📘 লেট ম্যারেজ > 📄 সময়মতো বিবাহের কল্যাণ প্রমাণে বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণা

📄 সময়মতো বিবাহের কল্যাণ প্রমাণে বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণা


বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্রুত বিবাহ করার জন্যে আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে তাগিদ দিয়েছেন। অথচ এতদিন পরে এসে গবেষকগণ দেরিতে বিবাহ করা কিংবা বিবাহে আনাগ্রহের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাগুলোই মনের অজান্তে বলে যাচ্ছেন।
একটি বিষয় গভীরভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, যখনই বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা করছেন তখনই তা কাকতালীয়ভাবে ইসলামের সাথে মিলে যাচ্ছে। দেড় হাজার পরের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যা বলছেন তা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেড় হাজার বছর আগেই বলে গেছেন।
পবিত্র কুরআন এমন একটি আশ্চর্যজনক গ্রন্থ যা আসমান ও জমিনের বিভিন্ন রহস্যাবলিতে পরিপূর্ণ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসও নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পরোক্ষ অহী। আর এ কারণেই পবিত্র কুরআনের ন্যায় হাদিসও বিভিন্ন গোপন রহস্য, মিরাকেল ও আশ্চর্যজনক বিষয়ে ভরপুর যে, তা গুণে শেষ করা যাবে না।
সুপ্রিয় পাঠকদের সামনে সময় হওয়ার সাথে সাথে ছেলেমেয়েদের বিবাহ করার উপকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরার আগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নিয়ে নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা কিভাবে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্রুত বিবাহের জন্যে উৎসাহ দিয়ে বলেন-
يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج
হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে নেয়। [বুখারী: ৫০৬৫, মুসলিম ১৪০০, আবু দাউদ, ২০৪৬, নাসায়ী, ২২৪০, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে আবি শায়বা, ইবনে হিব্বান, বায়হাকী।
তখন তারা বলত, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুধু বিয়ে আর সন্তান-সন্ততি নিয়েই চিন্তা। এটা ছাড়া তার আর কোনো কাজ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার সত্যতা ও ইসলাম বিদ্বেষীদের কথার অসারতা প্রমাণ করল।
বিগত কয়েক বছর ধরে যেনা ও অশ্লীলতার কারণে কয়েক মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত হলে কিছু গবেষক ব্যক্তির স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং অশ্লীলতা ও সমকামিতায় জড়িত হয়ে মৃত্যুবরণের হাত থেকে সবাইকে বাঁচানোর জন্যে দ্রুত বিবাহ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে আসছে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণায় জানতে পেরেছেন, দেরিতে তথা ৪০ বছর বয়সের পরে বিবাহ সমাজ ও ব্যক্তির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। কোনো লোকের স্ত্রী ও সন্তানসস্তুতি থাকলে শারীরিক অবস্থা অনেক ভালো থাকে। কিছু কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অবিবাহিত বয়স্ক ব্যক্তিরা অধিক পরিমাণে হার্ট এটাক ও মানসিক রোগের শিকার হন।
এরপর কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষকে অধিক সুস্থ থাকতে হলে তার জন্যে জৈবিক চাহিদা পূরণ করা জরুরি। গবেকগণ জোর দিয়ে বলেছেন, বিবাহিতরা অধিক পরিমাণে সুখী জীবনযাপন করে এবং তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, যারা স্ত্রী ছাড়াই একাকী জীবনযাপন করে। এখানেই হয়ত আল্লাহ তায়ালার এ বাণীর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে-
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ.
আর এটাও আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদেরকে তৈরি করেছেন যেন তোমরা তাদের কাছ থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মাঝে হৃদ্যতা ও মায়া মমতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। [সূরা রুম: ২১]
এ আয়াতের لِتَسْكُنُوا "যেন তারা প্রশান্তি লাভ করতে পারে" অংশটুকু সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে, মানুষের মনে বিবাহের পরে আত্মিক প্রশান্তির সৃষ্টি হয়। এছাড়া আয়াতের مَوَدَّةً وَرَحْمَةً "হৃদ্যতা ও মায়ামমতা” অংশটুকু জৈবিক কামনা পূরণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। এটা এমন একটি বৈজ্ঞানিক মিরাকেল যা ইতোপূর্বে কেউ জানত না। এমনকি পাদ্রিরা ধারণা করত 'বিবাহ' মানুসের জন্যে ক্ষতিকর বিষয়। এজন্যে তারা এদিকে অনাগ্রহী থাকত। আর এজন্যেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لا رهبانية في الاسلام
ইসলামে কোনো বৈরাগ্যতা নেই। [গারীবুল হাদিস: ২/২৮০/
আরেকটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বিবাহিতরা অধিক পরিমাণে প্রতিভাবান ও সৃষ্টিশীল হয়ে থাকে এবং বিবাহিতা মহিলাগণ অধিক পরিমাণে প্রতিভাবতী ও মায়াবী হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে যে, অবিবাহিত বয়স্করা অন্যদের চেয়ে শত্রুতার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। একই সময়ে তাদের মাঝে একাকিত্ব ও অন্যদের থেকে দূরে থাকার প্রতি টান চলে আসে। এর কারণ হচ্ছে তারা প্রাকৃতিক ও জাগতিক চাহিদার বিপরীত দিকে চলছে।
১ লক্ষ শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে নিখুঁতভাবে গবেষণা কর্ম সম্পাদনের সময় বিজ্ঞানীরা টের পেয়েছে যে, যেসব শিশু তাদের বয়স এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই মারা গেছে তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩১ জন। আর তাদের প্রায় অধিকাংশেরই পিতা দেরি করে বিবাহ করেছে। এছাড়া তারা তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিশক্তির তারতম্য পেয়েছেন। যা তাদেরকে দেরিতে বিবাহ করার ক্ষতি থেকে সতর্ক করেছে। গবেষণাটি এসেছে এভাবে-
The researchers warned: The risks of older fatherhood can be very profound and it is not something that people are always aware of.
গবেষকগণ সতর্ক করে বলেছেন, দেরিতে পিতা হওয়া মারাত্মক সমস্যা বয়ে আনে এবং অনেকেই তা জানে না। দেখুন!! ডেনমার্কের গবেষকগণ কিভাবে মানুষকে দেরিতে পিতা হওয়া থেকে সতর্ক করছে!!! অথচ তাদের অধিকাংশই নাস্তিক ইসলামকে স্বীকার করে না।
তাইতো নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এটাই তো সেটা যার দিকে আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহ্বান জানিয়েছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি فمن رغب عن سنتي فليس مني যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে আমার উম্মত নয়!! [বুখারী-৫০৬৩, মুসলিম, ১৪০১, নাসায়ী, ৩২১৭, মুসনাদে আহমাদ, ১৩৫৩৪, বায়হাকী : সুনানুল কুবরা, ১৩৪৪৮, সহীহ ইবনে হিববান, ১৪]
বলা বাহুল্য যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিচ্ছেন যারা বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করছে। তাছাড়া তিনি বিবাহকে সুন্নাত বলে আখ্যা দিয়েছেন যা করলে আল্লাহ তায়ালা বিনিময়ে সাওয়াব বা প্রতিদান দান করবেন। এভাবেই দয়ার সাগর নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কল্যাণের জন্যে, উপকারের জন্যে এবং রোগ থেকে দূরে রাখার জন্যে শিক্ষা নিয়ে এসেছেন।
কতিপয় গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, আমাদের প্রত্যেকের শরীরে বিবাহের জন্যে বিশেষভাবে একটা জীবন্ত সময় আছে। বিবাহের জন্যে যাদের নির্দিষ্ট সময় ও বয়স হয়েছে তাদের উচিত সে সময়ের মধ্যেই বিবাহ করা। আর সে সময়টা হলো বিশের দশক কিংবা তার চেয়ে সামান্য বেশি। আর যখনই বিবাহ উক্ত সময় থেকে একটু দেরিতে হবে তখন তা শারীরিক বিভিন্ন কোষ এবং নর নারীর শুক্রাণু ও ডিম্বানুর ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এর ফলে সন্তানের মানসিক ও শারীরিক সমস্যার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

তথ্যসূত্র: :http://www.dailymail.co.uk/health/article-1015164/Children-older-fathers-likely-die-early.html

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 দ্রুত বিবাহ ধনী হওয়ার উপায়

📄 দ্রুত বিবাহ ধনী হওয়ার উপায়


বিবাহ ধনী হওয়ার একটা সহজ উপায়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ওয়াদা করেছেন যে, বিবাহ করলে তিনি নিজ অনুগ্রহে তাকে ধনী করে দেবেন। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
তোমাদের মধ্যকার যারা বিবাহবিহীন আছে এবং দাস-দাসীদের মধ্যে যারা নেককার তাদের বিবাহ দিয়ে দাও। যদি তারা অভাবগ্রস্ত থাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী করে দিবেন। আর আল্লাহ তায়ালা প্রাচুর্যময় ও সর্বজ্ঞ। [সূরা নূর: ৩২]
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা বিবাহ দিতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং স্বাধীন ও গোলামদেরকে এর (বিবাহ করতে) আদেশ দিয়েছেন এবং এর বদৌলতে তাদেরকে ধনাঢ্যতার ওয়াদা করেছেন। এরপর তিনি উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন।
হযরত সাঈদ ইবনে আজিজ রহ. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমার কাছে খবর এসেছে হযরত আবু বকর রা. হতে। তিনি বলেছেন, আল্লাহ তায়ালা তোমাদেরকে বিবাহের ব্যাপারে যে নির্দেশ দিয়েছেন তা পালন কর। তাহলে তিনি তোমাদেরকে ধনাঢ্যতার যে ওয়াদা দিয়েছেন তা পূর্ণ করে দেবেন। এরপর তিনি উপরোক্ত আয়াত তেলাওয়াত করলেন।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন, তোমরা বিবাহের মাধ্যমে ধনী হওয়ার রাস্তা খুঁজে নাও। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ان يكونوا فقراء يغنهم الله من فضله অর্থাৎ যদি তারা অভাবী থাকে আল্লাহ তায়ালা নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী করে দেবেন। [তাফসীরে ইবনে কাসির : ৬/৫১] নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন- ثَلَثَةُ حَقٌّ عَلَى اللَّهِ عَوْنُهُمْ المُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمُكَاتَبُ الَّذِي يُرِيدُ الأَدَاءَ وَالنِّكَاحُ الَّذِي يُرِيدُ العَفَافَ.
'তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালার জন্যে কর্তব্য হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালার রাস্তায় জেহাদকারী, চুক্তিবদ্ধ গোলাম যে তার মনিবকে চুক্তি অনুযায়ী সম্পদ আদায় করে মুক্ত হতে চায় এবং ওই বিবাহিত ব্যক্তি যে (বিবাহ করার মাধ্যমে) পবিত্র থাকতে চায়। [তিরমিজি ১৬৫৫, নাসায়ী ৩২১৮, ৩১২০, সহিহ ইবনে হিব্বান, ৪০৩০, বায়হাকী, সুনানুল কুবরা, ১৩৪৫৬,২১৬১২/
অতএব, মুসলিম অমুসলিম সকল অবিবাহিত ভাইবোনদের ভাবার সময় এসেছে। তারাই চিন্তা করবেন যে, তারা কখন বিবাহ করবেন?

তথ্যসূত্র: http://www.somewhereinblog.net/blog/natok1/29695108#nogo. http://www.dailymail.co.uk/health/article-1015164/Children-older-fathers-likely-die-early.html. http://sonarbangladesh.com/blog/ismailakb/131381

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 দেরিতে বিবাহ ও ভয়াবহ হস্তমৈথুন

📄 দেরিতে বিবাহ ও ভয়াবহ হস্তমৈথুন


আল্লাহ তায়ালার দেওয়া এ সুন্দর যৌবনকালটাকে ক্ষয় করার জন্যে যে ব্যক্তি তার স্বীয় লিঙ্গের পিছনে লেগে যায় এবং নিজ হাত দিয়ে এটা চর্চা করায় (হস্তমৈথুন) অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তার এ হাত পরকালে সাক্ষী দেবে যে, সে এ পাপ কোথায় কতবার করেছে। যা পবিত্র কালামে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। আল্লাহ তায়ালা বলেন: সেই দিন আমি তাদের মুখের উপর মোহর মেরে দেব; বরং তাদের হাত আমার সাথে কথা বলবে, আর তাদের পা সাক্ষ্য দেবে যা তারা অর্জন করত সে সম্বন্ধে। (আল কুরআন, ৩৬: ৬৫)
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: 'যে ব্যক্তি উভয় ঠোঁটের মধ্যস্থান তথা জিহ্বা এবং উভয় উরুর মধ্যস্থান তথা লিঙ্গের হেফাজতের গ্যারান্টি দিতে পারবে আমি তার জান্নাতের গ্যারান্টি হব। [বুখারি, মিশকাত]
হাদিস বিশারদগণ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, মানব দেহের এ দুটি অঙ্গ অত্যন্ত দুর্বল ও বিপদজনক। এ দুটি অঙ্গের মাধ্যমে বিশেষ করে লজ্জাস্থানের মাধ্যমে পাপ করানোয় শয়তান খুব সুবিধা বোধ করে। অধিকাংশ পাপই এ দুটি অঙ্গের মাধ্যমে হয়ে থাকে। যদি কোনো ব্যক্তি এ দুটি অঙ্গের হেফাজত করে, বিশেষ করে যুবক তার লিঙ্গের হেফাজত করে, অবৈধ কোনো প্রকারেই বীর্যপাত ঘটাতে চেষ্টা না করে তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশের বিরাট সুযোগ পেয়ে যাবে।
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে যে, একদা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবকদের লক্ষ্য করে বলেন, হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যে যারা বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে, তাদের বিবাহ করা উচিত। কেননা বিবাহ দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যে বিবাহের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা রাখে না, তার উচিত (কামভাব দমনের জন্য) রোজা রাখা।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন, 'তিন ব্যক্তিকে সাহায্য করা আল্লাহ তায়ালা নিজের দায়িত্ব মনে করেন- (১) ঐ ঋণদাতা ব্যক্তি, যে তার ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করে। (২) ঐ বিবাহিত যুবক, যে চরিত্রের হেফাজতের উদ্দেশে বিবাহ করে। (৩) ঐ মুজাহিদ, যে আল্লাহর রাস্তায় জেহাদ করে।' [তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত]

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 চিকিৎসাবিজ্ঞানে হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিকসমূহ

📄 চিকিৎসাবিজ্ঞানে হস্তমৈথুনের ক্ষতিকারক দিকসমূহ


শুধু ইসলাম নয়, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতেও হস্তমৈথুনের ব্যাপক ক্ষতিকর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুন হারাম এবং কবীরা গুনাহ। শরিয়ত অনুযায়ী যারা হস্তমৈথুন করে তারা সীমালঙ্ঘনকারী। চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হস্তমৈথুনের শারীরিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। পুরুষ হস্তমৈথুন করলে প্রধান যেসব সমস্যায় ভুগতে পারে তার মধ্যে হলো-
১. হস্তমৈথুন করতে থাকলে সে ধীরে ধীরে নপুংসক (Impotent) হয়ে যায়। অর্থাৎ যৌন সঙ্গম স্থাপন করতে অক্ষম হয়ে যায়।
২. হস্তমৈথুনের আরেকটি সমস্যা হলো অকাল বীর্যপাত। ফলে স্বামী তার স্ত্রীকে সন্তুষ্ট করতে অক্ষম হয়। বৈবাহিক সম্পর্ক বেশি দিন স্থায়ী হয় না।
৩. দেরিতে বিয়ের শিকার ছেলেরা অনেক ক্ষেত্রে স্বীয় যৌন উত্তেজনা দমাতে অন্যায় পথ কিংবা হস্তমৈথুনের আশ্রয় নিয়ে থাকে। এতে অকাল বীর্যপাত ঘটে থাকে। আর এই অকাল বীর্যপাত হলে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যায়। তখন বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ২০ মিলিয়নের কম। যার ফলে সন্তান জন্মদানে ব্যর্থতা দেখা দেয়। যে বীর্য বের হয় সে বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা হয় ৪২ কোটির মতো। স্বাস্থ্যবিজ্ঞান মতে, কোনো পুরুষের থেকে যদি ২০ কোটির কম শুক্রাণু বের হয় তাহলে সে পুরুষ থেকে কোনো সন্তান হয় না।
৪. অতিরিক্ত হস্তমৈথুন পুরুষের যৌনাঙ্গকে দুর্বল করে দেয়। Dr. Liu বলেন- There is a huge change in body. chemistry when one. masturbates excessively.
এ ছাড়াও শরীরের অন্যান্য যেসব ক্ষতি হয়-
১. Nervous system, heart, digestive, system, urinary system Ges আরও অন্যান্য system ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পুরো শরীর দুর্বল হয়ে যায় এবং শরীর রোগ বালাইয়ের যাদুঘর হয়ে যায়।
২. চোখের ক্ষতি হয়।
৩. স্মরণশক্তি কমে যায়।
৪. মাথা ব্যথা হয় ইত্যাদি আরও অনেক সমস্যা হয় হস্তমৈথুনের কারণে।
৫. আরেকটি সমস্যা হলো Leakage of semen। অর্থাৎ সামান্য উত্তেজনায় যৌনাঙ্গ থেকে তরল পদার্থ বের হয়। ফলে অনেক মুসলিম ভাই নামাজ পড়তে পারেন না। মহান আল্লাহ তায়ালার স্মরণ থেকে মুসলিমদের দূরে রাখে হস্তমৈথুন।
হস্তমৈথুন এমনই একটি কাজ যার অর্থ নিজেকে কলুষিত করা। এটা একটা জঘন্য কলুষ বা পাপ বোধযুক্ত কাজ। হস্তমৈথুন এমনই গোপনীয় পাপ যা মানুষ চোরের মতো চুপিসারে করে এবং প্রকাশ করতে লজ্জাবোধ করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'উত্তম চরিত্র হলো পুণ্য। আর যে কাজ তোমার মনে খটকা সৃষ্টি করে এবং লোকের কাছে প্রকাশ হওয়াকে তুমি পছন্দ কর না, তা হল পাপ। [মুসলিম, মিশকাত]
অশালীন, অশোভনীয় ও অন্যায় কাজে মনে সঙ্কোচবোধ করার নাম হলো লজ্জা বা হায়া। যার লজ্জা নেই সে পারে হস্তমৈথুনে লিপ্ত হতে। লজ্জা বা হায়া সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'লজ্জাশীলতা কল্যাণ বয়ে আনে। [বুখারি ও মুসলিম]

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00