📘 লেট ম্যারেজ > 📄 ক্যারিয়ার গঠনের অজুহাত

📄 ক্যারিয়ার গঠনের অজুহাত


বর্তমান সময়ের তরুণরা ক্যারিয়ারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা অল্প বয়সে বিয়ে করতে চায় না। ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়র হতে চায়; ভালো বেতনের চাকুরির অপেক্ষায় থাকে। আর এসব হতে হতে ত্রিশ বছর পার করে ফেলে। প্রশ্ন হলো, বিয়ের আগে ক্যারিয়ার তৈরি করা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?
বিয়ে জীবনের একটা অংশ। ক্যারিয়ারও জীবনের একটা অংশ। আমার মতে বিয়ের ক্ষেত্রে শুধু ক্যারিয়ারের জন্যে দেরি করা উচিত না। এমনকি উচ্চতর পড়াশোনার জন্যেও দেরি করা উচিত নয়। তবে আমি বলছি না যে, দশম শ্রেণিতেই বিয়ে করে ফেলেন। প্রাপ্ত বয়স্ক হলে অবশ্যই বিয়ে করতে পারেন। হাদিসে আছে- নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'হে যুবক-যুবতিরা! তোমাদের মধ্যে যাদের সামর্থ্য আছে, তোমরা বিয়ে করে ফেল। তাহলে দৃষ্টি সংযত থাকবে, শালীনতা বজায় থাকবে। [মিশকাত ২য় খণ্ড ১]।
যুব সমাজ বিয়ে করতে দেরি করছে এই চিন্তা থেকে যে তারা মনে করে, বিয়ে করলে তো স্ত্রীর দেখাশোনা করতে হবে। আর সেটা বাধা হয়ে দাঁড়াবে ক্যারিয়ার গঠনে বা উচ্চতর পড়াশোনায়। এরকম ধারণা আসলে ভুল। এর উল্টোটা চিন্তা করে দেখেন বিয়ে করলে স্ত্রী আপনাকে পড়াশোনায় সাহায্য করবে। নোট তৈরিতে সাহায্য করবে। আরাম-আয়েশের ব্যবস্থা করবে। আগে শুধু মা দেখাশোনা করতেন। এখন মা'র সঙ্গে স্ত্রীও করবে।
অনেকে বলতে পারেন 'ছাত্র অবস্থায় আমি তার ভরণ-পোষণ দেব কী করে? তখন তো মাত্র উপার্জনের সময় আমার।' তাদের এ আপত্তির উত্তরেই নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন 'যদি তাদের সামর্থ্য থাকে।' সামর্থ্য বলতে পরিবার যদি তাদের খরচ বহন করতে পারে।
আর বর্তমানে যারা ক্যারিয়ার গঠনের কথা বলেন, তাদের বেশির ভাগই ধনী পরিবার। তাদের সঞ্চয় করা টাকা থাকে। তাই অর্থনৈতিক কোনো সমস্যা না হলে দ্রুত বিয়ে করে ফেলা উচিত।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 সময়ের কাজ সময়ে করা দরকার

📄 সময়ের কাজ সময়ে করা দরকার


দ্রুত বিয়ে করে সন্তানও তাড়াতাড়ি নিবেন। অনেকে বলতে চান 'আমি আরাম করতে চাই। একটু রিল্যাক্সে থাকতে চাই। তাই দেরিতে সন্তান নিব।' তাদের উদ্দেশে বলব, আরে! আরাম করতে চাইলেই তো দ্রুত সন্তান নেয়া উচিত। ২০/২৫ বয়সের মধ্যে বিয়ে করে দ্রুত সন্তানের বাবা হবেন। আর চল্লিশ বছর বয়সে আপনার ছেলের বয়স হবে আঠারো বা উনিশ। তখন আপনার ব্যবসা থাকলে তাকে বুঝিয়ে দিতে পারেন। ব্যবসা না থাকলেও উপার্জন করার মতো বয়স ছেলের তখন হয়ে যাবে। তারপর আপনি বাকি জীবন আরাম করেন। অতএব আমি বলব, জীবন উপভোগ করতে চাইলে দ্রুত বিয়ে করুন। অন্যদিকে দ্রুত বিয়ে করলে সমাজের ক্ষতিকর বিষয় থেকেও রক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, তরুণ বয়সে নারী সংক্রান্ত বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে বেশি। কলেজ-ভার্সিটির ছেলেরা মেয়েদের কাছে নায়ক সাজার চেষ্টা করে। অথচ বিয়ে করে ফেললে নায়িকা তো ঘরেই থাকে। তখন মাথায় আজেবাজে চিন্তা আসবে না। পড়াশোনায়ও মনোযোগী হতে পারবেন। তাই বলছি, ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার সাথে সাথে সুযোগ থাকলে বিয়েটাও করে ফেলুন। তখন দেখবেন জীবন আনন্দ ও সুখময় হবে ইনশাআল্লাহ।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বিবাহ বিমুখতা অসংখ্য রোগের জন্ম দেয়

📄 বিবাহ বিমুখতা অসংখ্য রোগের জন্ম দেয়


যথাসময়ে বিবাহ না করার বিবিধ ক্ষতি রয়েছে। নিচে বিবাহ না করার কয়েকটি ক্ষতি তুলে ধরা হলো-
* বিবাহ মানবজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যার দরুন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন- 'তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিয়ে না করে, সে আমার দলভুক্ত নয়।' [যাদুল মাআদ]
* যে বিবাহ বর্জন করল কিংবা অস্বীকার করল, সে প্রকারান্তরে সকল নবি, রাসুলগণের সুন্নাতকে এবং আল্লাহর হুকুমকে অস্বীকার করল। আর আল্লাহর হুকুম ও নবিগণের সুন্নাত বর্জনের পরিণাম তো সকলেরই জানা।
* পাশ্চাত্যের বল্লাহীন যৌন আচরণ দ্বারা পুতঃপবিত্র বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে, সেই প-িতরাও ইদানীং তা বর্জনের কুফল স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। বিবাহ থেকে বিমুখ হওয়ার দরুন তাদের অবৈধ যৌনকর্মের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে বৃদ্ধ পিতামাতার নিরাপদ আশ্রয়রূপে পরিবারপ্রথার বিলুপ্তি এবং বৃদ্ধাশ্রমের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
* বিবাহ বর্জনের দ্বারা বিভিন্ন জটিল ও কঠিন রোগ আক্রমণ করার আশঙ্কা রয়েছে। চিকিৎসাশাস্ত্রের মতে, বীর্য যদি যথাসময়ে দেহ থেকে নির্গত না হয়, তাহলে তা থেকে বিভিন্ন রোগ ব্যাধির আশঙ্কা থাকে। গ্রিক দার্শনিক জালীনুস বলেন, শুক্র-বীর্যে অগ্নি ও বায়ুর অংশ প্রবল। তার স্বভাব উষ্ণ ও আর্দ্র। যখন তাকে দমন করে রাখা হয় আর এভাবে কিছু কাল দমন করা হয়, আটকিয়ে রাখা হয়, তখন তা থেকে অনেক মারাত্মক ব্যাধি জন্ম নেয়। কখনও খটকা রোগ দেখা দেয়, কখনও পাগলামি সওয়ার হয়। আবার কখনও দেখা দেয় মৃগী রোগ। তাছাড়া যৌবনের প্রবল বেগ বারবার দমন করতে করতে এর দ্বারা বিষাক্ত জীবাণু সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। যা স্বাস্থ্যের জন্যে খুব ক্ষতিকর।
* অনেক সময় কামোত্তেজনা প্রবল আকার ধারণ করে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন যদি সে সঠিক পাত্র না পায় তখন তার দেহ, মন ও চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সে যেনা, ব্যভিচার, সমকামিতা এবং হস্তমৈথুনের দিকে ধাবিত হয়। এতে তার মান ইজ্জত এবং শারীরিক অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়।
* বিবাহের স্বাভাবিক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ না হলে বিভিন্ন গুনাহে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। যত সাধনাই করা হোক আর যত শীতল ঔষধই সেবন করা হোক এর চাহিদা মিটবে না। এমনকি বার্ধক্যেও এই ব্যাধিকে ঘায়েল করতে পারবে না।
* যে সব নারী পুরুষ বিবাহ না করার প্রতিজ্ঞায় জীবন কাটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বা উপযুক্ত বয়সে বিবাহ করছে না তাদের ব্যাপারে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, শতকরা ৯৯% লোকই বীর্যস্খলনের জন্যে অস্বাভাবিক পন্থা বেছে নিয়ে থাকে। আর অস্বাভাবিক পন্থা গ্রহণ না করে তাদের উপায়ও নেই। কেননা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্যে এবং দেহের প্রশান্তির জন্যে বীর্যস্খলন একান্ত প্রয়োজন। এ সময় যদি শরিয়তসম্মত পন্থা হাতের নাগালে না পাওয়া যায় তখন বাধ্য হয়েই অস্বাভাবিক কিংবা অবৈধ পন্থা গ্রহণ করতে হয়। নিচে যথাসময়ে বিয়ে না করার ফলে মানসিক বিকারগ্রস্ত হয়ে অস্বাভাবিক যেসব পন্থা বেছে নিতে দেখা যায় তন্মধ্যে কতিপয় অবৈধ পন্থা উল্লেখ করা হলো-
১. পরনারীর সাথে যেনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া।
২. পুরুষে পুরুষে কুকর্ম করা; যাকে সমকামিতা বলা হয়।
৩. নারীতে নারীতে কুকর্ম করা; যাকে সমমৈথুন বলা হয়।
৪. হস্তমৈথুন করা।
যথাসময়ে বিবাহ করতে না পেরে বীর্যস্খলনের নিমিত্তে কোনো কোনো যুবক হস্তমৈথুন করে থাকে। এটি কত যে ভয়ংকর তা জানলে আঁতকে ওঠার কথা। মনে রেখ, সমাজের বস্তাপচা আপত্তি আর শিক্ষাব্যবস্থার কূটচাল থেকে সহজে বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। শত চেষ্টার লাঙলও তোমাকে মই দিতে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। ওদিকে তোমার জৈবিক চাহিদার যখন টানটান উত্তেজনা উঠবে তখন তা দমাতে তোমার ফ্রেন্ডসার্কেল হয়তো কোনো নতুন ফর্মুলা বাতলে দিবে। তোমাকে হয়তো দিবে কোনো নিউ মডেলের পরামর্শ (?)। কী আর করা! বয়সের তাড়নার কাছে তুমি যে পরাজিত! কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তুমি ফ্রেন্ডসার্কেল কিংবা পর্নোছবি দেখে দেখে হস্তমৈথুনের পথ বেছে নিবে।
অতীতে এ হস্তমৈথুনটাকে অন্য নামে ডাকা হতো। ফকিহগণ এর বিধান বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে কবিতা আছে। সাহিত্যে এ নিয়ে আলাদা অধ্যায় আছে। আমি এসব বলতে চাই না। তবে হ্যাঁ, আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই যে, এর কারণে বিষণ্ণতা পেয়ে বসে। শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। যুবককে পরিণত করে ক্ষয়ে যাওয়া বৃদ্ধে, অবসাদগ্রস্ত ও ভিতুতে। সে মানুষ থেকে পালিয়ে বেড়ায়। মানুষকে এড়িয়ে চলে। জীবনকে ভয় পায়। জীবনের দায়ভার থেকে পালিয়ে বেড়ায়। এ যেন জীবন্ত লাশ!
৫. পশুর সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হওয়া।
৬. সেক্স ডল ব্যবহারের মাধ্যমে বীর্যস্খলন ঘটানো।
এছাড়াও বিবৃত রুচির বহু পদ্ধতি ব্যবহার করে থাকে।
* বিপরীত ও অবৈধ پنتھায় বীর্যস্খলন ইসলাম ও চিকিৎসাবিজ্ঞান উভয় মতেই মারাত্মক অপরাধ। এসব কাজে অভ্যস্থ ব্যক্তির স্বাস্থ্য চিরতরে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাছাড়া পরবর্তীতে বৈধ پنتھায় স্ত্রী সহবাসের উপযুক্ততা থাকে না।
* হস্তমৈথুন ও সমমৈথুনে জননেন্দ্রিয়ের পেশী নিস্তেজ ও ঢিলে হয়ে দূষিত রস সঞ্চিত হয়ে তার স্বাভাবিক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। এর প্রাথমিক ফল হলো, বিশেষ অঙ্গটি দ-ায়মান না হওয়া। এটি দাম্পত্য জীবনে কলহের সিঁড়ি।
* বিকৃত রুচিতে অভ্যস্থদের উজ্জ্বল চেহারা মলিন হয়ে যায়। তাদের চেহারায় লাবণ্যতা দেখা যায় না। তাদের চেহারার নূর হারিয়ে যায়। তারা সুস্বাস্থ্যের নেয়ামত থেকে বঞ্চিত হয়।
* কুপথে বীর্যস্খলনে অভ্যস্থদের লজ্জা, শরম ও ব্যক্তিত্ব বিদায় নেয়। মানুষের স্তর থেকে নেমে আসে পশুর স্তরে।
* তারা প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত হয়ে থাকে। সর্বদা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকে। শক্তি, সাহস ও কর্মস্পৃহা খতম হয়ে যায়। বিভিন্ন অশান্তি ও পেরেশানি নেমে আসতে থাকে।
* এসব নারী পুরুষের মারাত্মক রোগ আক্রমণ করে থাকে। যেমন- এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া, প্রমেহ ইত্যাদি।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 সময়মতো বিবাহের কল্যাণ প্রমাণে বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণা

📄 সময়মতো বিবাহের কল্যাণ প্রমাণে বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণা


বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের দ্রুত বিবাহ করার জন্যে আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে তাগিদ দিয়েছেন। অথচ এতদিন পরে এসে গবেষকগণ দেরিতে বিবাহ করা কিংবা বিবাহে আনাগ্রহের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতে পেরেছেন। শুধু তাই নয়, তারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাগুলোই মনের অজান্তে বলে যাচ্ছেন।
একটি বিষয় গভীরভাবে পরিলক্ষিত হচ্ছে যে, যখনই বিজ্ঞানীরা নতুন নতুন কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণা করছেন তখনই তা কাকতালীয়ভাবে ইসলামের সাথে মিলে যাচ্ছে। দেড় হাজার পরের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে যা বলছেন তা নবি করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দেড় হাজার বছর আগেই বলে গেছেন।
পবিত্র কুরআন এমন একটি আশ্চর্যজনক গ্রন্থ যা আসমান ও জমিনের বিভিন্ন রহস্যাবলিতে পরিপূর্ণ। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসও নিঃসন্দেহে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পরোক্ষ অহী। আর এ কারণেই পবিত্র কুরআনের ন্যায় হাদিসও বিভিন্ন গোপন রহস্য, মিরাকেল ও আশ্চর্যজনক বিষয়ে ভরপুর যে, তা গুণে শেষ করা যাবে না।
সুপ্রিয় পাঠকদের সামনে সময় হওয়ার সাথে সাথে ছেলেমেয়েদের বিবাহ করার উপকারিতা নিয়ে বিজ্ঞানের সর্বশেষ গবেষণার ফলাফল তুলে ধরার আগে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস নিয়ে নাস্তিক ও ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা কিভাবে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত তা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দ্রুত বিবাহের জন্যে উৎসাহ দিয়ে বলেন-
يا معشر الشباب من استطاع منكم الباءة فليتزوج
হে যুবকেরা! তোমাদের মধ্যকার যে বিবাহের সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে নেয়। [বুখারী: ৫০৬৫, মুসলিম ১৪০০, আবু দাউদ, ২০৪৬, নাসায়ী, ২২৪০, মুসনাদে আহমাদ, ইবনে আবি শায়বা, ইবনে হিব্বান, বায়হাকী।
তখন তারা বলত, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শুধু বিয়ে আর সন্তান-সন্ততি নিয়েই চিন্তা। এটা ছাড়া তার আর কোনো কাজ নেই। কিন্তু বিজ্ঞান এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথার সত্যতা ও ইসলাম বিদ্বেষীদের কথার অসারতা প্রমাণ করল।
বিগত কয়েক বছর ধরে যেনা ও অশ্লীলতার কারণে কয়েক মিলিয়ন মানুষ এইডসে আক্রান্ত হলে কিছু গবেষক ব্যক্তির স্বাস্থ্য ঠিক রাখা এবং অশ্লীলতা ও সমকামিতায় জড়িত হয়ে মৃত্যুবরণের হাত থেকে সবাইকে বাঁচানোর জন্যে দ্রুত বিবাহ করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে আসছে।
বিজ্ঞানীরা গবেষণায় জানতে পেরেছেন, দেরিতে তথা ৪০ বছর বয়সের পরে বিবাহ সমাজ ও ব্যক্তির ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। কোনো লোকের স্ত্রী ও সন্তানসস্তুতি থাকলে শারীরিক অবস্থা অনেক ভালো থাকে। কিছু কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, অবিবাহিত বয়স্ক ব্যক্তিরা অধিক পরিমাণে হার্ট এটাক ও মানসিক রোগের শিকার হন।
এরপর কিছু গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মানুষকে অধিক সুস্থ থাকতে হলে তার জন্যে জৈবিক চাহিদা পূরণ করা জরুরি। গবেকগণ জোর দিয়ে বলেছেন, বিবাহিতরা অধিক পরিমাণে সুখী জীবনযাপন করে এবং তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, যারা স্ত্রী ছাড়াই একাকী জীবনযাপন করে। এখানেই হয়ত আল্লাহ তায়ালার এ বাণীর সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে-
وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنفُسِكُمْ أَزْوَاجًا لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَاتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ.
আর এটাও আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনসমূহের মধ্যে একটি যে, তিনি তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের স্ত্রীদেরকে তৈরি করেছেন যেন তোমরা তাদের কাছ থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পার। আর তিনি তোমাদের মাঝে হৃদ্যতা ও মায়া মমতা সৃষ্টি করে দিয়েছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল ব্যক্তিদের জন্য অনেক নিদর্শন রয়েছে। [সূরা রুম: ২১]
এ আয়াতের لِتَسْكُنُوا "যেন তারা প্রশান্তি লাভ করতে পারে" অংশটুকু সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করছে, মানুষের মনে বিবাহের পরে আত্মিক প্রশান্তির সৃষ্টি হয়। এছাড়া আয়াতের مَوَدَّةً وَرَحْمَةً "হৃদ্যতা ও মায়ামমতা” অংশটুকু জৈবিক কামনা পূরণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। এটা এমন একটি বৈজ্ঞানিক মিরাকেল যা ইতোপূর্বে কেউ জানত না। এমনকি পাদ্রিরা ধারণা করত 'বিবাহ' মানুসের জন্যে ক্ষতিকর বিষয়। এজন্যে তারা এদিকে অনাগ্রহী থাকত। আর এজন্যেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
لا رهبانية في الاسلام
ইসলামে কোনো বৈরাগ্যতা নেই। [গারীবুল হাদিস: ২/২৮০/
আরেকটি গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, বিবাহিতরা অধিক পরিমাণে প্রতিভাবান ও সৃষ্টিশীল হয়ে থাকে এবং বিবাহিতা মহিলাগণ অধিক পরিমাণে প্রতিভাবতী ও মায়াবী হয়। গবেষণায় বলা হয়েছে যে, অবিবাহিত বয়স্করা অন্যদের চেয়ে শত্রুতার দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে। একই সময়ে তাদের মাঝে একাকিত্ব ও অন্যদের থেকে দূরে থাকার প্রতি টান চলে আসে। এর কারণ হচ্ছে তারা প্রাকৃতিক ও জাগতিক চাহিদার বিপরীত দিকে চলছে।
১ লক্ষ শিশুর স্বাস্থ্য নিয়ে নিখুঁতভাবে গবেষণা কর্ম সম্পাদনের সময় বিজ্ঞানীরা টের পেয়েছে যে, যেসব শিশু তাদের বয়স এক বছর অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই মারা গেছে তাদের সংখ্যা ছিল ৮৩১ জন। আর তাদের প্রায় অধিকাংশেরই পিতা দেরি করে বিবাহ করেছে। এছাড়া তারা তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের স্মৃতিশক্তির তারতম্য পেয়েছেন। যা তাদেরকে দেরিতে বিবাহ করার ক্ষতি থেকে সতর্ক করেছে। গবেষণাটি এসেছে এভাবে-
The researchers warned: The risks of older fatherhood can be very profound and it is not something that people are always aware of.
গবেষকগণ সতর্ক করে বলেছেন, দেরিতে পিতা হওয়া মারাত্মক সমস্যা বয়ে আনে এবং অনেকেই তা জানে না। দেখুন!! ডেনমার্কের গবেষকগণ কিভাবে মানুষকে দেরিতে পিতা হওয়া থেকে সতর্ক করছে!!! অথচ তাদের অধিকাংশই নাস্তিক ইসলামকে স্বীকার করে না।
তাইতো নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, এটাই তো সেটা যার দিকে আজ থেকে দেড় হাজার বছর আগেই রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আহ্বান জানিয়েছেন? রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি বলেননি فمن رغب عن سنتي فليس مني যে আমার সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে সে আমার উম্মত নয়!! [বুখারী-৫০৬৩, মুসলিম, ১৪০১, নাসায়ী, ৩২১৭, মুসনাদে আহমাদ, ১৩৫৩৪, বায়হাকী : সুনানুল কুবরা, ১৩৪৪৮, সহীহ ইবনে হিববান, ১৪]
বলা বাহুল্য যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিভাবে তাদের থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিচ্ছেন যারা বিবাহকে প্রত্যাখ্যান করছে। তাছাড়া তিনি বিবাহকে সুন্নাত বলে আখ্যা দিয়েছেন যা করলে আল্লাহ তায়ালা বিনিময়ে সাওয়াব বা প্রতিদান দান করবেন। এভাবেই দয়ার সাগর নবি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কল্যাণের জন্যে, উপকারের জন্যে এবং রোগ থেকে দূরে রাখার জন্যে শিক্ষা নিয়ে এসেছেন।
কতিপয় গবেষণা প্রমাণ করেছে যে, আমাদের প্রত্যেকের শরীরে বিবাহের জন্যে বিশেষভাবে একটা জীবন্ত সময় আছে। বিবাহের জন্যে যাদের নির্দিষ্ট সময় ও বয়স হয়েছে তাদের উচিত সে সময়ের মধ্যেই বিবাহ করা। আর সে সময়টা হলো বিশের দশক কিংবা তার চেয়ে সামান্য বেশি। আর যখনই বিবাহ উক্ত সময় থেকে একটু দেরিতে হবে তখন তা শারীরিক বিভিন্ন কোষ এবং নর নারীর শুক্রাণু ও ডিম্বানুর ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। এর ফলে সন্তানের মানসিক ও শারীরিক সমস্যার প্রবল আশঙ্কা থাকে।

তথ্যসূত্র: :http://www.dailymail.co.uk/health/article-1015164/Children-older-fathers-likely-die-early.html

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00