📘 লিডারশিপ > 📄 সহিষ্ণু স্বামী

📄 সহিষ্ণু স্বামী


সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রসূলুল্লাহ-এর কাছে আমার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সাথে কুরাইশের কতিপয় মহিলা কথা বলছিলেন এবং তাঁরা বেশি পরিমাণ দাবি দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চকণ্ঠ ছিল। যখন উমর ইবনে খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা (মহিলাগণ) উঠে দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেলেন। রসূলুল্লাহ (সা) তাকে অনুমতি দিলেন। আর উমর ঘরে প্রবেশ করলেন। রসূল করীম (সা) বললেন, মহিলাদের কান্ড দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার কাছে ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শোনামাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেল। উমর বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ আপনাকেই অধিক ভয় করা উচিত। তারপর উমর ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজ ক্ষতিসাধনকারী মহিলাগণ তোমরা আমাকে ভয় কর। অথচ আল্লাহর রসূলকে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, আপনি রসূল করীম থেকে অনেক রূঢ়ভাষী ও কঠিন হৃদয়ের। রসূলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ ঠিকই হে ইবনে খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোনো পথে তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে যায়।
ইমাম বদরুদ্দীন আইনী বলেন "কুরাইশের কতিপয় মহিলা" বলতে তার স্ত্রীদের বুঝানো হয়েছে। তাদের সাথে অন্য মহিলাগণও থাকতে পারেন তবে "তারা বেশি পরিমাণ দাবি করতে গিয়ে" অংশটি নির্দেশ করে তারা ছিলেন স্ত্রীগণ।
সরল বিশ্বাসী মহান নেতা এবং হৃদয়বান স্বামী নবী বলতেন। "মুমিনদের মধ্যে তার বিশ্বাসই সবচেয়ে দৃঢ় যে তার পরিবারের সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করে।"

টিকাঃ
১৩. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৩৫০৪।
১৪. উমদাতুল কারী ১৬/১৯৪।
১৫. আল মুসতাদরাক লিল হাকীম, হাদীস নং ১৫৯।

📘 লিডারশিপ > 📄 চতুর্থ মূলনীতি : সমস্যা সমাধান

📄 চতুর্থ মূলনীতি : সমস্যা সমাধান


যে কোনো বুদ্ধিমান মানুষই একমত হবেন যে, দাম্পত্য জীবনে সমস্যা থাকবেই। মূলত এগুলো অনেকটা লবণের মত। বেঁচে থাকার সবচেয়ে মধুর অংশ। ইসলাম ঘোষণা করে বাসার পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পুরুষের। দুর্ভাগ্যক্রমে, কুরআন প্রদত্ত এই অধিকারের অপব্যবহার করা হয়। কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, এই অধিকার ঘরোয়া ব্যাপারে পুরুষের নিজস্ব মতামত এবং সিদ্ধান্তকে একতরফাভাবে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার এবং নিজেকে অগ্রগণ্য হবার ক্ষমতা দেয়।
আমার অনুধাবন এই যে, নারীর ওপর পুরুষের এই অধিকার এবং ঘরোয়া ক্ষেত্রে তাকে নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে যেন সে উন্নতির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে পারে। বাসার মানুষের ভুল ত্রুটি উপেক্ষা করতে পারে। তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কারণ আল্লাহ তাকে বিচারশক্তির প্রখরতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভাল ক্ষমতা দিয়েছেন। মহান নেতা নবী -এর জীবনের কিছু কাহিনী।

📘 লিডারশিপ > 📄 রাগী ব্যক্তিকে শান্ত করা হলো

📄 রাগী ব্যক্তিকে শান্ত করা হলো


নু'মান ইবনে বশির বর্ণনা করেন, আবু বকর নবী এর নিকট ভিতরে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন এবং শুনতে পেলেন আয়েশা (রা) উচ্চস্বরে কথা বলছে। তিনি যখন প্রবেশ করলেন, তাকে শক্ত করে ধরে চড় মারতে উদ্যত হলেন এবং বললেন, "আমি দেখছি তুমি রসূলুল্লাহ-এর সাথে উচ্চস্বরে কথা বলছ?" নবী তাঁকে মারতে বাধা দিয়ে বিরত করলেন এবং আবু বকর রাগান্বিত অবস্থাতেই বেরিয়ে গেলেন। আবু বকর যখন চলে গেলেন, নবী বললেন, "চিন্তা করে দেখ, কিভাবে এই লোকের হাত থেকে তোমাকে উদ্ধার করলাম?" আবু বকর কিছুদিন অপেক্ষা করলেন, তারপর পুনরায় রসূলুল্লাহ -এর নিকট প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন, তারা উভয়ে মিমাংসা করে নিয়েছে। তিনি তাদের লক্ষ্য করে বললেন, "যুদ্ধের সময় তোমরা যেমন আমাকে আসতে দিয়েছ, তোমাদের শান্তির সময়ও আমাকে আসতে দাও” নবী বললেন, “অবশ্যই, অবশ্যই!”?
আয়েশা একটি ভুল করলেন এবং রসূলুল্লাহর বন্ধুত্ব স্থাপনের পদক্ষেপ নিলেন। আয়েশা তার গলার স্বর উচু করলেন আর রসূলুল্লাহ (সা) তাকে বাঁচানোর জন্য তার হাত উঁচু করলেন। প্রথম পদক্ষেপটি তিনিই নিলেন। স্ত্রীর অভিভাবক এসে এমন কিছু শুনলেন যা তিনি পছন্দ করতে পারলেন না। তিনি কন্যাকে শাসন করতে উদ্যত হলেন। আর আমাদের সর্বোচ্চ নেতা নবী , স্ত্রীর দোষ তার অভিভাবকের নিকট প্রকাশিত এবং প্রমাণিত হবার পরও। ভালবাসা এবং ক্ষমতা দিয়ে তাকে আগলে রাখলেন। শুধু তাই নয়; বরং প্রিয়তম। স্ত্রীর পক্ষ অবলম্বন করে তাকে ক্ষুদ্ধ অভিভাবকের হাত থেকে রক্ষা করলেন। এটাই হচ্ছে কর্তৃত্বের সত্যিকারে সীমারেখা।

টিকাঃ
১৬. সুনান আবু দাউদ হাদীস নং ৪৪০৩

📘 লিডারশিপ > 📄 ঈর্ষান্বিত স্ত্রী

📄 ঈর্ষান্বিত স্ত্রী


আনাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, কোনো এক সময় রসূল তাঁর জনৈকা স্ত্রীর কাছে ছিলেন। এ সময় উম্মাহাতুল মুমিনীনের আর একজন একটি পাত্রে কিছু খাদ্য পাঠালেন। যে স্ত্রীর ঘরে নবীর অবস্থান করছিলেন সে স্ত্রী খাদেমের হাতে আঘাত করলেন। ফলে খাদ্যের পাত্রটি পড়ে ভেঙ্গে গেল। নবী পাত্রের ভাঙ্গা টুকরগুলো কুড়িয়ে একত্রিত করলেন, তারপর খাদ্যগুলো কুড়িয়ে তাতে রাখলেন এবং বললেন, তোমাদের আম্মাজীর আত্মমর্যাদাবোধে আঘাত লেগেছে। তারপর তিনি খাদেমকে অপেক্ষা করতে বললেন, এবং যে স্ত্রীর কাছে ছিলেন তার কাছ থেকে একটি পাত্র নিয়ে যার পাত্র ভেঙ্গেছিল, তাকে পাঠাবার ব্যবস্থা করলেন এবং ভাঙ্গা পাত্রটি যে ভেঙ্গেছিল তার কাছেই রাখলেন।

টিকাঃ
১৭. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৪৯৪২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00