📄 বিবি সাহেবার লিস্টি
বিবি সাহেবা তার স্বামীকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আনার জন্য মোটামুটি একটা লিস্টি ধরিয়ে দিলেন। স্বামী বেচারা বাজারে গিয়ে একটা একটা করে পণ্য ক্রয় করলেন। ক্রয়ের পর তিনি আবার সেই লিস্টির সাথে মিলিয়ে দেখেন যে, সবগুলো পণ্য ঠিকঠাক আছে কিনা নাকি আবার কোনোটা বাদ পড়ে গেলো। তিনি খুব সতর্কতা অবলম্বন করেন। কারণ, তার জানা আছে যে, বিবি সাহেবা আমাকে এতো কষ্ট করে প্রত্যেকটা পণ্যের নাম লিখে লিস্টি ধরিয়ে দিয়েছেন। খোদা না করুন; যদি লিস্ট থেকে কোনো একটা পণ্য বাদ পড়ে যায়, তাহলে দফারফা হয়ে যাবে। তাই তিনি খুব ভালো করে চেক করে নিচ্ছেন যে, কোথাও কোনো ঘাটতি আছে কিনা।
এরপরও যদি কোনো ঘাটতি দেখা দেয়, তাহলে বিবি সাহেবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছেন, অনুশোচনা করছেন। বেচারা এতোকিছু এই জন্যই করছেন যে- তার জানা আছে, উল্টাপাল্টা করার পর যদি তার কাছে ক্ষমা না চাই কিংবা অনুশোচনা না করি, তাহলে আমাকে বিবি সাহেবার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। নানা প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে।
ঠিক তেমনিভাবে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের জন্য দুনিয়াতে লিস্ট ধরিয়ে দিয়েছেন। আমরা দুনিয়ার বাজারে সেই লিস্ট দেখে দেখে সওদা করতে এসেছি। আমাদের লিস্টে লিখা আছে- ১. কালেমা। ২. নামাজ। ৩. রোজা। ৪. হজ্ব। ৫. যাকাত। আমরা প্রত্যেকদিন ঘুমের আগে বালিশের উপর মাথা দিয়ে আমাদের লিস্ট চেক করে দেখবো। মেলাবো যে, আজকের পাঁচওয়াক্ত নামাজ ঠিকঠাক মতো হলো কিনা। রমজানের সবগুলো রোজা আমার রাখা হয়েছে কিনা। পূর্ণাঙ্গভাবে এবছরের যাকাত আদায় করা হলো কিনা। হজ্ব ফরজ হলে তা পালন করা হলো কিনা। এভাবে প্রত্যেকটা হুকুম-আহকামকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখা। কোথাও কোনো ঘাটতি দেখা দিলে তা নিয়ে অনুশোচনা করা। সে বিষয়ে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাছে ক্ষমা চেয়ে তা আদায় করার ব্যবস্থা করা। তাহলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের উপর রাজি খুশি হবেন। আর নয়তো আমাদেরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তার প্রশ্নের সম্মুখিন হতে হবে। শাস্তি ভোগ করতে হবে।
📄 অতিভোজন কুলক্ষণ
অতিভোজন কুলক্ষণ। কুলক্ষণ মানে- যা খারাপ কিছুর ইঙ্গিত বহন করে। একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক বাজারে গোলাম কিনতে গেলেন। গোলাম কিনার আগে গোলামের সামনে কিছু খাবার পেশ করলেন। দেখলেন যে, গোলাম সব খাবার খেয়ে শেষকরে দিলো। তখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন যে, বেশি খাওয়া ভালো কোনো কিছুর আলামত বহন করে না। এই গোলাম ভালো না। এর দ্বারা ভালো কোনো কাজ হবে না।
এখন তো আমরা গর্ব করি যে, কে কতো বেশি খেতে পারি। খাওয়া নিয়ে আমরা বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিযোগিতাও করে থাকি। বিষয়টা সত্যিই দুঃখজনক। কারণ, আমাদের জানা থাকতে হবে যে, মুমিন ব্যক্তি কখনোই বেশি খেতে পারে না। বেশি খাওয়া আর বেশি খাই খাই করা তো কাফেরদের কাজ। কাফেররা খায় সাত পেটে! ওদের পেট ভরতে অনেক লাগে। শুদ্ধ বাংলায় আমরা যেটাকে 'টাগারী' বলে থাকি। টাগারী মানে- হাতির মতো ইয়া বড় পেট।
পক্ষান্তরে, মুমিন ব্যক্তি খায় এক পেটে। অর্থাৎ, অল্পে তুষ্টি। অল্পতেই তার পেট ভরে যায়। বেশি খাই খাইও করে না। এজন্যই আমরা দেখতে পাই যে, যে যতবড় মুত্তাকী বা পরহেজগার; তার খাবার-খোরাক ততকম। কেনো? কারণ, অল্পতেই তার পেট ভরে যায়। আমাদের মূল উদ্দেশ্য কী? হাতির মতো টাগারী ভরে খাওয়া নাকি শুধু তৃপ্তি নেওয়া?
আচ্ছা ধরুন! একলোক সাত ঘন্টা ঘুমালো। ঘুম থেকে উঠার পর, তার চেহারা সুরত এমন বিশ্রি দেখাচ্ছে যেনো দেখলে বমি আসতে চায়। এর কারণ হচ্ছে- ভদ্রলোকের ঘুম পূরণ হয়নি। ব্রেণ ফ্রেশ হয়নি। ঘুমের অতৃপ্তি এখনো রয়েই গেছে। অপরদিকে আরেকলোক মাত্র দুই ঘন্টা ঘুমালো। বেচারার ঘুমও পূরণ হলো। ব্রেণও ফ্রেশ হলো। চেহারার বদসূরত তো দূরের কথা বরং চেহারায় নূর ভেসে আসছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কোন ব্যক্তির সময়ে বরকত হলো? নিশ্চই যে দুই ঘন্টা ঘুমালো তার। তাহলে একজনের দুই ঘন্টা ঘুমিয়ে ঘুম পূরণ হয়ে গেলো, আরেকজন সাত ঘন্টা ঘুমিয়েও ঘুম পূরণ হলো না; এর রহস্য হচ্ছে- যে দুই ঘন্টা ঘুমালো, সে ওজুকরে দোয়া দুরূদ পড়তে পড়তে ঘুমিয়েছে। ফলে তার ঘুমও পূর্ণ হয়েছে আবার সময়েরও বরকত হয়েছে।
পক্ষান্তরে, একজন এক টাগারী খেলো কিন্তু তৃপ্তি মিটলো না; আরেকজন এক প্লেট খেয়েই তৃপ্তি মিটিয়ে ফেললো, এর রহস্য হচ্ছে- যে এক প্লেট খেলো, সে দোয়া পড়ে সুন্নত তরীকায় খেলো। তার সমস্ত কাজগুলোই যেনো একমাত্র রবকে রাজি-খুশি করার জন্যই হলো। অপর ব্যক্তি খাওয়ার সময় দোয়াও পড়লো না, সুন্নত তরীকায়ও খেলো না। ফলে তার খাবারের সাথে শয়তান শরীক হলো। এইজন্য সাত প্লেট খাওয়ার পরও তার খাওয়ার চাহিদা রয়ে যায়। তার তৃপ্তি মিটে না।
হযরত আবু হুরাইরা রাযিআল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণনা করেন যে, একবার আমি প্রচন্ড ক্ষুধা অনুভব করলাম। তখন আমি হযরত উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথে সাক্ষাত করে তার থেকে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার পবিত্র কালামুল্লাহর একটি আয়াতের পাঠ শুনতে চাইলাম। তিনি আয়াতটি পাঠ করে নিজ গৃহে চলে গেলেন। এদিকে আমি কিছু দূর চলার পর ক্ষুধার প্রচন্ডতায় উপুড় হয়ে পড়ে গেলাম। একটু পর দেখলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মাথার কাছে দাঁড়ানো। তিনি বললেন, হে আবূ হুরাইরা! আমি লাব্বাইকা ওয়া সা'দাইকা বলে সাড়া দিলাম। তিনি আমার হাত ধরে তুললেন এবং আমার অবস্থা বুঝতে পারলেন। তিনি আমাকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন এবং আমাকে এক পেয়ালা দুধ দেওয়ার জন্য আদেশ করলেন। আমি কিছু পান করলাম। তিনি বললেন, আবূ হুরাইরা! আরো পান করো। আমি আবার পান করলাম। তিনি আবার বললেন, আরো। আমি আরো পান করলাম। এমনকি আমার পেট তীরের মতো সমান হয়ে গেলো।
এরপর আমি উমরের সাথে সাক্ষাত করে আমার অবস্থার কথা জানালাম এবং বললাম, হে উমর! আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার এমন একজন লোকের মাধ্যমে এর বন্দোবস্ত করেছেন যিনি এ ব্যপারে তোমার থেকে বেশি উপযুক্ত। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কসম! আমি তোমার থেকে আয়াত পাঠ শুনতে চেয়েছি অথচ আমি তোমার থেকে ভালো পাঠ করতে জানি।
হযরত উমর রাযিআল্লাহু তায়ালা আনহু বললেন, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার কসম! তোমাকে আপ্যায়ন করতে পারলে তা আমার নিকট আরবের লাল বর্ণের উটের চেয়েও অধিক প্রিয় হতো। সাহাবায়ে কেরাম রাযিআল্লাহু তা'য়ালা আনহুম আযমাইনগণ খানার ব্যপারে কতো কষ্ট করেছেন, কতো ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আর উনাদের তুলনায় আমরা তো শুধু বিলাসিতার উপর বিলাসিতা করেই দিনকাল পাড় করে দিচ্ছি। আমরা তো মনেকরি যে, বেশি খেতে পারলেই যেনো আমাদের সফলতা। কিন্তু আমাদের দৃষ্টির অগোচরে আমাদের শরীরের উপর কতোটা অন্যায় অবিচার করছি তা কী আদৌ আমরা একবার ভেবে দেখেছি?
বর্তমানে বারবার একথার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে যে, কম আহার করুন বেশি দিন সুস্থভাবে বাঁচতে পারবেন। আর জনসাধারণকে বারবার একথার উপকারিতাও বর্ণনা করা হচ্ছে। বেশি খেলে যে সকল রোগ সৃষ্টি হয় তার একটি তালিকা প্রণয়ন করেছেন প্রফেসর রিচার বার্ড। নিম্নে তা দেওয়া হলো।
১. মস্তিষ্কের ব্যাধি।
২. চক্ষু রোগ।
৩. জিহ্বা ও গলার রোগ।
৪. বক্ষ ও ফুসফুসের ব্যাধি।
৫. হৃদ রোগ।
৬. পিত্তের রোগ।
৭. ডায়াবেটিকস।
৮. উচ্চ রক্ত চাপ।
৯. মস্তিষ্কের শিরা ফেটে যাওয়া।
১০. দুশ্চিন্তা গ্রস্ততা।
১১. অর্ধঙ্গ রোগ।
১২. মনস্তত্ত্বিক রোগ।
১৩. দেহের নিম্নাংশ অবশ হয়ে যাওয়া।
গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে, এই তালিকা প্রকৃতপক্ষে মৃত্যুর তালিকা, যা প্রফেসর সাহেব গভীর চিন্তা ও গবেষণার পর প্রকাশ করেছেন।
অপর দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বর্ণনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, তিনি বলেন- পেটের এক তৃতীয়াংশ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য। একজন দার্শনিক এর নিকট যখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই নির্দেশ শুনানো হলো, তখন সে বলতে লাগলো, এর থেকে উত্তম ও শক্তিশালী কথা আমি আজ পর্যন্ত শ্রবণ করিনি।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে অল্পে তুষ্টি থাকার তৌফিক দান করুন, আমীন।
টিকাঃ
৮. মুসলিম শরীফ ৩৬/১৩
৯. 'সান' উইকলি সুইডেন
১০. সহীহ ইবনু মাজাহ ৩৩৪৯
📄 সত্য সমাগত মিথ্যা বিতাড়িত
আচ্ছা বাথরুমে তো আমাদের কমবেশি সবারই যাওয়া হয়। এখন যে কথাটা বলবো এটা অবশ্যই সামনে বাথরুমে যাওয়ার সময় একবার হলেও এর সত্যতা যাচাই করে নিবেন।
আমরা যে কেউ বাথরুমে ঢুকার সাথে সাথেই আমাদের চেহারার অঙ্গভঙ্গি পাল্টে যায়। 'উহ হু... গন্ধ' বলে আমাদের মুখ থেকে শব্দহীন একটা বাক্য বেরিয়ে আসে। এটা মোটামুটি সব জায়গাতেই। বাসা-বাড়ি, কলেজ-অফিস তো আছেই; তবে শহরের মোবাইল কোর্ট আর পাবলিক টয়লেট হলে তো কোনো কথাই নেই।
আচ্ছা বাথরুমে ঢুকার পর আমাদের নাকে এই গন্ধটা কতোক্ষণ সময় পর্যন্ত স্থির থাকে? বড়জোর পাঁচ থেকে সাত সেকেন্ড। এরপর কিন্তু আমরা সেই গন্ধটা পাই না। অর্থাৎ বাথরুমে ঢুকার সাথে সাথেই আমরা যে গন্ধটা পেয়ে থাকি এটা কিন্তু পাঁচ সাত সেকেন্ড পরে আর পাই না। অথচ বাথরুমের গন্ধটা কিন্তু বাথরুমে ঠিকই আছে, কিন্তু আমরা পাচ্ছি না কেনো? কারণ আমাদের নাক এটা গ্রহণ করে নিয়েছে। এখন আর এটাকে কোনো গন্ধই মনে হয় না।
ঠিক তেমনিভাবে, আমরা যখন সৎ পথে চলতে চাইবো, সত্যকে উন্মোচন করতে চাইবো, হকের আওয়াজকে উঁচু করতে চাইবো, তখন নানা দিক থেকে আমাদের উপর বাঁধা আসবে। নানা দিকের ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধগুলো আমাদেরকে জড়িয়ে ধরতে চাইবে। আমরা যদি প্রথমত একটু সহ্য করতে পারি; তাহলে এগুলো আমাদের জন্য কোনো গন্ধই মনে হবে না। আমাদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না। বিজয় আমাদের জন্য নিশ্চিত, ইন শা আল্লাহ।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেন,
وَقُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَزَهَقَ الْبَاطِلُ إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقًا
আর বলো, হক এসেছে এবং বাতিল বিলুপ্ত হয়েছে। নিশ্চয়ই বাতিল বিলুপ্ত হওয়ারই ছিলো।
قُلْ جَاءَ الْحَقُّ وَمَا يُبْدِئُ الْبَاطِلُ وَمَا يُعِيدُ
বলো, সত্য এসেছে এবং বাতিল কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না আর কিছু পুনরাবৃত্তিও করতে পারে না।
وَيَمْحُ اللَّهُ الْبَاطِلَ وَيُحِقُّ الْحَقَّ بِكَلِمَاتِهِ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা মিথ্যাকে মুছে দেন এবং নিজ বাণী দ্বারা সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেন। নিশ্চয়ই তিনি মানুষের অন্তর সমূহে যা আছে, সে সম্পর্কে সবিশেষ অবহিত।
টিকাঃ
১১. সুরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৮১
১২. সুরা সাবা, আয়াত: ৪৯
১৩. সুরা শু'রা, আয়াত: ২৪
📄 আমাদের ক্রিয়েটিভিটি
আমরা সকলেই ক্রিয়েটিভ। আমাদের প্রত্যেকের ভিতরে এমন কিছু গুণাগুণ আছে যা দিয়ে আমরা সৃজনশীল কিছু তৈরী করতে পারি। আচ্ছা ধরুন, আপনি আপনার বিশেষ গুণ দিয়ে কিছু তৈরী করলেন, এরপর যদি আপনার সেই সৃষ্ট বস্তুটা নিয়ে কেউ কটু বাক্য বলে কিংবা তা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে দেয়, তখন আপনার কেমন লাগবে?
আচ্ছা আরেকটু সহজকরে বলি, আমাদের প্রত্যেকের ঘরেই মা বোন আছে। তারা নিয়মিত আমাদের জন্য বিভিন্ন আইটেমের খাবার প্রস্তুত করেন। তাদের কষ্ট শুধুমাত্র আমদের খুশি করার জন্য, আমাদের মন পাবার জন্য। এখন আপনি যদি তাদের সে রান্না করা খাবার নিয়ে কটু মন্তব্য কিংবা তুলকালাম কাণ্ড ঘটিয়ে দেন, তাহলে পরের বেলায় আপনার কপালে ভালো খাবার জুটবে কিনা সন্দেহ আছে।
আমরা সবাই সবার স্থান থেকে নতুন কিছু করে দেখাতে চাই শুধুমাত্র অন্যরা আমাকে উৎসাহ দিবে, আমাকে নিয়ে গর্ব করবে এই জন্য। আমরা কেউ কখনোই উপহাসের পাত্র হতে চাই না। সাধারণত আমরা ফেসবুকে একটা পিকচার আপলোড দিয়েই সবার ভালো কমেন্টের আশা করি। আর ভালো লিখতে পারলে সেখানে কেউ নেগেটিভ মন্তব্য করুক আমরা তা মেনে নিতে পারি না। কারণ এটা আমাদের সৃষ্টি। সৃজনশীল চিন্তা-ভাবনার কারণেই আমরা তা করে দেখাতে সক্ষম হয়েছি। এবার আপলোড দিয়ে সবার ভালো মন্তব্যের আশা করছি।
ঠিক তেমনিভাবে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা দুনিয়ার মাঝে আমাদেরকে অনেক অনেক নেয়ামত দান করেছেন। আসমান-জমিন, পাহাড়-সাগর, নদী-নালাসহ আঠারো হাজার মাখলুকাতের এক বিশাল নেয়ামত দান করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদেরকে এতো এতো কিছু দিয়েছেন শুধুমাত্র এই জন্যই যে, আমরা যেনো তার নেয়ামত দেখে তার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করি। এই সবকিছু দেখে আমরা যেনো মুখে উচ্চারণ করি 'সুবহানাল্লাহ' 'আলহামদুলিল্লাহ' 'আল্লাহু আকবার'। তাহলেই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা আমাদের উপর রাজি খুশি হবেন। আমাদেরকে ভালোবাসবেন আর আমরা তার প্রিয় পাত্র হবো। একজন মা যেমন সন্তানের জন্য ভালো খাবার রান্না করে তার মন পাবার আশা করে, ঠিক তেমনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা দুনিয়ার মাঝে এতো বেশি নেয়ামত দান করেছেন, বান্দা যেনো তার নাম 'আল্লাহ আল্লাহ' বলে জপতে থাকে।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালা তার পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْ كَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ
আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন, 'যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দিবো আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আযাব বড় কঠিন।
الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنْزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَكُمْ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ.
যিনি তোমাদের জন্য যমীনকে করেছেন বিছানা, আসমানকে ছাদ এবং আসমান থেকে নাযিল করেছেন বৃষ্টি। অতঃপর তার মাধ্যমে উৎপন্ন করেছেন ফল-ফলাদি, যা তোমাদের জন্য রিস্কিস্বরূপ। সুতরাং তোমরা জেনে বুঝে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার জন্য সমকক্ষ নির্ধারণ করো না।
تَبَارَكَ الَّذِي جَعَلَ فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَجَعَلَ فইহা سِرَاجًا وَقَمَرًا مُنِيرًا
বরকতময় সে সত্তা যিনি আসমানে সৃষ্টি করেছেন বিশালকায় গ্রহসমূহ। আর তাতে প্রদীপ ও আলো বিকিরণকারী চাঁদ সৃষ্টি করেছেন।
أَمَّنْ جَعَلَ الْأَرْضَ قَرَارًا وَجَعَلَ خِلٰلَهَا أَنْهَارًا وَجَعَلَ لَهَا رَوَاسِيَ وَجَعَلَ بَيْنَ الْبَحْرَيْنِ حَاجِزًا أَإِلٰهُ مَّعَ اللَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
বরণ তিনি, যিনি যমীনকে আবাসযোগ্য করেছেন এবং তার মধ্যে প্রবাহিত করেছেন নদী-নালা। আর তাতে স্থাপন করেছেন সুদৃঢ় পর্বতমালা এবং দুই সমুদ্রের মধ্যখানে অন্তরা সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'য়ালার সাথে কি অন্য কেনো ইলাহ আছে? বরং তাদের অধিকাংশই তা জানে না।
وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوْجًا وَ زَيَّتُهَا لِلنَّظِرِينَ
আর আমি আসমানে স্থাপন করেছি কক্ষসমূহ এবং তাকে সৌন্দর্যমন্ডিত করেছি দর্শকের জন্য।
وَ إِلَى الْجিবَالِ كَيْفَ نُصِبَتْ
আর পর্বতমালার দিকে দেখো, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে?
وَ جَعَلْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ شُمِخٰتٍ وَ أَسْقَيْنَكُمْ মَّاءً فُرَاتًا
আর এখানে আমি স্থাপন করেছি সুদৃঢ় ও সুউচ্চ পর্বতমালা এবং তোমাদেরকে পান করিয়েছি সুপেয় পানি।
টিকাঃ
১৪. সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭
১৫. সুরা বাকারা, আয়াত: ২২
১৬. সুরা ফুরক্বান, আয়াত: ৬১
17. সুরা আন-নামল, আয়াত: ৬১
১৮. সুরা হিজর, আয়াত: ১৬
১৯. সুরা গাশিয়াহ, আয়াত: ১৯
২০. সুরা মুরসালাত, আয়াত: ২৭