের বৈঠকে বসলে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, মাস্তানদের থেকে বাঁচার উপায় কী? যারা এলাকার পাতি মাস্তান, চাঁদাবাজ। এদের থেকে বাঁচার পথ কী? এদের থেকে বাঁচার উপায় একটাই; তা হলো- আমাকে বেশি বেশি এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যেতে হবে। তাদের খোঁজ-খবর নিতে হবে। সুযোগ হলে তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে হবে।
যখন এলাকার পাতি মাস্তানরা দেখবে যে, আমি ঘনঘন এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যাচ্ছি, তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি, তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোডও করছি; তখন ও মনে মনে বলবে যে, আরে আল্লাহ...! ওর সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ও তো অনেক বড় মানুষ! এমপি মন্ত্রীদের সাথে ওর সম্পর্ক। তাদের সাথে ওর সেলফি পাওয়া যায়। তিন রাস্তার মোড়ে এমপিদের সাথে ব্যানার-ফেস্টুনে ওর ছবিও দেখা যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড়বড় সাইনবোর্ড টানানো। সেখানে এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ওর ছবি! এই ভেবে পাতি মাস্তানরা আমার কাছে আসবে তো দূরের কথা, ওরা আমাকে দেখলেই শুধু সেলুট দিবে। এটা হচ্ছে দুনিয়াদারদের সাথে সম্পর্কের বরকত।
ঠিক তেমনিভাবে, যখন গুনাহগার বান্দা আল্লাহ ওয়ালাদের দরবারে আসা-যাওয়া করে। তাদের সংস্পর্শে বসে। তাদের সাথে সুসম্পর্কও রাখে। তখন তাদের নেক সংস্পর্শে থাকার কারণে গুনাহগার বান্দার বহু গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়। এবং শয়তানের ধোঁকা থেকেও বাঁচা সহজ হয়ে যায়। কারণ, শয়তান তখন চিন্তা করে যে, 'ওর সাথে তো বড়দের সাথে সম্পর্ক! ওকে ধোঁকা দিয়ে তো আমি বেশি একটা সুবিধা করতে পারবো না। ও বড়দের কাছে যাবে, আলোচনা করবে, আর এদিকে আমার সব গোমর ফাঁস হয়ে যাবে!' এইজন্য শয়তানও এই ব্যক্তির কাছে আসতে ভয় করে।
এজন্য আমরা যারা নিজেরা বুঝি যে, এটা অপরাধ; তারা তো বুঝিই। আর যারা বুঝি না, তাদের জন্য উচিৎ হলো, ঘনঘন আলেম-উলামাদের দরবারে যাওয়া। তাদের সংস্পর্শে থাকা। তাদের সাথে মিল-মুহাব্বত রাখা। একটি কথা সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ যে- আমি ট্যাঙ্কির ছিদ্র বন্ধকরে দিলে; পানি যা দিবো তাই থাকবে, গুনাহ করা বন্ধকরে দিলে; আমল যা করবো তাই থাকবে।
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু খলিফা থাকাকালীন অবস্থায় মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য রাতের বেলা গ্রাম-গঞ্জের অলি-গলিতে বের হতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর তিনি হাঁটছেন। হঠাৎ দেখলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণত কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা বৈধ নয়, কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে তা বৈধ। কথাবার্তার ধরণ দেখে উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু এর কৌতূহল জন্মালো। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন। শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, 'বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এতো অল্প দুধ বিক্রিকরে দিন পাড় করা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে, তাই দুধের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে দাও।'
মেয়ে জবাব দিলো, 'মা! আমিরুল মুমিনিন তো আমাদেরকে দুধের সঙ্গে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন।' বৃদ্ধা বলল, 'আমিরুল মুমিনিন কী আমাদেরকে দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পারো।' এ কথার জবাবে মেয়ে বলল, 'মা! আমিরুল মুমিনিন এখানে নেই এবং হয়তো তার কোনো লোকজনও এখানে নেই; কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তো আছেন! তিনি তো আমাদেরকে দেখছেন! তার কাছে আমরা কী জবাব দিবো?'
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এতোটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন। পরেরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজ-খবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।
এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমিরুল মুমিনিনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহন করেন খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যাকে পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ বলা হয়।
একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমে গোপন গুনাহ থেকে বেঁচে তারা সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। তাদের তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা কী আদৌ একবার ভেবে দেখার সুযোগটুকু হয়েছে?
আমরা কমবেশি সকলেই গোপন গুনাহ করে থাকি। কেউ ইচ্ছায় কেউ বা আবার অনিচ্ছায়। গুনাহ করার পর আমরা আফসোস করি। অনেকেই আমরা এই গোপন গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই কিন্তু কী রেখে কী করবো তার কোনো উপায় খুঁজে পাই না। আজকের বাতলানো উপায়টি হয়তোবা অনেকের জন্য গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার থেরাপি সরূপ হতে পারে। এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে-
প্রথমত তাকওয়া অর্জন করা।
দ্বিতীয়ত কঠিন হিম্মত করা।
যেমন ধরুন, বাচ্চারা অনেক সময় জিদ ধরে যে, 'ডিম ভেজে না দিলে আমি ভাত খাবো না!' কঠিন জিদ। ডিম ভাজা ছাড়া ভাত খাবে না খাবেই না। শেষ পর্যন্ত হয়-ও তাই। সবাই খেয়ে ফেলে কিন্তু ও খায় না। ওর ডিম ভাজা লাগবেই লাগবে। বাধ্যহয়ে, মা ওকে ডিম ভেজে দেয়।
অনুরূপ আমাদেরকেও জিদ ধরতে হবে যে, আমি গুনাহে যাবো না। গুনাহের কাজ করবো না। গুনাহ ছাড়বোই। দেখবেন যে, অবশ্য অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আপনাকে নুসরত করবেন। আরেকটি হলো, ঘনঘন আল্লাহ ওয়ালাদের বৈঠকে বসলে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, মাস্তানদের থেকে বাঁচার উপায় কী? যারা এলাকার পাতি মাস্তান, চাঁদাবাজ। এদের থেকে বাঁচার পথ কী? এদের থেকে বাঁচার উপায় একটাই; তা হলো- আমাকে বেশি বেশি এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যেতে হবে। তাদের খোঁজ-খবর নিতে হবে। সুযোগ হলে তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে হবে।
যখন এলাকার পাতি মাস্তানরা দেখবে যে, আমি ঘনঘন এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যাচ্ছি, তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি, তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোডও করছি; তখন ও মনে মনে বলবে যে, আরে আল্লাহ...! ওর সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ও তো অনেক বড় মানুষ! এমপি মন্ত্রীদের সাথে ওর সম্পর্ক। তাদের সাথে ওর সেলফি পাওয়া যায়। তিন রাস্তার মোড়ে এমপিদের সাথে ব্যানার-ফেস্টুনে ওর ছবিও দেখা যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড়বড় সাইনবোর্ড টানানো। সেখানে এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ওর ছবি! এই ভেবে পাতি মাস্তানরা আমার কাছে আসবে তো দূরের কথা, ওরা আমাকে দেখলেই শুধু সেলুট দিবে। এটা হচ্ছে দুনিয়াদারদের সাথে সম্পর্কের বরকত।
ঠিক তেমনিভাবে, যখন গুনাহগার বান্দা আল্লাহ ওয়ালাদের দরবারে আসা-যাওয়া করে। তাদের সংস্পর্শে বসে। তাদের সাথে সুসম্পর্কও রাখে। তখন তাদের নেক সংস্পর্শে থাকার কারণে গুনাহগার বান্দার বহু গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়। এবং শয়তানের ধোঁকা থেকেও বাঁচা সহজ হয়ে যায়। কারণ, শয়তান তখন চিন্তা করে যে, 'ওর সাথে তো বড়দের সাথে সম্পর্ক! ওকে ধোঁকা দিয়ে তো আমি বেশি একটা সুবিধা করতে পারবো না। ও বড়দের কাছে যাবে, আলোচনা করবে, আর এদিকে আমার সব গোমর ফাঁস হয়ে যাবে!' এইজন্য শয়তানও এই ব্যক্তির কাছে আসতে ভয় করে।
এজন্য আমরা যারা নিজেরা বুঝি যে, এটা অপরাধ; তারা তো বুঝিই। আর যারা বুঝি না, তাদের জন্য উচিৎ হলো, ঘনঘন আলেম-উলামাদের দরবারে যাওয়া। তাদের সংস্পর্শে থাকা। তাদের সাথে মিল-মুহাব্বত রাখা। একটি কথা সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ যে- আমি ট্যাঙ্কির ছিদ্র বন্ধকরে দিলে; পানি যা দিবো তাই থাকবে, গুনাহ করা বন্ধকরে দিলে; আমল যা করবো তাই থাকবে।
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু খলিফা থাকাকালীন অবস্থায় মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য রাতের বেলা গ্রাম-গঞ্জের অলি-গলিতে বের হতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর তিনি হাঁটছেন। হঠাৎ দেখলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণত কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা বৈধ নয়, কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে তা বৈধ। কথাবার্তার ধরণ দেখে উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু এর কৌতূহল জন্মালো। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন। শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, 'বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এতো অল্প দুধ বিক্রিকরে দিন পাড় করা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে, তাই দুধের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে দাও।'
মেয়ে জবাব দিলো, 'মা! আমিরুল মুমিনিন তো আমাদেরকে দুধের সঙ্গে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন।' বৃদ্ধা বলল, 'আমিরুল মুমিনিন কী আমাদেরকে দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পারো।' এ কথার জবাবে মেয়ে বলল, 'মা! আমিরুল মুমিনিন এখানে নেই এবং হয়তো তার কোনো লোকজনও এখানে নেই; কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তো আছেন! তিনি তো আমাদেরকে দেখছেন! তার কাছে আমরা কী জবাব দিবো?'
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এতোটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন। পরেরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজ-খবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।
এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমিরুল মুমিনিনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহন করেন খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যাকে পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ বলা হয়।
একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমে গোপন গুনাহ থেকে বেঁচে তারা সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। তাদের তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা কী আদৌ একবার ভেবে দেখার সুযোগটুকু হয়েছে?
📄 চেয়ারম্যান বাড়ির ল্যাম্পপোস্ট
খুব অন্ধকার রাত্রিতে একজন পথিক একাকী পথ চলছেন। এলাকার এই সরু পথটার কোথাও কোনো আলো নেই। রিলিফের মাল হিসেবে পাওয়া সরকারি একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির সামনে। পথিকের এই পথ থেকে তা অনেক দূর। এখান থেকে তাকালে ঝাপসা ঝাপসা দেখায়। নিভু নিভু করে আলো জ্বলছে। এ পথটা ধরে পথিক চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে যতো আগাবে, ততোই সে আলো পাবে। অন্ধকারচ্ছন্ন এই পথ তার নিকট স্পষ্ট হতে থাকবে। ধীরে ধীরে যখন সে বাড়ির সামনে চলে আসবে, তখন নিঃসন্দেহে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট আলো পাবে।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন মসজিদ থেকে দূরে থাকবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে অবজ্ঞা করে চলবো, তখন আমরাও এই ব্যক্তির মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবো। কোথাও কোনো আলো পাবো না। চারদিক শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। আর আমরা যখন মসজিদমুখি হবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে পূর্ণরূপে পালন করবো, তখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত হবো।
পথিক অন্ধকার রাতে এতো কষ্টকরে পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় কেউ যেমন তার এই পথ চলার সাথী হয়নি বা তার কষ্টের বোঝা বহন করেনি, ঠিক তেমনি আমরা যখন মসজিদ থেকে বিমুখ হয়ে যাবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম আহকাম থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার বহন করে চলবো, তখন আমাদের এই অন্ধকারত্বের বোঝা কেউ বহন করে নিবে না। কেউ আমাদের সাথী হবে না। কেউ আমাদেরকে ভালো বলবেও না ভালোবাসবেও না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْنِي إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহনের জন্য কাউকে ডাকে, তবে তার বোঝার কোনো অংশই বহন করা হবে না, যদিও সে আত্মীয় হয়। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করবে, যারা তাদের রবকে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছেই আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে।
إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لকেُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা যদি কুফরী করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করো, তবে তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। অতঃপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চই তোমাদের অন্তরের বিষয়গুলো তিনি সম্যক অবগত।
۞أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না।
টিকাঃ
৪০. সুরা ফাত্বির, আয়াত: ১৮
৪১. সুরা যুমার, আয়াত: ৭
৪২. সুরা আন-নজম, আয়াত: ৩৮
খুব অন্ধকার রাত্রিতে একজন পথিক একাকী পথ চলছেন। এলাকার এই সরু পথটার কোথাও কোনো আলো নেই। রিলিফের মাল হিসেবে পাওয়া সরকারি একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির সামনে। পথিকের এই পথ থেকে তা অনেক দূর। এখান থেকে তাকালে ঝাপসা ঝাপসা দেখায়। নিভু নিভু করে আলো জ্বলছে। এ পথটা ধরে পথিক চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে যতো আগাবে, ততোই সে আলো পাবে। অন্ধকারচ্ছন্ন এই পথ তার নিকট স্পষ্ট হতে থাকবে। ধীরে ধীরে যখন সে বাড়ির সামনে চলে আসবে, তখন নিঃসন্দেহে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট আলো পাবে।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন মসজিদ থেকে দূরে থাকবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে অবজ্ঞা করে চলবো, তখন আমরাও এই ব্যক্তির মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবো। কোথাও কোনো আলো পাবো না। চারদিক শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। আর আমরা যখন মসজিদমুখি হবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে পূর্ণরূপে পালন করবো, তখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত হবো।
পথিক অন্ধকার রাতে এতো কষ্টকরে পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় কেউ যেমন তার এই পথ চলার সাথী হয়নি বা তার কষ্টের বোঝা বহন করেনি, ঠিক তেমনি আমরা যখন মসজিদ থেকে বিমুখ হয়ে যাবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম আহকাম থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার বহন করে চলবো, তখন আমাদের এই অন্ধকারত্বের বোঝা কেউ বহন করে নিবে না। কেউ আমাদের সাথী হবে না। কেউ আমাদেরকে ভালো বলবেও না ভালোবাসবেও না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْنِي إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহনের জন্য কাউকে ডাকে, তবে তার বোঝার কোনো অংশই বহন করা হবে না, যদিও সে আত্মীয় হয়। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করবে, যারা তাদের রবকে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছেই আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে।
إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لকেُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা যদি কুফরী করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করো, তবে তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। অতঃপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চই তোমাদের অন্তরের বিষয়গুলো তিনি সম্যক অবগত।
۞أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না।
টিকাঃ
৪০. সুরা ফাত্বির, আয়াত: ১৮
৪১. সুরা যুমার, আয়াত: ৭
৪২. সুরা আন-নজম, আয়াত: ৩৮
📄 ভালোবাসার ফ্রেম
আমরা কমবেশি সবাই ছবি তুলতে ভালোবাসি। কোথাও ঘুরতে বেরুলে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে স্মৃতির ফ্রেমে আবদ্ধ করে রাখি। সুন্দর কোনো মুহূর্ত, পরিবেশ, প্রকৃতির ছবি তুলতে পারলে আমরা তা যত্নকরে রেখে দেই। আবার এই পরিবেশ প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে নিজের ছবি তুলে আমরা সেগুলো যত্নভরে রত্নের মতো স্মৃতির ফ্রেমে রাঙ্গিয়ে রাখি।
আচ্ছা আমাদের মনে শত কষ্ট থাকার পরও কি আমরা কখনো ক্যামেরার সামনে কষ্টের লুক দেই? কখনোই না। আমরা সবসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কিউট লুকে ছবি তুলতে ভালোবাসি। কারণ আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে যে, ক্যামেরার সামনে আমার এই মাত্র দুই সেকেন্ড হাসির দ্বারা আমার চেহারায় সারাজীবন হাসি ফুটে উঠবে। অর্থাৎ, ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় যদি আমি হাসি, তাহলে সেই হাসি মুখটাই সারাজীবন এই ছবিতে ভেসে উঠবে। আজ থেকে নিয়ে পঞ্চাশ বছর পরও যদি আমি এই ছবিটার দিকে তাকাই, তাহলে তখনও আমাকে হাসি মুখে দেখা যাবে।
সুতরাং সময় মতো দুই সেকেন্ডের হাসি আমার মুখে সারাজীবন হাসি ফোটাবে। আর ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কিংবা ভুলে-ভালেও যদি সেই দুই সেকেন্ড মুখ গোমড়া করে রাখি, তাহলে সারাজীবন আমাদের মুখ গোমড়াই দেখাবে। এই ছবির উপর তখন হাজার ঘসামাজা করলেও তখন কোনো কাজে আসবে না।
ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের উপর মাঝে মধ্যেই বিপদ দিয়ে দেখেন যে, আমরা তখন কেমন রিয়েক্ট করি! সে বিপদের সময় আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি হয়ে তাকে ডাকি নাকি আমরা শয়তানের প্ররোচনায় তাঁকে ভুলে বসে থাকি। বিপদ আসলে আমাদেরকে মনে করতে হবে যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার রিযিক বরাদ্দ। সুতরাং আমাদের প্রত্যেককেই প্রাপ্ত রিযিকের উপর সন্তষ্ট থাকা চাই। এর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে দোষ না দেয়া। আমাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যা নির্ধারণ করেছেন এবং যতোটুকু নির্ধারণ করেছেন, আমরা তা এবং ততোটুকুই পাবো। এর থেকে কানাকড়িও বেশি পাবো না।
বিপদ আসলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি না হয়ে তাঁর উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে আমাদের নিজের ইমেজ নষ্ট করা বোকামি বৈ আর কী হতে পারে?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।
الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার পতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে তার পক্ষ হতে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই প্রচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ মَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَإِتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَاْتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ঈমান আনে এবং শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রর্থনাকারীকে এবং বন্দীমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, কষ্ট দুর্দশা ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ করে, তারাই সত্যবাদী তারাই মুত্তাকী।
টিকাঃ
৪০. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫
৪৪. সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৮
৪৫. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭
আমরা কমবেশি সবাই ছবি তুলতে ভালোবাসি। কোথাও ঘুরতে বেরুলে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দী করে স্মৃতির ফ্রেমে আবদ্ধ করে রাখি। সুন্দর কোনো মুহূর্ত, পরিবেশ, প্রকৃতির ছবি তুলতে পারলে আমরা তা যত্নকরে রেখে দেই। আবার এই পরিবেশ প্রকৃতির সাথে মিশিয়ে নিজের ছবি তুলে আমরা সেগুলো যত্নভরে রত্নের মতো স্মৃতির ফ্রেমে রাঙ্গিয়ে রাখি।
আচ্ছা আমাদের মনে শত কষ্ট থাকার পরও কি আমরা কখনো ক্যামেরার সামনে কষ্টের লুক দেই? কখনোই না। আমরা সবসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে কিউট লুকে ছবি তুলতে ভালোবাসি। কারণ আমাদের খুব ভালো করেই জানা আছে যে, ক্যামেরার সামনে আমার এই মাত্র দুই সেকেন্ড হাসির দ্বারা আমার চেহারায় সারাজীবন হাসি ফুটে উঠবে। অর্থাৎ, ক্যামেরায় ছবি তোলার সময় যদি আমি হাসি, তাহলে সেই হাসি মুখটাই সারাজীবন এই ছবিতে ভেসে উঠবে। আজ থেকে নিয়ে পঞ্চাশ বছর পরও যদি আমি এই ছবিটার দিকে তাকাই, তাহলে তখনও আমাকে হাসি মুখে দেখা যাবে।
সুতরাং সময় মতো দুই সেকেন্ডের হাসি আমার মুখে সারাজীবন হাসি ফোটাবে। আর ইচ্ছায় অনিচ্ছায় কিংবা ভুলে-ভালেও যদি সেই দুই সেকেন্ড মুখ গোমড়া করে রাখি, তাহলে সারাজীবন আমাদের মুখ গোমড়াই দেখাবে। এই ছবির উপর তখন হাজার ঘসামাজা করলেও তখন কোনো কাজে আসবে না।
ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের উপর মাঝে মধ্যেই বিপদ দিয়ে দেখেন যে, আমরা তখন কেমন রিয়েক্ট করি! সে বিপদের সময় আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি হয়ে তাকে ডাকি নাকি আমরা শয়তানের প্ররোচনায় তাঁকে ভুলে বসে থাকি। বিপদ আসলে আমাদেরকে মনে করতে হবে যে, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার রিযিক বরাদ্দ। সুতরাং আমাদের প্রত্যেককেই প্রাপ্ত রিযিকের উপর সন্তষ্ট থাকা চাই। এর জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে দোষ না দেয়া। আমাদের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা যা নির্ধারণ করেছেন এবং যতোটুকু নির্ধারণ করেছেন, আমরা তা এবং ততোটুকুই পাবো। এর থেকে কানাকড়িও বেশি পাবো না।
বিপদ আসলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার মুখাপেক্ষি না হয়ে তাঁর উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে আমাদের নিজের ইমেজ নষ্ট করা বোকামি বৈ আর কী হতে পারে?
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তাঁর পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন যে,
وَلَنَبْلُوَنَّكُمْ بِشَيْءٍ مِنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِنَ الْأَمْوَالِ وَالْأَنْفُسِ وَالثَّمَرَاتِ وَبَشِّرِ الصَّابِرِينَ
আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করবো কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও।
الشَّيْطَانُ يَعِدُكُمُ الْفَقْرَ وَيَأْمُرُكُمْ بِالْفَحْشَاءِ وَاللَّهُ يَعِدُكُمْ مَغْفِرَةً مِنْهُ وَفَضْلًا وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
শয়তান তোমাদেরকে দারিদ্রতার পতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে তার পক্ষ হতে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাই প্রচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ।
لَيْسَ الْبِرَّ أَنْ تُوَلُّوا وُجُوهَكُمْ قِبَلَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَلَكِنَّ الْبِرَّ মَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَالْمَلَائِكَةِ وَالْكِتَابِ وَالنَّبِيِّينَ وَإِتَى الْمَالَ عَلَى حُبِّهِ ذَوِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ وَالسَّائِلِينَ وَفِي الرِّقَابِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَاْتَى الزَّكَاةَ وَالْمُوفُونَ بِعَهْدِهِمْ إِذَا عَاهَدُوا وَالصَّابِرِينَ فِي الْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ وَحِيْنَ الْبَأْسِ أُولَئِكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُتَّقُوْنَ
ভালো কাজ এটা নয় যে, তোমরা তোমাদের চেহারা পূর্ব ও পশ্চিম দিকে ফিরাবে; বরং ভালো কাজ হলো, যে ব্যক্তি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ঈমান আনে এবং শেষ দিবস, ফেরেশতাগণ, কিতাব ও নবীগণের প্রতি এবং যে সম্পদ প্রদান করে তার প্রতি আসক্তি সত্ত্বেও নিকটাত্মীয়গণকে, ইয়াতিম, অসহায়, মুসাফির ও প্রর্থনাকারীকে এবং বন্দীমুক্তিতে এবং যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, কষ্ট দুর্দশা ও যুদ্ধের সময় ধৈর্যধারণ করে, তারাই সত্যবাদী তারাই মুত্তাকী।
টিকাঃ
৪০. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৫
৪৪. সুরা বাকারা, আয়াত: ২৬৮
৪৫. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৭৭
📄 বাচ্চারা দোষ করলেও আনন্দ লাগে
আমাদের সবার বাসায় কমবেশি বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ফুর্তি করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এই আনন্দ ফুর্তির জন্য ওদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি অভিজ্ঞ। ওদের হাসি কান্নার সাথেই আমাদের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।
আচ্ছা বাচ্চারা যখন আনন্দ ফুর্তির মাঝে আমাদের শরীরে হাজত সেরে ফেলে, তখন কি আমরা রেগে আগুন হয়ে যাই? কখনোই না। বরং আমরা মুচকি হেসে মনকে এই বলে প্রমোদ দেই যে, থাক... না বুঝে করে ফেলছে।
সন্তান যখন বাবা-মায়ের গায়ে বা অন্য কোথাও বড় ইস্তিঞ্জা বা ছোট ইস্তিঞ্জা সেরে ফেলে, বাবা-মা কিন্তু তখন সেই সন্তানের উপর রাগ হন না; বরং আনন্দের সাথে তা পরিষ্কার করেন। বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে সাফ করেন। নতুন জামা পরিয়ে আবার আগের মতো সাজিয়ে তুলেন।
আচ্ছা বাচ্চা পায়খানা করার পর নিজে নিজেই যদি বলে যে, 'আম্মু আমি আক্কা দিছি' তখন কিন্তু মা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। আনন্দচিত্তে বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেন।
আবার অন্যদিকে এই বাচ্চাটাই যখন ময়লা দিয়ে মাখানো থাকে আর মা গোসলখানার দিকে নিয়ে যায় পরিষ্কার করাতে, তখন যদি বাচ্চাটা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলে যে, 'আমি আক্কা দেই নাই, আমি গোসল কব্বো না', এমন করলে কিন্তু নিশ্চিত মায়ের হাতে বাচ্চাটা মার খাবে। কেনো? কারণ একে তো ময়লা দিয়ে মাখামাখি, তারউপর আবার স্বীকার করতে চাচ্ছে না। গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইছে না।
ঠিক তেমনিভাবে, বান্দা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট বাচ্চাদের মতো। যখন সে গুনাহ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট স্বীকার করবে, এক মনে এক ধ্যানে তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার গুনাহ সমূহ আনন্দচিত্তে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।
আর যখন গুনাহ করার পর স্বীকার করতে চাইবে না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করবে না, তখন নিশ্চিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার উপর রাগান্বিত হবেন। বাবা মা যেমন বাধ্য সন্তানের ময়লা সাফ করে আনন্দ লাভ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও তার বাধ্যগত বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে আনন্দ লাভ করেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحِبُّبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমাও করে দিবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে। যার পরিধি আসমান সমূহ ও জমিনের সমান। যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ছাড়া কে তাদের গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তারা তা বারবার করে না।
أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
এরাই তারা, যাদের প্রতিদান তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতোই না উত্তম।
فاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।
وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তার তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন।
টিকাঃ
৪৬. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
৪৭. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩
৪৮. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫
৪৯. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬
৫০. সুরা মু'মিন, আয়াত: ৫৫
৫১. সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫
আমাদের সবার বাসায় কমবেশি বাচ্চা আছে। বাচ্চাদের সাথে আনন্দ ফুর্তি করতে আমরা সবাই ভালোবাসি। এই আনন্দ ফুর্তির জন্য ওদের স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি অভিজ্ঞ। ওদের হাসি কান্নার সাথেই আমাদের আবেগ-ভালোবাসা মিশ্রিত।
আচ্ছা বাচ্চারা যখন আনন্দ ফুর্তির মাঝে আমাদের শরীরে হাজত সেরে ফেলে, তখন কি আমরা রেগে আগুন হয়ে যাই? কখনোই না। বরং আমরা মুচকি হেসে মনকে এই বলে প্রমোদ দেই যে, থাক... না বুঝে করে ফেলছে।
সন্তান যখন বাবা-মায়ের গায়ে বা অন্য কোথাও বড় ইস্তিঞ্জা বা ছোট ইস্তিঞ্জা সেরে ফেলে, বাবা-মা কিন্তু তখন সেই সন্তানের উপর রাগ হন না; বরং আনন্দের সাথে তা পরিষ্কার করেন। বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে সাফ করেন। নতুন জামা পরিয়ে আবার আগের মতো সাজিয়ে তুলেন।
আচ্ছা বাচ্চা পায়খানা করার পর নিজে নিজেই যদি বলে যে, 'আম্মু আমি আক্কা দিছি' তখন কিন্তু মা আরো বেশি খুশি হয়ে যান। আনন্দচিত্তে বাচ্চাকে ধুয়ে মুছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে দেন।
আবার অন্যদিকে এই বাচ্চাটাই যখন ময়লা দিয়ে মাখানো থাকে আর মা গোসলখানার দিকে নিয়ে যায় পরিষ্কার করাতে, তখন যদি বাচ্চাটা চিৎকার চেঁচামেচি করে বলে যে, 'আমি আক্কা দেই নাই, আমি গোসল কব্বো না', এমন করলে কিন্তু নিশ্চিত মায়ের হাতে বাচ্চাটা মার খাবে। কেনো? কারণ একে তো ময়লা দিয়ে মাখামাখি, তারউপর আবার স্বীকার করতে চাচ্ছে না। গোসল করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হতে চাইছে না।
ঠিক তেমনিভাবে, বান্দা হচ্ছে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট বাচ্চাদের মতো। যখন সে গুনাহ করে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট স্বীকার করবে, এক মনে এক ধ্যানে তাঁর নিকট ক্ষমা চাইবে, তখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার গুনাহ সমূহ আনন্দচিত্তে ক্ষমা করে দিবেন ইন শা আল্লাহ।
আর যখন গুনাহ করার পর স্বীকার করতে চাইবে না, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিকট তাওবা করবে না, তখন নিশ্চিত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সেই বান্দার উপর রাগান্বিত হবেন। বাবা মা যেমন বাধ্য সন্তানের ময়লা সাফ করে আনন্দ লাভ করেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাও তার বাধ্যগত বান্দার গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে আনন্দ লাভ করেন।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللهَ فَاتَّبِعُونِي يُحِبُّبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ
(হে নবী) আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে ভালোবাসো, তাহলে তোমরা আমার অনুসরণ করো। তবেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদেরকে ভালোবাসবেন এবং ক্ষমাও করে দিবেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতের দিকে। যার পরিধি আসমান সমূহ ও জমিনের সমান। যা মুত্তাকীদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
وَالَّذِينَ إِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً أَوْ ظَلَمُوا أَنْفُسَهُمْ ذَكَرُوا اللَّهَ فَاسْتَغْفَرُوا لِذُنُوبِهِمْ وَمَنْ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا اللَّهُ وَلَمْ يُصِرُّوا عَلَى مَا فَعَلُوا وَهُمْ يَعْلَمُونَ
আর যারা কোনো অশ্লীল কাজ করলে অথবা নিজেদের প্রতি যুলুম করলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে স্মরণ করে, অতঃপর তাদের গুনাহের জন্য ক্ষমা চায়। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ছাড়া কে তাদের গুনাহ ক্ষমা করবে? তারা যা করেছে, জেনে শুনে তারা তা বারবার করে না।
أُولَئِكَ جَزَاؤُهُمْ مَغْفِرَةٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَجَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَنِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ
এরাই তারা, যাদের প্রতিদান তাদের রবের পক্ষ থেকে মাগফিরাত ও জান্নাতসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে প্রবাহিত রয়েছে নহরসমূহ। সেখানে তারা স্থায়ী হবে। আর আমলকারীদের প্রতিদান কতোই না উত্তম।
فاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ بِالْعَشِيِّ وَالْإِبْكَارِ
কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ করো, নিশ্চই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ওয়াদা সত্য। আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং সকাল-সন্ধ্যায় তোমার রবের প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করো।
وَهُوَ الَّذِي يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَعْفُو عَنِ السَّيِّئَاتِ وَيَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ
আর তিনিই তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং পাপসমূহ ক্ষমা করে দেন। তার তোমরা যা করো, তা তিনি জানেন।
টিকাঃ
৪৬. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ৩১
৪৭. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৩
৪৮. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৫
৪৯. সুরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৩৬
৫০. সুরা মু'মিন, আয়াত: ৫৫
৫১. সুরা আশ-শূরা, আয়াত: ২৫