📄 ভিন্নমত
উমর হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ, ইসলামের পূর্বে অজ্ঞতার দিনগুলিতে আমরা নারীদের প্রতি মনোযোগী ছিলাম না। অতঃপর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করার তা অবতরণ করলেন এবং তাদের জন্য যা নির্দিষ্ট করার তা নির্দিষ্ট করে দিলেন।
একবার আমি একটি ব্যাপার নিয়ে ভাবছিলাম। আমার স্ত্রী বললেন, "আমি এরূপ এরূপ করা ভাল হবে মনে করি" আমি তাকে বললাম, "এই ব্যপারে তোমার কি করার আছে? আমি যে কাজ করতে চাচ্ছি তাতে তুমি নাক গলাচ্ছ কেন?” সে বলল, "হে ইবনে খাত্তাব! তুমি এমন কেন? তুমি আমার সাথে বচসা করতে চাও না। অথচ তোমার কন্যা হাফসা, আল্লাহর রসূলের সাথে বচসা করে। এমনকি এ কারণে রসূলুল্লাহ সারা দিন রেগে থাকেন।"
টিকাঃ
১৯. আল জামি আসসহীহ লিল বুখারী হাদীস নং ২৬০৩।
📄 সপ্তম অধ্যায়ের নীলকান্তমনি
সুহৃদয় পাঠক, আমাদের পথ নির্দেশক এবং শিক্ষক নবী-এর জীবনে সংগঠিত অসংখ্য সুশোভিত ঘটনাবলি থেকে কোনটি বিশেষভাবে চয়ন করবেন এমন প্রশ্নে যদি বিচলিত হন তবে এই নীলকাণ্ডমনি অংশটি আপনাকে বিশেষভাবে সাহায্য করবে।
📄 নীলকান্তমনি নং সাত
আনাস ইবনে মালিক থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা খায়বারে এসে পৌঁছলাম। এরপর যখন আল্লাহ তাঁকে খায়বার দুর্গের বিজয় দান করলেন তখন তাঁর কাছে (ইহুদী দলপতি) হুয়াই ইবনে আখতাবের কন্যা সাফিয়্যা -এর সৌন্দর্যের কথা আলোচনা করা হলো। তার স্বামী (কেনানা ইবনুর রাবী এ যুদ্ধে) নিহত হয়। সে ছিল নববধূ। নবী (সা) তাকে নিজের জন্য মনোনীত করেন এবং তাঁকে সাথে করে খায়বার থেকে রওয়ানা হন। এরপর আমরা যখন মাদ্দুস সাহবা নামক স্থান পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছলাম তখন সাফিয়্যা তাঁর মাসিক ঋতুস্রাব থেকে পবিত্রতা লাভ করলেন। এ সময় রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সাথে বাসর ঘরে সাক্ষাত করলেন। তারপর একটি ছোট দস্তরখানে খেজুর ঘি ও ছাতু মেশানো এক প্রকার হায়স নামক খানা সাজিয়ে আমাকে বললেন, তোমার আশেপাশে যারা আছে সবাইকে ডাক। আর এটিই ছিল সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা -এর সাথে বিয়ের ওয়ালীমা। তারপর আমরা মদিনার দিকে রওয়ানা হলাম। আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তার পিছনে (সাওয়ারীর পিঠে) সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা -এর জন্য একটি চাদর বিছাতে দেখেছি। এরপর তিনি তার সাওয়ারীর ওপর হাটুদ্বয় মেলে বসতেন আর সাফিয়্যা রাদিয়াল্লাহু আনহা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর হাটুর ওপর পা রেখে সাওয়ারীর আরোহণ করতেন।
টিকাঃ
২০. সহীহ বুখারীর হাদীস নং ২৭৬১
📄 তার মর্যাদা রক্ষা এবং ব্যক্তিত্বকে সম্মান করা
সাহল ইবনে সাদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ-এর নিকট একটি পানির পেয়ালা আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানদিকে এক বালক ছিল, সে ছিল লোকদের মধ্যে সবচাইতে কম বয়স্ক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তাঁর বাঁদিকে ছিল। নবী বললেন, হে বালক! তুমি কি আমাকে তোমার জ্যেষ্ঠদের এটি দিতে অনুমতি দিবে? সে বলল, ইয়া রসূলাল্লাহ! আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে নিজের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতে চাই না। এরপর তিনি তাকেই সেটি দিলেন।
আনাস বর্ণনা করেন। নবী কিছু কিশোরদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, এসময় তিনি তাদের সালাম করেন।
টিকাঃ
৭৩. সহীহ আল-বুখারী হাদীস নং ২২৪৭
৭৪. সহীহ আল-মুসলিম হাদীস নং ৪১৪৪