📄 দ্রুত বিবাহ ধনী হওয়ার উপায়
বিবাহ ধনী হওয়ার একটা সহজ উপায়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ওয়াদা করেছেন যে, বিবাহ করলে তিনি নিজ অনুগ্রহে তাকে ধনী করে দেবেন। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যকার যারা বিবাহবিহীন আছে এবং দাস-দাসীদের মধ্যে যারা নেককার তাদের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত থাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী করে দিবেন। আর আল্লাহ তায়ালা প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। [সূরা নূর: ৩২]
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বিবাহ দিতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং স্বাধীন ও গোলামদেরকে এর (বিবাহ করতে) আদেশ দিয়েছেন এবং এর বদৌলতে তাদেরকে ধনাঢ্যতার ওয়াদা করেছেন। এরপর তিনি উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন।
হযরত সাঈদ ইবনে আজিজ রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে খবর এসেছে হযরত আবু বকর রা. হতে। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে বিবাহের ব্যাপারে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে ধনাঢ্যতার যে ওয়াদা দিয়েছেন তা পূর্ণ করে দেবেন। এরপর তিনি উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, তোমরা বিবাহের মাধ্যমে ধনী হওয়ার রাস্তা খুঁজে নাও। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ان يكونوا فقراء يغنهم الله من فضله অর্থাৎ যদি তারা অভাবী থাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী করে দেবেন। [তাফসীরে ইবনে কাসির : ৬/৫১] নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন- ثَلَثَةُ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَوْنُهُمْ المُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَدَاءَ وَالنِّكَاحُ الَّذِي يُرِيدُ العَفَافَ.
'তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালার জন্যে কর্তব্য হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় জেহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায় এবং ওই বিবাহিত ব্যক্তি যে (বিবাহ করার মাধ্যমে) পবিত্র থাকতে চায়। [তিরমিজি ১৬৫৫, নাসায়ী ৩২১৮, ৩১২০, সহিহ ইবনে হিব্বান, ৪০৩০, বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ১৩৪৫৬,২১৬১২/
অতএব, মুসলিম অমুসলিম সকল অবিবাহিত ভাইবোনদের ভাবার সময় এসেছে। তারাই চিন্তা করবেন যে, তারা কখন বিবাহ করবেন?
তথ্যসূত্র: http://www.somewhereinblog.net/blog/natok1/29695108#nogo. http://www.dailymail.co.uk/health/article-1015164/Children-older-fathers-likely-die-early.html. http://sonarbangladesh.com/blog/ismailakb/131381
📄 দেরিতে বিবাহ ও ভয়াবহ হস্তমৈথুন
আল্লাহ তায়ালার দেওয়া এ সুন্দর যৌবনকালটাকে ক্ষয় করার জন্যে যে ব্যক্তি তার স্বীয় লিঙ্গের পিছনে লেগে যায় এবং নিজ হাত দিয়ে এটা চর্চা করায় (হস্তমৈথুন) অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার এ হাত পরকালে সাক্ষী দেবে যে, সে এ পাপ কোথায় কতবার করেছে। যা পবিত্র কালামে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব; বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে সম্বন্ধে। (আল কুরআন, ৩৬: ৬৫)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'যে ব্যক্তি উভয় ঠোঁটের মধ্যস্থান তথা জিহ্বা এবং উভয় উরুর মধ্যস্থান তথা লিঙ্গের হেফাজতের গ্যারান্টি দিতে পারবে আমি তার জান্নাতের গ্যারান্টি হব। [বুখারি, মিশকাত]
হাদিস বিশারদগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মানব দেহের এ দুটি অঙ্গ অত্যন্ত দুর্বল ও বিপদজনক। এ দুটি অঙ্গের মাধ্যমে বিশেষ করে লজ্জাস্থানের মাধ্যমে পাপ করানোয় শয়তান খুব সুবিধা বোধ করে। অধিকাংশ পাপই এ দুটি অঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যদি কোনো ব্যক্তি এ দুটি অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক তার লিঙ্গের হেফাজত করে, অবৈধ কোনো প্রকারেই বীর্যপাত ঘটাতে চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে।
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন, হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) রোজা রাখা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালা নিজের দায়িত্ব মনে করেন- (১) ঐ ঋণদাতা ব্যক্তি, যে তার ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করে। (২) ঐ বিবাহিত যুবক, যে চরিত্রের হেফাজতের উদ্দেশে বিবাহ করে। (৩) ঐ মুজাহিদ, যে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে।' [তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত]
📄 চিকিৎসাবিজ্ঞানে হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিকসমূহ
শুধু ইসলাম নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও হস্তমৈথুনের ব্যাপক ক্ষতিকর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুন হারাম এবং কবীরা গুনাহ। শরিয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যেসব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে হলো-
১. হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে যায়। অর্থাৎ যৌন সঙ্গম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়।
২. হস্তমৈথুনের আরেকটি সমস্যা হলো অকাল বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
৩. দেরিতে বিয়ের শিকার ছেলেরা অনেক ক্ষেত্রে স্বীয় যৌন উত্তেজনা দমাতে অন্যায় পথ কিংবা হস্তমৈথুনের আশ্রয় নিয়ে থাকে। এতে অকাল বীর্যপাত ঘটে থাকে। আর এই অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম। যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতা দেখা দেয়। যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মতো। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে, কোনো পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোনো সন্তান হয় না।
৪. অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr. Liu বলেন- There is a huge change in body. chemistry when one. masturbates excessively.
এ ছাড়াও শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয়-
১. Nervous system, heart, digestive, system, urinary system Ges আরও অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায়।
২. চোখের ক্ষতি হয়।
৩. স্মরণশক্তি কমে যায়।
৪. মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরও অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
৫. আরেকটি সমস্যা হলো Leakage of semen। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয়। ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামাজ পড়তে পারেন না। মহান আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।
হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এটা একটা জঘন্য কলুষ বা পাপ বোধযুক্ত কাজ। হস্তমৈথুন এমনই গোপনীয় পাপ যা মানুষ চোরের মতো চুপিসারে করে এবং প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'উত্তম চরিত্র হলো পুণ্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ। [মুসলিম, মিশকাত]
অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে। লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'লজ্জাশীলতা কল্যাণ বয়ে আনে। [বুখারি ও মুসলিম]
📄 মাতা-পিতার উদ্দেশ্যে যৌবনে উদ্দীপ্ত এক টগবগে যুবকের চিঠি
“প্রাণপ্রিয় মা ও বাবা,
আমার সশ্রদ্ধ সালাম গ্রহণ করবেন। আশা করি ভালো আছেন। আল্লাহ আপনাদেরকে সার্বিক সুস্থ রাখুন এই কামনা করি। নিয়মিত ঔষধ সেবন করবেন। মা, আমি ডাক্তারের সঙ্গে আপনার শারিরিক সমস্যা নিয়ে কথা বলেছি। তিনি আমার সব কথা শুনে নতুন করে প্রেসক্রিপশন দিয়েছেন। সেমতে আমি ঔষধ নিয়ে আসব। বাবার শরীরে যাতে ঠাণ্ডা না লাগে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখতে বলবেন। আমি আল্লাহর মেহেরবানিতে ভালো আছি। ভাবছি ফাইনাল পরীক্ষাটা শেষ করেই বাড়িতে আসব। আগামী সপ্তাহে পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে। পরীক্ষার পরই শীতকালীন ছুটি হবে।
প্রিয় মা ও বাবা, আপনাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা আমার মুক্তির অন্যতম সিঁড়ি। এ কথাটি আমাকে আমার শিক্ষা শিখিয়েছে। এজন্যে আমার কোনো কথা কিংবা আচরণে আপনাদের মনে কষ্টের উদ্রেক হয় কিনা এ ব্যাপারে সব সময় সতর্ক ও তটস্ত থাকি। কারণ আপনাদের অসন্তুষ্টিতে আমার ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন নাজাত ব্যাহত হয়ে যাবে। মা ও বাবা, আজ একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়ে আপনাদের কাছে মুখ খুলতে হচ্ছে। জানি না আমার এই কথাকে আপনারা কিভাবে গ্রহণ করবেন। মূল কথাটি বলার আগে একটি খুশির খবর দিচ্ছি। তা হলো, এরই মধ্যে আল্লাহর মেহেরবানিতে এবং আপনাদের অশেষ দোয়ায় আমার একটি ভালো চাকরি হয়েছে। ছুটির পর জয়েন করব।
'এবার আসি মূল কথায়। সেটি হলো, আপনাদের অবশ্যই জানা আছে যে, বর্তমানে আমার বয়স বাইশ বছর। এই বয়সটি জীবনের জন্যে খুবই ভয়ংকর। এই বয়স যুবক যুবতিদের অন্যায় কাজের দিকে তাড়িয়ে ফিরে। তাছাড়া বন্ধুবান্ধব এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ তাদেরকে অন্যায়ের দিকে জোর করে টেনে নেয়। এই পরিস্থিতিতে শরীয়তের বিধান মোতাবেক ছেলেমেয়েদের জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্যে বিবাহ করা জরুরি। এ ব্যাপারে আগেও আপনাদেরকে ইশারা ইঙ্গিতে কিছু বলেছি। আপনারা তখন আমার চাকরি বাকরির অজুহাত দিয়েছেন। আশা করি আমার চাকরি হওয়ার সংবাদে আপনাদের সেই প্রশ্ন দূর হয়েছে। তাই আসন্ন ছুটিতে এ ব্যাপারে কিছু করা যায় কিনা এখন থেকেই ভেবে দেখার জন্যে অনুরোধ রইল। তারপরও যদি আপনারা আমার ভবিষ্যতের ব্যাপারে উদাসীন থাকেন তাও আমি ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়ে মেনে নিতে বাধ্য হব।
তারপরও আপনাদের আদেশের অন্যথা করব না বলেই আমি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার অজুহাতে বড় ভাইয়ের বিবাহ অনেক দেরিতে হয়েছে। আর এ ব্যাপারটিকেই এখন তাদের ঘরে কোনো সন্তান না আসার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন ডাক্তারগণ। আশা করি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন। আজ এই পর্যন্তই আমার জন্যে দোয়া করবেন।
-আপনাদের স্নেহের আরমান।”