📘 লেট ম্যারেজ > 📄 বিয়ের বয়স নিয়ে ভানুমতির খেল

📄 বিয়ের বয়স নিয়ে ভানুমতির খেল


আপনারা প্রশ্ন করবেন, এ বয়সে পৌঁছার পরও যদি বিয়ে করার মতো অর্থ হাতে না থাকে, তাহলে কী করব?
আমি বলব, ক্ষুধার্ত ব্যক্তির কাছে পয়সা না থাকলে সে যা করে, এই যুবকও তা-ই করবে। খাবার হাতে আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরবে।
আপনারা বলবেন, যদি ক্ষুধার্ত ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে না পেরে সামনে অন্যের খাবার উপস্থিত পেয়ে চুরি করে খেয়ে ফেলে এবং হারাম কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে আমরা কী করব?
এক্ষেত্রে আমার বক্তব্য হলো, প্রতিটি সমাজে অনাহারীদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়, যেন তারা চুরি বা কোনো অপরাধে জড়িয়ে না পড়ে। যদি কোনো কারণে সমাজের লোক খাবারের যোগান দিতে না পারে এবং তাদের থেকে চুরির আশঙ্কা করে, তাহলে সাধারণ মানুষের কর্তব্য হলো, যার যার মাল ও অর্থসম্পদ হেফাজত করা। এখন যদি বলেন যে, তাদের চুরি করা একদিকে বৈধ! কারণ, সমাজ তাদেরকে খাদ্যবঞ্চিত করেছে; অথচ এটা তাদের জৈবিক অধিকার? অপরদিকে অবৈধ! কারণ অন্যের সংরক্ষিত জিনিসে তারা হাত লাগিয়েছে। ঠিক একই কথা বিবাহের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
মূলত বিবাহের স্বাভাবিক বয়স হলো যে বয়সে ছেলেমেয়ে বালেগ-বালেগা হয়। কিন্তু এ বয়সে তারা স্কুল-কলেজে বা মাদরাসায় পড়াশোনা করে। তাদের হাতে তেমন অর্থকড়িও থাকে না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ‘কমপক্ষে পঁচিশ বছর পর্যন্ত চলতে থাকে। অর্থাৎ যে সময়ে পারস্পরিক মিলনের সূত্রপাত হওয়ার কথা, ঠিক সে মুহূর্তে তাদের সামনে স্বভাববিরুদ্ধ বিশাল বাধা আপতিত হয়।
তাহলে আমরা এর মোকাবেলা কিভাবে করতে পারি? কী করার আছে এই যুবকের? সে তো এই দশটা বছর বিয়ে ছাড়া কাটিয়ে দিতে বাধ্য। অথচ যৌন চাহিদা জীবনের এই দশ বছরই সর্বাধিক হয়ে থাকে!
আল্লাহ তায়ালা তার দেহের মাঝে জ্বলন্ত অগ্নি স্থাপন করে দিয়েছেন। যদি এই আগুন বিয়ের মাধ্যমে না নেভানো হয়, তাহলে এর তাপে হয়তো নিজে দগ্ধ হবে নতুবা ব্যভিচারের মাধ্যমে অন্যের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেবে। এখানেই হলো মূল সমস্যা। এ নিয়েই আলোচনা করা দরকার।
আমি মনে করি, বিয়ের প্রকৃত বয়স নিয়ে আমাদের অভিভাবকরা বিটলামি করে থাকেন। কারণ যিনি এ বিষয়ে কলম ধরবেন, তার জন্যে সবচেয়ে সহজ হলো চেয়ারে হেলান দিয়ে গভীর চিন্তামগ্ন হয়ে বসা। এরপর রায় ঘোষণা করা। কিন্তু আপনারা হয়তো পড়ালেখা, কর্মযজ্ঞ, প্রতিষ্ঠিত হওয়া, চাকরি করা ইত্যাদি মিলিয়ে বলবেন যে, বিয়ের উপযুক্ত বয়স হলো ত্রিশ বছর!
আমি বলব, এটা আপনার কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত। এ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। শুধু ফ্রি কথা বললেই তো আর হলো না। যে বিচারক ফাঁসির রায় ঘোষণা করেন, এখানে তার কষ্ট-ক্লেশের কী আছে? কেবল ঠোঁট দুটো নাড়িয়ে একটা মত প্রকাশ করে দেন। কিন্তু মুসিবত হয় তার, যার বিরুদ্ধে রায় হয় এবং কার্যকর হয়। আর এখানে রায় প্রকাশ করা হচ্ছে যুবক-যুবতির বিরুদ্ধে। তাই আপনার ত্রিশ বছর বলতে কষ্ট না হলেও এত বছরে তাদের অবস্থা মহাবিপর্যয় পয়দা করে ছাড়বে।
মনে রাখবেন, প্রকৃতিগতভাবে বয়স পনেরো হলেই তবিয়ত ও সুপ্ত চাহিদা যুবক-যুবতির ভেতরে যৌনক্ষুধা জাগিয়ে তোলে। কিন্তু আমাদের চিন্তাশীল শ্রদ্ধেয় ভ্রাতৃ মহোদয় তাদের জন্যে মত প্রকাশ করে বলেন, ত্রিশের আগে বিয়ে করা যাবে না। আমার জিজ্ঞাসা হলো, তাহলে বাকি পনেরো বছর সে কী করবে? কুড়িতে যে বুড়ি হয়- সেই প্রাচীন প্রবাদ তো আর অভিজ্ঞজনরা এমনিতেই বলে যাননি!
যে সমাজ যুবককে বিয়ে করতে নিষেধ করে, তারা এই আগুন নিভানোর বিকল্প কোনো পথ বের করতে পারেনি। যখনই বেচারা এই যৌনক্ষুধা কিছুটা হলেও প্রশমিত করতে পারে, তখনই আমরা তাকে সেই তাড়না স্মরণ করিয়ে দিই নগ্ন ফিল্ম উলঙ্গ-অর্ধউলঙ্গ চিত্রাবলি, পথেঘাটে তরুণীদের অবাধ চলাফেরা ও মেলামেশার মাধ্যমে। মনে রাখবেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রদর্শিত পথ অনুকরণ ব্যতীত মানুষ অন্যায় কাজ থেকে নিজেকে তেমন বাঁচিয়ে রাখতে পারে না।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন-
كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبي فقالوا يا رسول الله من أبي؟ قال من أطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد أبي
যারা আমাকে অস্বীকার করে তারা ব্যতীত আমার সব উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে। সাহাবিরা এ কথা শুনে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কারা অস্বীকার করে? জবাবে রাসুল সা. বললেন, যে আমার অনুকরণ করল সে জান্নাতে প্রবেশ করল। আর যে আমার নাফরমানি করল, সেই আমাকে অস্বীকার করল। [বুখারি শরীফ]
মনে রাখবেন! একজন নারী পথে হাঁটলেও নারী; বাজারে গেলেও নারী; কলেজে এলেও সে নারী। সবখানেই রয়েছে তার সুপ্ত চাহিদা জাগরিত করার ইন্ধন। কিন্তু আমরা এই আগুন বুকের ভেতর পনেরো বছর জ্বালিয়ে রাখার রায় ঘোষণা দিচ্ছি। সাথে সাথে তাকে বলছি, ক্যাম্পাসে যাও, দরসে যাও, অধ্যয়নে ব্যস্ত হও। তাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, অন্যায়-অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা তোমার কর্তব্য।
পৃথিবীর সস্তা জিনিস হলো কাউকে উপদেশ প্রদান করা। আমরা যুবককে অন্যায় অপরাধ থেকে ফিরে থাকার আসল পথ অনুসরণ না করে তার মাথায় উপদেশের কাঁঠাল ভাঙতেই বেশি সাচ্ছন্দ্যবোধ করে থাকি। এক্ষেত্রে আমি আল্লাহর শপথ করে বলতে পারি, যে ব্যক্তিকে পনেরো বছর জেলে বন্দি রাখার হুকুম দেওয়া হয়েছে, তার অবস্থা এ যুবকের চেয়ে করুণতর নয়।
তাহলে এখন উপায় কী?
একটিই পথ। তাহলো স্বভাবধর্মের দিকে ফিরে আসা এবং ফিতরাতের অনুসরণ করা। কারণ, একজন মানুষ জাতিগত স্বভাবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করতে পারে না। একজন যুবক বিয়ে করবে আঠারো বছর বয়সে। যুবতির বয়স হবে ষোলো কিংবা সতেরো বছর। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে আমাদের সন্তানদের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি এবং উন্নত চরিত্র ও আদর্শ নীতি চালু করা যাবে না। যুবক-যুবতিদেরকে নীতি-নৈতিকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি সমাজ ও পরিবেশকে অশ্লীলতা, পাপাচার ও যৌন চাহিদা উদ্রেককর অবস্থা থেকে মুক্ত করতে হবে। মেয়েদের ব্যাপারে বাবা ও ভাইদের দায়িত্ববান এবং তাদের সম্পদ ও সম্ভ্রম বিনষ্টের কারণ সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
এটিই জবাব।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 দেরিতে বিবাহের ভয়াবহতা

📄 দেরিতে বিবাহের ভয়াবহতা


আমি আশাবাদী, যিনি এই লেখাটি পাঠ করবেন তিনি অবশ্যই বলবেন যে, এটি সঠিক। কিন্তু আফসোসের বিষয় হলো, কেউ আমলে নেন না। কেউ এ বাস্তব সত্যকে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেন না; বরং সবাই উল্টো রথে চলতে যেন পছন্দ করেন।
ইসলাম যুবক-যুবতি প্রাপ্ত বয়স্ক হলেই তাদেরকে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে দেওয়ার জন্যে উৎসাহিত করেছে। এর ফলে সমাজদেহে ব্যভিচারের বিষবাষ্প ছড়ানোর সুযোগ পায় না। পক্ষান্তরে পাশ্চাত্য সভ্যতার দোহাই দিয়ে আজ যুবক যুবতিদের দেরিতে বিবাহ দেওয়া হয়। ফলে বিয়ের আগেই তারা নানাভাবে বিয়ের স্বাদ উপভোগ করতে উৎসুক হয়ে পড়ে।
তথাকথিত পুঁজিবাদী সমাজের বেঁধে দেওয়া বিয়ের বয়সের কারণে 'Late Marriage' তথা দেরিতে বিবাহের প্রচলন দিন দিন বেড়েই চলেছে। গবেষকগণ এর প্রধান কারণ আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন। তাহলো, পুঁজিবাদী সমাজ অর্থনীতিকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যে কোনো বিষয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবার সময় তারা মূলত সেই 'Economical' তথা অর্থনৈতিক দিকের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত দেয়। "Biological Physical" দিক তারা বেশি গুরুত্ব দেয় না।
ছেলে মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রেও পুঁজিবাদীরা "Economical" দিক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। অথচ এখানে তাদের বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা ছিল "Biological", "Spiritual" ও "Moral" দিককে। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। মানুষ দেরিতে বিয়ে করে মানসিক ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে যাচ্ছে। নানা কারণে ডিভোর্স এর ঘটনা মাত্রাতিরিক্ত হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
"Late Marriage" তথা দেরিতে বিবাহের কারণে নারী-পুরুষ উভয়ই তাদের বিবাহিত জীবনে নানা ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হয়। নিচে নারী ও পুরুষের লেট ম্যারেজের ভয়াবহতা তুলে ধরা হলো।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 পুরুষের ‘লেট ম্যারেজ’ এর সমস্যা

📄 পুরুষের ‘লেট ম্যারেজ’ এর সমস্যা


বর্তমানে পুরুষরা নারীদের থেকে অনেক বেশি "Late Marriage" তথা দেরিতে বিবাহ করছে। এর প্রধান কারণ হলো 'ক্যারিয়ার বিল্ডাপ' করা। বেশিরভাগ পুরুষই এখন ৩০-৪০ বছর বয়সের মধ্যে বিয়ে করে। ফলে অনেককেই বিবাহিত জীবনে নানা ধরনের ঝামেলার মুখে পড়তে হচ্ছে। নিচে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে পুরুষের দেরিতে বিবাহের কয়েকটি ভয়াবহ সমস্যা তুলে ধরা হলো-
১. Fertility কমে যায় : পুরুষদের মাঝে একটা ভুল ধারণা আছে যে, বয়স বাড়ার সাথে তাদের Fertility তথা সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। আসলে এই ধারণা সঠিক নয়; বরং বেশ কিছু রিসার্চে প্রমাণিত যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষের Fertility কমতে থাকে। যদিও নারীদের তুলনায় ধীরে কমে।
২. সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হ্রাস পায় : বয়স্ক পুরুষ তার স্ত্রীর "Miscarriage (loss of an embryo or fetus before the 20th week of pregnancy)" এ অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। পুঁজিবাদী সমাজে নারীদের বয়স বৃদ্ধি পাবার সাথে সাথে সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হ্রাস পাবার বিষয়টাকে যতটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয়, পুরুষদের ক্ষেত্রে ততটা গুরুত্বের সাথে দেখা হয় না। এই সম্পর্কে Dr. Harry Fisch বলেন, "Not only are men not aware of the impact their age has on infertility, they deny it. They walk around like they're 18 years old,"
২০০২ থেকে ২০০৬-এর মাঝে "Miscarriage"-এর সম্ভাবনা নিয়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, যাদের বয়স ৩০-৩৪ বয়স তাদের "Miscarriage" হবার সম্ভাবনা ১৬.৭%, আর যাদের বয়স ৩৫-৩৯ তাদের ১৯.৫% এবং যাদের বয়স ৪০-এর উপর তাদের ৩৩%।
৩. সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে : দেরিতে বিয়ের কারণে সন্তান জন্ম দেওয়াটাও স্বাভাবিকভাবে দেরিতে হয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরুষ যদি দেরি করে সন্তান জন্ম দেয় তাহলে সেই সন্তানের মাঝে জেনেটিক্যাল এবনরমালিটি তথা সন্তান প্রতিবন্ধী হওয়ার আশঙ্কা থাকে। আর এই সম্ভাবনা বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়তে থাকে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেই পুরুষের বয়স ৪৫-৪৯ তাদের সন্তানের Schizophrenia রোগ হওয়ার দ্বিগুণ ঝুঁকি আছে। তাদের তুলনায় যাদের বয়স ২৫ বা তার কম।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় প্রমাণিত যে, প্রত্যেক পুরুষের যৌন সক্ষমতার চারটি Phase কাজ করে। এগুলোকে Sexual Response Cycle Gi 4Uv Phase বলা হয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এগুলো দুর্বল এবং সংক্রমিত হতে থাকে। সেই চারটি Phase হলো-
i) The Excitement Phase
ii) The Plateau Phase
iii) The Orgasm/Climax Phase
iv) The Resolution Phase
Aging দ্বারা এই চারটা ফেজই ইফেক্টেড হয়। নিচে এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা তুলে ধরা হলো-
The Excitement Phase: বয়স বাড়ার সাথে সাথে Erection হতে সময় বেশি লাগে। কারণ টেস্টোস্টেরন হরমোনের পরিমাণ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কমতে থাকে। বিশ বছরের পর থেকে এই হরমোনের Gradual Decline হতে থাকে।
The Plateau Phase: পুরুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে যৌনাঙ্গের Muscle Tension (Myotonia) কমতে থাকে। ফলে Erection "Softer" হতে থাকে।
The Orgasm Phase: পুরুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে Orgasm এর Intensity কমে যেতে পারে। Ejaculation Pressure এবং Volume of SemenI কমতে পারে।
The Resolution Phase: ২০-২৫ বছরের একজন পুরুষ সঙ্গমের পর মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় সঙ্গম করার জন্যে প্রস্তুত হয়। এক সঙ্গমের পর আরেক সঙ্গমের জন্যে প্রস্তুত হওয়ার বিরতিকে 'Refractory Period' বলে। আর এই 'Refractory Period' এর সময় বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে হ্রাস পায়।
Dr. Everold Hosein এ বিষয়ে বলেন-
'In one's late 20s, the (refractory) period maybe 15-30 minutes between orgasms. In one's 40s, the period iseven longer and may be as long three to four hours.
Refractory Period বয়সের সাথে কমতে থাকার মানে হলো সেক্সুয়াল ইন্টারকোর্সও কমতে থাকা।
৪. স্পার্ম কোয়ালিটি দুর্বল হয়: পুরুষের বয়স বাড়ার সাথে সাথে তার স্পার্ম কোয়ালিটি তথা ধাতু দুর্বল হতে থাকে। এতে খুব দ্রুত বীর্যপাত ঘটে।
জার্মানির বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বের করেছেন যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে একজন পুরুষের স্পার্মের পরিমাণ কমতে থাকে। অর্থাৎ স্পার্মাটোজেনেসিস কমতে থাকে। স্পার্মের motility (ability to move toward its destination, an awaiting egg) এবং স্পার্ম গঠনিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। Embryologist Yves Menezo এই বিষয়ে মত দেন যে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্পার্মে Genetic Defects দেখা দেয়।

📘 লেট ম্যারেজ > 📄 নারীর ‘লেট ম্যারেজ’ এর সমস্যা

📄 নারীর ‘লেট ম্যারেজ’ এর সমস্যা


লেট ম্যারেজ তথা দেরিতে বিবাহের কারণে নারীরা সাধারণত যে ধরনের ঝামেলার মুখোমুখি হয় তাহলো-
১. যৌন চাহিদা হ্রাস পায়: নারীরা দেরিতে বিয়ে করার ফলে যে সমস্যায় সবচেয়ে বেশি ভোগেন তাহলো, Miscarriage (loss of an embryo or fetus before the 20th week of pregnancy). একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাদের বয়স ২০-২৫ তাদের Miscarriage এর ঝুঁকি হলো ১০ পার্সেন্ট, যাদের বয়স ২৬-৩০ তাদের ২০ পার্সেন্ট।
২. সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা কমে যায়: নারীদের 'Fertility rate' (সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা) বয়স বাড়ার সাথে সাথে হ্রাস পায়। অর্থাৎ বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের 'Infertility rate' বাড়তে থাকে। তার মানে ২০-২৫ বয়সের নারী যতটুকু Fertile, ২৬-৩০ বয়সের নারীরা তত Fertile হবে না। বেশিরভাগ নারীর 'Fertility rate' সর্বোচ্চ হয় ২৪ বছর বয়সে। আর এ জন্যে নারীদের 'Fertility rate' যখন উপরে ওঠতে থাকে মানে তখন তাদের বিয়ে করার সবচেয়ে ভালো সময় হয়। অর্থাৎ যখন তাদের বয়স ১৭-২৪ হয়। তাছাড়া নারীদের এই সময় কনসিভ করাও সহজ। কারণ এই সময়ে তাদের ব্লাড প্রেসারের ঝামেলা, ডায়াবেটিস এবং Gynecological সমস্যা যেমন Fibroids, endometrisis এর আশঙ্কা কম থাকে।
৩. স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে: কোনো নারী যদি দ্রুত সন্তান নিতে পারে তাহলে তার ব্রেস্ট ক্যান্সারের রিস্ক কমে যায়। কারণ প্রেগনেন্সি হরমোনগুলো Cancer-preventive Drugs এর মতো কাজ করে। Florence Williams তার বই Breasts এ উল্লেখ করেছেন-
'A woman who has her first child before age twenty has about half the lifetime risk of breast cancer as a nonmother or a mother who waits until her thirties to have children.'
৪. ডিম্বাণুর কোয়ালিটি খারাপ হয় : বয়স বাড়ার সাথে সাথে নারীদের ডিম্বানুর Quality খারাপ হতে থাকে। এ সম্পর্কে Connie Matthiessen বলেন, "As you get older, your ovaries age along with the rest of your body, and your eggs become less viable. For that reason, younger women's eggs are less likely than older women's to have genetic abnormalities that result in Down syndrome and other birth defects."
অথচ বর্তমানে অনেক নারীকে দেখা যায়, পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থায় প্রভাবিত হয়ে ২৬-২৭ বছরে বিয়ে করে এবং কনসিভ করতে করতে বয়স গিয়ে দাঁড়ায় ত্রিশের কোটায়। এ কারনেই মানবসমাজের একটা বিরাট অংশ আজকে জেনেটিক্যালি দুর্বল হচ্ছে। তারা ফিজিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল দিক থেকে দুর্বল হচ্ছে।
নারীদের মনে রাখা উচিত যে, সুস্থ ও সবল মানবশিশু জন্মদানে তাদের ভূমিকাই বেশি। বর্তমানে দেরি করে সন্তান নেওয়ার প্রবণতার ফলে যেসব অসুবিধা পৃথিবীতে দেখা যাচ্ছে তা এক কথায় ফুটিয়ে তুলেছেন The New Republic এর science editor Judith Shulevitz। তিনি বলেন- "For we are bringing fewer children into the world and producing a generation that will be subtly different phenotypically and biochemically different, as one study I read put it from previous generations."
৫. Aging সমস্যা : মনে রাখতে হবে যে, Aging হলো একটা রিস্ক ফ্যাক্টর। Aging ছাড়াও আরও আছে ফ্যাক্টর। যার কারণে সেক্সুয়াল কমপ্লিকেশন দেখা যেতে পারে। যেমন- Smoking, Medication, Obesity, Stressetc কারণে সেক্সুয়াল প্রবলেম দেখা যেতে পারে। যদি কারও মাঝে একাধিক ফ্যাক্টর উপস্থিত থাকে তাহলে সেক্সুয়াল প্রবলেমের প্রতি তার Vulnerability বাড়বে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, আমরা অন্যান্য রিস্ক ফ্যাক্টর সম্পর্কে সচেতন থাকলেও Aging এর বিষয়টা ইগনোর করে যাচ্ছি।
মূলত দেরিতে বিয়ে করার শারীরিক অপকারিতার থেকে আত্মিক অপকারিতা বেশি। আমি প্রকৃতপক্ষে ইসলামের আলোকে লেখাটি লিখিনি; বরং আমি এই লেখাটি দিয়ে বোঝাতে চেয়েছি যে, এই পুঁজিবাদী সমাজ একটা জাহেলি সমাজ। এই সমাজ না বিজ্ঞান মানছে, না ইসলাম মানছে।
মুসলিমরা জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিজ্ঞানকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত নেয় না, সিদ্ধান্ত নেয় আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি ও অসন্তুষ্টি সামনে রেখে। আর এ জন্যেই অনেক মুসলিম নিজেকে পবিত্র রাখার জন্যে দ্রুত বিয়ে করতে চায়। কিন্তু এই পুঁজিবাদী সমাজ তাতেও বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তাই আমাদের সবারই উচিত দেরি করে বিয়ে করার আত্মিক ও শারীরিক অপকারিতা সমাজের সামনে তুলে ধরা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00