📘 লেট ম্যারেজ > 📄 অভিভাবকদের প্রতি এক যুবকের আক্ষেপভরা পত্র

📄 অভিভাবকদের প্রতি এক যুবকের আক্ষেপভরা পত্র


শ্রদ্ধেয় মা-বাবা, ভাই, আপা ও ভাবি, সবাই ভালো থাকুন- মন থেকেই এ কামনা করি। আমার ভালোমন্দ বোঝার যেহেতু কেউ নেই তাই আমার অবস্থা না জানলেও চলবে। আজ অতি কষ্ট নিয়ে আপনাদের প্রতি লিখতে বসেছি। এর আগে আপনাদেরকে নানা ইশারা-ইঙ্গিতে, পত্র লিখে এমনকি সরাসরিও আমার বয়সের ব্যাপারে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমেও ব্যাপারটি আপনাদের গোচরিভূত করেছি। কিন্তু আপনাদের অনুভূতির বন্ধ দরজায় আমার করাঘাত শুধুই অরণ্যে রোদন হয়েছে। তাই হয়ত এটিই আপনাদের প্রতি আমার শেষ চিঠি। এ চিঠির পরে এ ব্যাপারে আর কোনো কথা বলার ইচ্ছা আমার নেই। আশা করি আপনারা তরিৎ সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না।
আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে যে, আমার বয়স এখন তেত্রিশের কোটায় ঘুরছে। যখন আমি বাইশ বছরের টগবগে যুবক ছিলাম তখন থেকেই তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তিনজন অধ্যাপক আপনাদেরকে আমার বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আপনাদের অসচেতনতা ও অবহেলা আমাকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তোলে। সংসারের উন্নতি এবং ক্যারিয়ার গঠনের অজুহাত দেখিয়ে ইতোমধ্যেই জীবনের পাতা থেকে বত্রিশটি পাতা ঝরে পড়েছে। আমার টইটম্বুর যৌবনের বিদায় বেলায় এখন আপনাদের খেয়ালে এসেছে যে, আজই আমাকে বিয়ে দিতে হবে। যেখানে পাও সেখানে। আচ্ছা বলুন তো এখন আর আমার বিয়ের কী দরকার? এত দিনে কি আমার শরীর নেতিয়ে আসেনি? যেখানে ইসলাম প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথেই ছেলেদেরকে তার ঈমান ও জীবনের স্বার্থেই বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে, সেখানে সেই বয়সটাকে দ্বিগুণ করে আপনারা কী স্বাদ পেয়েছেন? আমার ভঙ্গুর স্বাস্থ্য আর চিন্তাক্লিষ্ট চেহারা দেখতে দেখতে আপনারা তো অভ্যস্থ হয়ে গেছেন। এখন বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে ভিন্ন সুরতে দেখার আর কী দরকার? তাছাড়া মানুষের ক্যারিয়ার গঠনের কি শেষ আছে? সেই হিসেবে আপনাদের পছন্দের ক্যারিয়ার তো আমার পক্ষে এখনও গড়া সম্ভব হয়নি! আমার উন্নতির সিঁড়ির কোন ধাপে পৌঁছলে আপনারা আমাকে প্রতিষ্ঠিত বলে গণনা করবেন তাও আমার জানা নেই। তাই শেষ বেলায় আর আমার বিয়ে নিয়ে ভেবে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করলে কি হয় না?
আমার জীবন থেকে এতগুলো বসন্ত কেড়ে নেওয়ার পর এখন আমার প্রতি আপনাদের দরদ উথলে ওঠতে দেখে সত্যিই আমার হাসি পায়। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে আমার ইচ্ছা এবং চাহিদার বাইরে জোর করে কবুল বলাতে বাধ্য করায় পারঙ্গমতা জাহির করতে চাচ্ছেন? একবার ভাবুন তো, এখন এ সংসার গড়ে সারাজীবন কি বুকের ভেতর এক জ্বলন্ত আগুনের ছাই নিয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য হব না? ভেবে দেখুন তো, আমি কি ইচ্ছে করলে নিজের বিয়েটা নিজে করে নিতে পারতাম না? শুধু বত্রিশটি বছর যাবত প্রতিনিয়ত আপনাদেরকে বার বার তাগাদা দিয়ে গেছি সম্মান দেখাতে গিয়ে। অথচ আজ আপনারাই আমার বিশ্বাসের প্রাচীরটা খানখান করে ভেঙে দিয়েছেন! আপনারা সব দায় আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলছেন, 'এতদিন তুই কেন বিয়ে করলি না?' আহ!! এ কষ্ট এ যন্ত্রণা কোথায় রাখি!! কী করে বোঝাই মনকে? কেমন করে প্রবোধ দেই? আপনারা আরও সুখে থাকুন এটাই কামনা করি। আপনাদের সুখ দেখে বেঁচে থাকতে পারলেই নিজেকে সুখী ভাবব।
-আপনাদের দরদের কাঙাল আমান।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00