📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বড়বোনের কাছে এক ছোটভাইয়ের বেদনাভরা চিঠি

📄 বড়বোনের কাছে এক ছোটভাইয়ের বেদনাভরা চিঠি


“বড় আপু, কেমন আছ তা দীর্ঘ দিন থেকেই জানার সুযোগ হয় না। তুমিও কোনো খোঁজখবর দিচ্ছ না। তোমার ফোনটাও বরাবর বন্ধ পাচ্ছি। অভিমান করে আছ কিনা বুঝতে পারছি না। তবে বিশ্বাস করি সবার সাথে অভিমানের দেমাগ দেখালেও আমার প্রতি তোমার স্নেহের দৃষ্টি ছিল, আছে এবং থাকবে। আপু, আজ তোমায় আমার মনের একটি গোপন কথা বলছি। তা হলো, আমার কাছে আম্মুর পরেই তোমার মর্যাদা। তুমি বিশ্বাস করবে কিনা জানি না, আমি তোমাকে অনেক অ-নে-ক মিস করি। তুমি যে আমায় আদর করে মাথায় বিলি কেটে দিতে, চোখ বুজলে সেই নরম স্পর্শ আমি একান্তে অনুভব করি। প্রতিটি মানুষের জীবনে একান্ত কোনো বন্ধু থাকে। জান, আমার সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু হলে তুমি! একদিকে তুমি আমার বড় আপু, আরেক দিকে অভিভাবক অপরদিকে বন্ধু। এই তিন তিনটি কারণে তোমার প্রতি আমার বিশ্বাসের দেয়ালটি অনেক মজবুত ও সুদৃঢ়। এসব দাবিতেই তোমার সাথে আমি অনেক কিছু শেয়ার করি।
আজ যে বিষয়টি শেয়ার করছি, এ বিষয়টি অতীতেও তোমার সঙ্গে আলোচনা করেছি। কিন্তু দুঃখজনক সত্য হলো, তোমরা কেউ আমার মনের কথাটা দরদ দিয়ে বুঝতে চেষ্টা করছ না। না করছে আব্বু-আম্মু, না করছে বড় ভাইয়া আর না করছে আত্মীয়স্বজনরা। তাই লাজের মাথা খেয়ে আজ তোমাকে সরাসরিই সেই কথাটি বলতে বাধ্য হচ্ছি। তাহলো, তুমি হিসেব করে দেখ তো আমার এসএসসি শেষ হয়েছে কবে? অবশ্যই প্রায় এক যুগ আগে। আমার এসএসসি বেইসের অনেকে এখন একাধিক সন্তানের মা- বাবা। কিন্তু আমার মতো হাদারাম যেই লাউ সেই কদুর মধ্যেই পড়ে আছি। আচ্ছা আপু, আমার কি আনন্দ বলতে কিছু থাকতে নেই? আমার কি জীবন বলে কিছু নেই? যৌবনের উচ্ছলতা কি আমায় কাবু করে না? আমার চুল যে সাদা হতে শুরু করেছে তা কি কেউ তলিয়ে দেখেছ? তোমরা বড় হয়েছ বলে শুধু সম্মান আর শ্রদ্ধা আদায় করেই যাবে, ছোটদের প্রতি কি অভিভাবক হিসেবে তোমাদের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই? আচ্ছা তুমিই হলফ করে বল তো, যদি অন্তত আরও পাঁচ বছর আগে তুমি স্বামীর ঘরে যেতে তাহলে ভালো হতো না? আচ্ছা আপু, আমাদের ফ্যামিলিতে এটা কেমন কালচার? বয়স পাকিয়ে তারপর ছেলেমেয়েদেরকে বিয়ে দেওয়ার মধ্যে কী সাফল্য পেয়েছ তোমরা? বরং এতে যে দিন দিন পারিবারিক কলহ, ভুল বোঝাবুঝি, অশ্রদ্ধা জন্ম নিচ্ছে তা কি কেউ তলিয়ে দেখেছ? আমি তোমাদের পছন্দকে এ পর্যন্ত অগ্রাধিকার দিয়ে এসেছি। এই অগ্রাধিকার দেওয়াটা কি আমার অন্যায় হয়েছে? তাহলে কেন আমার প্রতি তোমরা এভাবে অবিচার করতে পারছ? আমাকে কেন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছ? আমার জীবনটাকে ফুলের মতো সাজাবার অধিকার কি আমার নেই? আমি কি তোমাদের এতটাই পর হয়ে গেলাম যে, আমার ভালোমন্দটা নিয়ে কেউ ভাবার ফুরসৎ পাচ্ছ না? আমার শরীরের দিকে কি কেউ দরদের সাথে একবারও নজর দিয়েছ? কেবল মুখে মুখে স্নেহের বুলি আওড়ালেই কি দায়িত্ব পালন হয়ে যায়? তোমার বাসায় বেড়াতে গেলে তো ছোটভাইকে ভালো ভালো রান্না করে খাওয়াতে কসুর করো না। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছ আমার মনেরও খাদ্য প্রয়োজন? সেই ব্যাপারে তোমাদের কারও দায়বোধ আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না। অনেক কষ্ট নিয়ে আজ তোমাকে এই কথাগুলো লিখতে বাধ্য হয়েছি। আশা করি, মনে কোনো কষ্ট না নিয়ে কথাগুলো নিয়ে সত্যিই ভাবতে চেষ্টা করবে। আজ এখানেই শেষ করলাম।
- তোমার আদরের ছোটভাই জাবের।”

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 অভিভাবকদের প্রতি এক যুবকের আক্ষেপভরা পত্র

📄 অভিভাবকদের প্রতি এক যুবকের আক্ষেপভরা পত্র


শ্রদ্ধেয় মা-বাবা, ভাই, আপা ও ভাবি, সবাই ভালো থাকুন- মন থেকেই এ কামনা করি। আমার ভালোমন্দ বোঝার যেহেতু কেউ নেই তাই আমার অবস্থা না জানলেও চলবে। আজ অতি কষ্ট নিয়ে আপনাদের প্রতি লিখতে বসেছি। এর আগে আপনাদেরকে নানা ইশারা-ইঙ্গিতে, পত্র লিখে এমনকি সরাসরিও আমার বয়সের ব্যাপারে বোঝাতে চেষ্টা করেছি। বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমেও ব্যাপারটি আপনাদের গোচরিভূত করেছি। কিন্তু আপনাদের অনুভূতির বন্ধ দরজায় আমার করাঘাত শুধুই অরণ্যে রোদন হয়েছে। তাই হয়ত এটিই আপনাদের প্রতি আমার শেষ চিঠি। এ চিঠির পরে এ ব্যাপারে আর কোনো কথা বলার ইচ্ছা আমার নেই। আশা করি আপনারা তরিৎ সিদ্ধান্ত নিতে পিছপা হবেন না।
আপনাদের নিশ্চয় জানা আছে যে, আমার বয়স এখন তেত্রিশের কোটায় ঘুরছে। যখন আমি বাইশ বছরের টগবগে যুবক ছিলাম তখন থেকেই তিনটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন তিনজন অধ্যাপক আপনাদেরকে আমার বিয়ের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিলেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আপনাদের অসচেতনতা ও অবহেলা আমাকে দারুণভাবে ভাবিয়ে তোলে। সংসারের উন্নতি এবং ক্যারিয়ার গঠনের অজুহাত দেখিয়ে ইতোমধ্যেই জীবনের পাতা থেকে বত্রিশটি পাতা ঝরে পড়েছে। আমার টইটম্বুর যৌবনের বিদায় বেলায় এখন আপনাদের খেয়ালে এসেছে যে, আজই আমাকে বিয়ে দিতে হবে। যেখানে পাও সেখানে। আচ্ছা বলুন তো এখন আর আমার বিয়ের কী দরকার? এত দিনে কি আমার শরীর নেতিয়ে আসেনি? যেখানে ইসলাম প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সাথে সাথেই ছেলেদেরকে তার ঈমান ও জীবনের স্বার্থেই বিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে, সেখানে সেই বয়সটাকে দ্বিগুণ করে আপনারা কী স্বাদ পেয়েছেন? আমার ভঙ্গুর স্বাস্থ্য আর চিন্তাক্লিষ্ট চেহারা দেখতে দেখতে আপনারা তো অভ্যস্থ হয়ে গেছেন। এখন বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে ভিন্ন সুরতে দেখার আর কী দরকার? তাছাড়া মানুষের ক্যারিয়ার গঠনের কি শেষ আছে? সেই হিসেবে আপনাদের পছন্দের ক্যারিয়ার তো আমার পক্ষে এখনও গড়া সম্ভব হয়নি! আমার উন্নতির সিঁড়ির কোন ধাপে পৌঁছলে আপনারা আমাকে প্রতিষ্ঠিত বলে গণনা করবেন তাও আমার জানা নেই। তাই শেষ বেলায় আর আমার বিয়ে নিয়ে ভেবে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট না করলে কি হয় না?
আমার জীবন থেকে এতগুলো বসন্ত কেড়ে নেওয়ার পর এখন আমার প্রতি আপনাদের দরদ উথলে ওঠতে দেখে সত্যিই আমার হাসি পায়। জীবনের এই পড়ন্ত বেলায় এসে আমার ইচ্ছা এবং চাহিদার বাইরে জোর করে কবুল বলাতে বাধ্য করায় পারঙ্গমতা জাহির করতে চাচ্ছেন? একবার ভাবুন তো, এখন এ সংসার গড়ে সারাজীবন কি বুকের ভেতর এক জ্বলন্ত আগুনের ছাই নিয়ে বেঁচে থাকতে বাধ্য হব না? ভেবে দেখুন তো, আমি কি ইচ্ছে করলে নিজের বিয়েটা নিজে করে নিতে পারতাম না? শুধু বত্রিশটি বছর যাবত প্রতিনিয়ত আপনাদেরকে বার বার তাগাদা দিয়ে গেছি সম্মান দেখাতে গিয়ে। অথচ আজ আপনারাই আমার বিশ্বাসের প্রাচীরটা খানখান করে ভেঙে দিয়েছেন! আপনারা সব দায় আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলছেন, 'এতদিন তুই কেন বিয়ে করলি না?' আহ!! এ কষ্ট এ যন্ত্রণা কোথায় রাখি!! কী করে বোঝাই মনকে? কেমন করে প্রবোধ দেই? আপনারা আরও সুখে থাকুন এটাই কামনা করি। আপনাদের সুখ দেখে বেঁচে থাকতে পারলেই নিজেকে সুখী ভাবব।
-আপনাদের দরদের কাঙাল আমান।”

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00