📘 লিডারশিপ > 📄 চতুর্থ মূলনীতি : সমস্যা সমাধান

📄 চতুর্থ মূলনীতি : সমস্যা সমাধান


যে কোনো বুদ্ধিমান মানুষই একমত হবেন যে, দাম্পত্য জীবনে সমস্যা থাকবেই। মূলত এগুলো অনেকটা লবণের মত। বেঁচে থাকার সবচেয়ে মধুর অংশ। ইসলাম ঘোষণা করে বাসার পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পুরুষের। দুর্ভাগ্যক্রমে, কুরআন প্রদত্ত এই অধিকারের অপব্যবহার করা হয়। কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, এই অধিকার ঘরোয়া ব্যাপারে পুরুষের নিজস্ব মতামত এবং সিদ্ধান্তকে একতরফাভাবে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার এবং নিজেকে অগ্রগণ্য হবার ক্ষমতা দেয়।
আমার অনুধাবন এই যে, নারীর ওপর পুরুষের এই অধিকার এবং ঘরোয়া ক্ষেত্রে তাকে নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে যেন সে উন্নতির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে পারে। বাসার মানুষের ভুল ত্রুটি উপেক্ষা করতে পারে। তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কারণ আল্লাহ তাকে বিচারশক্তির প্রখরতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভাল ক্ষমতা দিয়েছেন। মহান নেতা নবী -এর জীবনের কিছু কাহিনী।

📘 লিডারশিপ > 📄 রাগী ব্যক্তিকে শান্ত করা হলো

📄 রাগী ব্যক্তিকে শান্ত করা হলো


নু'মান ইবনে বশির বর্ণনা করেন, আবু বকর নবী এর নিকট ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং শুনতে পেলেন আয়েশা (রা) উচ্চস্বরে কথা বলছে। তিনি যখন প্রবেশ করলেন, তাকে শক্ত করে ধরে চড় মারতে উদ্যত হলেন এবং বললেন, "আমি দেখছি তুমি রসূলুল্লাহ-এর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলছ?" নবী তাঁকে মারতে বাধা দিয়ে বিরত করলেন এবং আবু বকর রাগান্বিত অবস্থাতেই বেরিয়ে গেলেন। আবু বকর যখন চলে গেলেন, নবী বললেন, "চিন্তা করে দেখ, কিভাবে এই লোকের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধার করলাম?" আবু বকর কিছুদিন অপেক্ষা করলেন, তারপর পুনরায় রসূলুল্লাহ -এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন, তারা উভয়ে মিমাংসা করে নিয়েছে। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, "যুদ্ধের সময় তোমরা যেমন আমাকে আসতে দিয়েছ, তোমাদের শান্তির সময়ও আমাকে আসতে দাও” নবী বললেন, “অবশ্যই, অবশ্যই!”?
আয়েশা একটি ভুল করলেন এবং রসূলুল্লাহর বন্ধুত্ব স্থাপনের পদক্ষেপ নিলেন। আয়েশা তার গলার স্বর উচু করলেন আর রসূলুল্লাহ (সা) তাকে বাঁচানোর জন্য তার হাত উঁচু করলেন। প্রথম পদক্ষেপটি তিনিই নিলেন। স্ত্রীর অভিভাবক এসে এমন কিছু শুনলেন যা তিনি পছন্দ করতে পারলেন না। তিনি কন্যাকে শাসন করতে উদ্যত হলেন। আর আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নবী , স্ত্রীর দোষ তার অভিভাবকের নিকট প্রকাশিত এবং প্রমাণিত হবার পরও। ভালবাসা এবং ক্ষমতা দিয়ে তাকে আগলে রাখলেন। শুধু তাই নয়; বরং প্রিয়তম। স্ত্রীর পক্ষ অবলম্বন করে তাকে ক্ষুদ্ধ অভিভাবকের হাত থেকে রক্ষা করলেন। এটাই হচ্ছে কর্তৃত্বের সত্যিকারে সীমারেখা।

টিকাঃ
১৬. সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৪৪০৩

📘 লিডারশিপ > 📄 ঈর্ষান্বিত স্ত্রী

📄 ঈর্ষান্বিত স্ত্রী


আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোনো এক সময় রসূল তাঁর জনৈকা স্ত্রীর কাছে ছিলেন। এ সময় উম্মাহাতুল মুমিনীনের আর একজন একটি পাত্রে কিছু খাদ্য পাঠালেন। যে স্ত্রীর ঘরে নবীর অবস্থান করছিলেন সে স্ত্রী খাদেমের হাতে আঘাত করলেন। ফলে খাদ্যের পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নবী পাত্রের ভাঙ্গা টুকরগুলো কুড়িয়ে একত্রিত করলেন, তারপর খাদ্যগুলো কুড়িয়ে তাতে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের আম্মাজীর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লেগেছে। তারপর তিনি খাদেমকে অপেক্ষা করতে বললেন, এবং যে স্ত্রীর কাছে ছিলেন তার কাছ থেকে একটি পাত্র নিয়ে যার পাত্র ভেঙ্গেছিল, তাকে পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি যে ভেঙ্গেছিল তার কাছেই রাখলেন।

টিকাঃ
১৭. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৪৯৪২।

📘 লিডারশিপ > 📄 পঞ্চম ভিত্তি : মতামতকে সম্মান করা এবং একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া

📄 পঞ্চম ভিত্তি : মতামতকে সম্মান করা এবং একসাথে সিদ্ধান্ত নেওয়া


ইসলামের বিরুদ্ধে মনস্তাত্বিক যুদ্ধে নারী অধিকারকে কেন্দ্র করে একটা কথা প্রচার করা হয়। ইসলাম নারীদেরকে তার মৌলিক অধিকার দেয় না। যেমন: তার মতামতকে উপেক্ষা করে এবং তার ক্ষমতাকে অবমূল্যায়ন করে। ইসলামী বিপ্লবের একক নেতা নবী এবং তার চারপাশের মানুষদের কিছু ঘটনাবলি নিচে আলোচনা করা হলো। ইনশা আল্লাহ, এই ঘটনাগুলি সকল ভিত্তিহীন অভিযোগের ইতি টানবে। মিথ্যা যুক্তিগুলোকে সকল সন্দেহ সংশয়কে দূর করবে।
“তিনি মাথা মুন্ডন করতে এবং পশু কুরবানী করতে আদেশ করলেন, অথচ তারা তা করতে অস্বীকার করল।”
উমর বর্ণনা করেন, হুদায়বিয়া সন্ধির প্রাক্কালে, যখন সন্ধি লেখা সমাপ্ত হলো রসূলুল্লাহ তাঁর সাহাবাদের বললেন, “তোমরা উঠ এবং কুরবানী কর ও মাথা কামিয়ে ফেল।” রাবী বলেন, ‘আল্লাহর কসম! রসূলুল্লাহ তিনবার তা বলার পরও কেউ উঠলেন না। তাদের কাউকে উঠতে না দেখে রসূলুল্লাহ উম্মে সালামা (রা)-এর কাছে এসে লোকদের এই আচরণের কথা বলেন। উম্মে সালামা বললেন, হে আল্লাহ নবী, আপনি যদি তাই চান, তাহলে আপনি বাইরে যান ও তাদের সাথে কোনো কথা না বলে আপনার উট আপনি কুরবানী করুন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়িয়ে নিন। সে অনুযায়ী রসূলুল্লাহ (সা) বেরিয়ে গেলেন এবং কারো সাথে কোনো কথা না বলে নিজের পশু কুরবানী দিলেন এবং ক্ষুরকার ডেকে মাথা মুড়ালেন। তা দেখে সাহাবীগণ উঠে গেলেন ও নিজ নিজ পশু কুরবানী দিলেন এবং একে অপরের মাথা কামিয়ে দিলেন। অবস্থা এমন হলো যে, ভীড়ের কারণে একে অপরের ওপর পড়তে লাগলেন।

টিকাঃ
১৮. সহীহ আল বুখারীর কিতাবুশ শুরুত বাবুশ শুরুত ফিজিহাদ সম্পূর্ণ।।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00