📄 উদ্বোধনী স্থান
সম্মানিত নেতা নবী-এর বিবাহিত জীবনের একটা প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি ছিল মানসিকভাবে যার প্রতি দুর্বল থাকুন না কেন তিনি তার সামর্থ্যের আলোকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেন সকল স্ত্রীদের মহান সুযোগ-সুবিধা দিত। তিনি সবকিছু ন্যায়পরায়ণতার সাথে বণ্টন করতে অভ্যস্ত ছিলেন এবং বলতেন, “ইয়া আল্লাহ! আমার পক্ষে যা সম্ভব, আমি তা করেছি। আর আপনি যার (অন্তরের) মালিক এবং আমি নই, সে ব্যাপারে আমাকে দোষারোপ করবেন না।”
টিকাঃ
৬. সুনান আবু দাউদ, কিতাবুল নিকাহ হাদীস নং ১৮৫৬।
📄 একজন সাধারণ মানুষ
একবার আয়েশা আমাকে প্রশ্ন করা হলো, "রসূলুল্লাহ ঘরে কি কাজ করতেন? তিনি বললেন" তিনি ছিলেন অন্যান্য সাধারণ মানুষের মতই। তিনি তার পোশাক মেরামত (সেলাই) করতেন। ছাগলের দুধ দোহন করতেন, এবং নিজের পরিচর্যা করতেন।" অপর বর্ণনায় এসেছে, "তিনি তার পোশাক সেলাই করতেন, জুতা মেরামত করতেন এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ বাসায় যেসব কাজ করে তিনিও তাই করতেন।"
টিকাঃ
৭. সহীঃ ইবনু হিব্বান। হাদীস নং ৪২৪৪।
৮. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং ৫৭৫৯।
৯. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং ৫৭৬১।
📄 একজন সাহায্যকারী স্বামী
আসওয়াদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়েশা আমাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী ঘরে থাকা অবস্থায় কি করতেন? তিনি বললেন, ঘরের কাজ কর্মে ব্যস্ত থাকতেন। অর্থাৎ পরিজনের সহায়তা করতেন। আর সালাতের সময় এলে সালাতে চলে যেতেন”। রসূলুল্লাহ তার সুউচ্চ মর্যাদা এবং উচ্চাসন থাকার পরও ঘরের মধ্যে 'সিংহের মত' ভয়ংকর ব্যক্তিত্ব পছন্দ করেন নি। যা আজকের দিনে অনেকেই পছন্দ করে থাকেন। তারা এটাকে পৌরুষত্ব প্রদর্শনের উপায় বলে মনে করেন। আল্লাহর কসম, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে অনেক দূরে অবস্থান করছেন।
টিকাঃ
১০. সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস নং ৬৫৫।
📄 একজন সহজ মানুষ
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেন। (হজ্জ-এর সফরে) আয়েশা (রা) ঋতুবতী হওয়ার কারণে বায়তুল্লাহ এর তাওয়াফ ব্যতিত হজ্জ এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন। (ফেরার পথে) 'আয়েশা বললেন, ইয়া রসূলুল্লাহ সকলেই হজ্জ ও উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে। আর আমি কেবল হজ্জ্ব আদায় করে ফিরছি। তখন নবী আব্দুর রহমান ইবনে আবু বকরকে নির্দেশ দিলেন যেন আয়েশা -কে নিয়ে তানইমে চলে যান, (যেখানে যেয়ে উমরার ইহরাম বাধবেন) আয়েশা হজ্জ্বের পর উমরাহ আদায় করে নিলেন।
মুসলিম এর বর্ণনায়। জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ বলেন, "রসূলুল্লাহ নম্র স্বভাবের অধিকারী ছিলেন। যখন আয়েশা কোনো ব্যাপারে বায়না করতেন তিনি তা মেনে নিতেন।
টিকাঃ
১১. সহীহ আল বুখারী হাদীস নং ৫৮১৫।
১২. সহীহ মুসলিম হাদীস নং ২২১১।