📄 প্রশান্ত হৃদয়
স্কুলের প্রফেসর নিয়মিত ক্লাসে লজিক দেখান। আজকেও তার কম না। ক্লাসে প্রবেশ করেই প্রফেসর সাহেব এক গ্লাস পানি হাতে নিলেন। তিনি সকল শিক্ষার্থীকে দেখানোর জন্য পানি ভর্তি গ্লাসখানা উঁচুকরে ধরলেন। শিক্ষার্থীদেরকে দরাজ কণ্ঠে ডেকে জানতে চাইলেন,
- তোমরা কী মনে করো? এই গ্লাসের ওজন কতটুকু হবে?
- স্যার! ১০০ বা ১২৫ গ্রাম হবে হয়তো।
- আসলে এটার সঠিক ওজন আমি নিজেও জানি না। তবে তোমাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমি যদি কয়েক মিনিট এভাবেই গ্লাসটা ধরে রাখি তবে কী তার ওজন বাড়বে?
- না স্যার! কিছুতেই না।
- ঠিক আছে। আমি যদি এক ঘণ্টা এভাবেই ধরে রাখি তবে কী হবে?
- বড়জোর আপনার বাহুতে ব্যথা শুরু হবে।
- ঠিক বলেছো। আচ্ছা আমি যদি তা একদিন ধরে রাখি তাহলে কী হবে?
- আপনার বাহু অসাড় হতে পারে। আপনার গুরুতর পেশী চাপ এবং পক্ষাঘাত হতে পারে। সাথে সাথে অবশ্যই আপনাকে হাসপাতালেও যাওয়া লাগতে পারে।
- সুন্দর উত্তর দিয়েছো। তবে এতো কিছুর পরও কি গ্লাসের ওজন বদলে গেলো?
- না স্যার! গ্লাস তো আগের মতোই ঠিকঠাক আছে।
- তাহলে বাহুতে ব্যথা এবং পেশীতে চাপের কারণ কী?
এবার শিক্ষার্থীরা হতবাক হয়ে গেলো। সবাই চুপচাপ। কারো মুখে কোনো রা'শব্দ নেই। একজন অন্যজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে। পেছন থেকে হঠাৎ একজন দাঁড়িয়ে প্রফেসর সাহেবকে বললো,
স্যার! তাহলে গ্লাসটা নামিয়ে দিলেই তো হয়।
রাইট। ধন্যবাদ তোমাকে। তুমিই সঠিক উত্তর দিয়েছো।
আচ্ছা এবার আসো মূল পয়েন্টে। আমাদের জীবনের সমস্যাগুলো হুবহু এমনই। তুমি তোমার জীবনের সমস্যাগুলোকে যদি কয়েক মিনিটের জন্য মাথায় চেপে রাখো, তাহলে সেটা ঠিক আছে। তবে যদি সেটাকে আরো দীর্ঘ করতে থাকো, তাহলে তোমার মাথা ব্যথা শুরু করবে। আরও দীর্ঘকাল মাথায় চেপে রাখলে একটা সময় এই সমস্যাগুলো তোমাকে পঙ্গু করতে শুরু করে দিবে। তোমার চিন্তাশক্তি অসাড় বা অকেজো হয়ে যাবে। এরপর তুমি আর কোনো কালেই সক্ষম হবে না। তোমার জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো বা সমস্যাগুলো সম্পর্কে চিন্তা করা গুরুত্বপূর্ণ; তবে এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ভরসা রাখা এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে দিনশেষে বালিশে মাথা রেখে সারাদিনের হিসেব কষা।
সুতরাং, আজকে তোমরা ক্লাসরুম ত্যাগের পূর্বে সব'চে উত্তম বন্ধু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে মনে রাখবে আর আজকের ছবকের শিরোনাম দিবে 'সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার উপর ভরসা রেখে প্রশান্তি অর্জন করো'।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ইরশাদ করেন,
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيْمَانًا مَعَ إِيْمَانِهِمْ وَلِلَّهِ جُنُودُ السَّمَواتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
তিনিই মু'মিনের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন। যেনো তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান দৃঢ় করে নেয়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনী সমূহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালারই এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তুমি ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন তোমার মনকে বলবে,
يَايَتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ
হে প্রশান্ত চিত্ত!
ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّة
তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে আসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষ ভাজন হয়ে।
فَادْخُلِي فِي عِبْدِي ۙ
আমার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হও।
وَادْخُلِي جَنَّتِي
আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।
অযথা অনর্থক চিন্তা করে নিজের জীবনকে অশান্তির দিকে আর ঘুরিয়ে দিবে না। শুভ কামনা রইলো তোমাদের জন্য।
টিকাঃ
২৭. সুরা আল-ফাতহ, আয়াত ৪
২৮. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭
২৯. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৮
৩০. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৯
৩১. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ৩০
স্কুলের প্রফেসর নিয়মিত ক্লাসে লজিক দেখান। আজকেও তার কম না। ক্লাসে প্রবেশ করেই প্রফেসর সাহেব এক গ্লাস পানি হাতে নিলেন। তিনি সকল শিক্ষার্থীকে দেখানোর জন্য পানি ভর্তি গ্লাসখানা উঁচুকরে ধরলেন। শিক্ষার্থীদেরকে দরাজ কণ্ঠে ডেকে জানতে চাইলেন,
- তোমরা কী মনে করো? এই গ্লাসের ওজন কতটুকু হবে?
- স্যার! ১০০ বা ১২৫ গ্রাম হবে হয়তো।
- আসলে এটার সঠিক ওজন আমি নিজেও জানি না। তবে তোমাদের কাছে আমার প্রশ্ন, আমি যদি কয়েক মিনিট এভাবেই গ্লাসটা ধরে রাখি তবে কী তার ওজন বাড়বে?
- না স্যার! কিছুতেই না।
- ঠিক আছে। আমি যদি এক ঘণ্টা এভাবেই ধরে রাখি তবে কী হবে?
- বড়জোর আপনার বাহুতে ব্যথা শুরু হবে।
- ঠিক বলেছো। আচ্ছা আমি যদি তা একদিন ধরে রাখি তাহলে কী হবে?
- আপনার বাহু অসাড় হতে পারে। আপনার গুরুতর পেশী চাপ এবং পক্ষাঘাত হতে পারে। সাথে সাথে অবশ্যই আপনাকে হাসপাতালেও যাওয়া লাগতে পারে।
- সুন্দর উত্তর দিয়েছো। তবে এতো কিছুর পরও কি গ্লাসের ওজন বদলে গেলো?
- না স্যার! গ্লাস তো আগের মতোই ঠিকঠাক আছে।
- তাহলে বাহুতে ব্যথা এবং পেশীতে চাপের কারণ কী?
এবার শিক্ষার্থীরা হতবাক হয়ে গেলো। সবাই চুপচাপ। কারো মুখে কোনো রা'শব্দ নেই। একজন অন্যজনের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করছে। পেছন থেকে হঠাৎ একজন দাঁড়িয়ে প্রফেসর সাহেবকে বললো,
স্যার! তাহলে গ্লাসটা নামিয়ে দিলেই তো হয়।
রাইট। ধন্যবাদ তোমাকে। তুমিই সঠিক উত্তর দিয়েছো।
আচ্ছা এবার আসো মূল পয়েন্টে। আমাদের জীবনের সমস্যাগুলো হুবহু এমনই। তুমি তোমার জীবনের সমস্যাগুলোকে যদি কয়েক মিনিটের জন্য মাথায় চেপে রাখো, তাহলে সেটা ঠিক আছে। তবে যদি সেটাকে আরো দীর্ঘ করতে থাকো, তাহলে তোমার মাথা ব্যথা শুরু করবে। আরও দীর্ঘকাল মাথায় চেপে রাখলে একটা সময় এই সমস্যাগুলো তোমাকে পঙ্গু করতে শুরু করে দিবে। তোমার চিন্তাশক্তি অসাড় বা অকেজো হয়ে যাবে। এরপর তুমি আর কোনো কালেই সক্ষম হবে না। তোমার জীবনের চ্যালেঞ্জগুলো বা সমস্যাগুলো সম্পর্কে চিন্তা করা গুরুত্বপূর্ণ; তবে এর থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার প্রতি ভরসা রাখা এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে দিনশেষে বালিশে মাথা রেখে সারাদিনের হিসেব কষা।
সুতরাং, আজকে তোমরা ক্লাসরুম ত্যাগের পূর্বে সব'চে উত্তম বন্ধু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালাকে মনে রাখবে আর আজকের ছবকের শিরোনাম দিবে 'সর্বশক্তিমান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার উপর ভরসা রেখে প্রশান্তি অর্জন করো'।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা ইরশাদ করেন,
هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ السَّكِينَةَ فِي قُلُوبِ الْمُؤْمِنِينَ لِيَزْدَادُوا إِيْمَانًا مَعَ إِيْمَانِهِمْ وَلِلَّهِ جُنُودُ السَّمَواتِ وَالْأَرْضِ وَكَانَ اللهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
তিনিই মু'মিনের অন্তরে প্রশান্তি দান করেন। যেনো তারা তাদের ঈমানের সঙ্গে ঈমান দৃঢ় করে নেয়। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর বাহিনী সমূহ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালারই এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
তুমি ঘুমোতে যাওয়ার আগে প্রতিদিন তোমার মনকে বলবে,
يَايَتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ
হে প্রশান্ত চিত্ত!
ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّة
তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট ফিরে আসো সন্তুষ্ট ও সন্তোষ ভাজন হয়ে।
فَادْخُلِي فِي عِبْدِي ۙ
আমার বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হও।
وَادْخُلِي جَنَّتِي
আর আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।
অযথা অনর্থক চিন্তা করে নিজের জীবনকে অশান্তির দিকে আর ঘুরিয়ে দিবে না। শুভ কামনা রইলো তোমাদের জন্য।
টিকাঃ
২৭. সুরা আল-ফাতহ, আয়াত ৪
২৮. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৭
২৯. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৮
৩০. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ২৯
৩১. সূরা আল-ফাজর, আয়াত: ৩০
📄 সারাক্ষণ উপার্জন হোক
একজন রিকশাওয়ালা যতক্ষণ রিকশা চালাবে, ততক্ষণ সে টাকা উপার্জন করতে পারবে। একজন সি.এন.জি চালক যতক্ষণ তার সি.এন.জির চাকা ঘোরাবে ততক্ষণ সে টাকা উপার্জন করতে পারবে। একজন চাকুরীজীবি যতক্ষণ চাকরিতে থাকবে, ততক্ষণ তার টাকা উপার্জন হবে। অনুরূপ একজন ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রেও।
মোটকথা, আমরা যদি কাজ না করি তাহলে ঘরে বসে বসে টাকা উপার্জন করতে পারবো না। টাকা উপার্জনের জন্য আমাদের প্রত্যেককে প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্রে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ, পুরান ঢাকার মানুষদের মতো হলে তো কোনো কথাই নেই। তাদের মতো যদি বিভিন্ন জায়গায় বাসা বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দেয়া যায়, তাহলে ঘরে বসে বসেই খুব সহজে টাকা উপার্জন করতে পারবো।
আমাদের প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে নানাধরণের অফার আসে। এ সকল অফারের সময় আমরা খুব বেশি আয় উপার্জন করতে পারি। যেমন ঈদের মৌসুমে ব্যবসায়ী ভাইরা পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেই। গাড়িওয়ালারা ভাড়াকে তিনগুণ করে দেই। চাকুরীজীবিরা ঈদ বোনাস পাই, ইত্যাদি। এই বোনাসগুলোর মাধ্যমে কিন্তু আমরা সারাবছর যা আয় উপার্জন করি তার উপর একটা ব্যাকআপ এসে যায়। কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা এই বোনাসের টাকা দিয়েই তা পুষিয়ে নেই।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যতক্ষণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ইবাদতে মগ্ন থাকবো, ততক্ষণ আমরা সাওয়াব তথা পূণ্য হাসিল করতে পারবো। যখন আমরা ইবাদত বন্ধ করে দিবো, তখন আমাদের আমল নামায় অটোমেটিক্যালি সাওয়াব আসাও বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে হ্যাঁ, যদি আমরা সদকায়ে জারিয়ার মতো কিছু করে থাকি, তাহলে তা ভিন্ন কথা। তখন আমরা বসে বসেই অনেক পূণ্য কামাতে পারবো। যেমনঃ এতিম-মিসকিন কিংবা গরীবদেরকে দান করা অথবা কোথাও মাদ্রাসা-মসজিদ বানিয়ে দেওয়া তথা এমন সকল কাজ করা যারদ্বারা সদকায়ে জারিয়া হয়।
আর হ্যাঁ, আমলের ক্ষেত্রেও আমাদের জন্য কিছু বোনাস সময় আসে। তখন আমরা ইচ্ছে করলেই কয়েকগুণ বেশি সাওয়াব হাসিল করতে পারি। যেমনঃ রমজান মাস। হজ্বের মৌসুম। শবে কদর। শবে বরাত, ইত্যাদি। এসকল দিনগুলো আমাদের জন্য বোনাস সময়। আমাদের প্রত্যেকের আমলেই কোনো না কোনো ঘাটতি আছে, আর সে ঘাটতি পূরণ করার জন্যই এ দিনগুলোতে আমাদের জন্য বেশি বেশি আমল করা উচিৎ। তাহলে আমরা খুব সহজেই আমাদের আমলের ঘাটতিগুলো পুষিয়ে নিতে পারবো।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে পবিত্র কুরআন। যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে।
হযরত আবু হুরাইরা রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রভু বলেন, রমজান মাসে প্রতিটা নেক কাজ দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়। আর রোজা আমার জন্য, আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দিবো। বস্তুত রোজা হলো জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছে মিশকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত।
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (১) وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ (২) لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ (৩) تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ (৪) سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ (৫)
১ আমি একে নাযিল করেছি শবে কদরে।
২ শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
৩ শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
৪ এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
৫ এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে কিংবা উমরা করবে তার কোনো অপরাধ হবে না যে, সে এগুলোর তাওয়াফ করবে। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করবে। তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা উত্তম পুরষ্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ।
টিকাঃ
৩২. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫
৩৩. তিরমিযি শরীফ
৩৪. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ১
৩৫. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ২
৩৬. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৩
৩৭. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৪
৩৮. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৫
৩৯. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৮
একজন রিকশাওয়ালা যতক্ষণ রিকশা চালাবে, ততক্ষণ সে টাকা উপার্জন করতে পারবে। একজন সি.এন.জি চালক যতক্ষণ তার সি.এন.জির চাকা ঘোরাবে ততক্ষণ সে টাকা উপার্জন করতে পারবে। একজন চাকুরীজীবি যতক্ষণ চাকরিতে থাকবে, ততক্ষণ তার টাকা উপার্জন হবে। অনুরূপ একজন ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রেও।
মোটকথা, আমরা যদি কাজ না করি তাহলে ঘরে বসে বসে টাকা উপার্জন করতে পারবো না। টাকা উপার্জনের জন্য আমাদের প্রত্যেককে প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্রে যেতে হবে। তবে হ্যাঁ, পুরান ঢাকার মানুষদের মতো হলে তো কোনো কথাই নেই। তাদের মতো যদি বিভিন্ন জায়গায় বাসা বাড়ি বানিয়ে ভাড়া দেয়া যায়, তাহলে ঘরে বসে বসেই খুব সহজে টাকা উপার্জন করতে পারবো।
আমাদের প্রত্যেকের কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে নানাধরণের অফার আসে। এ সকল অফারের সময় আমরা খুব বেশি আয় উপার্জন করতে পারি। যেমন ঈদের মৌসুমে ব্যবসায়ী ভাইরা পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দেই। গাড়িওয়ালারা ভাড়াকে তিনগুণ করে দেই। চাকুরীজীবিরা ঈদ বোনাস পাই, ইত্যাদি। এই বোনাসগুলোর মাধ্যমে কিন্তু আমরা সারাবছর যা আয় উপার্জন করি তার উপর একটা ব্যাকআপ এসে যায়। কোথাও কোনো ঘাটতি থাকলে আমরা এই বোনাসের টাকা দিয়েই তা পুষিয়ে নেই।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যতক্ষণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার ইবাদতে মগ্ন থাকবো, ততক্ষণ আমরা সাওয়াব তথা পূণ্য হাসিল করতে পারবো। যখন আমরা ইবাদত বন্ধ করে দিবো, তখন আমাদের আমল নামায় অটোমেটিক্যালি সাওয়াব আসাও বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে হ্যাঁ, যদি আমরা সদকায়ে জারিয়ার মতো কিছু করে থাকি, তাহলে তা ভিন্ন কথা। তখন আমরা বসে বসেই অনেক পূণ্য কামাতে পারবো। যেমনঃ এতিম-মিসকিন কিংবা গরীবদেরকে দান করা অথবা কোথাও মাদ্রাসা-মসজিদ বানিয়ে দেওয়া তথা এমন সকল কাজ করা যারদ্বারা সদকায়ে জারিয়া হয়।
আর হ্যাঁ, আমলের ক্ষেত্রেও আমাদের জন্য কিছু বোনাস সময় আসে। তখন আমরা ইচ্ছে করলেই কয়েকগুণ বেশি সাওয়াব হাসিল করতে পারি। যেমনঃ রমজান মাস। হজ্বের মৌসুম। শবে কদর। শবে বরাত, ইত্যাদি। এসকল দিনগুলো আমাদের জন্য বোনাস সময়। আমাদের প্রত্যেকের আমলেই কোনো না কোনো ঘাটতি আছে, আর সে ঘাটতি পূরণ করার জন্যই এ দিনগুলোতে আমাদের জন্য বেশি বেশি আমল করা উচিৎ। তাহলে আমরা খুব সহজেই আমাদের আমলের ঘাটতিগুলো পুষিয়ে নিতে পারবো।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ
রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাযিল করা হয়েছে পবিত্র কুরআন। যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুষ্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে লোক এ মাসটি পাবে, সে এ মাসের রোজা রাখবে।
হযরত আবু হুরাইরা রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের প্রভু বলেন, রমজান মাসে প্রতিটা নেক কাজ দশগুণ থেকে সাতশত গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি হয়। আর রোজা আমার জন্য, আমি স্বয়ং এর প্রতিদান দিবো। বস্তুত রোজা হলো জাহান্নামের ঢাল স্বরূপ। রোজাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছে মিশকের ঘ্রাণের চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত।
إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ (১) وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ (২) لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ (৩) تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ (৪) سَلَامٌ هِيَ حَتَّى مَطْلَعِ الْفَجْرِ (৫)
১ আমি একে নাযিল করেছি শবে কদরে।
২ শবে কদর সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
৩ শবে কদর হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ।
৪ এতে প্রত্যেক কাজের জন্য ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।
৫ এটা নিরাপত্তা যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ فَمَنْ حَجَّ الْبَيْتَ أَوِ اعْتَمَرَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَطَّوَّفَ بِهِمَا وَمَنْ تَطَوَّعَ خَيْرًا فَإِنَّ اللَّهَ شَاكِرٌ عَلِيمٌ
নিশ্চয়ই সাফা ও মারওয়া আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে বাইতুল্লাহর হজ্জ করবে কিংবা উমরা করবে তার কোনো অপরাধ হবে না যে, সে এগুলোর তাওয়াফ করবে। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করবে। তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা উত্তম পুরষ্কারদাতা ও সর্বজ্ঞ।
টিকাঃ
৩২. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫
৩৩. তিরমিযি শরীফ
৩৪. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ১
৩৫. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ২
৩৬. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৩
৩৭. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৪
৩৮. সুরা ক্বাদর, আয়াত: ৫
৩৯. সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৮
📄 পাতি মাস্তান থেকে বাঁচার উপায়
আমরা কমবেশি সকলেই গোপন গুনাহ করে থাকি। কেউ ইচ্ছায় কেউ বা আবার অনিচ্ছায়। গুনাহ করার পর আমরা আফসোস করি। অনেকেই আমরা এই গোপন গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই কিন্তু কী রেখে কী করবো তার কোনো উপায় খুঁজে পাই না। আজকের বাতলানো উপায়টি হয়তোবা অনেকের জন্য গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার থেরাপি সরূপ হতে পারে। এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে-
প্রথমত তাকওয়া অর্জন করা।
দ্বিতীয়ত কঠিন হিম্মত করা।
যেমন ধরুন, বাচ্চারা অনেক সময় জিদ ধরে যে, 'ডিম ভেজে না দিলে আমি ভাত খাবো না!' কঠিন জিদ। ডিম ভাজা ছাড়া ভাত খাবে না খাবেই না। শেষ পর্যন্ত হয়-ও তাই। সবাই খেয়ে ফেলে কিন্তু ও খায় না। ওর ডিম ভাজা লাগবেই লাগবে। বাধ্যহয়ে, মা ওকে ডিম ভেজে দেয়।
অনুরূপ আমাদেরকেও জিদ ধরতে হবে যে, আমি গুনাহে যাবো না। গুনাহের কাজ করবো না। গুনাহ ছাড়বোই। দেখবেন যে, অবশ্য অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আপনাকে নুসরত করবেন। আরেকটি হলো, ঘনঘন আল্লাহ ওয়ালাদের বৈঠকে বসলে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, মাস্তানদের থেকে বাঁচার উপায় কী? যারা এলাকার পাতি মাস্তান, চাঁদাবাজ। এদের থেকে বাঁচার পথ কী? এদের থেকে বাঁচার উপায় একটাই; তা হলো- আমাকে বেশি বেশি এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যেতে হবে। তাদের খোঁজ-খবর নিতে হবে। সুযোগ হলে তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে হবে।
যখন এলাকার পাতি মাস্তানরা দেখবে যে, আমি ঘনঘন এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যাচ্ছি, তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি, তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোডও করছি; তখন ও মনে মনে বলবে যে, আরে আল্লাহ...! ওর সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ও তো অনেক বড় মানুষ! এমপি মন্ত্রীদের সাথে ওর সম্পর্ক। তাদের সাথে ওর সেলফি পাওয়া যায়। তিন রাস্তার মোড়ে এমপিদের সাথে ব্যানার-ফেস্টুনে ওর ছবিও দেখা যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড়বড় সাইনবোর্ড টানানো। সেখানে এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ওর ছবি! এই ভেবে পাতি মাস্তানরা আমার কাছে আসবে তো দূরের কথা, ওরা আমাকে দেখলেই শুধু সেলুট দিবে। এটা হচ্ছে দুনিয়াদারদের সাথে সম্পর্কের বরকত।
ঠিক তেমনিভাবে, যখন গুনাহগার বান্দা আল্লাহ ওয়ালাদের দরবারে আসা-যাওয়া করে। তাদের সংস্পর্শে বসে। তাদের সাথে সুসম্পর্কও রাখে। তখন তাদের নেক সংস্পর্শে থাকার কারণে গুনাহগার বান্দার বহু গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়। এবং শয়তানের ধোঁকা থেকেও বাঁচা সহজ হয়ে যায়। কারণ, শয়তান তখন চিন্তা করে যে, 'ওর সাথে তো বড়দের সাথে সম্পর্ক! ওকে ধোঁকা দিয়ে তো আমি বেশি একটা সুবিধা করতে পারবো না। ও বড়দের কাছে যাবে, আলোচনা করবে, আর এদিকে আমার সব গোমর ফাঁস হয়ে যাবে!' এইজন্য শয়তানও এই ব্যক্তির কাছে আসতে ভয় করে।
এজন্য আমরা যারা নিজেরা বুঝি যে, এটা অপরাধ; তারা তো বুঝিই। আর যারা বুঝি না, তাদের জন্য উচিৎ হলো, ঘনঘন আলেম-উলামাদের দরবারে যাওয়া। তাদের সংস্পর্শে থাকা। তাদের সাথে মিল-মুহাব্বত রাখা। একটি কথা সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ যে- আমি ট্যাঙ্কির ছিদ্র বন্ধকরে দিলে; পানি যা দিবো তাই থাকবে, গুনাহ করা বন্ধকরে দিলে; আমল যা করবো তাই থাকবে।
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু খলিফা থাকাকালীন অবস্থায় মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য রাতের বেলা গ্রাম-গঞ্জের অলি-গলিতে বের হতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর তিনি হাঁটছেন। হঠাৎ দেখলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণত কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা বৈধ নয়, কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে তা বৈধ। কথাবার্তার ধরণ দেখে উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু এর কৌতূহল জন্মালো। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন। শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, 'বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এতো অল্প দুধ বিক্রিকরে দিন পাড় করা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে, তাই দুধের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে দাও।'
মেয়ে জবাব দিলো, 'মা! আমিরুল মুমিনিন তো আমাদেরকে দুধের সঙ্গে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন।' বৃদ্ধা বলল, 'আমিরুল মুমিনিন কী আমাদেরকে দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পারো।' এ কথার জবাবে মেয়ে বলল, 'মা! আমিরুল মুমিনিন এখানে নেই এবং হয়তো তার কোনো লোকজনও এখানে নেই; কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তো আছেন! তিনি তো আমাদেরকে দেখছেন! তার কাছে আমরা কী জবাব দিবো?'
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এতোটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন। পরেরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজ-খবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।
এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমিরুল মুমিনিনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহন করেন খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যাকে পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ বলা হয়।
একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমে গোপন গুনাহ থেকে বেঁচে তারা সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। তাদের তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা কী আদৌ একবার ভেবে দেখার সুযোগটুকু হয়েছে?
আমরা কমবেশি সকলেই গোপন গুনাহ করে থাকি। কেউ ইচ্ছায় কেউ বা আবার অনিচ্ছায়। গুনাহ করার পর আমরা আফসোস করি। অনেকেই আমরা এই গোপন গুনাহ থেকে বাঁচতে চাই কিন্তু কী রেখে কী করবো তার কোনো উপায় খুঁজে পাই না। আজকের বাতলানো উপায়টি হয়তোবা অনেকের জন্য গোপন গুনাহ থেকে বাঁচার থেরাপি সরূপ হতে পারে। এর থেকে বাঁচার উপায় হচ্ছে-
প্রথমত তাকওয়া অর্জন করা।
দ্বিতীয়ত কঠিন হিম্মত করা।
যেমন ধরুন, বাচ্চারা অনেক সময় জিদ ধরে যে, 'ডিম ভেজে না দিলে আমি ভাত খাবো না!' কঠিন জিদ। ডিম ভাজা ছাড়া ভাত খাবে না খাবেই না। শেষ পর্যন্ত হয়-ও তাই। সবাই খেয়ে ফেলে কিন্তু ও খায় না। ওর ডিম ভাজা লাগবেই লাগবে। বাধ্যহয়ে, মা ওকে ডিম ভেজে দেয়।
অনুরূপ আমাদেরকেও জিদ ধরতে হবে যে, আমি গুনাহে যাবো না। গুনাহের কাজ করবো না। গুনাহ ছাড়বোই। দেখবেন যে, অবশ্য অবশ্যই শেষ পর্যন্ত আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আপনাকে নুসরত করবেন। আরেকটি হলো, ঘনঘন আল্লাহ ওয়ালাদের বৈঠকে বসলে গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়।
যেমন ধরুন, মাস্তানদের থেকে বাঁচার উপায় কী? যারা এলাকার পাতি মাস্তান, চাঁদাবাজ। এদের থেকে বাঁচার পথ কী? এদের থেকে বাঁচার উপায় একটাই; তা হলো- আমাকে বেশি বেশি এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যেতে হবে। তাদের খোঁজ-খবর নিতে হবে। সুযোগ হলে তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোড দিতে হবে।
যখন এলাকার পাতি মাস্তানরা দেখবে যে, আমি ঘনঘন এমপি-মন্ত্রীদের বৈঠকে যাচ্ছি, তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছি, তাদের সাথে সেলফি তুলে ফেসবুকে আপলোডও করছি; তখন ও মনে মনে বলবে যে, আরে আল্লাহ...! ওর সাথে বেশি বাড়াবাড়ি করা যাবে না। ও তো অনেক বড় মানুষ! এমপি মন্ত্রীদের সাথে ওর সম্পর্ক। তাদের সাথে ওর সেলফি পাওয়া যায়। তিন রাস্তার মোড়ে এমপিদের সাথে ব্যানার-ফেস্টুনে ওর ছবিও দেখা যায়। রাস্তার মোড়ে মোড়ে বড়বড় সাইনবোর্ড টানানো। সেখানে এমপি-মন্ত্রীদের সাথে ওর ছবি! এই ভেবে পাতি মাস্তানরা আমার কাছে আসবে তো দূরের কথা, ওরা আমাকে দেখলেই শুধু সেলুট দিবে। এটা হচ্ছে দুনিয়াদারদের সাথে সম্পর্কের বরকত।
ঠিক তেমনিভাবে, যখন গুনাহগার বান্দা আল্লাহ ওয়ালাদের দরবারে আসা-যাওয়া করে। তাদের সংস্পর্শে বসে। তাদের সাথে সুসম্পর্কও রাখে। তখন তাদের নেক সংস্পর্শে থাকার কারণে গুনাহগার বান্দার বহু গুনাহ থেকে বাঁচা সহজ হয়ে যায়। এবং শয়তানের ধোঁকা থেকেও বাঁচা সহজ হয়ে যায়। কারণ, শয়তান তখন চিন্তা করে যে, 'ওর সাথে তো বড়দের সাথে সম্পর্ক! ওকে ধোঁকা দিয়ে তো আমি বেশি একটা সুবিধা করতে পারবো না। ও বড়দের কাছে যাবে, আলোচনা করবে, আর এদিকে আমার সব গোমর ফাঁস হয়ে যাবে!' এইজন্য শয়তানও এই ব্যক্তির কাছে আসতে ভয় করে।
এজন্য আমরা যারা নিজেরা বুঝি যে, এটা অপরাধ; তারা তো বুঝিই। আর যারা বুঝি না, তাদের জন্য উচিৎ হলো, ঘনঘন আলেম-উলামাদের দরবারে যাওয়া। তাদের সংস্পর্শে থাকা। তাদের সাথে মিল-মুহাব্বত রাখা। একটি কথা সবসময় মাথায় রাখা উচিৎ যে- আমি ট্যাঙ্কির ছিদ্র বন্ধকরে দিলে; পানি যা দিবো তাই থাকবে, গুনাহ করা বন্ধকরে দিলে; আমল যা করবো তাই থাকবে।
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু খলিফা থাকাকালীন অবস্থায় মানুষের খোঁজ-খবর নেওয়ার জন্য রাতের বেলা গ্রাম-গঞ্জের অলি-গলিতে বের হতেন। এক রাতে তাহাজ্জুদের পর তিনি হাঁটছেন। হঠাৎ দেখলেন, একটি ঘর থেকে কথাবার্তার শব্দ শোনা যাচ্ছে। সাধারণত কারো ব্যক্তিগত কথা আড়ি পেতে শোনা বৈধ নয়, কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য প্রয়োজনে তা বৈধ। কথাবার্তার ধরণ দেখে উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু এর কৌতূহল জন্মালো। তিনি ঘরের দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালেন। শুনতে পেলেন, এক বৃদ্ধা তার মেয়েকে বলছে, 'বেটি! আজ তো উটের দুধ কম হয়েছে। এতো অল্প দুধ বিক্রিকরে দিন পাড় করা আমাদের জন্য কষ্টকর হবে, তাই দুধের সঙ্গে একটু পানি মিশিয়ে দাও।'
মেয়ে জবাব দিলো, 'মা! আমিরুল মুমিনিন তো আমাদেরকে দুধের সঙ্গে পানি মেশাতে নিষেধ করেছেন।' বৃদ্ধা বলল, 'আমিরুল মুমিনিন কী আমাদেরকে দেখছেন? তিনি হয়তো নিজ ঘরে ঘুমিয়ে আছেন। তুমি নিশ্চিন্তে পানি মেশাতে পারো।' এ কথার জবাবে মেয়ে বলল, 'মা! আমিরুল মুমিনিন এখানে নেই এবং হয়তো তার কোনো লোকজনও এখানে নেই; কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তো আছেন! তিনি তো আমাদেরকে দেখছেন! তার কাছে আমরা কী জবাব দিবো?'
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহু দেয়ালের ওপাশ থেকে সব কথাই শুনতে পাচ্ছিলেন। এতোটুকু শুনেই তিনি চলে এলেন। পরেরদিন লোক পাঠিয়ে সে ঘরের খোঁজ-খবর নিলেন। তারপর বৃদ্ধার কাছে পয়গাম পাঠালেন যে, আপনি সম্মত হলে আপনার মেয়ের সঙ্গে আমার ছেলের বিয়ে দিতে চাই।
এভাবে তাকওয়ার বদৌলতে মেয়েটি আমিরুল মুমিনিনের পুত্রবধু হওয়ার সৌভাগ্য লাভ করে। এই বরকতময় ঘরের তৃতীয় পুরুষে জন্মগ্রহন করেন খলিফা ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি। যাকে পঞ্চম খলিফায়ে রাশেদ বলা হয়।
একমাত্র তাকওয়ার মাধ্যমে গোপন গুনাহ থেকে বেঁচে তারা সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। তাদের তুলনায় আমাদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা কী আদৌ একবার ভেবে দেখার সুযোগটুকু হয়েছে?
📄 চেয়ারম্যান বাড়ির ল্যাম্পপোস্ট
খুব অন্ধকার রাত্রিতে একজন পথিক একাকী পথ চলছেন। এলাকার এই সরু পথটার কোথাও কোনো আলো নেই। রিলিফের মাল হিসেবে পাওয়া সরকারি একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির সামনে। পথিকের এই পথ থেকে তা অনেক দূর। এখান থেকে তাকালে ঝাপসা ঝাপসা দেখায়। নিভু নিভু করে আলো জ্বলছে। এ পথটা ধরে পথিক চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে যতো আগাবে, ততোই সে আলো পাবে। অন্ধকারচ্ছন্ন এই পথ তার নিকট স্পষ্ট হতে থাকবে। ধীরে ধীরে যখন সে বাড়ির সামনে চলে আসবে, তখন নিঃসন্দেহে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট আলো পাবে।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন মসজিদ থেকে দূরে থাকবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে অবজ্ঞা করে চলবো, তখন আমরাও এই ব্যক্তির মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবো। কোথাও কোনো আলো পাবো না। চারদিক শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। আর আমরা যখন মসজিদমুখি হবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে পূর্ণরূপে পালন করবো, তখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত হবো।
পথিক অন্ধকার রাতে এতো কষ্টকরে পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় কেউ যেমন তার এই পথ চলার সাথী হয়নি বা তার কষ্টের বোঝা বহন করেনি, ঠিক তেমনি আমরা যখন মসজিদ থেকে বিমুখ হয়ে যাবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম আহকাম থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার বহন করে চলবো, তখন আমাদের এই অন্ধকারত্বের বোঝা কেউ বহন করে নিবে না। কেউ আমাদের সাথী হবে না। কেউ আমাদেরকে ভালো বলবেও না ভালোবাসবেও না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْنِي إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহনের জন্য কাউকে ডাকে, তবে তার বোঝার কোনো অংশই বহন করা হবে না, যদিও সে আত্মীয় হয়। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করবে, যারা তাদের রবকে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছেই আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে।
إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لকেُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা যদি কুফরী করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করো, তবে তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। অতঃপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চই তোমাদের অন্তরের বিষয়গুলো তিনি সম্যক অবগত।
۞أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না।
টিকাঃ
৪০. সুরা ফাত্বির, আয়াত: ১৮
৪১. সুরা যুমার, আয়াত: ৭
৪২. সুরা আন-নজম, আয়াত: ৩৮
খুব অন্ধকার রাত্রিতে একজন পথিক একাকী পথ চলছেন। এলাকার এই সরু পথটার কোথাও কোনো আলো নেই। রিলিফের মাল হিসেবে পাওয়া সরকারি একমাত্র ল্যাম্পপোস্টটা চেয়ারম্যান সাহেবের বাড়ির সামনে। পথিকের এই পথ থেকে তা অনেক দূর। এখান থেকে তাকালে ঝাপসা ঝাপসা দেখায়। নিভু নিভু করে আলো জ্বলছে। এ পথটা ধরে পথিক চেয়ারম্যান বাড়ির দিকে যতো আগাবে, ততোই সে আলো পাবে। অন্ধকারচ্ছন্ন এই পথ তার নিকট স্পষ্ট হতে থাকবে। ধীরে ধীরে যখন সে বাড়ির সামনে চলে আসবে, তখন নিঃসন্দেহে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট আলো পাবে।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন মসজিদ থেকে দূরে থাকবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে অবজ্ঞা করে চলবো, তখন আমরাও এই ব্যক্তির মতো অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকবো। কোথাও কোনো আলো পাবো না। চারদিক শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার দেখাবে। আর আমরা যখন মসজিদমুখি হবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম-আহকামগুলোকে পূর্ণরূপে পালন করবো, তখন আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত হবো।
পথিক অন্ধকার রাতে এতো কষ্টকরে পথ পাড়ি দিয়ে আসার সময় কেউ যেমন তার এই পথ চলার সাথী হয়নি বা তার কষ্টের বোঝা বহন করেনি, ঠিক তেমনি আমরা যখন মসজিদ থেকে বিমুখ হয়ে যাবো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার হুকুম আহকাম থেকে দূরে সরে গিয়ে অন্তরে শুধু অন্ধকার আর অন্ধকার বহন করে চলবো, তখন আমাদের এই অন্ধকারত্বের বোঝা কেউ বহন করে নিবে না। কেউ আমাদের সাথী হবে না। কেউ আমাদেরকে ভালো বলবেও না ভালোবাসবেও না।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনের মাঝে উল্লেখ করেন,
وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ وَلَوْ كَانَ ذَا قُرْنِي إِنَّمَا تُنْذِرُ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَمَنْ تَزَكَّىٰ فَإِنَّمَا يَتَزَكَّى لِنَفْسِهِ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ
আর কোনো বোঝা বহনকারী অন্যের বোঝা বহন করবে না এবং কোনো ভারাক্রান্ত ব্যক্তি যদি তার বোঝা বহনের জন্য কাউকে ডাকে, তবে তার বোঝার কোনো অংশই বহন করা হবে না, যদিও সে আত্মীয় হয়। তুমি কেবল তাদেরকেই সতর্ক করবে, যারা তাদের রবকে ভয় করে এবং সালাত কায়েম করে। আর যে ব্যক্তি পরিশুদ্ধি অর্জন করে সে নিজের জন্যই পরিশুদ্ধি অর্জন করে। আর একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছেই আমাদেরকে পরিবর্তন করতে হবে।
إِنْ تَكْفُرُوا فَإِنَّ اللَّهَ غَنِيٌّ عَنْكُمْ وَلَا يَرْضَى لِعِبَادِهِ الْكُفْرَ وَإِنْ تَشْكُرُوا يَرْضَهُ لকেُمْ وَلَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ مَرْجِعُكُمْ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
তোমরা যদি কুফরী করো, তবে (জেনে রাখো) আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শুকরিয়া জ্ঞাপন করো, তবে তিনি তা পছন্দ করেন। আর কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। অতঃপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন। নিশ্চই তোমাদের অন্তরের বিষয়গুলো তিনি সম্যক অবগত।
۞أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَىٰ
তা এই যে, কোনো বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করবে না।
টিকাঃ
৪০. সুরা ফাত্বির, আয়াত: ১৮
৪১. সুরা যুমার, আয়াত: ৭
৪২. সুরা আন-নজম, আয়াত: ৩৮