📄 একজন সাহায্যকারী স্বামী
আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা আমাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিজনের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় এলে সালাতে চলে যেতেন”। রসূলুল্লাহ তার সুউচ্চ মর্যাদা এবং উচ্চাসন থাকার পরও ঘরের মধ্যে 'সিংহের মত' ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব পছন্দ করেন নি। যা আজকের দিনে অনেকেই পছন্দ করে থাকেন। তারা এটাকে পৌরুষত্ব প্রদর্শনের উপায় বলে মনে করেন। আল্লাহর কসম, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।
টিকাঃ
১০. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং ৬৫৫।
📄 একজন সহজ মানুষ
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেন। (হজ্জ-এর সফরে) আয়েশা (রা) ঋতুবতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ ব্যতিত হজ্জ এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন। (ফেরার পথে) 'আয়েশা বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ সকলেই হজ্জ ও উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে। আর আমি কেবল হজ্জ্ব আদায় করে ফিরছি। তখন নবী আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরকে নির্দেশ দিলেন যেন আয়েশা -কে নিয়ে তানইমে চলে যান, (যেখানে যেয়ে উমরার ইহরাম বাধবেন) আয়েশা হজ্জ্বের পর উমরাহ আদায় করে নিলেন।
মুসলিম এর বর্ণনায়। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, "রসূলুল্লাহ নম্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। যখন আয়েশা কোনো ব্যাপারে বায়না করতেন তিনি তা মেনে নিতেন।
টিকাঃ
১১. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৫৮১৫।
১২. সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২২১১।
📄 সহিষ্ণু স্বামী
সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার উমর ইবনুল খাত্তাব রসূলুল্লাহ-এর কাছে আমার অনুমতি চাইলেন। তখন তাঁর সাথে কুরাইশের কতিপয় মহিলা কথা বলছিলেন এবং তাঁরা বেশি পরিমাণ দাবি দাওয়া করতে গিয়ে তাঁর আওয়াজের চেয়ে তাদের আওয়াজ উচ্চকণ্ঠ ছিল। যখন উমর ইবনে খাত্তাব প্রবেশের অনুমতি চাইলেন তখন তাঁরা (মহিলাগণ) উঠে দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেলেন। রসূলুল্লাহ (সা) তাকে অনুমতি দিলেন। আর উমর ঘরে প্রবেশ করলেন। রসূল করীম (সা) বললেন, মহিলাদের কান্ড দেখে আমি অবাক হচ্ছি, তাঁরা আমার কাছে ছিল, অথচ তোমার আওয়াজ শোনামাত্র তারা সব দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে গেল। উমর বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ আপনাকেই অধিক ভয় করা উচিত। তারপর উমর ঐ মহিলাগণকে লক্ষ্য করে বললেন, ওহে নিজ ক্ষতিসাধনকারী মহিলাগণ তোমরা আমাকে ভয় কর। অথচ আল্লাহর রসূলকে ভয় কর না? তারা উত্তরে বললেন, আপনি রসূল করীম থেকে অনেক রূঢ়ভাষী ও কঠিন হৃদয়ের। রসূলুল্লাহ বললেন, হ্যাঁ ঠিকই হে ইবনে খাত্তাব! যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, শয়তান যখনই কোনো পথে তোমাকে দেখতে পায় সে তখনই তোমার ভয়ে এ পথ ছেড়ে অন্য পথে চলে যায়।
ইমাম বদরুদ্দীন আইনী বলেন "কুরাইশের কতিপয় মহিলা" বলতে তার স্ত্রীদের বুঝানো হয়েছে। তাদের সাথে অন্য মহিলাগণও থাকতে পারেন তবে "তারা বেশি পরিমাণ দাবি করতে গিয়ে" অংশটি নির্দেশ করে তারা ছিলেন স্ত্রীগণ।
সরল বিশ্বাসী মহান নেতা এবং হৃদয়বান স্বামী নবী বলতেন। "মুমিনদের মধ্যে তার বিশ্বাসই সবচেয়ে দৃঢ় যে তার পরিবারের সাথে সবচেয়ে ভাল ব্যবহার করে।"
টিকাঃ
১৩. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৩৫০৪।
১৪. উমদাতুল কারী ১৬/১৯৪।
১৫. আল মুসতাদরাক লিল হাকীম, হাদীস নং ১৫৯।
📄 চতুর্থ মূলনীতি : সমস্যা সমাধান
যে কোনো বুদ্ধিমান মানুষই একমত হবেন যে, দাম্পত্য জীবনে সমস্যা থাকবেই। মূলত এগুলো অনেকটা লবণের মত। বেঁচে থাকার সবচেয়ে মধুর অংশ। ইসলাম ঘোষণা করে বাসার পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণ এর দায়িত্ব পুরুষের। দুর্ভাগ্যক্রমে, কুরআন প্রদত্ত এই অধিকারের অপব্যবহার করা হয়। কিছু কিছু মানুষ মনে করেন, এই অধিকার ঘরোয়া ব্যাপারে পুরুষের নিজস্ব মতামত এবং সিদ্ধান্তকে একতরফাভাবে অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেয়ার এবং নিজেকে অগ্রগণ্য হবার ক্ষমতা দেয়।
আমার অনুধাবন এই যে, নারীর ওপর পুরুষের এই অধিকার এবং ঘরোয়া ক্ষেত্রে তাকে নেতৃত্ব দেয়া হয়েছে যেন সে উন্নতির সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সুযোগ সুবিধা তৈরি করতে পারে। বাসার মানুষের ভুল ত্রুটি উপেক্ষা করতে পারে। তাকে এই দায়িত্ব দেয়া হয়েছে কারণ আল্লাহ তাকে বিচারশক্তির প্রখরতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভাল ক্ষমতা দিয়েছেন। মহান নেতা নবী -এর জীবনের কিছু কাহিনী।