📄 খাদিজা......প্রিয় পাঠক, এই নামটি কি আমাদেরকে বিশেষ কোনো ব্যাপার মনে করিয়ে দেয় না?
অনুচ্ছেদটির ব্যাখ্যা
খাদিজা... প্রিয় পাঠক, এই নামটি কি আমাদেরকে বিশেষ কোনো ব্যাপার মনে করিয়ে দেয় না?
এই নামটি কি আমাদেরকে সেই গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় না যখন আলোর প্রথম ঝলক মর্তের মাটিতে এসে পৌঁছেছে, মরুর বুকে আল্লাহর করুণা এবং শান্তি অবতীর্ণ হয়েছে, সেই তীক্ষ্ণ আলোকচ্ছটা স্পন্দিত হয়েছে গ্রহণকারির শিরা উপশিরায়, রক্তের প্রবাহে তৈরি করে দিয়েছে প্রবল ইচ্ছাশক্তি, ফুসফুসে প্রবেশ করেছে সত্য উদঘাটনের মুক্ত বাতাস আর ম্লান হয়ে গিয়েছে শিরক আর অজ্ঞতার সব পঙ্কিল অভিশাপ। একদিকে মুক্তির আনন্দ অপর দিকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের বিশাল বোঝা, তার ভিতরে এই দুই অনুভূতির মিশ্র ঝড় বয়ে যাচ্ছিল। আর সে কারণেই সত্য উদঘাটনের হিমশীতল অনুভূতি এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের তীব্র উত্তাপের মাঝখানে স্থাপিত হয়েছিল একটি হিতৈষী হৃদয়।
অন্তর যখন ভয়ে প্রকম্পিত, বাসায় তখন ছিল উষ্ণতার ছোয়া, যেই ছোয়া সকল হিমশীতল ঠাণ্ডাকে দ্রবীভূত করে দিতে পারে। দেহ যখন ভেঙ্গে পড়ল, বাড়িতেই ছিল তা থেকে মুক্তির উপায় যা সকল প্রকার ধাক্কা দূরিভূত করে। আর উষ্ণতার সেই ঠিকানাটিই হচ্ছে খাদিজা।
খাদিজা, সাফল্যের সেই প্রবেশ দ্বার যার ওপর ভর করে নবীন নবী (সা) তাঁর রিসালাতের চূড়ান্ত শিখরে পদার্পন করেন। খাদিজাই ছিলেন সেই উষ্ণ বাড়ি যা প্রকম্পিত হৃদয়কে স্নিগ্ধ করেছিল।
খাদিজা ছিলেন সেই মমতাময়ী যিনি সেই ব্যক্তির হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দিয়েছিলেন যিনি নিজেকে কাপড় দিয়ে ঢেকে ফেলেছিলেন, সেই আত্মাকে শান্ত করেছিলেন যেই আত্মা নিজেকে পোশাক আবৃত করে ফেলেছিল।
"কখনো নয়! আপনি সুসংবাদ নিন। আল্লাহর শপথ আল্লাহ কখনো আপনাকে লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি আত্মীয়দের খোঁজ খবর নেন, সত্য কথা বলেন, অসহায় লোকদের বোঝা লাঘব করে দেন, নিঃস্ব লোকদের উপার্জন করে দেন। মেহমানদের আপ্যায়ন করেন এবং হকের পথে আগত বিপদাপদে লোকদের সাহায্য করেন।"
মূলত তিনি ছিলেন সেই স্তম্ভ যার ওপর ভর দিয়ে রসূলুল্লাহ নিজের আশ্রয় খুজে পেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন সিড়ির একটি ধাপ, যার ওপর ভর দিয়ে রসূলুল্লাহ সেই কঠিন মুহূর্ত থেকে মুক্তি পেয়ে সুস্থতা লাভ করতে সক্ষম হয়েছিলেন。
📄 একজন সফল নেতার সপ্তম গোপন রহস্য : একজন মহিয়সী স্ত্রী
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 রহস্যটির মূল ভিত্তি
ঘর হচ্ছে এমন আশ্রয় যেখানে প্রত্যেক পুরুষ তার কঠোর পরিশ্রমের পর একটু বিশ্রাম খোঁজে। সারাদিনের খাটা-খাটনির উত্তাপ থেকে ঘরই মানুষকে আশ্রয় দেয়। একজন প্রকৃত সত্যপরায়ণ স্ত্রী হচ্ছে সেই আশ্রয় যেখানে ক্লান্তির পর স্বামী ফিরে আসে এবং দিন শেষে তার কাছে সান্ত্বনা খোজে।
মানুষ বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকে এবং বিভিন্ন কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। কিন্তু সেই মানুষটি যখন ঘরে ফিরে আসে তখন শত ঘৃণার পর সে একটু ভালবাসা খোঁজে, পরিশ্রমের পর বিশ্রাম খোঁজে, দুঃখের পর সুখ খোঁজে।
বিশ্ব সভ্যতা এবং নীতিকথাগুলিতে একটা প্রবাদ আছে। "প্রত্যেক মহান পুরুষের পিছনে থাকে একজন মহান নারী"। সে কিভাবে মহান হবে যদি সে বাসায় যেয়ে পাপাচার আর নষ্টামী খুজে পায়? সে সারাদিনের উত্তাপ থেকে বাড়ি ফিরে আসে বিরক্তির উত্তাপ খুঁজে পেতে? সে কিভাবে সুখী হবে? কখন সে আরাম পাবে? সে মানুষের ঝামেলা থেকে দৌড়ে স্ত্রীর বিচ্ছেদ তার বিবাদের নিকট এসে পড়ে সে কিভাবে সৃষ্টিশীল হবে, সাফল্য লাভ করবে?
📄 প্রাচ্যের মানুষ
আরব সমাজে বিবাহ এবং পারিবারিক ব্যাপারে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি প্রচলিত আছে। শত শত বছর ধরে চলে আসা প্রবাদ এবং নীতিবাক্যগুলি মানুষের সংস্কৃতি, চিন্তাধারা এবং সমাজের নীতি নির্ধারণে প্রভাব রাখে। আরব সমাজ ব্যবস্থায় স্বামী স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্ক এবং দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। কেউ বলেন, "তাকে সেভাবে থাকতে দেয়া উচিত যেভাবে সে তার বাবার বাসায় থাকত" আবার অনেকে বলেন। "স্ত্রী হলো পারস্যের কার্পেট। যত বেশি দিন তা ব্যবহার করা হবে, সে তত বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে"।
এই দুই দৃষ্টিকোণের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন বিষয় এবং ভিন্ন ভিন্ন দিক রয়েছে। কখনো কখনো তারা প্রথম দৃষ্টিকোণের দিকে ঝুকে পড়েন আবার কখনো কখনো দ্বিতীয়টির দিকে ঝুকে পড়েন।