📄 সুদর্শন যুবকের হৃদয় বিগলিত হলো কিন্তু দৃষ্টি থেমে থাকল না
আদর্শ নেতা এবং শিক্ষক-এর হাতের নির্দেশনায় তার মুখ এবং ঘাড় ঘুরে গেল। যখন ফদল তার মুখ ঘুরিয়ে নিলেন, তার দৃষ্টি চলে গেল ধাবমান মহিলাগণের দিকে। মহান প্রশিক্ষক, পথপ্রদর্শক নবী তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এবং নিবিড়ভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তার মন যুবক সঙ্গীটির চিন্তায় মগ্ন ছিল এবং তার হাত তার গাল পর্যন্ত চলে গেল। "রসুলুল্লাহ পুনরায় অন্য দিকে হাত দিয়ে ফদলের মুখমন্ডল ঢেকে দিলেন।"
মহান নেতা ধর্মনেতাসুলভ উপদেশের পরিবর্তে মৃদু আঘাত করলেন এবং উপদেশ বাণীর পরিবর্তে সরাসরি হাত ব্যবহার করলেন। এভাবেই মহান নেতা এবং দয়ালু শিক্ষক শিক্ষা এবং সংস্কারের অভিনব দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করলেন। প্রত্যেক মানুষেরই পাঁচটা ইন্দ্রিয় আছে, "শোনার জন্য কান, ঘ্রাণের জন্য নাক, দেখার জন্য চোখ, স্বাদ বোঝার জন্য জিহবা এবং অনুভব করার জন্য চামড়া"।
তার সম্মোধন, ব্যাখ্যা, শিক্ষা এবং সততা দিয়ে মহান নেতা নবী (সা) ইসলাম প্রচারের, যারা নিজেদেরকে পরিশুদ্ধ করতে চায় তাদের পথ দেখিয়ে দেয়ার, অভাবী ব্যক্তিটির অভাব পূরণের এবং সুন্নতের অমীয় সুধা পানের তৃষ্ণা নিবারণের বিকল্প পথ উন্মোচন করলেন। সত্যিকারের মহান নেতাদের পথ এমনই হয়। আর নবী-এর চেয়ে মহান নেতা আর কে হতে পারে?
📄 মিষ্টি ঘ্রাণ ও সুশীতল
আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি জীবনে কখনও এমন কোনো আম্বর অথবা মেশক অথবা কোনো আতরের সুগন্ধি গ্রহণ করিনি যা রসূলুল্লাহর দৈহিক সুগন্ধ থেকে উৎকৃষ্ট, আর আমি কখনও কোনো রেশম বা রেশমী বস্ত্র বা কোনো বস্তু এরূপ স্পর্শ করিনি যা রসূলুল্লাহ (সা) স্পর্শ থেকে অধিক কোমল ও তুলতুলে।
জাবির ইবনে সামুরা থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি একবার রসূলুল্লাহ -এর সাথে দিনের প্রথম নামায (যোহর) আদায় করলাম। অতঃপর তিনি নিজ পরিবারবর্গের নিকট রওয়ানা হয়ে গেলেন, আমিও তাঁর সাথে রওয়ানা হলাম। তিনি রওয়ানা হলে কিছু সংখ্যক বালক তাঁর নিকট উপস্থিত হলো। তিনি বালকদের প্রত্যকের গালে এক এক করে হাত বুলিয়ে দিতে লাগলেন। জাবির বলেন, রসূলুল্লাহ আমার গালেও হাত বুলিয়ে দিলেন। আমি রসূলুল্লাহ এর হাতের কোমল স্পর্শ অথবা সুগন্ধি এরূপ অনুভব করলাম যেন তাঁর মোবারক হাতখানা কোনো আতর বিক্রেতার আতরদানী থেকে বের করে নিয়ে এসেছেন।
এই কোমল, শীতল, সুন্দর এবং সুগন্ধি স্পর্শ বন্ধু-শত্রু নির্বেশেষে উভয়ের দেহকেই স্পর্শ করেছে। যে স্থান এ স্পর্শ পেয়েছে তা নিয়ে এসেছে এমন ভালবাসা যা সকল চিন্তাকে দূর করেছে, বিরহের বেদনাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। এই সচেতন আবেগ এবং স্পর্শের উষ্ণতা তাদেরকে রসূলুল্লাহ (সা)-এর নিকট একজন অনুগত এবং অনুতপ্ত মুসলিম হিসেবে সোপর্দ করতে বাধ্য করেছে।
টিকাঃ
১১৪. সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৬২০
১১৫. সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৪৪১৮
📄 তারা পেয়েছিলেন এই বিরল সম্মান
অনেক মানুষই স্নেহময় এ হাতের স্পর্শ পাবার সম্মান এবং সুযোগ লাভ করেছিলেন। যেমন-
-সেই যুবক যে যিনার অনুমতি চেয়েছিল
-ফুদালাহ ইবনে আমির আল লাইছি
-সাইবাহ ইবনে ইশাক আল হুজবী
📄 যুবকটি : “তিনি যুবকটির ওপর তার হাত রাখলেন”
আবু উমামাহ হতে বর্ণিত। যিনি বলেন, একজন যুবক নবী-এর নিকট এসে বলল, “ইয়া রসূলাল্লাহ! আমাকে ব্যভিচারের অনুমতি দান করুন” এই কথা বলার পর নবী যুবকটির ওপর তার হাত রাখলেন এবং বললেন, “ইয়া আল্লাহ! তার ত্রুটিগুলিকে ক্ষমা করে দিন, তার হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করুন এবং তার যৌনাঙ্গসমূহকে হেফাজত করুন”
টিকাঃ
১১৬. মুসনাদে ইমাম আহমাদ : মুসনাদ নং ২১৬৭৬